বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

ইরান-ইসরায়েলকে জাতিসংঘ মহাসচিব— যথেষ্ট হয়েছে, এবার থামুন

ইরানে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং তেল আবিব লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১২ মিনিটে এক এক্স বার্তায় এই আহ্বান জানান তিনি।

গুতেরেস বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ। তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
যথেষ্ট হয়েছে। এবার থামার সময়। শান্তি ও কূটনীতির জয় হতে হবে।’

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র : সিএনএন

ইসরায়েলি ভূখণ্ডে শুক্রবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় ইরান থেকে উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি দেশ। বিষয়টির সঙ্গে জানাশোনা রয়েছে এমন দুটি ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে এ কথা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, এর আগেও ইরানি হামলার মুখে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা করেছিল ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশ। এবার দেশগুলো ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরান থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে একযোগে তিন শতাধিক রকেট, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এসবের ৯৯ শতাংশ রুখে দিতে পেরেছিল ইসরায়েল এবং এর ‘মিত্র দেশগুলোর’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি : জোনায়েদ সাকি

স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

শুক্রবার (১৩ জুন) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিচার, সংস্কার, নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা শুরু থেকেই বলে আসছিলাম।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি যে আলোচনাগুলো হচ্ছে, আজ লন্ডনে যে বৈঠক হলো তা ইতিবাচক, আমরা এই আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। ঈদের আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের পর আমরা বলেছি, বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এপ্রিলের শুরুতে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়।

জোনায়েদ সাকি বলেন, আজকে প্রধান উপদেষ্টার সাথে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে নির্বাচনের সময় এগিয়ে নিয়ে আসা ও এই প্রেক্ষিতে বিচার ও সংস্কারের কাজে দ্রুতই পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করার যে আলোচনা হয়েছে, সেটাকে আমরা ইতিবাচক বলে মনে করি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, এই বৈঠকের ফলে নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির কাজটি এখন যথাযথ মনযোগ পাবে বলে আমরা আশা করি।

তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমরা আহবান জানাই, বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করা ও সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করার ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে আলোচনা জোরদার করার জন্য। একইসাথে রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনজীবনের সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অংশীজন বিশেষভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যও আমরা আহবান জানাই, যা একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

‘মাশরাফির অধিনায়কত্বে একটা-দুইটা ট্রফি জেতা উচিত ছিল আমাদের’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বর্ণযুগ গেছে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল। সে সময় ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোকে হারিয়ে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এসিসি ও আইসিসির টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্স করেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন তখনকার দল।

তবে নামের পাশে কোনো ট্রফিই জায়গা পায়নি।
সেই আফসোস এখনো পোড়ায় তামিম ইকবালকে। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সেই কষ্টের কথাই আরেকবার জানিয়েছেন কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়া বিভাগের নতুন আয়োজন ‘অন অ্যান্ড অব দ্য ফিল্ড’ অনুষ্ঠানের অভিষেক পর্বে অতিথি হিসেবে এসে।

মাশরাফির অধিনায়কত্বে কমপক্ষে একটা-দুইটা ট্রফি জেতা উচিত ছিল বলে জানিয়েছেন তামিম। তিনি বলেছেন, ‘আমি স্বীকার করি যে, আমাদের অবশ্যই ট্রফি জেতা উচিত ছিল।
কারণ মাশরাফি ভাইয়ের ক্যাপ্টেনসিতে আমার কাছে মনে হয় একটা-দুইটা ট্রফি জেতা উচিত ছিল আমাদের। আমরা সম্ভবত একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছিলাম। আমার কাছে মনে হয় যে, যেভাবে করে টিম খেলছিল ওই সময়, অ্যাটলিস্ট এশিয়া কাপটা জিতা উচিত ছিল আমাদের। আর ওয়ার্ল্ড কাপে, আমরা তো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সেমিফাইনাল একটা খেললাম, ওয়ার্ল্ড কাপে একটা কোয়ার্টার ফাইনাল খেললাম।
যেকোনো একটা ওয়ার্ল্ড কাপে যদি আমরা সেমিফাইনাল যেতে পারতাম, আমার কাছে মনে হয় দ্যাট উড হ্যাভ বিন আ ভেরি গুড অ্যাচিভমেন্ট।’

হতাশার কথা জানিয়ে তামিম আরো বলেছেন, ‘অবশ্যই হতাশা আছে। এটা বিশ্বকাপে বলতে পারেন, এশিয়া কাপে বলতে পারেন। কারণ আমাদের সক্ষমতা ছিল। আমার মনে হয় অন্তত এশিয়া কাপ জয়ের মতো সক্ষমতা আমাদের ছিল।
কয়েকবার আমরা কাছে গিয়েছিলাম। দ্য টিম ওয়াজ ক্যাপেবল অফ রিচিং নকআউট স্টেজ অফ ওয়ার্ল্ড কাপ। আমার কাছে মনে হয়। সেপশালি ২০১৯। আমাদের উচিত ছিল। তেইশেও আমার কাছে মনে হয় যে, এই সব জিনিসপত্র যদি না হতো, আরো ভালো করার সুযোগ ছিল।’

চুক্তি না করলে ইরানে আরো ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তা না হলে আরো ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তেহরানকে ‘একবার নয়, বারবার সুযোগ’ দিয়েছি।’

শুক্রবার (১৩ জুন) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি ইরানকে কঠোর ভাষায় চুক্তি করতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা সেটি করেনি।
’

ইসরায়েলের হামলার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেক প্রাণহানি ও ধ্বংস হয়ে গেছে। এই রক্তপাত বন্ধ করার এখনও সময় আছে। কারণ এর পরের হামলাগুলো আরো ভয়াবহ হতে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সব শেষ হয়ে যাওয়ার আগে ইরানকে অবশ্যই চুক্তিতে আসতে হবে।
যেটিকে একসময় পারস্য সাম্রাজ্য বলা হতো, সেটিকে রক্ষা করো। আর কোনও মৃত্যু নয়, আর কোনও ধ্বংস নয়, এটি করো, নইলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে, এই হামলার পরিকল্পনার কথা তিনি আগে থেকেই জানতেন। তবে তিনি এটি স্পষ্ট করেছেন যে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কোনোভাবেই অংশ নেয়নি।

হামলার জন্য ইসরায়েলকে পরিণতি ভোগ করতে হবে : ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইসরায়েলের হামলায় নিহত প্রত্যেক নাগরিকের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইসরাইলকে ‘বোকামির’ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

শুক্রবার (১৩ জুন) তার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।

ইসরায়েলের উদ্দেশে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরানি জাতি এবং কর্মকর্তারা চুপ করে বসে থাকবে না। ইসরাইলের অপরাধের জন্য বৈধ ও শক্তিশালীভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
যার ফলে শত্রুরা তাদের বোকামির জন্য অনুতপ্ত হবে।’

আরো বলা হয়েছে, এই মুহূর্ত থেকেই ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকার প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা, রাজনৈতিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যাতে অবৈধ ইসরায়েলকে তার আগ্রাসনের জন্য অনুতপ্ত করা যায় এবং ইসরায়েলিরা এক মুহূর্তও বিশ্রাম নিতে না পারে।

বিশ্ব এখন ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার উন্নয়ন ও অধিকারের প্রতি তেহরানের দৃঢ় অবস্থান সম্পর্কে আরো ভালোভাবে বোঝার সুযোগ পেয়েছে।

গত ২০০ বছরে ইরান আগ বাড়িয়ে কখনো কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা কখনো পিছপা হব না।
এই গল্পের শেষ অধ্যায় ইরানই লিখবে।’

ইসরায়েল শুক্রবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য শহরে একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তেহরানের বিভিন্ন আবাসিক জায়গায় বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলবেন বাবর

টি-টোয়েন্টির স্ট্রাইকরেট নিয়ে বেশ কথা শুনতে হয় বাবর আজমকে। কেউ কেউ আবার এক ধাপ এগিয়ে বলে দেন সংক্ষিপ্ত সংস্করণ তার না খেলাই ভালো। তবে এমন সমালোচনার মাঝেও পাকিস্তানি ব্যাটারের চাহিদা কমেনি। চাহিদা না থাকলে বিগ ব্যাশে জায়গা পেতেন না তিনি।

আজ বাবরকে দলে নিয়েছে সিডনি সিক্সার্স। ড্রাফটের আগে প্রতিটি দল একজন করে ক্রিকেটারকে প্রি-ড্রাফট সাইনিং করাতে পারে। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ককে দলে নিয়েছে সিডনি সিক্সার্স।

প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে খেলার সুযোগ পেলেন বাবর।
১৫তম আসরে দলে সতীর্থ হিসেবে পাবেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি স্টিভেন স্মিথকে। এর আগে বাবর নিজ দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএল বাদে খেলেছেন বিপিএল, সিপিএল, লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগসহ ভাইটালিটি ব্লাস্টেও। বিগ ব্যাশের ড্রাফট হবে আগামী ১৯ জুন।

বিগ ব্যাশে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত বাবর।
৩০ বছর বয়সী ব্যাটার বলেছেন, ‘বিশ্বের অন্যতম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সফল ও সম্মানিত দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য রোমাঞ্চের। দলের সাফল্যে অবদান রাখতে মুখিয়ে আছি। সঙ্গে দর্শকদের সঙ্গে সম্পর্কটা শক্তিশালী করতে, অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে মুহূর্ত উপভোগ করতেও মুখিয়ে আছি।’

টি-টোয়েন্টিতে সব মিলিয়ে ৪৪৮ ম্যাচ খেলেছেন বাবর। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ১২৮টি।
সর্বশেষ পিএসএলে তার দল শেষ থেকে দুইয়ে শেষ করলেও পেশোয়ার জালমির শীর্ষ স্কোরার ছিলেন তিনি। ১০ ম্যাচে ১২৮.৫৭ স্ট্রাইকরেটে ২৮৮ রান করেছেন পাকিস্তানের ব্যাটার।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নতুন প্রধানের নাম ঘোষণা করলেন খামেনি

ইসরায়েলের হামলায় হোসেইন সালামি নিহত হওয়ার পর ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নতুন প্রধান নিয়োগ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

শুক্রবার (১৩ জুন) ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নতুন কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

এছাড়া আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সাবেক সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভিকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

আজ শুক্রবার ভোররাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর, তেহরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (বিপ্লবী গার্ড) সদর দপ্তরে হামলা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২৫ বছর ধরে দেশটির আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধানের দায়িত্বে থাকা ফারেদুন আব্বাসিও এ হামলায় নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তেহরান থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে নাতানজ শহরে অবস্থিত দেশটির প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে তার দেশ। ইরানের যেসব বিজ্ঞানী দেশটির জন্য (পারমাণবিক) বোমা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন, তাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘যত দিন প্রয়োজন, তত দিন এমন হামলা চলবে।’

এর আগে ২০২১ সালের এপ্রিলে একই স্থাপনায় সাইবার হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছিল ইরান।

জুমার নামাজের পরই প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়াল ইরান

জুমার নামাজের পরই ইরানের কুম শহরের পবিত্র জামকারান মসজিদের চূড়ায় প্রতিশোধের লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ জুন) ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, ইরানের ‘ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত কুম শহরের ওই মসজিদে (যা শিয়া ধর্মাবলম্বী ইরানের প্রধান মসজিদ হিসেবে পরিচিত) লাল পতাকা উড়ছে।

শিয়া মুসলমানদের জন্য লাল পতাকা এক বিশেষ প্রতীক।
সাধারণত ইসলামি মাস মহররমে, বিশেষ করে কারবালার যুদ্ধ ও ইমাম হোসেন (আ.)-এর শাহাদাত স্মরণে এই পতাকা উত্তোলন করা হয়। তবে মহররম মাস ছাড়া এই পতাকা উত্তোলন অত্যন্ত বিরল ঘটনা। পতাকাটি প্রতিশোধ ও শোকের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

এ বার ইসরায়েলি হামলায় উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার ও পরমাণুবিজ্ঞানীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনির বার্তাতেই যুদ্ধের প্রতীক ওড়ানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক্সে প্রকাশিত ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কুম শহরের জামকারান মসজিদে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কুম শহর ইরানের অন্যতম পবিত্র নগরী।

বিএনপি তার প্রতিশ্রুতির বিরোধিতা করছে : তাসনিম জারা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আজকের বিএনপি তার বিরোধিতা করছে। শুক্রবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

তাসনিম জারা তার পোস্টে বলেন, ঈদের আগে ঐকমত্য কমিশনে যখন সংরক্ষিত আসনে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের কথা বলি। বিএনপির প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আহমেদ উত্তর দেন যে, তাসনিম জারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা সামাজিক বাস্তবতা, রাজনৈতিক বাস্তবতা, নারীদের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে তারা সমর্থন করছেন না।
তিনি বলেছেন, সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হোক এবং এখন যেভাবে পার্টির প্রধানরা ঠিক করেন কে হবেন সংরক্ষিত নারী এমপি, সেটাই যেন বহাল থাকে। পরবর্তীতে যদি নারীদের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়, তখন সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি তার পোস্টে আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি ২০০১ সালের নির্বাচনী ইশতেহারকে নাম দিয়েছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ইশতেহারকে প্রতিশ্রুতি বলার একটা গুরুত্ববহ দিক আছে।
আমাদের সংস্কৃতিতে ‘প্রতিশ্রুতি’ শব্দটার প্রতি একটি বিশেষ মর্যাদা আছে। আমরা যখন কোনো কিছু করব বলে আন্তরিকভাবে বোঝাতে চাই, তখন প্রতিশ্রুতি দেই। হয়তো বিএনপি বোঝাতে চেয়েছিল যে, এই কথা তারা রাখবেই। যাই হোক, সেই ইশতেহারের ৩.১৩ ধারায় বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— ‘সংসদে নারীদের আরো কার্যকরী ভূমিকা পালন ও ক্ষমতায়নের জন্য তাদের আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে এবং মহিলা আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

‘এটি কেন প্রয়োজন, সেটাও বেগম খালেদা জিয়া ব্যাখ্যা করেছিলেন এই বলে যে, “বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। কিন্তু যুগ যুগ ধরে তারা তুলনামূলকভাবে পশ্চাদপদ রয়ে গেছেন। জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে শিক্ষাহীন, আত্মবিশ্বাসহীন ও পরনির্ভরশীল রেখে কোনো জাতি সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। নারী সমাজকে তাদের যথার্থ সামাজিক অবস্থান ও মহৎ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এ অবস্থা চলতে দেয়া উচিত নয়”।

তাসনিম জারা বলেন, ‘এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আজকের আলোচনার বিষয় নয়। হয়তো বিএনপি ভবিষ্যতে ব্যাখ্যা করবে কেন তা করতে পারেনি।’

‘২০০১ সালে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এই অবস্থা চলতে দেওয়া উচিত নয়।’ আর আজ ২০২৫ সালে, জুলাই আন্দোলনের পর ঐতিহাসিক এই সুযোগের সামনে দাড়িয়ে বিএনপির প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলছেন, সময় এখনো হয়নি।

তিনি বলছেন, ‘হয়তো আরো ১০ বছর পরে নারীদের নির্বাচন করার উপযোগী অবস্থা তৈরি হবে। কিন্তু তিনি বলেননি কী দেখে আমরা বুঝবো সেই অবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেননি বিএনপি কী করবে নারী সমাজকে ইলেকশনের জন্য প্রস্তুত করতে। তিনি বলেননি কেন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ ছিলো না। শুধু বলছেন, নারীদের সরাসরি নির্বাচন সম্ভব না এবং সেই কাঠামোই বহাল থাক, যেখানে কে হবেন নারী সাংসদ, তা ঠিক করবেন দলের প্রধান। জনগণ নয়। এই নারী সাংসদদের কোনো এলাকা থাকবে না। কোনো ভোটার থাকবে না। জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে না। জবাবদিহি থাকবে কেবল দলের কাছে।’

এখন আমরা কী করতে পারি-প্রশ্ন রেখে তাসনিম জারা বলেন, নারীদের সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ এখন সৃষ্টি করতে না পারলে আমরা আরো কয়েক দশক পিছিয়ে যাব। তাই এখন আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য সফল না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্ষান্ত হবো না। আমরা একটি ইভেন্ট খুলেছি। সেখান থেকে আমরা কিছু কাজ হাতে নিচ্ছি। যেমন জনগণের স্বাক্ষর ও খোলা চিঠি। সেখানে যোগ দিন। আপনার অন্য কোনো আইডিয়া থাকলে সেটা ইভেন্টে লিখুন বা আমাকে মেসেজ পাঠান। ttps://www.facebook.com/share/19ZDWP7JZb/।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু কার্যক্রম হাতে নেবো। আপনি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হন আর এই ক্যাম্পেইনে সাহায্য করতে চান, তাহলে আমাকে মেসেজ করুন।