শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

বন্য প্রাণী রক্ষা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে : পরিবেশমন্ত্রী

বন্য প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা কেবল দরকারি নয় বরং অপরিহার্য হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, সকল পেশার মানুষের এগিয়ে আসার পাশাপাশি কিশোর-কিশোরী, শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ওয়াইল্ডলাইফ অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দেশে প্রথমবারের মতো ওয়াইল্ডলাইফ অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বন্য প্রাণী, বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, বন্য প্রাণী সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে দেশজুড়ে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘স্মার্ট তারুণ্য বাঁচাবে অরণ্য’ স্লোগানে ওয়াইল্ডলাইফ অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ওয়াইল্ডলাইফ অলিম্পিয়াড-২০২৪-এর লোগো, পোস্টার, বুকলেট ও ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘পাঠ্য বই এবং পাঠ্য বইয়ের বাইরে বন্য প্রাণী ও এদের আবাসস্থল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে দেশব্যাপী ওয়াইল্ডলাইফ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, দ্রুত নগরায়ণ, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশদূষণ, বনাঞ্চল উজাড়সহ নানা কারণে আমাদের পরিবেশ আজ সংকটাপন্ন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বন্য হাতির দল থেকে শুরু করে পাখি, এমনকি সাগরের তলদেশের প্রাণীরা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। গত ১০০ বছরে দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে ৩১ প্রজাতির বন্য প্রাণী।
বন্য প্রাণীদের বিলুপ্তি ও বিপদাপন্ন হওয়ার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য, যা মানুষের ওপরেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বন অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ কর্মসূচি পালন করে আসছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের অধীনে দেশের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওয়াইল্ডলাইফ বা বন্য প্রাণী নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় ‘স্মার্ট তারুণ্য বাঁচাবে অরণ্য’ স্লোগানে ওয়াইল্ডলাইফ অলিম্পিয়াড-২০২৪ শুরু হচ্ছে।

প্রথম দিনেই ইংল্যান্ডের ওপর চড়াও ভারত

সিরিজ জয় নিশ্চিত করে আজ শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমেছে ভারত। ধর্মশালায়ও দাপট ধরে রেখেছে স্বাগতিকরা। আজ টেস্টের প্রথম দিনে কুলদীপ যাদবের ৫ ও শততম টেস্ট খেলতে নামা রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ৪ উইকেটে ইংলিশদের প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানে গুটিয়ে দেয় ভারত। পরে নিজেরা ব্যাটিংয়ে নেমে ৩০ ওভার ব্যাট করে ১ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৩৫ রান।
৮৩ রানে পিছিয়ে আগামীকাল দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন রোহিত শর্মা ও গুভমান গিল।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বেন ডাকেট (২৭) ও অলি পোপের (১১) উইকেট হারিয়ে দলীয় ১০০ রানে মধ্যহ্নভোজের বিরতিতে যায় সফরকারীরা। বিরতির পরই চিত্র বদলে যায়। দ্বিতীয় সেশনে ৯৪ রান উঠলেও ৫ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।
ভয়ংকর হয়ে ওঠা কুলদীপ ৫ উইকেটের কোট পূর্ণ করে ফেলেন।

চা বিরতির পরে দুটি ওভারে আক্রমণাত্মক ব্যাট করেন বেন ফোকস। কিন্তু বেশিক্ষণ খেলতে পারেননি তিনি। ইংল্যান্ডের বাকি দুটি উইকেট তুলে নেন অশ্বিন।
২১৮ রানে শেষ হয় বেন স্টোকসদের ইনিংস। সফরকারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৯ রানের ইনিংসটি খেলেন ওপেনার জ্যাক ক্রুলি।

এরপর ব্যাট করতে নেমে চড়াও হন জয়সওয়াল। এই ওপেনার অর্ধশতক করে ৫৮ বলে ৫৭ রানে ফেরার আগে দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে কোনো একটি টেস্ট সিরিজে ৭০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এত দিন এই অর্জন ছিল কেবল সুনীল গাভাস্কারের।

১০৪ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর আর উইকেট হারায়নি ভারত। ফিফটি তুলে নেওয়া অধিনায়ক রোহিত ৫২ ও তিনে নেমে ২৬ রানে অপরাজিত আছেন গিল। ৮৩ রানে পিছিয়ে আগামীকাল দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন অপরাজিত দুই ব্যাটার।

ড. ইউনূসকে ১১৯ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে ১১৯ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

২০১১ সাল থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ড. ইউনূসকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

যদিও এর আগে ইউনূস সেন্টার এক বিবৃতিতে কর ফাঁকি সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে বলেছে, প্রফেসর ইউনূসের যে টাকা নিয়ে পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনে আলাপ চলছে, তার পুরোটাই প্রফেসর ইউনূসের অর্জিত টাকা। তার উপার্জনের সূত্র প্রধানত তার বক্তৃতার ওপর প্রাপ্ত ফি, বই বিক্রি লব্ধ টাকা এবং পুরস্কারের টাকা। এর প্রায় পুরো টাকাটাই বিদেশে অর্জিত টাকা। এই টাকা বৈধভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা হয়েছে। কর বিভাগ তা অবহিত আছে। কারণ, সব টাকার হিসাব তার আয়কর রিটার্নে উল্লেখ থাকে।

ওই বিবৃতিতে ইউনূস সেন্টার থেকে আরও বলা হয়, তিনি জীবনে কোনো সম্পদের মালিক হতে চাননি। তিনি মালিকানামুক্ত থাকতে চান। কোথাও তার মালিকানায় কোনো সম্পদ নেই (বাড়ি, গাড়ি, জমি বা শেয়ার ইত্যাদি)। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন তার উপার্জনের টাকা দিয়ে ২টি ট্রাস্ট গঠন করবেন। তিনি তাই করেছেন।

জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে প্রজ্ঞাপন

নতুন স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৭৫ পয়সা থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দিনগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের প্রজ্ঞাপনে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলো।

নতুন দাম অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১০৯ টাকা থেকে কমিয়ে ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা, অকটেন ১৩০ টাকা থেকে ১২৬ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১২২ নির্ধারণ করেছে সরকার। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনে ৭৫ পয়সা, অকটেনে ৪ টাকা ও পেট্রোলে ৩ টাকা কমেছে।

এর আগে ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট থেকে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা কমিয়েছিল সরকার।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণের সূত্র নির্ধারণ করে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে জ্বালানি বিভাগ। এ নির্দেশিকা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ফর্মুলা বা গাইডলাইন অনুসারে এখন থেকে প্রতি মাসেই জ্বালানি তেলের আমদানি বা ক্রয়মূল্যের আলোকে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হবে।

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় বর্তমানে ডিজেল লিটারপ্রতি ৯২ দশমিক ৭৬ রুপি বা ১৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা (১ রুপি সমান ১ দশমিক ৪৪ টাকা হিসাবে) এবং পেট্রোল ১০৬ দশমিক ০৩ রুপি বা ১৫২ টাকা ৬৮ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। যা প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৪ টাকা ৫৭ পয়সা ও পেট্রোল ২৭ টাকা ৬৮ পয়সা বেশি বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

অবৈধ চিকিৎসা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকেও ভূমিকা নিতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, সারাদেশে গ্রামে-গঞ্জে ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ চিকিৎসা বন্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও ভূমিকা নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমি আগেও এসেছি। তবে আজকে এসেছি অন্য একটি দায়িত্ব নিয়ে। এখানে মেঝেতেও রোগী। এখানকার কিছু সমস্যা আমি চিহ্নিত করতে পেরেছি। আমাদের এখানে জনবলের অভাব।

তিনি আরও বলেন, উপজেলাগুলোতে আমরা যদি ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা দিতে পারি, তাহলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে রোগীরা মেঝেতে শুয়ে থাকবেন না। এই সমস্যা একদিনে সমাধান করা সম্ভব হবে না! আমি চেষ্টা করছি, পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধান করতে।

ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ চিকিৎসা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এটা তো শুধু আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, এসব সমস্যার জন্য ওই এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চেয়ারম্যানদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা যদি এসব বিষয় পরিদর্শন করেন এবং সমস্যা চিহ্নিত করে আমাদের প্রতিবেদন দেন, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

এর আগে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ঘুরে দেখেন। এসময় রোগীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। এছাড়া হাসপাতালের নানা সংকট নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।

যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ কিম জং উনের

যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে বৃহত্তর যুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিক্রিয়ায় বুধবার (৬ মার্চ) এই আহ্বান জানিয়েছেন কিম। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এই খবর জানিয়েছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মহড়ার প্রতিক্রিয়া জানাবে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দুইদিন পরই এমন আহ্বান জানালেন কিম। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এমন মহড়াকে আক্রমণের অনুশীলন হিসেবে বিবেচনা করে উত্তর কোরিয়া।

রাষ্ট্রীয় কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, ওইদিন একটি পশ্চিমা অপারেশনাল ট্রেনিং বেস পরিদর্শন করেন কিম জং উন। এসময় সামরিক বাহিনীকে ‘প্রকৃত যুদ্ধ মহড়া জোরদার করার’ তাগিদ দেন কিম। আর এ জন্য ‘নিখুঁত যুদ্ধ প্রস্তুতির লক্ষ্যে তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা দ্রুত উন্নত করার’ নির্দেশও দেন তিনি।

এ সময় কিম আরও বলেন, ‘অপ্রতিরোধ্য শক্তির ব্যবহার করে শত্রুদের দেওয়া হুমকি রুখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির প্রয়োজন।’

কেসিএনএ জানিয়েছে, সাইটটিতে সামরিক ইউনিটগুলোর কৌশল পরিচালনা করেছিলেন কিম। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রীয় মিডিয়া প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, শ্যুটিংস্পটে কালো রঙয়ের একটি চামড়ার জ্যাকেট পরে একটি রাইফেল তাক করে দাঁড়িয়ে আছেন কিম।

দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর জন্য এর আগেও বহুবার একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছেন কিম। তবে এবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনির্দিষ্ট ‘দায়িত্বপূর্ণ সামরিক কার্যক্রম’ পরিচালনা করার হুমকি দেওয়ার দুই দিন পরই এমন আহ্বান জানালেন তিনি।

সোমবার দক্ষিণ কোরীয় এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী ১১ দিনব্যাপী তাদের বার্ষিক কম্পিউটার-সিমুলেটেড কমান্ড পোস্ট প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্র অনুশীলন শুরু করেছে। চলতি বছরের মহড়াগুলোতে ৪৮টি ক্ষেত্রে অনুশীলন করেছিল তারা। এ সংখ্যা গত বছরে পরিচালিত মহড়ার সংখ্যার দ্বিগুণ। তবে উভয় দেশই দাবি করেছিল, তাদের এ মহড়া প্রতিরক্ষামূলক।

অবশ্য উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী সামরিক মহড়াগুলোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

৭ মার্চের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় এনে দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফসল বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুধু গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নয় মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ও এনে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বিশ্বে স্বাধীনতার জন্য এ যাবৎ যারা ভাষণ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ ৭ মার্চের ভাষণ। আর ৭ মার্চের ভাষণ শুধু বাঙালিকে উদ্বুদ্ধই করেনি বিজয় এনে দিয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নামটা মুছে ফেলা হয়েছিল। কোনো ছবি দেখানো যেত না। ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ। যে স্লোগান দিয়ে লাখো শহীদ রক্ত দিয়েছে, তার সব নিষিদ্ধ।

তিনি বলেন, এমনকি ইতিহাস লিখতে গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম আসবে…একটা বইয়ে অনেক ছবি। আমার এখনও মনে আছে। তার মাঝখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছবি। সেটা একটা কাগজ দিয়ে ঢেকে আঙুল দিয়ে চেপে ধরে দেখানো হচ্ছে টেলিভিশনে, কিন্তু ওই ছবিটা দেখানো যাবে না। নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে একটি গোষ্ঠী চেয়েছিল এদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে। তারা ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করে এবং ‘জয় বাংলা’ শ্লোাগানও নিষিদ্ধ করে। ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম মুছে দিতে উদ্যত হয়। কিন্তু ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না। তারই প্রমাণ জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এ ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি। শুধু তাই নয়, ইউনেস্কো মনে করে এ ভাষণটির মাধ্যমে জাতির পিতাই প্রকারান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে যেভাবে হত্যা করা হলো। পাকিস্তানিরা বলতো বাংলাদেশ স্বাধীন হলে কিছু করতে পারবে না। বাংলাদেশ তাদের কাছে বোঝা ছিল, স্বাধীন হয়ে ভালই হয়েছে- এ ধরনের কথা তারা বলেছে। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র ৩ বছর ৭ মাসের মধ্যে একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে যখন বঙ্গবন্ধু স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করলেন। এরপর যখন দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটাই স্বাধীনতাবিরোধীদের সহ্য হয়নি। দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, পাকিস্তানিরা তাকে হত্যা করতে পারেনি। কিন্তু যারা আমাদের দেশের, যারা দিনরাত আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত, তাদেরই দেখলাম ঘাতকরূপে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই ভাষণে তিনি বাঙালির দীর্ঘদিনের লালিত স্বাধীনতা অর্জনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ৬৯ সালের অক্টোবর মাসে আমার বাবার লন্ডনে গিয়েছিল। তিনি (বঙ্গবন্ধু) মুক্তি পাওয়ার পর পর আমি আমার স্বামীর সঙ্গে ইতালিতে চলে যাই। ইতালি থেকে আমার স্বামী আবার লন্ডনে চাকরি পেয়েছিল, সেখানে চলে যাই। সেখানে বসে তিনি তার যে পরিকল্পনা ছিল, নির্বাচন হবে, নির্বাচনের রেজাল্ট আসবে, ওরা ক্ষমতা দেবে না, আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। যুদ্ধের প্রস্তুতিটা আমি একজন সাক্ষী এখনো আছি, তিনি পরিকল্পনা করেন। ভারতের দুজন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করেন। আমাদের গেরিলা যুদ্ধ হবে, সেখানে শরণার্থী গেলে কীভাবে আশ্রয় হবে, প্রবাসী বাঙালিরা কি কি কাজ করবে, সমস্ত পরিকল্পনা তিনি করে আসেন।

পাক্স্তিানিরা নাজমুল হকের (মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে মেজর পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন) কাছে জিজ্ঞেস করেছে— ৭ মার্চের ভাষণের শেখ মুজিব কি কথা বলেছিল? সেটার ব্যাখ্যা চেয়েছিল। ৭ মার্চের ব্যাখ্যা খুঁজতে খুঁজতেই তাদের (পাকিস্তানি) সময় গেছে। তিনি (বঙ্গবন্ধু) কী বলে গেলেন? কী হয়ে গেল? বাংলাদেশের মানুষ অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করলো। এটাই ছিল তাদের (পাকিস্তানি) বক্তব্য। একজন নেতার ভাষণ মানুষকে শুধু উদ্বুদ্ধ করেনি, গেরিলা যুদ্ধের শুধু প্রস্তুতি দেয়নি, একটা যুদ্ধের বিজয় এনে দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, মার্শাল ল’য়ের মধ্যেও নির্বাচন দেওয়ার ওয়াদা করেছিল ইয়াহিয়া খান। ওয়াদার মধ্যেও কিছু শর্ত ছিল। আমাদের দেশের অনেক রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তি এ নির্বাচনে বিরোধিতা করেছিল। সেই শর্ত মেনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার (বঙ্গবন্ধু) কথা ছিল, কে এদেশের নেতৃত্ব দেবে এটা আগে জনগণ ঠিক করুক।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতাকামী লাখো জনতার উদ্দেশে দেওয়া তার কালজয়ী ভাষণে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধকালে বজ্রকণ্ঠের এই ভাষণ রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বমানচিত্রে স্থান করে নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

এ ভাষণ বাঙালিকে শুধু উদ্বুদ্ধই করেনি বিজয় এনে দিয়েছে বলে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে তিনি আমাদের ‘স্বাধীনতা’ নামের এক অমরবাণী শুনান এবং সংগ্রামের মাধ্যমে শৃঙ্খলমুক্তির পথ দেখান। তিনি বীর বাঙালির অবশ্যম্ভাবী বিজয়কে উৎকীর্ণ করেন তাঁর ভাষণের শেষ দু’টি শব্দে- ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজহার খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ।

সবাইকে কৃতিত্ব দিলের শান্ত

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শেষের দিকের বোলিং এবং শুরুর ব্যাটিংয়ের জন্যই হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে ২০৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর মাহমুদউল্লাহ ও জাকের আলীর অবিশ্বাস্য ইনিংসে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ধরন প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বত্র। ৩ রানে ওই ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে প্রভাব বিস্তার করে জিতেছে বাংলাদেশ। বুধবার এমন জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের সবাইকে প্রংসায় ভাসিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ১৬৫ রানে থেমে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। জবাবে খেলেতে নেমে দুই ওপেনারের ৬৮ রানের জুটির পর তৃতীয় উইকেটে শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ১১ বল আগেই লক্ষ্যটা ছুঁয়ে ফেলে। এমন জয়ের পর সবাইকে কৃতিত্ব দিয়েছেন শান্ত, ‘খুবই ভালো। সবাই দলের জন্য খেলছে এটা গুরুত্বপূর্ণ। শেষ ম্যাচে আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, এটা সবাইকে বাড়তি একটা বিশ্বাস দিয়েছে যে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি। দুই ম্যাচেই দল হিসেবে আমরা ভালো খেলেছি। আলাদা কাউকে কৃতিত্ব দিতে চাই না। পুরো দলকে কৃতিত্ব দিতে চাই।’

দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিংয়ে দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে ডেথ ওভারে বোলাররা দারুণ বোলিং করেছেন। শান্ত জানালেন, ড্রেসিংরুমের পরিকল্পনা অনুযায়ীই সবাই পারফরম্যান্স করতে পেরেছে, ‘আমার মনে হয় প্রথম ম্যাচের পর আমাদের খুব ভালো পরিকল্পনা হয়েছে। আমরা কীভাবে কী করতে চাই! খুব ভালো ছিল। বোলাররা খুব ভালোভাবে পরিকল্পনা কাজে লাগিয়েছে। সবাই পরিষ্কার ছিল যে তারা কী করতে চায়। সেটাই আমাদের কাজে দিয়েছে। সবাই সবার পরিকল্পনা কাজে লাগিয়েছে।’

প্রথম ম্যাচে হারের পরও দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশ পরিবর্তন করেনি বাংলাদেশ। শান্ত মনে করেন দলের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রাখা জরুরি, ‘অবশ্যই এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রথম ম্যাচটাতেও ভালো ক্রিকেট খেলেছি। একটা ম্যাচ শেষ ওভারে গিয়ে হেরেছি। আমার মনে হয় খুব বেশি ঘাটতি ছিল না। আমার কাছে ভালো লেগেছে সবাই দলের জন্য চেষ্টা করেছে। এজন্যই আমি ও কোচিং স্টাফরা খুব বেশি পরিবর্তনের চিন্তা করিনি। এটা আমাদের অবশ্যই সাহায্য করেছে।’

স্নিকো বিতর্ক : ম্যাচ রেফারির কাছে জবাব চাইবে শ্রীলঙ্কা

বাংলাদেশের ইনিংসের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে সৌম্য সরকারের বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আবেদন করেছিল শ্রীলঙ্কা। অন ফিল্ড আম্পায়ার গাজী সোহেল আউট দিলেও বাংলাদেশি ব্যাটার রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। থার্ড আম্পায়ার মাসুদুর রহমান বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন। এই নিয়ে মাঠে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও কয়েক মিনিট পর খেলা গড়ায়। ম্যাচ হেরে সংবাদ সম্মেলনে এসে শ্রীলঙ্কার সহকারী কোচ নাভিদ নওয়াজ জানালেন, তারা এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ম্যাচ রেফারির কাছে জানতে চাইবে।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ইনিংসের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে বিনুরা ফার্নান্দোর শট লেংথের বল সৌম্য পুল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাট-বলে সংযোগ হয়নি। বল চলে যায় উইকেট কিপার কুশল মেন্ডিসের হাতে। লঙ্কানদের কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার গাজী সোহেল আউট দেন। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন সৌম্য। আল্ট্রা-এজে দেখা গেছে স্পাইক। আউট ভেবে ড্রেসিংরুমের কাছাকাছি চলে যান বাংলাদেশি ওপেনার। তবে টিভি আম্পায়ার মাসুদুর রহমানের দৃষ্টিতে স্পাইকের সময় বল ও ব্যাটের মধ্যে সূক্ষ্ম দূরত্ব থাকায় সৌম্যকে নট আউট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত শুরুতে মেনে নিতে পারেননি লঙ্কান ক্রিকেটারা। আম্পায়ার শরফুদ্দৌলাকে ঘিরে ধরেন তারা। ওদিকে কোচ ক্রিস সিলভারউড গিয়েছিলেন চতুর্থ আম্পায়ার তানভীর আহমেদের কাছেও। সবকিছু মিলিয়ে মাঠে ও গ্যালারিতে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা ছড়ায়।

সংবাদ সম্মেলনে এসে নওয়াজ বলেছেন, ‘মাঠের আম্পায়ার আউট দিয়েছেন। টিভি আম্পায়ারের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ থাকলেই কেবল মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারে। এটা স্পষ্ট দেখা গেছে স্নিকোতে স্পাইক ছিল। আমরা এটা বড় পর্দায় দেখেছি। আমরা ম্যাচ রেফারির সঙ্গে কথা বলবো, ঠিক কী ঘটেছিল জানার চেষ্টা করবো। পর্দায় দেখানো ফুটেজ কিছু বলার জন্য যথেষ্ট নয়। আমি নিশ্চিত টিভি আম্পায়ারের কাছে মাঠের আম্পায়ার যা চেয়েছিল, সেটি পরিবর্তন করার প্রমাণ থাকবে।’

সৌম্য ১৪ রানে আউট থেকে বাঁচলেও খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি। তবে সৌম্য ওই সময় আউট হলে ২৮ রানের মাথায় ওপেনিং জুটি ভাঙার সুযোগ পেতো শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সেটি না হওয়াতে এই জুটি ৬৮ রান তোলে। আর তাতেই ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে যায় সফরকারীরা। বিষয়টি উল্লেখ করে নওয়াজ বলেছেন, ‘এটা ছিল প্রথম উইকেট। এই উইকেট তুলে নিতে পারলে আমাদের শুরুটা ভালো হতো। এই ধরনের উইকেটে প্রতিটি উইকেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

যদিও নিজেরে ব্যাটারদের দায়ও দেখছেন শ্রীলঙ্কার সহকারী কোচ। তার মতে স্কোরবোর্ডে ১৫ থেকে ২০ রান কম হয়েছে, ‘আমার মনে হয় আমরা অন্তত ১৫-২০ রান কম করেছি। এই পিচে, বিশেষ করে সিলেটের আলোতে ভেজা উইকেটে পরে ব্যাটিং করা সহজ। বাংলাদেশ দুটি ম্যাচেই ফিল্ডিং বেছে নিয়েছে। আমার মনে হয় এই ধরনের উইকেটে টস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

লঙ্কানরা ভালো অবস্থাতেই ছিলো। কিন্তু কামিন্দু মেন্ডিসের রান আউট এবং মেহেদীর বলে চারিথ আসালাঙ্কার বোল্ড কিছুটা বিপদে ফেলেছে শ্রীলঙ্কাকে। এ প্রসঙ্গে নওয়াজ বলেছেন, ‘আমি মনে করি কামিন্দু মেন্ডিসের রান আউট এবং চারিথা আসালাঙ্কার আউট আমাদের ক্ষতি করেছে। ওই দুই উইকেট আরেকটু বেশি সময় ধরে থাকলে আমাদের উপকার হতো।’

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টারে সিটি

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগেও এফসি কোপেনহেগেনকে ৩-১ গোলো হারালো ম্যানচেস্টার সিটি। দুই লেগে ৬-২ গোলের অগ্রগামিতায় টানা দশমবার কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

দুই গোলে এগিয়ে থেকে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে কোপেনহেগেনকে স্বাগত জানায় সিটিজেনরা। ১০ মিনিটের মধ্যে অতিথিদের জালে দুইবার বল জড়ায় পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।

অথচ রবিবার লিভারপুলের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে কেভিন ডি ব্রুইনা ও ফিল ফডেনের মতো তারকাদের বিশ্রাম দেন গার্দিওলা। গত রবিবার লিগে ম্যানচেস্টার ডার্বি ম্যাচে খেলা সাতজনকে বেঞ্চে রাখেন স্প্যানিশ কোচ।

তবে স্কোয়াড বদলালেও ম্যাচে প্রভাব পড়েনি। পঞ্চম মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের কর্নার থেকে চমৎকার ভলিতে জাল কাঁপান মানুয়েল আকাঞ্জি।

চার মিনিট পর আলভারেজ গোলের দেখা পান। তার কর্নার থেকে ক রদ্রি শট নিলে ক্রসবারে আঘাত করে। কোপেনহেগেনের এক খেলোয়াড় বল বিপদমুক্ত করতে গেলেও পারেননি। আলভারেজ বল পেয়েই বক্সের বাঁ পাশ থেকে লক্ষ্যে শট নেন। অতিথি গোলকিপার কামিল গ্রাবারার হাত ফসকে বল জালে জড়ায়।

সাউদাম্পটনের সাবেক খেলোয়াড় মোহামেদ এলিয়নোসি ২৯তম মিনিটে ড্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের হয়ে একটি গোল শোধ দেন। তবে সিটির গোলস্কোরিং মেশিন আর্লিং হ্যালান্ড আবারও গোলের ব্যবধান দুইয়ে বাড়ান। হাফটাইমের কয়েক সেকেন্ড আগে নিচু শটে মৌসুমের ২৯তম গোল করেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।

রিকো লুইস সিটির হয়ে চতুর্থ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বল বারে লাগে।

সিটি কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইর সঙ্গে যোগ দিলো। আগামী ১৫ মার্চ এই চার দলের কোয়ার্টার ফাইনালের ড্র হবে।