শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

রোজায় স্কুল বন্ধ রাখার আদেশ বহাল, আপিল শুনানি কাল

পবিত্র রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ আপাতত বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

একইসঙ্গে এ বিষয়ে আপিল শুনানির জন্য আগামীকাল (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার (১১ মার্চ) বিকেলে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

এর আগে রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

সোমবার (১১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়।

এরও আগে রোজায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ফলে পুরো রমজান মাসে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।

এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার (১০ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

খোলাবাজারে ডলারের দাম কমলো

দেশের খোলাবাজারে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রা ডলারের দাম কমেছে। সোমবার (১১ মার্চ) প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২১ টাকা ৩০ পয়সায়। এদিন রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত সপ্তাহে ডলারপ্রতি দর ছিল ১২১ টাকা ৪০ পয়সা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কার্বমার্কেটে মার্কিন মুদ্রাটির মূল্য হ্রাস পেয়েছে ১০ পয়সা। তবু বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত দামের চেয়ে তা বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মানিচেঞ্জারগুলো সর্বোচ্চ ১১১ টাকা ১০ পয়সায় ডলার কিনতে পারবে। আর সর্বাধিক ১১২ টাকা ৬০ পয়সায় বিক্রি করতে পারবে তারা।

ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ধার্য করা দামের চেয়ে বেশি দরে ডলার বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এক্সচেঞ্জ মালিকরা দাবি করছেন, তারা বেঁধে দেয়া দরই রাখছেন।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ১১০ টাকা। এই রেটের চেয়ে খোলাবাজারে সর্বোচ্চ দেড় টাকা বেশি দাম রাখা যাবে। গ্রাহক আনিসুল হক বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা করছেন। ফলে ন্যায্য দরে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য এখন একটু কমতির দিকে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আর মাত্র একদিন পরই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর রয়েছে ঈদুল ফিতর। একে ঘিরে পরিবার-পরিজনদের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। তাতে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। তাই ইউএস মুদ্রার দরপতন ঘটেছে।

শর্ত পূরণ ছাড়া অস্ত্রোপচারের অনুমোদন নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের যাবতীয় ব্যাকআপ সাপোর্ট ও শর্তাবলি পূরণ করা ছাড়া অস্ত্রোপচারের অনুমোদন দেয়া হবে না।

সোমবার (১১ মার্চ) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনুমোদন ছাড়া অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, তার দায়দায়িত্ব ওই হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের নিতে হবে। শর্ত পূরণ ছাড়া অস্ত্রোপচারের কোনো অনুমোদন দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে না পারলে মেডিকেল কলেজগুলোতে রোগীর চাপ কোনোদিনই কমবে না। তাই প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে জেলা হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করতে হবে।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, রাজশাহীতে একটি জেলা হাসপাতাল আছে। এটি অত্যন্ত সুন্দর, কিন্তু খালি পড়ে আছে। এই হাসপাতালটি সচল করা হবে। সেখানে জনবলের ঘাটতি আছে, সেগুলোও দেখা হবে।

চিকিৎসকদের ওএসডির বিষয়ে স্বাস্থ্যবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, চিকিৎসকদের ওএসডি কমিয়ে আনার ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে একটি পরিকল্পনা দেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এটি কমে আসবে।

এরআগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনির্মিত আইসিইউ কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করেন। এদিন সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহম্মেদ, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নওশাদ আলীসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ইফতারের আগে বিশেষ ব্যবস্থা : ডিএমপি কমিশনার

আসন্ন রমজান মাসে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিকেলে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অর্থাৎ ইফতারের আগে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, আসন্ন রমজান মাসে আমাদের বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে সব বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ট্রাফিক। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কাজ করছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা দরকার। যারা গাড়ি ব্যবহার করছেন, যারা গাড়িতে চড়ছেন এবং যারা রাস্তার আশপাশে ব্যবসা করছেন তাদের সহযোগিতা দরকার। তা নাহলে ৩০৬ বর্গকিলোমিটার জায়গার ভিতরে যেখানে সোয়া ২ কোটি লোক বসবাস করে সেখানে পুলিশ রাতারাতি ট্রাফিক সমস্যা সমাধান করে দিতে পারবে না। তবে আমরা আশাবাদী সকলে যদি সহযোগিতা করেন তাহলে ট্রাফিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আর পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয়ভাবে ট্রাফিক সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

তিনি বলেন, রাস্তায় যারা সংস্কার কাজ করেন ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ অন্যান্য সংস্থা যে উন্নয়ন কাজ করে থাকেন, তারা রমজান মাসে সকলের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এসব কাজ বন্ধ রাখবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। এসব কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে চিঠি দিয়ে জানাব।

রমজানে মাসে আরও একটি চ্যালেঞ্জ ছিনতাই জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমজানে মাসে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আরও একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিভিন্ন শপিংমল ও রাস্তায় এবং ব্যাংকের সামনে থেকে ছিনতাই। এছাড়া অবৈধ মজুদ করে কৃত্রিমভাবে মূল্য বৃদ্ধি এবং খাদ্যদ্রব্যে ভেজালও রমজান মাসে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে পুলিশ ইতমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানে আমাদের পোশাকদারি ও সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করবে।

তিনি বলেন, রমজানে মানুষজন যেন বাসায় গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ইফতার করতে পারেন সে লক্ষ্য ট্রাফিক পুলিশের, পাশাপাশি ক্রাইম বিভাগও কাজ করবে। বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। একই সময়ে রাস্তায় আমাদের বিশেষ ডিপ্লোমেন্ট থাকবে যাতে করে মানুষ ঘরে গিয়ে ইফতার করতে পারেন। মার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে আমাদের ট্রাফিক ও ক্রাইমের অফিসাররা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবৈধভাবে কেউ রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কেউ যদি কৃত্রিম উপায়ে ও কারসাজি করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে তাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে পুলিশ কাজ করবে।

ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকায় ও রমজানে ছিনতাই প্রতিরোধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ছিনতাই একটা সমস্যা। রমজান মাসে এই সমস্যা সমাধানে একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। পোশাকদারি পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ছিনতাই প্রতিরোধে তারা সবাই তৎপর থাকবে। আমি আশা করি রমজান মাস ও ঈদের পর পর্যন্ত মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করবে।

বেইলি রোডের ঘটনার পর পুলিশ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করেছে। রমজান মাসে পুলিশ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফের বাংলাদেশে আশ্রয় নিল ২৯ বিজিপি সদস্য

মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘিরে ফের বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ২৯ সদস্য।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে তারা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে।

জানা গেছে, ১১ বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ জামছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অংথাপায়া ক্যাম্প থেকে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

বি‌জি‌বির জনসং‌যোগ কর্মকর্তা শ‌রীফুল ইসলাম বলেন, বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধীনস্থ জামছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অংথাপায়া ক্যাম্প থেকে ২৯ জন বিজিপির সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

বি‌জি‌বির এক কর্মকর্তা জানান, তা‌দের বর্তমানে নাইক্ষ‌্যংছ‌ড়ির নুরুল আলম কোম্পানির চা বাগানে রাখা হ‌য়ে‌ছে। সেখান থেকে তাদের নিরস্ত্র করে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা হবে।

এর আগে গেল ফেব্রুয়ারিতে আরাকান আর্মির আক্রমণের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন বিজিপি সদস্যসহ ৩৩০ জন। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়া ইনানী নৌ-বাহিনীর জেটিঘাট থেকে জাহাজে করে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

তেল গ্যাস অনুসন্ধানে ডাকা দরপত্রে সর্বোচ্চ সাড়ার আশা

সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে ডাকা দরপত্রে সর্বোচ্চ সাড়া পাওয়ার আশা করছে সরকার। নতুন দরপত্র আহ্বানের পর সোমবার (১১ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে এই আশার কথা জানানো হয়।

পেট্রোবাংলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন পিএসসি (উৎপাদন বণ্টন চুক্তি) সব দিক থেকে আকর্ষণীয় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পিএসসিতে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশ পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফলে এবারের পিএসসিতে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহি চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগ্রহী কোম্পানিগুলোর ব্যাপক সাড়া পাবো। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করাটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। বেশ কিছু বিষয় যুক্ত করে এটিকে আকর্ষণীয় করা হয়েছে। আগ্রহীদের জন্য ৪ বছরের সার্ভে করার সুযোগ থাকছে। এরপর তারা অনুসন্ধানে যেতে আবার সময় নেবে। যারা এতদিন আগ্রহ দেখিয়েছিল তারা এগিয়ে আসবে বলে আশা করছি। সমালোচনা যারা করেন তাদের মুখে ছাই দিয়ে আমরা আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর একটি ইতিবাচক জায়গা দেখাতে পেরেছি। এই যাত্রা যেন সাফল্যমণ্ডিত হয়।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বহু প্রতীক্ষার পর তেল গ্যাস অনুসন্ধানের প্রাথমিক কাজ আজ থেকে শুরু হলো। ২৪টি ব্লকে আমরা ব্রিডিং শুরু করছি। আমরা চাচ্ছি সারা বিশ্বের বিখ্যাত ও অভিজ্ঞ কোম্পানি যেন এতে অংশ নেয়। ২০১৬ সালে এই কাজ শুরু করেছিলাম। মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে করতে আমাদের তিন বছর চলে গেছে। ১৩ হাজার স্কয়ার কিলোমিটারের ডাটা এখন আমাদের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিযোগিতামূলকভাবে এই ব্রিডিং অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি। রমজানের পর প্রি বিড মিটিং হবে। সেখানে আগ্রহী কোম্পানিগুলো অংশ নেবে।’

সভাপতির বক্তব্যে জ্বালানি সচিব নুরুল আলম বলেন, ‘এবারের পিএসসি গত কয়েকবারের তুলনায় সবচেয়ে আকর্ষণীয়। একমাসের মধ্যে প্রমোশনাল সেমিনার করবো। আগ্রহীদের যদি আলাদা কোনও ডাটা প্রয়োজন হয়, সেটি তাদের আমরা সরবরাহ করবো। সবগুলো দূতাবসে যোগাযোগ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সম্পদ আহরণে মনোযোগ দিতে হবে। শুধু অফশোর না, অনশোরেও তেল গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রেও আমরা বিদেশি কোম্পানিদের আকৃষ্ট করতে চাই।’

স্বাগত বক্তব্যে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, ‘আমরা ৫৫ আইওসির কাছে আহ্বান জানিয়েছি। জমা দেওয়ার ১৮০ দিন পর ৯ সেপ্টেম্বর তা খোলা হবে। দুইটি ডাটা সেন্টার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে করা হয়েছে। সেখানে থেকে ডাটা কেনা যাবে। প্রমোশনাল সেমিনার হবে ঈদের পর।’

তিনি আরও বলেন, ‘৯টি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছি। ইকোনমিকসে বিজ্ঞাপন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রয়্যালিটি দিতে হবে না। তেল পেলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম নির্ধারণ করা হবে। ব্যাংক গ্যারান্টি একেবারে মিনিমাম রাখা হবে। সবচেয়ে আকর্ষণীয়, কষ্ট রিকোভারি ৭৫ ভাগ প্রতি বছর। যদি কোনও ঠিকাদার ড্যামেজ করে তাহলে দায় নিতে হবে।’

কারেন্ট জালের উৎসমূল নির্মূল করতে হবে : মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণী-সম্পদমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহমান বলেছেন, কারেন্ট জাল উৎপাদন হয় বলেই জেলেরা তা ব্যবহারের সুযোগ পায়। তাই কারেন্ট জালের উৎসমূল নির্মূল করতে হবে। কারেন্ট জাল উৎপাদনের খোয়ারগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দিতে হবে।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৪ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, চাঁদপুরে আজ জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের এই অনুষ্ঠানে কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধের দাবি উঠেছে। কোন না কোন ছিদ্রকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশে ইলিশ সম্পদ বিনষ্টকারী কারেন্ট জাল উৎপাদন হচ্ছে। তাই ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সবার আগে কারেন্ট জালের খোয়ারগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দিতে হবে। আর প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা যদি কারেন্ট জালের উৎসমূল যদি বন্ধ করতে পারি, তবে জেলেদের আর এই জাল ব্যবহারের কোন ছিদ্র থাকবে না। যেই ছিদ্র দিয়ে জেলেরা কানেন্ট জাল ব্যবহার করে জাটকা ইলি নিধন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের এই অনুষ্ঠান মূলত একটি সচেতনতামূলক সামাজিক ক্যাম্পেইন। যার মূল লক্ষ্যই হলে মানুষকে জাগ্রত করা। শুধুমাত্র প্রশাসন দিয়ে জাটকা নিধন বন্ধ করা যাবে না। মানুষকে জাগ্রত করতে হবে। এটি যদি আমরা করতে পারি, তাহলে এই ভরাযৌবনের চাঁদপুর আবারো ইলিশের যৌবনে ভরে যাবে। যা স্মার্ট- বাংলাদেশ গড়ার বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

মৎস্য ও প্রাণী-সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব মোহাৎ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, মৎস্য ও প্রাণী-সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শ.ম রেজাউল করিম এমপি, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর প্রমুখ।

নিত্যপণ্যের দামের একটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছি : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাজারে নিত্যপণ্যের দামের মধ্যে একটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, ‘আমরা একেবারে কাঁচাবাজারে যাচ্ছি। ভোক্তা এবং রিপোর্টারদের সঙ্গে কথা বলছি। মিলের মালিকদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। খুচরা বাজারেও যাচ্ছি।’

সোমবার সকালে রাজধানীর শান্তিনগর বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা কোথায়, সবাই কিন্তু যেখানে যাচ্ছি। সেটাই খোঁজার চেষ্টা করছি। মিল মালিক, হোলসেল সবার কিছু চাওয়া পাওয়া আছে। যখনই তাদের কাছে যাচ্ছি, তারা চাওয়া-পাওয়ার কথা বলছেন।’

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ, ‘বাজার থেকে কেউ রশীদ ছাড়া পণ্য কিনবেন না। আমরা কারওয়ান বাজারসহ সকল পাইকারি মার্কেটকে বলব, আপনারা রশীদ ছাড়া কোনো মালামাল বিক্রি করবেন না। তাহলে আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন যে সরবরাহ সেখানে সমস্যা হয়।’ তিনি জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি আমাদের এই জিনিসগুলো বাস্তবায়ন করতে। এরপর আমরা কঠোর হতে একটুও পিছপা হবো না।’

রমজানকে কেন্দ্র করে যেসব পণ্যের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে সেসব পণ্যের সাপ্লাই চেন কোথায় থেকে আসে সেগুলো বেশি তদারকি করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কোন জায়গা থেকে পণ্যটি রাজধানীর বাজারে আসে, কার মাধ্যমে আসে, সেই বিষয়গুলো শান্তিনগর বাজার পরিদর্শন করে তদারকি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রমজানকেন্দ্রিক যে পণ্যের চাহিদা থাকে সেই চাহিদাটির আসলে ঘাটতি কোথায় তা খুঁজতে সরেজমিনে গিয়েছি।’

রশীদ ছাড়া পণ্য ক্রয়-বিক্রয় না করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোন পণ্যের দাম কত হওয়া উচিত তা নিশ্চিত করতে হবে। তেলের শুল্ক কমানো হলেও বাজারে তা বাস্তবায়নে ঘাটতি আছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব মিল ১৬৩ টাকায় সয়াবিন তেল বাজারে দেয়নি তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আহসানুল ইসলাম টিটু সাফ জানিয়ে দেন, ‘ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদেরও লাইসেন্স দেওয়া হবে। বিকল্প ব্যবস্থা করে মৌসুমী বা এক রাতের ব্যবসায়ীদের আর ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।’

অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়ে যা বললেন তামিম

গত বছর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলে হঠাত করেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন তিনি।

এদিকে তামিমের অবসর এবং সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পর বিশ্বকাপে দেশসেরা এই ওপেনার খেলবেন কি না তা নিয়েও জলঘোলা হয়েছে অনেক। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে ছিলেন না তামিম। বাংলাদেশের হয়ে তিনি সবশেষ মাঠে নেমেছিলেন বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজে।

বিশ্বকাপের পর বিপিএল দিয়েই আবার মাঠে ফিরেছেন তামিম। এবারের টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে সবথেকে বেশি রান করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর অধিনায়কত্বেই প্রথমবারের মত বিপিএল শিরোপ জিতে বরিশাল। এতে এবারের আসরে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন দেশসেরা এই ওপেনার।

ব্যাট হাতে সফল একটি টুর্নামেন্ট পাড়ি দেয়ার পর স্বভাবতই ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, আবার কবে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন তামিম। তবে দেশসেরা এই ওপেনার নিজেই জানিয়েছিলেন যে তাকে আবার মাঠে ফেরাতে হলে বেশ কিছু বিষয় ঠিক করতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, বিপিএল শেষ করেই দেশের বাইরে যাচ্ছেন তিনি। সেখান থেকে ফিরেই বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি।

এদিকে সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তামিম। চন্ডিকা হাথুরুসিংহে প্রধান কোচ থাকলে তামিম ফিরবেন কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে দেশসেরা এই ওপেনার বলেন, ‘আমার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা খুব ডিফিকাল্ট।’

অবসর থেকে ফিরে বিশ্বকাপের আগে তাঁর অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়ে কেউ জানতেন না এমন কথার জবাবে তামিম বলেন, ‘আমার সাথে পাপন ভাই, জালাল ভাইয়ের দেড় ঘন্টা মিটিং হয়েছে। আমি সব কিছুই বলেছি যে আমি কেমন অনুভব করি এসব। ইনজুরিও একটা কারণ ছিল। এশিয়া কাপের আগেও সভাপতি, ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে।’

এরপরই তামিম বলেন, ‘টিম এবং টিম ম্যানেজম্যান্ট থেকেও কয়েকবার আমাকে অনেকটা থ্রেটই দেয়া হয়েছে যে এরকম হলে আমরা অন্য ক্যাপ্টেন দেখবো। এসব নিয়েই আমি হ্যাপি ছিলাম না, এসব বলতেও পারবো না মিডিয়ায়।’

আইসিটি সেক্টরের সুবিধা এখন দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছেছে : প্রতিমন্ত্রী

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁদের দিক নির্দেশনায় আইসিটি সেক্টরের সুবিধা পৌঁছে গেছে দেশের প্রতিটি ঘরে। ১৫ বছরে আইসিটি সেক্টরে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির পক্ষে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে ১৫ বছর আগে আমাদের মন্ত্রণালয়ের প্রথম কাজ ছিল। পরবর্তীতে সুলভ মূল্য সবাইকে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া, ডিজিটাল সরকার ও আইসিটি শিল্পের উন্নয়ন করা। সে সময় আমাদের যেখানে আইটি খাতে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ১.৯ বিলিয়ন ডলার। আমরা নতুন ইনুভেটিবস সলিউশন করতে চাই এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ সময় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হোসেন রেজা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র প্রমূখ।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ১৬৩৯ জন গ্র্যাজুয়েট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী এ সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।