শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

পিকে নিয়ে ভারতে কট্টর হিন্দু সংগঠনগুলো সহিংস হয়ে ওঠছে

বলিউডের ব্লকবাস্টার ছবি পিকে নিয়ে ভারতে কট্টর হিন্দু সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ক্রমেই সহিংস আকার নিচ্ছে।image_112335_0

গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় ভোপাল, আহমেদাবাদ, দিল্লি-সহ বিভিন্ন শহরে পিকে-র পোস্টার ছেঁড়া হয়েছে, সিনেমা-হলগুলোতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি হলে ছবির প্রদর্শনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।ছবিটি হিন্দুবিরোধী, এই যুক্তিতে পিকে বয়কট করার ডাক দিয়েছেন রামদেব বা শঙ্করাচার্যর মতো ধর্মীয় নেতারাও।

এই তীব্র প্রতিবাদের মুখে ছবির নির্মাতারাও এখন বলছেন, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর, বিক্ষোভ
আহমেদাবাদের শিবা সিনেমা হলের সামনে মঙ্গলবার বিকেলের ঘটনা। সেখানে গত দিন দশ-বারো ধরেই দেখানো হচ্ছিল এবছরের বলিউড সুপারহিট, আমির খানের ছবি পিকে।

কিন্তু ছবিটি হিন্দু-বিরোধী, এই যুক্তিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের কর্মীরা আচমকা সেখানে হামলা চালায়, তুমুল ভাঙচুর চালিয়ে বন্ধ করে দেয় ছবিটির প্রদর্শন।

গত দুতিন দিনে অবিকল একই রকম দৃশ্য দেখা গেছে দিল্লি, ভোপাল বা মুম্বাই বা বেরিলির মতো দেশের নানা শহরেই – যেখানে ভিএইচপি বা হিন্দু সেনার কর্মীরা এসে পিকে-র শো বন্ধ করে দিয়েছে।

এই বিক্ষোভকারীরা বলছেন, পিকে ছবিতে হিন্দু ধর্মকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করা হয়েছে – এমন কী হিন্দু দেবতা শিবকেও অপমান করা হয়েছে। ফলে এই ছবি কিছুতেই দেখাতে দেওয়া চলবে না।

সেন্সর বোর্ড কি চোখ বন্ধ রেখে এই সব ছবির ছাড়পত্র দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলছেন তারা।

আসলে ১৯ ডিসেম্বর পিকে-র মুক্তির ঠিক পর পরই যে বিতর্ক মূলত ট্যুইটার বা ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল, সেই প্রতিবাদ এখন রাস্তায় নেমে এসেছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তেই।

ছবিটি হিন্দুবিরোধী কি না, সেই প্রশ্নে তখন ট্যুইটারে দেখা গিয়েছিল বয়কটপিকে আর উইসাপোর্টপিকে নামে পাল্টাপাল্টি দুটি হ্যাশট্যাগ – কিন্তু এখন বিক্ষোভ আর ভাঙচুরে পিকে-বিরোধীদেরই পাল্লাভারী।

বয়কটের ডাক, প্রশংসার বন্যা
ছবিটি বর্জন করার ডাক দিয়ে সেই বিরোধিতাকেই আরও উসকে দিয়েছেন শঙ্করাচার্য বা বাবা রামদেবের মতো ধর্মীয় নেতারা।

রামদেব যেমন বলেছেন, যার যা খুশি মুখ খুলে বলে যাবে, যা খুশি দেখিয়ে যাবে – এতো ভীষণ লজ্জার ব্যাপার। যে সব লোক এধরনের কাজ করছে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা উচিত, তাদের বানানো ছবিও বয়কট করা দরকার।

এর পাশাপাশি কিন্তু ক্রিকেট লেজেন্ড শচিন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি- প্রত্যেকেই পিকে দেখে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। আদবানি তো এমনও মন্তব্য করেছেন যে প্রত্যেক ভারতীয়রই এই ছবি দেখা উচিত।

কিন্তু প্রতিবাদের মাত্রা বাড়ছে দেখে পিকে-র নির্মাতারাও আর নীরব থাকতে পারছেন না।

ছবির মুক্তির বারো দিনের মাথায় এসে পরিচালক রাজকুমার হিরানি অবশেষে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, গান্ধী ও সন্ত কবীরের ভাবধারায় নির্মিত পিকে কোনো ধর্মকে অপমান করেনি. শুধু ধর্মের নামে ভন্ডামির নিন্দে করেছে।

সেন্সর বোর্ড পিকে-র পাশেই
রাজকুমার হিরানি ও ছবির নির্মাতা সংস্থার জন্য সুখবর হলো, দেশের সেন্সর বোর্ড কিন্তু পিকে-র পাশেই থাকছে।

সেন্সর বোর্ডের চেয়ারপার্সন লীলা স্যামসন বলেছেন, ‘‘এমন বিক্ষোভ আগেও অনেক হয়েছে – আর বহু ক্ষেত্রেই তাতে প্ররোচনাও থাকে। এটা দুর্ভাগ্যজনক, কারণ ছবিটা ভালো না-লাগলে আপনি যাবেন না – তাহলেই তো হলো।’’

তিনি আরও বলেছেন, ‘‘মানুষকে যদি আপনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেন – তাহলে তো নানা মত আপনাকে শুনতেই হবে, সব আপনার মতের সঙ্গে হয়তো মিলবেও না।’’

পিকে-র কোনো দৃশ্য যে তারা পাল্টাতে বলবে না, সেন্সর বোর্ড সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও এদিন পিকে দেখার পর তার রাজ্যে ছবিটিকে করমুক্ত ঘোষণা করেছেন।

যাবতীয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সত্ত্বেও ছবিটির প্রযোজকদের জন্য আশার কথা হলো, প্রথম বারোদিনেই পিকে আড়াইশো কোটি রুপিরও বেশি আয় করে নতুন রেকর্ড গড়ার দিকে এগোচ্ছে।– বিবিসি

চীনে নববর্ষের অনুষ্ঠানে নিহত ৩৫

চীনের শাংহাই-এ নববর্ষ উদযাপনের এক অনুষ্ঠানে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে ৩৫ জন মানুষ মারা গেছে। আহত হয়েছে ৪০ জনের বেশি।image_112347_0

নববর্ষকে স্বাগত জানাতে সাংহাই প্রদেশের নদী তীরবর্তী বান্ড এলাকায় প্রচুর সংখ্যায় মানুষ জড়ো হলে এক পর্যায়ে এই ঘটনা ঘটে। তবে কিভাবে হতাহতের ঘটনাটি ঘটলো সে সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তির বুকের ওপর চাপ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে সাহায্য করছেন আরেকজন।

আর মাটিতে শুয়ে আছেন বেশ কয়েকজন। এই দুর্ঘটনার পরপরই সেখানে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে যারা হতাহতদের জন্য কাজ করছে।
ঘটনার জানতে অনুসন্ধান চলছে। আহতদের অনেককে সাংহাই জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া বলছে, ঘটনাটি ঘটেছে, সাংহাই প্রদেশের নদী তীরবর্তী বান্ড জেলায়। সেখানকার রাস্তাগুলো বেশিরভাগই সরু, অপ্রশস্ত এবং বড় ঘটনা ঘটলেই সেখানে বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়।

সামাজিক মাধ্যমে যেসব ছবি পোস্ট করা হয় যেখানে দেখা যাচ্ছে, আহতদের রাস্তার ওপরে ফার্স্ট এইড চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রচুর সংখ্যায় পুলিশ পুরো এলাকার নিরাপত্তায় কাজ করছে।

ওইসব ছবি দেখে বোঝা যায়, নববর্ষকে স্বাগত জানাতে ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় বিশাল সংখ্যায় মানুষ জড়ো হয়েছিল। যারা ঘটনার সময় ওই এলাকায় ছিল তারাও বলে সোশ্যাল মিডিয়াতে তেমনই জানাচ্ছেন।

এমনই একজন ব্যবহারকারী ঈশে লিখেছেন, সেখানে এতই ভিড় ছিল যে কারো পক্ষে নড়াচড়া করাও সম্ভব ছিল না।–বিবিসি।

এয়ার এশিয়ার উদ্ধার কাজ পুনরায় শুরু

জাভা সমুদ্রে ডুবে যাওয়া এয়ার এশিয়া বিমানের যাত্রীদের লাশ উদ্ধারে আবারো অভিযান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্থগিত রাখা হয় বিমানটির উদ্ধার অভিযান।image_112356_0

বৃহস্পতিবার আবহাওয়া কিছুটা উন্নতি হওয়ায় উদ্ধাকারীরা বিমানের ধ্বংসাবশেষ, ব্লাক বক্স ও মৃত দেহ উদ্ধার করার বিষয়ে আশাবাদী হয়েছেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা সুনারবো সানদি বলেন, “আজকের আবহাওয়া পরিস্কার। মৃতদের দেহ উদ্ধারে আমরা সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”গতকাল ঘূর্ণি আবহাওয়ার কারণে বিমানের উদ্ধারকাজে সাময়িক বিরতি দেন উদ্ধারকারীরা। ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা বিমানটি খারাপ আবহাওয়া এড়িয়ে উপরে উঠতে চাইলে অঅকাশ থেকে নিচে পড়ে যায়।

এসময় পাইলটের কাছ থেকেও কোনো বিপদ সংকেত পাওয়া যায়নি। এখনো পর্যন্ত ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের লাশ যুদ্ধ জাহাজ থেকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি তিনজনের লাশ আজ হস্তান্তর করা হবে।–আল-জাজিরা।

২০১৪ সালে ট্রাইব্যুনালের ছয়টি মৃত্যুদণ্ড

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালে ছয়টির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবকটিতেই মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়া হয়েছে।image_112353_0

২০১৪ সালের শেষ মুহূতে ৩০ ডিসেম্বর জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মধ্যমে উভয় ট্রাইব্যুনাল থেকে ১৫টি মামলায় ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে রায় দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল গঠনের চার বছর নয় মাসের মাথায় এ রায়গুলো এলো।যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ পুরোনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলার সংখ্যা বাড়ায় এবং বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১২ সালের ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

এক নজরে ট্রাইব্যুনালের ১৫ রায়
ট্রাইব্যুনাল-১
এক. জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসি (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)

দুই. জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ড (১৫ জুলাই ২০১৩)

তিন. সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড (১ অক্টোবর ২০১৩)
চার. জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী মৃত্যুদণ্ড (২৯ অক্টোবর ২০১৪)

পাচঁ. পলাতক বিএনপির স্থানীয় নেতা জাহিদ হোসেন খোকনের মৃত্যুদণ্ড (১৩ নভেম্বর ২০১৪)

ছয়. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন মৃত্যুদণ্ড (২৪ নভেম্বর ২০১৪)।

সাত. জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের মৃত্যুদণ্ড (৩০ ডিসেম্বর ২০১৪)

ট্রাইব্যুনাল-২
এক. জামায়াতের সাবেক রোকন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ মৃত্যুদণ্ড (২১ জানুয়ারি ২০১৩)।

দুই. জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন (৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)।

তিন. জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান মৃত্যুদণ্ড (৯ মে ২০১৩)।

চার. জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহমান মুহাম্মদ মুজাহিদ মৃত্যুদণ্ড (১৭ জুলাই ২০১৩)।

পাচঁ. বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম আমৃত্যু কারাদণ্ড (৯ অক্টোবর ২০১৩)

ছয়. পলাতক আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরীর মঈনুদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড (৩ নভেম্বর ২০১৩)

সাত. জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড (২ নভেম্বর ২০১৪)

আট. জাতীয় পার্টি নেতা কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড (২৩ ডিসেম্বর ২০১৪)

দুই ট্রাইব্যুনালের ১৫ মামলায় ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন, একজনকে ৯০ বছর ও একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

সাজাপ্রাপ্ত ১৪ জন আসামির মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছেন- চারজন। বিচার চলাকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন একজন। রায়ের পর কারাবস্থায় মৃত্যু হয় দুজনের এবং রায় কার্যকর হয় একজনের।

এ ছাড়া রায়ের জন্য অপেক্ষায় আছে দুটি মামলা। বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে চার মামলায় সাতজনের। বিচার শুরু হতে যাচ্ছে আরো বেশ কিছু ব্যক্তির এবং তদন্ত চলছে আরো ১৮ মামলায় ২৪ জনের বিরুদ্ধে।

এদিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের বিরুদ্ধেও তদন্ত শেষ হয়েছে। আইন পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে।

ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগ মিলিয়ে এ পর্যন্ত ফাঁসির আদেশ পেয়েছেন ১২ জন। রায় কার্যকর হওয়া জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ছাড়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি ১১ জন হচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সহসভাপতি পলাতক জাহিদ হোসেন খোকন, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ,  ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী, পলাতক জামায়াত নেতা বুদ্ধিজীবী হত্যার দুই ঘাতক আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মাঈনুদ্দিন, পলাতক জামায়াতের সাবেক রোকন (সদস্য) আবুল কালাম আজাদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও জামায়াতের সাবেক রোকন মোবারক হোসেন এবং জাতীয় পার্টি নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সার।

অন্যদিকে সাঈদীকে ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির আদেশ দিলেও সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এছাড়া প্রয়াত গোলাম আযমকে ৯০ বছর ও প্রয়াত আব্দুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয় ট্রাইব্যুনাল থেকে।

সাঈদীর মামলার মাধ্যমে প্রথম ট্রাইব্যুনাল এবং বাচ্চু রাজাকারের মাধ্যমে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। সাঈদীর মামলাটি ছিল ট্রাইব্যুনালের ১ নম্বর মামলা। অন্যদিকে ৭টি মামলা আইন অনুসারে অথবা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনক্রমে স্থানান্তরিত হয় ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ।

আপিল মামলার কার্যক্রম
ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় ঘোষিত ১৩টির মধ্যে এ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এসেছে ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা।

এগুলোর মধ্যে তিনটি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়েছে। এসব রায়ের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার সাজা বাড়িয়ে ফাঁসির আদেশ দেন আপিল বিভাগ, যা কার্যকর হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেলেও সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। অন্যদিকে কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়েছে।

বিচার চলাকালে মারা যাওয়ার কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত মুক্তিযুদ্ধকালে রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করে নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২।

ট্রাইব্যুনাল থেকে আসা এসব রায়ে খুশি রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলীরা। প্রসিকিউ সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, এ অল্প সময়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে যেসব রায় হয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে নজির বিহীন। তিনি বলেন, আশা করি নতুন বছরে আরো বেশ কিছু মামলার কার্যবক্রম সম্পন্ন হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ

সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন আট হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করে সশস্ত্র বাহিনীর বেতন-ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।image_112362_0

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে বেতন কমিটির (পে-কমিটি) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আনোয়ার হোসেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পে-কমিটির রিপোর্ট জমা দেন।রিপোর্টে সর্বনিম্ন বেতন আট হাজার ২০০ টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন ৮০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া লেফটেন্যান্ট জেনারেলের বেতন ৮৮ হাজার টাকা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের বেতন এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিএনপি হরতাল থেকে পশ্চাৎপসরণ করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

হরতালে সাড়া না পেয়ে বিএনপি পশ্চাৎপসরণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি বুঝতে পেরেছে হরতাল দিয়ে কোনো লাভ হবে না।image_112286_0

বুধবার বিকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অস্থায়ী মেলা সচিবালয়ে ২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আন্দোলনের ডাক দেবে না। তারা আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করবে।”

দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখন অনেক সচেতন উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ “তারা আর হরতাল চায় না। বিএনপির গত পরশু দিনের হরতালে মানুষ সাড়া দেয়নি। এতে বিএনপি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা লাভ করেছে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “তিনি (মির্জা ফখরুল) বলেছিলেন সরকারি দলের এজেন্টদের পিকেটিংয়ে নোয়াখালীতে শিক্ষিকা মারা গেছেন। যদি তা-ই হয় তাহলে তো তিনিই সরকারী এজেন্ট। কারণ তার নির্দেশেই পিকেটাররা পিকেটিং করেছে।”

মেলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পূর্বাচলে বাণিজ্যমেলা সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগতগত উন্নয়নের জন্য চীন ২৭০ কোটি টাকা দেবে। এই বিষয়ে চীনা সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চীনের সহযোগিতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে পূর্বাচলে একটি বার মাসের জন্য স্থায়ী মেলা ও বছরে বার্ষিক একটা বড় মেলার জন্য পদ্মা নদীর আশপাশে স্থায়ী কাঠামো স্থাপন করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

শেরেবাংলা নগর থেকে কবে বাণিজ্যমেলা সরানো হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মার তীরে যেকোনো স্থানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আয়োজন করা হবে। এই জন্য সেখানে ভালো জায়গা খোঁজা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আর আগামী তিন বছর পর পূর্বাচলে ২০ একর (৬০ বিঘা) জমিতে বাণিজ্যমেলার আয়োজন করা হবে। সেখানে স্থায়ীভাবে বছরজুড়ে বিভিন্ন মেলা চলবে।

বাণিজ্যমেলায় প্রতিবছরই খাবারের দাম বেশি রাখা হয়। এবারও সে রকম হবে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাবারের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত দাম নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মেলার উদ্দেশ্য হলো মানসম্মত পণ্য প্রদর্শন করা। কিন্তু প্রতিবছরই মেলায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হয়্- এমন অভিযোগের জবাবে মেলার ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু বলেন, “আশা করি সবাই ভালা ও উন্নত মানের পণ্য প্রদর্শন করবে। তবে কেউ নিম্নমানের পণ্য প্রদর্শন কিংবা বিক্রি করলে মেলার ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

হ্যাপির ধর্ষণ মামলায় আলামত ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি

চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপির দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় জব্দ করা আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন সিএমএম আদালত।image_112257_0

জব্দ করা আলামতে কোনো জৈব পদার্থ আছে কি-না তা ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতির জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ।

বুধবার শুনানি শেষে ওই আবেদন মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান।  মামলা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ভিকটিমের উপস্থাপন করা এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত আলামতে ভিকটিম কিংবা আসামির ডিএনএ-এর উপাদান বিদ্যমান আছে কি-না তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে তার আবেদনে বলেন।

আলমতে ডিএনএ পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে মামলার ভিকটিম হ্যাপি ও রুবেলের ডিএনএ’র সঙ্গে তা মিলে কি-না এর জন্য পরবর্তী সময়ে ফের আদালতে আবেদন করা হবে।

এর আগে ধর্ষণের অভিযোগে গত ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর থানায় মামলা করেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপি। মামলার অভিযোগে জানা যায়, বিয়ের কথা বলে রুবেল অভিনেত্রী হ্যাপীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তারা দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতেন বলে মিডিয়ার কাছে দাবি করেছেন হ্যাপি। তিনি বলেন, কিন্তু যখনই বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকি তখনই সে (রুবেল) টালবাহানা করতে থাকে। পরবর্তী সময়ে রুবেল হ্যাপীর গায়েও রুবেল হাত তোলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মামলার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে হ্যাপীকে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয় এবং পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

ফখরুলসহ ৪৬ নেতাকর্মীর চার্জ শুনানি ফের পেছালো

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৪৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পিছিয়ে ২৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত।image_112251_0

বুধবার হরতালের কারণে আসামিরা আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি বলে সময়ের আবেদন করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল হকের আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক চার্জ শুনানি পিছিয়ে নতুন এ দিন ধার্য করেন।
করেন। দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এ মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল হরতাল চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা করেন। গত ২০১২ সালের ১০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর নুরুল আমিন এ চার্জশিট দাখিল করেন। দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এ মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ, সাদেক হোসেন খোকা, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, বিএনপির দ্প্তর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহম্মেদ, জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমীর মকবুল হোসেন, সোহেল মিয়া, মো. জসীম, মো. মানিক রতন, বিএনপি নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান রতন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপির স্বনির্ভর সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর হক মিলন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুন্নবি খান সোহেল, স্বোচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু,  ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর,ঢাকা মহানগন যুবদলের সেক্রেটারি মজনু, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ঢাকা মহানগর উত্তর’র স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আলী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরব, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, প্রগতিশীল গনতান্ত্রিক শক্তির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আ. মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক-১ ওবায়দুল হক নাছির, ঢাকা মহানগর দক্ষিন ছাত্রদল সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সাধারন সম্পাদক কামাল আনোয়ার,  বিএনপি নেতা ও সাবেক কমিশনার আবুল বাসার, বিএনপি নেতা ও ৪০নং ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ার হোসেন, বিএনপি’র ওয়ার্ড সভাপতি এল রহমান, বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মান, খিলগাঁও থানা বিএনপি’র সভাপতি ইউনুছ মৃধা, ঢাকা মহানগর জামাত নেতা বুলবুল, ছাত্রশিবির প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল খান শাহীন ও মোহাম্মদপুর স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি মান্নান হোসেন শাহীন। এ মামলায় এজাহারভূক্ত আসামিদের মধ্যে কেবল আব্দুল জব্বারকে চার্জশিটে বাদ দেয়া হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি ও সমমনা দল আহুত হরতাল সফল করার জন্য আসামি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এমকে আনোয়ার, ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ, সাদেক হোসেন খোকা, রুহুল কবির রিজভী, কর্ণেল (অব.) অলি আহম্মেদ, ডা. খন্দকার মোশারফ হোসেন ও মকবুল হোসেনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় অপর আসামিরা ৭/৮টি মাইক্রোবাসে এসে গত ২৯ এপ্রিল এয়ারপোর্ট রোডস্থ ফ্যালকন টাওয়ারের সামনে রাত ৯টা ৫ মিনিটের সময় ঢাকা-মেট্টো- জ-২১০৯ বাস ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।

২০১৪: আবাসনের সীমান্তের বছর

আবাসনশিল্প এখন বিশ্বজুড়েই এক বড় বিনিয়োগক্ষেত্র। কিছু সংকট সত্ত্বেও এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ সব দেশে বাড়ছে এর পরিধি। প্রযুক্তির এই যুগে আবাসনশিল্পের ক্রেতা-বিক্রেতা, বাড়িওয়ালা-ভাড়াটেদের সংযোগের এক বড় মাধ্যম এখন ইন্টারনেট। ফলে এই খাতটি পেয়েছে বৈশ্বিক রূপ।image_112317_0

ফিরে দেখা যাক গ্লোবাল রিয়েল এস্টেট প্রপার্টি পোর্টাল লামুডির বিশ্লেষণে গত বছর এ খাতটি কেমন ছিল।তাদের মতে, বেশ কিছু বছর ধরে টানা বৃদ্ধির পর চায়নার আবাসন বাজার স্থিতিশীল হওয়ায় ২০১৪ সালে উদীয়মান বাজারসমূহের আবাসনশিল্প অনেকটাই কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

এশিয়াতে এই বছরের শুরুর দিকে চায়নার আবাসন বাজার অতিমন্দার সম্মুখীন হয়, যার ফলে প্রপার্টির দাম কমতে থাকে এবং নির্মাণ কার্যকলাপও হ্রাস পেতে থাকে। শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক মৌলিকতার দরুন এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার আবাসন বাজারগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃদ্ধির উচ্চ হার দেখা যায়, যা ২০১৪ সালেও অবিরত ছিল।

মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অতিদ্রুত বিস্তারের কারণে ইন্দোনেশিয়ার আবাসন বাজারের প্রবৃদ্ধির হার প্রসার অব্যাহত রয়েছে, একই সঙ্গে ফিলিপাইনের আবাসন ব্যবসা প্রক্রিয়ার আউটসোর্সিংয়ের (বিপিও) কল্যাণে বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেটের স্থিতিশীল চাহিদা থেকে উপকৃত হয়েছে।

পিনাকল রিয়েল এস্টেটের গবেষণা ও পরামর্শ-প্রধান জোস রোমার্ক্স সালাস সম্প্রতি বলেন, ফিলিপাইনের প্রপার্টির মূল্য গত বছরের প্রাক-এশিয়ান সংকটের মাত্রাকে নামমাত্র পরিমাণে আঘাত করে। সালাস আরো বলেন, “কিন্তু এ থেকে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যে, বিপিও সেক্টর থেকে আসা অর্থ এবং ফিলিপিনো শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাস্তবে বাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি করছে। তারা আসলে গ্রাহকদের আবাসনের চাহিদাকে ত্বরান্বিত করছে।”

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংশোধনের পরিপ্রেক্ষিতে, এশিয়ার অনেক উদীয়মান আবাসন বাজার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মিয়ানমারের আবাসন বাজার শক্তিশালী চাহিদার বহির্মুখী জোগান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যা তাদের প্রপার্টির মূল্য বৃদ্ধি করেছে, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ইয়াঙ্গুন এলাকায়।

শ্রীলঙ্কার পর্যটনশিল্পের বিস্তার বিশেষভাবে এই বছরের নভেম্বরে নতুন আগন্তুকের সংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি বিনিয়োগকারী ও ডেভেলপারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

মেক্সিকোতে নতুন করব্যবস্থার সংশোধনের প্রভাব দেশটির আবাসনের বাজারে পড়েছে। জমিসহ যেকোনো রিয়েল এস্টেটের বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি সর্বাধিক মূলধনী কর অব্যাহতি দেয়া হবে।

ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলে যেমন কলম্বিয়ায় ২০১৪ সালে ক্রমবর্ধমান হারে রিয়েল এস্টেট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনের দিকে ঝুঁকেছে। ‘অনলাইন প্রপার্টি পোর্টালগুলোর আবির্ভাব প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের রিয়েল এস্টেটের বিপণন কৌশল এবং ব্র্যান্ড স্বীকৃতির বিস্তার করতে সাহায্য করেছে। বলেছেন প্রপার্টি প্রতিষ্ঠান জুলিও করিডর ওয়াই সিয়ার প্রশাসনিক পরিচালক গুইলেরমো সান্তামারিয়া আলভারাডো।

মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব তাদের আবাসন সংকটের সঙ্গে এখনো লড়াই করে যাচ্ছে। মার্চে আবাসন মন্ত্রণালয় এই ঘাটতি দূর করতে আগামী বছরগুলোতে পাঁচ লাখ বাড়ি তৈরি করতে ৬৭ বিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। গ্লোবাল রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্রাঙ্ক-এর সম্প্রতি রিয়াদের রিয়েল এস্টেট বাজারের ওপর করা একটি গবেষণা অনুযায়ী এই ঘাটতির কারণ হিসেবে দেশটির অতিদ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া জনসংখ্যাকে চিহ্নিত করেছে যা প্রপার্টির মূল্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

নাইজেরিয়ার জিডিপির বৃদ্ধির পর দেশটির অর্থনীতি সাউথ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে আফ্রিকায় সর্ববৃহৎ অবস্থান অর্জন করেছে। কেনিয়ায়ও একই ফলাফল লক্ষ করা যায়, যেখানে জিডিপির বৃদ্ধি তাদের অর্থনীতির আকার ২৫.৩ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে মধ্যম আয়ের অবস্থান অর্জন করেছে।

পশ্চিম আফ্রিকার ফাইন রিয়েল এস্টেট এজেন্সির সিইও ইউডো অকোঞ্জো বলেন, “নাইজেরিয়ার জিডিপির সম্প্রতি বৃদ্ধির কল্যাণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথোপকথনের নতুন সুযোগ করে দিয়েছে। নাইজেরিয়া নিঃসন্দেহে একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার যা অন্যান্য অনেক পরিণত অর্থনীতির তুলনায় ভালো রিটার্নের হার প্রদান করছে, তথাপি প্রশমনের ঝুঁকি তো রয়েছেই।
সৌজন্যে: www.lamudi.com.ph/research

বাফেডার নির্বাহী কমিটি গঠন

বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস্ অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেডা) ২০১৫-২০১৬ মেয়াদে দুই বছরের জন্য নির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।image_112296_0

মেঘনা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ও  জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম যথাক্রমে ভাইস চেয়ারম্যান ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন।  কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও ম্যাক ক্যাবি, রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফরিদ উদ্দিন, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতিখার এবং সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সহিদ হোসেন।