শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আরও ৬৩ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রাষ্ট্রীয় জান্তা বাহিনীর সঙ্গে জাতিগত বিদ্রোহীদের চলমান সংঘর্ষে জীবন বাঁচাতে আরও ৬৩ জন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৭ জনে।

তাদের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্য, সেনাসদস্য, পুলিশ সদস্য, ইমিগ্রেশন সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

বিজিবি বলছে, যারা অস্ত্রসহ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিজিবি সদরদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিজিপিসহ অন্যান্য ৩২৭ সদস্যকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে বিজিবি। নতুন করে আরও এসেছে ৬৩ জন। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দেশের স্বার্থে সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে বিজিবি।

এদিকে বুধবার বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের আওতাধীন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে ধৈর্য ধারণ করে, মানবিক থেকে এবং আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, অবৈধভাবে আর একজনকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক সকালে বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত এবং তৎসংলগ্ন বিওপি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে দায়িত্বরত সব পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের খোঁজ খবর নেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদা তৎপর থাকার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য দায়িত্বরত সব বিজিবি সদস্যের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

‘বিজিবি সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে’

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতে সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এতে বিজিবি সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে মানবিক ও আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আজ বুধবার ঘুমধুম সীমান্ত পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীরদের বিজিবির মহাপরিচালক এ কথা বলেন।

বিজিবি মহাপরিচালক বুধবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা ও আশেপাশের বিজিবি ফাঁড়ি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের খোঁজ-খবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর থাকার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে বিজিবি মহাপরিচালক মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি), সেনাবাহিনী, ইমিগ্রেশন সদস্য, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সকল সদস্যদের খোঁজ খবর নেন এবং আহত অবস্থায় চিকিৎসারত বিজিপি সদস্যদের দেখতে যান।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে ধৈর্য ধারণ করে, মানবিক থেকে এবং আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, অবৈধভাবে আর একজনকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয়রতদের বিষয়ে বিজিবি প্রধান বলেন, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে যাচ্ছে। যারা আশ্রয় নিয়েছেন তাদের সাথে আলাপ করেছি। তারাও দ্রুত ফেরত যেতে আগ্রহী।

সীমান্তে সংঘর্ষের জের ধরে বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুলি ও মর্টার শেল এসে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে- মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত অতিক্রম করে গুলি ও মর্টার শেল আসা এবং হতাহতের বিষয়টি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা চাই, এপারে যাতে গুলি এসে পড়া শূণ্যের কোটায় এসে পৌঁছায়।

পরিস্থিতি সার্বিক নজরদারি, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করা হচ্ছে মন্তব্য করে- বিজিবি প্রধান বলেন, বিজিবি সর্বোচ্চ সজাগ ও ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তে বসবাসকারীদেরও সর্তক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

আট বিভাগেই ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খেলাধুলার জন্য আমাদের ছেলে-মেয়েদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণের দরকার। আমরা দেশের আট বিভাগেই একটি করে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব। যেখানে আমাদের ছেলে-মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় পারদর্শী হতে পারবে।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রাজশাহীতে ৫২তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে শুধু ক্রিকেট-ফুটবল না, সব ধরনের খেলাধুলার প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা গড়ে তোলার দরকার। এতে করে আমাদের ছেলে-মেয়েদের যেমন শরীরচর্চা হবে তেমনি তাদের মন-মানসিকতা আরও সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, আজকে আমাদের ছেলে-মেয়েরা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও খেলাধুলায় ভালো অর্জন করছে। যেটা স্বাধীনতার পরপরই শুরু হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে সময় রাশিয়া-ভারত এমনকি ভিয়েতনামে পর্যন্ত আমাদের যুব টিম পাঠিয়েছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছিলেন। কাজেই সেইভাবে আমাদের খেলাধুলাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা মেধাবী। সুযোগ করে দিলে তারা আরো ভালো করতে পারবে। সব ধরনের খেলাকে আমাদের হাতে আনতে হবে। আমাদের কিছু দেশীয় খেলা, সেই ডাংগুলি থেকে শুরু করে, বিভিন্ন খেলাধুলা আগে প্রচলিত ছিল। সেগুলো আমাদের আবার চালু করা উচিত। আমাদের নিজস্ব দেশীয় খেলাগুলো, হাডুডু থেকে শুরু করে সবগুলো খেলা সক্রিয় রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরাসহ সবাই মিলে উদ্যোগ নেবেন যেন দেশীয় খেলাগুলো হারিয়ে না যায়।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা নিজেই খেলাধুলার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। আমি মনে করি, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলার ব্যাপক সুযোগ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যন্ত তাদের দক্ষতা প্রমাণ রাখতে পারছে। জাতির পিতার উদ্যোগে স্বাধীনতার পর এই শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। আমাদের পরিবার সবসময় খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ছিল। আমার দাদা নিজেই ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন, আমার বাবাও ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন এবং আমার ভাই জামাল, কামাল, রাসেল সবাই স্পোর্টসের সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনকি কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু উপাধি পেয়েছিল। জামালের স্ত্রী পারভীন জামালও খেলাধুলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। খেলাধুলার উন্নতি করাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি লেখাধুলা-শরীরচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিশু-কিশোরদের সুযোগ করে দিতে হবে। এতে সুষ্ঠু বিকাশের সাথে মন-মানসিকতার দিক থেকেও উদার হবে তারা।

খেলাধুলার উন্নয়নে বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেএসপি সম্প্রসারণের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তঃ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেয়ার কথাও বলেন তিনি।

‘পায়রায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে আগ্রহী সৌদি আরব’

পায়রায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিনিয়োগ উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে তিন দিনের সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশে সৌদি আরবকে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে চাই। তাদের বিনিয়োগমন্ত্রী পায়রাতে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবে দুই দেশের যৌথ মালিকানায় ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ। দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সারের নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা পূরণে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, সৌদিতে জয়েন্ট ভেনচারে আমরা একটি ইউরিয়া সার কারখানা করব। উৎপাদিত ইউরিয়ার শতভাগ আমরাই আমদানি করে নিয়ে আসব। তারা প্রস্তাবটি নিয়ে আগাতে চায়। মার্চ মাসের মধ্যে এটার সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হবে। শুধু সরকার টু সরকার নয়, এখানে বেসরকারি খাতেরও যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আইএমসিটিসি ‘সভায় কিছু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি’ উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘ইসলামের নামে যে সন্ত্রাসবাদ হয় সেটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। সন্ত্রাস, সন্ত্রাসই। সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। ইসলামের বদনাম করার জন্য তারা এসব করে। এই সংস্থার মাধ্যমে ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে যে সহযোগিতা আছে সেটি আরও বেগবান করার বিষয়ে সবাই একমত। সেখানে জোরালোভাবে ফিলিস্তিন এবং গাজায় যা হচ্ছে সবাই নিন্দা জানিয়েছে এবং সমস্যার সমাধান করতে বলেছে। এছাড়াও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তারা কাজ করবে।’

দেশের চলমান ডলার সংকটে সৌদি আরবের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমরা সৌদি থেকে জ্বালানি আমদানিতে মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে ৪৫ দিন সময় পাই। কিন্তু ডলারের কারণে আমরা তাদের বলেছি আমাদের যদি এক বছর সময় দেওয়া হয় তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়। তারা বলেছে, তারা সেটি বিবেচনা করবে।’

শেভরন বিবিআনাতে নতুন বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা বলছে এখানে আমরা ভাবছি গ্যাস আছে। কিন্তু ড্রিলিং না করা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমরা এখানে নতুন বিনিয়োগ করতে চাই। তারা গভীর সমুদ্রে তেল, গ্যাস অনুসন্ধানেও আগ্রহী। আমাদের অর্থনৈতিক যে উন্নতিটা হবে, সেখানে জ্বালানি খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ফুড সিকিউরিটির বিষয়ে সৌদি আরব বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। মূলত তারা বাংলাদেশে সবজি, মাছ বা অন্য কোনো খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করবে, তারা সেটি তাদের দেশে নিয়ে যাবে। তারা ফিজিবল স্টাডি করে দেখবে, বাংলাদেশে কোন ক্ষেত্রে তাদের বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ও সৌদি আরবের ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা করে লং গ্রেড রাইস উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশনে (আইএমসিটিসি) বাংলাদেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন সালমান এফ রহমান। সভায় জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সমন্বিত করণীয় বিষয়ে সদস্য দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া সৌদি আরবে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সে দেশের জ্বালানি মন্ত্রী, বিনিয়োগ মন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সালমান এফ রহমান।

প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই নতুন শিক্ষানীতি : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, শুধু ফলাফল দিয়ে সর্বজনীন উন্নয়ন হয় না। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই নতুন শিক্ষানীতি হয়েছে।

আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে ৫২তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে সান্নিবেশ করব। নতুন শিক্ষানীতির একটি বিশাল অংশ অ্যাকটিভিটি লার্নিংয়ের মধ্যদিয়ে শিক্ষা অর্জন করবে। সেখানে খেলাধুলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমরা গর্বিত নতুন সরকারের শুভ সূচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে কোনো প্রোগ্রাম শিক্ষা নগরীতে করতে পেরে।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. অলীউল আলম।

শ্রম আইন সংশোধনে তাড়াহুড়ো না করার আহ্বান আইএলও’র : আইনমন্ত্রী

শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে আলোচনা করে করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে আইএলও’র পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা শ্রম আইনের যে সংশোধন, সেটা করার বিষয়ে বসেছিলাম। এর আগে সংশোধনীর কথা হয়েছিল, সেখানে কিছু নতুন সংশোধনী আনার ব্যাপারে শ্রম মন্ত্রণালয় আমাকে জানিয়েছিল। সে বিষয়ে আইএলও কিছু বক্তব্য দেওয়ার জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, দুদিন আগে আইএলও অনুরোধ জানিয়েছে জেনেভায় আইএলও-এর একটি টিম আমাদের এই মিটিংয়ে থাকতে চায়। আজ চারজনের টিম ছিল। সেখানে প্রত্যেকটা ধারা নিয়ে আলোচনা করি। আমরা চাচ্ছিলাম শ্রম আইনটা এই পার্লামেন্টে পাস করার জন্য। কিন্তু তারা যে পরামর্শ দিয়েছে, সেটা করতে গেলে এই পার্লামেন্টে সেই পরামর্শগুলো ইনকরপোরেট করব কি করব না, সেটার সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। সেজন্য আলোচনা হয়েছে ওনারা যে পরামর্শ দিয়েছেন, সেটা পরে বিবেচনা করা যায়, এখন এই শ্রম আইনটা পাস করা যায়। তখন তারা বলেন তাড়াহুড়ো না করে আমরা আলোচনা করে আরও কিছু করতে পারলে ভালো হবে, সেটা তারা জানালেন।

আনিসুল হক বলেন, আমি তাদের পরিষ্কারভাবে একটা কথা জিজ্ঞেস করেছি যে, আইএলও’তে আমাদের বিরুদ্ধে গত তিন বছর ধরে একটা অভিযোগ চলে যাচ্ছে। প্রত্যেকবারই বলেন যে, এটা মার্চ মাসে সিদ্ধান্ত হবে না, নভেম্বরে যাবে। আবার নভেম্বরে হবে না মার্চে যাবে। আমি সেজন্য বলেছি মার্চ মাসের গভর্নর বডির মিটিংয়ে যদি বলেন, এটা আবার নভেম্বরে যাবে। সেটা তো আমরা নিতে রাজি না। তখন তারা বলেছে, কমপ্রিহেন্সিভ লেবার অ্যাক্ট (সমন্বিত শ্রম আইন) তাদের পরামর্শ মিলিয়ে যদি করতে পারি তাহলে সেটা এই মার্চ মাসে আমাদের অভিযোগ নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতা হবে না, বরং আমরা যে আলোচনাগুলো করছি সেটার একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন নীতিনির্ধারকরা। আর তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রধানমন্ত্রী এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, আমি যে কথাই বলি না কেন এবং আজকের যে আলোচনা সেটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা করতে পারব।

আজ তারা কী পরামর্শ দিয়েছে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, মূল সাজেশন হচ্ছে ধরুন ব্যাপারটা হচ্ছে সংজ্ঞা, সংজ্ঞার মধ্যে তারা বলছেন ‘সি মেন্ট’ যেটা সেটার নাম বদলিয়ে ‘সি ফেয়ার’ নাম করা। তারপরে বলছে ম্যানেজার এবং সুপারভাইজার স্টাফদের ওয়ার্কার বলা, এগুলো আমাদের সাথে তাদের আলোচনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। ব্যাপারটি হচ্ছে আগে কথা ছিল ১৫ শতাংশ শুধু হবে তিন হাজার বা তার ঊর্ধ্বে যেসব কারখানা শ্রমিক আছে তাদের। এখন আমরা সেটাও তুলে দিচ্ছি। শ্রমিকদের ব্যাপারে ১৫ শতাংশ কাজ করবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১৪ মার্চ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ মার্চ। আজ মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটের এ তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে কমিশন বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তফসিল ঘোষণা করেন ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম।

জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাদের সঙ্গে স্বতন্ত্র এমপিদের সমর্থন থাকতে পারে।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের ভোটার হন।

গত ৭ জানুয়ারি ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২৩টি, জাতীয় পার্টি ১১টি, জাসদ ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি, কল্যাণ পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র ৬২টি আসনে জয় পেয়েছে।

নির্বাচনের আগে প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় নওগাঁ-২ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়। ওই আসনে ভোট হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির দুজনসহ আওয়ামী লীগ ৩৮টি, জাতীয় পার্টি দুটি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে ১০টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে।

স্ত্রীসহ কারাগারে মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান

চেক ডিজঅনার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সাবেক মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান এবং তার স্ত্রী উম্মে কুলসুমা মান্নানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ রাজিয়া সুলতানার আদালত এ আদেশ দেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. রফিক জানান, চেক ডিজঅনার মামলায় মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী উম্মে কুলসুমা মান্নানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেই মোতাবেক তাদের বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোরশেদ হোসেন বলেন, চেক ডিজঅনার মামলায় দণ্ডিত দুই আসামি মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আপিলের মেয়াদ শেষ হওয়ায় জামিন আবেদন মঞ্জুর করেননি আদালত।

একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না : বিজিবি ডিজি

মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি বিজিবির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেব না।

আজ মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আমি গতকাল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সবচেয়ে বেশি এই সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ইনভলভ আছি। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আমি নিজে সরেজমিনে সীমান্ত পরিদর্শনে যাচ্ছি। আমরা ধৈর্য ধারণ করে, মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সেরকমই। গতকাল প্রধানমন্ত্রী এব্যাপারে কথাও বলেছেন, ধৈর্যধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত ১১৫ জন বিজিপি সদস্য আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে বা আশ্রয় নিয়েছেন। আজ সকালে আরও ১১৪ জন যুক্ত হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ২২৯। দুপুরের পর আরো বিজিপিসহ দেশটির অন্যান্য বাহিনীর ৩৫ জন যোগ হয়ে ২৬৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের আমরা থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করেছি। তাদের মধ্যে ১৫ জন আহত ছিলেন, এরমধ্যে ৮ জন ছিলেন গুরুতর আহত। এই ৮ জনের মধ্যে চারজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বিজিবির ব্যবস্থাপনায় ভর্তি করা হয়েছে। বাকি চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিজিবির ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সীমান্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সরকারি পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আশ্রিতদের প্রত্যাবর্তন বা ফেরানোর বিষয়ে কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে কাজ চলছে। মিয়ানমার এব্যাপারে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। তারাও প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে নোট নিয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই তাদের প্রত্যাবর্তন করানো হবে।

বিজিবি ডিজি বলেন, একই সঙ্গে দুই দেশের দুই সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে। সীমান্তবর্তী পরিস্থিতি আপনারা জানেন। মিয়ানমারে গোলাগুলির মধ্যে কিছু শেল এসে বাংলাদেশে পড়ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গতকাল এক রোহিঙ্গা নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি নারী মারা গেছেন। এই মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা প্রোটেস্ট নোট দিয়েছি। আমরা বারবার বলেছি আজকেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বড় মিটিং হচ্ছে। আর আমি আগামীকাল সরেজমিন সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যাব।

তিনি বলেন, আজকে মিয়ানমারের ডিএ (ডিফেন্স অ্যাটাচ) আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। সবদিক অ্যাঙ্গেজ করে কীভাবে এর আশু সমাধান করা যায়, সে চেষ্টা আমরা করছি।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আজকে ৬৫ জন রোহিঙ্গা বোটের মাধ্যমে নদী পথে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের প্রবেশের চেষ্টা করেছে। আমাদের টেকনাফ বিজিবি তাদেরকে প্রতিহত করেছে। তাদের পুশব্যাক করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমরা নতুন করে কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আর প্রবেশ করতে দেব না। এভাবে আমরা বাংলাদেশের অখণ্ডতা রক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

আজ মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবনে সাক্ষাৎকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম বিশেষ করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জনান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্ব এবং নির্বাহী বিভাগের সার্বিক সহযোগিতার ফলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যতেও নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুন্দরভাবে করতে সক্ষম হবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম এবং সচিব সংযুক্ত মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।