বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : পাইলট

যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদক রোধে এ রকম খেলা যদি প্রত্যেকটা এলাকায় হয়, তাহলে যুবসমাজ মাদক ছেড়ে খেলায় মনোনিবেশ করবে।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চন্দ্রা এলাকায় পূর্বচন্দ্রা স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত মাদকমুক্ত ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদ মাহমুদ পাইলট বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা এলাকায় বড় বড় টুর্নামেন্ট করতে হবে। এ দেশের লাখ লাখ ছেলে-মেয়ে ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলে। এগুলো তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। আমাদের ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলা করতে বেশি বেশি উৎসাহ দিতে হবে।

কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আকুলের পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ব চান্দরা স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ৮ বিভাগের ৮টি দল অংশ গ্রহণ করে। ফাইনাল খেলায় আবরণ জায়ান্টস দল বালিয়া ভাই কিং দলকে হারিয়ে বিজয় অর্জন করে। পরে বিজয়ী দলকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পুরস্কার ও চ্যাম্পিয়ন টফি তুলে দেওয়া হয়।

গাজীপুর জেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক সাইজউদ্দীন আহম্মেদের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম ও দায়রা জজ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস সুলতান উদ্দিন প্রধান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলোয়ার জাহান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল মাহমুদ প্রমুখ।

সাংবাদিকদের তথ্যের মাধ্যমে অনেক অ্যাকশন নিয়েছি : ঢাকা জেলা প্রশাসক

ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. তানভীর আহমেদ বলেছেন, ‌‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। অনিয়ম নিয়ে করা সাংবাদিকদের নিউজগুলো আমি সুশাসন ও নানা অভিযানে কাজে লাগিয়েছি।’

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির (সিআরইউ) কার্যালয়ে সংগঠনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও বিদায়ি কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক তথ্যের মাধ্যমে অনেক অ্যাকশন নিয়েছি।
এ জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে মিডিয়া উইয়ং থাকে। কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের কাজে সহযোগিতা করেন।’

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদ্যঃ বিদায়ি সভাপতি হাসিব বিন শহিদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার কর্মকার ও আইনজীবী সমিতির কোষাধাষ্য আব্দুর রশিদ মোল্লা, ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এডিসি নাসির উদ্দিন, বর্তমান সভাপতি লিটন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মামুন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা।

তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমার কিছু পরিকল্পনা আছে, এর ভেতর দ্রব্যমূল্য হ্রাস। ঢাকার বিভিন্ন খাসজমিতে জনতার বাজার হবে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো বাজার কন্ট্রোল করা।
চাইলেই কোনো সিন্ডিকেট যেন পণ্যের দাম বৃদ্ধি করতে না পারে। আমরা ঢাকার ২১টা খাল উদ্ধারের জন্য পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। বাউনিয়া খালের মাধ্যমে আমরা এ কার্যক্রম শুরু করেছি। সাংবাদিক সমাজ ভালো কাজে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখবে, এ প্রত্যাশা করছি।’

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকেই আদালতপাড়ায় সাংবাদিকদের উপস্থিতি বেড়েছে।
সেই সময় দেখেছি বসার জায়গা না থাকায় সাংবাদিকরা সারা দিন গাছতলায় অতিবাহিত করলেও নিরপেক্ষতার জন্য কখনো আইনজীবীদের থেকে সুবিধা নিতেন না। তখন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোর্টে কী হচ্ছে, তা জাতির কাছে তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে রাষ্ট্রে বার্তা যায়। ছাত্র আন্দোলনেও সাংবাদিকদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে ফ্যাসিস্ট আসামিদের আদালতে আনা হলে সাংবাদিকরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরছেন। কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের রুমের স্পেস বড় করাসহ অফিসের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় দেখবেন বলে প্রত্যাশা রাখছি।’

ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম বলেন, ‘আদালতপাড়ার নিউজ আপনারা (সাংবাদিক) কভার করেন। যার যে দলই থাক, সবাই সত্য প্রকাশ করবেন। ঢাকা আইনজীবীদের সঙ্গে আপনাদের সাংবাদিকদের সমন্বয় থাকবে বলে আশা করি। কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির সংগঠনটি আরো বড় হবে। অফিস রুম যেন আরো বড় হয় সে জন্য আমরা ঢাকা আইনজীবী সমিতি আপনাদের পাশে থাকব। ছাত্র-জনতাদের নতুন বাংলাদেশের যে আশা আকাঙ্ক্ষা তা আপনারা বজায় রাখবেন প্রত্যাশা করছি।’

কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার কর্মকার বলেন, ‘হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৪ বছর অতিবাহিত করল কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি। প্রথমে ১২ জন দিয়ে শুরু। এখন প্রায় শতাধিক সাংবাদিক এই সংগঠনে। এই সংগঠনে পেশাদার মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাই কাজ করেন। সবাই নিরপেক্ষ জায়গা থেকে পেশাদারি বজায় রাখেন।’

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা দ্রুত করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুততর করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী আহমেদ হুসেনের সঙ্গে বৈঠকের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানের জবাবে কানাডার মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থী ভিসার সংখ্যা কিছুটা কমিয়েছি, তবে এটি বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বৈধ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের দরজা সব সময় খোলা।
’

এ সময় বাংলাদেশে কানাডার উৎপাদন কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। দেশকে একটি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কানাডাকে তাদের উৎপাদন কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের কথা জানিয়েছেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্রচার ও সুরক্ষা চুক্তি (এফআইপিএ)’ নিয়ে চলমান প্রযুক্তিগত আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন কানাডিয়ান মন্ত্রী।

আহমেদ হুসেন বলেন, ‘এফআইপিএ স্বাক্ষরিত হলে কানাডার ব্যবসায়ীরা এতে উৎসাহিত হবেন এবং এটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।
’

কানাডাকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কানাডার একটি এলাকাকে ‘বেগমপাড়া’ বলা হয়, যেখানে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের পরিবার বসবাস করছে।”

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, কারণ এটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।’

এ প্রসঙ্গে কানাডার মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির অর্থ বা লুটপাট করা সরকারি টাকা কানাডায় রাখতে চাই না।’

বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কানাডার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে কানাডার মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি জানি, বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের প্রতি তাদের আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন।
’

এ সময় বাংলাদেশে চলমান সংস্কার কার্যক্রম, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

বনানী থানা ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ

বনানী থানা ছাত্রদল নেতা মোঃ ইয়াছিন শাকিলের উদ্যোগে ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন রাস্তা ও ফুটপাতে থাকা শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে গভীর রাতে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ করেন।

এসময় তিনি দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে তার জন্য দোয়া চান। এই সময় বনানী থানা ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা মোঃ সুজন, সাইফ আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম সহ বনানী থানা ছাত্রদলের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা অসহায় মানুষকে আশ্বস্ত করেন ভবিষ্যতেও তারা এভাবে সব সময় স্থানীয় মানুষের যে বিপদে পাশে থাকতে চান।

ফেব্রুয়ারির মধ্যেই দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান

ইমারত হোসেন

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে কবে দেশে ফিরছেন তা নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়ার পর বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের মধ্যে এ নিয়ে জানার আগ্রহ বেড়েছে।

এদিকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লিডার আসছে’, এ ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। আসলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঠিক কবে ফিরবেন, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কোনো দিনক্ষণ পাওয়া যায়নি।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে পাঁচটি মামলায় সাজা হয়, তার মধ্যে একটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন। বাকি চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দ্রুততম সময়ে এসব মামলায় খালাস পেলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি নাগাদ তিনি দেশে ফিরতে পারেন বলে বিএনপিতে আলোচনা রয়েছে।

তবে দলটির অভ্যন্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরার তারিখ এখনো সুনির্দিষ্ট হয়নি। তার দেশে ফেরার ইস্যুটির একদিকে যেমন আইনি দিক রয়েছে, অন্যদিকে এটি রাজনৈতিক বিষয় বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কখন বিদেশে যেতে পারেন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কখন দেশে ফিরতে পারেন-এ ব্যাপারে লন্ডন সফররত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশে ফিরলে কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে বলেও অনেকে ধারণা করছেন।

বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে বিএনপির মহাসচিবের। তবে তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত হচ্ছে জানিয়ে তার আইনজীবীরা বলছেন, সাজা হওয়া চারটি মামলাসহ ৩৯টির মতো মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে শনিবার লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দল যখন মনে করবে তখন তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। এছাড়া উনার (তারেক রহমান) আরও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে, সেগুলো শেষ করে দেশে যাবেন।

জানতে চাইলে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিক বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়ার লন্ডনে আসার কথা রয়েছে। ম্যাডামকে তো প্রথম রিসিভ করতে হবে। তার চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতিও নিশ্চয়ই একটা আছে। ম্যাডামকে রিসিভ না করে আমার মনে হয় না কোনো কিছু হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি, উনি (তারেক রহমান) হয়তো ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) জন্য অপেক্ষা করছেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, মানহানি, নাশকতা, গ্রেনেড হামলা ও দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকাসহ দেশব্যাপী ৮০-৮২টির মতো মামলা করা হয়। ওয়ান-ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এসব মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৭টি মামলা হয়। তারেক রহমানের মামলাগুলোর মধ্যে ৬২টির মতো মানহানির মামলা বলে জানান তার আইনজীবীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ও তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ৮০ থেকে ৮২টি মামলা করা হয়েছিল। ৫টি মামলায় তার দণ্ড হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে খালাস পেয়েছেন। বাকি চারটি আদালতে বিচারাধীন আছে, এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের মোট ৩৯টি মামলা বাতিল বা খারিজ কিংবা খালাস পেয়েছেন। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। আর বাকি ৩৮টির মধ্যে কোনো কোনো মামলা বাতিল হয়েছে, আবার কোনোটি খারিজ হয়েছে। ৩৫টির মতো মামলা আছে পেন্ডিং, এগুলো সব মানহানি মামলা।

কায়সার কামাল আরও জানান, হাইকোর্টে ৯টি মামলা আইনগতভাবে বাতিল হয়েছে এবং একটি মামলায় (একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা) তারেক রহমান বেকসুর খালাস পান। বাকিগুলো সংশ্লিষ্ট আদালত (জজ এবং ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট) কর্তৃক বাতিল বা খারিজ হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের কোনো মামলা প্রত্যাহার হয়নি বলে জানান তার এই আইনজীবী।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত প্রত্যেকটি মামলা ভিত্তিহীন। তারপরও তিনি আদালতের মাধ্যমে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি চান।

সেনা সমর্থিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরের বছর ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্য যান। তখন থেকেই তিনি লন্ডনে রয়েছেন। লন্ডনে থাকাকালে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে তার মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান’ তারেক রহমান। সেখানে থেকেই তিনি দল পরিচালনা করছেন।

বিএনপি নেতারা জানান, তারেক রহমান দলকে যেমন সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেছেন, তেমনিভাবে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতন ত্বরান্বিত হয়। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার দেশে ফেরা খুবই কাঙ্ক্ষিত এবং নেতাকর্মীরা সেদিকেই চেয়ে আছে।

জানা গেছে, তারেক রহমানের মামলাগুলো বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি খালাস পাচ্ছেন। বাকি মামলাগুলো যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, সে ব্যাপারে আইনজীবীরা তৎপর রয়েছেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, তারেক রহমান দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে আছেন। এ ক্ষেত্রে তার দেশে ফেরার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান কী, দলের পক্ষ থেকে সেটা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী দেশগুলোর মনোভাবও জানার চেষ্টা করবে বিএনপি।

বিএনপির নেতারা বলছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমানের ইতিবাচক ও পরিবর্তনের রাজনীতি জাতির সামনে নতুনভাবে আশার সঞ্চার করছে। মানুষের মন জয় করতে নিচ্ছেন একের পর এক যুগান্তকারী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। তার (তারেক রহমান) দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্র নিয়ে ভাবনা দেশের জনগণও গ্রহণ করেছে। তিনিই আগামীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক।

সাজা হওয়া মামলাগুলোর অবস্থা-
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় খালাস : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমাবেশ চলার সময় গ্রেনেড হামলা হয়। সেই হামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন, আহত হয়েছিলেন ৪০০-এর বেশি নেতাকর্মী। জজ আদালত এ মামলায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। বহুল আলোচিত এ মামলায় ১ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আসামিদের সবাইকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অর্থ পাচার মামলায় সাজা স্থগিত : ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের একটি মামলায় ঢাকার একটি আদালত তারেক রহমানকে খালাস দেন। ওই মামলায় তারেক রহমানের বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে দুদক। ২০১৬ সালে বিচারিক আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেন। এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম সাজা। মঙ্গলবার তারেক রহমানের ৭ বছরের সাজা স্থগিত করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। একই মামলায় ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৭ বছরের সাজাও স্থগিত করা হয়েছে। তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিচারিক আদালতে তারেক রহমান খালাস পেলেও উচ্চ আদালতে তাকে সাজা দেওয়া হয়। এরূপ দৃষ্টান্ত বিচার ব্যবস্থায় বিরল। আমরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতির আবেদন (লিভ টু আপিল) দায়ের করি। আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর (আপিলের অনুমতি) করে আদেশ দেন। ৩১ ডিসেম্বরে মধ্যে পক্ষদ্বয়কে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছেন সর্বোচ্চ আদালত। পাশাপাশি হাইকোর্টের সাজাও স্থগিত করেছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা : ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। একই সঙ্গে তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্ট পরে খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। এই মামলায় খালেদা জিয়া ২ বছর কারাভোগ করেন। ২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদের মামলায় কারাদণ্ড : ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও জুবাইদা রহমানের মা সৈয়দা ইকবাল বানুর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিল দুদক। অভিযোগ ছিল, তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর ঘোষিত আয়ের বাইরেও ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থের অবৈধ সম্পদ রয়েছে। গত বছরের (২০২৩ সাল) আগস্টে এ মামলায় তারেক রহমানকে ৯ বছরের এবং তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত।

মানহানির মামলায় দণ্ড : ২০১৪ সালে লন্ডনে এক সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজাকার ও পাকবন্ধু উল্লেখ করে তারেক রহমান নানা অবমাননাকর কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ এনে সে সময় নড়াইলে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান বিশ্বাস। ওই মামলায় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেন নড়াইলের আদালত।

আগের সরকারের অনেক অসম চুক্তিতে ব্যয় হচ্ছে প্রচুর: রিজওয়ানা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আগের সরকারের সময়ে প্রচুর অসম চুক্তি হয়েছে। এসব অসম চুক্তির পেছনে সরকারকে প্রচুর ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি) আয়োজিত দ্বিতীয় ‘বাংলাদেশ এনার্জি প্রোসপারিটি ২০৫০’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টেকসই সমাধান করা কঠিন। তবে তা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান পরিবেশ উপদেষ্টা।

জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, জ্বালানি খাতে সংস্কার করছে বর্তমান সরকার। গেল সরকারের আমলে এই খাতে দুর্নীতির সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এখন এসব বন্ধ করা হচ্ছে। আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

জ্বালানি খাতের মাষ্টারপ্লানও পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এজন্য সরকারের প্রস্তুতি আরও বাড়াতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারাও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্যে জমির প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

আশুলিয়ায় ১২ কারখানায় ছুটি ঘোষণা, সেনা মোতায়েন

শ্রমিকদের কর্মবিরতির জেরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ১২টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে নরসিংহপুর এলাকার হামীম গ্রুপ, শারমীন গ্রুপ, মেডলার, নেক্সট কালেকশন, আল মূসলীম ও সেতারা গ্রুপসহ বেশ কিছু কারখানায় বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন তারা।

পরে কর্তৃপক্ষ ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা দেন। এসময় সরকার নির্ধারিত ৪ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রত্যাখান করে ১৫ শতাংশের দাবি জানান শ্রমিকরা। এদিকে বিশৃঙ্খলা এড়াতে শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ব্যাংকে কমেছে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ব্যাংকে কোটিপতিদের আমানত দৃশ্যমান হারে কমেছে। ঋণ প্রবাহও প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যাও কমেছে দেড় হাজার জনেরও অধিক।

গত ৫ আগস্টের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপিসহ অনেক নেতাকর্মী, ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও আমলারা দেশ ত্যাগের আগে ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ তুলে নেন। অবশ্য দুর্নীতির দায়ে অনেকেরই ব্যাংক হিসাব জব্দ করা ছিল।

এদিকে, ব্যাংকগুলোতে ঋণ আদায়ও কমেছে। প্রতিবেদন বলছে, জুনে ব্যাংকে আমানত ছিল ১৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৫ হাজার কোটিতে।

একই সময়ে শহরে আমানত কমেছে দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং গ্রামে কমেছে দশমিক ৭০ শতাংশ। আগে মোট আমানতে গ্রামের অবদান ছিল ১৮ শতাংশ, এখন দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও আমানত প্রবাহও কমেছে।

উল্লেখ্য, জুনে কোটিপতি আমানতকারী ছিলেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ জন। সেপ্টেম্বরে সেটি সংখ্যার বিচারে কমেছে ১ হাজার ৬৫৭ জন।

শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে পার্বত্য অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে হবে: ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন– শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে পার্বত্য অঞ্চলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের জন্য আয়োজিত ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন– প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ পার্বত্য জেলাগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত অঞ্চল হতে পারতো, কিন্তু সবচেয়ে পেছনে পড়ে আছে। এটা হওয়ার কথা নয়। আপনাদের ফসল, ফল-ফলাদি, ঐতিহ্যবাহী পণ্য দিয়ে অর্থনীতিতে আপনাদের এগিয়ে যাওয়ার কথা। পার্বত্য এলাকাগুলো দুর্গম, সেজন্য যোগাযোগ করা কঠিন হয়। আর এ কারণেই সেখানে প্রযুক্তির প্রসার দরকার। প্রযুক্তি দিয়ে এই দুরত্ব জয় করা যাবে।

নারী ফুটবল দলে পার্বত্য জেলা থেকে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠকের স্মৃতিচারণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবলে বিশ্বের অন্যান্য দেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আপনাদের এলাকার মেয়েরা কি দুর্দান্ত খেললো! কীভাবে বলবেন, পিছিয়ে আছে? যারা আপনাদের এলাকা থেকে এসেছে, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। কত কষ্ট করে পাহাড় ভেঙে তাদের বাড়ি পৌঁছাতে হয়! বাবা-মা ঢাকায় এলে কত কষ্ট করে তাদের আসতে হয়। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই কিন্তু তারা বিশ্বজয় করে এসেছে।

পার্বত্য এলাকার তরুণরা যেন বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, এ আশাবাদ জানিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন– আপনাদের মেয়েরা ফুটবলে বিশ্ব জয় করেছে। তরুণদের শুধু বাংলাদেশের নাগরিক নয়, হতে হবে বিশ্বনাগরিক। দুর্গম এলাকা বলে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। সীমাবদ্ধতা থাকবে কিন্তু মনের সীমারেখাকে বাড়িয়ে দিতে হবে। সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে নিজ কৃতিত্ব দিয়ে পৌঁছে যেতে হবে।

জানুয়ারিতে তারুণ্যের উৎসবে পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের অংশ নেয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন– স্থানীয় খেলা, রচনা প্রতিযোগিতা, গান-নাচ নিয়ে যেন পার্বত্য অঞ্চলের শিশু ও তরুণরা এই উৎসবে অংশ নেয়। এটা সবার উৎসব। উৎসবটি বৈচিত্র্যময় হোক। তাদেরকে আপনারা উৎসাহ দিন, যেন নিজ থেকেই তারা উদ্যমী হয়ে এ উৎসবে অংশ নেয়।

পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কঠিন সংকটে আছে। আপনাদের অঞ্চলে এটা আরও বেশি কঠিন। শিক্ষকদের কষ্ট হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্ট হয়। অনিয়মের পরিমাণ সারা বাংলাদেশে আছে, আপনাদের অঞ্চলে আরও বেশি করে আছে।

ড. ইউনূস যোগ করেন, আপনাদের পড়াশোনার দিকে মনোযোগী হতে হবে। রাষ্ট্রীয় দিক থেকে কীভাবে কী করা যায়, আমরাও চেষ্টা করব তা করার। পার্বত্য জেলার তরুণরা দুর্গম অঞ্চলে আছে বলে বড় শহর থেকে লেখাপড়ায় পিছিয়ে থাকবে, সেটা হতে দেয়া যাবে না। লেখাপড়ায় তাদের এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রিতে বিশেষ ছাড় চায় আদানি

ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত কিছু বিদ্যুৎ নিজ দেশে বিক্রি করতে সরকারের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে ভারতীয় শিল্প গোষ্ঠী আদানি।বাংলাদেশ ঠিকমতো বকেয়া পরিশোধ না করায় ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের কাছে বিশেষ ছাড় চাওয়া হয়েছে।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানি পাওয়ার লিমিটেড ভারতের পূর্বাঞ্চল ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত তাদের ২ বিলিয়ন ডলারে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকারের কাছে নতুন সুবিধা দাবি করছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের একমাত্র ক্রেতা বাংলাদেশ। তবে কোম্পানিটির দাবি, বাংলাদেশ ঠিকমতো বকেয়া পরিশোধ না করায় তারা ঝামেলায় পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আদানি পাওয়ার এই কেন্দ্র চালানোর জন্য ব্যবহৃত আমদানি করা কয়লার শুল্কমুক্তির সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে। এই সুবিধা ছাড়া ভারতের বাজারে বিদ্যুতের যে দাম তার চেয়ে বেশি হয়ে যাবে আদানির বিদ্যুতের দাম। ফলে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এই বিষয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে মন্তব্য চাওয়া হলেও আদানি পাওয়ার কোনো মন্তব্য করেনি।

আদানির গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় এক দশমাংশ সরবরাহ করত। সেপ্টেম্বর নাগাদ বাংলাদেশের কাছে কোম্পানিটির বকেয়া দাঁড়ায় ৭৯০ মিলিয়ন ডলার। তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশ বেশ কিছু বকেয়া পরিশোধ করেছে এবং পরিশোধ অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে।

গত আগস্টে ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় আদানিকে এই কেন্দ্র থেকে ভারতের অভ্যন্তরেও বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রটি একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ বিক্রিতে বাধা সৃষ্টি করছে সংশ্লিষ্ট আইন।

আর তাই ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যদি বিশেষ ছাড় না দেয়, তাহলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আমদানি পণ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং এ জন্য আদানির বিদ্যুতের ওপর কর আরোপ করা হবে।

আদানি পাওয়ার (ঝাড়খন্ড) লিমিটেড ও বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এই ‘পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট’টি স্বাক্ষরিত হয় ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর, যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফর করছিলেন।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কত পরিমাণ বিদ্যুৎ কত দিন ধরে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে, তার দাম কী হবে এবং কোন কোন শর্তের অধীনে – এগুলোর সব কিছুই ওই চুক্তিতে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যদিও চুক্তিটি তখন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

এর অনেক পরে ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক ওয়াচডগ ‘আদানি ওয়াচ’ ১৬৩ পৃষ্ঠার ওই চুক্তিপত্রটি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ততদিনে অবশ্য সেই চুক্তির বিভিন্ন ধারা নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে একজন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, এই চুক্তিটিই এমন যে বাংলাদেশে বাল্ক ইলেকট্রিসিটির যে বাজারদর, তারা সেটার অন্তত পাঁচগুণ বেশি দামে আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হবে।

২০২২-এ প্রকাশিত একটি বেসরকারি গবেষণা রিপোর্ট বলেছিল, এই প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য বাংলাদেশ আগামী ২৫ বছরে আদানিকে ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দিচ্ছে – যে পরিমাণ অর্থ দিয়ে সে দেশে তিনটে পদ্মা সেতু বা ন’টা কর্ণফুলী টানেল তৈরি করা সম্ভব। এই ‘পিপিএ’-তে যে পাঁচিশ বছরের ‘লক ইন পিরিওড’ রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

কারণ চুক্তিপত্রে বাংলাদেশ সরকার আদানিকে ‘রাষ্ট্রীয় ও সার্বভৌম গ্যারান্টি’ দিয়েছিল যে পরবর্তী ২৫ বছর ধরে তারা গোড্ডায় উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই কিনে নেবে।