শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

উপজেলা নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের ঈদ রাজনীতি

এবার বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ নেতা নিজ নিজ জেলায় ঈদ উদযাপন করেছেন। খুব শিগগিরই দেশের দেশের ৪৮১টি উপজেলা পরিষদে চার ধাপে নির্বাচন হবে। আগামী মাসের ৮ তারিখ হবে প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ। তাই জনগণকে নির্বাচনমুখী করতে ঈদকেন্দ্রিক গণসংযোগ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন তারা।

উপজেলা নির্বাচনে সরকারি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেকে তুলে ধরতে এবারের ঈদকে বেছে নিয়েছেন। ঈদকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়টি জানান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঈদের দিন নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়াসহ জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা।

কুষ্টিয়া জেলার খোকসা ও সদর উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের চাচাতো ভাই। এবারের নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে লড়বেন আতাউর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের সময় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ মেলে। সামনে নির্বাচন। ঈদের সময় হলেও দলের নেতা-কর্মীরা এখন নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত। তবে তাঁর নির্বাচনী এলাকা সদর উপজেলায় দলীয় কোন্দল নেই বলে দাবি করেন তিনি।

মাদারীপুরে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চাচা-ভাতিজার লড়াইকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিভক্ত। ঈদকেন্দ্রিক গণসংযোগেও দুই পক্ষের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকালে মাদারীপুরের কেন্দ্রীয় পৌর ঈদগাহ মাঠে জেলার প্রধান জামাতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান এবং সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান খান অংশ নেন।

সংসদ সদস্য শাজাহান খানের সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেন তাঁর ছেলে ও সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আসিবুর রহমান খান। নামাজ শেষে শাজাহান খান ও তাঁর ছেলে আসিবুর রহমান খান মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে দোয়া, ভোট ও সমর্থন চান। একইভাবে শাজাহান খানের চাচাতো ভাই সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান খানও মুসল্লিদের কাছে ভোট চান।

মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আসন্ন উপজেলা নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীরা রোজার শুরু থেকেই মাঠে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। ঈদের দিনেও তাঁরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। সদর উপজেলায় একই পরিবারে দুই প্রার্থী হলেও তাঁদের দুজনকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

এমভি ফারহানের চালক পলাতক, বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন সিদ্ধান্ত

রাজধানীর সদরঘাটে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত এমভি ফারহানের চালক পালিয়ে গেছেন। এদিকে ঘটনার পর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এমভি ফারহান ও এমভি টিপুর যাত্রা বাতিল করেছে।

র‍্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর এমভি ফারহানের চালক পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত আছে।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- পিরোজপুরের মোটবাড়িয়ার বিল্লাল হোসেন (২৫), তার স্ত্রী মুক্তা (২৬) ও শিশু মেয়ে সাইমা (৩), ঠাকুরগাঁও সদরের নিশ্চিতপুরের রবিউল (১৯) এবং পটুয়াখালী সদরের মো. রিপন হাওলাদার(৩৮)।

ঢাকা নদী বন্দরের (সদরঘাট) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) জয়নাল আবেদীন বলেন, সদরঘাটের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ মিডফোর্ড হাসপাতালে রাখা আছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঢাকা থেকে ভোলাগামী তাশরিফ-৪ লঞ্চের ধাক্কায় ৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। লঞ্চটি ঘাটে বেঁধে রাখা ছিল, হঠাৎ রশি ছিঁড়ে যাত্রীদের ধাক্কা দিলে এ ঘটনা ঘটে। সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের মিটফোর্ড হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে তারা মারা যান।

সখীপুরে একই মাতৃগর্ভে ৬ সন্তান

টাঙ্গাইলের সখীপুরে একই মায়ের গর্ভে ৬ সন্তানের জন্ম হয়েছে। যদিও জন্মগ্রহণ করা ৬ সন্তানের কেউই বেঁচে নেই। বুধবার (১১ এপ্রিল) উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা কড়ইচালা এমন বিরল ঘটনাটি ঘটে। সখীপুরে এমন ঘটনা এটিই প্রথম।

ওই নারীর স্বামী প্রবাসী ফরহাদ মিয়ার মামা শাজাহান মিয়া জানান, আমার ভাগ্নের স্ত্রী সুমনা আক্তার (২৬) প্রায় ৫ মাস যাবত অন্তঃসত্ত্বা। ঈদের দিন সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ তার প্রচন্ড পেটে ব্যথা শুরু হয়।

এরপর তাকে দ্রুত সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। সেখানে সুমনার অবস্থার অবনতি হলে, তাকে দ্রুত মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। কুমুদিনী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে সুমনার পেটে ৬ বাচ্চা রয়েছে বলে নিশ্চিত হন।

পরে নরমাল ডেলিভারিতে ৪টি মেয়ে ও ২টি ছেলে প্রসব করানো হয়। যদিও মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বহুরিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই দম্পতি আগে কোন সন্তানাদি নেই। এমন ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জিম্মি দশার ১ মাস

ঈদুল ফিতরের দিনে জাহাজের ডকে নামাজ আদায় করেছেন সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকরা। অপরদিকে তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে চোখের পানিতে ভাসছে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই অবস্থা কাটছে গত একমাস ধরে। যদিও জাহাজের মালিক পক্ষ বলছে দ্রুত নাবিকদের মুক্তির দিনক্ষণ ঠিক হবে। তবে জলদস্যুদের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সকল বিষয় গোপন রাখছে তারা। এই গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে নাবিকদের স্বার্থেই বলে দাবি করছেন কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।

সোমালীয় দস্যুরা গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে এমভি আবদুল্লাহকে হাইজ্যাক করে। এরপর জলদস্যুরা জাহাজের মালিকপক্ষের সঙ্গে তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ২০ মার্চ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গত বুধবার নাবিকদের উদ্ধার প্রসঙ্গে বলেন, আমরা নাবিকদের পরিবারকে আশ্বস্ত করতে চাই, সরকার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছে। প্রথমত যারা অপহরণ করেছে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। দ্বিতীয়ত তাদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রচুর চাপ তৈরি করা হয়েছে। নাবিকরা ভালো আছেন, নিয়মিতভাবে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, এমনকি ভিডিও কলেও কথা বলছেন। সুতরাং যে উদ্বেগটা কিছুদিন আগে ছিল সেটি এই মুহূর্তে নেই। আমরা আশা করছি তাদেরকে শিগগির মুক্ত করতে পারবো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলদস্যুদের হাত থেকে নাবিক এবং জাহাজ দুটোই উদ্ধার করার ক্ষেত্রেই অল্প সময়ের মধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই তাদেরকে মুক্ত করতে পারবো। তবে উদ্ধারের দিনক্ষণ বলাটা কঠিন।

এদিকে, বুধবার (১০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় নামাজ আদায়ের পর একসঙ্গে ছবিও তুলেছেন তারা।

এক জিম্মি নাবিকের পরিবার জানিয়েছে, নামাজের পরে তারা কোলাকুলি করেন এবং পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তারা পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম আনাম চৌধুরী বলেন, সব নাবিক জাহাজের ওপর ডেকে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। ঈদের নতুন পোশাক অর্থাৎ পায়জামা-পাঞ্জাবি ও টুপি পরেছেন তারা। নামাজ পড়ার পর জাহাজের ওপর একসঙ্গে ছবি তুলেছেন। এ রকম একটি ছবি আমার কাছে পাঠিয়েছেন। ছবিতে ২২ নাবিককে দেখা যাচ্ছে। আরেকজন ছবি তুলেছেন। তারা ২৩ জনই সুস্থ এবং ভালো আছেন।

জানা গেছে, জিম্মি জাহাজটি এখন সোমালীয় জলসীমায় অবস্থান করছে। বুধবার সোমালিয়াসহ ওই অঞ্চলটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এদিন নামাজ আদায়ের জন্য এদিন নাবিকদের জাহাজের ডকে আসার সুযোগ দেয় দস্যুরা।

এক নাবিকের স্ত্রী জানিয়েছেন, তার স্বামী বুধবার বিকাল ৫টার দিকে ফোন করেছিলেন। সকালে জাহাজের নাবিকরা দস্যুদের কাছে নামাজের সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে দস্যুরা ঈদের নামাজ পড়তে দেয়। তারা জাহাজের ডেকে নামাজ আদায় করেন এবং এ সময় ভারী অস্ত্রসহ জলদস্যুরা পাহারা দেয়।

তবে তাদের দলীয় ছবি এবং কয়েকজন নাবিকের ভিক্টর প্রদর্শন দেখে নেটিজেনরা নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকে।

এ বিষয়ে এম আনাম চৌধুরী বলেন, জাহাজটি আরব আমিরাতের আল হামরাহে যাচ্ছিল। ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে ভেবে নাবিকরা ঈদের জামা-কাপড় জাহাজে উঠার সময় সঙ্গে নিয়ে গেছেন। কারণ সমুদ্রপথে নাবিকদের কোনও না কোনও দেশে ঈদ করতে হতো।

কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, তারা গত ২৭ মার্চ থেকে নাবিকদের কেবিনে থাকতে দিচ্ছে, পাশাপাশি জাহাজে কাজ করার সুযোগও দিচ্ছে। সবশেষ বুধবার ঈদের দিন জাহাজের ডকে তাদের একসঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভালো খাবারের ব্যবস্থাও করে সৌমালি দস্যুরা। তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। ফিরিয়ে আনতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দস্যুদের সঙ্গে আমাদের আলোচনায় অগ্রগতি আছে। আশা করছি যেকোনও দিন নাবিকরা বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরবেন।

এর আগে ২০১০ সালে একই প্রতিষ্ঠানের জাহাজ এমভি জাহান মণি ২৬ নাবিকসহ সোমালীয় জলদস্যুদের কবলে পড়ে। সেবার প্রায় চার মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ দিয়ে জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই এমভি জাহান মণির জিম্মি নাবিকদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ ইদ্রিসও। তিনি বলেন, তাদের ক্ষেত্রে আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পর হেলিকপ্টার থেকে দুটি পানিরোধী কার্টনে মুক্তিপণের অর্থ সাগরে ফেলা হয়েছিল। দস্যুরা নৌযান নিয়ে গিয়ে প্যাকেট দুটি জাহাজে তুলে আনে। দাবিকৃত অর্থ বুঝে পেয়ে পরদিনই ভোরে জাহাজটি থেকে নেমে যায় দস্যুরা। এরপর জাহাজ আবার চলতে শুরু করে দেশের পথে।

নবনির্বাচিত আইরিশ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, আমি, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি যে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছেন- নির্বাচনে আপনার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার প্রমাণ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আইরিশ সমর্থনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ সালে আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের সময় আইরিশ জনগণ ও রাজনীতিবিদদের সমর্থনকে গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি। সাবেক আইরিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেন ম্যাকব্রাইড ও আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন থেকেই বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তির অভিন্ন মূল্যবোধের পাশাপাশি চলমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ আকাঙ্ক্ষার গভীরে নিহিত রয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে আয়ারল্যান্ডে আমাদের গতিশীল উদ্যোক্তা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও শান্তির পাশাপাশি আগামী দিনে আয়ারল্যান্ডের বন্ধুপ্রতীম জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

চিড়িয়াখানায় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

জাতীয় চিড়িয়াখানায় হাতির আঘাতে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এবারের যেমন ভিড়, অন্য বছরগুলোতে এমন দর্শনার্থীর ভিড় জমেনি। চিড়িয়াখানার ভেতরে এখন শতশত মানুষ গিজগিজ করছে। যেখানে যাবেন দর্শনার্থী আর দর্শনার্থী। টিকিট চেক করে প্রবেশ করাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিনের মতোই হাতি দিয়ে ফুটবল খেলা দেখানো হচ্ছিল। কিছু সময় খেলাধুলার পর হঠাৎ করে হাতিটি বিগড়ে যায়। বিগড়ে গিয়ে সামনে একটি কিশোরকে সুর দিয়ে ধরে আছাড় মারে। পরে কিশোরটির মৃত্যু হয়। নিহত কিশোর চিড়িয়াখানার একজন কর্মীর সন্তান।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার এবং কিউরেটর ড. মজিবুর রহমানকে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।

সদরঘাটে লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে নিহত ৫

রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালে বার্দিং করার সময় তাসরিফ লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে তার আঘাতে ৫ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে একজন নারী, তিনজন পুরুষ এবং একজন শিশু।

নৌপুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে ভোলাগামী তাশরিফ-৪ লঞ্চের ধাক্কায় ৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। লঞ্চটি ঘাটে বেঁধে রাখা ছিল, হঠাৎ রশি ছিঁড়ে যাত্রীদের ধাক্কা দিলে এ ঘটনা ঘটে। সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের মিটফোর্ড হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে তারা মারা যান।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উদ্দীপনায় উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর

মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর সারা দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ, আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বৃহত্তম এ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করছে বৃহস্পতিবার।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। রাজধানীতে বিভিন্ন স্থানে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় শুরু করেন। খবর বাসসের

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সব শ্রেণি পেশার মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায়।

ঈদের প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন ইমাম এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারী মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোকাব্বির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ঈদের প্রধান জামাতে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়। ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার আয়তনের মূল প্যান্ডেলে এক সাথে এবার ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, জাতীয় ঈদগাহসহ রাজধানীতে নির্বিঘ্নে চলাচল ও সুষ্ঠুভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি,মন্ত্রিপরিষদের সদস্যব, মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকরা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বুধবার থেকে ৩ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ভবন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় পতাকা ও ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইট পোষ্টে প্রদর্শন করা হয়। ঈদুল ফিতরের আগের রাতে সরকারি ভবনসমূহসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আলোকসজ্জা সজ্জিত করা হয়।

সারা দেশে বিভাগ বা জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রধানরাজাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো যথাযথ গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।

ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেইফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, দুঃস্থ কল্যাণ ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঈদের দিন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল শিশু পার্কে প্রবেশ এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সারাদেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈদের দিন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনাটিকেটে যাদুঘর, আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান প্রবেশ এবং তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশুদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়, এরপর পর্যায়ক্রমে ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় শেষ ঈদ জামাত।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঈদের প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। মুকাব্বির ছিলেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারী মো. ইসহাক।

দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহীউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির ছিলেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন (অব.) হাফেজ মো. আতাউর রহমান।

তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন আজিমপুর কবরস্থান মেয়র হানিফ জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা ইমরান বিন নূরউদ্দীন। মুকাব্বির ছিলেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. আব্দুল হাদী।

চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী। মুকাব্বির ছিলেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. জসিম উদ্দিন।

পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল পৌনে ১১টায়। ইমামতি করেন মিরপুর জামেয়া আরাবিয়া আশরাফিয়া ও এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহীদুজ্জামান। মুকাব্বির ছিলেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. রুহুল আমিন।

৫টি জামাতে কোন ইমাম অনুপস্থিত থাকলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভাষা শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদ-উল ফিতর এর জামায়াত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ, হুইপবৃন্দ,মন্ত্রিপরিষদের সদস্য,সংসদ-সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মুসল্লিরা এই জামায়াতে অংশ নেন। জামায়াত সবার জন্য উন্মুক্ত। জামায়াতে আগ্রহী মুসল্লিদেরকে অংশগ্রহণের জন্য সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে আগেই অনুরোধ জানানো হয়।

এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১৮২৮ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত জামাতের হিসাবে এটি হবে ঈদুল ফিতরের ১৯৭তম জামাত। জামাত নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

মুসল্লিদের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ঈদের জামাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলেমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। মাঠে একসঙ্গে তিন লাখেরও বেশি মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন।

রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে বন্দুকের গুলির শব্দে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার সংকেত দেয়া হয়। বিকল্প ইমাম হিসেবে ছিলেন বড় বাজার মসজিদের খতিব মাওলানা শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ।

ফিলিস্তিনসহ সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। ইসলামের এ সুমহান আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে এ কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ফিলিস্তিনসহ সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপ্রধান বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেয়া এক শুভেচ্ছা বক্তব্যে দেশবাসীকে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে মিলেমিশে উপভোগের অনুরোধ জানান। খবর বাসসের

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

এই ঈদের মধ্যেও ফিলিস্তিনসহ যুদ্ধবিগ্রহ ও আধিপত্যের কারণে বিশ্বব্যাপী অনেক মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি ফিলিস্তিনের নির্মমতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করা।’

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে দুঃখ একলা ভোগ করা যায়, কিন্তু আনন্দ একলা ভোগ করা যায় না, সবাইকে নিয়ে আনন্দ করতে হয়।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ‘ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তুলুক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর ঐক্যের বন্ধন। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।’

ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম উল্লেখ করে রাষ্ট্র প্রধান বলেন, মানবিক মূল্যবোধ, সাম্য, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সহযোগিতা- ইসলামের এই সুমহান বার্তা ও আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ঈদের আনন্দ থেকে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কেউ যেন বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার ও তাগিদ দেন।

তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ ‘স্মাট বাংলাদেশ’ ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে রাষ্ট্রপতি এবং তার স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সিনিয়র রাজনীতিবিদ, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, কূটনৈতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিচারক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ সময় ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবগণও উপস্থিত ছিলেন।

গোর-এ-শহীদ ময়দানে নামাজ আদায় করলেন ৬ লাখ মুসল্লি

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন ৬ লাখ মুসল্লি।

আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত দেশের অন্যতম বৃহৎ এ ঈদগাহে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৯টায় শুরু হয় ঈদুল ফিতরের নামাজ। এতে ইমামতি করেন মাওলানা শামসুল আলম কাশেমী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এ দিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লিরা।

জানা গেছে, পুরো ঈদগাহ ময়দানজুড়ে নেয়া হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন। মোট ১৭টি গেট মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে শুধুমাত্র জায়নামাজ ও ছাতা নিয়ে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা। ২৬টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হয়। তথ্য বিভাগসহ বেসরকারিভাবে ১১০টি মাইক বসানো হয়। এ ছাড়া মুসল্লিদের জন্য দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বৃহৎ এই জামাতের প্রধান উদ্যোক্তা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম জানান, এখানে এবার একসঙ্গে প্রায় ৬ লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে নির্মিত হয় দেশের বৃহত্তম দৃষ্টিনন্দন ৫২ গম্বুজের বিশাল ঈদগাহ মিনার। ২২ একর আয়তনের এই ময়দানে একসঙ্গে ৫ লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

মূলত ৫২ গম্বুজের ঈদগাহের ২ প্রান্তের মিনার ৬০ ফুট এবং মাঝখানের দুটি মিনার ৫০ ফুট উচ্চতা। ইমাম দাঁড়ানোর স্থান মেহেরাবের গম্বুজের উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে ৪৯টি গম্বুজ। ৫১৬ ফুট দৈর্ঘ্যের ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক ইটে নির্মিত এবং প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে নয়নাভিরাম লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।