শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩১

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৭৭৬ পিস ইয়াবা, ১০৬ গ্রাম হেরোইন, ২৬ কেজি ২১০ গ্রাম গাঁজা, ১৭.৫ লিটার দেশি মদ, ৩ গ্রাম আইস, ৩০ পিস ইনজেকশন ও ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, ডিএমপির নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৩টি মামলা রুজু হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৩২ হাজার ৩৩৩ জনে। এ ছাড়া গত অক্টোবর থেকে চলা এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে ৩২ হাজার ৩৩৩ জনে পৌঁছেছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ১০৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং বর্বর হামলায় আরও ১৭৬ জন আহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এতে করে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩২ হাজার ৩৩৩ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭৪ হাজার ৬৯৪ জন মানুষ।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

আইএসই কনসার্ট হলে হামলা চালিয়েছে : পুতিন

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটই (আইএস) মস্কোর কাছের কনসার্ট হলে শুক্রবার প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে, সোমবার এ কথা স্বীকার করে নেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তবে তিনি এ-ও বলেন, ওই হামলায় ইউক্রেন এবং কিইভও লাভবান হয়েছে এবং হামলার পেছনে কিইভের ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে।

গত শুক্রবার ক্রোকাস সিটি হলে একটি কনসার্ট আয়োজনে গান শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে চার বন্দুকধারী সেখানে বন্দুক হাতে হামলা চালায়। তারা প্রথমে দর্শকদের দিকে এলোপাড়াতি গুলি ছোড়ে, তারপর পেট্রোল ঢেলে হলে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১৮২ জন।

হামলার পরপরই ইসলামিক স্টেট দায় স্বীকার করে টেলিগ্রামে বার্তা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকেও ইসলামিক স্টেটের আফগানিস্তান শাখা আইএসআইএস-কে এই হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়। রোববার ফ্রান্সও নিজেদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইএসআইএস-কে ই মস্কোর কনসার্ট হলে হামলা চালিয়েছে বলে জানায়।

রাশিয়া অবশ্য শুরু থেকেই হামলার পেছনে আইএসআইএস থাকার বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এসেছে। বরং দেশটি হামলার সঙ্গে ইউক্রেইনের যোগসূত্রিতা খোঁজার চেষ্টা করেছে। তারা বলেছে, চার হামলাকারী কনসার্ট হলে হামলার পর ইউক্রেইন সীমান্ত দিয়ে রাশিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তের কাছ থেকে চার সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আটক করে।

তবে সোমবার টেলিগ্রামে এক পোস্টে পুতিন লেখেন, ‘আমরা জানি যে এই অপরাধটি কট্টর ইসলামপন্থিদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। যারা এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী যে মুসলমানরা শতাব্দী কাল ধরে লড়াই করে যাচ্ছে।’

পুতিন তার পোস্টে সরাসরি ইসলামিক স্টেটের নাম নেননি। তবে তিনি তার আগের ধারণা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, হামলাকারীরা ইউক্রেইনে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে ‘যেগুলোর উত্তর খুঁজে বের করতে হবে’।

প্রশ্ন উঠেছে, এই হামলা থেকে কে লাভবান হয়েছে? নব্য-নাৎসি কিইভ সরকার, যারা ২০১৪ সাল থেকে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছে, তারা আমাদের ক্ষতি করার যে একের পর এক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই নৃশংসতার সঙ্গে হয়তো তার সম্পর্ক রয়েছে।

‘আমরা জানি কার হাতে রাশিয়া এবং রুশ জনগণের বিরুদ্ধে এ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তবে কে এর আদেশ দিয়েছে আমরা তাকেও খুঁজে বের করতে আগ্রহী।’

পুতিনের এই পোস্টের জবাবে সোমবার রাতে নিজের নিয়মিত ভিডিও বার্তায় ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ক্রেমলিনের নেতার কাছে তিনি নিজে ছাড়া বাকি সবাই সন্ত্রাসী। অথচ তিনি দুই দশক ধরে সন্ত্রাসের ওপর ভর করে চলছেন। তিনি যখন চলে যাবেন তখন সন্ত্রাসবাদ এবং নৃশংসতাও তার সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যাবে।’

গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

গাজায় ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার আগের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এবার তারা প্রস্তাবে ভেটো দেয়নি।

প্রস্তাবে সব জিম্মিকে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও উল্লেখ করা হয়েছে।

অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অচলাবস্থায় ছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বানে সম্মত হতে ব্যর্থ হয় সংস্থাটি।

গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে দেশটির মিত্র ইসরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা মতবিরোধের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গাজায় বেড়ে চলা নিহতের সংখ্যা নিয়ে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সমালোচনা করেছে। ইসরায়েলের হামলায় এপর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ত্রাণ বিতরণের জন্য আরও পদক্ষেপ নিতে জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিয়েছে। কারণ গাজাবাসী তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এদিকে ইসরায়েলকে ত্রাণ সহায়তায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। কিন্তু ত্রাণ বিতরণে ব্যর্থতার জন্য পাল্টা জাতিসংঘকেই দায়ী করেছে ইসরায়েল।

গাজা শাসনকারী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালানোর পর ৭ অক্টোবর থেকে যুদ্ধ শুরু হয়। ৭ অক্টোবরের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয় এবং ২৫৩ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বচ্চন পরিবারে অশান্তির গুঞ্জন, দোলে কীভাবে কাটালেন ঐশ্বরিয়া-অভিষেকরা

অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে বিশ্বসুন্দরীর ঘর ভাঙার জল্পনা ফিরে ফিরে এসেছে। তবে রঙের দিনেই প্রকাশ্যে এল সত্যিটা।

বলিউড তারকা দম্পতি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনের সংসারে অশান্তি- এমন গুঞ্জন বহুদিন ধরে শোনা যাচ্ছে। অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার ঘর ভাঙার জল্পনা শোনা গেছে।

তবে এসব নিয়ে একেবারেই চুপ ছিলো বচ্চন পরিবার। এবার দোলের দিনই প্রকাশ্যে এল সত্যিটা। যেন সব স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক-ঐশ্বর্যা-জয়ারা।

বচ্চনদের বাড়ির হোলির বেশ নামডাক ছিল এক সময়ে বলিউডে। তবে গত কয়েক বছর ধরে পরিবারের সবাই একজোট হয়েই এই দিনটা উদ্‌যাপন করেন তারা। বাইরের অতিথিরা খুব একটা থাকেন না। অনেকেই ধন্দে ছিলেন এ বছরটা কী হয় সেই নিয়ে। এবার পরিবারের সবাই মিলে হোলিকা দহন করলেন তাঁরা।

হোলিকা দহন অনুষ্ঠানের ঝলক উঠে এসেছে অভিষেকের বোনের মেয়ে নব্যা নন্দার সামাজিক মাধ্যমে। সাদা সালোয়ারে নব্যা কপালে আবির মেখেছেন। মামা অভিষেকের কপালে আবির ছুঁইয়ে হোলির উৎসবে মাতলেন শ্বেতা-কন্যা।

শ্বেতার পোস্টের একটি ছবিতে ঐশ্বরিয়ার এক ঝলক দেখা মিলেছে। কিন্তু মামিমার সঙ্গে কোনও ছবি পোস্ট করেননি নব্যা। বরং খানিক দূরেই ছিলেন।

এদিন ঐশ্বরিয়াকে দেখা গেল সাদা কুর্তায়, তার কপালও আবিরে রাঙা। গোলাপি রঙের সালোয়ার কামিজ আর সাদা ওড়না গলায় জড়িয়ে পুজো সারলেন জয়া। নব্যা যে ছবি পোস্ট করেছেন তাতে এক ঝলক দেখা মিলেছে শ্বেতারও। তবে কি হোলিকা দহনের দিনেই তিক্ততা কাটিয়ে ফের এক হলেন তারা!

ভেটো না দেওয়ায় নেতানিয়াহুর দলের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব। এই প্রস্তাব পাস হওয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল তাদের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছে। মূলত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাদের এই সফর বাতিল করিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এই তথ্য নিশ্চিত করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়। এই ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দেশের একটি শীর্ষ প্রতিনিধি দলের আনুষ্ঠানিক সফর বাতিল করেছেন।

এর আগে সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পবিত্র মাস রমজানে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস করে। পবিত্র এই মাসটি মধ্যপ্রাচ্যে গত ১১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল শেষ হতে পারে।

এদিকে কাউন্সিলের ১০ জন নির্বাচিত সদস্যের উপস্থাপিত এই রেজোলিউশনের পক্ষে ১৪টি দেশ ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত ছিল। এছাড়া প্রস্তাবটির বিপক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপন বা ভেটো ক্ষমতার প্রয়োগ করেনি পরাশক্তি এই দেশটি।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল করেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রেজুলেশন পাসের অনুমতি দেওয়ার মার্কিন এই সিদ্ধান্ত ‘যুদ্ধের শুরু থেকে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট পশ্চাদপসরণ। ’

অবশ্য ওয়াশিংটন জাতিসংঘের প্রস্তাবে ভেটো দিতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এর আগেই প্রতিনিধিদলের সফর বাতিল করার হুমকি দিয়েছিলেন। গাজায় সম্প্রসারিত মানবিক সহায়তার জন্য মার্কিন প্রস্তাবের পাশাপাশি দক্ষিণ গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরে ইসরায়েলের পরিকল্পিত স্থল হামলার বিষয়ে বিকল্পগুলো শুনতে ইসরায়েলি এই প্রতিনিধিদলের ওয়াশিংটন সফর করার কথা ছিল।

এদিকে জাতিসংঘের ভোটের পর প্রতিনিধিদলের সফর বাতিলে ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ বলে জানিয়েছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনের কো-অর্ডিনেটর জন কিরবি এ ঘটনা জানান।

পরিবারসহ ডি মারিয়াকে হত্যার হুমকি

স্বদেশের ক্লাব রোজারিও সেন্ত্রালে ফিরতে পারেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। এমন গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। সেই রোজারিওতেই এবার আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ডার ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। চিরকুটে বার্তা পাঠিয়ে এই তারকাকে রোজারিওতে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে।

রোজারিও সেন্ত্রালের হয়ে ২০০৫ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন ডি মারিয়া। সেখান থেকেই তিনি পাড়ি জমান ইউরোপে। বেনফিকা থেকে রেয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি, জুভেন্টাস হয়ে গত জুলাইয়ে ফের বেনফিকায় ফেরেন তিনি। পর্তুগিজ ক্লাবটির সঙ্গে ৩৬ বছর বয়সী তারকার চুক্তি আছে আগামী জুন পর্যন্ত। এরপর তিনি রোজারিও সেন্ত্রালে ফিরতে পারেন বলে গুঞ্জন আছে।

দেশে গেলে ডি মারিয়া যেখানে থাকেন, রোজারিওর সান্তা ফে প্রদেশের সেই বাড়ির দরজায় সোমবার ভোরে কালো প্লাস্টিকের একটি ব্যাগ ছুড়ে দেওয়া হয় গাড়ি থেকে। যেটির তদন্ত শুরু করেছে সান্তা ফে পুলিশ।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যাগের ভেতর চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আপনার ছেলে অ্যাঙ্গেলকে বলুন, যেন রোজারিওতে আর ফিরে না আসে, নতুবা আমরা পরিবারের একজন সদস্যকে মেরে ফেলব। এমনকি (মাক্সিমিলিয়ানো) পুয়ারোও (সান্তা ফের গভর্নর) তোমাকে বাঁচাতে পারবে না।’

রোজারিওতে মাদক কারবারিদের সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গত সপ্তাহে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ডি মারিয়া। ইএসপিএনকে বলেছিলেন, বিষয়টি ভবিষ্যতে তার রোজারিও সেন্ত্রালে ফেরার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করতে পারে।

বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন ডি মারিয়া। চিরকুটে হুমকির ব্যাপারে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি বিশ্বকাপ জয়ী এই ফুটবলার।

‘রাজারবাগের পুলিশ বঙ্গবন্ধু ডাকে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে রাজারবাগের পুলিশরা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল এবং প্রথম প্রতিরোধ এনেছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ঘোষণার আগেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল।

তিনি বলেন, সেই অভিযানটির একটি অংশ এসে রাজারবাগে অবস্থান করেছিল। আপনারা জানেন আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ৭ মার্চে ঘোষণা দিয়েছিলেন তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। যথার্থভাবেই এ রাজারবাগের পুলিশরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, প্রথম প্রতিরোধ এনেছিলেন। এজন্যই আমরা তাদের গভীরভাবে স্মরণ করি। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেদিন রাজারবাগের যারা শাহাদাত বরণ করেছিলেন।

এর আগে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের ৫৪তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে শহীদ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। তখন বিউগলে বেজে উঠে করুন সুর।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান, র্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহান স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতার চেতনায় বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরিদর্শন বইয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করে সই করেন তিনি।

পরিদর্শন বইয়ে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘আজ এই মহান দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা— স্বাধীনতার চেতনায় বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবো, ইনশাল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আজ ২৬শে মার্চ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আজকের দিনে আমি পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমি শ্রদ্ধা জানাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিতা মা-বোনদের প্রতি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন ‘গভীর বেদনাভরা ক্লান্ত হৃদয়ে স্মরণ করছি আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা এবং আমার তিন ছোট ভাই কামাল, জামাল, রাসেলসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেটে আঘাতে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের।’

দেশের সব জনসাধারণকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছাও জানান শেখ হাসিনা। ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে পরিদর্শন বইয়ের লেখা শেষ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

৫৪তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সরকার প্রধান হিসেবে প্রথমে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর দলীয় প্রধান হিসেবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

এর আগে ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুকও বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও ভুটানের রাজা জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আরও একবার জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।