শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ১৯৭তম পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক এ ঈদগাহে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ইমামতি করেন জেলা শহরের বড় বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ।

এবার শোলাকিয়া ঈদগাহের ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ানোর নির্ধারিত ইমাম বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ আসেননি।

রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে মুসল্লিদের সংকেত দিতে শর্টগানের ছয়টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তিনটি জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে, ২টি ৩ মিনিট আগে এবং শেষটি জামাত শুরুর ১ মিনিট আগে ছোড়া হয়।

বড় ঈদগাহ, বড় জামাত। বেশি মুসল্লির সঙ্গে জামাত আদায় করলে দোয়া কবুল হয়-এমন আকর্ষণে সকাল থেকেই এ ঈদ জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য কিশোরগঞ্জ ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন লাখ লাখ মুসল্লি।

এছাড়াও দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের ঈদগাহ মাঠে আসার সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুইটি স্পেশাল ট্রেন যাতায়াত করে।

ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে মাওলানা শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন-শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রাসেল শেখ, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু রাসেল প্রমুখসহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।

ঈদগাহ ময়দানকে ঘিরে গড়ে তোলা হয় বিভিন্ন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জ শহর এবং আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি। বিজিবি, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১ হাজার ১০০ সদস্য দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানকে। এছাড়াও সিসি ক্যামেরা, ড্রোন ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ঈদগাহের ভেতর ও বাইরের এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এদিকে, ঈদগাহ ময়দানে উন্মুক্ত প্রবেশপথে স্থাপিত আর্চওয়ে দিয়ে মুসল্লিরা শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে ঈদগাহে প্রবেশ করেন। এর আগে তিন দফা মেটাল ডিটেক্টরে সবার দেহ তল্লাশি করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের ছাতা বা কোনো ধরনের ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শুধু জায়নামাজ নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয় তাদের।

স্থানীয়দের মতে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, এরপর ধীরে ধীরে সেই ‘সোয়া লাখিয়া’ পরিচিত হয়ে ওঠে শোলাকিয়া নামে।

‘তোমার শাড়ি দিয়ে পাঞ্জাবি বানিয়ে পরেছি মা’

চিত্রনায়ক আরিফিন শুভর সবচেয়ে বড় ভক্ত ছিলেন তার মা। আবার শুভর কাছে সবকিছুই যেন মা। সেই মাকে এ বছরের জানুয়ারিতে হারিয়েছেন শুভ, যার শোক এখনো যেন ভুলতে পারেননি তিনি। তাই তো ঈদের দিনে মায়ের কবর জিয়ারত করে তিনি লিখলেন আবেগি পোস্ট।

এই প্রথম মাকে ছাড়া ঈদ করছেন শুভ। ফলে তিনি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। ঈদের আনন্দের মাঝে মায়ের শূন্যতা অনুভব করছেন।

স্ট্যাটাসে তার লেখাতেই বোঝা যাচ্ছিল বিষয়টি। শুভ লিখেছেন, যখন অনেক কিছু বলার থাকে তখন হয়তো কিছুই বলা যায় না। মা, দেখতে দেখতে তোমার যাবার প্রায় ৩ মাস, এখনো বোঝার চেষ্টা করছি যে কি হলো আসলে, আমি কী ঘুম থেকে উঠে দেখবো তুমি পাশের রুমটাতেই আছো। সব কিছু কেমন যেনো হয়ে গেলো। পেশায় অভিনয় শিল্পী হয়েও ‘আমি ঠিক আছি’ নামক অভিনয়টা হচ্ছে না একেবারেই, চেষ্টা চলছে।

ঈদের স্মৃতির কথা মনে করে শুভ লেখেন, তোমার শাড়ি দিয়ে পাঞ্জাবি বানিয়ে পরেছি এবারের ঈদে মা, আজকে যখন তোমার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি নিচে গার্ডরা বললো এটা আন্টির শাড়ি না স্যার? ভালো লাগলো এই ভেবে বিল্ডিংয়ের গার্ডরাও তোমাকে এই ৮-৯ বছর নোটিশ করেছে।

এবার তোমার গলার চেইনটা নিজেই পড়লাম, কিন্তু আমাদের ওই কমেডিটা করা আর হলো না যে, আমি চাইব আর তুমি বলবে নে, কিন্তু খুলে দেবে না। তোমার সাথে কতো গল্প করা হলো না,আর হবে না। ঈদ মোবারক মা। পৃথিবীর সকল মাকে ঈদ মোবারক।

ঈদের ছুটিতেও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাঘাত ঘটেনি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঈদের লম্বা ছুটিতেও দেশের কোনো হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাঘাত ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মুগদা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদে লম্বা ছুটিতে দেশ। এর মধ্যেও দেশের কোনো হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাঘাত ঘটেনি। মন্ত্রী হিসেবে এটা আমার প্রথম ঈদ। আমি আশা করছি দেশের মানুষ খুব সুন্দরভাবে ঈদ পালন করছেন।

তিনি বলেন, আমি বুধবারও কয়েকটা হাসপাতালে গিয়েছি। আজকে আরও কয়েকটি হাসপাতালে যাব। বুধবার দুটি হাসপাতালে গিয়েছি, দুই জায়গায়ই আমি পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স পেয়েছি। আমি সন্তুষ্ট। রোগীদের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

তিনি আরও বলেন, আজ সকালেও দেশের সব হাসপাতালের পরিচালকদের ম্যাসেজ পাঠিয়েছি। আমি এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি, সব জায়গায়ই চিকিৎসা চলছে। কোথাও ব্যাঘাত ঘটেনি।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং পয়লা বৈশাখের ছুটি চলাকালে দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিজে মনিটরিং করার ঘোষণা দেন। এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ছুটির সময় নিজে মনিটরিং করব। না জানিয়ে হাসপাতালে যাব। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরের হাসপাতালেও মনিটরিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়িতে আগুন

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে একটি প্রাইভেটকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে তাৎক্ষণিক এ ঘটনায় কারও হতাহতের হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মিরাজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর একটি গাড়িতে আগুন লাগার খবর পান। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, কীভাবে ওই গাড়িতে আগুন লেগেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

আইপিএল থেকে দুঃসংবাদ পেলেন মোস্তাফিজ

চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে এক ম্যাচে খেলা হয়নি মোস্তাফিজুর রহমানের। পরের ম্যাচে ফিরেই দখলে নেন পার্পল ক্যাপ। এবার এক ম্যাচ পরেই ফের তা হারালেন। যুজবেন্দ্র চাহালের কাছে পার্পল ক্যাপ হারালেন দ্য ফিজ।

আইপিএলের কিংবদন্তি তালিকায় সবার ওপরেই আছেন চাহাল। এবারও রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তার ঝুলিতে ছিল ৮ উইকেট। আসরের বর্তমান রানার্স-আপদের বিপক্ষে ম্যাচে শিকার করেন জোড়া উইকেট। বিজয় শঙ্কর ও শুভমান গিলকে সাজঘরে ফেরান তিনি।

এই উইকেট শিকারের পর তার উইকেট সংখ্যা ১০। পাঁচ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন চাহাল।

অন্যদিকে ৪ ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করেছেন দ্য ফিজ। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সফরের জন্য ভিসা করাতে দেশে এসে একটি ম্যাচ মিস করেছিলেন তিনি।

৮টি করে উইকেট নিয়ে এই তালিকার পরের দুই স্থানে আছেন আর্শদীপ সিং ও মোহিত শর্মা। এ ছাড়া নামের পাশে ৭ উইকেট নিয়ে তালিকার পাঁচে আছেন খলিল আহমেদ।

আ.লীগ জনগণ ও দেশের কল্যাণে কাজ করে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে দেশের জনগণকে কিছু দেওয়ার জন্য, কিন্তু বিএনপি আসে নিতে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের পাশে থাকে এবং দেশের কল্যাণে কাজ করে।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নিজের সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন পেশাজীবী, বিচারক, বিদেশি কূটনীতিক এবং পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবো। আগামীতে আরও কমানো হবে দারিদ্র্য।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে গর্ব করে বলেন যে- এক হাজারের ওপর ইফতার পার্টি করেছে; তারা ইফতার খেয়েছে। আর আওয়ামী লীগ খেতে আসে না, দিতে আসে; মানুষকে দেয়। এটাই হলো আমাদের সবচেয়ে বড় কথা। দলের অগণিত নেতাকর্মী ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন যারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাই। আবারও দেশের সাধারণ মানুষকে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে থাকে। যারা আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, রমজান মাসে বিএনপি এক হাজার ইফতার পার্টি করেছে এবং খাবার খেয়েছে। আর আওয়ামী লীগ জনগণের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, দেশের মানুষকে সব সময় কিছু দেয় আর বিএনপি নেয়।

শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পথ অনুসরণ করে দেশবাসীর জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী, তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, যারা আজ গণভবনে এসেছেন, তাদের জন্য সীমাহীন আনন্দ। ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক আনন্দ।

প্রতিকূল আবহাওয়া আমলে নিয়েই জাতীয় ঈদগাহ প্রস্তুত : মেয়র তাপস

প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ সব কথা বলেন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

মেয়র বলেন, ‘গত বছর প্রবল বৃষ্টি হওয়ার পরও এখানে কোনও ধরনের সমস্যা হয়নি। এক ফোঁটা পানিও ভেতরে আসতে পারেনি। সবাই সুন্দরভাবে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে। যদিও এবার বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর, তারপরও প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই আমরা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘সার্বিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যদি জাতীয় ঈদগাহে সম্ভব না হয়, তাহলে বায়তুল মোকাররমে পরবর্তী জামাত অনুষ্ঠিত হবে (সকাল ৯টায়)। তবে আমাদের যে আয়োজন আছে, আশা করি এর মাধ্যমে সবাই এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।’

প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে ঢাকাবাসীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত আদায়ের আহ্বান জানান মেয়র। তিনি ঢাকাবাসী ও দেশবাসীকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও জাতীয় ঈদগাহে প্যান্ডেলের মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলেও গণমাধ্যমকে জানান তিনি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন– করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, পরিবহন মহাব্যবস্থাপক মো. হায়দর আলী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, করপোরেশনের অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বাবুল, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন প্রমুখ।

চিকিৎসক দিনে কতজন রোগী দেখবেন তা বেঁধে দেবে সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একজন চিকিৎসক দিনে কতজন রোগী দেখতে পারবেন তা সরকার বেঁধে দেবে। এ বিষয়ে বিধান রেখে স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসায় রোগীর যদি কোনো ক্ষতি হয়, সেটা কোনোভাবেই মেনে নেব না। সরকারি হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক তার কাজের সময়ের মধ্যে যদি হাসপাতালে না থেকে অন্য কোথাও গিয়ে যদি অপারেশন বা এমন কিছু করে, তবে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ডাক্তার এবং রোগীর সম্পর্কটা একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আমাদের দেশের চিকিৎসকরা কোনো অংশেই ভারত, সিঙ্গাপুর, ব্যাংককের থেকে কম না। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের চিকিৎসকদের কাউন্সেলিংয়ের সময়টা দেওয়ার অভাব।’

‘আমরা যে স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইনটা করছি, সেখানে এটা রাখবো- একজন চিকিৎসক কত সংখ্যক রোগী দেখতে পারবেন। একজন রাত দুইটা আড়াইটা পর্যন্ত… সেটা থেকে যেন একটা স্বল্প সংখ্যক সময়… সঠিক সময় সঠিক রোগী দেখার ব্যবস্থা যেন হয়। ওভাবেই আমরা আইনটা করব। অল্প রোগী দেখবেন ভালোভাবে দেখবেন। রোগীদের সময় দিয়ে দেখতে হবে। তখন ডাক্তারদের প্রতি রোগীদের আস্থা আসবে।’

চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা নেই বলে অনেকে বিদেশে চলে যাচ্ছে মন্তব্য করে সামন্ত লাল সেন বলেন, ওখানে গিয়ে যে খুব একটা ভালো কিছু হবে সেটা না। আমি তো ভুটান থেকে রোগী নিয়ে এসেছি। ভুটানের রোগী আমাদের এখানে চিকিৎসা নিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভুটানের রাজা বাংলাদেশে এসে অনেক খুশি। আমরা ভুটানে একটা বার্ন ইউনিট বানিয়ে দিচ্ছি। আমাদের সক্ষমতা প্রকাশ করার জন্য বাইরে আমরা হাসপাতাল বানানোর অনুমতি দিয়েছি।’

ওষুধ এবং এনেস্থেসিয়ার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজশাহীতে স্যালাইন দেওয়ার পর চার প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটা কড়া নির্দেশ দিয়েছি যেন তিনি এটা তদন্ত করেন। যে কয়জন রোগী মারা গেছেন, তাদের কি স্যালাইন ইউজ করা হয়েছিল বা হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে ওষুধের গুণগত মান ভালো না, কেন ভেজাল- এটা নিয়ে আমি কাজ করছি এবং ডিজি ড্রাগকে এ বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছি।

জিম্মি নাবিকদের চলতি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনার আশা নৌ প্রতিমন্ত্রীর

সোমালিয়ান জলদুস্যদের কবলে জিম্মি ২৩ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করে চলতি মাসের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার আশা নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। আশা করছি, এ মাসের মধ্যে তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে পারবো।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত ১২ মার্চ সোমালিয়া উপকূল থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ছিনতাই করে জলদস্যুরা। সোমালিয় জলদুস্য ও এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অপহৃত নাবিকদের সুস্থভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হচ্ছে আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। এটা কোনো ছোট ঘটনা না, অনেক বড় ঘটনা। কাজেই দিন তারিখ দিয়ে এটার সমাধান করা সম্ভব না। তবে আমরা বলতে পারি, সম্পূর্ণ ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা আশা করছি, আমরা নাবিকদের সুস্থভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে তাদের যেন আনতে পারি। কিন্তু সেই টার্গেটটা পূরণ করতে পারিনি সেটা ব্যর্থ হয়েছে। তবে আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো। আমরা আশা করি এই মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু সমাধান হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই জিনিসটার সমাধান করার চেষ্টা করছি। তবে আমাদের নৌবিভাগ আন্তর্জাতিক এলাকায় কাজ করে, তারাও খোঁজ-খবর রাখছেন। সার্বিক বিবেচনায় বলছি, পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।’

নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নৌ-অধিদপ্তরও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। কথাবার্তা হচ্ছে। তারা ভালো আছেন। তবে, বিষয়টি অল্প কিছুদিনের মধ্যে সমাধান হবে। এখন দস্যুদের সঙ্গে আচরণটা কীভাবে হয়, এই ধরনের আলোচনা করার জন্য কিছু কিছু সংগঠন আছে, মানুষে আছে, তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা তো কখনো দস্যুদের মোকাবিলা করিনি। কাজেই আমরা বলতে পারবো না, কীভাবে আলোচনা হচ্ছে। যারা দস্যুদের সঙ্গে চলাফেরা করেন, সেই মানুষদের মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। এরআগে ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে যখন বাংলার সমৃদ্ধি আটকে গেলো, তখনও এই ধরনের কিছু সাহায্য নিয়ে সমাধান করেছিলাম।’

এর আগে গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। সে সময় জাহাজটি সোমালিয়া উপকূল থেকে ৪৫০ ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। দস্যুদের কাছে জিম্মি আছেন ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু। আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে জাহাজটি জলদস্যুর কবলে পড়ে।

এমভি আব্দুল্লাহ দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপ কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজ। এটি একটি বাল্ক কেরিয়ার। এর দৈর্ঘ্য ১৮৯ দশমিক ৯৩ মিটার এবং প্রস্ত ৩২ দশমিক ২৬ মিটার। প্রথমে জাহাজটির নাম ছিল ‘গোল্ডেন হক’। বাংলাদেশের কেএসআরএম গ্রুপের বহরে যুক্ত হওয়ার পর এর নাম হয় ‘এমভি আবদুল্লাহ’।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, ‘বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর জিম্মি নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তারা ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।’

প্রসঙ্গত, আফ্রিকার মোজাম্বিক থেকে কয়লাবোঝাই জাহাজটির গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে। ওই জাহাজের ক্রু লিস্ট থেকে জানা যায়, এম ভি আবদুল্লাহর মাস্টার বা ক্যাপ্টেন হিসেবে আছেন চট্টগ্রামের রাশেদ মোহাম্মদ আব্দুর, চিফ অফিসার হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রামের খান মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ এবং সেকেন্ড অফিসার হিসেবে আছেন চট্টগ্রামের চৌধুরী মাজহারুল ইসলাম। সেই সঙ্গে থার্ড অফিসার হিসেবে রয়েছেন ফরিদপুরের ইসলাম মো. তারেকুল, ডেক ক্যাডেট হিসেবে আছেন টাঙ্গাইলের হোসাইন মো. সাব্বির।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে এমভি আবদুল্লাহ সোমালীয় জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এরপর অন্তত ১০০ জলদস্যু জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বর্তমানে ২৩ নাবিককে কেবিনে রাখা হয়েছে।

মেঘনা টোল প্লাজায় ১২টি বুথে ইটিসি কার্যক্রম চালু

মেঘনা টোল প্লাজায় ১২টি বুথে ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

অন্যদিকে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়কে নির্মিত ১টি রেল ওভারপাস, ৭টি ওভারপাস ও ২টি সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ শনিবার (৬ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এগুলো উন্মুক্ত করেন তিনি।