বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোতে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আবারও স্থগিত

গাজায় চলমান সংঘাত বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর মুখে পড়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৪ জুন) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে ভেটো দেয়, ফলে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, প্রস্তাবটিতে তাৎক্ষণিক, নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছিল। একইসঙ্গে গাজায় হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তিরও অনুরোধ ছিল এতে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, যুদ্ধবিরতির দাবি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত নয়, ফলে এটি গ্রহণযোগ্য নয় বলেই তারা মনে করে।

ভোটাভুটির আগে নিরাপত্তা পরিষদে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ডরোথি শিয়া স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো প্রস্তাবে সম্মতি দেবে না যেখানে ইসরাইলে হামাসের হামলার নিন্দা জানানো হবে না বা হামাসকে নিরস্ত্র করে গাজা ছাড়ার আহ্বান থাকবে না।

তিনি বলেন, “এই সংঘাত শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার—ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তাদের অবশ্যই হামাসকে পরাজিত করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে হামাস আর কখনও ইসরায়েলের জন্য হুমকি না হয়।”

গত নভেম্বরে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আটকে দিয়েছিল। এ বছরের এই প্রথম নিরাপত্তা পরিষদে নতুন করে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ভোট হলো এবং তাতে আবারও যুক্তরাষ্ট্র বাধা দিল।

এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু বুধবারই প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও চার শতাধিক।

১২ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিলেন ট্রাম্প

আফগানিস্তান, ইরান, মিয়ানমারসহ ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (৪ জুন) এই সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। একইসঙ্গে আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি, যা আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে: আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো, নিরক্ষীয় গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী সোমবার থেকে কার্যকর হবে। একইসঙ্গে বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের ওপর আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন সেইসব দেশের নাগরিক যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তাদের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তবে এর বাইরে থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী, কূটনৈতিক ভিসাধারী এবং পেশাদার ক্রীড়াবিদরা।

ট্রাম্প এক ঘোষণায় বলেন, “আমার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের জনগণের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা এমন কাউকে দেশের ভেতরে ঢুকতে দেব না, যারা আমাদের ক্ষতি করতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি কলোরাডোর বোল্ডারে ইসরায়েলপন্থী সমাবেশে হামলা বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তার একটি দৃষ্টান্ত।

এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “ইউরোপে যা ঘটেছে, তা আমরা আমেরিকায় হতে দিতে পারি না।”

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালেই ট্রাম্প সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, যা সে সময় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়।

নিজের নামে গুলশানের বাড়ির মালিকানা বুঝে পেলেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজের গুলশানের বাড়ির নামজারির কাগজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পেয়েছেন। বুধবার (৪ জুন) রাতে সরকারের পক্ষ থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’-তে গিয়ে তার হাতে দলিল হস্তান্তর করেন।

খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার জানান, মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন এবং কিছু কাগজপত্র সঙ্গে আনেন, তবে সেগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি অবগত নন। যদিও সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাড়িটির মালিকানা এতদিন খালেদা জিয়ার দখলে থাকলেও নামজারি হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা সম্পন্ন করে তাকে মালিকানা দলিল হস্তান্তর করে।

দীর্ঘদিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পেছনে মূল কারণ ছিল খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা। সূত্র মতে, সরকারের তরফ থেকে শুরু থেকেই উদ্যোগ ছিল তাকে নিজ নামে দলিল বুঝিয়ে দেওয়ার।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে গুলশানে দেড় বিঘা জমির ওপর বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বাড়িটির অবস্থান খালেদা জিয়ার বর্তমান বাসা ‘ফিরোজা’র পাশেই। এছাড়া সেনানিবাসে বরাদ্দ পাওয়া আরেকটি বাড়ি ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাতিল করা হয়।

অপরিকল্পিত উন্নয়নে পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান বিপন্ন: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বুধবার (৪ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২৫ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি ও কার্যক্রমের মাধ্যমে পালন করছে এমন এক সময়ে যখন অপরিণামদর্শী শিল্পায়নের পাশাপাশি অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান হুমকির মুখে ফেলছে। তখন এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই জীবনের প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত বৈচিত্র্যে অনন্য। অতএব, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সমৃদ্ধ অনন্য পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পরিবেশ সচেতন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত। আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প এবং ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপে সচেতনতা সৃষ্টিসহ নানা উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৭৭ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প চালু করেন, যা পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট) হিসেবে রূপ নেয়। তার এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন’ প্রণয়ন করেন এবং দেশের প্রথম পরিবেশ আদালত প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরিবেশ সুরক্ষায় আইনি কাঠামোর পথপ্রদর্শক। আমাদের লক্ষ্য সব সময়ই একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

তিনি বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান চরম অবনতিশীল জলবায়ু সংকট ও শিল্প দূষণের প্রেক্ষাপটে এখন একটি বাস্তবমুখী ও দূরদর্শী জাতীয় কৌশল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি প্রয়োজন। বিএনপি যদি নির্বাচিত হয়ে দেশ শাসনের সুযোগ পায়, তাহলে আমরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়ার অঙ্গীকার করছি, যাতে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষা করা যায়।’

পদক্ষেপগুলো হলো—

পুনর্বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জাতীয় গ্রিন রিকভারি প্ল্যান প্রণয়ন করা।

ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও বিষাক্ত রাসায়নিক নিষিদ্ধ করে শিল্প ও গৃহস্থালির জন্য পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার উৎসাহিত করা।

জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় ও জলজ প্রতিবেশ রক্ষায় নদী-খালের পূর্ণাঙ্গ খনন ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচি গ্রহণ করা।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা প্রদান করা।

পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্কুল পাঠ্যক্রমে পরিবেশ সম্পর্কিত শিক্ষাকে একীভূত করা।

পরিবেশ সংরক্ষণ কোনো বিলাসিতা নয়; এটা একটা অতীব জরুরি কাজ। আসুন, আমরা সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সীমানায় একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একত্রিত হই, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সবুজ, বাসযোগ্য এবং টেকসই বাংলাদেশের উত্তরাধিকারী হয়, বলেন তারেক রহমান।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে, আসুন আমরা আশার বীজ বুনি, আমাদের বায়ু, পানি ও মাটি রক্ষা করি এবং সবার জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি।

কোহলির উদযাপনে প্রাণ গেল ৭ জনের, আহত ৫০; জয় উদযাপনে রক্তক্ষরণ বেঙ্গালুরু

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা জয় উদযাপনে মেতে উঠেছিল। দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার পর বিরাট কোহলির নেতৃত্বে আসা এই সাফল্য যেন ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক স্বপ্নসিদ্ধ মুহূর্ত। কিন্তু এই উচ্ছ্বাসের মাঝে বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আয়োজিত শিরোপা উদযাপনে পদদলিত হওয়ার ঘটনায় ৭ জন ভক্তের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এছাড়া ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বেঙ্গালুরু সংবর্ধনার জন্য স্টেডিয়ামে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করলেও, পাসের চেয়ে বহু বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় প্রবেশ পথের হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বেঙ্গালুরু দল পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানের ছোট ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করে, যা কোহলির জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়। ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার ৩৬ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের এক অনন্য অধ্যায় পূর্ণ করলেন এই ট্রফি জয় দিয়ে। তবে এই আনন্দময় মুহূর্তের ছায়ায় যেন বড় দুঃখও মিশে গেল।

দেশের মাটিতে স্বপ্নের অভিষেক, গোল করে জ্বলে উঠলেন হামজা চৌধুরী

জাতীয় ফুটবল দলে দেশের মাটিতে স্বপ্নের মতো অভিষেক হলো হামজা চৌধুরীর। বুধবার ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার কর্ণার কিক থেকে হেডে গোল করে নিজের প্রথম গোলটি করেন লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা। এই গোলে এগিয়ে যেয়ে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।

গত মার্চে ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় হামজার। তবে আজকের দিনটি ছিল তার দেশের মাটিতে প্রথম খেলাধুলার রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। পাশাপাশি, আজকের ম্যাচে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের একাদশে খেলেন ফাহমিদুল ইসলাম।

বদলির জন্য এক কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছিলাম: শিক্ষা উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, একটি বড় পদে বদলির জন্য তার কাছে এক কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব এসেছিল। বুধবার (৪ জুন) আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষা খাতে দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষাব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, একসময় একজন পরিচিত বুদ্ধিজীবী তাকে তদবির করেছিলেন, কিন্তু ওই ব্যক্তি সেই পদে যোগ্য ছিলেন না। পরে ওই ব্যক্তি অন্য মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এক কোটি টাকার প্রস্তাব দেন।

“আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই,” বলেন ড. আবরার। তিনি সবাইকে নৈতিক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পদে থাকা অবস্থায় দুর্নীতি সহ্য করব না।”

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ আসে, কিন্তু সবকিছু যাচাইয়ের সুযোগ সবসময় থাকে না। তবে যেখানে সত্য ঘটনা ধরা পড়ে, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবিরসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যে প্রধান উপদেষ্টার কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন যুক্তরাজ্য সফরে বিগত সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে সফরটি চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।

বুধবার (৪ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও এ বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

চার দিনের সফরে ড. ইউনূস আগামী ৯ জুন লন্ডনে যাবেন। সেখানে তিনি ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

সফরে রাজনৈতিক কোনো প্রবাসী নেতার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও, যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠকের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব।

এ সময় এক প্রশ্নে তারেক রহমানের যুক্তরাজ্যে বসবাসের আইনি অবস্থান সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে জানান, যুক্তরাজ্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে আস্থাশীল দেশ এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও সফরে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। বলেন, অনেক দাতা সংস্থা ফান্ড কমিয়ে দিচ্ছে, ফলে যুক্তরাজ্যের সহায়তা চাওয়া হবে এই বিষয়ে।

সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১,৫৫০

পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ১ হাজার ৫৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন ৯৭১ জন এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত ৫৭৯ জন।

বুধবার (৪ জুন) পুলিশের এই তথ্য জানান সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি), মিডিয়া অ্যান্ড পিআর শাখার ইনামুল হক সাগর।

তিনি জানান, দেশব্যাপী সমন্বিতভাবে পরিচালিত অভিযানে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। অভিযানের সময় একটি বিদেশি পিস্তল এবং একটি টিপ ছুরিও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এই বিশেষ অভিযান অপরাধ দমনে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

আলিয়ার উপহার কিয়ারার অনাগত সন্তানের জন্য

শিগগিরই মা হতে চলেছেন বলিউড তারকা কিয়ারা আদভানি। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সম্প্রতি মেট গালায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসার পর, এবার আরও একবার খবরে উঠে এলেন আলিয়া ভাটের পাঠানো বিশেষ উপহারের কারণে।

বুধবার (৪ জুন) কিয়ারা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি শিশুর পোশাকের ছবি শেয়ার করেন। ছবির সঙ্গে ছিল আলিয়া ভাটের লেখা একটি আন্তরিক নোট, যেখানে তিনি কিয়ারার মাতৃত্বযাত্রার জন্য শুভেচ্ছা জানান। নোটে লেখা ছিল, “তোমার এই বিশেষ সময়ে, নতুন অধ্যায়ে পা রাখার মুহূর্তে তোমাকে আলিঙ্গন পাঠাচ্ছি। এটা যেমন সুন্দর, তেমনই ক্লান্তিকর। তাই আমি এড এ মাম্মার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত যত্ন ও ভালোবাসা দিয়ে তৈরি কিছু আরামদায়ক জিনিস পাঠালাম। বিশ্রাম নাও, উপভোগ করো—তুমি এটা পাওয়ার যোগ্য।”

উপহারের জন্য কিয়ারা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ক্যাপশনে লেখেন, “ধন্যবাদ মাম্মা আলিয়া ভাট।”

মা হওয়ার অপেক্ষায় থাকা কিয়ারাকে পরবর্তীতে দেখা যাবে অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘ওয়ার টু’-তে, যেখানে তার সহশিল্পী হৃতিক রোশন ও জুনিয়র এনটিআর। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন অয়ন মুখার্জি এবং এটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১৪ আগস্ট।

অন্যদিকে আলিয়াও ব্যস্ত সময় পার করছেন ‘আলফা’ এবং ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ ছবির কাজ নিয়ে, যেখানে রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশলের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন তিনি।

গ্ল্যামার জগতের এই দুই তারকার বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্মান বলিউডে এক ইতিবাচক বার্তা পাঠাচ্ছে।