শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

বর্ধিত সভায় যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা

আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ঢাকা এসেছেন। সকাল থেকে তারা গণভবনে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়েছে এ সভা।

জানা গেছে, বিশেষ এই সভা থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের দুটি বিশেষ বার্তা দেওয়া হবে। সেগুলো হচ্ছে- তৃনমূল পর্যায় পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভেদ মেটানো এবং আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি বলয় তৈরি না করা।

এতে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জেলা/মহানগর ও উপজেলা/থানা/পৌর (জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা) আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সংসদের দলীয় ও স্বতন্ত্র সদস্য, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার দলীয় মেয়র এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত হয়েছেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিশেষ বর্ধিত সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিশেষ বর্ধিত সভা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী গণভবনে অনুষ্ঠেয় বিশেষ বর্ধিত সভায় আমন্ত্রিত নেতারা বিজয় সরণি দিয়ে জাতীয় সংসদের লেক রোড হয়ে গণভবনের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। সভায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত গাড়ি ডিএমপি পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে (বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র-সংলগ্ন মাঠ) পার্কিং করা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এ নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

গুলি-মর্টার শেলে আবারও কেঁপে উঠলো টেকনাফ সীমান্ত

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মিয়ানমারের কুমিরখালী সীমান্তচৌকির কাছে ফের গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এপারের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল ও উনচিপ্রাং এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গুলি এসে পড়েছে। এ সময় কেঁপে ওঠে এপারের বসতবাড়ি। সকালে কয়েকটি বাড়ির উঠানে গুলি পাওয়া গেছে।
তবে কেউ হতাহত হয়নি।

উনছিপ্রাং সীমান্তের স্থানীয়দের দাবি, ওপারে ঢেঁকিবুনিয়া এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিগুলো দখল করার পর আরাকান আর্মি ও অন্যান্য বিদ্রোহীরা টেকনাফ অংশে মিয়ানমারের শহর শীলখালী, বলিবাজার ও কুইরখালী দখল নিতে এই হামলা করছে।

উনছিপ্রাং এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে কুমিরখালীর ঘাঁটি দখল নিতে বিদ্রোহীরা হামলা করছে। মর্টার শেলের বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ও আগুনের ফুলকিও দেখা যায়। বোমা যখন বিস্ফোরণ হয় তখন ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়। এখানো চলমান আছে।

উনছিপ্রাং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রশিদ আহমদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি আর মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ এখনো ভেসে আসছে। সীমান্তের কাছাকাছি যারা চিংড়ি চাষিদের নিরাপদ স্থানে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইক্ষং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আনোয়ারী বলেন, সকাল থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলা গৃহযুদ্ধের গুলাগুলির বিকট শব্দ শুনা যাচ্ছে। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। হয়তো উনছিপ্রাং সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের শহর কুমিরখালী দখল নিতে এই হামলা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত গুলাগুলি হয়েছিল। দিনে কিছুটা শান্ত ছিল। আজ শনিবার সকাল থেকে নতুন করে আবারো গুলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), মিয়ানমার সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইমিগ্রেশন সদস্য ও অন্যান্য সংস্থার ৩ শতাধিক সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। মিয়ানমার বাহিনীকে সমুদ্রপথে নিয়ে ফেরত নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলমান আছে।

২০২৬ সালের মধ্যে তিস্তা সংকট মিটে যাবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, আশা করি ২০২৬ সালের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে চলমান সংকট মিটে যাবে।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের নয়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তিস্তা। আলোচনা হয়েছে, ভারতের জাতীয় নির্বাচনের পর একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারবো। তাদের সঙ্গে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গঙ্গা চুক্তিও আছে। আশা করি এর মধ্যেই পানি চুক্তির সমাধান হবে।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিজনেস করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করবে।

অপর একটি প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ অংশে তিস্তার উপরে ব্যারেজ নিয়ে আলোচনা হয়নি, এটি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।

ভারতের সঙ্গে আমাদের খুব আত্মিক এবং উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সেই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মিয়ানমার সীমান্তে দেশটির রক্ষীদের অনুপ্রবেশের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সমাধানে কিভাবে একযোগে কাজ করা যায় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কীভাবে ফেরত পাঠানো যায়, সেসব বিষয়েও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে ৪০ বছরের বেশি পুরোনো ছিটমহল সমস্যা যখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পেরেছি, টাঙ্গাইল শাড়ির সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এসময় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াসসহ মিশনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু

টঙ্গীর তুরাগ তীরে আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সা’দ আহমদ কান্ধলভীর অনুপস্থিতিতেই ইজতেমা শুরু হয়। শুরুতেই আ’মবয়ান করেন সা’দের ছোট ছেলে মাওলানা ইলিয়াস বিন সা’দ কান্ধলভী।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এটি শেষ হবে।

ইজতেমায় ইতোমধ্যে ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ঢল নেমেছে। আজ জুমার জামাতে অংশ নেবেন লাখো মুসল্লি। মাওলানা সা’দের বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সা’দ কান্ধলভী এতে ইমামতি করবেন।

বুধবার দুপুর থেকেই জামাতবদ্ধ দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেন। দেশের ৬৪টি জেলার মুসল্লিরা তাদের জন্য নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রায় ১২-১৪ হাজার বিদেশি মেহমান আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করবেন বলে আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বিরা আশা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত অর্ধশতাধিক দেশের ৩ হাজার ২৬৩ জন বিদেশি মেহমান ময়দানে তাদের জন্য নির্ধারিত নিবাসে অবস্থান নিয়েছেন।
বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি মেহমানদের নিরাপত্তায় স্থাপিত গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনে দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও জিএমপির পক্ষ থেকে ৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন শেষে ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, আমি বিশ্বাস করি তাবলিগ জামাতের সবারই চিন্তা-চেতনা, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই-তা হলো আল্লাহকে খুশি ও রাজি করা। তাবলিগ জামাতের কেউই বিশৃঙ্খলা করার মতো অসৎ চিন্তা মাথায় নিয়ে ময়দানে আসেন না। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিষয়ে তিনি বলেন, মাওলানা সাদ সাহেবের পক্ষে তাবলিগ জামাতের যারা কাজ করছেন তারা চেষ্টা করছেন তাকে আনার জন্য। সরকারের সঙ্গে তাদের কথা চলছে, আমরাও আলোচনা করছি। সমঝোতার মাধ্যমে হয়তো তাকে আনা সম্ভব হতে পারে। আমরা সেই চিন্তাটাই করছি।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা শুরু, সরকারিতে প্রতি আসনে লড়ছেন ১৯ জন

আজ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৩-২৪ এমবিবিএস শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে পরীক্ষা। যা শেষ হবে সকাল ১১টায়। ১ ঘণ্টাব্যাপী এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯টি কেন্দ্রের ৪৪টি ভেন্যুতে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের দেয়া তথ্য অনুসারে, দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে সর্বমোট ৫ হাজার ৩৮০টি আসন রয়েছে। আর বেসরকারি পর্যায়ে অনুমোদিত ৬৭টি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৬ হাজার ২৯৫টি।

সবমিলিয়ে এবার ১১ হাজার ৬৭৫টি আসনে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৩৭৪ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য লড়বেন অন্তত ৯ জন শিক্ষার্থী। আর সরকারিতে প্রতি আসনে লড়ছেন ১৯ জন শিক্ষার্থী।
গতকাল এমবিবিএস ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা–সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সারাদেশে ১৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৯টার পর পরীক্ষার হলে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। রঙিন প্রবেশপত্র নিয়ে হলে ঢুকতে হবে। মোবাইল ও ইলেকট্রিক ডিভাইস নিয়ে হলে প্রবেশ করা যাবে না।

’৭৫-এর পর এবারই সবচেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের পর গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশে সেই ’৭৫ সালের পর থেকে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সেখানে সব থেকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবারের নির্বাচন হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার গণভবনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক চক্রান্ত ছিল, ষড়যন্ত্র ছিল। তিনি এ সময় স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের হাতে তৈরি দল বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও নৈরাজ্য এবং সন্ত্রাসের কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, তারা মানুষ পুড়িয়ে মারা, রেলের ফিসপ্লেট খুলে রেলের বগি ফেলে দেওয়া, রেলে আগুন দেওয়াসহ নানা অপকর্ম করে নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিল। কিন্তু, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় কথা হল জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছে এবং ভোট দিয়েছে। জনগণ তাদের ভোটের অধিকার যে ফিরে পেয়েছে সেটা এবার তারা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ জানুয়ারি আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে গেছে। নির্বাচনের সময় সভা করেছি। নির্বাচনের পরেও টুঙ্গিপাড়ায় গিয়েছিলাম, আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। এরপর আমি মনে করলাম আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে কোথায় পাঠালেন সেই জায়গাটা তো আপনাদের একটু দেখতে হবে। সেজন্যই আজকে আমার এখানে আপনাদের দাওয়াত, সেজন্যই আপনারা এখানে এসেছেন। তিনি গণভবন সবাইকে ঘুরে দেখারও আমন্ত্রণ জানান। কারণ, এটা তাদেরই ঘর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে কিন্তু আপনাদের এখানে কোন রাজনীতি করতে ডাকিনি। আমি মনে করি আজকে টুঙ্গিপাড়ার থেকে এখানে উপস্থিত হয়েছেন, এই গণভবনের মাটি আজকে ধন্য হয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। সেটাও আমি মনে করি, আপনাদেরই অবদান। কারণ, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া সেটা কখনো সম্ভব ছিল না। সেজন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, আমি এটুকুই চাই টুঙ্গিপাড়া এবং কোটালীপাড়ায় আমি বারবার প্রার্থী হয়েছি, আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, আপনারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আমি জানি, ’৭৫ এর পর এই সমস্ত অঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত কষ্ট ভোগ করেছেন। যাহোক আওয়ামী লীগ সরকারি আসার পর থেকে আমরা ব্যাপকভাবে উন্নয়ন করেছি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছি। তাঁর সরকারের ভূমিহীন-গৃহহীণকে ঘর করে দেওয়াসহ জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার পদক্ষেপের উল্লেখ করে নিজেদের এলাকায় ভূমিহীন-গৃহহীণ থাকলে খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। কেননা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বাংলায় একটি মানুষও আর ঠিকানাবিহীন থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সংসদের অধিবেশনে রয়েছে। যেখানে তাঁর প্রশ্নোত্তর পর্ব রয়েছে, যেটা তিনিই চালু করেছিলেন। কারণ, তিনি মনে করেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নিজেরও একটা জবাবদিহিতা থাকা দরকার। তিনি পর্যায়ক্রমিক ভাবে তাঁর এলাকার জনগণকে ভাগ ভাগ করে সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দেবেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি সময় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটির উল্লেখ করে বলেন, তিনি এবং ছোট বোন শেখ রেহানা বাড়িটিকে দান করে দিয়েছেন। যেটি একটি একটি জাদুঘরে রুপান্তরিত করা হয়েছে। যেখানে দেশ-বিদেশের মানুষ আসেন সেটা দেখার জন্য।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমাদের এলাকার লোকজনেরও এটা দেখার দরকার। কারণ, আপনারা এমন একটা জায়গা থেকে এসেছেন যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই ঘুমিয়ে আছেন। কাজেই তার জীবন যাপন, ৭৫ এর মর্মান্তিক হত্যাকান্ড, যেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন-এসব অনেক কিছুই জানতে পারবেন আপনারা সেই বাড়িতে গেলে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন কাজেই আমার একটাই দায়িত্ব এই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো আর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। আর সেই কাজটা আমি যে নিশ্চিন্তে করতে পারছি, সেটা করতে পারছি কেবল আপনাদের জন্য। কারণ, আপনারা আমাকে সেই সুযোগটা করে দিয়েছেন। আমার সব দায়িত্বতো আপনারাই নিয়েছেন। আমার কোন কষ্ট নেই। আমার মনে হয়, এই দায়িত্বটা যদি আপনারা না নিতেন- বাবা মা ভাই হারিয়েছি, আমার জন্য আমার হয়ে বলার কে আছে? কিন্তু আজকে আপনারা আমাকে সেই সাহস দিয়েছেন, শক্তি দিয়েছেন। যার জন্য আমি নিশ্চিন্ত মনে দেশের কাজ করতে পারছি। দেশের মানুষের কাজ করতে পারছি।

তিনি বলেন, আমার এলাকায় নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিটি করা থেকে শুরু করে যেভাবে আপনারা কাজ করেছেন এটা সারা বাংলাদেশের সমস্ত প্রার্থীর জন্য একটা দৃষ্টান্ত হয়ে গেছে এবং আমাদের অনেক প্রার্থী ও তা অনুসরণ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা বাস্তব যে এই ১৫ বছরে বাংলাদেশকে আমরা বদলে দিতে পেরেছি। সব থেকে বড় কথা আজকে পদ্মা সেতু হয়ে গিয়েছে বলেই সকলে খুব সহজেই আপনারা (গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণবঙ্গ থেকে) চলে আসতে পারছেন।

জাতির পিতা কন্যা বলেন, বিশ্ব ব্যাংক ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ দিয়েছিল। সেটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে প্রমাণ করেছেন যে এখানে কোন দুর্নীতি হয়নি এবং নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করে বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে আমরাও পারি।

তিনি বলেন, সামনে আমাদের যাত্রা পথ এত সহজ নয়। আমাদেরকে অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়। অনেক চক্রান্তই বাংলাদেশটাকে ঘিরে আছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময়, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ফ্রিলান্সার তৈরী করায় সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। যাতে ঘরে বসেই দেশ-বিদেশে কাজ করে অর্থ উপার্জন করা যায় এবং উদ্যোক্তা তৈরীতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ ও বিনা জমানতে ঋণ সুবিধা প্রদান সহ সরকার প্রদেয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার উল্লেখ করেন।

কোনরকম পরীক্ষায় একটা পাশ করে চাকরির পেছনে না ছুটে যুব সমাজকে নিজের বস নিজে হবার মাধ্যমে আরো ১০ জনের কর্মসংস্থানে এগিয়ে আসার জন্য আত্মবিশ^াস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিশ^ব্যাপী যুদ্ধাবস্থার জন্য খাদ্য ক্রয়মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির কারণে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষদের অসুবিধা হবার কথা উল্লেখ করে সারাদেশের প্রতি ইঞ্চি জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোয় তাঁর আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার জনগণও পিছিয়ে থাকবে না মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রদানের আশ^াসের পাশপাশি বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার আহ্বানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, যারা নির্বাচিত চেয়ারম্যান মেম্বাররা আছেন তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, আমরা অনেক প্রকল্প নেই এবং কাজ করি, সেই কাজগুলো যাতে যথাযথভাবে হয়। মানুষ যেন এই কাজের সুফল পেতে পারে এবং এর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই স্থানীয় সরকারের যে কাজগুলো সেগুলো আপনারা করবেন। কাজের মানটা যেন ঠিক থাকে এবং কাজগুলো যেন যথাযথভাবে হয়। যেভাবে কাজ করলে পরে দেশের মানুষের কল্যাণ হবে, দেশের মানুষের উন্নতি হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর একটাই আকাক্সক্ষা শেষ জীবনে তিনি টুঙ্গীপাড়ায় থাকবেন। যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘুমিয়ে আছেন।

উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম ঢেলে সাজানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম ঢেলে সাজাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এ কথা জানান।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সাহাবুদ্দিন বলেন, উচ্চশিক্ষাকে অর্থবহ করতে হলে গবেষণার প্রতি জোর দিতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির বৈপ্লবিক উন্নয়নের ফলে বিশ্ব পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষার্থীদেরকে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিম-লে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা তুলে ধরতে কারিকুলামসহ সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম ঢেলে সাজাতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি তিন ধাপে ১৫ বছরে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আবাসিকসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
খবর বাসস

অনির্দিষ্টকালের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

মিয়ানমার সীমান্তে চলমান উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইয়ামিন হোসেন।

তিনি জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে সেন্টমার্টিনে নৌরুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না-দেওয়া পর্যন্ত টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিনগামী সব পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত সব জাহাজ চলাচল করবে।

তিনি আরও জানান, টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার হতে চলাচলকারী জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গত কয়েকদিন থেকে আরাকান আর্মি ও দেশটির বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সংঘর্ষ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। দু’পক্ষের ছোড়া গুলি ও মর্টারশেল এসে পড়ছে বাংলাদেশের ভেতরে। এ ঘটনায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বান্দরবানে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেলে এক বাংলাদেশি নারী ও এক রোহিঙ্গা নিহত হন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জলপাইতলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম হুসনে আরা (৫০)। তিনি জলপাইতলি এলাকার বাদশা মিয়ার স্ত্রী। এ ছাড়া নিহত রোহিঙ্গা তাদের বাড়ির কাজের লোক। জানা গেছে, মিয়ানমার জান্তার ছোড়া মর্টারশেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বাদশা মিয়ার বসতবাড়িতে এসে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এতেই ওই নারীসহ তাদের বাড়ির কাজের লোক নিহত হন।

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান নিশ্চিত করেন।

পবিত্র শবেমেরাজ আজ

আজ বৃহস্পতিবার, পবিত্র শবেমেরাজ। ‘শবেমেরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্ব গমনের রাত। ২৬ রজব দিনগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.) আল্লাহ তা’য়ালার সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন। তাই রাতটি মুসলমানদের কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত সফরকে ‘ইসরা’ এবং মসজিদুল আকসা থেকে সাত আসমান পেরিয়ে আরশে আজিম সফরকে ‘মিরাজ’ বলা হয়। মহানবী (সা.) নবুওয়াতের দশম বছর ৬২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ রজব দিবাগত রাতে আল্লাহর সান্নিধ্যে মিরাজ গমন করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ঈসরাইল ও সুরা নজমের আয়াতে, তাফসিরে এবং সব হাদিস গ্রন্থে মিরাজের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।

৬২০ খ্রিস্টাব্দ হজরত মুহাম্মদের (সা.)-এর জন্য দুঃখ ও শোকের বছর ছিল। এ সময় তিনি তার কঠিন সময়ের দুজন প্রিয় ব্যক্তি স্ত্রী খাদিজা (রা.) এবং চাচা আবু তালেবকে হারিয়েছেন। তা ছাড়া ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তায়েফ গেলে সেখান থেকেও আশাহত হয়ে ফেরেন। এরপর মহান আল্লাহ ইসরা ও মেরাজের মাধ্যমে প্রিয় রাসুলকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেন।

এই রাতে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (স) মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দিদার লাভ করেন এবং আল্লাহর কাছ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে দুনিয়ায় ফিরে আসেন।

বিশেষ গুরুত্ব থাকায় আজ রাতে মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত কামনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে বা নিজগৃহে সালাত আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন। অনেকে নফল রোজাও পালন করবেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই আজ পাকিস্তানে নির্বাচন

পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আজ বৃহস্পতিবার। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দেশটির ১২,৮৫,৮৫,৭৬০ জন নিবন্ধিত ভোটার ভোট দিতে পারবেন।

বিগত কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান।

সামরিক শাসনের গ্যড়াকলে যেন স্থবির গণতান্ত্রিক চর্চার রাজনীতি। আজ যে ক্ষমতায় আগামীকাল সে কারাগারে। এছাড়া পূর্ণ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের নজিরও নেই পাকিস্তানে।

কারাগারে থেকেই নির্বাচনে ইমরান
সাবেক ক্রিকেটার দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগারে থেকেই অংশ নিচ্ছেন নির্বাচনে। ইমরানের নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে ঘুরছে নানা সমীকরণ। ইমরান কী পারবেন জেল থেকে সেনাবাহিনীকে মোকাবিলা করতে?

যদিও দেশটির নির্বাচন কমিশন ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট কেড়ে নিয়েছে। ফলে দলটির নেতারা লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। তবে ভোটারদের সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি মিডিয়া সেল খুলেছে পিটিআই।

নির্বাচনী সহিংসতা ও নিরাপত্তা
পাকিস্তানে সহিংসতা খুব একটা নতুন কিছু নয়। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবারের সহিংসতা বেশ ভয়াবহ বলা চলে। কারণ বুধবার বেলুচিস্তান প্রদেশে নির্বাচনী অফিস লক্ষ্য করে দুটি বিধ্বংসী বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। খবর ডনের।

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত আকারে শাহবাজ সমর্থক ও ইমরান সমর্থকদের মধ্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ৬ লাখ সদস্য

জানা গেছে নির্বাচনে নিরাপত্তা দিতে পাকিস্তানজুড়ে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ, বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। তিন স্তর বিশিষ্ট ব্যবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালন করবেন।