শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

সংরক্ষিত আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন ৫০ নারী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সব মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শেষদিনে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে ৫০ জন নারী প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে ইসি। আগামী মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মুনিরুজ্জামান তালুকদার এসব তথ্য জানান।
এই রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে ৫০ প্রার্থীর সবার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন রাখা হয়েছিল। কোনো প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় সবাইকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৮ জন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দুজন জাতীয় পার্টির। এসব প্রার্থীদের নামে মঙ্গলবার গেজেট ঘোষণা হবে, যেহেতু সোমবার সরকারি ছুটির দিন।
সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি হলেন যারা-
রেজিয়া ইসলাম (পঞ্চগড়)
দ্রৌপদী দেবি আগরওয়াল (ঠাকুরগাঁও)
আশিকা সুলতানা (নীলফামারী)
রোকেয়া সুলতানা (জয়পুরহাট)
কোহেরী কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর)
জারা জেবিন মাহবুব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
রুনু রেজা (খুলনা)
ফরিদা আক্তার বানু (বাগেরহাট)
ফারজানা সুমি (বরগুনা)
খালেদা বাহার বিউটি (ভোলা)
ফরিদা ইয়াসমিন (নরসিংদী)
উম্মে ফারজানা সাত্তার (ময়মনসিংহ)
নাদিরা বিনতে আমির (নেত্রকোনা)
মাহফুজা সুলতানা মলি (জয়পুরহাট)
পারভীন জামান কল্পনা (ঝিনাইদহ)
অ্যারোমা দত্ত (কুমিল্লা)
লায়লা পারভীন (সাতক্ষীরা)
মুন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা)
বেদৌরা আহমেদ সালাম (গোপালগঞ্জ)
শবনম জাহান (ঢাকা)
পারুল আক্তার (ঢাকা)
সাবেরা বেগম (ঢাকা)
শাম্মী আহমেদ (বরিশাল)
নাহিদ ইজহার খান (ঢাকা)
ঝর্ণা আহসান (ফরিদপুর)
ফজিলাতুন নেছা (মুন্সীগঞ্জ)
সাহেদা তারেক দীপ্তি (ঢাকা)
অনিমা মুক্তি গোমেজ (ঢাকা)
শেখ আনার কলি পুতুল (ঢাকা)
মাসুদা সিদ্দিক রোজী (নরসিংদী)
তারানা হালিম (টাঙ্গাইল)
শামসুন নাহার (টাঙ্গাইল)
মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর)
অপরাজিতা হক (টাঙ্গাইল)
হাসিনা বারী চৌধুরী (ঢাকা)
নাজমা আক্তার (গোপালগঞ্জ)
ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর)
আশরাফুন নেছা (লক্ষ্মীপুর)
কানন আরা বেগম (নোয়াখালী)
শামীমা হারুন লুবনা (চট্টগ্রাম)
ফরিদা খানম (নোয়াখালী)
দিলারা ইউসুফ (চট্টগ্রাম)
ডরথি তঞ্চঙ্গা (রাঙ্গামাটি)
সানজিদা খানম (ঢাকা)
নাছিমা জামান ববি (রংপুর)
নাজনীন নাহার রোশা (পটুয়াখালী)
ওয়াসিকা আয়শা খান (চট্টগ্রাম)
রুমা চক্রবর্তী (সিলেট)
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নাহার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

২৪ দিনে এলো ১৬৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স

দেশে চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে বৈধ পথ ও ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৮ হাজার ১০৭ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে)।
রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী ২৪ দিনে দৈনিক গড়ে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। আগের মাস জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১০ কোটি মার্কিন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৬৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪০ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এছাড়া একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৫৬ কোটি ডলার, মার্চে ২০২ কোটি, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি, মে মাসে ১৬৯ কোটি, জুনে ২২০ কোটি, জুলাইয়ে ১৯৭ কোটি, আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩৩ কোটি, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি, নভেম্বরে ১৯৩ কোটি, ডিসেম্বরে ১৯৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা ছিল সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স।

গরিবদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন-২০২৪’ উদ্বোধনকালে দরিদ্রদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজ করতে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, গরিবদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এবং এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা (গরিব) যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয় বা অর্থের অভাবে অবহেলিত না হয়।
বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং ইউএসএ ইন্টারভেনশনাল একাডেমি এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বা ভুয়া চিকিৎসকদের দ্বারা কেউ যেন প্রতারিত না হয়, সে জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন রাষ্ট্রপ্রধান।
তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, দেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা প্রদান করা একটি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সরকার ইতোমধ্যেই উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। রোগীদের সাথে সদয় আচরণ করুন এবং রোগীর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করুন।
রাষ্ট্রপতি চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসা, সেবা ও গবেষণা কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার উন্নতির প্রশংসা করেন।
দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা অপ্রতুল- উল্লেখ করে সাহাবুদ্দিন দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও চিকিৎসকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিশাল জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা প্রদানে চিকিৎসক ও নার্সদের আরও আন্তরিক হতে হবে।
চিকিৎসাকে একটি মহৎ পেশা হিসেবে উল্লেখ করে- সাহাবুদ্দিন বলেন, কিছু কিছু ভুয়া চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার কারণে সমগ্র চিকিৎসক সমাজের সততা ও সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কিছু অসাধু লোক (চিকিৎসক), ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্রের কারণে সাধারণ মানুষের মনে যাতে কোনো নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি না হয়- সে ব্যাপারে আপনারা সতর্ক থাকবেন।
বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থার কথা উল্লেখ করে- রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে অনেক বিশ্বমানের চিকিৎসক রয়েছেন, যাদের ওপর নির্ভর করা যায়।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য তুলে ধরেন- যা সারা বিশ্বে রোল মডেল তৈরি করেছে। এর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনের উদ্যোগের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে- রাষ্ট্রপতি বলেন, হৃদরোগ বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ ও মতবিনিময় সভা চিকিৎসকদের, বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধকরনে সহায়ক হবে।
সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান সবসময় পরিবর্তনশীল। নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব হওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞান সেগুলো মোকাবেলায় অগ্রসর হয়। রোগের বিভিন্ন ধরণ ও প্রকৃতির কথা বিবেচনায় রেখে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রমজান উপলক্ষে যারা অবৈধভাবে নিত্যপণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
আজ শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মধুবাগে শেরেবাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে যারা নিত্যপণ্য মজুত করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সেই অনুযায়ী কাজ করছে।
রাজনৈতিক এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের জন্য দল গুছিয়ে বিএনপির লাভ নেই। মানুষ তাদের সঙ্গে নেই। এ দেশের মানুষ আগুনসন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না। আন্দোলনের নামে বিএনপি যদি ২৮ অক্টোবরের মতো নাশকতার চেষ্টা করে তাহলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, জামিন আমাদের হাতে নেই, জামিন আদালতের বিষয়। তারা (বিএনপি) যদি আবারও অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর চালায় তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যা যা করার দরকার তাই করা হবে।

‘বঙ্গবন্ধু অ্যাপ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাপ’ উদ্বোধন করেছেন। এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী এবং বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে দরবার টেকনোলজিস লিমিটেডের তৈরি অ্যাপটি উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
অ্যাপটি উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতে জাতির পিতার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘একই সাথে আমাদের মহান স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অ্যাপটি তৈরির মহতী উদ্যোগের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

আত্মনির্ভরশীল স্মার্ট দেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য : তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য আত্মনির্ভরশীল স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। পরনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা নয়। তবে অবশ্যই আমরা আত্মকেন্দ্রিক হবো না। সারা বিশ্বের সঙ্গে আমরা তাল মিলিয়ে যোগাযোগ রেখে চলব। জানব, চলব, জ্ঞান অর্জন করব।

আজ বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকায় আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি মিলনায়তনে অমর একুশের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলা ফন্টসহ একগুচ্ছ প্রযুক্তি সেবা চালু করা হয়।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি সেবা নিজস্ব উদ্ভাবক, গবেষকের মাধ্যমে তৈরি করতে চাই। একদিকে যেমন আমরা বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহার করতে বাধা দেব না, কিন্তু যেন আমাদের নিজস্ব একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকে, সে জন্য আমরা দেশি উদ্ভাবক, গবেষকদের উৎসাহিত করছি। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি। অবশ্য আমার গুগল জি বোর্ড গুগল ক্লাউড ব্যবহার করব, পাশাপাশি উচ্চারণ, কথা, বর্ণমালা, পূর্ণ, অনুভব, ধ্বনি, গুরুসহ আমাদের নিজস্ব যত ধরনের প্রযুক্তি সেবা রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করব।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ৪০টি সফটওয়্যার, ১৬টি কম্পোনেন্ট নধহমষধ.মড়া.নফ তে সমন্বয় করেছি। সবগুলো একসঙ্গে এখানে সংরক্ষণ করেছি। এগুলোর কপিরাইট, মেধাস্বত্ত বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট থাকবে। যা ভবিষ্যতে নতুন ধরণের সার্চ ইঞ্জিনের জন্য ফাউন্ডেশন হিসেবে এগুলো কাজ করবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, গত পাঁচ বছর আমি খুব বেশি আশাবাদী ছিলাম না। তবে আমাদের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি, কম্পিউটার কাউন্সিল মিলে এমন একটা অবস্থায় আমরা এসেছি আমি এখন খুবই আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী আগামীর ৪১ এর যে স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প ঘোষণা করেছেন, সেখানে প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এবং বর্তমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন প্রজন্ম কিন্তু তৈরি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ৪০টা সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে, যেখানে থাকছে ১৬ টি কম্পোনেন্ট। সেখানে সাতটি বাংলাদেশের সফটওয়্যার কোম্পানি সেখানে কাজ করছে। দশটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সঙ্গে কাজ করছে। ইতোপূর্বে আমরা বেশ কয়েকটি সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছি। যেটার ব্যবহার হচ্ছে। আমরা এখন গর্ভের সঙ্গে বলতে পারি ১৬ ধরনের কম্পোনেন্ট, ৪০ ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করছি। যেটি হবে, ডিজাইন ইন বাংলাদেশ ডেভেলপ ইন বাংলাদেশ, মেইড ইন বাংলাদেশ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা অঙ্গীকার করেছি, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোকে লাভজনক করা। আমি জানি এটা অনেক কঠিন। তারপরও এ কঠিনকে বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার করেছি। জিপন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে চাই। সেজন্য আমরা গ্রাহক প্রান্তে অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে দ্রুতগতি ইন্টারনেট সেবা আমরা দিচ্ছি। আমাদের যে বিশাল চাহিদা রয়েছে সেজো সেটা পূরণে আমরা এখন বিটিসিএল কে আধুনিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত করতে চাই। সুলভ মূল্যে আমরা ইন্টারনেট দিচ্ছি। স্পিড বাড়িয়ে দাম কমিয়েছি।

শুধু সরকারি পর্যায়ে না, বেসরকারি খাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিসিয়ানরা মিলে সম্মিলিতভাবে সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া সম্ভব উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একুশের চেতনায় জাগ্রত হয়ে অঙ্গীকার করেছি, আত্মনির্ভরশীল একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবেই শুধু আমাদেরকে বিশ্ব চিনবেনা, প্রযুক্তি উদ্ভাবক দেশ হিসেবেও যেন আমাদেরকে চিনতে পারে, মর্যাদা এবং সম্মান করতে পারে সে জন্য আমরা এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছি।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর অংশে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছে।

আজ বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কের হাঁসাড়া ব্রিজের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় দুজন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মহাসড়কের ঢাকা থেকে মাওয়ামুখী লেনে, মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ গেছে বাবা-মেয়ের।

পরে খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস ও হাঁসাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে এই দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত যাত্রীবাহী বাসটিকে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

দুর্ঘটনায় নিহত, কামাল হোসেন (৩০) বরিশালের রমজান কাঠি এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে ও নিহত শিশু মাহিরা মাহি (১০) কামাল হোসেনের মেয়ে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে, হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাঞ্চন কুমার সিংহ জানান, নিহত কামাল হোসেন ও শিশু মাহিরা মাহি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে, নিহত দুইজন সম্পর্কে বাবা মেয়ে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়া অভিযুক্ত যাত্রীবাহী বাসটিকে সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে সনাকদের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

গাজা উপত্যকা এখন ‘ডেথ জোন’ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জার পাশাপাশি হামলা হচ্ছে হাসপাতালেও। এতে করে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছে।

অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক সংকট। এমন অবস্থায় গাজা উপত্যকার পরিস্থিতিকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস। এমনকি গাজা উপত্যকা এখন ‘ডেথ জোন’ বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি অমানবিক বলে উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বুধবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ‘ডেথ জোন’ বা ‘মৃত্যু অঞ্চল’ বলে অভিহিত করেছেন।

ডব্লিউএইচও প্রধান এসময় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যের অবাধ প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, ‘গাজার স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি অমানবিক এবং ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। গাজা একটি মৃত্যু অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সেখানকার বেশিরভাগ অঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোন ধরনের পৃথিবীতে বাস করি যেখানে মানুষ খাবার এবং পান করার জন্য পানি পায় না, বা যেখানে মানুষ হাঁটতে পর্যন্ত পারে না কিংবা তারা তাদের সেবা-যত্নও পেতে পারে না? আমরা কোন ধরনের বিশ্বে বাস করি যেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা অসহায় মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করার সময় নিজেরাই বোমা হামলার ঝুঁকিতে থাকে?’

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ‘আমরা কোন ধরনের বিশ্বে বাস করি যেখানে হাসপাতালগুলো বন্ধ করে দিতে হবে কারণ রোগীদের বাঁচাতে সাহায্য করার জন্য আর কোনও জ্বালানি বা ওষুধ নেই। এবং এসব হাসপাতাল অবকাঠামোতে বারবার হামলা করছে সামরিক বাহিনী।’

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে অন্তত ২৯ হাজার ৩১৩ জন নিহত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বুধবার বলেন, ‘আমাদের এখন যুদ্ধবিরতি দরকার। বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ আমাদের দরকার। মানবতা অবশ্যই জয়ী হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুতর অপুষ্টি নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, কিছু অঞ্চলে এর হার এক শতাংশের নিচে থেকে ১৫ শতাংশেরও বেশি, যা আরও অনেক বেশি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।’

তার ভাষায়, ‘যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে এবং সহায়তা সরবরাহ বিঘ্নিত হবে ততই এই সংখ্যা বাড়বে। আমরা আশঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) তাদের সহায়তা নিয়ে উত্তর গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না।’

আইসিজের শুনানিতে আবারও ইসরায়েলের পক্ষ নিলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) শুনানিতে অংশ নিয়ে আবারও ইসরায়েলের নিরাপত্তায় জোর দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, ফিলিস্তিনের দখল করা ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শুনানিতে বেশির ভাগ দেশের প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্ব অবসানের দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আদালতে যুক্তি তুলে ধরে।

ইসরায়েলের দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে আইসিজেতে গতকাল তৃতীয় দিনের মতো শুনানি হয়েছে। গতকালের শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ ১০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শুনানিতে অংশ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আইন উপদেষ্টা রিচার্ড ভিসেক বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে ইসরায়েলকে আইনিভাবে সরে যেতে বাধ্য করা উচিত হবে না।

রিচার্ড ভিসেক বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে আসা উচিত হবে না যে দখল করা ভূখণ্ড থেকে অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে ইসরায়েলকে সরে যেতে হবে। এসব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সরে যেতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির প্রতিনিধির এমন বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল–মালিকি বলেন, ‘আমি আরও বেশি কিছু আশা করেছিলাম; কিন্তু নতুন কিছু শুনতে পেলাম না।’

আল-মালিকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে বলে আসছে যে আদালতে নয়, অন্য কোনো ফোরামে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু গত ৭৫ বছর অন্য ফোরামে চেষ্টা চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা, ভেটো ও তাদের ক্ষমতার দাপটের মুখে পড়তে হয়েছে ফিলিস্তিনকে। কোথাও কিছু না হওয়ার কারণে ফিলিস্তিন দ্বারস্থ হয়েছে আইসিজের।

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করা এখন লক্ষ্য : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিশ্বে এই মুহূর্তে ৩৫ কোটির বেশি বাঙালি ও বাংলা ভাষাভাষী আছে। সেই অবস্থান থেকে আমাদের এবারের লক্ষ্য হলো বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

আজ বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকের এই দিনের স্বীকৃতি বঙ্গবন্ধু পরিবারের স্বীকৃতি। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান জেলখানায় বসে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালিত হবে। কারণ সেই ২১ ফেব্রুয়ারিতে মায়ের ভাষার দাবিতে আমাদের পূর্বসূরিরা জীবন দিয়ে ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তড়িৎ সিদ্ধান্তে এবং কানাডা প্রবাসী দুজন বাঙালি সালাম-রফিকের উদ্যোগে জাতিসংঘে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি জাতির জন্য বিশাল অর্জন। আজকে আমাদের স্বপ্ন হলো বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষাতে রূপান্তর করা।

হাছান মাহমুদ বলেন, সারা বিশ্বে ৩৫ কোটির বেশি বাংলা ভাষাভাষী আছে। সুতরাং পৃথিবীর অন্যতম প্রচলিত ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার অবস্থান। যে কারণে আমরা চাইবো বাংলা এবার জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে।