শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্রসহ আরসার ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি-আরসার তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে র‌্যাব।

আজ বুধবার সকালে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, আগের রাতে উপজেলার ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্ধিত অংশে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি আরসার সেকেন্ড ইন কমান্ড আবুল হাশিম।

অন্যদের মধ্যে একজন আরসা প্রধান আতাউল্লাহ জুনুনির দেহরক্ষী ও আরসা সদস্য বলে র‌্যাব জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পুরো পরিচয় জানাতে পারেনি।

কর্নেল সাজ্জাদ বলেন, উখিয়ার ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার সন্ত্রাসীরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে গোপন খবরে সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে ওই ক্যাম্পে তল্লাশি চালিয়ে আরসার তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং দুটি বিদেশি অস্ত্র, একটি এলজি ও চারটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

আজ বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙবে মন!

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ১ বসন্তের এ দিনে ভালোবাসা দিবসের আগমন যেন মানুষ ও প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তুলবে নতুন মাত্রায়। দিনটিকে রাঙিয়ে তুলতে অপরূপ সাজে সজ্জিত হয় ঢাকা ও তার আশেপাশের হোটেলগুলো। নানা রকম ফুলের ব্যবহারে আনুষ্ঠানিকতার রঙ যেন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।

এবারও সেই আয়োজনের ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সরস্বতী পূজা একই দিনে হওয়ায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে।

ফুলে ফুলে সেজে ওঠার আনন্দময় প্রস্তুতি এখন প্রকৃতিজুড়ে। গাছে গাছে উঁকি দেওয়া কচিপাতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়ে দিচ্ছে শীতের রিক্ততাকে। শীতের খোলসে ঢুকে থাকা বন-বনানী অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠছে একটু একটু করে। বসন্তে পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব। প্রকৃতি অকৃপণ হাতে ঢেলে দেয় তার সবটুকু রঙ, আর সেই রঙ ছুঁয়ে উৎসবে মেতে ওঠে পুরো দেশ। বাসন্তী রঙয়ের শাড়ি পরে ললনারা হেঁটে না গেলে প্রকৃতির বসন্তবরণও যেন পূর্ণতা পায় না। বেশবাসে সদ্য জেগে ওঠা প্রকৃতির ছোঁয়া নিয়ে ফাগুনের প্রথম দিনটিকে স্বাগত জানাতে বেরিয়ে পরার অপেক্ষা এখন কেবল। লাল আর বাসন্তী রঙে প্রকৃৃতির সঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্ত ও ভালোবাসার উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসবে বাঙালি।

দিনটিকে ঘিরে কদর বেড়েছে ফুলের। বসন্ত বরণ করতে প্রস্তুত হয়েছে চারুকলার বকুল তলা অনুষদ। পিছিয়ে নেই মালা চুড়ির দোকানিরাও।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ফুলের দোকান ঘুরে দেখা যায়, থোকা থোকা গোলাপ ও বাসন্তি হলুদ গাঁদার মালায় ছেয়ে আছে দোকান। লালে হলুদে একাকার। শাহাবাগ মোড়ে যেদিকে চোখ যায়, তাজা ফুলে সেজেছে দোকান। বাসন্তি শাড়ির সঙ্গে ফুলের মালা, হলুদে রঙ জানান দিচ্ছে শহরে বসন্ত এসে গেছে।

বাজারে দেখা গেছে চাহিদার শীর্ষে গাঁদা ও গোলাপ ফুল। বরাবরের মতোই ফুলের দাম চড়া। ২০ টাকার গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। তবে বাড়তি দামের বিনিময়েও ফুল কিনতে পিছ পা হচ্ছেন না ক্রেতারা।

অন্যদিকে, বসন্ত উৎসব উদযাপনের জন্য সাজানো হচ্ছে চারুকলার বকুলতলা। প্রতিবারের মতো এবারও বসন্তকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে জানান আয়োজকরা।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কেনা বেচা হচ্ছে কাঠের চুড়ি সাথে মাটির গহনাও।

এদিকে রাজধানীর হোটেলগুলোও পিছিয়ে নেই। ভালোবাসার এই দিনটিকে স্মরণীয় এবং আকর্ষণীয় করতে তারাও নানা ধরনের আয়োজন করেন তারা। হোটেল আমারির সাজসজ্জাই এমন ছিল যে, সেখানে যেন সারাদেশের ভালোবাসার ছোঁয়া। হোটেল লবি থেকে শুরু করে রুপটপ সবখানেই ভালোবাসার রঙ।

সজ্জিত ফটো বুথ, মোমবাতির হালকা স্নিগ্ধ হলদে আভায় ভ্যালেন্টাইন স্পেশাল বুফে ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাও রয়েছে।

এদিকে ঢাকা রিজেন্সিতেও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। মোমবাতির আলোয় সরাসরি সংগীত সন্ধ্যা উপভোগের সুযোগ তো রয়েছেই, সেই সাথে রাখা হয়েছে নানা ধরনের অফারের ব্যবস্থাও।

ভালোবাসার এই দিনটিকে স্মরণীয় করতে এবং আকর্ষণীয় করতে ছবি তোলার সজ্জিত ফটোবুথ ছাড়াও থাকছে ৩৬০ ডিগ্রি ফটোবুথ। এছাড়াও সেরা কাপলের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও পূজায় ফুলের বাজার হাজার কোটি টাকা

যেকোনো উৎসবে ফুলই হয়ে উঠেছে এখন প্রধান অনুষঙ্গ। বছরজুড়েই এখন মিলছে নানান প্রজাতির ফুল। ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০০ কোটি টাকার ফুলের বাজার কয়েক বছরেই হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ফুলের চাষ। দুই-তিনটি জেলা থেকে এখন ফুলের আবাদ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ২৪টি জেলায়।

পাশ্চাত্যের ভালোবাসা দিবস আর বাংলার বসন্ত যেন প্রেমিকযুগল হয়ে আসে একইদিন। আজ বুধবার বসন্তের প্রথম দিন। সঙ্গে ভালোবাসা দিবস (১৪ ফেব্রুয়ারি)। এদিন বাড়তি পাওনা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা। এ তিনটি উৎসবেই প্রধান অনুষঙ্গ ফুল। একই দিনে তিন উৎসব ঘিরে ফুল বাজারে রমরমা অবস্থা। ব্যস্ত ফুল ব্যবসায়ীরাও। ফুলের দাম বেড়েছে তিনগুণ। এবার রেকর্ড ফুল বিক্রির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি বলছে, রাজধানীতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ১২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হতে পারে।

ঢাকা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির অধীনে শাহবাগে দেড় শতাধিক তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী পাইকারি ফুলের বাজারে নেতৃত্ব দেন। আর শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অধীনে আছে খুচরা ফুল বিক্রির অর্ধশতাধিক দোকান। এ ছাড়া ৩০ থেকে ৩৫টি অস্থায়ী খুচরা দোকান রয়েছে।

ফুলের বাজার এখন কেমন জানতে চাইলে, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি বাবুল প্রসাদ বলেন, ‘এবার একই দিনে পহেলা ফাল্গুন, সরস্বতী পূজা ও ভালোবাসা দিবস। এ কারণে চাহিদা বেশি থাকায় ফুলের দাম বেড়ে গেছে। দাম বাড়তি হওয়ায় বাণিজ্যের হিসাবও বেড়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ঘিরে রাজধানীতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ১২০ কোটি টাকার মতো ফুল বিক্রি হবে বলে আশা করছি। তিন উৎসবের ফুলের চাহিদা এক দিনে পূরণ করা কষ্টকর। সবাই চাইবেন ফুল সংগ্রহ করতে। সেক্ষেত্রে ফুলের দামটাও চড়া থাকবে। বর্তমানে বছরজুড়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। আমরা আশা করছি, দু-এক বছরের মধ্যে দেশে ফুলের বাজার দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে।’

ফুলের চাষ ও পেছনের কথা

ফুল ব্যবসায়ীরা বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে এমনিতেই ফুল বিক্রি বেশি হয়। তবে ফুলের দাম এবার তিনগুণ বেড়েছে। ঢাকার বাজারে অধিকাংশ ফুলই আসে যশোরের গদখালী, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়নগঞ্জের বন্দর ও সাভারের গোলাপ গ্রাম থেকে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, চীন ও ভারত থেকেও ফুল আমদানি করা হয়। যেসব ফুল দেশে চাষ হয় না সেগুলোই বিদেশ থেকে আসে।

ঢাকায় ১৯৮৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে ফুল বিক্রি শুরু হয়। তখন বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন স্থানে ফুল বিক্রি হতো। ১৯৯০ সালে শাহবাগে প্রথম ফুলের বাণিজ্যিক পাইকারি মার্কেট স্থাপিত হয়। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ফুটপাত এবং সড়কের পাশে ফুল বিক্রি হয়। গত বছরের তুলনায় এবার পাইকারি পর্যায়ে ফুলের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে মানভেদে একটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৬০ টাকায়। জারবেরা ২০ থেকে ৫০ টাকা, গ্লাডিওলাস ২০ থেকে ৬০ টাকা ও রজনীগন্ধা ৫ থেকে ২০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। এ ছাড়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক হাজার গাঁদা ফুল। তবে খুচরা বাজারে একই ফুল বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। পাইকারি বাজারে সব ফুলের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা করে বেড়েছে। একটি গোলাপ ৩০ থেকে ৬০ টাকা, একটু বড় সাইজের গোলাপ ৫০ থেকে ১০০ টাকা, জারবেরা ৪০ থেকে ৭০ টাকা, গ্লাডিওলাস ৪০ থেকে ৭০ টাকা ও রজনীগন্ধা প্রতি স্টিক ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

শাহবাগের আনিকা পুষ্প বিতানের স্বত্বাধিকারী ও শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আগে মানুষ বিশেষ উৎসবে ফুল কিনতেন। এখন উপলক্ষ ছাড়াও ফুল কেনেন। উৎসব উদযাপনে এখন কোনো গিফট কিনলেও সঙ্গে এক তোড়া ফুল থাকে। ফলে ফুলের ব্যবহার বহুমুখী হয়েছে। সঙ্গে বেড়েছে আবাদও। বাড়ছে দামও। কারণ চাষিদের খরচ বাড়ছে। আমরা মূলত যশোর থেকে ফুল সংগ্রহ করি। যশোরের ঝিকরগাছায় সবচেয়ে বেশি ফুলের চাষ হয়। ফলে সারা দেশে ফুলের মার্কেট কত, সেটা কিন্তু বলা মুশকিল। তবে এটা যে বাড়ছে সেটা আমরা বলতে পারি। শুধু শাহবাগেই ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনটি উপলক্ষকে কেন্দ্র করে আমরা কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা করছি।’

পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে জমজমাট ব্যবসা

ফুলের পাইকারি ব্যবসায়ী ইমামুল হোসেন বলেন, ‘তিনটি উপলক্ষ একসঙ্গে হওয়ায় এবার ফুলের চাহিদা অনেক বেশি। আমরা পাইকারি মার্কেটেও চাহিদা অনুযায়ি ফুল পাচ্ছি না। দুদিন আগেও যে গোলাপের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা মঙ্গলবার কিনেছি ৬০ টাকায়। বুধবার এই গোলাপ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে পারে। সাধারণ একটা ফুলের তোড়া ২৫০ টাকা।’

১৯৯৪ সাল থেকে শাহবাগে ফুল ব্যবসা করেন জামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘তিনটি উৎসব তিন দিনে হলে ব্যবসা আরও ভালো হতো। ফুলের দোকান দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। সাধারণত শাহবাগে বড় দোকানে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। আর ছোট দোকানে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়। এবার ফুলের বিক্রি খুবই ভালো হচ্ছে। দোকানে ৫০ রকমের ফুল রয়েছে। এর মধ্যে আছে ১৫ ধরনের বিদেশি ফুল।’

অধিকাংশ ক্রেতার অবশ্য অভিযোগ, ফুলের দাম বাড়তি। রফিকুল আলম নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ফুলের চাহিদা বেড়েছে। সেজন্য ব্যবসায়ীরাও দাম বেশি চাইছেন। কিন্তু এটি ঠিক নয়। তারা সাধারণ মানুষের চাহিদাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

শারমিন সুলতানা নামে এক নারী বলেন, অন্য সময়ের চেয়ে ফুলের দাম তিন গুণ বেশি। ভালোবাসা দিবসে ফুলের চাহিদা বেশি হয়ে ওঠে, কারণ এটি ভালোবাসা প্রকাশের উপযুক্ত উপহার। ফুলের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভালোবাসার আনন্দ ও মনোমুগ্ধতা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা ঠিক এ সুযোগটি নিচ্ছেন।

বাড়ছে ফুলের উৎপাদন

যশোরের নীলকণ্ঠনগর গ্রামের ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি এক একর জমিতে ফুলের চাষ করি। বছরে খরচ বাদে সাত-আট লাখ টাকা আয় হয়। আগে আমরা শুধু কয়েকজন ফুলের চাষ করলেও এখন আমাদের ঝিকরগাছায় মাঠের পর মাঠ ফুল চাষ হচ্ছে। অন্য আবাদ ছেড়ে ফুল চাষ করছেন।’

কেন চাষিরা ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন, জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘প্রথমত এটা অনেক বেশি লাভজনক। আর দ্বিতীয়ত, কোন মৌসুমে একটু লস হলেও পরের মৌসুমে সেটা পুষিয়ে যায়। আর তৃতীয়ত, ফুল প্রতিদিন বিক্রি করা যায়। ধান বা অন্যান্য আবাদ একটা নির্দিষ্ট সময় পর উঠিয়ে বিক্রি করতে হয়। ফুলের ক্ষেত্রে তেমন না। একটি বাগান করলে প্রতিদিনই সেখান থেকে ফুল বিক্রি করা যায়। একেকদিন একেক জাতের ফুল তোলা যায়। ফলে চাষিদের হাতে সব সময় টাকা থাকে।’

যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘যশোরের গদখালী ফুলের অন্যতম বড় মার্কেট। আমরাই প্রথম ফুলের যে ব্যবসা হয়, সেটা দেশের মানুষকে শিখিয়েছি। বছরে আমাদের গদখালী আড়তে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। যেভাবে এটা বাড়ছে, তাতে ১০০ কোটিতে পৌঁছতে বেশিদিন লাগবে না। ২০১৯-২০২০ সালের দিকে আমাদের একটা জরিপ হয়েছিল, তখন দেখা গিয়েছিল এক হাজার ২০০ থেকে ৩০০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছিল। এখন সেটা আরও অনেক বেড়েছে। সরকারি সহায়তাও এখন অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহণও সহজ হয়েছে। দ্রুত আমরা ঢাকায় ফুল পৌঁছতে পারছি। যশোর থেকে এখন ফুল সব জেলাতেই যাচ্ছে। দেখেন, নেদারল্যান্ডসের ৬০ ভাগ রাজস্ব আসে ফুল থেকে। আমরাই চাই, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ফুল একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর ফুল চাষের জন্য আমাদের দেশের মাটি-আবহাওয়া অনেকটা ভালো। ফলে দিনদিন এটার বিস্তৃতি বাড়বে।’

ফুল চাষে নতুন করে বিস্তৃতি ঘটেছে নারায়নগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদি গ্রামে। সেখানকার ফুল চাষি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জামান হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে ৮০ হেক্টর জমিতে দুই শতাধিক চাষি বর্তমানে ফুল চাষ করছেন। পাশাপাশি সাবদির আশপাশের দিঘলদি, সেলশারদি, মাধবপাশা ও আইছতলা গ্রামের আরও কয়েক হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ হয়। এছাড়া সোনারগাঁ উপজেলার সম্ভুপুরা ইউনিয়নের কয়েক গ্রামেও আবাদ করেন চাষিরা। এসব গ্রামের বাগানগুলোতে রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, বাগানবিলাস, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, কসমস, দোলনচাঁপা, নয়নতারা, মোরগঝুঁটি, কলাবতি, বেলি, জিপসি, চেরি, কাঠমালতি, আলমন্ডা, জবা, রঙন, টগর ও রক্তজবাসহ ২০ থেকে ২৫ ধরনের ফুল চাষ হয়। তবে এবার অতিরিক্ত শীত ও বৃষ্টির কারণে কিছু ফুল নষ্ট হয়ে গেছে। ফুলচাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে আমাদের ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার নারী-পুরুষ।’

বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা জানিয়েছেন, ‘বছরের বারোমাসই বন্দরের কয়েকটি গ্রামে ফুল চাষ করা হয়। পুরো জেলায় ১৫৫ হেক্টরের বেশি জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। বিশেষ দিন ও বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে ফুলের বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ তিনটি দিবসেই প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যস্ততা ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের।’

আর্থসামাজিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বর্পূণ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করুন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন এমন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি যেগুলোতে কম অর্থের প্রয়োজন সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সব মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য যে প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সেগুলো আমাদের নিতে হবে। প্রকল্প বাছাই করার সময় সে বিষয়টা আমাদের একটু দেখা দরকার যাতে আমরা আমাদের লক্ষ্যটা অর্জন করতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার সভাপতিত্বকালে দেওয়া প্রারম্ভিক ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যেসব প্রকল্প অল্পখরচ করলেই দ্রুত শেষ হয়ে যাবে সেগুলো সম্পন্ন করে ফেলা উচিত। তাহলে আমরা আবার নতুন প্রকল্প নিতে পারবো। কিছু কিছু প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, তবে আমার মনে হয়, সেগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত। কারণ দ্রুত শেষ না করলে খরচ, যেমন বাড়ে তেমনি অহেতুক কালক্ষেপণ হয়, সেটা যেন আর না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বলছি আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য যে প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সেগুলো আমাদের নিতে হবে। প্রকল্প বাছাই করার সময় সে বিষয়টা আমাদের একটু দেখা দরকার। যাতে আমরা আমাদের লক্ষ্যটা অর্জন করতে পারি।

তিনি বলেন, আজকে বৈশ্বিক কারণেই কিছু অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে তাছাড়া আমরা খুব ভালভাবেই এগোচ্ছিলাম। আমাদের প্রবৃদ্ধিও সেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। দেশের উন্নয়নটা তরান্বিত হচ্ছিল। এ সময় কোভিড-১৯ অতিমারী আসায় বিশ্বব্যাপী সবকিছু স্থবির হয়ে পড়ল। এরপর যখন আমরা এটি মোকাবিলা করে এর থেকে উত্তোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি তখনই আসলো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, স্যাংশন ও কাউন্টার স্যাংশন, এখন আবার গাজায় যেভাবে গণহত্যা চলছে এবং আক্রমণ চলছে, বিশ্বব্যাপীই একটি অশান্ত পরিবেশ। যার কারণে জিনিষপত্রের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়ও বেশি লেগে যাচ্ছে। বহিবি:শ্বের নানাকারণে চাপটা আমাদের ওপরও এসে পড়েছে।

যে কারণে তিনি দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোয় তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এতে ভালো ফল পাওয়া যায়।

তিনি এ সময় বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদের পাশাপাশি জলাভূমিগুলোতে মাছ চাষের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তাঁর নিজের এলাকায় (টুঙ্গিপাড়া-কোটালিপাড়া) সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদের ব্যবস্থা করেছেন। যারা অনুপস্থিত মালিক তারা একটা অংশ পাবে কিন্তু তাদের অংশটা একটু কম হবে, যারা শ্রম দেবে তারা একটা অংশ পাবে আর সমবায়ের জন্য একটা অংশ থাকবে। যাতে করে খরচটা চালানো যায়। আমি এটা করে যাচ্ছি এবং আমি মনে করি এটাতে সফল হতে পারলে এবং সারা বাংলাদেশে এটা চালু করে দিতে পারলে কোন জমি আর অনাবাদি থাকবে না।

তিনি বলেন, কিছু কিছু জিনিস আমাদের বাইরে থেকে আনতেই হয়। তারপরেও সার্বিক উৎপাদন বাড়ানো গেলে এর শুভফলটা জনগণ পাবে, অন্যের ওপর আর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। তিনি উদাহারণ দেন, তাঁর সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করায় এখন দেশের প্রয়োজনের ৪০ শতাংশ পেঁয়াজ দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশ আমদানী নির্ভর।কিন্তু এবারের আমাদের যে পরিমান শর্ষে হয়েছে তাতে ৪০ শতাংশ আমরা এই শর্ষের তেল দিয়ে বা ধানের তুষ থেকে সৃষ্ট রাইস ব্রান্ড ওয়েল উৎপাদন করছি, এভাবেই ধীরে ধীরে নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তাছাড়া মাছ, মাংশ, দুধ ডিমের উৎপাদনও বেড়েছে এবং মানুষের এগুলো গ্রহণের হারটাও বেড়েছে। যারা আগে আমিষ খাবার কথা চিন্তা করত না, এখন তারাও নিচ্ছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি, অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে সাথে একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়নটা আমাদের দরকার। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে।

জ্যাকের সেঞ্চুরি, বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড কুমিল্লার

আসরের শুরু থেকেই রান-খরায় ভুগছিলেন লিটন দাস। অবশেষে চট্টগ্রাম পর্বে এসে হেসেছে তার ব্যাট। অধিনায়কের গড়ে দেওয়া ভিতে দাঁড়িয়ে রীতিমতো ঝড় তুললেন উইল জ্যাক। এই ইংলিশ ওপেনারের সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান সংগ্রহ করেছে কুমিল্লা। যা বিপিএল ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড। ভিক্টোরিয়ান্সদের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ১০৭ রান করেছেন জ্যাক। তা ছাড়া ফিফটি পেয়েছেন লিটন ও মঈন আলী।

এর আগে ওপেনিংয়ে নেমে লিটন দাসও ঝড় তুলেছিলেন। তিন ব্যাটারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে চলতি আসরের সর্বোচ্চ রান তোলার রেকর্ড গড়ে কুমিল্লা। এর আগে এই চট্টগ্রামের বিপক্ষেই ২১১ রান তুলে সর্বোচ্চ রান তোলার রেকর্ড করেছিল রংপুর রাইডার্স।

শুধু তাই নয়। বিপিএলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও স্পর্শ করে ফেলেছে কুমিল্লা। ২০১৯ সালের আসরে ৪ উইকেটে ২৩৯ রান তুলে বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গড়েছিল রংপুুর রাইডার্স। আজ রংপুরের সেই রেকর্ডেও ভাগ বসায় কুমিল্লা।

একনেকে ৪ হাজার কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন

চলতি অর্থবছরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সপ্তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এটিই হচ্ছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভা। প্রথম সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ৯টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা।

আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে ক্লাইমেট রেজিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট এবং ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্ৰণালয়ের ইন্টিগ্রেটিং ক্লাইমেট চেন্জ এডাপশন ইনটু সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পাথওয়েস অব বাংলাদেশ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএইউ) এর অধীনে সুপার স্পেশিয়ালাইজড হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত), পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের পিডিবিএফ-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প ২য় পর্যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ (ওজোপাডিকো) এলাকার জন্য স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং (২য় পর্যায়), দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রস্তাবিত দুদকের খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল এবং সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং পরিকল্পনা বিভাগের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউআরপি): প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেশন এন্ড মনিটরিং ইউনিট (পিসিএমইউ) (৪র্থ সংশোধিত) প্রকল্প। এছাড়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের চলমান সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু রপ্তানি ট্রফি পাচ্ছে ৭৭ প্রতিষ্ঠান

২০২১-২২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফির জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি পাচ্ছে রিফাত গার্মেন্টস।

সোমবার সরকারি এক গেজেটে ২০২১-২২ অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানি ট্রফির জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই গেজেটে বলা হয়, দেশের সেরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গবন্ধু রপ্তানি ট্রফি (স্বর্ণ) পাচ্ছে রিফাত গার্মেন্টস।

স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ এ তিন ক্যাটেগরিতে জাতীয় রপ্তানি ট্রফির জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তৈরি পোশাক খাতে (ওভেন) উইন্ডি অ্যাপারেলস স্বর্ণ, অ্যাপারেল গ্যালারি রৌপ্য এবং চিটাগাং এশিয়ান অ্যাপারেলস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে (নিটওয়্যার) লিবার্টি নিটওয়্যার স্বর্ণ, ডিভাইন ইন্টিমেটস রৌপ্য, ফ্লামিংগো ফ্যাশনস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।

সব ধরনের সুতা খাতে বাদশা টেক্সটাইলস স্বর্ণ, স্কয়ার টেক্সটাইলস রৌপ্য এবং কামাল ইয়ার্ন ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। টেক্সটাইল ফেব্রিকস খাতে নাইস ডেনিম মিলস স্বর্ণ, হা-মীম ডেনিম রৌপ্য এবং ফোর এইচ ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।

হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিকস স্বর্ণ, মমটেক্স এক্সপো রৌপ্য এবং এসিএস টেক্সটাইলস (বাংলাদেশ) ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। টেরিটাওয়েল খাতে নোমান টেরিটাওয়েল মিলস স্বর্ণ এবং এসিএস টাওয়েল রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে। হিমায়িত খাদ্য খাতে ছবি ফিশ প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ স্বর্ণ, প্রিয়াম ফিশ এক্সপোর্ট রৌপ্য এবং এমইউসি ফুডস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। কাঁচা পাট খাতে পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ স্বর্ণ, তাসফিয়া জুট ট্রেডিং রৌপ্য এবং ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্স ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।

পাটজাত দ্রব্য খাতে জনতা জুট মিলস স্বর্ণ এবং আকিজ জুট মিলস রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে। চামড়াজাত পণ্য খাতে পিকার্ড বাংলাদেশ স্বর্ণ এবং এবিসি ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে।

ফুটওয়্যার খাতে বে-ফুটওয়্যার স্বর্ণ, এডিসন ফুটওয়্যার রৌপ্য এবং এফবি ফুটওয়্যার ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। কৃষিজ পণ্য খাতে (তামাক ব্যতীত) ইনডিগো করপোরেশন স্বর্ণ, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং কোং রৌপ্য এবং সিএসএস ইন্টারন্যাশনাল ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।

অ্যাগ্রো প্রসেসিং পণ্য খাতে (তামাকজাত পণ্য ব্যতীত) হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো স্বর্ণ, প্রাণ অ্যাগ্রো রৌপ্য এবং প্রাণ ফুডস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। হস্তশিল্পজাত পণ্য খাতে কারুপণ্য রংপুর স্বর্ণ, বিডি ক্রিয়েশন রৌপ্য এবং ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। মেলামাইন খাতে ডিউরেবল প্লাস্টিক স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে। প্লাস্টিক পণ্য খাতে অলপ্লাস্ট বাংলাদেশ স্বর্ণ, আকিজ বায়াক্স ফিল্মস রৌপ্য এবং বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। সিরামিক সামগ্রী খাতে শাইনপুকুর সিরামিকস স্বর্ণ, আর্টিসান সিরামিকস রৌপ্য এবং প্রতীক সিরামিকস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে এমঅ্যান্ডইউ সাইকেলস স্বর্ণ, মেঘনা বাংলাদেশ রৌপ্য এবং রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য খাতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি স্বর্ণ এবং বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে।

অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য খাতে মেরিন সেফটি সিস্টেম স্বর্ণ, এশিয়া মেটাল মেরিন সার্ভিস রৌপ্য এবং তাসনিম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস স্বর্ণ, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস রৌপ্য এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।

কম্পিউটার সফটওয়্যার খাতে সার্ভিস ইঞ্জিন স্বর্ণ এবং গোল্ডেন হারভেস্ট ইনফোটেক রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে। ইপিজেডভুক্ত শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন (সি ক্যাটেগরি) তৈরি পোশাক শিল্প খাতে (নিট ও ওভেন) ইউনিভারসেল জিন্স স্বর্ণ, প্যাসিফিক জিন্স রৌপ্য এবং শাশা ডেনিমস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।

প্যাকেজিং ও অ্যাকসেরিজ পণ্য খাতে স্বর্ণ, মনট্রিমস রৌপ্য এবং ইউনিগ্লোরি পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।

অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য খাতে হেয়ার স্টাইল ফ্যাক্টরি স্বর্ণ ট্রফি, রায় ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল রৌপ্য ও ইকো ফ্রেশ ইন্টারন্যাশনাল ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। অন্যান্য সেবা খাতে এক্সপো ফ্রেইট স্বর্ণ ট্রফি এবং মীর টেলিকম রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে।

এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তা বা রপ্তানিকারকদের জন্য সংরক্ষিত খাতে পাইওনিয়ার নিটওয়্যার্স (বিডি) স্বর্ণ ট্রফি, বিকন নিটওয়্যার রৌপ্য ট্রফি এবং ইব্রাহিম নিট গার্মেন্টস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।

জামালপুরে কলেজছাত্র লিটন হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুরের সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের কলেজছাত্র লিটন হত্যা মামলায় ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এহসানুল হক এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মজিবুর রহমান ভুট্টা (৪০), মিজান (২০), সোহেল (২৫), সুমন (২৬), লাভলু (২০), হেলাল উদ্দিন (৩৫), মিজান (২১) ও মুজিবুর রহমান ভুট্টু (পালাতক)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি রাতে নিহত লিটন নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয়। পরের দিন সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের চরগোপীনাথপুর একটি মাঠ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহন প্রতিবন্ধকতায় জিনিসের দাম বাড়ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, যার জন্য বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জিনিসের দামও বেড়ে যাচ্ছে, পণ্য আনতে সময়ও লেগে যাচ্ছে। নানা কারণে বহির্বিশ্বের চাপটা আমাদের ওপর এসে পড়ছে।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাইরের দেশের ওপর আমাদের নির্ভরশীল থাকার দরকার নেই, আমরা নিজেরা সব উৎপাদন করবো। এজন্য সবাইকে বলেছি এক ইঞ্চি জমিও যেন পড়ে না থাকে।

তিনি আরওবলেন, কিছু কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আমাদের বাইরের দেশ থেকে আনতেই হচ্ছে। আমরা নিজেরা যদি উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা করি, সেটা কিন্তু আমরা পারবো। ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে যেসব প্রকল্পগুলো অল্প খরচ করলেই শেষ হয়ে যাবে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে ফেলতে হবে। পুরাতন প্রকল্প সম্পন্ন করলে, নতুন প্রকল্প নিতে পারবো। কিছু কিছু প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেগুলোও দ্রুত শেষ করা উচিত। তা নাহলে অহেতুক খরচও বাড়ে, কালক্ষেপণ হয়। সেটি যেন না হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়ছিল, অগ্রগতি হচ্ছিল তখন প্রথমে আসলো কোভিড-১৯ অতিমারি, তার ধাক্কায় সারা বিশ্বব্যাপী, সব কিছু স্থবির। এরপর আসলো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা, এখন আবার গাজায় গণহত্যা, আক্রমণ চলছে।

এইচএসসি পরীক্ষা জুনের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে পারে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসের শেষের দিকে হতে পারে। চলতি মাসে পরীক্ষার সময়সূচি ঠিক করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠাবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সূচি চূড়ান্ত করা হবে।

আন্তঃশিক্ষা শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করতে চাই। সে অনুযায়ী সম্ভবত তিনটা তারিখ প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় যে তারিখ চূড়ান্ত করবে সে অনুযায়ী পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হবে।

জানা গেছে, চলতি মাসে পরীক্ষার সময়সূচি ঠিক করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠাবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সূচি চূড়ান্ত করা হবে। এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল মার্চে প্রকাশ করা হবে। এরপর ফরম পূরণ শুরু হবে। ফরম পূরণ চলাকালীন পরীক্ষার একটি খসড়া রুটিন তৈরি করে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পেলে জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।

১৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।