বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

সংস্কার প্রশ্নে একমত, নির্বাচন নিয়ে রূপরেখা চায় কেউ কেউ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট। তারা রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার প্রশ্নে একমত হলেও কোনো কোনো দল ওই ভাষণে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ বা রূপরেখা না থাকার বিষয়টি তুলেছে।

দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি বলেছে, এই ভাষণে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছে তারা। তবে নির্বাচনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই। জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দল প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা সংস্কারের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এ সরকারকে সময় দেওয়ার কথা বলছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর গত রোববার জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

‘নির্বাচনের বিষয় অস্পষ্ট’
জাতীয় সংসদ নিবাচন প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘কখন নির্বাচন হবে সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের সিদ্ধান্ত নয়।’ তাঁর এই বক্তব্যে নির্বাচনের বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে বলে মনে করছে বিএনপি।

সরকার গঠনের বেশ কয়েক দিন পর প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তাতে বিএনপি প্রাথমিকভাবে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলেননি। আমরা আশা করেছিলাম যে তিনি নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো রোডম্যাপ দেবেন; কিন্তু ভাষণে তা নেই।’

গতকাল সোমবার মির্জা ফখরুল প্রথম আলোকে আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। সেটি হলে তো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সে ব্যাপারে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আর তাঁদেরই এ আলোচনা শুরু করতে হবে। কারণ, তাঁরা সরকারে রয়েছেন।

বিএনপির মিত্র দল ও জোটগুলোর মধ্যে অন্যতম গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারাও নির্বাচনের রোডম্যাপ না থাকার বিষয়টিকে তুলে ধরেন। মঞ্চের অন্যতম নেতা ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আশা করেছিলেন তাঁরা। তবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে স্থিতিশীলতা আনা, ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার, দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কাজ এগিয়ে নেওয়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন আছে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে।

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল ঢাকায় এক কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকার এখনো রাইট ডিরেকশনে (সঠিক পথে) আছে।’

তবে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ ইতিবাচক; কিন্তু দলগুলোর প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু না বলায় নানামুখী সংশয়-সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

বামপন্থী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিরও (সিপিবি) রোডম্যাপের প্রত্যাশা ছিল। তবে সেটি নির্বাচনের সময় নিয়ে নয়। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স) বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে রোডম্যাপ প্রয়োজন ছিল।

জাতীয় পার্টি অবশ্য অন্তর্বর্তী সরকারকে এ মুহূর্তে নির্বাচনের জন্য চাপ দিতে চায় না। দলের মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে সার্বিকভাবে সংস্কারের যে কথা উঠে এসেছে, সেটিকে তাঁরা স্বাগত জানান।

সংস্কারে একমত
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানকে সফল পরিণতি দিতে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা খাত এবং তথ্যপ্রবাহে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পূর্ণ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এর লক্ষ্য হবে দুর্নীতি, লুটপাট ও গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা।’

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার শাসনে ভেঙে পড়া সব খাতেই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে সব রাজনৈতিক দল। জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, নির্বাচনের আগে সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দু–তিন বছর সময় দেওয়া যেতে পারে।

তবে সংস্কার চাইলেও এ জন্য কতটা সময় দেবে, সে ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট নয়। বিএনপি ‘যৌক্তিক’ সময় দেওয়ার কথা বলছে। দলটি সংস্কার নিয়েও সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা চাইছে। দলটির নেতা মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য তাঁদের দলের ৩১ দফা প্রস্তাব রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টাও সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। ফলে আলোচনায় বসলে তাঁদের ৩১ দফা ও সরকারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তিনি আশা করেন, সরকার দলগুলোর সঙ্গে দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ নেবে। মির্জা ফখরুল এ-ও বলেন, বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া যেন না হয়, সে ব্যাপারেও সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।

এদিকে ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে আছেন। সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য ও নেতাদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে দলটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার কঠিন জবাব দেওয়া হবে: ইরান

তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার জবাব দেয়া হবেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির সামরিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘেরি। এক প্রতিবেদনে দেশটির সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সশস্ত্র বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, প্রতিরোধ বাহিনী কিংবা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান, ইহুদিবাদী শাসকদের এই অপরাধ কর্মকাণ্ডের জবাব দিবেই।

আইআরজিসির সামরিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘেরি আরও বলেন, ইরান মিডিয়া গেম এবং উসকানির ফাঁদে পা দেবে না। কিভাবে এবং কখন এই প্রতিশোধ নেয়া হবে সেটি প্রতিরোধ বাহিনীর সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতে নেয়া হবে ইনুকে

মহাজোটের শরীক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে আজ আদালতে তোলা হবে। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৪টা নাগাদ তাকে ডিবি কার্যালয় থেকে সিএমএম কোর্টে নেয়া হবে।

এর আগে সোমবার বিকেলে, রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিউ মার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর ইনুকে নেয়া হয় ডিবি কার্যালয়ে। একই মামলায় রিমান্ডে আছেন শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন।

শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে, দেশ ছাড়ার পর পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও শরীক দলগুলোর সব নেতারা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া-২ আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়েও হেরে যান ইনু। এর আগে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

টেলিগ্রামের সিইওকে ফ্রান্সের বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার

টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পাভেল দুরভকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় প্যারিসের উত্তরে একটি বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম টিএফওয়ান জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় দুরভ নিজের প্রাইভেট উড়োজাহাজে (জেট) করে দেশটির লো বোর্গেট বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৩৯ বছর বয়সী রাশিয়া বংশোদ্ভূত দুরভ বার্তা আদান-প্রদানের জনপ্রিয় অ্যাপ টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। এই অ্যাপ সম্পর্কিত একটি অপরাধের পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ।

রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, দুরভকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফ্রান্সের রুশ দূতাবাস ‘তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ’ নিচ্ছে। তাঁরা প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করছে।

রাশিয়া, ইউক্রেন ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে টেলিগ্রাম ব্যাপক জনপ্রিয়।

অ্যাপটির তথ্যভান্ডার রুশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করা হলে ২০১৪ সালে রাশিয়া ছাড়েন দুরভ। এরপর থেকে দুবাই থেকেই এটি পরিচালিত হয়।

২০১৮ সালে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করে রুশ সরকার। কিন্তু ২০২১ সালে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

বিশ্বে ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও উইচ্যাটের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২৫ সালের মধ্যে ১০০ কোটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী গ্রেপ্তার

সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গোলাম দস্তগীর গাজীকে গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজীকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি পল্টন থানা-পুলিশ।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. খালিদ হোসেন আজ রোববার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ডিবির একটি দল শান্তিনগরে এক আত্মীয়র বাসা থেকে গোলাম দস্তগীর গাজীকে গ্রেপ্তার করে। পর তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা। আত্মগোপনের তালিকায় আছেন সাবেক মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরত ব্যক্তিরাও। তাঁদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট খোলা হয়েছে, প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেন প্রকল্প কর্মকর্তা

কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেটের সব কটি আজ রোববার সকাল আটটায় খুলে দেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়।

কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবস্থাপক এ টি এম আবদুজ্জাহের বলেছেন, এর মাধ্যমে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। এতে করে কোনো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেছেন তিনি।

কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট পর্যন্ত বলে জানান প্রকৌশলী আব্দুর জাহের। তিনি আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, এর বেশি পানি রাখা সম্ভব হয় না। তাতে করে অন্য এলাকায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ৬ ইঞ্চি পরিমাণ পানি অর্থাৎ ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। এদিকটায় পানি ১০৯ ফুটের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

সব কটি গেট খুলে দেওয়ায় পার্বত্য এলাকার নতুন কোনো অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুর জাহের বলেন, নতুন কোনো এলাকা প্লাবিত হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। এর আগে এর চেয়ে বেশি পরিমাণ পানি ছাড়া হয়েছে। এখন যদি পানি না ছাড়া হতো তবে বাঘাইছড়ি উপজেলার সবকিছু ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত।

স্থানীয় ও কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করায় কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই যাচ্ছে। গত ৫ দিনে হ্রদের অন্তত ৯ ফুট পানি বেড়েছে। এ কারণে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বৃষ্টি কমে আসায় দেশের পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অনেক জায়গায় পানি নামতে শুরু করেছে। তবে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লার অনেক উপজেলায় পরিস্থিতি এখনো খারাপ। এর মধ্যে ফেনীর গ্রামাঞ্চলে অন্তত এক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে আটকে আছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেনীর বন্যাকবলিত এলাকায় মুঠোফোন নেটওয়ার্ক ভালোভাবে কাজ করছিল না। ফলে সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণাও পাওয়া যায়নি। সরকারি হিসাবে, বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবন্দী প্রায় ১০ লাখ পরিবার।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে শুকনা খাবার ও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। অনেক জায়গায় স্বেচ্ছাসেবীরা ত্রাণ নিয়ে পৌঁছাতে পারছেন না।

সরকারি হিসাবে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যায় দেশে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫ জন, কুমিল্লায় ৪, নোয়াখালীতে ৩, কক্সবাজারে ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, ফেনীতে ১ ও লক্ষ্মীপুরে ১ জন মারা গেছেন।

মেট্রোরেল চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আলোচনা হতে পারে আজ

গত ২৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের প্রথম বিদ্যুৎ চালিত দ্রুতগতির গণপরিবহন মেট্রোরেল। ফলে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চালু হওয়া এই বাহনে যারা যাতায়াতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, তারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। সবার একটাই প্রশ্ন, কবে চালু হবে মেট্রোরেল? তবে আপাতত আশার খবর এটিই— আজ (রোবরার) মেট্রোরেল চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের। এরপরই জানা যাবে সিদ্ধান্ত।

মেট্রোরেল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশনের মধ্যে মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন ছাড়া বাকি ১৪ স্টেশনে কোনো ক্ষতি হয়নি। এই স্টেশনগুলো দিয়ে অনায়াসে যেকোনো ট্রেন অপারেশন করা যাবে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, ট্রেন চালানোর সব ব্যবস্থা ঠিক আছে। তবে দীর্ঘদিন মেট্রো বন্ধ থাকায় এটির সব ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা দেখার জন্য পরীক্ষামূলক চালানোর আন্তর্জাতিক রীতি রয়েছে। সেক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমতি পেলে পরীক্ষামূলক চালানো শুরু করা যাবে।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আওতায়। ফলে উনি যদি আজ অফিস করেন, তবে এই বিষয়ে সড়ক সচিব নির্দেশনা চাইতে পারেন।

অন্যদিকে অবিচার ও বৈষম্য দূরীকরণে ছয় দফা দাবি আদায়ে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ৭ শতাধিকেরও অধিক কর্মচারী। ইতোমধ্যে তারা দুই দিন মানববন্ধন করে এ কথা জানিয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিতে আহত কয়েকজন

রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে গুলির ঘটনা ঘটেছে। সকালে এ ঘটনার সময় ২০১৭ সালের আগে ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা–কর্মচারী এবং এর পরে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০১৭ সালের পর নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সকালে পুরোনো কর্মীরা ঘোষণা দেন। ওই বছরের পরে নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ কর্মীই চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার, সে কারণে তাঁরা পটিয়ার কর্মকর্তা–কর্মচারী হিসেবে পরিচিত। পুরোনো কর্মীদের ঘোষণার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পটিয়ার কর্মীরা আশপাশে জড়ো হয়ে ব্যাংকের দিকে রওনা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এরপর পুরোনো কর্মীরা পটিয়ার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলি ছোড়া হলে কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো কর্মীরা গুলি ছোড়ার জন্য পটিয়ার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের দায়ী করেন।

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকারের পতনের পরের দিনই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে, যেখানে ঘোষণা করা হয়েছিল যে ২০১৭ সালের পর নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ব্যাংকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সে সময় প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত মুজিব কর্নারও ভাঙচুর করা হয়।

ওই ঘটনার পর ব্যাংকের সিবিএ নেতা আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের পরে যত নির্বাহী এসেছেন, তাঁরা আর ব্যাংকে ঢুকতে পারবেন না। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে পরীক্ষা ছাড়া অনিয়মের মাধ্যমে যেসব নিয়োগ হয়েছে, সেসব নিয়োগ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে ওই সময়ের পরে যাঁদের চাকরি অবৈধভাবে বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের চাকরি পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া গত সাত বছরে যাঁরা পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের যথাযথভাবে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। এরপর ব্যাংকে প্রায় ১৪ হাজার কর্মকর্তা–কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়, যাঁদের বেশির ভাগই পটিয়া উপজেলার বলে জানা গেছে। এস আলম গ্রুপের মালিকদের আদি বাস ওই একই অঞ্চলে। ২০১৭ সালের আগে ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা–কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় আট হাজার।

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এই অর্থ ব্যাংকে ফেরত না আসার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থায় টাকা ধার দিয়ে ব্যাংকটির দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখেছে।

ইসলামী ব্যাংকে ঘটা আজকের ঘটনা সম্পর্কে ব্যাংকের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিরুল মওলা ব্যাংকে যাননি। পুরোনো কর্মকর্ত–কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, মুনিরুল মওলা ব্যাংকে ঢুকতে চাইলে তাঁকেও বাধা দেওয়া হবে।

দুপুর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি এবং প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির খলনায়ক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে অধ্যক্ষের পদ থেকে কেকা রায় চৌধুরীকে পদত্যাগ করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা। একই সঙ্গে স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের সিনিয়র শিক্ষক ফারহানা খানমসহ গভর্নিং বডির পদত্যাগ পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

রোববার (১১ আগস্ট) সকাল দশটায় রাজধানীর বেইলি রোডে স্কুলের মূল ক্যাম্পাসের সামনে এই বিক্ষোভ করেন কয়েকশ শিক্ষার্থী। একই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি দেন অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন তারা। একই সঙ্গে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির পদত্যাগ করতে হবে।

আন্দোলনের অংশ নেয়া তাই মুহতামিম জারিন বলেন, আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি এবং প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী, পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফারহানা খানম এবং মূল শাখার বাংলা ভার্সন প্রভাতীর সহকারী প্রধান শিক্ষক সঙ্গীতা মাহজাবিন ইমামকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ এবং গভর্নিং বডি বিলুপ্তির এক দফা দাবি জানান বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা। মন্তব্যের জন্য অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তিনি গত কয়েকদিন অফিসেও আসেননি বলে জানা গেছে।

পরে অধ্যক্ষ কে রায় চৌধুরী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, তোমরা যে দাবিতে আন্দোলন করছ এসব অভিযোগ কোনটাই সত্য নয়। তোমরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছো সেখানে আমি বাধা দিয়েছি কোনো প্রমাণ নেই। যদি প্রমাণ করতে পারো তাহলে আমি সরে যাব। আর তোমরা যদি আমাকে একেবারেই না চাও তাহলে আমি সর্বোচ্চটা বিসর্জন দিতে রাজি আছি।

নিরাপত্তার অভাবে দেশজুড়ে বন্ধ এটিএম, টাকার সংকটে মানুষ

সম্পাদক-ইমারত হোসেন
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নগদ টাকার সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নিরাপত্তার অভাবে দেশজুড়ে বেশির ভাগ ব্যাংকের এটিএম বন্ধ থাকায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে দেশজুড়ে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তাতে ব্যাংকের সব শাখাও খোলেনি। সব মিলিয়ে তাই নগদ টাকার সংকটে পড়েছেন মানুষ।

ব্যাংক খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের বেশির ভাগ এটিএমে অর্থ সরবরাহের কাজটি করা হয় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃতীয় পক্ষের এ সেবা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে বেশির ভাগ এটিএমে টাকার সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বন্ধ হয়ে গেছে দেশজুড়ে বেশির ভাগ ব্যাংকের এটিএম সেবা।

এই প্রতিবেদক গত দুই দিনে কারওয়ান বাজার এলাকার ওয়ান ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের একাধিক এটিএম বুথে গিয়ে সব কটি বন্ধ দেখতে পান। বন্ধ রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার বিভিন্ন এলাকার এটিএম বুথও। ফলে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ নগদ টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে কয়েক দিন ধরে সংকটে পড়েছেন।

জানতে চাইলে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী সেলিম আর এফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেশির ভাগ ব্যাংকের এটিএমের অর্থ সরবরাহের কাজটি তৃতীয় পক্ষ করে থাকে। কয়েক দিন ধরে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তৃতীয় পক্ষের এ সেবা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে অনেক ব্যাংকের এটিএমে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগান দেওয়া সম্ভব হয়নি। আশা করছি, চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

ব্যাংকাররা বলছেন, যতটা না টাকার সংকট তার চেয়ে বেশি নিরাপত্তার শঙ্কায় ব্যাংকগুলো তাদের এটিএম কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে টাকা পরিবহনের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না অনেক ব্যাংক ও এটিএমে অর্থ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও চাহিদা অনুযায়ী নগদ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের এটিএমে অর্থ সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যম সারির এক কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক সময়ে চারটি ব্যাংকের এটিএমে দিনে তাঁরা প্রায় ৩০ কোটি টাকা সরবরাহ করেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সবরবাহ করতে পেরেছেন মাত্র ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রয়োজনের তিন ভাগের এক ভাগ অর্থ সরবরাহ করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস শেষে দেশে বিভিন্ন ব্যাংকের মোট এটিএমের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৪২৮। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ৯ হাজার ৪০৯টি আর গ্রামাঞ্চলে ৪ হাজার ১৯টি। এটিএম ছাড়া সিআরএমের (ক্যাশ রিস্লাইকিং মেশিন) মাধ্যমেও নগদ টাকা উত্তোলন করা যায়। দেশের বেসরকারি খাতের ব্র্যাক, সিটি, ঢাকা ব্যাংকসহ অনেক ব্যাংক এখন এটিএমের বদলে সিআরএমের প্রতি ঝুঁকছে। সিআরএমে টাকার উত্তোলনের পাশাপাশি নগদ জমারও সুযোগ রয়েছে। এ কারণে ধীরে ধীরে সিআরএমের সংখ্যা বাড়ছে। গত মে মাস শেষে দেশে সিআরএমের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৫০। এসব সিআরএমের সিংহভাগই শহরাঞ্চলে, ৩ হাজার ৯৮৫টি।