শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

প্রকাশ পেল ‘রাজকুমার’-এর ফার্স্ট লুক

সবাইকে চমক দিয়ে শাকিবের ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছে ‘রাজকুমার’-এর ফার্স্ট লুক। পোস্টারে দেখা যাচ্ছে শাকিব আনমনে তাকিয়ে আছেন। সেখানে স্থান পেয়েছে আমেরিকার স্ট্যাচু অব লিবার্টি।

বুধবার (২০ মার্চ) গুলশান ক্লাবে আয়োজন করা হয় ইফতার মাহফিলের। অনুষ্ঠানে ‘রাজকুমার’র প্রযোজক আরশাদ আদনান ঘোষণা করেন, বিশ্বের সর্বোচ্চ বহুতল ভবন বুর্জ খলিফায় উদ্‌যাপন করা হবে শাকিব খানের এবারের জন্মদিন।

আগেই ধারণা করা হচ্ছিল ঢালিউড কিংয়ের জন্মদিন এবার খুব জমকালো হবে। তেমনটাই জানা গেল। শাকিবের জন্মদিন (২৮ মার্চ) আসছে ‘রাজকুমার’র চমক। আর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি কোনো সিনেমা দেখা যাবে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনে।

তবে এ বিষয়ে দুবাইভিত্তিক এক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, বুর্জ খলিফায় এক থেকে তিন মিনিটের একটি সিনেমা কিংবা বিজ্ঞাপন প্রচারে খরচ হয় আড়াই লাখ দিরহাম থেকে প্রায় এক মিলিয়ন দিরহাম পর্যন্ত। যা বাংলাদেশি টাকায় এই অংকটা প্রায় ৭০ লাখ থেকে শুরু করে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে ‘রাজকুমার’ সিনেমার শুটিং শুরু হয়। আরশাদ আদনান প্রযোজিত ‘রাজকুমার’ সিনেমাটি পরিচালনা করছেন হিমেল আশরাফ। ঈদে মুক্তি পাবে বিগ বাজেটের এ সিনেমাটি। এতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন মার্কিন অভিনেত্রী কোর্টনি কফি।

রাউফের ক্ষমা মঞ্জুর করেছে পিসিবি

পাকিস্তানি পেসার হারিস রাউফকে কয়েকদিন আগেই পড়তে হয়েছিল শাস্তির মুখে। বাদ পড়েছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে। মূলত দেশের হয়ে টেস্ট না খেলে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে খেলতে যাওয়ায় শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। কিন্তু সেই ঘটনায় ক্ষমা পেয়েছেন রাউফ।

মূলত বিশ্বকাপের পরেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলতে অস্বীকার করেছিলেন রউফ। বলেছিলেন টেস্ট খেলার মতো পরিশ্রম করতে পারবেন না। যদিও একইসময়ে বিগব্যাশে ঠিকই গতির ঝড় তুলেছিলেন তিনি। এরপরেই ছিল নিউজিল্যান্ড সফর। সেখানেই বাদ পড়েন তিনি।

হারিসের লিখিত ক্ষমা পিসিবিতে জমা পড়লে পাকিস্তান ক্রিকেটের বোর্ড কর্তা মহসিন নাকভি জানান, একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। সেই বিবেচনাতেই ফিরছেন হারিস। পাকিস্তানি এই ফাস্ট বোলারকে নিয়ে নাকভি বলেন, ‘রউফ আমাদের কাছে লিখিত ভাবে ক্ষমা চেয়েছে। সেই চিঠি পাওয়ার পর আমরা ওকে বোর্ডের চুক্তিতে ফিরিয়ে নিচ্ছি। পাকিস্তান সুপার লিগে খেলার সময় ও চোট পেয়েছে। রউফের চিকিৎসার দায়িত্ব আমাদের। ওকে দ্রুত সুস্থ করতে হবে। ’

যদিও পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত কেবল একটিই টেস্ট খেলেছেন হারিস রউফ। এবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফেরার পর আবার তিনি টেস্ট খেলেন কি না সেই দিকে নজর থাকবে।

কিছুদিন আগেই জাতীয় দলে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবসর ভেঙেছেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম। এদিকে আরেক পেসার মোহাম্মদ আমিরও তার অবসর ভেঙে ফিরেছেন। আগামী টি২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অবসর ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন আমির।

১০ বিশিষ্টজনের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের হাতে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পদক তুলে দেন সরকারপ্রধান।

এবার ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’ ক্ষেত্রে তিনজন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ ক্ষেত্রে একজন, চিকিৎসাবিদ্যায় একজন, সংস্কৃতিতে একজন, ক্রীড়ায় একজন এবং সমাজসেবায় তিনজনকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ এই পদকে ভূষিত করা হয়।

এবার পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে কাজী আব্দুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. ফজলুল হক (মরণোত্তর) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু নঈম মো. নজিব উদ্দীন খাঁন (খুররম) (মরণোত্তর)। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ ক্যাটাগরিতে ড. মোবারক আহমদ খান, চিকিৎসাবিদ্যায় ডা. হরিশংকর দাশ‌। সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এবং ক্রীড়ায় ফিরোজা খাতুন। ‘সমাজসেবা/জনসেবা’ ক্যাটাগরিতে অরন্য চিরান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী এবং এস এম আব্রাহাম লিংকন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ভুটানের রাজার শ্রদ্ধা

রাজধানীর ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক।

আজ সোমবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এরপর সেখানে তাকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি রাজধানীর ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সকালে ঢাকায় আসেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক। রাজার সঙ্গে রানি এবং রাজ পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে এসেছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল বন্ধুরাষ্ট্র ভুটান। সময়ে-অসময়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আবারও এলেন বাংলাদেশে। প্রায় এক যুগ পর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ভুটানের রাজা।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক চার দিনের বাংলাদেশ সফর এসেছেন মূলত স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে। এর পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকটি বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।

এই সফরে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভুটানের রাজা। স্বাক্ষর হতে পারে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগসহ অন্তত তিনটি সমঝোতা স্মারক।

৮০০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিতে রাজি ইসরায়েল

গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধে আন্দোলন হামাসের হাতে আটক বন্দীদের মুক্ত করতে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হামাসের হাতে থাকা ৪০ জন ইসরায়েলি বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে ইসরাইল তাদের কারাগারে আটক ৭০০ থেকে ৮০০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে।

প্রস্তাবটি হামাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হামাস তিন দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে জবাব দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্যারিস শান্তিচুক্তির কাঠামো অনুযায়ী হামাসের হাতে আটক ৪০ বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে ৪০০ ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দীকে মুক্তির কথা বলা হয়েছিল। ইসরায়েল এখন ওই সংখ্যার দ্বিগুণ বন্দীকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে।

এদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আরও দুটি হাসপাতাল অবরোধ করেছে ইসরায়েলি সেনারা। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলছে, হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসাকর্মীরা আটকা পড়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করছে, গাজার হাসপাতালগুলোকে নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে হামাস গোষ্ঠী। তবে হামাস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ।

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। এই বাংলাদেশের একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না, ঠিকানাবিহীন থাকবে না। প্রতি ঘরে ঘরে আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। শিক্ষার হার বৃদ্ধি করেছি, দারিদ্রের হার কমিয়ে এনেছি, উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

আজ সোমবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৪ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ আমাদের স্বাধীনতার মাস। এই মাসেই তিনি জন্ম নেন। আবার এই মাসেই তিনি সেই ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন। যা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রু মোকাবিলা করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় এনে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, যে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেই স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার হবে না, এমন আইন করে হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ উল্টোপথে যাত্রা শুরু করে। যেই জাতি যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে, সেই বিজয়ের কথা মাথা উঁচু করে তারা বলতে পারেনি, এমন একটা পরিবেশ তখন বিরাজমান ছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে যে মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতায় এসেছিল, তারাও এ দেশে একাত্তরের মতোই গণহত্যা চালিয়েছিল। আমাদের সেনা অফিসারদের একের পর এক হত্যা করা হয়েছে। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং এরপরে নির্বাচনী প্রহসন, দল গঠন, দল ভাঙন। নানান ধরনের খেলা ২১টি বছর আমাদের ওপর চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫’র পর স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। যে জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল সেই স্লোগানকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, জাতির পিতার ৭ই মার্চের ভাষণও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সে সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের এবং সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার গঠনের পর আবারও হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ। এখন ৭ই মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, জয় বাংলা স্লোগান জাতীয় স্লোগান হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু রাষ্ট্রটি দেননি, বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেই পথরেখাও তিনি দেখিয়েছেন। আবার বঙ্গবন্ধুর কারণে স্বাধীন বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে বসেনি ভারত। যে উদ্দেশ্যে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য ও হারানো গৌবর ফিরিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ।

এ সময় বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারী ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে সারা বিশ্বেই। তবুও আমাদের দেশের মানুষের যেন সমস্যা না হয় সেজন্য এই রমজান মাসে আমরা বিনা পয়সায় খাদ্য বিতরণ করছি। আমরা ইফতার পার্টি বাদ দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে আহবান জানিয়েছি যে, ইফতার পার্টি না করে ইফতার সাধারণ মানুষের মাঝে বণ্টন করতে। ইফতার পার্টি খাওয়াটা বড় কথা নয়, মানুষকে দেওয়াটাই বড় কথা। এভাবেই আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের লক্ষ্য আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে, ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলে, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গঠনে আমার এগিয়ে যাবো। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, এটাই আমাদের নীতি। তারপরও দেশে কিছু মানুষ আছে যারা আগুন সন্ত্রাস করে, অগ্নিসন্ত্রাস না করে, তাদের সুমতি হোক সেটাই চাই আমরা।

এর আগে, অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১০ বিশিষ্টজনের হাতে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৪’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে কাজী আব্দুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. ফজলুল হক (মরণোত্তর) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ আবু নঈম মো. নজিব উদ্দীন খাঁন (খুররম) (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ড. মোবারক আহমদ খান, চিকিৎসাবিদ্যায় ডা. হরিশংকর দাশ, সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, ক্রীড়ায় ফিরোজা খাতুন, সমাজ বা জনসেবায় অরন্য চিরান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী ও এসএম আব্রাহাম লিংকন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়ে আসছে। এটি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা।

অবশেষে বিজেপির টিকিট পেলেন কঙ্গনা

মোদিভক্ত হিসেবে পরিচিত বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতকে এবার পুরস্কার দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পঞ্চম প্রার্থী তালিকায় চমক হিসেবে নাম রয়েছে তার।

রোববার রাতে পঞ্চম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আনে বিজেপি। এতে দেখা যায়, হিমাচলের মান্ডি কেন্দ্র থেকে পদ্মফুলের হয়ে লড়াইয়ের সুযোগ পেয়েছেন কঙ্গনা।

টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বিজেপির সমর্থনে কথা বলতে দেখা গেছে কঙ্গনাকে। তখন থেকেই অনেকেই অনুমান করেছিলেন হয়তো রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন তিনি। অবশেষে সেই জল্পনা সত্যি হল।

গত কয়েক বছর ধরে কঙ্গনা যত না পর্দায় ছিলেন, তার চেয়ে বেশি ছিলেন সমাজমাধ্যমে। কঙ্গনাকে নিয়ে তেমনটাই বলে থাকেন নিন্দুকেরা। বলিউডের কে কোথায় কী করেছেন, কী বলছেন সবই প্রায় তার নজরে থাকে। জানার পর যে মুখে কুলুপ আঁটেন কঙ্গনা, তা-ও নয়। সেই বিষয়টি নিয়ে সরব হন।

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় দক্ষতা দিয়ে আলোচনায় না আসলেও বেফাঁস মন্তব্য করে বরাবরই আলোচনায় ছিলেন কোকড়া চুলের এই অভিনেত্রী। এমনকি তার সমালোচনা থেকে রক্ষা পাননি পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে মিশনগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ভয়াল ২৫ মার্চ, ‘গণহত্যা দিবস’। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড চালায়। বাঙালির মুক্তি আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে কাপুরুষের দল সেদিন নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, এ গণহত্যায় শহীদ হন ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন বাহিনী-বিশেষ করে পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর সদস্যসহ নানা শ্রেণীপেশার অগণিত মানুষ।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এ দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটি বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে ত্রিশ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগের মহান স্বীকৃতির পাশাপাশি তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর নির্মম গণহত্যার বিরুদ্ধে চরম প্রতিবাদের প্রতীক।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ২৫ মার্চ কালরাতের নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর হাতে নির্মম গণহত্যার শিকার সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থকসহ দেশের জনগণকে, যাদের অসামান্য অবদান ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি প্রিয় স্বাধীনতা।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সরকার গঠনে আহ্বান জানানোর পরিবর্তে তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী সেই নির্বাচনে বিজয়ী শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে এবং প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনায় বসলেও বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পর্দার অন্তরালে গণহত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলুচিস্তানের কসাই হিসেবে খ্যাত জেনারেল টিক্কা খানকে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালায় এ কথা উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিযানটি পরিচালনার মাধ্যমে তারা স্বাধীনতাকামী ছাত্রজনতার প্রতিরোধকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। এর ব্যাপ্তি ছিল ঢাকাসহ সারাদেশ। হায়েনার দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, পিলখানাসহ (বর্তমানে বিজিবি সদর দপ্তর) যশোর, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সৈয়দপুর, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রামে একযোগে গণহত্যা চালায়। বিশ্বের সব গণমাধ্যমেই গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায় এ গণহত্যার খবর। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার আগেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান, যার পথ ধরে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন নয় মাসে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ত্রিশ লাখ মানুষ এবং নির্যাতিত হন দুই লাখ মা-বোন। হত্যা-নিপীড়নের ভয়াবহতায় এক কোটি বাঙালি আশ্রয় নিয়েছিল প্রতিবেশী দেশ ভারতে।

তিনি বলেন, একাত্তরের বীভৎস গণহত্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বমানবতার ইতিহাসেও একটি কালো অধ্যায়। এমন গণহত্যা আর কোথাও যাতে না ঘটে, গণহত্যা দিবস পালনের মাধ্যমে সে দাবিই বিশ্বব্যাপী প্রতিফলিত হবে।

তিনি ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের যে সব দেশে এখনো গণহত্যা হচ্ছে তার নিন্দা করে বিশ্বব্যাপী গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলেছে উন্নতি আর সমৃদ্ধির পথে এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প ২০৪১’ ঘোষণা করেছেন। তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর অবদান রাখার আহ্বান জানান।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করার মধ্য দিয়েই আমরা একাত্তরের গণহত্যায় জীবনদানকারী প্রতিটি প্রাণের প্রতি জানাতে পারি আমাদের চিরন্তন শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব রকম বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদারবাহিনী বাংলাদেশে বিশ্বের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করি কালরাতে আত্মোৎসর্গকারী সেই সব শহিদদের, যাদের তাজা রক্তের শপথ বীর বাঙালিদের অস্ত্রধারণ করে স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধ ও সংঘাত চাই না, নর-নারী-শিশু হত্যা আমাদের তীব্রভাবে ব্যথিত করে। আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। টেকসই শান্তি বিরাজমান থাকলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তির নীতি অনুসরণ করি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করেছিলেন এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্য পুরো জাতিকে প্রস্তুত করেছিলেন। জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ’৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু, পাক-সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে। বৈঠকের মাধ্যমে সময় ক্ষেপণ করে নিরস্ত্র বাঙালি নিধনের উদ্দেশ্যে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ২ মার্চ থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন; ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করেন এবং ১৫ মার্চ থেকে ৩৫ দফা নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশ সারা পূর্ব-বাংলায় অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সকল প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁর আদিষ্ট পথেই পরিচালিত হতে থাকে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইয়াহিয়ার শাসন সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। ইয়াহিয়া-ভুট্টো বারবার সমঝোতার প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে অটল থাকেন। ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে সারাদেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই ইয়াহিয়া গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। মধ্য রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা সাঁজোয়া ট্যাঙ্ক নিয়ে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ পরিচালনা করে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করতে শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, বাঙালি পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের হত্যা করতে থাকে। ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করে। এর অব্যবহিত পূর্বেই জাতির পিতা স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা বার্তা লিখে যান- ‘ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। —চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। ’-যা প্রথমে ইপিআর এর ওয়্যারলেস মাধ্যমে প্রচারিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে এই বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানিরা বন্দি নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-এর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়; এমনকি তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করে। ১৩ জুন পাকিস্তানি সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সানডে টাইমস’ পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘জেনোসাইড’ শিরোনামে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানিদের নির্মম বর্বরতার বাস্তবচিত্র নির্ভর একটি বিস্তারিত নিবন্ধ প্রকাশ করলে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ত্বরান্বিত হয়। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়, ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারায় এবং গোটা দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির পিতা, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের নির্জন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর প্রাণাধিক প্রিয় স্বাধীন মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। শূন্য হাতে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সহায়তা নিয়ে ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসন করেন, অবকাঠামো পুনঃস্থাপন ও উন্নয়ন করেন এবং উৎপাদন খাত ও অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি প্রদান করে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, ’৭১-এর পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট আরেক কালরাতে ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাতে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শাহাদাতবরণ করেন। খুনি মোস্তাক-জিয়া ও তাদের উত্তরসূরিরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশে স্বৈরশাসন কায়েম করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ২৫ মার্চে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কুশীলব, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধী এবং জাতির পিতার খুনিদের মহান সংসদে বসিয়ে এবং তাদের গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের পবিত্র পতাকা তুলে দিয়ে বাঙালি জাতির গর্বিত ইতিহাসকে কলঙ্কিত করে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ জনগণের বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর আমরা জাতিসংঘের গণহত্যাবিরোধী কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করি। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শান্তির সংস্কৃতির ওপর রেজুল্যুশন গ্রহণের প্রস্তাব করি, যা ১৯৯৯ সালে গৃহীত হয়। সে অনুযায়ী জাতিসংঘ ২০০০ সালকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তির সংস্কৃতির বর্ষ’ এবং ২০০১-২০১০ সময়কে ‘শান্তির সংস্কৃতি এবং অহিংস দশক’ ঘোষণা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৮ সাল থেকে সবকটি নির্বাচনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে গত ১৫ বছরের বেশি সময় একটানা তাঁদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করছি। এরই মধ্যে আমরা ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছি, ফলে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ হয়েছে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম : নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড এ ফরগটেন জেনোসাইড’ -শীর্ষক গ্রন্থে তৎকালীন ঢাকাস্থ আমেরিকার কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড-এর স্টেট ডিপার্টমেন্টে লেখা নিয়মিত প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের পরিচালিত বর্বরতম গণহত্যার ভয়াল চিত্র উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, আমরা ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছি। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে গণহত্যা এড়াতে ভীত-সন্ত্রস্ত ১১ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছি। বিশ্বের যেকোনো স্থানে সংঘটিত গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। আমরা ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছি; ভবিষ্যত প্রজন্ম এই পরিকল্পনাকে সময়োপযোগী করে বাস্তবায়ন করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

আজ রাতে ১ মিনিট অন্ধকারে থাকবে দেশ

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে এক মিনিট অন্ধকারে (ব্ল্যাক আউট) থাকবে সারাদেশ। যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালনের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন রাত ১১টা থেকে ১১টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে। তবে কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনাসমূহ এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

শনিবার (২৩ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে- ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সকাল সাড়ে ১০টায় গণহত্যা দিবসের ওপর আলোচনাসভা। সারা দেশে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গীতিনাট্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ ছাড়া স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কণ্ঠে ২৫ মার্চ গণহত্যার স্মৃতিচারণ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে গণহত্যার ওপর দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এদিন বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময় দেশের সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়গুলোতে প্রার্থনা করা হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতটি ছিল ভয়াবহতম একটি রাত। মানব ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যায় সেই কালরাতে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী মেতেছিল উল্লাসে। ঢাকা শহর হয়েছিল ধ্বংসস্তূপ। এত বছর পেরিয়ে গেলেও এমন আতঙ্কের রাত আর আসেনি ২৫ মার্চে।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিচালিত পরিকল্পিত গণহত্যার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে বাঙালির জাতীয়তাবাদী, স্বাধিকার আন্দোলনকে সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে দমন করতে চেয়েছিল তারা।

এ গণহত্যা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের আদেশে পরিচালিত, যা ১৯৭০ এর নভেম্বরে সংঘটিত ‘অপারেশন ব্লিটজ’-এর পরবর্তী সামরিক আক্রমণ।