বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

ভারতের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক সৃষ্টি করে দেশের ক্ষতি করেছে বিএনপি : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ভারতের সাথে বৈরী সম্পর্কে সৃষ্টি করে এদেশের ক্ষতি করতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদ্বয়ের যৌথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের সঙ্গে সব সমস্যা আলোচনার টেবিলে সমাধান করবো। বন্ধুত্বপূর্ণ, ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক চাই। জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কারো সাথে সম্পর্ক রাখবো না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মিয়ানমার ছাড়া আমাদের তিন দিকে ভারত বেষ্টিত। তাই যেকোনো সমস্যার সমাধান করব আলোচনার মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যে সীমান্ত সমস্যা ছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তা পার্লামেন্টে তুলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সে সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণভাবে কাজ করছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পৃথিবীর কোথাও কখনো শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশে তা শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে, কারণ আমরা সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা যায়। অথচ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ভারতের সঙ্গে বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। খালেদা জিয়া তো ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানিচুক্তির কথা বলতেই ভুলে গিয়েছিলেন।

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, সিলেটে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ত্রাণ কার্যক্রম এবং উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। সিলেট অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের পানিবন্দি মানুষকে সাধ্যমতো সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, হীরক জয়ন্তী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভাসহ ১০ দফা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীতে শুক্রবার (২১ জুন) বেলা ৩টায় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মাহবুবউল আলম হানিফ প্রমুখ।

উচ্চ মূল্যের পণ্য তৈরিতে মনোযোগী হতে হবে : এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিম বলেছেন, শুধু রফতানি আয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে উচ্চ মূল্যের পণ্য তৈরিতে মনোযোগী হতে হবে। অনেক পণ্যের কাঁচামাল ও জ্বালানি তেল উভয়ই আমদানি পণ্য। এসব দিয়ে পণ্যের আমদানি বাড়িয়ে পণ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। এতে বাড়বে দেশের রফতানিও।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাজধানীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভবনে বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতির বিবর্তন, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা নিয়ে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

দেশে এখন লিফট উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে এখন মাটির নিচে স্থাপনযোগ্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাবল উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নীতি সহায়তা দিচ্ছে সরকার।

দেশের চামড়া শিল্পের বিকাশে এনবিআর কাজ করছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে পিছিয়ে পড়ছে দেশের চামড়া শিল্প। এ খাতের পণ্য রফতানি বাড়াতে সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এজন্য এনবিআর থেকে টিম গঠন করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় গার্মেন্টস পণ্য। তবে অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও এই পরিমাণ বাড়াতে হবে। দেশের চাহিদা পূরণেই অন্যান্য পণ্যের উৎপাদান বাড়াতে হবে। এতে দেশের চাহিদা পূরণ করে বাইরে রফতানির উদ্যোগ তৈরি হবে।

কোরবানির পশুর হাটে ভাইরাল হওয়া অনেক পশুর মধ্যে এখন অনলাইনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ১৫ লাখ টাকার ছাগল। কোরবানি শেষ হলেও থামছে না এ ছাগলকাণ্ড; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড়। তবে এ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিমকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, ‘এটা কোনো প্রশ্ন নয়। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেব না।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

রেশন দুর্নীতি মামলায় ঋতুপর্ণাকে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) জেরার মুখে পড়েন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিনি বাংলাদেশের অভিনেতা ও সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদের বন্ধু। একই সঙ্গে দুই দেশেই সমান জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

আজ দুপুর ১২ টা ৫৫ মিনিটে সল্টলেকের ইডির দফতরে ঢুকেছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

যখন বের হন তখন ঘড়ির কাঁটায় ৫টা ৪৯ মিনিট। অর্থাৎ প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে ইডির ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হতে হল টলিউডের এভারগ্রিন নায়িকাকে।
হিন্দুস্থান টাইমস-এর তথ্য মতে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যখন বের হন এই অভিনেত্রী তখন চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ। এসময় অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাকে ওনাদের তদন্তের জন্য কিছু ডকুমেন্টস দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল, আমি সেটা করে দিয়েছি।

ওনারা আমার সহযোগিতায় খুশি। এই দুনীর্তির সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই’।

ঋতুপর্ণা বলেন, ‘ওনারাও সহযোগিতা করেছেন, আমরাও করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।

এরপরে যখন কিছু হবে আমি বলব’। ঋতুপর্ণাকে ফের তলব করা হয়েছে কিনা, সেই সম্পর্কেও কিছু জানাননি তিনি। শুধু বলেন, ‘এটা ডিপার্টমেন্ট আর আমাদের ব্যাপার’।
এদিন ঋতুপর্ণার সঙ্গে ছিলেন তাঁর ম্যানেজার শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্য়ায় ও আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী। রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক অভিযুক্তের সঙ্গে ঋতুপর্ণার আর্থিক লেনদেনের তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের, এমনটাই জানিয়েছে ইডির সূত্র।

যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এই বিষয়ে মুখ খুলতে না-রাজ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। জানা যাচ্ছে, অভিযুক্তের সঙ্গে প্রায় কোটির অংকে আর্থিক লেনদেন হয়েছে একটি সংস্থার, সেই সংস্থার প্রোপ্রাইটর হিসাবে নাম রয়েছে অভিনেত্রীর।
অভিনেত্রীর আইনজীবী জানান, ‘ঋতুপর্ণা সিনেমা প্রডিউস করার জন্য টাকা নিয়েছিলেন সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়ে গেছে। তবে সেটা রেশন বন্টন দুর্নীতির কিনা আমরা জানি না। মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের টাকা নাকি সেটাও জানি না। ইডিকে উনি পূর্ণ সহযোগিতা আজকে করেছেন। ফের তাঁকে আর তলব করা হয়নি। আর কোন ডকুমেন্টস চাওয়া হয়নি’।

অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির আর্থিক নয়ছয়ের মামলায় নাম জড়িয়ে পড়েছিল টলিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর। ২০১৯ সালে রোজভ্যালি মামলায় তাঁকে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তখন ইডির তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা।

প্রসঙ্গত গত ৭ জুন মুক্তি পেয়েছে ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ জুটির অযোগ্য। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালনায় তৈরি এই ছবি ইতিমধ্যেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। ১০ দিনে ছবির আয়ের অংক ১ কোটি পার করেছে। দু-সপ্তাহে ১.৫ কোটির গণ্ডি পার করবে অযোগ্য, আশা বিশেষজ্ঞদের। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন শিলাজিৎ মজুমদার, লিলি চক্রবর্তীও।

তীব্র তাপদাহ : সৌদিতে ৯২২ হজযাত্রীর মৃত্যু

সৌদি আরবে চলমান তীব্র তাপদাহে এখন পর্যন্ত ৯২২ জন হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাদের খোঁজে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের। নিখোঁজ হজযাত্রীদের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়রা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি আপলোড করে সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন।

গুগল নিউজে ফলো করুন আরটিভি অনলাইন
সৌদির সরকারি প্রশাসন, মক্কার বিভিন্ন হাসপাতাল এবং সৌদির বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সহায়তার ভিত্তিতে মৃত হজযাত্রীদের একটি সংখ্যাগত টালি করেছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি। সেই টালির সর্বশেষ তথ্য থেকে মৃত হজযাত্রীদের এই সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত ১৪ জুন থেকে শুরু হয় এবারের হজের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগেই সৌদির হজ মন্ত্রণালয় এক বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে জানায়, হজের সময় ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে পারে সেখানকার তাপমাত্রা। সেইসঙ্গে তীব্র এ তাপদাহ থেকে হজযাত্রীদের নিরাপদ রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি হজযাত্রী ও তাদের এজেন্সিগুলোর প্রতি জারি করে কিছু নির্দেশনাও।

সৌদির আবহওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরে মক্কার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সোমবার মক্কার তাপমাত্রা ছিল ৫১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জানা গেছে, মৃতদের অধিকাংশই মিসরের নাগরিক। মক্কার প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, হজের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬০০ মিসরীয় হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

মিসর ছাড়াও জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সেনেগাল, তিউনিসিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকরাও রয়েছেন মৃত হজযাত্রীদের তালিকায়। সৌদির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবার হজ করতে গিয়ে মারা গেছেন ২৭ জন বাংলাদেশি। আর হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) বলছে, সৌদিতে এখন পর্যন্ত ৩০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ২৭ জনের তথ্য সৌদি সরকার অফিসিয়ালি ঘোষণা করেছে। বাকি তিনজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

হাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেছেন, বাংলাদেশের তিনজন হজযাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। তারা মারা গেছেন বলে তাদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সি আমাকে নিশ্চিত করেছে, কিন্তু এখনো সৌদি সরকার ঘোষণা করেনি।

এদিকে হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, অফিসিয়ালভাবে ঘোষিত মারা যাওয়া ২৭ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মধ্যে ২২ জন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। তাদের মধ্যে মক্কায় ২০ জন, মদিনায় চারজন, মিনায় দুইজন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৮ লাখ হজযাত্রী এবার হজ করতে পা রাখেন সৌদি আরবে। বিদেশি হজযাত্রীদের অনেকেই মক্কার তীব্র গরমে অভ্যস্ত নন। তাছাড়া এই হজযাত্রীদের মধ্যে এমন হাজার হাজার যাত্রী রয়েছেন, যারা বিধি মেনে সৌদিতে আসেননি। ফলে প্রখর তাপপ্রবাহ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে যাত্রীদের জন্য যেসব সুবিধা ও পরিষেবা বরাদ্দ করেছে সৌদির সরকার, সেসব তারা পাচ্ছেন না। এমনকি থাকা, খাওয়া এবং এয়ার কন্ডিশন সুবিধাও পাচ্ছেন না অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশ করা এই হজযাত্রীরা।

সৌদি প্রশাসন বলছে, যেসব হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, তাদের একটি বড় অংশই অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশ করেছিলেন।

এদিকে হজের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন বহুসংখ্যক যাত্রী। এই গরমে নিরাপদ আশ্রয়ের বাইরে থাকা এই হজযাত্রীদের সবাই বেঁচে আছেন— এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই সামনের দিনগুলোতে মৃত হজযাত্রীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের। নিখোঁজ হজযাত্রীদের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়রা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি আপলোড করে সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন।

মক্কার বিভিন্ন হাসপাতালের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, গরমের কারণে শুধু রোববারই হিটস্ট্রোক ও বিভিন্ন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি হজযাত্রী।

গত বছর হজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছিলেন দুইশ’র কিছু বেশি হজযাত্রী। সেই তুলনায় এবার মৃতের সংখ্যা চারগুণেরও বেশি, যা সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সুপার এইটে ইংল্যান্ডের শুভসূচনা

হাই স্কোরিং ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সুপার এইটে শুভসূচনা করেছে ইংল্যান্ড। চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে ক্যারিবীয়দের গড়া ১৮০ রান সহজেই টপকে ফেলেছে ইংলিশরা।

এই ম্যাচে বর্তমান চ্যম্পিয়নরা ১৫ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন সামি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে শুরুতেই ঝড় তোলেন ইংলিশ ওপেনার ফিল সল্ট। তাকে সহায়তা করেন অধিনায়ক জস বাটলার। ৭.৪ ওভারে ৬৭ রানের জুটি করেন তারা। বাটলার ২২ বলে ২৫ রান করে এলবিডব্লিউ হন রস্টন চ্যাজের বলে।

ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি মঈন আলি। ১০ বলে ১৩ রান করে আন্দ্রে রাসেলের বলে জনসন চার্লসের হাতে ক্যাচ হন তিনি।

এরপর ক্যারিবীয় বোলারদের তুলোধুনো করেন সল্ট ও জনি বেয়ারেস্টো। চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে ৪৪ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের জুটি করেন তারা। এতেই জয় নিশ্চিত হয় ইংলিশদের।

৪৭ বলে ৮৭ রান করে ম্যাচসেরা হন সল্ট। ৫ ছক্কা আর ৭ বাউন্ডারিতে এই রান করেন ইংলিশ ওপেনার। ২৬ বলে ৪৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন বেয়ারেস্টো।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১৩ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে অপ্রত্যাশিতভাবে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার ব্রান্ডন কিংকে। তখন ক্যারিবীয়দের স্কোরকার্ডে ৪০ রান।

এরপর নিকোলাস পুরানকে নিয়ে ৪১ বলে ৫৪ রানের জুটি করেন জনসন চার্লস। ৩৪ বলে ৩৮ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলেন চার্লস। মঈন আলির বলে হ্যারি ব্রুকের হাতে ক্যাচ হন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

বড় পুঁজি গড়ায় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল বড় ভূমিকা রাখেন। পুরানের সঙ্গে ২৩ বলে ৪৩ রানের জুটি করে ফেরেন তিনি। এর মধ্যে দানবীয় ব্যাটিংয়ে তার একার ব্যাট থেকেই থেকে আসে ১৭ বলে ৩৬ রান (৫ ছক্কায়)। ১৫তম ওভারে লিয়াম লিভিংস্টোনকে ৩ ছক্কা হাঁকানোর পর শেষ বলে আরও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট থার্ড অঞ্চলে ক্যাচ হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

দেখেশুনে পুরান খেলেন ৩২ বলে ৩৬ রানের ইনিংস। জোফরা আরচারের বলে উইকেটরক্ষক জস বাটলারের হাতে ক্যাচ হন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এরপর কোনাে জুটি করা ছাড়াই দুটি উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ষষ্ঠ উইকেটে এসে আরও একটি দারুণ জুটি পায় ক্যারিবীয়রা। ঝড় তোলেন শারফেন রুথারফোর্ড। ১৫ বলে ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। সঙ্গে রোমারিও শেফার্ড ৭ বলে ৫ রাানের সহায়তা করলে এই অপরাজিত জুটি থেকে আসে ১৯ বলে ৩৮ রান।

ইংল্যান্ডের হয়ে একটি করে উইকেট নেন জোফরা আরচার, আদিল রশিদ, মঈন আলি, লিয়াম লিভিংস্টোন।

সুফিয়া কামালের সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের প্রেরণার উৎস : রাষ্ট্রপতি

কবি সুফিয়া কামাল রচিত সাহিত্যকর্ম নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

তিনি বলেন, কবির জীবন ও আদর্শ এবং তার কালোত্তীর্ণ সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের নারী সমাজের এক অনুকরণীয় উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তিনি নারী সমাজকে কুসংস্কার আর অবরোধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) কবি সুফিয়া কামালের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালে বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া করেন এবং ছোটোবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষা ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠতো সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের পাশাপাশি সমাজের সার্বিক চিত্র। নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া ছিলেন তার অনুপ্রেরণার উৎস।

তিনি বলেন, কবির প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশিত হয় সওগাত পত্রিকায় ১৯২৬ সালে। ১৯৩৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’ প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন, যার ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। সুফিয়া কামাল দীর্ঘকাল সাহিত্যচর্চা, সমাজসেবা ও নারী কল্যাণমূলক নানান কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নারীদের সংগঠিত করে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশাত্মবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে তিনি ছিলেন অগ্রদূত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল সুফিয়া কামালের জীবনব্যাপী সংগ্রামের প্রধান লক্ষ্য।

রাষ্ট্রপতি মহীয়সী এ নারীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

হামাসকে নির্মূল করা সম্ভব নয়, স্বীকার করলো ইসরায়েল

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রধানতম লক্ষ্য ছিল, হামাসকে হারানো। কিন্তু টানা আট মাস ধরে অভিযান চালিয়ে ৩৭ হাজারের বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর এখন তারা বলছে, স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করা সম্ভব নয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র গত বুধবার (১৯ জুন) বলেছেন, হামাস একটি আদর্শ। আর কোনো আদর্শকে নির্মূল করা যায় না। ইসরায়েলি কোনো কর্মকর্তার মুখ থেকে এ ধরনের কথা এটিই প্রথমবার শোনা গেলো।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আচমকা হামলার পর গাজায় অভূতপূর্ব আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এই অভিযানে তারা হামাসের প্রতিপত্তি নির্মূলে ব্যর্থ হলেও ডেকে এনেছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। গত আট মাসে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৩৭ হাজার ৩৯৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হযেছেন আরও ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ।

ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৩’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, আমরা হামাসকে নির্মূল করতে যাচ্ছি, এটি হলো মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা দিতে না পারলে হামাস শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে।

তার কথায়, হামাস হলো একটি আদর্শ। আর আমরা কোনো আদর্শকে নির্মূল করতে পারি না।

উচ্চপদস্থ একজন সেনা কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে ইসরায়েলে। এরই মধ্যে তার ওই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। নেতানিয়াহু বারবার বলে এসেছেন, হামাস পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের গাজা আক্রমণ শেষ হবে না।

তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে হামাসের সামরিক ও সরকারি সক্ষমতা ধ্বংস করাকে নির্ধারণ করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্যই এর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিতর্কের মুখে পরে নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়ার অ্যাডমিরাল হাগারি হামাসকে ‘একটি আদর্শ হিসেবে’ সম্বোধন করেছিলেন এবং তার বিবৃতি ‘পরিষ্কার ও স্পষ্ট’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। অন্য যেকোনো দাবি বক্তব্যটিকে প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।

১৪ দিনে এলো ১৬৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স

ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৪ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।

বুধবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, চলতি জুন মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। আর গত জানুয়ারির প্রথম ১৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০০ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়াও ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছে ১০০ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, মার্চ মাসে এসেছে ৯৫ কোটি ৬ লাখ ডলার, এপ্রিলে এসেছে ৯৪ কোটি ৩৬ লাখ, মে মাসে এসেছে ১১১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেক বেড়েছে ।

এদিকে, জুনের ১৪ দিনে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৩ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১২০ কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে, গত মে মাসে দেশে এসেছে চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ ২২৫ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ মুহূর্তে ২৬টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে; তবে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সাড়া মিলছে না।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাজধানীর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভবনে বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতির বিবর্তন, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা বিষয়ে এক সেমিনারে বক্তব্য দেন তিনি।

রফতানি বাড়াতে আমদানির বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অনেক পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তাই রফতানি বাড়াতে কাঁচমাল আমদানি করতেই। কেবল উৎপাদন বাড়ালেই রফতানি বাড়ানো সম্ভব।

বঙ্গোপসাগরকে যুক্ত করে বিশ্ববাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা চলছে জানিয়ে আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, এক্ষেত্রে গত তিন মাসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছ। বাংলাদেশ সম্পর্কে সবার ধারণা পজিটিভ।

ট্যারিফ পলিসির সঙ্গে লজিস্টিক পলিসি পরিবর্তন করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে গ্লোবালি কীভাবে সুবিধা নেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

টিটু দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে আরও কাজ করার তাগিদ দিয়ে বলেন, এ শিল্প এখন ভালো অবস্থানে আছে। দেশের মানুষ এখন বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতেও যাচ্ছেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিম, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

সুফিয়া কামাল গণতান্ত্রিক ও নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ : প্রধানমন্ত্রী

কবি বেগম সুফিয়া কামালের জীবনদর্শন ও সাহিত্যকর্ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পাঠকের হৃদয় আলোকিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা ও প্রতিজ্ঞা কবি সুফিয়া কামালের জীবনে সঞ্চারিত হয় ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ছাত্রীনিবাসের নাম ‘রোকেয়া হল’ রাখা হয়। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার বেতারে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে তিনি আন্দোলন গড়ে তোলেন।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বেগম সুফিয়া কামালের ১১৩তম জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত ও গণতান্ত্রিক এবং নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ কবি বেগম সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুবরণ করেন ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায়। একদিকে তিনি ছিলেন আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি, অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তার আপসহীন এবং দৃপ্ত পদচারণা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামসহ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি তাকে জনগণের ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে অভিষিক্ত করেছে। তার স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ‘বেগম সুফিয়া কামাল হল’ নির্মাণ করে।

তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা পর এ দেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়। তখন তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছিল।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বেগম সুফিয়া কামালের সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চলতে থাকে তার সাহিত্যচর্চা। ১৯৩৮ সালে কবি সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাজের মায়া’র মুখবন্ধ লেখেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। যা সেই সময়ের পাঠকসহ লেখকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার, নারীমুক্তি এবং শিশুতোষ রচনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনীতে সমৃদ্ধ হয়েছে। কবির ভাষায়- ‘তোমাদের গানে, কল-কলতানে উছসি উঠিবে নদী, সরস করিয়া তৃণ ও তরুরে বহিবে সে নিরবধি; তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি ডাকা রাঙা ভোর, জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর’।