শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

শহীদ মিনারে ব্যানার-ফেস্টুন, মিছিল নিষেধ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যানার-ফেস্টুন বহন করা এবং মিছিল করা যাবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই, তবুও শহীদ মিনার কেন্দ্রীক চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান।

২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার নিবেদনের পরই খুলে দেয়া হবে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার।

অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতোই তৎপর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। শহীদ মিনারে আসেন ডিএমপি কমিশনার। জানান সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা আর শৃঙ্খলায় নিয়োজিত থাকবে বিএনসিসি আর রোভার স্কাউট। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে এবারসহ ২১বার পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন শেখ হাসিনা। সেই দুর্লভ ছবি নিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় একটি প্রদর্শনীও করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকায় আসছেন মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তার

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মার্কিন কোনো কর্মকর্তার এটিই প্রথম সফর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আফরিন আখতার আগামী শনিবার বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। তাঁর সফর হতে পারে তিন দিনের।

এ সফরে বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমারসহ পুরো অঞ্চলের দিকে বিশেষ দৃষ্টি থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার পরিস্থিতি ও এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতকে সতর্ক করছে।

আফরিন আক্তারের ঢাকায় মূল বৈঠক হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকাস অনুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদ আলমের সঙ্গে। এছাড়া পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্র দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু না বললেও সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আফরিন আখতার গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ফরেন প্রেস সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাংলাদেশকে আরো গণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে সক্ষম করতে যুক্তরাষ্ট্র এ দেশের গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কাজ করছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরের লাশ মিললো পুকুরে!

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নাভিদ ইসলাম এক কিশোরের লাশ নগরীর হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরে ব্যান্ডেজ জড়ানো ওই কিশোরের লাশ সোমবার সকাল ১০টার দিকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় ওই কিশোর। এরপর পাঠানপাড়া মাদ্রাসা মাঠ-সংলগ্ন পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে।

তবে চিকিৎসাধীন থেকে পালিয়ে ‘আত্মহত্যার’ ঘটনায় হাসপাতালের চার স্তরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। রোগীরা জানিয়েছেন, এত নিরাপত্তার মাঝেও কীভাবে ওই কিশোর পালিয়ে গেলো, তা তাদের বোধগম্য নয়।

১৫ বছর বয়সী নাভিদ তেরোখাদিয়া এলাকার খাদেমুল ইসলাম ও রিতা বেগমের ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি নাভিদের শরীর গ্যাস লাইটারের আগুনে পুড়ে যায়। সেদিনই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকাল ৭টার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাঠানপাড়া এলাকার একটি পুকুরে শরীরে ব্যান্ডেজ জড়ানো লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিস ও রাজপাড়া থানায় ফোন দিলে তারা গিয়ে নাভিদের লাশ উদ্ধার করে।

লাশ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করেন মা রিতা বেগম। তিনি বলেন, নাভিদ কেন জানি বাঁচতে চাইতো না। মাথায় সবসময় আত্মহত্যার চিন্তা কাজ করতো। অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। ২ ফেব্রুয়ারি নিজের শরীরে নিজেই আগুন দেয়। পরে রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করি।

নাভিদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সোমবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে আমি ওয়াশরুমে গেলে এ সুযোগে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। পরে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ছুটে আসি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাভিদ ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছে নানির বাড়িতে। বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে সেখানেই ছিল। ২ ফেব্রুয়ারি নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, হাসপাতালের চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কীভাবে ওই কিশোর বাইরে বের হলো? হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ছেলের সঙ্গে মায়ের কিছু অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্য রোগী ও স্বজনরা।

বার্ন ইউনিটের দুজন রোগী ও কয়েকজন স্বজন জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাভিদকে নির্যাতন করতেন তার মা। যা নিয়ে বিরক্ত ছিলেন অন্য রোগী ও স্বজনরা। এর মধ্যে নাভিদের এমন মৃত্যু তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে নাভিদ বার্ন ইউনিটে ভর্তি ছিল। শরীরের ১৮ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে প্রায় সুস্থ হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ সোমবার সকাল থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর জানতে পারি, পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। বিষয়টি আগে জানাননি তার মা। এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। একইসঙ্গে দুর্ভাগ্যজনক। কারণ সে সুস্থ হয়ে উঠেছিল।

হাসপাতালের চার স্তরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়ে পরিচালক শামীম আহাম্মদ বলেন, প্রতিদিন ৭০০-৮০০ রোগী ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। সবাইকে ওভাবে বোঝার সুযোগ থাকে না। ওই ছেলে সকাল ৭টা ২২ মিনিটে হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে এটা দেখা গেছে। ওই সময় হাসপাতালের দায়িত্বশীল ও মানুষের যাতায়াত কম থাকে বিধায় সুযোগ পেয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, নাভিদ আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন এই কথা পরিবার আগে জানালে আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নিতাম। তবে ওই ইউনিটের অন্য রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, নাভিদের মা হাসপাতালেও ছেলের ওপর নির্যাতন চালাতো। এ ধরনের ঘটনা আগে জানলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতাম।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হক বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, নাভিদ ব্যান্ডেজ পরা অবস্থায় লুঙ্গি পরে বের হচ্ছে। পরে আর তাকে দেখা যায়নি। এ ঘটনার তদন্তে আরও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হচ্ছে। বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আপাতত অপমৃত্যু মামলা নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছি।

হাসপাতালে পুলিশের নিরাপত্তা বলয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, পুলিশের টিম থাকলেও মাত্র চার সদস্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করে। ওখানে সব নিরাপত্তার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে নাভিদকে হাসপাতাল থেকে একাই বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে যে পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তার আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। কাজেই এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনও বলা যাচ্ছে না। ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সবকিছু খোলাসা হবে।

উত্তর রাখাইনে সেনা প্রত্যাহার করছে জান্তা, দাবি আরাকান আর্মির

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চল থেকে সেনাদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে জান্তা সরকার। একই সঙ্গে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা জোরদার করছে তারা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের সর্বপশ্চিমের এই রাজ্য হারাতে চলেছে বুঝতে পেরে তারা এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব কথা বলেছে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। খবর দ্য ইরাবতীর।

দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাখাইনের মিয়েবন শহরে দুটি তল্লাশিচৌকি থেকে সেনাদের হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়ার পর আরাকান আর্মি এ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তার জন্য এসব সেনাকে দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আরাকান আর্মির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জান্তার সেনাবাহিনী নিশ্চিত হয়ে গেছে যে আমাদের প্রতিরোধ করতে গেলে তারা পরাজিত হবে। সে কারণে আমরা যেসব শহর দখলের লক্ষ্য নিচ্ছি, সেগুলোর তল্লাশিচৌকি ও ঘাঁটি পুড়িয়ে সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে তারা।

আরাকান আর্মি বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, গতকাল (রোববার) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মিয়েবন শহরের ৪০২ ও ৪০৮ তল্লাশিচৌকির ভেতরে তাঁদের মজুত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করেন জান্তা সেনারা। তল্লাশিচৌকির যেসব অস্ত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেগুলো নিয়ে গেছে।

দুটি তল্লাশিচৌকির সেনাদের হেলিকপ্টারে রাখাইনের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অ্যান শহরে জান্তার পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এই দুই ঘাঁটি থেকে চার দফায় সেনাদের সরিয়ে নিয়েছে জান্তা বাহিনী এমনটাই দাবি করেছে আরাকান আর্মি।

জানা গেছে, জান্তা সেনারা দক্ষিণ রাখাইনের রামরিতে অনবরত বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছেন। আকাশ, নৌ ও স্থলপথে শহরটিতে হামলা চালানো হচ্ছে। শনিবার বিমান হামলা ও গোলার আঘাতে চার নম্বর কিং তাই ওয়ার্ডের অন্তত ১৫০টি ঘর পুড়ে গেছে। থেইম তং প্যাগোডা হিল থেকে রোববারও রামরি শহরে কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জান্তাবিরোধী এ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই ভিন্নমতের ওপর চরম দমন–পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে জান্তা সরকার। এ অবস্থায় জান্তার বিরুদ্ধে আরাকান আর্মিসহ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন অনেকে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বিদ্রোহীরাও। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল দখলে নিয়েছে বিদ্রোহীরা।

একুশ মাথা নত না করতে শেখায় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একুশ (২১ ফেব্রুয়ারি) আমাদের মাথা নত না করতে শিখিয়েছে, কাজেই মাথা উঁচু করেই বাঙালি জাতিকে তিনি এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। কাজেই আমরা মাথা নত করে নয়, মাথা উঁচু করেই চলব এবং বিশ^দরবারে মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সকালে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে ‘একুশে পদক-২০২৪’ প্রদানকালে দেওয়া প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

তিনি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২১তম বারের মত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন। মরণোত্তর পদক বিজয়ীদের পক্ষে তাঁদের স্বজনগণ পদক গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের শুধু স্বাধীনতাই দিয়ে যাননি, তিনি সেই সাথে আমাদের একটা মর্যাদাবোধ দিয়ে গেছেন। বিজয়ী জাতি হিসেবে সারাবিশে^ আমরা মাথা উঁচু করেই চলতে চাই। এই কথাটা সকলকে মনে রাখতে হবে।

তিনি এ সময় ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে জাতির পিতা যখন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন সে সময় প্রদত্ত ভাষণের চুম্বকাংশ উদ্ধৃত করেন।

জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এই আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদের যে মর্যাদা দিয়ে গিয়েছিলেন সেই মর্যাদাটা ’৭৫ এর পর বাঙালি জাতি হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু আজকে আমি অন্তত এইটুক দাবি করতে পারি আবার বাঙালি বিশে^র দরবারে এখন মাথা উঁচু করে চলতে পারে। সেই মর্যাদা আমরা ফিরিয়ে এনেছি। আর এই মর্যাদা আমাদের সমুন্নত রেখেই আগামীর দিনে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কারও কাছে হাত পেতে নয়, ভিক্ষা করে নয়, আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ^দরবারে মাথা উঁচু করে চলব। কারণ, একুশ আমাদের মাথা নত না করা শিখিয়েছে। কাজেই, আমরা মাথা নত করে নয় মাথা উঁচু করে চলব।’

এর আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবারের একুশে পদক ২০২৪ বিজয়ী ২১ জনের তালিকা প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

একুশে পদকে ভূষিতরা হচ্ছেন-ভাষা আন্দোলনে মৌ. আশরাফুদ্দীন আহমদ (মরণোত্তর), ভাষা আন্দোলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) জালাল উদ্দীন খাঁ (মরনোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষ, শিল্পকলায় (সংগীত) বিদিত লাল দাস (মরনোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) এন্ড্রু কিশোর (মরনোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) শুভ্রদেব, শিল্পকলায় (নৃত্যকলা) শিবলী মোহাম্মদ, শিল্পকলায় (অভিনয়) ডলি জহুর, শিল্পকলায় (অভিনয়) চিত্রনায়ক এম. এ. আলমগীর, শিল্পকলায় (আবৃত্তি) খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ (শিমুল মুস্তাফা), শিল্পকলায় (আবৃত্তি) রূপা চক্রবর্তী, শিল্পকলায় (চিত্রকলা) শাহজাহান আহমেদ বিকাশ, শিল্পকলায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিং) কাওসার চৌধুরী, সমাজসেবায় মো. জিয়াউল হক, সমাজ সেবায় আলহাজ্ব রফিক আহামদ, ভাষা ও সাহিত্যে মুহাম্মদ সামাদ (ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো ভাইস চ্যান্সেলর), ভাষা ও সাহিত্যে লুৎফর রহমান রিটন, ভাষা ও সাহিত্যে মিনার মনসুর, ভাষা ও সাহিত্যে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (মরণোত্তর) এবং শিক্ষায় প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন পদক বিতরণ পর্বটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসনা জাহান খানম স্বাগত বক্তৃতা করেন।

সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যগণ, সরকারের উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশ বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা আবারও তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর আজকে সুযোগ হয়েছে। দেশসেবার সুযোগ পেয়েছি। কাজেই যারা জনগণের সেবা করে তাদের সেবা করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে হয়। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা আবদান রেখেছেন বা আমাদের দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যারা অবদান রেখেছেন এবং আমাদের সংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সম্মাননা দিতে হবে।

জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করে তাঁর সরকার একটি শিক্ষিত, দক্ষ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন আধুনিক জনশক্তি হিসেবে আজকের প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। সমানে আমাদের লক্ষ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা। কাজেই কেউই অশিক্ষার অন্ধকারে থাকবে না এবং সবাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তাদের দক্ষতা ও কর্মশক্তি বিকশিত করতে পারে সেদিকেই আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি। সেক্ষেত্রে আমি মনেকরি আমাদের আগামী দিনের পথচলায় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলবো, যার ঘোষণা আমরা দিয়েছি। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা তৈরি করেছি। পঞ্চবার্র্ষিক পরিকল্পনায় সেগুলো আমরা সংযুক্ত করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাব। পাশাপাশি আমাদের সমাজের বিভিন্ন স্তরে যারা অবদান রাখছেন অবশ্যই তাদেরকে খুঁজে বের করে সম্মাননা দিয়ে আমরা নিজেকে ধন্য করবো। এটাই হবে আমাদের প্রচেষ্টা।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদান যারা রেখেছেন তাদেরকে যতদূর সম্ভব আমরা সম্মাননা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যাঁরা ভাষা, সাহিত্য শিল্প, কলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন তাদেরকে পুরস্কৃত করতে পেরে আমরা ধন্য হয়েছি এবং তাদেরকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন।

এ বছর একুশে পদক পেয়েছেন ২১ জন। যাদের একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তঘেঁষা ভোলাহাট উপজেলার মুসরিভূজা গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক (৯১)। দই বিক্রির টাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন লাইব্রেরি ও একটি বিদ্যায়তন। এছাড়া স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেওয়াসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অনুদান দেন সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত জিয়াউল হক।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জিয়াউল হকের সমাজ সেবামূলক কাজের প্রশংসা করেন এবং পাঠাগরের জন্য একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি সরকারিকরণের ব্যবস্থা করা যায় কি-না সে উদ্যোগও নেবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, জিয়াউল হককে পুরস্কৃত করতে পেরে আমরা আনন্দিত এই জন্য যে, আমরা সারা বাংলাদেশে যদি খোঁজ করি এরকম বহু গুণিজন পাব। হয়তো দারিদ্রের কারণে না হয় কোন সামাজিক কারণে হয়তো নিজেদের মেধা বিকাশের সুযোগ পাননি। কিন্তু সমাজকে কিছু তারা দিয়েছেন, মানুষকে দিয়েছেন, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। তারা মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করেছেন। হয়তো যে অর্থ তিনি উপার্জন করেছেন তা দিয়ে আরো ভালোভাবে বাঁচতে পারতেন, জীবনকে গড়ে তুলতে পারতেন। কিন্তু, নিজের উন্নতি বা ভোগ বিলাসের দিকে না তাকিয়ে তিনি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন যারা লেখাপড়া করতে পারছে না তাদের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী যারা সমাজের উচ্চস্তরে আছেন তাদেরকে এই ধরণের ত্যাগী মানুষগুলোকে খুঁজে বের করারও অনুরোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ভাষণের শুরুতে শ্রদ্ধার সঙ্গে ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতার অবদান এবং ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়েছে, রক্তের অক্ষরে ভাষার অধিকারের কথা লিখে গেছেন। পাকিস্তানি শাসকরা যখন আমাদের মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন তমুদ্দুন মজলিসসহ আরো কয়েকটি সংগঠনকে নিয়ে মায়ের ভাষাকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন এবং আন্দোলন শুরু করেন। তিনি ভাষার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়েই কারাবরণ করেন এবং কারাগারে থেকেই ’৫২র ভাষা আন্দোলন সংগঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। সেই আন্দোলনের পথে হেঁটেই কিন্তু আমরা আমাদের স্বাধিকার আদায় করেছি, স্বাধীনতা পেয়েছি।

জাতির পিতা কন্যা আরও বলেন, ’৭১ এর পরাজিত শক্তি যেমন ’৭৫ এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল তেমনি স্বাধীনতাসহ সকল অর্জন এমনকি ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতার অবদানকেও মুছে দিতে চেয়েছিল।

জলবায়ু পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্ব নেতৃত্বের প্রশংসা ইউএই মন্ত্রীর

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. আমনা বিনতে আবদুল্লাহ আল দাহাক জলবায়ু পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্ব নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ইউএই’র পরিবেশমন্ত্রী ড. আমনা বিনতে আবদুল্লাহ আল দাহাকের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে ইউএই’র মন্ত্রী এই প্রশংসা করেন।

আজ বিকেলে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আজ রাতে ঢাকায় পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী চৌধুরী এবং মন্ত্রী আল দাহাক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, বন সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে মূল্যবান মতামত এবং কৌশল বিনিময় করেন। উভয় পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব কমাতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে টেকসই পদ্ধতি এবং নীতি প্রয়োগের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী চৌধুরী প্যারিস চুক্তি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে উল্লিখিত পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি সামগ্রিক পরিবেশগত উদ্দেশ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি কপ২৮ থেকে উদ্ভূত ইউএই ঐকমত্য , বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন বলে জানান।

মন্ত্রী আল দাহাক জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা করার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি নবায়নযোগ্য শক্তি, সংরক্ষণ প্রয়াস এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপক কৌশলগুলিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগ এবং বিনিয়োগ তুলে ধরেন।

জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে সভা সমাপ্ত হয়। উভয় মন্ত্রীই পরিবেশ রক্ষায় উভয় দেশের যৌথ দায়িত্বের কথা স্বীকার করেন এবং আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত কৌশল ও কর্মকা- এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

আজ এর আগে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আহমেদ আলী আল সায়েঘের সাথে ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে উভয় মন্ত্রীই বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন করে গুরুত্বারোপের মাধ্যমে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করতে সম্মত হন। ২০২৪ সাল বাংলাদেশ-সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি শুভ বছর, কারণ এটি কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি চিহ্নিত করে।

একুশ বরণে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

ভাষা কেবল ভাব প্রকাশের বাহনই নয়, একটা জাতির অস্তিত্ব আর আত্মপরিচয়েরও বাহক। সেই আত্মপরিচয়ই বাঙালির কাছ থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল পাকিস্তানের শোষক সরকার। বাংলার জমিনে বুনে দিতে চেয়েছিল উর্দু ভাষার বীজ। কিন্তু মেনে নেয়নি বাংলার বীর সন্তানরা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় সেদিন সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বাররা অকাতরে ঢেলে দিয়েছিলেন বুকের তাজা রক্ত। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পুলিশের অস্ত্রের মুখে ভয়ডরহীন দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন নাম না জানা আরও অনেকে। জীবন দিয়ে রক্ষা করেছিলেন প্রাণের বাংলা ভাষার মর্যাদা।

ফেব্রুয়ারি এলেই বাঙালির জীবনে ফিরে ফিরে আসে ’৫২-এর সেই ভাষা আন্দোলন আর একুশের মিছিলে বাংলার অকুতোভয় সৈনিকদের মহান আত্মদানের স্মৃতি। একুশের প্রথম প্রহর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভাষা শহীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। ভোরে প্রভাতফেরী থেকে শুরু করে দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার হয় প্রাণের বাংলা ভাষার অধিকারের জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের।

এরই ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি ও বিশ্ববাসীর সামনে হাজির আরেকটি ২১ ফেব্রুয়ারি। জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা মহান এই দিনটিকে বরণ করে নিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। যথাযথ ও সুশৃঙ্খলভাবে দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে শহীদ মিনার ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শিল্পীদের আঁকা আলপনায় সেজেছে মিনারের মূল বেদি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমে জগন্নাথ হলের দিক থেকে আসা রাস্তার দুপাশের দেয়ালও রেঙেছে রং-তুলির আঁচড়ে। জাদুকরি হাতের ছোঁয়ায় সেখানে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে একুশ স্মরণে বিভিন্ন গান আর কবিতার লাইন।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহীদ মিনার ঘুরে দেখা মেলে এমন চিত্রের।

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাদেই মহান একুশের প্রথম প্রহর। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। প্রথম প্রহর থেকেই শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হবে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিবারের মতো এবারও শহীদ মিনার এলাকা রাঙানোর কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

শহীদ মিনারের উত্তর পাশের দেয়ালের প্রতিটি ব্লকে লেখা হয়েছে বিভিন্ন লেখকের কবিতা ও উক্তি।

দেয়ালে লেখা হয়েছে কবি জসীম উদ্দীনের কবিতার অংশ- ‘এ ভাষারি মান রাখিতে/হয় যদিবা জীবন দিতে/চার কোটি ভাই রক্ত দিয়ে/পুরাবে এর মনের আশা।’

লেখা হয়েছে মীর মশাররফ হোসেনের উক্তি, ‘মাতৃভাষায় যাহার শ্রদ্ধা নাই, সে মানুষ নহে।’ আবুল ফজলের ‘একুশ মানে মাথা নত না করা।’

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতার অংশ- ‘মাগো ওরা বলে/সবার কথা কেড়ে নেবে/তোমার কোলে শুয়ে/ গল্প শুনতে দেবে না/ বলো মা তাই কি হয়?’

এর পাশেই আঁকা হয়েছে ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ের চিত্র। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানরত আন্দোলনকারীদের প্রতিচ্ছবি। ‘উর্দু নয় বাংলা’, ‘অ আ ক খ’ প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিলে গলা ফাটানো তরুণ-তরুণীদের ছবি, মৃত কিশোরের মরদেহ কোলে মায়ের চিত্র।

সড়কের অন্য পাশের দেয়ালে লাল রঙে লেখা হয়েছে জাতীয় সংগীতের প্রথম লাইন ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি।’ সঙ্গে আঁকা হয়েছে টেপা পুতুলের আদলে ঘোড়া, মাছ, পাখি, ময়ূর খরগোশ, নৌকাসহ বাংলার বিভিন্ন চিত্র।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নেসার হোসেন বলেন, একুশ বরণে এবার আমাদের শতাধিক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী আঁকাআঁকিতে অংশ নিয়েছেন। রাঙানো হয়েছে রাস্তার পাশের ফুটপাতের সাদাকালো ব্লকগুলোও।

সরকারপ্রধান হিসেবে এবার ২১তম বারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষা শহীদদের প্রতি তার এই ২১টি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের দূর্লভ ছবি দিয়ে শহীদ মিনারের দক্ষিণ পাশের প্রবেশমুখে প্রদর্শনী করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সে আয়োজনের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন।

এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় শহীদ মিনার প্রস্তুতির সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আগের বছরগুলোয় আমাদের কোথায় ভুল ছিল, কোথায় গ্যাপ ছিল, সেগুলো বিশ্লেষণ করে এবার তা কমানোর চেষ্টা করেছি। পুরো অনুষ্ঠান যেন ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়, সে ব্যবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বক্তৃতায় বাংলা ভাষার প্রতি অনুরক্ততা প্রকাশ করে যে কথা বলেছিলেন, তার ছবিসহ সে উক্তিও আমরা এখানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছি, যাতে তরুণ প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারে।

একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে যাতায়াতের রুটম্যাপ

একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের গেট থেকে ফুলার রোড মোড়, টিএসসির সড়কদ্বীপ থেকে বকশীবাজার সড়ক, কাজী মোতাহার হোসেন থেকে শহীদ মিনারের সড়ক এবং দোয়েল চত্বর থেকে চানখারপুল পর্যন্ত সড়ক বন্ধ থাকবে।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সেখান থেকে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠের সামনের রাস্তা হয়ে দোয়েল চত্বর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রাস্তা দিয়ে চানখারপুল হয়ে প্রস্থান করা যাবে। শহীদ মিনারের দিকে আসা যাবে না।

এ ছাড়া শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জনসাধারণকে হোম ইকোনোমিকস মোড় দিয়ে আজিমপুর কবরস্থানের উত্তর গেটের দিকে গিয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পর দক্ষিণ গেট দিয়ে ইডেন মোড় হয়ে বের হতে বলা হয়েছে।

চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এ বছর শহীদ মিনারে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনার এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল টিম, সোয়াত টিম, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিমমহ অন্যান্য টিম নিরাপদ দূরত্বে প্রস্তুত থাকবে। শহীদ মিনার এলাকায় সার্বক্ষণিক তল্লাশি ব্যবস্থা এবং পেট্রলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ড্রোন পেট্রলিং, মোবাইল পেট্রলিং এবং সাইবার পেট্রলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৮০ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন জাবি ছাত্রলীগের ২ নেতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি মুছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবিতে আমরণ অনশনে বসার আশি ঘণ্টা পর উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভেঙেছেন ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক এনাম ও রিয়াজুল ইসলাম।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত নয়টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পাদদেশে উপস্থিত হয়ে দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে ডাবের পানি পান করার মধ্য দিয়ে অনশন ভাঙ্গেন ছাত্রলীগ নেতা এনাম ও রিয়াজুল। এসময় উপাচার্য আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির সিন্ডিকেট সভায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

দাবিগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবমাননাকারীদের অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় আইনে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, আট দিন পার হলেও জড়িতদের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা বিষয়ে তদন্ত করা।

এ সময় অনশনে থাকা ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক এনাম বলেন, আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং একটা পরিষ্কার বার্তা যেন আসে বঙ্গবন্ধুকে অমান্য করে কেউ পার পাবে না। আমি একটা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চাই। উপাচার্য আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উত্থাপন করবেন এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করবেন। তবে যদি দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা দেখতে না পাই আমি আবার অনশনে বসবো। শুধু আমি না, ছাত্রলীগ সভাপতি নিজে বলেছেন, আরো কঠিন পদক্ষেপে যাবেন।

অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি চাই তাদেরকে যেন অন্তত সাময়িক বহিষ্কার করে বা যেভাবেই হোক দৃশ্যমান একটা পদক্ষেপ যেন নেওয়া হয়। সেটাই আমার চাওয়া, বাকি সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট নেবে।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেটে সভায় বঙ্গবন্ধুর দেয়ালচিত্র মুছে দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে অনশনকারীরা। যদিও সেটা তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ওপর নির্ভর করছে। তবুও আশা করছি, আগামী সিন্ডিকেট সভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবো।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর একটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পাদদেশে অবস্থান নিয়ে আমরন অনশন শুরু করেন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম। পরে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে তার সাথে যোগ দেন শাখা ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের দেয়ালে পূর্বে আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি মুছে একটি গ্রাফিতি অঙ্কন করে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের একাংশের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে এ গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। গ্রাফিতিতে একটি নারীর অবয়ব, ছয়টি মাথার খুলিসহ একটি পতাকা আঁকা হয়। এর পাশেই লিখা হয় ‘ধর্ষণ ও স্বৈরাচার থেকে আজাদী’। এছাড়া গ্রাফিতির নিচে ছাত্র ইউনিয়নের নাম লিখা হয়। নারীর অবয়বের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পূর্বের প্রতিকৃতি মুছে ফেলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা করা হয়েছে দাবি করে অনশনে বসেন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম। তবে এ ঘটনায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকার আগুনে নিহত সবাই বাংলাদেশি, ধারণা আইওএমের

লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাত্রাকালে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ৯ অভিবাসীর সবাই বাংলাদেশি বলে ধারণা করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। এছাড়া ওই ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

নিহত ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ধার করা ২৬ বাংলাদেশিকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি টিম তিউনিসিয়ার উপকূল এলাকা জারজিসের উদ্দেশে রওনা করেছে। ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি লিবিয়া উপকূল থেকে ৫২ জনের একদল অভিবাসী সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার সময় তিউনিসিয়া উপকূলে তাদের বহনকারী নৌকাতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী নৌকাটি থেকে ৯ অভিবাসীর মরদেহ এবং ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। যে ৯ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে তারা বাংলাদেশি বলে ধারণা করছে আইওএম।

দূতাবাসের এ কর্মকর্তা জানান, জীবিত অবস্থায় উদ্ধার অভিবাসীদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমাদের দূতাবাসের একটি টিম ইতোমধ্যে জারজিসের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। তারা আইওএম ও রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জীবিত বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করবেন। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া মাত্র দূতাবাস সবাইকে জানিয়ে দেবে।

নিহত বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানো ও উদ্ধারদের বিষয়ে দূতাবাসের করণীয় জানতে চাইলে এ কূটনীতিক বলেন, আগে পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে। তারপর দূতাবাস সিদ্ধান্ত নেবে কী করা যাবে।

আইওএমের তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশের উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকালে গত বছর তিন হাজারের বেশি অভিবাসী মৃত্যুবরণ করেছেন ও নিখোঁজ হয়েছেন।

ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। লিবিয়া ও তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী তাদের ওপর নজরদারি জোরদার করেছে। ফলে বর্তমানে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ।

অপরাধী যে দলেরই হোক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা তৈরির চেষ্টা করলে, কোনো রকম রাজনৈতিক পরিচয় আমলে না নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অডিটোরিয়ামে, ইম্প্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

মন্ত্রী বলেন, আবাসন সংকটকে পুঁজি করেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দেশের কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় দেশের বিশ্ববিদালয়গুলোতে সংঘটিত সংঘর্ষ কিংবা অপরাধের ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ সমীচীন হয় না। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব সময় সহযোগিতা দেওয়া হয়। তবে অপরাধী যে দলেরই হোক, দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় মন্ত্রী দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় রেখে দক্ষ জনবল তৈরি এবং ‘সফট নলেজের’ ওপর দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।