সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের জন্য ‘সময় নেই’ যুক্তরাষ্ট্রের: জেলেনস্কি

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন শান্তি আলোচকদের ‘ইউক্রেনের জন্য সময় নেই’। মঙ্গলবার জার্মান সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

পাশাপাশি মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার বিষয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জেডডিএফকে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানে মস্কোর সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ ও জেরেড কুশনার এই মুহূর্তে ‘ইরানের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনায়’ ব্যস্ত।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জেলেনস্কি ‘তাদেরকে ‘বাস্তববাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে পুতিনের আরও মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।’

তবে ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে এবং শুধু রাশিয়ার সঙ্গে নরম সুরে আলোচনা চালিয়ে যায়, তাহলে তারা আর ভয় পাবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মার্চের শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত অবসানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আলোচনা থমকে আছে। ফেব্রুয়ারিতে জেনেভা বৈঠকের পর রুশ ও ইউক্রেনীয় আলোচকদের মধ্যে আর কোনো বৈঠক হয়নি।

জেলেনস্কি জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টিও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘যদি এই যুদ্ধ চলতে থাকে, তাহলে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্রের সরবরাহ আরও কমে যাবে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে গভীর সংকট তৈরি হবে।’

নরওয়ে সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং পিএসি-২ মিসাইল সরবরাহ নিয়ে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব অস্ত্র মূলত পিইউআরএল কর্মসূচির মাধ্যমে কেনা হয়, যা গত বছর চালু হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থায়নে ইউক্রেন মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম পেয়ে থাকে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের একেবারে শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

অস্ত্র সরবরাহ ‘ধীরগতিতে’ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি।’ নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের পাশে দাঁড়িয়ে ওই মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।

পরে দুই নেতা জানান, তারা ‘উন্নত প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা’-তে স্বাক্ষর করেছেন।
নরওয়ের সরকার জানায়, দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় এবং ‘ইউক্রেনীয় ড্রোন এখন নরওয়েতে উৎপাদিত হবে।’

এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি একটি সরকারি প্রতিনিধিদল নিয়ে বার্লিন সফর করেন। সেখানে চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎর্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয়পক্ষের আলোচনার মূল বিষয় পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ।

সেসময় দুই দেশ প্রতিরক্ষাকেন্দ্রিক একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বও ঘোষণা করেছে।

নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার জন্যই কিছু না কিছু রেখেছি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার জন্যই আমরা কিছু না কিছু রেখেছি।

তিনি বলেছেন, ‘শ্রমিক হোক, কৃষক হোক, দিনমজুর হোক, খেটে খাওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হোক, প্রত্যেকের জন্য আমরা কিছু না কিছু রেখেছি।’

আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদেরকে সহযোগিতা করতে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করেছি। একইভাবে দেশের নারী সমাজকে ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের নারী প্রধান পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে

‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এ খাল খনন শুধু যে কৃষকদেরকে উপকৃত করবে তা নয়, এর মাধ্যমে গ্রাম-গঞ্জে বাস করা বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ( বিএনপি) প্রতিশ্রুতি ছিল আমরা দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব এবং এই বৃক্ষরোপণেও বিভিন্নভাবে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে।

ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের বিষয়টি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজের এমন কিছু মানুষ আছে যাদের কাছে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন রকমের পরামর্শ পেয়ে থাকি। মুসলমান হিসেবে মসজিদ-মাদ্রাসার খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান- সেখানে যারা ধর্মগুরু আছেন তারাও খেটে খাওয়া মানুষেরই অংশ। তাদেরকেও সহযোগিতা করার জন্য আমরা সরকার থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করব বলেছিলাম। সেটির কাজও আমরা শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম দেশে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই। যারা এই পেশাদার খেলোয়াড় হতে চাইছে তারা কোনো না কোনো খেটে খাওয়া পরিবারের সদস্য। তারা যাতে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ ও প্রফেশনটা ধরে রাখতে পারেন সেজন্য তাদের আমরা সহযোগিতা করতে চেয়েছি। আর সেই কাজটিও আমরা শুরু করেছি। ইতোমধ্যে তাদেরকে ক্রিয়া কার্ডের আওতায় এনেছি।

তারেক রহমান বলেন, দেশ পরিচালনার জন্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) বিগত নির্বাচনে এদেশের মানুষ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করেছে। এই দলের কমিটমেন্ট হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। সেজন্যই আমাদের ম্যানিফেস্টোতে আমরা শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য যেরকম পলিসি গ্রহণ করেছি, একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। যাতে তারা ধীরে ধীরে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারে। সেজন্য আমরা বিভিন্নরকম পলিসি গ্রহণ করেছি। এমনকি বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সেটা বাস্তবায়নের কাজও আমরা শুরু করে দিয়েছি।

এর আগে সকাল ১১ টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনের শুরুতেই নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সংসদ নেতারা।

পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অত্যন্ত আনন্দিত : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অত্যন্ত আনন্দিত।

তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, বৃত্তির মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে ও শিক্ষা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে, প্রতিমন্ত্রী মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীরা যাতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করা।’

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আমি নিজে আজকে দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশের খবরাখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া সব রিপোর্টই ইতিবাচক বলে জানানো হয়েছে।

এ সময় তিনি আরও জানান, যদিও কিছু শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভবিষ্যতে উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে যেগুলো রয়েছে সেগুলোও চালু থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদেরও কিছু চাহিদা রয়েছে যা সরকার আগামীতে আলোচনার মাধ্যমে পূরণের চেষ্টা করবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে, যার মধ্যে বৃত্তির অর্থের পরিমাণ এবং কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হতে পারে, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আরও বেশি উৎসাহিত হন।’

শিক্ষার হার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষার হারকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৯৬ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।

ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচের পদ থেকে হাভিয়ের মাচেরানোর আকস্মিক পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি হাভিয়ের মাচেরানো। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। চলতি মৌসুমের মাত্র সাতটি ম্যাচ সম্পন্ন হওয়ার পরই তার এই বিদায় ক্লাবটির ভক্ত, খেলোয়াড় ও ফুটবল অনুরাগী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র চার মাস আগেই তার নির্দেশনায় ক্লাবটি নিজেদের ইতিহাসের প্রথম এমএলএস কাপ শিরোপা ঘরে তুলেছিল।

সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পরই মাচেরানো ক্লাব কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগের বিষয়টি অবহিত করেন। তার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন নতুন মৌসুমেও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে দল মাঠে নেমেছিল। আকস্মিক এই পরিবর্তনে ক্লাবের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং দলের মানসিক অবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের। মৌসুমের শুরুর দিকেই এমন একটি পরিবর্তন দলের ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

পদত্যাগের বিষয়ে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হাভিয়ের মাচেরানো নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে আমি ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার জন্য সবার আগে আমি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।” তিনি আরও যুক্ত করেন, “সংগঠনের প্রতিটি কর্মীকে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ। তবে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার খেলোয়াড়দের প্রতি, কারণ তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মাঠে শতভাগ নিবেদনের ফলেই আমরা গত কিছুদিনে অনেক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপভোগ করতে পেরেছি।”

আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে লিওনেল মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ হিসেবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় খেলেছেন মাচেরানো। খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার পর তিনি কোচিং পেশায় নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করেন। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বদেশি কোচ ও অভিজ্ঞ ট্যাকটিশিয়ান জেরার্দো মার্তিনোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইন্টার মায়ামির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। প্রায় দেড় বছর লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, সের্হিও বুসকেটস এবং জর্দি আলবাদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটির প্রধান কোচ হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অধীনে মায়ামি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের সেমিফাইনাল এবং লিগস কাপের ফাইনালে পৌঁছানোর কৃতিত্ব অর্জন করে। এছাড়া ২০২৫ সালে ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুমেই এমএলএস কাপ জিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে ইতিহাস গড়েন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

২০২৬ সালের চলতি মৌসুমে সাতটি ম্যাচ শেষে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ইন্টার মায়ামি। দলটির পারফরম্যান্স মোটের ওপর সন্তোষজনক হলেও, সম্প্রতি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে ন্যাশভিলের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে তাদের অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। মাচেরানোর এমন বিদায়ে ক্লাবের অন্যতম স্বত্বাধিকারী হোর্হে মাস এক বিবৃতিতে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “হাভিয়ের মাচেরানো এই ক্লাবের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন এবং ইন্টার মায়ামি পরিবারের কাছে সব সময় এক বিশেষ সম্মানের জায়গা ধরে রাখবেন। এমএলএস কাপ জয় বা ক্লাব বিশ্বকাপে দলের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সসহ স্মরণীয় সব অর্জনের পেছনে তার অসামান্য নিষ্ঠা ও প্রতিদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম আমাদের ক্লাবের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

হাভিয়ের মাচেরানোর শূন্য পদে আপাতত প্রথম দলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গিলের্মো হয়োস। তিনি এর আগে ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। গিলের্মো হয়োসের কোচিং ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়; তিনি বিশ্বের বিভিন্ন লিগের একাধিক পেশাদার ক্লাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বলিভিয়া জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রাখেন। নতুন এবং স্থায়ী একজন প্রধান কোচ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তার নেতৃত্বেই ইন্টার মায়ামি তাদের মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলো চালিয়ে যাবে। তারকাখচিত এই দলটিকে কীভাবে তিনি সামনের ম্যাচগুলোতে অনুপ্রাণিত করেন এবং শিরোপার দৌড়ে টিকিয়ে রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল: বায়ার্নের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন লুইস ফিগো

খেলাধূলা ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে জার্মানির মিউনিখে স্বাগতিক বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগে ২-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে এই অ্যাওয়ে ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তবে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ও পর্তুগিজ কিংবদন্তি লুইস ফিগো মনে করেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং স্কোয়াডের অসাধারণ প্রতিভার কারণে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্ণ সামর্থ্য রয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দলের।

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার লড়াই সবসময়ই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই দুই দলের দ্বৈরথকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম ধ্রুপদি লড়াই হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে পরাজয়ের কারণে রিয়াল মাদ্রিদকে এবার মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় তীব্র চাপের মুখে মাঠে নামতে হবে। অন্যদিকে, প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে থাকলেও বায়ার্ন মিউনিখের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি নিজ দলকে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের অতীত পরিসংখ্যান, বিশেষ করে খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার অবিশ্বাস্য ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে কোনো প্রতিপক্ষই তাদের বিপক্ষে আগেভাগে নিশ্চিন্ত হতে পারে না। কার্লো আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের ট্যাকটিকাল প্রজ্ঞার বিপরীতে ভিনসেন্ট কোম্পানির কৌশলের এক দারুণ লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

খেলোয়াড়ি জীবনে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইন্টার মিলানের মতো শীর্ষ ক্লাবের হয়ে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ১১টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে লুইস ফিগোর, যার মধ্যে ৯টিই ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াই। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানান, বায়ার্ন মিউনিখ সবসময়ই একটি অত্যন্ত কঠিন ও সুশৃঙ্খল প্রতিপক্ষ। ফিগোর মতে, মিউনিখে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে রিয়াল মাদ্রিদকে তাদের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে। চলতি মৌসুমে এই দুই ফরোয়ার্ড দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হলেও প্রথম লেগে বায়ার্নের সুদৃঢ় রক্ষণের সামনে তারা নিজেদের স্বাভাবিক ফিনিশিং উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা রিয়ালের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে এর পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে সামলানো এবং ম্যাচের শুরুতে অযথা চাপে না পড়ে দ্রুত মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই পর্তুগিজ কিংবদন্তি।

এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের নিয়মিত একাদশের অন্যতম ভরসা, ফরাসি মিডফিল্ডার অরেলিঁয়ে চুয়েমেনিকে পাচ্ছে না। কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে তার এই অনুপস্থিতি দলের রক্ষণাত্মক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করছেন। তবে লুইস ফিগো এই বিষয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন। তিনি মনে করেন, রিয়াল মাদ্রিদের বেঞ্চে পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন বিকল্প রয়েছে। চুয়েমেনির অভাব পূরণে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। প্রথম লেগে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে বেলিংহাম নিজের সামর্থ্য ও প্রভাবের প্রমাণ দিয়েছেন। ফিগোর মতে, যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করার সক্ষমতা থাকায় বেলিংহামের মতো সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়ের সবসময় মূল একাদশে থাকা উচিত, যা দলের আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।

রিয়াল মাদ্রিদের কৌশল ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল ওলিসেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন লুইস ফিগো। সাম্প্রতিক সময়ে বায়ার্নের জার্সিতে ওলিসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিকতা নজর কেড়েছে পুরো ফুটবল বিশ্বের। ফিগো মনে করেন, ওলিসে যদি তার এই ফর্ম, দক্ষতা এবং উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তবে অদূর ভবিষ্যতে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’-এর শক্তিশালী দাবিদার হয়ে উঠবেন। বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখের মতো শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে খেলা এই তরুণ ফুটবলারের মেধা ও যোগ্যতা এতটাই উঁচুমানে পৌঁছেছে যে, বিশ্বের যেকোনো বড় দলে, এমনকি রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলেও প্রথম একাদশে খেলার যোগ্যতা তিনি রাখেন বলে মন্তব্য করেছেন ফিগো।

মিউনিখে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি কেবল সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং দুই দলের কৌশলগত সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তার একটি বড় পরীক্ষাও বটে। রিয়াল মাদ্রিদ কি পারবে তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগের ঐতিহ্য বজায় রেখে মিউনিখ থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে, নাকি বায়ার্ন মিউনিখ তাদের ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে—তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো ক্রীড়াবিশ্ব।

বাংলা নববর্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত, বিস্তারের আশঙ্কা

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরম আবহাওয়ার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ গতকাল থেকে বয়ে যাচ্ছে এবং তা আজও অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি আরও বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল সন্ধ্যায় প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আজও অব্যাহত থাকতে পারে এবং নতুন নতুন এলাকায় তা বিস্তার লাভ করার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গতকাল রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ও চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং যশোরে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে দিনের বেশিরভাগ সময়ই গরমের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল বলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে জানা গেছে।

রাজধানী ঢাকায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নগরবাসী দিনের বেলায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার সম্মুখীন হন, যা জনজীবনে স্বাভাবিক চলাচল ও কাজের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে সূর্যের তীব্রতা বেশি থাকায় বাইরে চলাফেরায় অসুবিধা সৃষ্টি হয়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই সাধারণত দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কৃষি ও ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এসব অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের প্রবণতা নতুন কিছু নয়। তবে এ বছরের শুরুতে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা তাপপ্রবাহের বিস্তারের সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপপ্রবাহ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয় যখন কোনো অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং টানা কয়েক দিন ধরে তা অব্যাহত থাকে। চলমান পরিস্থিতিতে দেশের কিছু অঞ্চলে সেই শর্ত পূরণ হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আজ সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য থেকে মাঝারি হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে মৃদু তাপপ্রবাহ থাকা এলাকাগুলোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও গরমের অনুভূতি বাড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারা কৃষি, শ্রমজীবী মানুষ এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণভাবে।

এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের বিস্তার ও স্থায়িত্ব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বায়ুপ্রবাহ ও স্থানীয় জলবায়ুগত পরিবর্তনের ওপর। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পূর্বাভাস জানানো হবে।

‘প্রেশার কুকার’: শহরের মেয়েদের অসহায়ত্বের গল্প

প্রেশার কুকার যন্ত্রটার সঙ্গে শহরের মানুষের কমবেশি পরিচয় আছে। খাবার সেদ্ধ করার জন্য প্রেশার কুকার খুবই কার্যকর, বিশেষ করে মাংসজাতীয় খাবার। এই যন্ত্রে অধিক চাপে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। আর সেই চাপ ছেড়ে দেয় হুইসেল দিয়ে। খাদ্যের প্রকরণের ওপর হুইসেলের সংখ্যা নির্ভর করে। যে খাদ্য সেদ্ধ হতে বেশি সময় লাগে, তার হুইসেলের সংখ্যা বেশি লাগে। ছায়াছবির এমন একটা নাম নিঃসন্দেহে আগ্রহ তৈরি করে। সেই আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছিল এর ফার্স্ট হুইসেল। তার বর্ণনাতে লেখা ছিল, ‘প্রেশার ঠিক আছে তো? কারণ, এই কুকারে রান্না হচ্ছে ভয়ংকর কিছু…’। দিন শেষে সমাজ মেয়েদের মনকে প্রাধাণ্য না দিয়ে শরীরকে প্রাধাণ্য দেওয়ার কারণেও কি এমন নামকরণ? তাদের শরীরের কারণেই তাদের চাপে রাখা হয়, যেমন প্রেশার কুকারের মধ্যে চাপে থাকে মাংস।

আরেকটা বিষয় আমাকে আগ্রহী করে তোলে। সেটা হলো, ছবিটা উৎসর্গ করা হয়েছে অকালপ্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদকে, যাঁর হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল। ‘মাটির ময়না’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আবহমান বাংলাদেশের যে ছবি তিনি এঁকেছিলেন, সেটা বাংলা ছবির ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। সেখানে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন উঠে এসেছিল, তেমনি উঠে এসেছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও। ‘প্রেশার কুকার’ ছবির শুরুতে যে দৃশ্য দেখানো হয়, তাতে শুরুতেই মাথায় আসে ‘মাটির ময়না’র আনুর কথা। বলা হয়ে থাকে, ‘মাটির ময়না’ ছিল তারেক মাসুদের নিজের জীবনের গল্প। তারেক মাসুদ যেমন মাদ্রাসাতে তার প্রাথমিক পাঠ নিয়েছিলেন, তেমনি রায়হান রাফীও মাদ্রাসা থেকেই তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন।

রায়হান রাফী ‘প্রেশার কুকার’–এর অভিনেতা অভিনেত্রীদের দিয়ে একেবারে খাঁটি গালাগাল দিয়েছেন যখন যেটা দরকার মনে করেছেন। তাই ভদ্রলোকেদের জন্য এই ছবি হজম করা একটু কঠিনই হবে। এই ছবিতে শহরের চার প্রকার মেয়েদের গল্পই বলা হয়েছে—নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।

আসি চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে। অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম অস্ট্রেলিয়ায় কবে মুক্তি পাবে। অবশেষে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট করে ফেলেছিলাম। এরপর নির্দিষ্ট দিন আগেই উপস্থিত হয়ে গিয়েছিলাম। ছবি শুরু হওয়ার পর থেকেই আপনি এক অজানা অস্বস্তিতে ভুগতে থাকবেন। আমার মনে হয়েছে, ‘প্রেশার কুকার’–এর আসল সাফল্য এটাই। বিষয়টা সবাই জানে, কিন্তু কেউ প্রকাশ করে না। ভদ্রসমাজের রীতি হচ্ছে এটাই। আমি অবশ্য ভদ্রলোকদের একটা সন্ধি বিচ্ছেদ করি এভাবে—‘ভণ্ড + লোক = ভদ্রলোক’। যে যত বড় ভণ্ড, সে তত বড় ভদ্রলোক। এরা কথা বলে মেপে মেপে। এরা গালি দেয় না। বিষয়টা এমন যে গালি দিলেই মানবসমাজ তাকে ত্যাজ্য করে দেবে। তখন কীভাবে একঘরে হয়ে টিকে থাকবে।

রায়হান রাফী ‘প্রেশার কুকার’–এর অভিনেতা–অভিনেত্রীদের দিয়ে একেবারে খাঁটি গালাগাল দিয়েছেন যখন যেটা দরকার মনে করেছেন। তাই ভদ্রলোকেদের জন্য এই ছবি হজম করা একটু কঠিনই হবে। এই ছবিতে শহরের চার ধরনের মেয়েদের গল্পই বলা হয়েছে—নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। মেয়েদের সামাজিক অবস্থান যেটাই হোক না কেন, শহরের মেয়েরা যে অসহায়, সেটাই দেখানো হয়েছে। মূল কাহিনি নিম্নবিত্ত মেয়ে রেশমাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্য মেয়েরাও এসেছে। রেশমার কাহিনি আপনাকে নিম্নবিত্ত মেয়েদের সংগ্রামের গল্পটাকেই বারবার মনে করিয়ে দেবে। মেয়েরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েও স্বামীর পরিচয় ছাড়া নিজেরদের অসহায় মনে করে। এই মানসিকতা এখনো আমাদের সমাজে রয়ে গেছে।

নিম্নবিত্ত মেয়েদের মনের ভালোবাসার দিকটাও চমৎকারভাবে এসেছে। স্বামীর ভালোবাসার জন্য অন্য মেয়েদের সঙ্গে ঝগড়া, এমনকি মারামারি করতেও তাদের বাঁধে না। আবার স্বামীর একটু আদর–সোহাগেই আগের সব অপরাধ ক্ষমা করে দিতে প্রস্তুত তারা। আর সন্তানের প্রতি ভালোবাসা তাদের চিরন্তন। সংসার, স্বামী, সন্তানের জন্য তারা সবকিছু ত্যাগ করতে তৈরি থাকে। এই অসহায় মেয়েরাই আবার একবার ভয় কাটিয়ে উঠতে পারলে তারা হয়ে পড়ে অসম সাহসী। তখন আবার তারা মানুষ খুন করতেও পিছপা হয় না। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনাও আমাদের সমাজেরই অংশ। মধ্যবিত্ত মেয়েদের ক্ষমতার চাপে নিজেদের পরিবর্তনের গল্পও পুরোনো। আর মেয়ে যতই উচ্চবিত্তের হোক, শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে বিপদ তাদের পিছু ছাড়ে না।

এই ছবির প্রতি আরেকটা কারণে ভীষণ আকর্ষণ বোধ করছিলাম। সেটা হলো এটা একটা নায়কবিহীন ছবি। আমাদের ছোটবেলায় একটা ছবি দেখেছিলাম, নাম ‘পালাবি কোথায়’। সেই ছবিতে হুমায়ুন ফরীদি ভিলেন আর তিনজন নায়িকা ছিলেন—সুবর্ণা মুস্তাফা, চম্পা ও শাবানা। তখন পর্যন্ত আমরা ছবিতে নায়ক–নায়িকা দেখেই অভ্যস্ত ছিলাম। কিন্তু এই ছবিটা ছিল ব্যতিক্রম। হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজে মেয়েদের তখনকার সময়ের অবস্থানকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। সেটা ছিল ১৯৯৭ সালের ঘটনা। আর ‘প্রেশার কুকার’ ২০২৬ সালের ছবি। মাঝে সময়ের ব্যবধান প্রায় ৩০ বছর। কিন্তু এই ৩০ বছরের মেয়েদের জীবনের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধুই প্রেক্ষাপট বদলেছে, কিন্তু তাদের ওপর সমাজের চাপ এখনো সেই একই রকম আছে। ‘প্রেশার কুকার’ রায়হান রাফী ‘পালাবি কোথায়’ ছবিটাকেও শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়েছেন। এটা একটা দারুণ যোগসূত্র তৈরি করেছে।

প্রবাসে আসার পর এখন বুঝি জীবনের নিত্যকার নানান ঝামেলাও একধরনের বিনোদন, কারণ এটা আমাদের ভাবনাকে ব্যস্ত করে রাখে। নিজেকে অন্যদের তুলনায় ভাগ্যবান ভাবতে সাহায্য করে। বিদেশিদের জীবনে তেমন কোন ঝামেলা থাকে না। তাদের জীবন অনেকটা হ্রদের পানির মতো। টলটলে কিন্তু কোনো স্রোত নেই। যেখানে গতি নেই, সেটা আসলে ঠিক কতখানি জীবন, সেটাই প্রশ্নসাপেক্ষ একটা ব্যাপার। তাই এসব দেশের মানুষেরা নানা রকমের কৃত্রিম ঝামেলা তৈরি করে নিজেদের ব্যস্ত রাখার ভান করে। প্রবাসীদের জীবনও বছর চারেক পরে একই রকম হয়ে পড়ে। তখন আবার তারা বিনোদনের জন্য দেশের দুর্নীতি এবং রাজনীতির কাছে ফিরে যায়। এই ছবির বাস্তবতা নিশ্চয় দেশের এবং প্রবাসের সব দর্শককে ধাক্কা দিবে বলেই আমার বিশ্বাস। এ ধাক্কাটা খুবই জরুরি ছিল বলে আমার মনে হয়। প্রেসার কুকার দেখার পুরো সময়টা সিনেমা হলের পরিবেশ ছিল থমথমে।

রায়হান রাফিকে ধন্যবাদ এমন একটা সময়োপযোগী ছবি তৈরি করার দুঃসাহস দেখানোর জন্য। মেয়েদের কেন্দ্র করে এমন থ্রিলার বানানোর জন্য অবশ্যই তিনি ধন্যবাদ পাবেন। তবে কাহিনির যোগসূত্রের দিকে আরও একটু নজর দেওয়া যেত। অবশ্য যে পরিসরের কাহিনি এটা নিয়ে কুড়ি পর্বের ধারাবাহিক নির্মাণ সম্ভব, সেটাকে তিন ঘণ্টার ব্যাপ্তিতে দেখানো বেশ ঝক্কির। ‘হাওয়া’ ছবি থেকেই আমি নাজিফা তুষির অভিনয়ের বিশাল ভক্ত। এই ছবিতে নাজিফা তুষি এত বেশি বাস্তব অভিনয় করেছেন যে আপনার রেশমাকেই বেশি মনে থাকবে। হাঁটাচলা থেকে শুরু করে কথা বলা, অভিব্যক্তি, গালাগাল—সবই যেন শহরে আপনার সামনে ঘটে যাওয়া রূঢ় বাস্তবতা। পরিশেষে পথ প্রোডাকশনকে ধন্যবাদ অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের ছবিটা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি প্রায় শেষের পথে, হ্যাঁ।

তিনি আরও যোগ করেন, আমি এটিকে খুব কাছাকাছি শেষ হয়ে আসছে বলেই দেখি। তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে, তবে যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা এই সপ্তাহে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে ঠিক কোথায় এই বৈঠক হতে পারে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে।

পাকিস্তানে ইরানি দূতাবাসের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা খুব শিগগির হতে পারে। তবে আল-জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েট প্রেস জানিয়েছে, এখনো বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান চূড়ান্ত হয়নি।

সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফা আলোচনার ক্ষেত্রে তুরস্ক এবং মিশর সম্ভাব্য আয়োজক হতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিস্ফোরণ, নিহত ১১

ভারতের ছত্রিশগড় রাজ্যের একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লার বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২২ কর্মচারী। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে সংবাদসংস্থা পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের আশঙ্কা, দুর্ঘটনাস্থলের বয়লার রুমে এখনো কয়েকজন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ছত্রিশগড় রাজ্যের শক্তি জেলার সিংহিতারাই গ্রামে বেদান্ত লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি বয়লার টিউবে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ।

জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর জানান, ঘটনাস্থলেই চার শ্রমিক মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়।

ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে সরকার। বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে বয়লার রুম সরাসরি তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না বলে দাবি করেছে বেদান্ত লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউনিটটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল সাব-কন্ট্রাক্টর এনটিপিসি জিই পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্মীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দ্বিতীয় দফার আলোচনাতেও মার্কিন দলের নেতৃত্বে থাকছেন জেডি ভ্যান্স

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যদি দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়, তবে সেখানেও মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও এই সম্ভাব্য বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই কুশনার কূটনৈতিক আলোচনার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইরান যুদ্ধ থেকে উত্তরণে একটি কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব নিজের শীর্ষ এই তিন উপদেষ্টাকেই দিয়েছেন ট্রাম্প এবং তাঁদের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। গত শনিবারের সেই ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর থেকেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

সূত্র: সিএনএন