শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

দেশে ফিরলেন ‘এভারেস্টজয়ী’ বাবর আলী

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ ‘এভারেস্ট’ ও চতুর্থ সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ‘লোৎসে’ জয় করে দেশে ফিরেছেন বাবর আলী। মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে নেপাল থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্ধরে পৌঁছান তিনি।

এরপর নিজ শহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন বাবর। রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। ‘এভারেস্টজয়ী’ বাবর আলীর নিজ শহরে আসার খবর শুনে উচ্ছ্বসিত চট্টগ্রামবাসী।

প্রসঙ্গত, গত ২১ মে বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিটে লোৎসে পৌঁছান তিনি। এর আগে ১৯ মে পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন তিনি। এদিন বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টায় এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন বাবর।

উল্লেখ্য, এমবিবিএস পাস করা বাবর পেশা হিসেবে ডাক্তারিতে থিতু হননি। পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। চাকরি ছেড়ে দেশ-বিদেশ ঘোরার কর্মযজ্ঞ শুরু করেন তিনি। সাইক্লিংয়েও রয়েছে তার আলাদা আগ্রহ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে টাইগারদের প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। আজ রাত ৯টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামার কথা ছিল টাইগারদের। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাতিল করা হয়েছে এই প্রস্তুতি ম্যাচ।

মঙ্গলবার (২৮ মে) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মূলত ডালাসের অতিবৃষ্টির কারণেই আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত।

বিবৃতি জানিয়েছে, ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বনির্ধারিত ওয়ার্ম আপ ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় আক্রান্ত হয়েছে পুরো এলাকাটিই।

আগামী ১ জুন নিউইয়র্কের নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও বাংলাদেশ।

নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৩৪ হাজার। ইতোমধ্যে সেখানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে এই স্টেডিয়াম। এখানে গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

আগামী ২ জুন টুর্নামেন্টের পর্দা উঠলেও ৮ জুন বিশ্বমঞ্চের মিশনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে শান্তর দল। পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মোকাবিলা করবে লাল-সবুজেরা। গ্রুপ পর্বে শেষ দুই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে খেলবে হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।

এমপি আনারের মরদেহের খণ্ডিত মাংস উদ্ধারের দাবি

ভারতের কলকাতায় নিউ টাউনের সঞ্জীভা আবাসনের বিইউ-৫৬ ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে খণ্ডিত মাংস উদ্ধার করেছে পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি। এটি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারের মরদেহের খণ্ডিত মাংস বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ মে) এই মাংস উদ্ধার করা হয়। বিইউ-৫৬ ফ্ল্যাটেই আনারকে হত্যা করা হয়েছিল।

জানা গেছে, এমপি আনারকে হত্যা করে তার মরদেহের মাংস টুকরো টুকরো করে কমোডে ফেলে দিয়েছিল ঘাতক কসাই জিহাদ হাওলাদার। এর পরিমাণ হবে প্রায় ৪ কেজি।

ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া মাংস নিহত এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের মরদেহের কিনা তা এখন বলা যাচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছে ওঠেন বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য।

নিখোঁজের বিষয়ে পরে একটি জিডি করেন আনারের বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপরই শুরু হয় খোঁজ। গত বুধবার (২২ মে) হঠাৎ খবর ছড়ায়, কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জীবা গার্ডেনস নামে একটি আবাসিক ভবনের বিইউ ৫৬ নম্বর রুমে আনোয়ারুল আজীম খুন হয়েছেন। ঘরের ভেতর পাওয়া যায় রক্তের ছাপ। তবে মরদেহ মেলেনি সেখানে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কলকাতায় একজন ও বাংলাদেশে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন তারা। তবে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের জট খোলেনি; মেলেনি মরদেহ কিংবা তার খন্ডিতাংশও।

বিশ্বের সেরা বোলিং লাইনআপ পাকিস্তানের : শহিদ আফ্রিদি

পাঁচ পেসারকে নিয়ে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে পাকিস্তান। আনপ্রেডিক্টেবলের ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে থাকা ৫ পেসার হলেন মোহাম্মদ আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির, নাসিম শাহ, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ।

শাহিন আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন এসব পেসাররা দারুণ বোলিং করছে, এমন কথা যেকোনো ক্রিকেটভক্ত মানেই স্বীকার করবেন। তবে পাকিস্তানের এই পেস বোলিং লাইন-আপ বিশ্বের সেরা কিনা, সেটি নিয়ে হয়তো অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবেন।

এ ক্ষেত্রে দল ও পেসারদের নিয়েই দারুণ আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তানের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি। তিনি মনে করেন, পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী।

শহিদ আফ্রিদির যুক্তি, বিশ্বকাপর স্কোয়াডে থাকা পাকিস্তানের এই ৫ পেসারের বলে ডেপথ আছে। বল করার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতাও অসাধারণ।

আইসিসির পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় শহিদ আফ্রিদি বলেন, আমার মনে হয়, বিশ্বের কোনো ক্রিকেট দলে এমন শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ নেই। আমাদের চার পেস বোলারের প্রত্যেকেই অনেক দক্ষ। এমননি বেঞ্চে থাকা বোলাররা, যেমন আব্বাস আফ্রিদিও বেশ দক্ষ। ভালো স্লোয়ার বলার ক্ষেত্রে তার অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে।

আত্মবিশ্বাসী শহিদ আফ্রিদি মনে করেন, এসব বোলাররা যখন বিশ্ব মানের ব্যাটারদের বিপক্ষে বোলিং করতে আসবে, তখন তারা দুর্দান্ত পারফর্ম করবে।

তবে পাকিস্তানের পেসারদের বোলিং সেটআপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রমিজ রাজা। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে তিনি বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দেন এবং কৌশল উন্নত করার কথা বলেন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, শাহিন শাহ আফ্রিদির বোলিং দেখুন। বলটি যদি সুইং না করে এবং সে ফুল লেন্থে বল করে, তাহলে মার খাবে। তাকে বোলিংয়ের লেন্থ বল এবং গতি পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে যখন সে পিচ থেকে তেমন কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আগামী ৩০ মে জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। পাশাপাশি দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাস আয়োজিত অস্ট্রিয়ার সঙ্গে যৌথ অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি।

তিন দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল, মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট প্রমুখের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্কে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেবেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অণুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ সিডস সম্মেলন ও নিউইয়র্কের কর্মব্যস্ত সফরে দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডায় ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের সম্মেলনে (সিডস) যোগ দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলো স্পেন

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউরোপের দেশ স্পেন। আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। খবর আল জাজিরার।

জানা গেছে, দেশটির মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। স্প্যানিশ সরকারে মুখপাত্র পিলার অ্যালেগ্রিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পিলার আলেগ্রিয়া বলেছেন, ‘মন্ত্রিসভা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যার উদ্দেশ্য হলো—ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের শান্তি অর্জনে সহায়তা করা।’

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অর্জনের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে মনে করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই শান্তি অর্জন করতে চাই তবে…ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি একটি অপরিহার্য প্রয়োজন।’ এ সময় তিনি জানান, পূর্ব জেরুজালেম হবে এই রাষ্ট্রের রাজধানী।

এদিকে, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়েও আজ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা।

স্পেনের আগে মোট ১৪৪টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে কয়েক ঘণ্টার বিতর্কের পর আয়ারল্যান্ডের মন্ত্রিসভাও ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস বলেন, আমরা ইসরায়েল রাষ্ট্র ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে বিশ্বাস করি। দুই রাষ্ট্র পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে বসবাস করবে। আর আমরা এমন এক সময় এটা করতে যাচ্ছি যখন ইসরায়েল ফিলিস্তিনকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে বোমা বর্ষণ করে যাচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে প্যারিসে বিক্ষোভ

গাজা উপত্যকার রাফা শহরে ইসরায়েলের ভয়াবহ গোলাবর্ষণের বিরুদ্ধে সোমবার প্যারিসে ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে প্রায় ১০ হাজার লোক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

ফরাসি রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস থেকে কয়েকশ মিটার দূরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ‘আমরা সবাই গাজার শিশু’, ‘মুক্ত গাজা’ এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনপন্থী শ্লোগান দেয়।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, রাফাতে হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের হামলার একদিন পর এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে ইসরায়েলের হামলায় ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। এই হামলার ঘটনায় ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার মুখে পড়েছে।

সমাবেশের আয়োজনকারী অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্স-প্যালেস্টাইন সলিডারিটি গ্রুপের ফ্রাঁসোয়া রিপ বলেছেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের গণহত্যা।’

এদিকে প্যারিস পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, বিক্ষোভ-সমাবেশে প্রায় ১০ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেছিল।

সমাবেশে একটি বড় ব্যানারে লেখা ছিল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘মানবতাকে হত্যা করছে।’

এদিকে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র।
খবর এএফপি

খালে ময়লা ফেললে গুনতে হবে জরিমানা : ডিএনসিসি মেয়র

খালে কেউ ময়লা ফেলেছে এটা প্রমাণিত হলে তাকে জরিমানা গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি আরবান রেজিলিয়েন্স এবং রিসার্চের জন্য আগামী অর্থবছরে ৫ কোটি টাকার বাজেট রাখার ঘোষণা দেন।

আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘অষ্টম আরবান ডায়ালগ-২০২৪’ এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন ঘোষণা দেন।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে টেকসই নগরায়ণ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডায়ালগটি ঢাবির ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ এবং ২০টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কনসোর্টিয়াম আরবান আইএনজিও ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ঢাকার খালগুলো আমরা দখলমুক্ত করেছি। এখন সময় এসেছে খালগুলোকে দূষণমুক্ত রাখার। আমরা নিজের কথা ভেবেই সব খাল মেরে ফেলেছি, আমরা আমাদের কথা ভাবলে সেগুলোকে নষ্ট করতাম না। মানুষ সচেতন না, ময়লা ফেললে জরিমানার ব্যবস্থা করা হলে মানুষের মাঝে কিছুটা সচেতনতা বাড়বে। সিটি কর্পোরেশন থেকে খালের আশেপাশে অনেকগুলো ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। কেউ খালে ময়লা ফেলেছে এটা প্রমাণিত হলে তাদের শনাক্ত করে তাদের জরিমানার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত ছয়টি দেশ কার্বন এমিশনের জন্য দায়ী। তাদেরই বিশ্বের সমস্যা দূর করতে এগিয়ে আসতে হবে। তারা যুদ্ধের জন্য যা ব্যয় করছে তার ১০ শতাংশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ব্যয় করলেও স্বল্পোন্নত দেশগুলো এত ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তারা ভালো ভালো সবক দেন কিন্তু তারাই আসলে মূল অপরাধী। বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে বাঁচাতে বড় ফান্ড গঠন করতে হবে।

মেয়র আতিক বলেন, আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর পরিবেশ দিতে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবেশ ঠিক রাখতে আমাদের সচেতন হতে হবে, সুনাগরিক হতে হবে। আমরা দুই বাড়ির মাঝে বা খালে ময়লা না ফেলবো না। পরিবেশ ঠিক রাখতে নিজ বাড়ির পাশে গাছ লাগাবো। এতে আমাদের পরিবেশ ঠিক থাকবে। এ সময় তিনি খাল দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত রাখার জন্য সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

ডিএনসিসির কাজ উল্লেখ করে মেয়র আতিক বলেন, আমরা স্মার্ট সিটি কর্পোরেশন গড়তে ২৪টি পার্ক উদ্ধার করেছি, ৫৪টি খাল দখলমুক্ত করেছি। আমাদের ট্যাক্স প্রদানে সমস্যা দূর করতে অনলাইনে করেছি। ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনভিত্তিক করেছি। অনলাইনে অভিযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। ‘সবার ঢাকা অ্যাপস’ চালু করেছি যেখানে কেউ সমস্যার ছবি তুলে জানাতে পারবে। ফলে আমাদের লোকেরা সাথেসাথে সেখানে গিয়ে সমস্যা সমাধান করে আসবে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করেছি। এডিস মশা দূর করার জন্য অভিযান চালাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো আগে পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারপর আরবান এলাকা গঠন করে। কিন্তু আমাদের দেশে আগে আরবান এলাকা তৈরি হয় পরবর্তীতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। যদিও বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ আরবান এলাকায় বসবাস করে। অপরিকল্পিতভাবে শহর গড়ে উঠায় সেখানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারে না। যা বড় রিস্কের তৈরি করে থাকে। তাছাড়া আমাদের সবুজায়ন কমে গেছে, নদী-খাল-বিলের পরিমাণও কমেছে। ফলে প্রতিনিয়ত শহরাঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে।

তিনি বলেন, আমাদের শহরাঞ্চলের বাতাসে মিথেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অনেক বেশি। এমনকি কোভিড শুরুর কয়েক মাস ঢাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও দূষণের পরিমাণ বেশি ছিল। বর্তমান সরকার ‘মাই ভিলেজ মাই টাউন’ সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এর ফলে গ্রামাঞ্চলও শহরের মত সুযোগ সুবিধা থাকবে। ফলে মানুষ মাইগ্রেট কমিয়ে তার এলাকাতেই থাকতে পছন্দ করবে। তাছাড়া সরকার শহরের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, খাল দখল এবং ডেল্টা প্লানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের আরবান এলাকাগুলো আবার বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

রাত ২টা পর্যন্ত দুর্যোগ মনিটর করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও উপকূলীয় এলাকার মানুষকে নিরাপদে রাখতে রাত ২টা পর্যন্ত দুর্যোগ মনিটর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ল্যান্ডফোনে নিজেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় যোগাযোগ করে পরিস্থিতি মনিটর করেছেন, সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (২৮ মে) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আলোচনা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুস সালাম ও পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরেন।

সচিব বলেন, রাত ২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি মনিটরিং করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ল্যান্ডফোনে নিজেই কথা বলেন। আমরা ফোন ব্যবহার করি। কিন্তু ল্যান্ডফোন বিপদে অনেক কাজে লাগে, এ বিষয়ে সচেতন থাকতে বলেছেন। সব সরকারি কর্মকর্তাকে দুর্গতের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ঘূর্ণিঝড়ে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ঝড়ে অনেক বাঁধ নষ্ট হয়েছে। এগুলো দ্রুত সংস্কার করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকার ট্রাফিক সমস্যা দূর করতে কাজ করছে ডিএমপি-জাইকা

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান বলেছেন, রাজধানীর ট্রাফিক সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে এক যোগে কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। যানজট সমস্যা দূর করতে জাইকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে ডিএমপির মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ডিএমপি কমিশনারের নেতৃত্বে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। যাতে করে রাজধানীবাসীর ট্রাফিক সমস্যাটা কিছুটা হলেও দূর করতে পারি। সেটির অংশ হিসেবে আমাদের উন্নয়ন সহযোগী জাইকা ডিএমপির সঙ্গে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারমধ্যে রয়েছে জনসচেতনতা তৈরি, ট্রাফিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ।

তিনি বলেন, দুই বছর ধরে কাজ চলমান। এখন যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটি হলো ঢাকাবাসীর মধ্যে সামগ্রিকভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে‌ সচেতনতা সৃষ্টি করা। রোড সেফটি রোড ব্যবহার ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাইকা মডেল হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় শিশু ট্রাফিক পার্ক তৈরি হবে জানিয়ে এস এম মেহেদী হাসান বলেন, আমরা দেখেছি, জাপান সরকার ১৯৬০-এর দশক থেকে এ কাজগুলো করে আসছে। আমাদের ট্রাফিকের যে কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, তাদের মতামতের ভিত্তিতে জানা গেছে, জনসচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে আমরা শিশু বয়সে আছি। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে আমরা শিশুদের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত এক-দুই বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। শিশুরা যেন ছোটবেলা থেকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন থাকে এ লক্ষ্যে আমরা অদূর ভবিষ্যতে শিশু ট্রাফিক পার্ক করতে যাচ্ছি।

কিছুদিন আগে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ১৩ জন পুলিশ সদস্য জাপান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা ডেটা এনালাইসিস করে কোন জায়গায় যানজট বেশি হচ্ছে এবং কোন জায়গায় দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে এ সব বিষয়ে বিশ্লেষণ করছি। এ সব জায়গায় কাজে আমরা গুরুত্বারোপ করছি।