শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

শরীর ভালো না, ওমরাহ থেকে না ফিরলে ক্ষমা করবেন: শামীম ওসমান

ওমরাহ করতে যাওয়ার আগে সবার কাছে ক্ষমা চাইলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তিনি বলেছেন, আমার শরীরটা ভালো না। দুয়েক দিনের মধ্যে ওমরাহ করতে আল্লাহর ঘরে যাচ্ছি। যদি ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, সেখান থেকে ফিরে না এলে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দেবেন।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের চাষাঢ়া এলাকার রাইফেল ক্লাবে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, কেউ কেউ আপনাদের উসকানি দেবে। উচ্ছিষ্ট বামেরা আপনাদের নিয়ে খেলবে, কিন্তু সমস্যার সমাধান করবে না। আমি গরিবের পক্ষে আছি। আমি দেখেছি হকাররা বিনা পয়সায় বসে না। তারা চাঁদা দেয়। এই টাকা আমরা বা সিটি করপোরেশনও পায় না। কিছু চাঁদাবাজ পায়। এসব তো প্রতিদিন চলতে পারে না।

‘আমার ভালোবাসার সংসারে কোনো দ্বন্দ্ব করবেন না। কোনোকিছু পাওয়ার জন্য কোনো গ্রুপিং করবেন না। যার কপালে যেটা লেখা আছে সেটা পাবে। কাজ করুন, মানুষের সেবা করুন’, নেতাকর্মীদের নসিহত করেন শামীম ওসমান।

মোস্তাফিজকে নিয়ে সুখবর পাওয়া গেল

অনুশীলনে মাথায় বলের আঘাত পেয়েছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। চট্টগ্রাম থেকে দুঃসংবাদটা ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। যদিও গতকালই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছিল। সিটি স্ক্যান করার পর জানা যায়, মোস্তাফিজের মাথার চোট শুধু বাইরের অংশে, অভ্যন্তরীণ কোনো চোট নেই।

তবে যেহেতু মাথার চোট, এ ছাড়া পাঁচটার মতো সেলাই লেগেছে। তাই তাকে বিপিএলের বাকি ম্যাচগুলোয় পাওয়া নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা ছিলই। এরই মধ্যে আজ আরও বড় সুখবর পাওয়া গেল।

হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে আছেন ফিজ। কেমন আছেন, হাসপাতাল থেকে কবে ছাড়া পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘আজকে ছাড়া পাবে কি না এটা এখনো জানি না। তবে ডিউটি ডাক্তাররা বলেছে, ও (মোস্তাফিজ) এখন অনেকটা ভালো আছে।’

ছাড়পত্র পেলে দলের সঙ্গে যোগ দেবে নাকি ঢাকায় ফেরত আসবে এমন প্রশ্নে দেবাশীষ বলেন, ‘যদি আজ (সোমবার) ছেড়ে দেয় তাহলে আমার মনে হয় দলের সঙ্গেই চলে যাবে। ছাড়পত্র যদি কনসালট্যান্ট দেয় তাহলে তো হাসপাতালে থাকার দরকার নেই। হাসপাতালে যদি থাকার দরকার না হয়, তাহলে তো ঢাকায় পাঠানোরও দরকার নেই।’

১ ইঞ্চি জমিও কেউ আর দখল করতে পারবে না : মেয়র তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১ ইঞ্চি জমিও কেউ আর অবৈধভাবে দখল করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

আজ সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে মতিঝিল মিডল সার্কুলার রোড কাঁচাবাজারের দোকান বরাদ্দপ্রাপ্তদের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই দোকানগুলো ১৯৯৭ সালে মেয়র মোহাম্মদ হানিফের আমলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তরা সে সব দোকান বুঝে পায়নি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অনেক দোকান অবৈধ দখলদারেরা ভোগ করে আসছিল। কিন্তু আমরা থাকতে সিটি করপোরেশনের এক ইঞ্চি জমিও কেউ আর অবৈধভাবে দখল করতে পারবে না। তাই আজ প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তদের সেসব দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তদের বরাদ্দ বুঝিয়ে দিতে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রমের আশাবাদ ব্যক্ত করে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এ সময় বলেন, যারা প্রকৃত বরাদ্দগ্রহিতা, প্রাপক তারা-ই সেখানে সঠিকভাবে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করবে। তারা আমাদের অংশীজন, হকদার। তাই তাদের বরাদ্দ বুঝিয়ে দিতে কোনো ধরনের প্রতিকূলতা আমাদেরকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। আমরা সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করব, ইনশা আল্লাহ।

অনুষ্ঠানে ৫৭ জন বরাদ্দগ্রহিতার মধ্যে চাবি হস্তান্তর করা হয়।

করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুর বক্তব্য দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন করপোরেশনের সচিব আকরামুজ্জামান, অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সোয়ে মেন জো, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মিনু রহমান ও ফারহানা ইসলাম ডলি প্রমুখ।

আরএসএফের প্রতিবেদন বাস্তবতাবহির্ভূত : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে রিপোর্টার্স উইদাউট (আরএসএফ) প্রতিবেদন বাস্তবতাবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

এ জন্য বাংলাদেশ সম্পর্কিত প্রতিবেদন ও র‌্যাংকিং পুনর্মূল্যায়ন করতে আরএসএফের সেক্রেটারি জেনারেলকে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

আজ সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আরএসএফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও র‌্যাংকিং নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সার্বিক বিবেচনায় আরএসএফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান র‌্যাকিং বাস্তবতা বহির্ভূত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উল্লিখিত সব উদ্যোগ বিবেচনা করে যথেষ্ট বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আরএসএফ তাদের র‌্যাংকিং মূল্যায়ন করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে। তাহলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় স্বাধীনতার বিষয়ে প্রকৃত অবস্থান ও চিত্র ফুটে উঠবে।

বৈশ্বিক গণমাধ্যম সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৩তম।

আরাফাত বলেন, এই প্রতিবেদন ও র‌্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ক্রমবিকাশ, সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার জন্য বর্তমান সরকারের অব্যাহত উদ্যোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার অবাধ স্বাধীনতার প্রকৃত চিত্রের বিপরীতে আরএসএফের মূল্যায়ন অগ্রহণযোগ্য, পক্ষপাতদুষ্ট এবং সত্যের বিচ্যুতি বলে মনে করে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা র‌্যাংকিংয়ে আরও ওপরে উঠতে চাই জেনুইনলি। যাতে কেউ এগুলোকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার বা অপব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ ব্র্যান্ডিং করার সুযোগ না পায়, এটি হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য।

এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছেন কি না, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি বলব, এই প্রতিবেদনে অনেক ভুল তথ্য আছে। প্রতিবেদনে বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেনি।

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এগুলো নিয়ে কোনো পলিটিক্যাল বক্তব্যে যাবো না। আমরা একাডেমিক্যালি ধরব। তথ্য দিয়ে ধরবো, গোঁড়ায় ধরব, শিকড়ে ধরবো। এগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি বলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। অসত্য, ভুল এবং মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেব না। যেটা সত্য সেটা দিয়ে আমরা অসত্যকে চ্যালেঞ্জ করব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদনে জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে এমন কিছু যদি থাকে যেটি সত্য এবং আমাদের বিপক্ষে সমালোচনা। সেগুলোকে আবার আমরা স্বাগত জানাবো। নিজেদের শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করবো। সেখানে কোনো সমস্যা বা প্রতিবাদ থাকবে না। প্রতিবাদ থাকবে শুধু অসত্য অর্ধসত্য এবং ভুল তথ্য এবং বাস্তবতার প্রতিফলন না ঘটিয়ে কোনো ধরনের নেগেটিভ ব্র্যান্ডিং যেখানে হবে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, আমরা বুদ্ধিভিত্তিক জায়গা থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে যে কোনো অসৎ যা কিছু হবে সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে থাকব।

বিদেশের কারাগারে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি আটক

২৬ দেশের কারাগারে ৯ হাজার ৩৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন বলে সংসদে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশের বিভিন্ন কারাগারে আটককৃতদের বিষয়ে মিশনগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পর্তুগালে একজন, মিশরে ছয়জন, ইতালিতে ৮১ জন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩৮৫ জন, কোরিয়ায় ছয়জন, শ্রীলঙ্কায় তিনজন, কাতারে ৪১৫ জন, লিবিয়ায় নয়জন, স্পেনে ১৯ জন, হংকংয়ে ১২২ জন, সিঙ্গাপুরে ৬৬ জন, ব্রুনাইয়ে ১৬ জন, চীনের বেইজিংয়ে ১৮৪ জন, চীনের কুনমিংয়ে সাতজন, আবুধাবিতে ৪০৪ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ৪৯ জন, সৌদি আরবে ৫ হাজার ৭৪৬ জন, মালয়েশিয়ায় ২১৯ জন, আলজেরিয়ায় একজন, থাইল্যান্ডে চারজন, লেবাননে ২৮ জন, গ্রীসে ৪১৪ জন, ইরাকে ২১৭ জন, তুরস্কে ৫০৮ জন, মিয়ানমারে ৩৫৮ জন, জাপানে দুইজন, জর্ডানে ১০০ জন আটক রয়েছেন।

বিদেশের কারাগারে আটক প্রবাসীদের মুক্তির ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ ও তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরের জুলাই হতে চলতি মাস পর্যন্ত মোট ১২২৬ জন আটক বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে, ৫১ জন বাংলাদেশিকে ফ্রান্স ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের জেলখানা থেকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও ভারত, মিয়ানমার এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জেলখানা থেকে আরও প্রায় ১৯৫০ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশস্থ বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ নিয়মিতভাবে কারাগারে আটক বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মুক্তির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করেন।

বিভিন্ন দেশে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে আটক শ্রমিক-প্রবাসী কর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ দ্রুততার সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও পাবলিক প্রসিকিউশন অফিসের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রাখা হয়।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দণ্ড মওকুফের জন্য বাদীদের সাথে দূতাবাসসমূহ সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে মার্জনার অনুরোধ সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক পত্র প্রেরণ করে থাকে।

বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে সমঝোতা করে ব্লাডমানি/রক্তপণ পরিশোধপূর্বক মৃত্যুদণ্ড মওকুফকরণের ব্যবস্থা করে।

দৃতাবাস প্রবাসে জেলে বন্দি বাংলাদেশিদের সেবাসমূহ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে।

১৪ মাস পর ঢাবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২৭৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর আংশিক কমিটি ঘোষণার ১৪ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেল ঢাবি ছাত্রলীগ।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এই কমিটির অনুমোদন দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তানভীর হাসান সৈকত ও তানভীর হাসান সৈকত

ঢাবি ছাত্রলীগের ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন ৬১ জন, ১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, আন্তর্জাতিক সম্পাদক, এসডিজিবিষয়ক সম্পাদকসহ ৩৬টি সম্পাদক, উপসম্পাদক এবং সদস্য পদে বাকিদের পদায়ন করা হয়েছে।

কমিটিতে এক নম্বর সহ-সভাপতি হয়েছেন মেহেদী হাসান নিবিড়, এক নস্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদ ভুঞা এবং এক নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে রায়হান সরকারকে।

এর আগে, ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি পদে মাজহারুল কবির শয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তানভীর হাসান সৈকতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে আংশিক কমিটি ঘোষণার ১৪ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেল ঢাবি ছাত্রলীগ।

ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ মঙ্গলবার

রমজান সামনে রেখে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টাস্কফোর্সের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। গত রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ট্যারিফ কমিশনের নেতৃত্বে একটা মূল্য নির্ধারণ কমিটি আছে। মূল্য নির্ধারণে বৃহস্পতিবার অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমদানিকারক ও উৎপাদকরা ছিলেন সেখানে। এরপর আমাদের জাতীয় যে কমিটি আছে, জাতীয় টাস্কফোর্সের একটি বৈঠক মঙ্গলবার করা হবে।

জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাকি পণ্যগুলোর ইন্ডিকেটিভ (নির্দেশক) মূল্য, সেটিও ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় টাস্কফোর্সের যে বৈঠক আছে, সেই কমিটিতে বসে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

রোজায় ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য সরবরাহ ও দাম নিয়ে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সেটা দূর করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাসখানেক ধরে আমরা যে চেষ্টা করছি, রমজান শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই সেটার বাস্তবায়ন হবে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমিয়ে ১৬৯ টাকা করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করবে ভারত

অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত সরবরাহ বহাল করতে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ভারত সরকার। তবে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার রাখতে এর মধ্যেও বাংলাদেশে সীমিত আকারে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বাংলাদেশ ছাড়াও চারটি দেশে সরকারিভাবে সীমিত আকারে পেঁয়াজ রপ্তানির এ অনুমতি দিতে যাচ্ছে ভারত সরকার। দেশগুলো হলো- নেপাল, ভুটান, বাহরাইন ও মরিশাস।

সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না হলেও, দ্বিপক্ষীয় উদ্দেশে সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে, কী পরিমাণ রপ্তানি করা হবে তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।

সূত্রমতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্পর্কিত বিভিন্ন শর্তাবলির বিষয়ে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে।

এর আগে পবিত্র রমজান মাসে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমাতে নির্দিষ্ট পরিমাণে চিনি ও পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিতে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ ভারত। ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির সরকার। পরে এই নিষেধাজ্ঞা চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কারণ, অভ্যন্তরীণ বাজারেক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চেয়েছিল দেশটি।

রপ্তানি আটকাতে প্রথমে পেঁয়াজের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত। কিন্তু তাতেও আশানুরূপ ফল না আসায় পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে। তবে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে এবার বাংলাদেশসহ ৫টি দেশের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা সীমিত আকারে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।

আরও ১০৮ শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ

আরও ১০৮ শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়ে ৩ দফায় শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করল সরকার। তাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, রাজনীতিক, প্রকৌশলী, নাট্যকার, সাংবাদিক, সংগীত শিল্পী, সমাজকর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবী, লেখক, চাকরিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মী।

এর আগে তৃতীয় ধাপে ১০৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করে গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গেজেট প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গেজেটে বলা হয়েছে, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা অনুযায়ী এদের তালিকা প্রকাশ করা হলো।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর গবেষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি নির্ধারিত শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা অনুযায়ী, যেসব সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক সংগীত ও শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহীদ কিংবা চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন তারা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এর আলোকে গত ৬ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী যাচাই-বাছাই কমিটির সভায় নতুন করে ১০৮ জনের নাম শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।

এদিকে গত ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে ২০২২ সালের ২৯ মে দ্বিতীয় তালিকায় ১৪৩ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সব শেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ধাপে ১০৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করে গেজেট প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

গাজীপুরে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শিলাবৃষ্টি ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নাওজোড় হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন কালিয়াকৈর উপজেলার টালাবহ গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম, একই গ্রামের ইয়াকুব মুন্সীর ছেলে মবজেল ও বাওমান গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে শওকত আলী। ট্রাকচাপায় আহত আব্বাস আলী ও রমজানকে চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুরের শিলাবৃষ্টি ফিলিং স্টেশন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সার্ভিস লাইনে রিকশা আসছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে টাঙ্গাইলগামী সিমেন্টবাহী ট্রাক অটোরিকশাকে চাপা দিলে তিনজন নিহত ও দুই জন আহত হন। এ ঘটনায় সিমেন্টবাহী ট্রাক জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।