শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

‘তারে জামিন পার’ সিনেমার ১৬ বছর পর মুখোমুখি আমির ও দর্শিল

বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ‘তারে জামিন পার’ সিনেমা যেমন ছিলো ব্যবসাসফল তেমনি দর্শক-হৃদয়ে দীর্ঘদিনের জন্য তা স্থান করে নেয়। ভিন্নধর্মী এই সিনেমাটি এখনো দেখে অনেকেই সেই আমির এবং ক্ষুদে দর্শিলের স্মৃতি রোমন্থন করেন।

সেই সিনেমার প্রায় ১৬ বছর পর একসঙ্গে আবারও ক্যামেরার সামনে মুখোমুখি হলেন আমির খান এবং দর্শিল সাফারি। দর্শিল সিনেমাটিতে নিকুম্ভ স্যারের (আমির খান) ছাত্র ইশানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলো।

কিন্তু এবার এই দুজনের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে। এবার একসঙ্গে সিনেমায় নয় বরং বিজ্ঞাপনে কাজ করতে দেখা গেলো তাদের। বিজ্ঞাপনটি একটি এনার্জি ড্রিঙ্কের।

বিজ্ঞাপনের শুরুতে দেখা যাচ্ছে, দাদুর (আমির খান) কাছে দুঃখ করে নাতি (দর্শিল সাফারি) জানাচ্ছে যে, সে নিজের পছন্দের কোনো কলেজে চান্স পাচ্ছে না।

অন্যদিকে কোনো প্রেমিকাও নেই তার জীবনে। নিজেকে জীবনযুদ্ধে এক পরাজিত সৈনিক মনে হচ্ছে তার। এমন দুঃখী অবস্থা থেকে বের করে নাতিকে চাঙ্গা করে তুলতে তাকে একটি বিশেষ পানীয় দেন আমির। সেই পানীয়ের প্রত্যেক চুমুকে পুরনো একাধিক সময়কালে পৌঁছে যায় দর্শিল। এই বিজ্ঞাপনে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন ভিন্ন লুকে ধরা দিয়েছেন মিস্টার পারফেকশনিস্টকে।

নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তিটাই বড়। নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার। এ জন্য সরকারি উচ্চপদে নারীদের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার।

আজ শুক্রবার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ’৯৬ সালের আগে উচ্চ আদালত নারী বিচারক ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে উচ্চ আদালতে নারী বিচারক নিয়োগ দেয়।

প্রতিটি জায়গায় বাংলাদেশের নারীরা সাফল্য পাচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এভারেস্ট জয়, ক্রীড়াসহ সবক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বাংলাদেশের নারীরা। সরকার চায় নারীদের সমঅধিকার নিশ্চিত হোক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা আমাদের একটা সংবিধান দিয়েছেন, সেই সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছেন। নারীদের চাকরি ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কোটা নির্দিষ্ট করেছেন, চাকরির ক্ষেত্রে যাতে নারীরা সমান সুযোগ পেতে পারে। সংসদের সংক্ষরিত নারী আসন দিয়েছিলেন যাতে করে নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে।

সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতার ডাকে এ দেশের মানুষ অস্ত্র কাঁধে নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করেছে। পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তানের শাসকরা আল বদর বাহিনী, রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলে। আমাদের কিছু দেশীয় দালাল, তারা নারীদের ধরে নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে দিয়ে দিত। দিনের পর দিন তাদের ওপর পাশবিক অত্যাচার চলতো। দিনের পর দিন তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন হয়। সে নির্যাতিত মা-বোনদের আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, নির্যাতিত নারীদের স্বাধীনতার পর উদ্ধার করা হয়। নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের জন্য জাতির পিতা শেখ মুজিব পুনর্বাসন বোর্ড করে দেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ডাক্তার, নার্স নিয়ে আসেন তাদের চিকিৎসা করাতে। কারণ, অনেকে তখন অন্তঃসত্ত্বা, অনেকের অবস্থা খারাপ ছিল। শারীরিক মানসিকভাবে তাদের চিকিৎসা এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেন। আমার মা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক মেয়েকে বিয়ে দেন। এক সাথে অনেকের বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন। তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেন। যারা বিয়ে করেন তাদের চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এই নির্যাতিত নারীদের বীরাঙ্গনা নাম দিয়ে তাদের সম্মাননা দিয়েছেন। আমরা তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছি, তাদের অবদান ভোলার নয়।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ৫ নারীকে জয়িতা সম্মাননা দেওয়া হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।

যারা সম্মাননা পেয়েছেন তারা হলেন ময়মনসিংহের আনার কলি, রাজশাহীর কল্যাণী মিনজি, সিলেটের চা শ্রমিক কমলী রবিদাশ, বরগুনার জাহানারা বেগম ও খুলনার পাখি দত্ত হিজড়া।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।

বড় জয়ে ফাইনালে ব্রাজিল

কনকাকাফ ডব্লিউ গোল্ড কাপে গত ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ব্রাজিল নারী দল। আজ সেমিফাইনালে মেক্সিকোকে রীতিমতো উড়িয়ে দিলো ব্রাজিলের মেয়েরা। তাতে প্রথমবারের মতো এই প্ররতিযোগীতার ফাইনালে উঠেছে ব্রাজিলের মেয়েরা।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ন্যাপড্রাগন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল।
ব্রাজিলের হয়ে আদ্রিয়ানা, অ্যান্তোনিয়া ও ইয়াসমিম একটি করে গোল করেন।

ম্যাচে পুরো আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ব্রাজিলের মেয়েরা। তারা ৬৮ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে ২৩টি শট নেয়। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৬টি। সেখান থেকেই তিনটি গোল পেয়েছে। অন্যদিকে মাত্র ৩২ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রাখতে পেরেছে মেক্সিকো।

ম্যাচের ২১তম মিনিটেই আদ্রিয়ানার গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। গোল পোস্টের খুব কাছ থেকে গোল করেন তিনি। প্রথম গোল হজম করার ৮ মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় মেক্সিকো। ২৯তম মিনিটে মেক্সিকোর নিকি হার্নান্দেজ সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনের দলে পরিণত হয় তারা।

ম্যাচের ৩২তম মিনিটে আদ্রিয়ানার অ্যাসিস্ট থেকে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন অ্যান্তোনিয়া। বক্সের বাইরে থেকে তার বাম পায়ের নেয়া দ্রুতগতির শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে অবস্থান নেয়।

বিরতির পর ৪৮তম মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন ব্রাজিলের ইয়াসমিম। গাবি পোর্টিলহোর ক্রসে গোলপোস্টের সামনে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে জালে জড়াতে ভুল করেননি তিনি। বাকি সময়ে অবশ্য আর কোনো দল গোল পায়নি। আগামী সোমবার (১১ মার্চ) ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোতে যোগ দিল সুইডেন

সামরিক জোট ন্যাটোতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিল সুইডেন। ইউরোপে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই দেশটির কয়েক দশকের নিরপেক্ষতার অবসান ঘটল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে বৈঠকের পর ওয়াশিংটন ডিসিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, ন্যাটো সদস্য হিসেবে ঐক্য ও সংহতি হবে সুইডেনের পথপ্রদর্শক।

তিনি বলেন, আমরা মিত্রদের সঙ্গে বোঝা, দায়িত্ব ও ঝুঁকি ভাগ করে নেব।

ব্লিঙ্কেন সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের নথি পাওয়ার সময় বলেন, যারা অপেক্ষা করে, তাদের কাছে ভালো জিনিস আসে। এটি সুইডেনের জন্য, আমাদের জোটের জন্য এবং ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

বৃহস্পতিবার স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে সুইডেনের কর্মসংস্থানমন্ত্রী জোহান পেহরসন ন্যাটোতে যোগদানকে সুইডেনের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা নীতির যুগ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ২০ বছর ধরে তিনি এমন সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করে। এ ঘটনায় সুইডেন ও প্রতিবেশী ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন করে। রাশিয়ার সঙ্গে দেশ দুটির এক হাজার ৩৪০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
খবর আল-জাজিরা

দুর্বল দলের বিপক্ষে হারলো রোনালদোরা

সময়টা ভালো যাচ্ছে না আল নাসরের। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব আল আইনের কাছে হারের পর এবার লিগের দুর্বল দল আল রাইদের বিপক্ষে হেরেছে তারা।

বৃহস্পতিবার ( ৭ মার্চ) রাতে সৌদি প্রো লিগে আল রাইদের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে রোনালদোরা। তাতে লিগ শিরোপার দৌড় থেকে আরও একধাপ পিছিয়ে পড়ল ক্লাবটি।

২৩ ম্যাচ শেষে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দুইয়ে অবস্থান করছে আল নাসর। ২২ ম্যাচে তাদের তুলনায় ৯ পয়েন্ট বেশি নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে আল হিলাল।

সময়টা যেন মোটেই সঙ্গ দিচ্ছে না আল নাসরের। লিগ শিরোপা দৌড় থেকে ধীরে ধীরে ছিটকে যাচ্ছে তারা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষেও পয়েন্ট হারাচ্ছে রোনালদোরা। গত সপ্তাহে টেবিলের তলানিতে থাকা আল হাজমের বিপক্ষে ৪-৪ গোলে ড্র করে পয়েন্ট খুইয়েছে তারা। সবশেষ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব আল আইনের বিপক্ষে হেরেছে ১-০ গোলে।

সে ধাক্কা কাটিয়ে না উঠতে লিগ টেবিলের ১৩তম স্থানে থাকা আল রাইদের বিপক্ষেও হারতে হয়েছে তাদের। বল দখলে আধিপত্য দেখালেও আক্রমণে এদিন বাজে সময় পার করেছে রোনালদোরা। ৭২ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে ১৬টি শট নিয়ে মাত্র ৩টি শট গোলমুখে রাখতে পেরেছিল তারা। অন্যদিকে ৭ শট নিয়ে ৫টিই গোলমুখে রেখেছিল আল রাইদ।

আল আওয়াল স্টেডিয়ামে এদিন ম্যাচ শুরুর ১৮তম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে আল নাসর। প্রায় মাঝমাঠ থেকে পাঠানো সতীর্থের পাস আল নাসরের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দখলে নেন জুলিও তারাভেস। বক্সে ঢুকে নিজে শট না দিয়ে পাস দেন করিম এল বেরকাওইকে। তিনি নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন। এর পাঁচ মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফেরে আল নাসর। ডানপ্রান্ত থেকে আল খাইবারির ক্রস বক্সে পেয়ে দারুণ শট নেন রোনালদো। তবে সেটা বারে লেগে ফিরে আসে। বল পেয়ে যান আয়মান ইয়াহিয়া। তিনি লক্ষ্যভেদ করতে কোনো ভুল করেননি।

বিরতির পর মাঠে ফিরতেই আবার পিছিয়ে পড়ে আল নাসর। গোছানো পাল্টা আক্রমণে আল নাসরের রক্ষণদুর্গ তছনছ করে সাউদের পাস দখলে নিয়ে বক্স থেকে বল জাড়ে জড়ান মোহামেদ ফওজাইর। সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে রোনালদোরা। তবে তাদের আক্ষেপে পুড়িয়ে শেষদিকে ব্যবধান ৩-১ করেন আমির সাউদ। ৮৭তম মিনিটে কর্নার থেকে আল সুবাইয়ের লম্বা পাস বক্সে অরক্ষিত অবস্থায় পেয়ে দারুণ শটে জালে জড়ান আমির। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আল রাইদ।

ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা আজ, প্রতি আসনে লড়বেন ৯৩ শিক্ষার্থী

সরকারি-বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আজ (শুক্রবার)। জানা গেছে, সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫টি আসন ও বেসরকারিতে ১ হাজার ৪০৫ আসনের জন্য বসছেন ৫০ হাজার ৭৯৫ শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন ৯৩ জন শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত একযোগে সারাদেশে ১২ সেন্টারের ২০ ভেন্যুতে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১০০ নম্বরের ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের ১ (এক) ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

লিখিত পরীক্ষায় বিষয় ভিত্তিক নম্বর বিন্যাস- জীববিজ্ঞান ৩০, রসায়নবিদ্যা ২৫, পদার্থবিদ্যা ২০, ইংরেজি ১৫, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ) ১০। লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তর দেওয়ার জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের কম নম্বর প্রাপ্তরা অকৃতকার্য বলে গণ্য হবেন। ভর্তিযোগ্য পরীক্ষার্থীদের মেধাক্রমসহ ফল প্রকাশ করা হবে।

এসএসসি/’ও’ লেভেল/সমমান ও এইচএসসি/’এ’ লেভেল/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ মোট ২০০ নম্বর হিসেবে নির্ধারণ করে মূল্যায়ন করা হবে। এসএসসি/’ও’ লেভেল/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এর ১৫ গুণ=৭৫ নম্বর (সর্বোচ্চ)। এইচএসসি/’এ’ লেভেল/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এর ২৫ গুণ=১২৫ নম্বর (সর্বোচ্চ)। লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং অনুচ্ছেদ ০৭-এ বর্ণিত পদ্ধতিতে এসএসসি/‘ও’ লেভেল/সমমান ও এইচএসসি/’এ’ লেভেল/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের যোগফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম প্রণয়ন করা হবে।

পূর্ববর্তী বছরের এইচএসসি/‘এ’ লেভেল/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের সর্বমোট নম্বর থেকে ৫ (পাঁচ) নম্বর বাদ দিয়ে এবং পূর্ববর্তী বছরের সরকারি মেডিকেল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজ/ইউনিট এ ভর্তিকৃত ছাত্র/ছাত্রীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট নম্বর থেকে ১ নম্বর বাদ দিয়ে মেধা তালিকায় অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে ২০২৩ সালে এইচএসসি/‘এ’ লেভেল/সমমান ও ২০২১ সালে এসএসসি/‘ও’ লেভেল/সমমান অথবা ২০২২ সালে এইচএসসি/‘এ’ লেভেল/সমমান ও ২০২০ সালে এসএসসি/‘ও’ লেভেল/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, শিক্ষার্থীকে এইচএসসি/‘এ’ লেভেল/সমমান পরীক্ষায় পাসের পূর্ববর্তী ২ (দুই) বছরের মধ্যে এসএসসি/ ‘ও’ লেভেল/ সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

প্রসঙ্গত, ডেন্টাল কলেজ এবং ডেন্টাল ইউনিটগুলোতে বিডিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার জন্য গত ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় অনলাইনে আবেদন শুরু হয়, চলে ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। এবার ভর্তি পরীক্ষার ফি ধরা হয় ১০০০ টাকা, যা টেলিটকের মাধ্যমে জমা দিতে হয়।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি ৩১ হাজার ছুঁই ছুঁই

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৩০ হাজার হাজার ৮০০। এছাড়া গত অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৩০ হাজার ৮০০ জনে পৌঁছেছে বলে বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় আরও অন্তত ৭২ হাজার ২৯৮ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৩ জন নিহত এবং আরও ১৪২ জন আহত হয়েছেন। অনেক ভুক্তভোগী এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন এবং উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ কোনও ধরনের আশ্রয় ছাড়াই বসবাস করছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম ত্রাণবাহী ট্রাক এই অঞ্চলে প্রবেশ করছে।

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক অন্তর্বর্তী রায়ে এই আদালত তেল আবিবকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারী সমাজ এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে নারীসমাজ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে এ প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্বের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ; এগিয়ে নিতে হবে বিনিয়োগ’ যা অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে প্রতিটি কাজে নারী-পুরুষের সম-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নারী-পুরুষ সমতা অর্জন ও নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ এবং জেন্ডার-রেসপনসিভ অর্থায়নকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য এবং ২০৪১ সালের উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ ও নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুধুমাত্র চাকরি নির্ভর না হয়ে প্রতিটি নারী যেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে এ লক্ষ্যে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা আর মজুরি বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নারী আদায় করেছিল তার অধিকার। নারী তার মেধা ও শ্রম দিয়ে যুগে যুগে সভ্যতার সকল অগ্রগতি এবং উন্নয়নে করেছে সমঅংশীদারীত্ব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠন করেন। তিনি জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সমানাধিকারের বিষয়টি সংবিধানে নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিসিএ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উপকূলীয় এলাকায় নারীর জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু বিকল্প জীবিকা এবং সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের হাতের মুঠোয় এনে দেওয়ার জন্য কাজ করছে ‘তথ্য আপা’ প্রকল্প।

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের নারীদের সাফল্য অনুকরণীয় : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের নারীদের সাফল্য আজ অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্ব, সুদূরপ্রসারি চিন্তা ও যথার্থ নীতি বাস্তবায়নের ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আর্থসামাজিক বিভিন্ন খাতে অভাবনীয় সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের নারীদের সাফল্যও আজ অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।’

‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৪ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব নারীর প্রতি রাষ্ট্রপতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এবং নারী-পুরুষের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি এবং উন্নয়নে বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরি করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘নারীর উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহকেও নানাবিধ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য-‘নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ’ যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে নারীদের সমঅধিকার, সমসুযোগ ও সুষ্ঠু বিকাশের লক্ষ্যে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনার নীতি, কর্মকৌশল হিসাবে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করেছে। পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা বিধিমালা ২০১৩, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭, যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮, ডিএনএ আইন ২০১৪ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে যা বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশী নারীদের জয়রথ এগিয়ে যাক দেশের গ-ি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে-এটাই আমার প্রত্যাশা।’

রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

৭ মার্চের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে : আরাফাত

৭ মার্চের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫০তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না, বাঙালিকে দাবিয়ে রাখা যায় না, এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’-এই ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন।
এ কথাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা দেখেছি বাঙালিকে বারবার দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা করে ষড়যন্ত্রকারীরা। কিন্তু বাঙালি সব ষড়যন্ত্র থেকে ঠিকই বেরিয়ে আসে, মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার চেতনা শুধুমাত্র অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এই পাঁচ মৌলিক চাহিদা পূরণ নয়, স্বাধীনতার চেতনা মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এবং কেউ দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করলে মাথা নত না করা।
সেটি হলো স্বাধীনতার মূলমন্ত্র এবং সেই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে উন্নত করছেন তাই নয়, তার কারণে আজকের বাস্তবতায় বাংলাদেশে আমরা অনেক কিছু দেখছি। আজ থেকে বিশ বছর আগে বাংলাদেশ এরকম ছিল না। এখন তোমারদের বড় স্বপ্ন দেখার সাহস বেড়ে গেছে। তোমরা এখন অনেক বড় বড় চিন্তা করো এবং সামনের দিনে তোমরা আরো এগিয়ে নেবে বাংলাদেশকে।

এ সময় তিনি আরো যোগ করেন, এ দেশে আজ থেকে বিশ বছর আগে মেট্রোরেল ছিল না, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট ছিল না। এ দেশে আজ থেকে ১০ বছর আগেও পুরো বাংলাদেশ বিদ্যুতের সাথে সংযুক্ত ছিল না, আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও এ দেশে নদীর তলদেশে টানেল ছিল না। আজ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট নিয়ে আন্তরীক্ষে পৌঁছে গেছে, সমুদ্রের তলদেশে পৌঁছে গেছে সাবমেরিন নিয়ে, নিজের টাকায় আমরা পদ্মা সেতুর মতো বিশাল একটি সেতু আমরা বানিয়েছি। পৃথিবীর খুব কম দেশেই একইসাথে এসব কিছু আছে। এটা থেকেই বোঝা যায় বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশকে কত অল্পসংখ্যক দেশের মর্যাদায় নিয়ে গেছে।
পৃথিবীর বুকে আমাদের মর্যাদা বদলে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শবনম জাহান শিলা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম প্রমুখ।