শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিভক্তিকরণ নিয়ে শেখ হাসিনার সতর্কবার্তা

বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের কিছু অংশকে নিয়ে ‘পূর্ব তিমুরের মতো একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরি করার চক্রান্ত চলছে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডেইলি স্টার এর খবর অনুযায়ী শেখ হাসিনা এক বৈঠকে বলেছেন, ‘পূর্ব তিমুরের মতো… তারা বঙ্গোপসাগরে একটি ঘাঁটি সহ বাংলাদেশ (চট্টগ্রাম) এবং মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে একটি খ্রিস্টান দেশ তৈরি করার পরিকল্পনা করছে।

শেখ হাসিনা দাবি করেছেন যে, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তার সঙ্গে একজন ‘শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি’ দেখা করেন। সেই ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে বলেন, একটি বিশেষ দেশকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বিমানঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি দিলে তিনি ‘কোনো সমস্যায়’ পড়বেন না।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেই দেশের নাম উল্লেখ না করেই বলেছেন, ‘এটা মনে হতে পারে যে এটি (প্লট) কেবল একটি দেশকে লক্ষ্য করে, কিন্তু তা নয়। আমি জানি তারা কী চায়।’

শেখ হাসিনার মন্তব্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে তার সাবেক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী স্পুটনিক ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সঠিক প্রমাণ ছাড়া কথা বলেন না। আমি নিশ্চিত যে তিনি এই বিবৃতি দেওয়ার আগে ভালভাবে ভেবেছিলেন।’

চলতি জানুয়ারিতে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। নির্বাচন বয়কট করেছিল দেশের প্রধান বিরোধী দল- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারা একটি তত্ত্বাবধায়ক সেট-আপের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল, যদিও দাবিটি দেশের সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এটা মনে করা হয়েছিল যে, এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বিএনপির পক্ষে ব্যাটিং করছে। যদিও দুই দেশের সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সেই উত্তেজনা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে।

‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিভক্তিকরণ’
যদিও কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করেই বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের কিছু অংশকে নিয়ে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা চলছে- এমনটা উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা, কিন্তু তার আওয়ামী লীগের নেতারা বিলক্ষণ জানেন প্রধানমন্ত্রী কার দিকে ইঙ্গিত করছেন।

আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার (অবসরপ্রাপ্ত) সদরুল আহমেদ খান স্পুটনিক ইন্ডিয়াকে জানান, এটি স্পষ্ট সরকার বিরোধীদের সমর্থনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রবেশের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই বিরোধীদের মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) এবং পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)।

সদরুল আহমেদ খান বলেন, ‘মিয়ানমারের কুকি-চীন বিদ্রোহীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান হওয়ায়, তারা বিদেশি এক্টরদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।

মিয়ানমারের চীন রাজ্যের কুকি-চীন বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর সাথে তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা উল্লেখ করেন, গত বছর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বার্মা আইনে স্বাক্ষর করার পর বাইডেন প্রশাসন মিয়ানমারের বিরোধী শক্তিকে সমর্থন করার বিষয়টি আর গোপন রাখেনি, চুক্তিতে মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের জন্য ‘প্রাণঘাতী নয় এমন সাহায্য’ প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

এই আইনের অধীনে প্রথম কিস্তির সাহায্য এ বছর সরকারবিরোধী শক্তির কাছে পৌঁছেছে। ক্ষমতাসীন স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল (এসএসি) দ্বারা সোচ্চারভাবে বিষয়টিতে আপত্তি জানানো হয়েছে। ভয়েস অফ আমেরিকা (ভিওএ) অনুযায়ী এসএসি বলেছে, ‘এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারকে হাতিয়ার করেছে।’

সদরুল আহমেদ খান উল্লেখ করেন যে, কুকি-চীন বিদ্রোহীদের আমেরিকার নিরঙ্কুশ সমর্থন বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের পাশাপাশি ভারতের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ভারতের মণিপুরের মতো উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে নৃ-ত্বাত্তিক গোষ্ঠীর বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং ফেব্রুয়ারিতে দাবি করেছিলেন যে, চীন-কুকি-জো উপজাতির বিস্তারে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যটি গত মে মাস থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইটিস এবং কুকি-জো গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষের সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে বলেছেন, নয়াদিল্লি ১৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের পুরো অংশে বেড়া দেবে।

চৌধুরী হাইলাইট করেছেন যে, শেখ হাসিনার অধীনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় সহ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সার্বিক উন্নতিতে ভারতের উত্তর-পূর্বে অঞ্চল উপকৃত হয়েছে।

সেন্ট মার্টিনে ঘাটি স্থাপনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
তদুপরি, সদরুল আহমেদ খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সামুদ্রিক সীমান্তে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট মার্টিন দ্বীপে একটি ঘাঁটি স্থাপন করতে চাইছে।

তিনি বলেন, ‘শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা কিংবা লজিস্টিক মহড়া এসবে বাংলাদেশ সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নৌ ঘাঁটি স্থাপন করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশ এ ধরনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার নিন্দা করে, কারণ বিষয়টি আমাদের সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে কোনও অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে সমর্থন করে না কিংবা চীনকে ঠেকাতে মার্কিন স্বার্থের জন্য ‘প্রক্সি’ হিসেবেও কাজ করবে না। কারণ, বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তিনি হাসিনার সুরেই বলেন, বাইরের চাপের মুখে দেশ আপস করবে না।’

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আরেকটি মার্কিন ঘাঁটি কেবল ঢাকা নয়, নয়া দিল্লির নিরাপত্তায়ও প্রভাব ফেলবে। তার মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, আমি নিশ্চিত যে নয়াদিল্লিও এই অঞ্চলে কোনও বাইরের হস্তক্ষেপ চায় না।’

পাপুয়া নিউগিনিতে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা

পাপুয়া নিউগিনি নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় প্রায় সাত হাজার ৯০০ লোককে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। শীর্ষ পর্যায়ের একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

এংগা প্রাদেশিক প্রশাসক স্যান্ডিস সাকা বলেছেন, আমরা লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, প্রতি ঘণ্টায় আপনি শিলা ভাঙার শব্দ শুনতে পাবেন। এটি বোমা কিংবা বন্দুকের গুলির মতোই। পাথরগুলো নিচে গড়িয়ে পড়ছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে মাউন্ড মুঙ্গালোর কিছু অংশ ধসে পড়ে এংগা প্রদেশ বলতে গেলে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অসংখ্য বাড়িঘর মাটির সাথে মিশে গেছে। এসব বাড়িঘরে লোকজন তখন ঘুমন্ত ছিল।

পাপুয়া নিউগিনির জাতীয় দুর্যোগ কেন্দ্র দুই হাজারেরও বেশি লোক চাপা পড়েছে বলে আশংকা করছে। কিন্তু এ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র পাঁচটি মৃতদেহ।

স্যান্ডিস সাকা বলেন, উদ্ধারকারীরা আবারও ভূমিধসের আশঙ্কায় ৭ হাজার ৯০০ লোককে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে যেন নতুন করে আর কোন প্রাণহানি না ঘটে।

তিনি বলেন, এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত এবং লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত।

সাকা বলেন, এলাকাটি ব্যবসা-বাণিজ্য, গির্জা, স্কুল বাড়িঘরে জমজমাট ও জনবহুল ছিল। কিন্তু এখন এলাকাটি পুরোপুরি মুছে গেছে। এটি যেন চাঁদের পৃষ্ঠ যেখানে শুধু পাথর ছড়ানো।

সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো ট্রলারেন্স : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নিজেদের অপরাধকে ডাকার জন্য আজ অপপ্রচার করছে। অপরাধীদের ক্ষমা করেছে। অপরাধীদের শাস্তি দেয়নি। সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো ট্রলারেন্স। দুর্নীতির ব্যাপারে শেখ হাসিনা আপসহীন।

আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশে হত্যার রাজনীতি, গুমের রাজনীতির গোড়াপত্তন হয়েছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাতে। তিন হাজার নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যা করেছেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছে। আরও তদন্ত হবে। মামলা হলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কোনো অপরাধী শাস্তি ছাড়া পার পাবে না। অনেকে ভাবছে, বেনজীর আহমেদের বাড়ি তো টুঙ্গিপাড়া, সে ক্ষমা পেতে পারে। অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে।

তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদক স্বাধীন তদন্ত করছে। দুদককে এই স্বাধীনতা শেখ হাসিনা সরকার দিয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যিনি সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন, তিনিও যদি অপরাধী হন, তার বিরুদ্ধেও দুদক তদন্ত করতে পারবে। অপরাধী হলে শাস্তি পেতে হবে।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, উপ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম ও উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ব্যর্থ উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় গোয়েন্দা স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। স্যাটেলাইট বহনকারী রকেটটি মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হওয়ার ফলে দেশটির এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ উৎক্ষেপণের খবর দিয়েছিল। আর এরপরই সোমবার মধ্যরাতে রাতে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

উত্তর কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস টেকনোলজি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উপমহাপরিচালক রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছেন, নতুন স্যাটেলাইট ক্যারিয়ার রকেটের উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম ধাপের উড্ডয়নের সময় এটি মাঝ-আকাশে এটি বিস্ফোরিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যর্থতার কারণ হিসেবে প্রাথমিক বিশ্লেষণে- তরল জ্বালানির নতুন রকেট মোটর দায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য সম্ভাব্য কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া পীত সাগরের দক্ষিণ দিকে একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ নিক্ষেপ করেছে এবং এর কয়েক মিনিট পর সাগরে অনেক টুকরো দেখা গেছে।

জাপানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে একই ধরনের ফলাফলের কথা জানিয়েছে।
খবর আল-জাজিরা

মুম্বাই বিমানবন্দর-তাজ হোটেল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

ভারতের মুম্বাই শহরের তাজ হোটেল ও ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এক ব্যক্তি। আজ সোমবার (২৭) মুম্বাই ট্রাফিক পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন নম্বরে এই হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়।

মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাজ হোটেল ও মুম্বাই বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। হুমকি প্রদানকারী এও দাবি করেন যে দুটি জায়গাতেই বোমা রেখে আসা হয়েছে। খবর পেয়েই দ্রুত তল্লাশি অভিযানে নামে পুলিশ। কিন্তু অভিযানে সন্দেহজনক বা বোমাসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। আতঙ্ক বা অস্থিরতা তৈরির জন্যই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যে নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, সেটির অবস্থান আগ্রাতে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কে বা কারা এই হুমকি দিয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

এ ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারার অধীনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মুম্বাই পুলিশ। পাশাপাশি হুমকিদাতাকে খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
খবর এনডিটিভি

রাজধানীর ১৮ ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ‘উচ্চঝুঁকিতে’

রাজধানীতে মৌসুম শুরুর আগেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রভাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর দুই সিটির ১৮টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট মানদণ্ডের চেয়েও বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার আওতাধীন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে গত ১৭ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চালানো প্রাক-বর্ষা জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজন করা হয় এ জরিপের ফল প্রকাশ অনুষ্ঠান। ‘মৌসুম পূর্ব এডিস সার্ভে-২০২৪ এর ফলাফল অবহিতকরণ সভা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

জরিপের ফলে বলা হয়, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ৯৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। এর অর্থ হচ্ছে, এসব এলাকার ১০০টির মধ্যে ২০টির বেশি পাত্রে এডিস মশা বা তার লার্ভা পাওয়া গেছে। এই এলাকাগুলো তাই ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ঝুঁকিতে থাকা ওয়ার্ডগুলো হলো– ১২, ১৩, ২০, ৩৬, ৩১, ৩২, ১৭, ৩৩নং ওয়ার্ড। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো– ৪, ১৩, ৫২, ৫৪, ১৬, ৩, ৫, ১৫, ১৭, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড।

এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ নামে পরিচিত। স্বীকৃত এই মানদণ্ডে লার্ভার ঘনত্ব ২০ শতাংশের বেশি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে মনে করা হয়।

রাফায় বিমান হামলা : জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক ডাকল নিরাপত্তা পরিষদ

গাজার তাল আস-সুলতান এলাকার তাঁবু ক্যাম্পে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৪৫ জন নিহতের পর জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। আলজেরিয়া এই বৈঠক ডাকার অনুরোধ করেছিল। তাদের সমর্থন করে স্লোভেনিয়া।

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ক্যাম্পে ইসরায়েলি হামলার পর মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

আলজেরিয়া (বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য) এই বৈঠক ডাকার অনুরোধ করেছিল। এই বৈঠক রুদ্ধদ্বার হবে। জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

রাফায় ইসরায়েলের বিমান হামলার পর হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, ৪৫ জন মারা গেছে এবং প্রচুর মানুষ আহত হয়েছে।

যারা রাফায় আশ্রয় নিয়েছিল তাদের শিবিরে এই হামলা চালানো হয়। রাফার আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের এমন প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, মিসর, নরওয়ে, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ। আন্তর্জাতিক বিচারালয় (আইসিজে) রাফায় অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার দুই দিন পরই শহরটিতে এমন নারকীয় হামলা চালাল ইসরায়েলি বাহিনী।

গত ৭ মে ইসরায়েল রাফায় হামলা শুরু করার পর শহর ছেড়ে আট লাখের বেশি মানুষ পালিয়েছে।

তবে এখনো সেখানে বহু মানুষ রয়ে গেছে। কেননা ইসরায়েল গাজার সব জায়গায়ই হামলা চালাচ্ছে। সেখানে কোনো নিরাপদ স্থান নেই।
খবর আরব নিউজ

সরকারি চাকরিতে ৩ লাখ ৭০ হাজার পদ খালি : জনপ্রশাসনমন্ত্রী

সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত পদ ১৯ লাখ ১৫১টি। এর মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৭টি। জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছরে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ৩৫১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। এর মধ্যে গুরুদণ্ড পেয়েছেন ৪১ জন, লঘুদণ্ড পেয়েছেন ১৪০ জন। সবমিলিয়ে শাস্তি পেয়েছেন ১৮১ জন। আর ১৭০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিমান হামলার নিন্দার মধ্যেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

রোববার রাফায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় বহু হতাহতের ঘটনায় নিন্দার মধ্যেই ফিলিস্তিনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আবার দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, রবিবারের ওই হামলায় কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হয়েছে। যাতে আরও শতাধিক মানুষ গুরুতরভাবে আগুনে পুড়ে গেছে, হাত পা ভেঙ্গে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছে হাসপাতালে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে বক্তৃতায় নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘হামলাটি ছিল একটি দুঃখজনক ভুল। আমরা লক্ষ্য অর্জনের আগে আমি যুদ্ধ শেষ করতে চাই না।’

তিনি বলেন, ইসরায়েল বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতা নিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিরীহ মানুষদের ক্ষতি না করতে তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় হামাসের হাতে জিম্মি ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি ব্যর্থ হওয়ায় ইসরায়েলিদের অনেকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন।

‘রাফাহ থেকে আমরা ইতিমধ্যে প্রায় এক মিলিয়ন বেসামরিক বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছি এবং তাদের ক্ষতি না করার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, দুর্ভাগ্যবশত কিছু দুঃখজনকভাবে ভুল হয়েছে’, জোর দিয়ে বলছিলেন নেতানিয়াহু।

‘আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি এবং এটি নিয়ে একটা সমাধানে পৌঁছাতে চাই। কারণ, এটা আমাদের নীতি।’

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এরই মধ্যে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ইইউ জোর দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলকে গত সপ্তাহে রাফাহতে হামলা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যে রায় দিয়েছে তার প্রতি সম্মান করা উচিত। ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক জোসেফ বোরেল এই বিমান হামলাকে ‘ভীতিকর’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েল রাফায় আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা পুনরায় দিয়েছে, কর্মকর্তারা তার পক্ষে দাবি করছেন যে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীই তাদের অভিযান চালানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ‘এ হামলা প্রমাণ করে ইসরায়েল সেই আগের পদ্ধতিতেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যে কারণে এরই মধ্যে অনেক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।’

গত জানুয়ারির পর রোববার প্রথমে তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হামাস। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাফাহতে পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, রাফাহ হামলায় হামাসের দুই সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়েছে এবং তারা ওই এলাকায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত করছে।

তবে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, রাফাহ কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে তাল আল-সুলতানে বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্মিত জাতিসংঘ পরিচালিক বেসামরিক সহায়তার তাবু লক্ষ্য করে এই হামলাটি চালানো হয়।

প্রথমে বড় বিষ্ফোরণ ও পরে তীব্র আগুন জ্বলতে দেখা গেছে তাল সুলতান এলাকার একটি ভিডিওতে।

মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স বলছে, এই বিমান হামলার পর নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে, তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

সেখানে আরও ১৮০ জনের চিকিৎসা চলছে যাদের বেশিরভাগই বোমায় স্প্রিন্টারবিদ্ধ, ভাঙ্গা হাত পা ও আঘাতজনিত পোড়ায় ভুগছে।

লক্ষ্যবস্তু ভুল ছিল বলে ইসরায়েল যে বক্তব্য দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করে মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স বলছে, হামলাটি সুনির্দিষ্ট ছিল। কথিত নিরাপদ রাফাহতে একটি জনবহুল ক্যাম্পে চালানো আক্রমণ প্রমাণ করছে, গাজার বেসামরিক নাগরিকদের জীবন তাদের কাছে মূল্যহীন।

এই চিত্রকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘হুদয় বিদারক’ বলছে। তবে তারা এটাও বলেছে যে ইসরায়েলেরও আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, হামাসকে প্রতিহত করার অধিকার আছে ইসরায়েলের। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, এই হামলায় হামাসের দুই সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়েছে, যারা ইসরায়েলি বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলার জন্য দায়ী।

তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

রোববার রাফাহর ওই হামলায় কী ভুল হয়েছে তা খুঁজে বের করতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সোমবারের বেশিরভাগ সময় পার করেছেন। তারা বুঝতে চেয়েছেন একটি নির্ভুল হামলায় কিভাবে এত আগুন ধরলো আর এত প্রাণহানিও বা কেন হল।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গত সপ্তাহে একটি রায়ে ইসরায়েলকে রাফাহ এলাকায় যে কোনও ধরনের অপারেশন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। যেখানে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের এই হামলা ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষকে আরও ক্ষতি করতে পারে।

রবিবারের ওই বিমান হামলাটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল এই হামলায় হামাসের অনেক নেতাই মারা যাবে।

কিন্তু এতে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে এর সাথে বিপুল পরিমাণে দাহ্য পদার্থ ছিল। সেটি কীভাবে আসলো সেটি নিয়েই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল ইফাত তোমের ইয়েরুশালমি সহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এই ঘটনার নির্ভুল তদন্তের কথা বলেছে। তিনি বলেছেন, আমরা খুব শীঘ্রই আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা আশা করতে পারি।

রবিবারের হামলাকে নেতানিয়াহু রাফাহতে ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু ভুল লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পরও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

আগের রাতের ভয়ঙ্কর ঘটনার পরও ইসরায়েলি স্থল বাহিনী এখনও রাফাহ শহরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে, এখন তারা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছে। স্থল বাহিনীর এই অভিযানে কোনো রক্তপাত ঘটেনি।

কিন্তু রবিবারের বিমান হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষুণ্ণ করেছে।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের বন্দুকধারীরা ইসরায়েলে হামলা চালানোর পরই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু হয়। তখন প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫২ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, সেই থেকে ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

হার্দিকের ৭০ শতাংশ সম্পত্তি দাবি নাতাশার! বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন

কিছু দিন ধরে হার্দিক পাণ্ড্য এবং নাতাশা স্তানকোভিচের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে জল্পনা চলছে। যদিও এ নিয়ে কেউই মুখ খোলেননি। আইপিএল খেলে হার্দিক চলে গিয়েছেন লন্ডন। সেখানেই আছেন সার্বিয়ান মডেল-অভিনেত্রী। বিবাহবিচ্ছেদের খোরপোশ হিসাবে হার্দিকের সম্পত্তির একটা বড় অংশ নাকি দাবি করেছেন নাতাশা।

সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে নাতাশা ‘পাণ্ড্য’ পদবি মুছে দিয়েছেন। তার পরেই হার্দিকের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্রের খবর খোরপোশ বাবদ অভিনেত্রী হার্দিকের সম্পত্তির ৭০ শতাংশ দাবি করেছেন। তার কমে তিনি নাকি রাজি নন। উল্লেখ্য, হার্দিকের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকার বেশি (মতভেদে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা)। সেই হিসাবে নাতাশা প্রায় ১০৫ কোটি টাকার সম্পত্তি দাবি করেছেন।

স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরে দূরত্ব তৈরি হয়েছে হার্দিকের। গত ৪ মার্চ নাতাশার জন্মদিনেও সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাননি হার্দিক। দীর্ঘ দিন তাঁদের এক সঙ্গে দেখাও যায়নি। সমাজমাধ্যমে এক সঙ্গে দু’জনের ছবি দেখা গিয়েছিল গত ১৪ ফেব্রুয়ারি।

সম্প্রতি আলেকজান্ডার আলেক্সলিকের সঙ্গে একটি রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন নাতাশা। আলেকজান্ডারের সঙ্গে বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানির সম্পর্ক রয়েছে বলে জল্পনা রয়েছে। রেস্তরাঁর বাইরে ছবি তোলেন নাতাশা। তখনই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সত্যিই কি তাঁর আর হার্দিকের মধ্যে কোনও সমস্যা হয়েছে? জবাবে নাতাশা হাসিমুখে বলেন, “ধন্যবাদ”। তার পরে রেস্তরাঁর ভিতরে চলে যান। আর কোনও কথা বলেননি হার্দিকের স্ত্রী।