বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

আটকে থাকা বিসিএসের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে পিএসসি

প্রায় চার মাস অচলাবস্থার পর আশার আলো দেখছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। গত বৃহস্পতিবার আরও পাঁচ সদস্য নিয়োগের ফলে কমিশনের কোরাম পূর্ণ হয়েছে। পিএসসির এক দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারক বলছেন, দ্রুতই আটকে থাকা বিসিএসের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে পিএসসি।

পিএসসির ওই দায়িত্বশীল সূত্র প্রথম আলোকে বলেন, আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আর পরে সরকার পতনের জেরে প্রায় চার মাস পিএসসির গতি স্থবির ছিল। আবার নতুন চেয়ারম্যান ও চার সদস্য নিয়োগের পরও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না পিএসসি। কেননা, ছয় সদস্যের কোরাম না হলে পিএসসি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কিন্তু বৃহস্পতিবার আরও পাঁচ সদস্য নিয়োগে পিএসসির সদস্য হলো ৯। এখন কোরামে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এ ছাড়া দ্রুত সভাও দেবে পিএসসি। আটকে থাকা বিসিএসের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে পিএসসি।

পিএসসি সূত্র জানায়, এখন চলমান বিসিএসের মধ্যে রয়েছে ৪৪তম বিসিএসের স্থগিত হওয়া ভাইভা চালু করা, ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল দেওয়া আর ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া। এর বাইরে ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ রয়েছে এই মাসের শেষ দিকে। সব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত হতে হবে বলে মনে করছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

আফগানিস্তান চ্যালেঞ্জ, চিন্তার কিছু দেখছেন না হৃদয়

ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে ধবলধোলাই হওয়ার পর এবার বাংলাদেশের সামনে আফগানিস্তান চ্যালেঞ্জ। তবে এবার ম্যাচের ফরম্যাট বদলানোয় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ। ওয়ানডে বাংলাদেশের প্রিয় ফরম্যাট বলেই আফগানিস্তান চ্যালেঞ্জ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তাওহিদ হৃদয়।

শারজাহতে আগামী বুধবার শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। যেই সিরিজে ব্যর্থতা ভুলে নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে চায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

তবে আফগানিস্তান এখন প্রতিপক্ষ হিসেবে যথেষ্ট শক্তিশালী। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে তারা। তাছাড়া শারজাহতেই কদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে দলটি। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবশেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই জয়ী তারা। এই অবস্থায় বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে।

তবে সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে প্রস্তুত আছে বাংলাদেশ। এমনটাই দেশ ছাড়ার আগে জানিয়ে গেছেন মিডলঅর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়।

এই ব্যাটার বলেন, ‘আফগানিস্তানের বোলিং বিভাগ বিশেষ করে স্পিনাররা সবসময়ই ওদের শক্তির জায়গা। এটা আমরা সবাই জানি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটা দলই শক্তিশালী। প্রতিটা দেশে তাদের সেরা ক্রিকেটাররাই খেলে।’

হৃদয় আরও বলেন, ‘তাই এগুলো নিয়ে বেশি চিন্তার কিছু নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফর্ম করতে হলে এই চ্যালেঞ্জটা নিতেই হবে। প্রতিপক্ষে কারা আছে, তাদের নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করব। সেভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করব।’

ঐতিহাসিক জেলহত্যা দিবস আজ!

৩ নভেম্বর, ১৯৭৫। আজ রাতেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

ফজরের আগে ১০ মিনিটেই কিলিং মিশন শেষ করে ঘাতকরা। খুনিরা জাতীয় এই চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছিলো। প্রতি বছরের মতো আজ শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে জাতীয় চার নেতাকে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় চার নেতাকে তাদের সরকারে যোগদানের প্রস্তাব দেয়; কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই জাতীয় চার নেতা সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এ কারণে তাদের নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়।

জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনায় ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত থেমে ছিল ২১ বছর।

১৯৯৬ সালের জুন মাসে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৯ বছর পর, ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবার কাকে চায় কোন দেশ?

বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করে যাদের ওপর। আর তাই কেবল দেশটির জন্য নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তাই নজর থাকে শত্রু-মিত্র সবার। পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে চীন-রাশিয়া-ইরানের মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগও ওঠে কখনও কখনও। কমালা হ্যারিস নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প? মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবার কাকে চায় কোন দেশ?

বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান শাসনামলে দুই মেরুতে পৌঁছেছে দুই দেশের সম্পর্ক। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালেও এতটা শীতল ছিলো না মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্ক। এমনকি, ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্ক নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা তাই মনে করছেন, ট্রাম্পকেই ওভাল অফিসে দেখতে চান রুশ প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইস্যুতে ইরানের অবস্থান আবার সম্পূর্ণ বিপরীত। আলোচিত আইআরজিসি কমান্ডার কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার জেরে ট্রাম্পকে রীতিমতো শত্রু ঘোষণা করেছে ইরান। এবারের নির্বাচনেও ট্রাম্পবিরোধী প্রপাগাণ্ডা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।

রিপাবলিকান কিংবা ডেমোক্রেট-ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, দুই দলেরই রয়েছে কঠোর চীন বিরোধী নীতি। ক্ষমতায় এসে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আরোপ করে চীনের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট বদল হলেও বাইডেন প্রশাসনও সরে আসেননি ট্রাম্পের নীতি থেকে। যদিও, সম্প্রতি এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শি জিন পিংয়ের সাথে বেশ সুসম্পর্ক রয়েছে তার।

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ট্রাম্পেরই বেশি। নিজেকে তেলআবিবের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন নিজেই। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। গাজায় আগ্রাসন ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনের অকুণ্ঠ সমর্থনের পরও বলা হচ্ছে, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে অখুশি হবেন না নেতানিয়াহু।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্কের নজির রয়েছে। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দিল্লি সফরেও এসেছিলেন রিপাবলিকান এই নেতা। অন্যদিকে, বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সবার আগে যে ক’জন বিশ্বনেতা অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তাদের মধ্যে শুরুর দিকেই রয়েছে মোদির নাম। যদিও, শিখ নেতা হত্যা চেষ্টা ইস্যুতে সম্প্রতি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন।

ইউরোপীয় নেতাদের বেশিরভাগই অবশ্য ক্ষমতায় দেখতে চান হ্যারিসকেই। বেশ কয়েকবারই ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এছাড়াও আরও নানা ইস্যুতে রিপাবলিকান প্রার্থীর সাথে মতবিরোধ রয়েছে ইউরোপীয় নেতাদের।

প্রেসিডেন্ট পদে ফিরলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানকে দেয়া সামরিক সহায়তায় লাগাম টানতে পারেন ট্রাম্প- এমন ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।

চসিকের নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। শপথ পড়িয়েছেন এলজিআরডি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। রোববার (৩ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম ভৌগোলিকভাবে এমন একটি জায়গায় রয়েছে যেখানে পাহাড়, সমুদ্র রয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপি চতুর্থ যে খাতটি অবদান রাখতে পারে তা হলো পর্যটন। এই খাতকে ব্যবহার করে সার্কভুক্ত দেশগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মিথ্যা প্রচারণাসহ নানা কারণে এই খাতটিকে ঠিকমতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ সময় এই খাতসহ অন্যান্য বিষয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি।

সহিংসতায় তিন মাসে নিহত অন্তত ৭০০

গত প্রায় তিন মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সামাজিক বিরোধে অন্তত ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে প্রায় ১১ হাজার। এর মধ্যে গত অক্টোবর মাসে ৯১ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৮৪ জন এবং আগস্টে ৫৪১ জন নিহত হয়। এ সময় গণপিটুনিতে নিহত হয় ৮৪ জন। ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনাও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন সূত্রে এই তথ্য মিলেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে লম্বা সময় মাঠে ছিল না পুলিশ। অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুটের পাশাপাশি কারাগার থেকে আসামি পলায়নের ঘটনাও ঘটে। এরপর তৈরি পোশাক কারখানায় অস্থিরতা এবং পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই ও দখলদারির ঘটনা জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের বেশির ভাগ এখনো উদ্ধার হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সেসব আগ্নেয়াস্ত্র এখন সন্ত্রাসীদের হাতে। অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়িতে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। গত অক্টোবরে দেশে ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে অন্তত ২৪টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে এবং এসব ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছে। আগের দুই মাসে এই সংখ্যা ছিল ৬৫। সর্বশেষ নড়াইল সদরে গরুচোর সন্দেহে দুলাল ও নুরনবী নামের দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৮টি ঘটনায় সহিংসতার শিকার হয়েছে ৪২৪ জন। তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত এবং ৪১২ জন আহত হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ৯ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। অন্য তিনজন বিএনপির। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সহিংসতার ৫৮টি ঘটনার মধ্যে ৩৭টি ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলজনিত, ১৭টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্বে, দুটি আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে এবং দুটি ঘটনা ঘটেছে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দ্বন্দ্বে।

এ ছাড়া অক্টোবর মাসে ২৮৮টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৫১টি ধর্ষণ, ১৫টি দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল ৩৫টি। সেপ্টেম্বরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ১০টি। অক্টোবর মাসে তা বেড়েছে। এই মাসে ২৩টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অক্টোবর মাসে ৫৩টি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ পাওয়া গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে এই সংখ্যা ছিল ৪৯। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২৩টি।

বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এমএসএফ প্রতি মাসে মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

হত্যায় ব্যবহার করা হচ্ছে গুলি
সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় জেনেভা ক্যাম্পে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয় কাল্লু ওরফে জানে নেওয়াজ। নিহতের স্ত্রী আফসানা বলেন, গত বুধবার রাতে ক্যাম্প এলাকায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি (তদন্ত) হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চলছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কালারপুল এলাকায় প্রকাশ্যে ভারী অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় একদল চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী। তাদের মধ্যে শটগান হাতে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাত হোসেনের নাম জানতে পেরেছে পুলিশ। এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালান তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা।

এই সাজ্জাত বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় গত সোমবার চট্টগ্রামে দিনদুপুরে আফতাব উদ্দিন তাহসীন নামের স্থানীয় এক তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, অবৈধ অস্ত্রে খুনাখুনির অভিযোগ পেয়ে তদন্ত চলছে। সেই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে গত ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৩১৮টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৭৪ জন সন্ত্রাসীকে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে রিভলভার ১৯টি, পিস্তল ৭৬টি, রাইফেল ২২টি, শটগান ৩৭টি, পাইপগান আটটি, শ্যুটার গান ৪৩টি, এলজি ৩১টি, বন্দুক ৪৮টি, একে৪৭ একটি, এসএমজি পাঁচটি, গ্যাসগান চারটি, এয়ারগান ১০টি, এসবিবিএল ১০টি, টিয়ার গ্যাস লঞ্চার দুটি এবং থ্রি কোয়ার্টার দুটি।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, এখনো অনেক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে থানা থেকে লুট হওয়া বেশির ভাগ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। সেসব অস্ত্রও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ কাঁচাবাজার মার্কেটের অফিসকক্ষে ঢুকে মার্কেটটির সভাপতি আবুল হোসেন এবং তাঁর ছোট ভাই মাহবুবকে প্রকাশ্যে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এভাবে গত মাসে এ এলাকায় একাধিক গুলির ঘটনা ঘটে।

চুরি ডাকাতি ছিনতাইয়ে বিপাকে পুলিশ
মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত, এমনকি দিনদুপুরেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে রাজধানীতে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ছিনতাই প্রতিরোধে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যত কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। যদিও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে রাজধানীর ৫০টি থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দারা কাজ করছেন।

এর মধ্যে ডাকাতির ঘটনা বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, সড়ক, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তারা বেশি হানা দিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের গ্রাহকদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। আর ভোরের দিকে বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও নিরিবিলি অন্ধকার সড়কে রিকশাযাত্রীদের নিশানা বানিয়েছে ছিনতাইকারী ও ডাকাতদলের সদস্যরা।

রাজধানীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসান বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চলছে। এরই মধ্যে অনেক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছে।

শিল্প-কারখানায় টানা অস্থিরতা
সরকারের নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও বিভিন্ন দাবিতে সড়কে আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা থেমে নেই। সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। আশুলিয়া অঞ্চলের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন বেশি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গুলিতে একজন শ্রমিক নিহত হন। এরপর সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বরে গুলিতে দুই গার্মেন্টসকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ পোশাক শ্রমিক আল আমিন (১৮) ও ঝুমা আক্তারকে (১৫) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাজার আখড়া ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর
ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গত তিন মাসে বেশ কিছু মাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও আখড়ায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম চৌধুরী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব তৎপর রয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী ও অপরাধ বিশ্লেষক নুর খান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে গুলিতে অনেক মানুষ মারা গেছে। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দ্রুত এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

৩ নভেম্বর শোক দিবস পালনসহ ৩ দফা দাবিতে সোহেলের কর্মসূচি

জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালনসহ তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ।

তিনি আগামী ৩ নভেম্বর ওইসব দাবি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি দেবেন বলে জানিয়েছেন। শুক্রবার ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে কর্মসূচি ঘোষণা করেন সোহেল।

তাজপুত্র তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আগামী ৩ নভেম্বর কলঙ্কময় জেলহত্যা দিবস। দেখতে দেখতে ৪৯ বছর পার হয়ে গেল, অথচ এখন পর্যন্ত জাতির চার বীর যাদের নেতৃত্বে সফলভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হলো, যাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেলাম- আজ অবধি রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের কোনো স্বীকৃতি নেই। এটা মেনে নেওয়া যায় না!

এরপর নিজের তিনটি দাবি তুলে ধরেন তিনি। সেগুলো হলো:

১. যেহেতু ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়, সেহেতু বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র (প্রজাতন্ত্র) হিসেবে জন্ম লাভ করে। তাই এ দিনটিকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা করতে হবে।

২. ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে।

৩. জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সব বেসামরিক ও সামরিক সংগঠক, পরিচালক, অমর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, অবদান ও জীবনীসহ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে সর্বস্তরের পাঠ্যপুস্তকে ও সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

পোস্টে সোহেল তাজ লেখেন, ‘আমি মনে করি, আমার এ তিন দাবি ন্যায্য ও যৌক্তিক এবং এটা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সবার প্রাণের দাবি। সেই লক্ষ্যে আমার পরবর্তী কর্মসূচি, আগামী ৩ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আমি অবস্থান নেব এবং পরবর্তীতে পদযাত্রা করে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেব।’

তিনি আরও লিখেন, ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে বিকাল ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার উদ্দেশ্যে হেটে যাত্রা শুরু করব। এ সমাবেশে স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের-বৈষম্যবিরোধী চেতনায় বিশ্বাসী সবাইকে অংশ নেওয়ার জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

স্পেনে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০৫ জন

গত পাঁচ দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ইউরোপের দেশ স্পেন। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এখনও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানোর জন্য লড়াই করছে দেশটির উদ্ধারকর্মীরা। এখন পর্যন্ত ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৫ জন। শুক্রবার (২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনাল কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (সিইসিওপি) জানায়, ভ্যালেন্সিয়াজুড়ে এ পর্যন্ত ২০২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া, কাস্টিলা লা মাঞ্চা অঞ্চলে দুজন এবং আন্দালুসিয়ায় আরও একজন মারা যাওয়ার খবর রয়েছে।

এছাড়াও বন্যায় কাস্টিলা লা মাঞ্চা অঞ্চলে দুজন এবং আন্দালুসিয়ায় আরও একজন মারা গেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে। ভয়ঙ্কর জলোচ্ছ্বাসে এলাকাজুড়ে হয়েছে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি। গাড়িগুলো ভেঙে পড়েছে পরস্পরের ওপর।

বন্যার কারণে উপড়ে গেছে গাছপালা। এছাড়াও, অনেক জায়গায় ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের লাইন। মাটিতে আটকে পড়েছে ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী। এরইমধ্যে, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা।

বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর ভ্যালেন্সিয়া জুড়ে হাজার হাজার মানুষ গণ পরিচ্ছন্নতায় অংশ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বালতি, বেলচা, ঝাড়ু, মপ এবং পানির বোতল নিয়ে ঘরবাড়ি পরিষ্কারে নেমে পড়েন।

আজ সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

আজ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে ট্রফি নিয়ে নেপাল থেকে দেশে ফেরে ঋতুপর্ণারা। পরে ছাদ-খোলা বাসে চড়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) পৌঁছায় মেয়েরা। সেখানে তারা জমকালো সংবর্ধনায় সিক্ত হয়।

সেই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। গৌরবময় অর্জন নিয়ে আসায় তিনি বাংলাদেশ দলের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেন।

জুলাই ফাউন্ডেশনের নতুন কর্মসূচি: আজ থেকে শহীদের পরিবার পাবে আর্থিক সহায়তা

আজ থেকে শুরু হচ্ছে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের নতুন কর্মসূচি। যেখানে প্রতি সপ্তাহে ২০০ জন শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

আজ শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৪টি ধাপে ২০০ জনকে এ সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।

গতকাল জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম জানান, প্রথমে ঢাকা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। ৮টি বিভাগের প্রতিটাতেই জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ফান্ডগুলো চেকের মাধ্যমে এবং ছোটগুলো বিকাশে দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতি শহীদ পরিবারকে ৫ লাখ এবং আহতদের ১ লাখ করে টাকা দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।