বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

রংপুরে আবু সাঈদের বাড়িতে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

সম্পাদক-ইমারত হোসেন
ছাত্র আন্দোলনে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বাড়িতে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ শনিবার বেলা ১১টার পরে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে যান। তাঁর সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুজন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া রয়েছেন।

সকাল সাড়ে ১০টার পরে হেলিকপ্টার যোগে ড. ইউনূস ও দুই উপদেষ্টা পীরগঞ্জের মেরিন একাডেমিতে অবতরণ করেন। এরপর তিনি আবু সাইদের বাড়িতে যান। তিনি ও দুই উপদেষ্টা আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। পরে আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

পীরগঞ্জ থেকে সড়কপথে ড. মুহাম্মদ ইউনুস কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহতদের দেখতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। এরপর তিনি রংপুর সার্কিট হাউসে অবস্থান করবেন।

আবু সাঈদের বাড়িতে ডাকসুর সাবেক সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমও গিয়েছেন।

গত ১৬ জুলাই রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘাতে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন। ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে আন্দোলন জোরদার হয়। একপর্যায়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।

এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গত বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টাসহ এ সরকারের সদস্যসংখ্যা ১৭।

শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি, এখনও তিনি বৈধ সরকার: রয়টার্সকে জয়

সম্পাদক-ইমারত হোসেন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে ভারত চলে যান শেখ হাসিনা। তবে তিনি কখনোই পদত্যাগ করেননি বলে দাবি করেছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। বললেন, সংবিধান অনুযায়ী তার মা এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (১০ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন দাবি করেন।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, আমার মা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি। সেই সময় তিনি পাননি। একটি বিবৃতি দিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু এরপর আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো এবং তখন আর সময় ছিল না। এমনকি আমার মা গোছানোর সময়টুকুও পায়নি।

জয় জানান, প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সরকারের মেয়াদ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

তবে আগামী তিন মাসের ভেতর বাংলাদেশে নির্বাচন দেখতে চান জয়। যেখানে অংশ নেবে আওয়ামী লীগও। আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে জানিয়ে জয় বলেন, সেটা না হলে আমরা বিরোধী দল হব। যেটাই হোক ভালো হবে।

এদিকে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দুদিনের মাথায় ঢাকায় বিএনপির প্রথম সমাবেশে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা নয়, দেশ হোক শান্তির।

এ প্রসঙ্গে জয় বলেন, আমি খালেদা জিয়ার ভাষণ শুনে খুশি হয়েছি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন করতে আমি বিএনপিকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তাদের সঙ্গে কাজ করে নিশ্চিত করতে হবে যে, আমাদের শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্র রয়েছে যেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতিতে আলাপ-আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তর্ক করতে পারি এবং সবসময় একটি সমঝোতার পথ খুঁজে বের করতে পারি।

হাসিনাপুত্র বলেন, আসুন আমরা অতীতকে ভুলে যাই। আমরা যেন প্রতিহিংসার রাজনীতি না করি। ঐক্যবদ্ধ সরকার হোক বা না হোক, আমাদের একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর বিষয়ে সাক্ষাৎকারে জানতে চাওয়া হলে জয় দাবি করেন, তার মা শেখ হাসিনা গুলি চালানোর কোনো নির্দেশনা দেননি। তার মতে, সরকার একটি বড় বিষয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর পক্ষে ছিলেন না। যে বা যারা গুলি চালিয়েছেন তাদের আইনের আওতায় আনার দাবিও তোলেন তিনি।

জয়ের দাবি, পুলিশ সহিংসতা বন্ধ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কিছু পুলিশ অফিসার অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে।

সাক্ষাৎকারে দল এবং দেশের জনগণ চাইলে মায়ের অবসরের পর আওয়ামী লীগের হাল ধরতে পারেন বলে জানান জয়। তিনি বলেন, দল যদি আমাকে চায়, আমি অবশ্যই বিবেচনা করব। আরেক প্রশ্নে জয় বলেন, যখন ইচ্ছা তিনি দেশে ফিরতে পারেন। তিনি কখনও কোনো অন্যায় করেননি জানিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, তাহলে আমি দেশে ফিরতে চাইলে কেউ ঠেকাতে যাবে কেন?

শেখ হাসিনা দেশে ফিরে যেকোনো বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলেও জানান জয়। তিনি বলেন, গ্রেফতারের হুমকিতে আমার মা আগে কখনো ভয় পাননি। আমার মা কোনো অন্যায় করেননি। শুধু তার সরকারের লোকেরা বেআইনি কাজ করেছে, তার মানে এই নয় যে, আমার মা আদেশ দিয়েছেন এবং এজন্য তিনি দায়ী।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগকে প্রয়োজন উল্লেখ করে জয় বলেন, আমাদের সাহায্য ছাড়া, আমাদের সমর্থক ছাড়া আপনারা দেশে কখনও স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারবেন না।

রয়টার্সের দেয়া তথ্যমতে, সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন আগস্টের শুরুতে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়। জেলায় জেলায় সহিংসতায় মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রায় তিনশ মানুষের প্রাণ যায়। ৫ অগাস্ট আন্দোলনারীদের ঢাকামুখী লংমার্চের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর আসে। সেদিন বিকালে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সাংবাদিকদের বলেন, পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথমে হেলিকপ্টর ও পরে সামরিক বিমানে চড়ে আগরতলা হয়ে সেদিন রাতেই দিল্লি পৌঁছান বাংলাদেশের টানা ১৫ বছরের প্রধানমন্ত্রী। এখনও তিনি সেখানেই আছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রবীন্দ্রসরোবরে জড়ো হয়ে শহীদ মিনারে সংগীতশিল্পীরা

সম্পাদক-ইমারত হোসেন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় নিহত, গণগ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রতিবাদে কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন দেশের ব্যান্ড সংগীতশিল্পীরা। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে ‘গেটআপ, স্ট্যান্ডআপ’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তবে ঠিক একই সময়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনরত সবাইকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কেরা। তাই সংহতি জানাতে সংগীতশিল্পীরা রবীন্দ্রসরোবরে জড়ো হয়ে শহীদ মিনারে যাবেন।

সোনার বাংলা সার্কাস ব্যান্ডের টিম লিডার প্রবর রিপন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রসরোবরে আমাদের “গেটআপ, স্ট্যান্ডআপ” দুদিন আগে নির্ধারিত কর্মসূচি, সবাইকে এখানে আসার কথা জানানোর পর আমরা জেনেছি শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনারের কর্মসূচির কথা। আমরা এখন বেলা ৩টায় রবীন্দ্রসরোবরে সবাই জড়ো হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাব। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি। শিক্ষার্থীদের পাশে আমরা আছি।’ সুরকার প্রিন্স মাহমুদসহ আরও অনেকে এমন পোস্ট দিয়েছেন।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমরা সংগীতশিল্পীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে রবীন্দ্রসরোবরে (ধানমন্ডি ৮/এ) মিলিত হব। সংগীতের মাধ্যমে আমরা আমাদের সমর্থন প্রদর্শন করব। যাঁরা ঢাকার বাইরে আছেন, তাঁরা নিজ নিজ জেলার উপযুক্ত স্থানে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করবেন। আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই সংহতি হোক শান্তিপূর্ণ এবং গানে গানে। আমরা বাংলা গানের সেসব লাইন দিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করব, যা বিভিন্ন সময় আন্দোলন ও প্রতিবাদে মানুষের মুখে মুখে ছিল। আমরা সবাই একসঙ্গে এ গানগুলো গাইব, এভাবেই আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানাব।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের সব মিউজিশিয়ানের উপস্থিতি এখানে মুখ্য। আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়ালে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হবেন এবং শক্তি অনুভব করবেন যে আমরা তাঁদের পাশে আছি। এটাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য এখানে একত্র হওয়ার। আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করব।’

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘গেটআপ, স্ট্যান্ডআপ’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ব্যান্ডজগতের শীর্ষ তারকারা। কিংবদন্তি শিল্পী বব মার্লের গানের সঙ্গে মিল রেখে সংগীতশিল্পীরা তাঁদের এ কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘গেটআপ, স্ট্যান্ডআপ’। এ শিরোনামের একটি পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ফেসবুকে পোস্টারটি শেয়ার করেছেন মাকসুদুল হক, মানাম আহমেদ, পার্থ বড়ুয়া, বাপ্পা মজুমদার, প্রিন্স মাহমুদ, জন কবির, ন্যান্সি, এলিটা করিম, আরমীন মূসা, প্রবর রিপন, জয় শাহরিয়ার, এ কে রাহুল, খৈয়াম শানু সন্ধি, ব্যান্ড মাইলস, জলের গান, শিরোনামহীন, আর্টসেল, ব্ল্যাক প্রমুখ।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় প্রধানমন্ত্রী, নাকচ করলেন সমন্বয়করা

সম্পাদক- ইমারত হোসেন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান আওয়ামী লীগ ও ১৪–দলীয় জোটের নেতারা। আলোচনার জন্য আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় থাকতে ১৪–দলীয় নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

অবশ্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার আমাদেরকে বলেছেন, ‘এখন আর আলোচনার সুযোগ নেই। সিদ্ধান্ত আসবে রাজপথ থেকে।’

আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে তিনজনকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও মাহবুব উল আলম হানিফ।

দলীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকেও আলোচনায় থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, সমন্বয়কদের সঙ্গে তাঁদের এখনো যোগাযোগ হয়নি। যোগাযোগ করা হবে।

এদিকে ‘সারা দেশে ছাত্র-নাগরিকের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে খুনের প্রতিবাদ ও ৯ দফা’ দাবিতে গতকাল শুক্রবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তারা আজ শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও পরদিন রোববার থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

এর মধ্যেই আলোচনায় বসার উদ্যোগের বিষয়টি জানা গেল। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার সরকারের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। আজ বেলা দুইটার দিকে তিনি আমাদেরকে বলেন, নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার, দায়ীদের পদত্যাগ ও আটক এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তিসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন চলমান আছে।

কারও সঙ্গে আলোচনা নয়, সিদ্ধান্ত আসবে রাজপথ থেকে—এই মন্তব্য করে আবু বাকের আরও বলেন, ‘যখন আমরা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কার্যালয়ে বন্দী ছিলাম, তখনই আন্দোলন স্থগিত করতে বলা হয়েছিল। এমনকি জোর করে আলোচনার জন্য নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও চলছিল। এই প্রস্তাবের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে আমরা অনশনে বসেছিলাম।’

আবু বাকের বলেন, তাঁরা আপসহীন থাকবেন। এ জন্য যেকোনো মূল্য পরিশোধে রাজি।

গণভবনের দরজা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা: প্রধানমন্ত্রী

চলমান বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ঠেকাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গণভবনে তাঁর সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এজন্য বৈঠকের দায়িত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমি বসতে চাই, তাদের কথা শুনতে চাই। আমি সংঘাত চাই না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন।

মো: বাহার উদ্দিন মিশন, ঢাকা প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন, শাহবাগে ছাত্রলীগ-যুবলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কাউকে পরিচয়পত্র দেখানো ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র ও জনতার ব্যানারে গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন। জানাজার পর তাঁরা সেখানেই অবস্থান করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থেকে বের হওয়ার সময় তাঁদের মুঠোফোন তল্লাশি করা এবং মারধর করতেও দেখা গেছে। বেলা তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে অন্তত তিনজনকে মারধর করা হয়। তাঁদের দুজনকে পুলিশ রক্ষা করে। এজন দৌড়ে শাহবাগ থানার মধ্যে ঢুকে যান।

আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আজ সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তাঁদের ধরে ধরে মারধর করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সারা দেশে আন্দোলনকে কেন্দ্র হামলা, সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় ছয়জন মারা যান, যার মধ্যে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীও আছেন। গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করেন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

আজ ক্যাম্পাসে ঢুকতে গেলে প্রত্যেকের পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া বহিরাগত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না।

বেলা দুইটার পর ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বেশিসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকা এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে। উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন।

এর আগে দুপুরে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে একটি সমাবেশ হয়।

‘যা বাবা, ভালো থাকিস’ বলে গুলিতে নিহত সাঈদকে চিরবিদায় মায়ের

কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিতে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর নালিপাড়া গ্রামে আজ বুধবার সকালে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার জন্য মা মনোয়ারা বেগমকে ডাকা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তিনি ‘যা বাবা, ভালো থাকিস। চিন্তা করিস না। মুইও তাড়াতাড়ি তোর কাছোত আসিম’ বলে ছেলেকে চিরবিদায় জানান।

আবু সাঈদের কফিন ঘাড়ে করে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির অদূরের জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে। সেখানে প্রশাসনের দেওয়া পূর্বনির্ধারিত সময় সকাল ৯টার আগেই জানাজায় উপস্থিত লোকজন লাইনে দাঁড়ান।

এ সময় সেখানে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হাসান, নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন সফিক আশরাফ, শিক্ষার্থী আতিব আল মুবিন, জাফরপাড়া মসজিদের খতিব আজহার আলী, স্থানীয় বাসিন্দা রজব আলী ও সোহানুর রহমান। ইউএনও ছাড়া বাকিরা আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়, সেই দাবি জানান।

ঘড়ির কাঁটায় ৯টা বাজতেই জানাজা পড়ানোর তাগিদ দেন ইউএনও। কিন্তু বাদ সাধেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁরা অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় চেয়ে বলেন, রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জানাজায় শরিক হতে পথে আছেন। কিন্তু ইউএনও এতে সায় না দিয়ে দ্রুত জানাজা পড়াতে বলেন। এতে খানিকটা হট্টগোল হয়। একপর্যায়ে ইউএনওর নির্দেশে হট্টগোলের মধ্যেই কিছু লোক নিয়ে জানাজা শুরু করা হয়।

তখন উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন হাত উঁচিয়ে স্লোগান দেন, ‘আমার ভাই মরল কেন? জবাব চাই, বিচার চাই’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’ ইত্যাদি। হট্টগোলের মধ্যেই ইউএনও জানাজা শেষ করে লাশ দাফনের উদ্দেশ্যে নিতে চাইলে উপস্থিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

ইউএনও তখন লাশ সেখানে রেখে ঘটনাস্থল ছেড়ে যান। এরপর মাদ্রাসা মাঠে লাশ ঘিরে টানা অন্তত ১০ মিনিট স্লোগান চলতে থাকে। সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কিছু শিক্ষক–শিক্ষার্থী এলে দ্বিতীয় দফায় জানাজা হয়। সোয়া ১০টার দিকে নিহত আবু সাঈদের লাশ বাবনপুর নালিপাড়া গ্রামে তাঁর বাড়ির পাশে দাফন করা হয়।

কোটা সংস্কারের আন্দোলনে যোগ দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রংপুরে পুলিশের ছোড়া গুলিতে মারা যান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।

তুরস্কে দাবানলে ১২ জনের প্রাণহানি

তুরস্কের কুর্দি প্রধান দক্ষিণ-পূর্বে এক ব্যাপক দাবানল ১২ জনের প্রাণহানি ও ৭৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।

শুষ্ক অঞ্চলজুড়ে আগুনে শত শত প্রাণী মারা গেছে। আগুন সিরিয়ার সীমান্তবর্তী দিয়ারবাকির এ মারদিন নগরীর মধ্যে পোড়া ও কালো জমির বিশাল এলাকা ছেড়ে গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেটিন কোকা বলেন, ১২ জন মারা গেছে ও ৭৮ জন আহত হয়েছে। পাঁচজনকে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এএফপির প্রত্যক্ষদর্শী এক সংবাদদাতা জানান, বৃহস্পতিবার আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুতই পাঁচটি গ্রামের জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। শুক্রবার একটি গ্রামের কাছে নতুন করে একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়লে, তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
খবর এএফপি

এবার সোনালী ব্যাংক থেকে সরানো হলো মতিউর রহমানকে

এবার সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত মতিউর রহমানকে।

আজ রোববার (২৩ জুন) বেলা ১১টা থেকে সোনালী ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে মতিউর রহমানকে উপস্থিত থাকতে নিষেধ করা হয়েছে।

পর্ষদ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী।

মতিউর রহমান এনবিআরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংকের পরিচালকও।

এর আগে সকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সরিয়ে দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে গত ৪ জুন পাওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রসঙ্গত ঈদুল আজহায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে মতিউর রহমানের ছেলে সিফাতের ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন খামার থেকে ৭০ লাখ টাকার গরু কিনেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে আসে। এরপর থেকে মতিউর রহমানের ছেলের দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি, গাড়ি, আলিশান জীবনযাপন; মতিউর রহমান ও পরিবারের সদস্যদের নামে রিসোর্ট, শুটিং স্পট, বাংলো বাড়ি, জমিসহ নামে-বেনামে সম্পত্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন খ্রিস্টানদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টানদের প্রতি নভেম্বর মাসে তার পক্ষে গণভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ‘কঠোরভাবে’ সুরক্ষা করবেন বলে তার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন।

ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান বাইবেলকে গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং যীশু খ্রীষ্টকে ত্রাণকর্তা ও প্রভু হিসেবে বিশ্বাস করে।

সাবেক নেতা ট্রাম্প নিজে খুব কমই গির্জায় উপস্থিত হন,তিনি ধর্মীয় অধিকারের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ করে গর্ভপাতের ফেডারেল অধিকারকে উল্টে দিতে সাহায্য করেছিলেন।

রক্ষণশীল অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ফেইথ অ্যান্ড ফ্রিডম কোয়ালিশনের ওয়াশিংটন কনফারেন্সে ট্রাম্প শত শত সমর্থককে বলেছেন, ‘ইভাঞ্জেলিক্যালস এবং খ্রিস্টানরা যতটা ভোট দেওয়া উচিত ততটা দেয় না।’

তিনি বলেন, ‘তারা প্রতি রবিবার গির্জায় যায়, কিন্তু তারা ভোট দেয় না।’

মেয়াদের সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রাম্প ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করতে অযোগ্য হবেন।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, ট্রাম্পের ২০১৬ সালের বিজয়ের জন্য এবং আবার তার ২০২০ সালের ব্যর্থ প্রচারে ইভাঞ্জেলিক্যাল ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যখন ৮৪ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ ধর্মপ্রচারক প্রোটেস্ট্যান্টরা তাকে ভোট দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প শনিবার তাদের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কারণ তিনি ‘কঠোরভাবে’ ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার’ প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।

তিনি সমর্থকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের স্কুলে, আমাদের সামরিক বাহিনীতে, আমাদের সরকারে, আমাদের কর্মক্ষেত্রে, আমাদের হাসপাতালে এবং আমাদের পাবলিক স্কোয়ারে খ্রিস্টানদের রক্ষা করব।’

তিনি প্রবলভাবে ‘খ্রিস্টান-বিরোধী পক্ষপাতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি নতুন ফেডারেল টাস্ক ফোর্স’ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যা মার্কিন খ্রিস্টানদের ‘অবৈধ বৈষম্য, হয়রানি, নিপীড়ন’ তদন্ত করবে।

মার্চ মাসে প্রকাশিত একটি পিউ রিসার্চ সমীক্ষা অনুসারে, প্রায় অর্ধেক (৪৯ শতাংশ) আমেরিকান বিশ্বাস করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মের প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে এবং খ্রিস্টান হিসাবে চিহ্নিত আমেরিকানদের সংখ্যা ১৯৯০-এর দশকে প্রায় ৯০ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও কম হয়ে গেছে, বেশিরভাগই ধর্মীয়ভাবে যুক্ত নয় এমন লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনেক শ্বেতাঙ্গ ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টানদের জন্য এটি একটি রক্ষণশীল সম্প্রদায় যারা মার্কিন ভোটারদের প্রায় ১৪ শতাংশ,এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে ধর্ম জনজীবনে প্রাসঙ্গিক থাকে।

ট্রাম্প জনতাকে বলেছেন, রাজনৈতিক বামরা ‘আপনাকে নীরব করতে, আপনাকে নিরাশ করতে চায় এবং তারা আপনাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়।’

‘তারা চায় না যে আপনি ভোট দিন, সেজন্যই আপনাকে ভোট দিতে হবে’ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ভোট দেন, তাহলে আমরা পরাজিত হবো না।’