শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

বাংলাদেশ-জাপান বৈঠক : আলোচনার টেবিলে থাকবে ভারত-চীন প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে জাপানের। অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি নিয়েও চিন্তিত দেশটি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দিল্লি-বেইজিং নিয়ে ঢাকার মনোভাব জানার চেষ্টা করে আসছে টোকিও।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনা, ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকে বসছে। আলোচনার টেবিলে থাকার কথা রয়েছে ভারত-চীন প্রসঙ্গ। টোকিওর পক্ষ থেকে দিল্লি-বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

ঢাকা-বেইজিংয়ের নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এফওসির বৈঠকটি দুই ভাগে বিভক্ত থাকবে। বৈঠকের দ্বিতীয় ভাগে আঞ্চলিক ইস্যুতে দক্ষিণ এশিয়া এবং চীনসহ পূর্ব এশিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে জাপানের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে বাংলাদেশ তার মনোভাব তুলে ধরবে। এক্ষেত্রে আলোচনায় উঠে আসার কথা রয়েছে ভারত প্রসঙ্গ। অর্থাৎ ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক কেমন, সেটি টোকিওকে জানানো হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের বক্তব্য শোনার পর জাপান তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেয় তার জন্য অনুরোধ আসতে পারে জাপানের দিক থেকে। এ ছাড়া, জাপানের বিগ–বি নিয়ে আলোচনা হবে। তাতে প্রকল্পটি সামনে এগিয়ে নেওয়া এবং ভারত যুক্ত হতে চাইলে তার জন্য সুযোগ রাখার বিষয়টি আসতে পারে।

জাপানের পক্ষ থেকে চীনসহ পূর্ব এশিয়া নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে আলোচনার মূল ইস্যু হতে পারে চীন প্রসঙ্গ। বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, বিশেষ করে বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকে পড়া নিয়ে যে ধারণা রয়েছে তার বাস্তব চিত্র জানতে চাইতে পারে টোকিও। এ ছাড়া, টোকিওর আলোচনায় আসতে পারে তিস্তা প্রকল্প, মাতারবাড়ি ও বে অফ বেঙ্গলে চীনকে কতটুকু অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা।

সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে জাপানের কনসার্ন আছে। বাংলাদেশ চীনের দিকে বেশি ঝুঁকছে কিনা, আবার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান জানতে চাইতে পারে জাপান। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, আমরা একজনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করব বিষয়টি এমন নয়। আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এবং স্বার্থ বিবেচনায় সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখব। চীন যেমন আমাদের জন্য গুরত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতও। কাউকে আলাদা চোখে দেখার সুযোগ নাই। হয়তো অনেক সময় যে কারও সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয়, আবার খারাপ হয়। আবার দুই পক্ষের সম্মতি থাকলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানও করা যায়।

নাম গোপন রাখার অনুরোধ করে সাবেক এক রাষ্ট্রদূত বলেন, কূটনীতিতে মধ্যস্থতা বা একটি দেশের হয়ে দূতিয়ালি করার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। অনেক সময় দেখা যায় কোনো একটি দেশ তার বার্তা সরাসরি না দিয়ে অন্য কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক। অন্যদিকে জাপানের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। নানা বিবেচনায় বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের অস্বস্তি কিন্তু কাটেনি। সেক্ষেত্রে ভারতের হয়ে জাপান দূতিয়ালি করতেই পারে, যেহেতু তাদের ভালো সম্পর্ক। তবে প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এফওসি বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের পরিবর্তে ঢাকার পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) ড. মো. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে, জাপানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির সিনিয়র ডেপুটি ফরেন মিনিস্টার আকাহোরি তাকেশি। প্রথম পর্বের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক, অর্থনৈতিক এবং সেক্টরাল সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা, মানুষে মানুষে যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ।

দ্বিতীয় পর্বে আঞ্চলিক ইস্যুতে দক্ষিণ এশিয়া এবং চীনসহ পূর্ব এশিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া, বৈশ্বিক প্রসঙ্গ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতা।

সরকারের আরেক কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় থাকবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসের শেষের দিকে জাপান সফর করবেন। এফওসি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর নিয়ে আলোচনা হবে, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিইচি সাংবাদিকদের বলেন, আশা করছি ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফর করবেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বাড়বে। জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক অংশীদার। উভয়পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

প্রসঙ্গত, গত বছরের (২০২৪) জুনে ঢাকায় বাংলাদেশ জাপানের মধ্যে এফওসি হয়। এটি হবে ষষ্ঠ এফওসি।

চল চল যমুনা যাই’ এই রাজনীতি আর হতে দেব না : মাহফুজ আলম

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, আজকে থেকে ‘চল চল যমুনা যাই’- এই রাজনীতি আর হতে দেব না। যথেষ্ট হয়েছে। এসব মুভমেন্ট আর নয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভেতর যারা আজ এই কর্মকাণ্ড করেছেন তারা অনেক বড় ভুল করেছেন। যারা স্যাবোটাজের অভিপ্রায়ে এখানে এসেছেন, শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের বর্জন করা। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বুধবার (১৪ মে) রাতে কাকরাইল মসজিদ মোড়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমি এখানে আসার পর যা হয়েছে, তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দোষীকে বের করবে। আরেকটি বিষয় হলো একটি অংশ রয়েছে আন্দোলনে, যাদের আমি স্যাবোট্যুর মনে করি। যারা স্যাবোটাজ (নাশকতা-কূটাঘাত) করার জন্য বিভিন্ন আন্দোলনে ঢোকে। আমি তাদের নাম আজ আর উল্লেখ করব না। গত ৮ মাস থেকে তারা একজন ব্যাক্তির পেছনে লেগে আছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের দায়িত্ব তাদের রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজে বের করা। আপনারা খুঁজে বের করুন। দেখবেন একটি গ্রুপকে পাওয়া যাবে।

মাহফুজ আলম বলেন, তাদের একজন ব্যক্তির ওপর যে হিংসা রয়েছে, অনলাইনে হিংস্রতা রয়েছে, তারাই এই কাজ করেছে। আমি কারো নাম বলব না। আমি জানি না, কিন্তু সন্দেহ জানিয়ে রাখলাম। আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বলব, স্যাবোটাজকারীদের আলাদা করুন।

সাম্য হত্যার বর্ণনায় যা জানাল পুলিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্যকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেই বর্ণনা দিয়েছে পুলিশ। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহরিয়ার গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন।

‘রমনা কালীমন্দিরের উত্তর পাশে বটগাছসংলগ্ন পুরনো ফোয়ারার কাছে আসার পর অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জন তাঁদের মোটরসাইকেল দিয়ে শাহরিয়ারের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।’

পুলিশ বলছে, এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে ‘দুষ্কৃতকারীরা’ শাহরিয়ার ও তার বন্ধুদের ইট দিয়ে আঘাত করে আহত করেন। একজন শাহরিয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডান পায়ের ঊরুর পেছন দিকে আঘাত করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে জখম অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এ সময় ‘দুষ্কৃতকারীরা’ শাহরিয়ার ও তাঁর বন্ধুদের বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখানোর পাশাপাশি হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে শাহরিয়ারকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঘটনায় শাহরিয়ারের বড় ভাই এস এ এম শরিফুল আলম শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। থানা-পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনজন আসামি তামিম, সম্রাট ও পলাশের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
বুধবার সকালে শেরেবাংলানগর থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) ও পলাশ সরদার (৩০)।

শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তরের ছাত্র ছিলেন। তিনি স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। তাঁর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল।

সিএমপির সব থানায় চালু হচ্ছে অনলাইন জিডি

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব থানায় চালু হচ্ছে অনলাইন জিডি সেবা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ মে) এ সেবা চালু হবে। এর আগে অনলাইনে শুধু হারানো এবং প্রাপ্তিসংক্রান্ত জিডি করা যেত।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে থানায় না এসে ঘরে বসেই সব ধরনের জিডি অনলাইনে করার সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাহমুদা বেগম বলেন, ‘অনলাইন জিডি সেবা পেতে গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘অনলাইন জিডি’ অ্যাপ ডাউনলোডের পর রেজিস্ট্রেশন করে এই সেবা পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে একাধিকবার রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন নেই। রেজিস্ট্রেশন অথবা অনলাইন জিডি করতে কোনো ধরনের অসুবিধা হলে ০১৩২০০০১৪২৮ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। হটলাইন নম্বরটি ২৪ ঘণ্টা চালু আছে।

প্রকৃতি ধ্বংস করাকে উন্নয়ন মনে করলে ভুল পথে চলছি : রিজওয়ানা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রকৃতিকে ধ্বংস করে উন্নয়ন হলে সেটা টেকসই হবে না। আমরা যদি প্রকৃতিকে ধ্বংস করে, বন কেটে, পাহাড় কেটে রেললাইন নির্মাণকে উন্নয়ন মনে করি, তাহলে ভুল পথে চলছি। এ ভুল পথ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

বুধবার (১৪ মে) ঢাকায় শেরে বাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মেলন কক্ষে ‘ইন্ট্রোডাকশন টু ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্সট্রুমেন্ট ফর ক্লাইমেট ফিন্যান্স’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, উন্নয়ন বরাদ্দ সহযোগিতা যতই আসুক, তা যথেষ্ট হবে না যদি আমরা প্রকৃতিকে সংরক্ষণ না করি, যদি আমরা অভিযোজন এবং প্রশমন উভয় ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করি।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসংঘ চুক্তি এবং প্যারিস চুক্তির অধীনে যে-সব দেশে আমাদের অর্থ দেওয়ার কথা, তারা এখন প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের কথা বলছে অথচ প্রকৃত অর্থ বরাদ্দ করছে না। তারা বলছে, তোমরা নিজেদের প্রস্তুত করো, প্রকৃতি রক্ষা করো, যাতে দুর্যোগে টিকে থাকতে পারো। কিন্তু তারা নিজেদের দায় কমিয়ে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
এটি কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান নয় বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।প্রকৃতি ও বন রক্ষার ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, একটা সুবিধার বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ’ নামে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে সিডা, এডিবি এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা সহায়তা করছে। আমরা চাই, এই প্রক্রিয়াটি ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকরভাবে শুরু হোক।
তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বসতে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রশ্নে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে সরকার। গত সোমবার বিকেলে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রমে নিষিদ্ধের তথ্য জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। এবার আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের বিষয়টি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে।

এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপমুখপাত্র (প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপারসন) টমি পিগট বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আমরা সচেতন।
’

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কোনো একটি দলের চেয়ে অন্যকে বেশি সমর্থন করে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সমর্থন করি একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং একই সঙ্গে সবার সঙ্গে স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশসহ সব দেশকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ জমায়েত ও সংগঠন করার অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানাই।’

এরপর ‘উগ্রপন্থাকে উৎসাহিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার’ বিষয়ে একটি প্রশ্ন করেন সাংবাদিক। জবাবে টমি পিগট বলেন, ‘আমরা ৫০ বছর ধরে গড়ে তোলা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশদারিকে গুরুত্ব দিই।
আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করে এ অংশীদারি আরো গভীর করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে’ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অবসর ভেঙে ব্রাজিল দলে ৩৯ বছর বয়সী মার্তা

ব্রাজিলের নারী ফুটবলের কিংবদন্তি মার্তা আবারও জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে জাপানের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য দলে রেখেছেন কোচ আর্থার এলিয়াস। গত বছরের অলিম্পিক ফাইনালের পর এই প্রথম মার্তাকে দেখা যাবে ব্রাজিলের জার্সিতে।

নারী ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ধরে নেয়া হয় মার্তাকে।
২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয়বারের মতো রৌপ্য পদক জিতে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও ২০২৫ সালের শুরুতে এনডব্লিউএসএলের মার্কিন দল অরল্যান্ডো প্রাইডের সঙ্গে আরো দুই বছরের চুক্তি করেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে ক্লাবটির হয়ে খেলে আসছেন তিনি।

দুই মাস পর কোপা আমেরিকায় চোখ রেখে অবসর থেকে তাকে দলে আনছেন কোচ এলিয়াস।

এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ এলিয়াস বলেন, ‘আমি সম্প্রতি মার্তার সঙ্গে দেখা করেছি। সে বলেছে, যত দিন উচ্চ পর্যায়ে খেলতে পারছে, তত দিন জাতীয় দলকে সাহায্য করতে চায়। ওর মৌসুমটা অসাধারণ গেছে এবং ক্লাবের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।’

এলিয়াস আরো জানান, তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে মার্তার উপস্থিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

এলিয়াস বলেন, ‘আমরা জাতীয় দলে নতুন প্রজন্ম তৈরি করছি। এই প্রক্রিয়ায় মার্তার মতো অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।’

মার্তার সঙ্গে দলে আছেন অরল্যান্ডো প্রাইডেরই অ্যাঞ্জেলিনা, কানসাস সিটির ডেবিনহা ও ম্যানচেস্টার সিটির কেরোলিন। পাশাপাশি দলে জায়গা পেয়েছেন নতুন মুখ গোলরক্ষক ক্লাউডিয়া ও ডিফেন্ডার ইসা হ্যাস, যাদের দিকে তাকিয়ে কোচের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।

ব্রাজিল আগামী ৩০ মে ও ২ জুন ঘরের মাঠে জাপানের বিপক্ষে খেলবে।
এরপর ২৭ জুন ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে ইকুয়েডরে ১২ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কোপা আমেরিকার চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবে ব্রাজিল জাতীয় দল।

কানে যাচ্ছেন না আলিয়া, যাত্রা বাতিল করলেন যে কারণে

বছর পেরিয়ে আবারও শুরু হয়েছে কান চলচ্চিত্র উৎসব। মঙ্গলবার (১৩ মে) কানের ৭৮তম আসর শুরু হয়েছে ফ্রান্সের কান শহরের পালে দ্য ফেস্টিভাল ভবনে। বিশ্বের সিনেমাপ্রেমীরা পৌঁছে গেছেন কান সমুদ্রসৈকতে। সেখানে সারা বিশ্বের অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও প্রযোজকদের মিলনমেলা শুরু হয়েছে।
হলিউড থেকে বলিউড, নামিদামি সব তারকার পদচারণে মুখরিত কান উৎসব।

এ বছর ভারত থেকে কানে যাওয়া তারকাদের মধ্যে রয়েছেন জাহ্নবী কাপুর, ইশান খাট্টার, প্রযোজক করণ জোহর, লাপাতা লেডিসের অভিনেত্রী নিতানশি গোয়েল, উর্বশী রাওতেলার মতো জনপ্রিয় মুখ। কানের লাল গালিচায় হাঁটার কথা রয়েছে আলিয়া ভাটেরও। তবে শেষ মুহূর্তে কানের সফর বাতিল করেন এ অভিনেত্রী।
আলিয়ার মতো এবার ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনেরও কান উৎসবে যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

প্রথমবারের মতো এবার কানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন আলিয়া ভাট। তাই আলিয়ার ভক্তদের ছিল বাড়তি উন্মাদনা। তবে অনুরাগীদের নিরাশ করলেন এ অভিনেত্রী।
জানা গেছে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দেশবাসীর সঙ্গে সংহতি জানাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলিয়া।

মিড ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিস ফ্যাশন উইকে নজরকাড়া উপস্থিতির পর কানে আত্মপ্রকাশ করতে প্রস্তুত ছিলেন আলিয়া। সপ্তাহান্তে তার ফ্রান্সে উড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখেন। এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ‘দেশের এমন কঠিন সময়ে তিনি কান উৎসবে যেতে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না।
তাই সিদ্ধান্ত নেন না যাওয়ার।’

ইন্ডিয়া টুডের আরেকটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পরে কানে অংশ নিতে পারেন আলিয়া। সীমান্তে টানাপড়েনের মধ্যে আলিয়া মনে করছেন এখন এমন মঞ্চে যাওয়া ঠিক হবে না। তবে পরিস্থিতি যদি অনুকূলে থাকে, তাহলে তিনি অন্য কোনো দিন গিয়ে হাজির হবেন।

মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত ১১টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় ৭৮তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। জমকালো এ আয়োজনে নানা দেশের তারকারা অংশ নিয়েছেন। হাজির হয়েছেন বরেণ্য সব পরিচালক ও প্রযোজকরা। উৎসব চলবে ২৪ মে পর্যন্ত।

আ. লীগের অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে বিটিআরসিকে অনুরোধ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমের সব পেইজ অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে ও ব্লক করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) অনুরোধ করেছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা (এনসিএসএ)।

সংস্থাটি এক চিঠিতে বিটিআরসিকে অনুরোধ করেছে—মেটা (ফেসবুক), এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে আওয়ামী লীগ ও এর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সব সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বলার জন্য।

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এ ছাড়াও, চিঠিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে।

সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫’র ধারা ৮(২) উদ্ধৃত করে এনসিএসএ চিঠিতে উল্লেখ করেছে—কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক কনটেন্ট যদি জাতীয় নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি বা আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে তা অপসারণ বা ব্লক করার নির্দেশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিতে পারে।

নির্বাচন পুরোপুরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি পুরোপুরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই—নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতি যেন সবাই শ্রদ্ধা দেখায়।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের ব্যাপারে ভারতের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে সৃষ্ট ক্ষত এখনো তরতাজা।’

‘আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, কীভাবে আওয়ামী লীগ আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে, আমাদের রাজনৈতিক পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত করেছে এবং তাদের ১৫ বছরের স্বৈরাচারী ও লুটপাটের শাসনামলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে আপসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে,’ বলেন তিনি।

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা স্মরণ করি কীভাবে আওয়ামী লীগ বারবার প্রহসনমূলক নির্বাচনের আশ্রয় নিয়েছে এবং আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।’

তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সংস্কার প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত।