বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

পাইরেসির কবলে তাণ্ডব, রাফী বললেন ‘ছাড় নেই’

বাংলাদেশে চলচ্চিত্র পাইরেসি হয়ে যাওয়াটা যেন ‘ওয়ান-টু’র ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ঈদের বড় ছবি ‘বরবাদ’, ‘দাগি’ পাইরেসির কবলে পড়েছিল। এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা ‘তাণ্ডব’ও রক্ষা পেল না পাইরেসির কবল থেকে। মুক্তির পাঁচ দিন না পেরোতেই রায়হান রাফীর ছবিটির ঝকঝকে এইচডি ভার্সন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।
বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পুরো ছবিই ঝকঝকে প্রিন্টে পাওয়া যাচ্ছে।

ছবিটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ শুরু থেকেই তুঙ্গে। সেটাকে পুঁজি করে ছবির বিভিন্ন অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হতে থাকে মুক্তির দিন থেকেই। শেষ পর্যন্ত পুরো ছবিই অনলাইনে চলে এলো।
ছবির কলাকুশলীরা পাইরেটদের হুঁশিয়ারি দিয়েও পাইরেসি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে পুরো ছবি পাইরেসি হয়ে যাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন তারা।

গতকাল বিকেলেই ছবির পরিচালক ও প্রযোজকরা বৈঠক করেছেন। পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, ‘যারা পাইরেসি করেছে তাদের কোনো ছাড় নেই।
আমরা প্রশাসনে নালিশ জানিয়েছি। আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। তা ছাড়া আমাদের টেকনিক্যাল টিমও কাজ করছে। এখন টেকনোলজি অনেক উন্নত। যে বা যারা কাজটা করেছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা হবে।
আইনের সামনে দাঁড় করানো হবে।’

ঈদে মাল্টিপ্লেক্সের পাশাপাশি ১৩৩টি সিঙ্গল স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ‘তাণ্ডব’। ছবিটিতে শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন সাবিলা নূর। অভিনয়ে আরো আছেন রোজী সিদ্দিকী, ডা. এজাজ, এফ এস নাঈম, ফজলুর রহমান বাবু, কাজী রাকায়েত প্রমুখ। অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে আফরান নিশো ও সিয়াম আহমেদকেও।

সরকারি সফর হলে স্টারমার কেন সাক্ষাৎ দিলেন না— প্রশ্নে যা বললেন ড. ইউনূস

যুক্তরাজ্যে চার দিনের সফরকে ‘সরকারি সফর’ বলা হলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কেন সাক্ষাৎ দিলেন না, সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। গত ১২ জুন ‘কিং তৃতীয় চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ নিতে যাওয়ার আগে বিবিসির সাংবাদিক রাজিনি বৈদ্যনাথন তাকে ওই প্রশ্ন করেন। স্টারমার দেখা না করায় ড. ইউনূস কতটা হতাশ–তা-ও জানতে চান বিবিসির এই সাংবাদিক।

রাজিনি বৈদ্যনাথনের প্রশ্ন এবং ড. ইউনূসের উত্তরের অডিও শোনানো হয় বিবিসির ‘দ্য ওয়ার্ল্ড টুনাইট’ অনুষ্ঠানে।

সেখানে বিবিসির উপস্থাপক ড. ইউনূসকে জিজ্ঞেস করেন, ‘এই সফরকে ‘সরকারি’ বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর (কিয়ার স্টারমার) সঙ্গে কোনো বৈঠক নেই আপনার। তিনি জানতে চান, কেন কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে কোনো বৈঠক হলো না?’

এই প্রশ্নের উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা ওনার (কিয়ার স্টারমারের) সঙ্গে দেখা করতে খুবই আগ্রহী ছিলাম। হয়তো তিনি ব্যস্ত ছিলেন বা অন্য কোনো কারণে তা সম্ভব হয়নি।
তবে এতে করে আমার জন্য একটা বড় সুযোগও তৈরি হয়েছে। এখন যেহেতু তিনি ব্যস্ত, আমি তাকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে সময় কাটাতে পারব, যা ঘটছে তা দেখাতে পারব এবং তিনি পুরো পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারবেন। এটা ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্ত, যার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি।
একভাবে বললে, আমরা অতীতকে পেছনে ফেলে এক নতুন ভবিষ্যতের সূচনা করছি।

এরপর রাজিনি বৈদ্যনাথন প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বলছেন তিনি ব্যস্ত। কিন্তু আপনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, আপনি তার রাজনৈতিক সমমর্যাদার ব্যক্তি। যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি এখানে, যুক্তরাজ্যে আছেন। ব্রিটিশ জীবনে বাংলাদেশি সংস্কৃতি গভীরভাবে মিশে আছে।
তাহলে আপনি কতটা হতাশ যে যুক্তরাজ্যে আপনার কয়েক দিনের সফরে তিনি সময় বের করতে পারলেন না?’

উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি জানি না আমি হতাশ হব, না তিনি। কোন কারণে একটা সুযোগ হারাল, আমি জানি না। এ জন্যই বলেছি, তার বাংলাদেশে আসা উচিত। একটু নির্ভার থাকবেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি উপলব্ধি করবেন, এই মুহূর্তের মর্ম বুঝতে পারবেন।’

তবে বৈঠকের ব্যবস্থা না করার পেছনে কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট কোনো কারণ জানিয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার জানা মতে, তারা তেমন কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। হয়তো তিনি অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত।’

তেহরানে জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েলি হামলা, জ্বলছে আগুন

ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলে শাহরান জ্বালানি ডিপোতে আগুন জ্বলছে। ইসরায়েলি হামলার জেরে শনিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে ওই জ্বালানি অবকাঠামোয় আগুন লাগে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা।

যদিও ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাতে ইরনা জানিয়েছে, সেখানকার পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় আগুনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি তারা যাচাই করেছে সত্যতা পেয়েছে।

ইসরায়েল গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের বেশকিছু জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।

জাতীয় পতাকা পরিবর্তনের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন : প্রেস উইং

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় পতাকা পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছে বলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে দাবি করা হয়েছে তা নাকচ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বলেছে, ‘এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্ট, তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেছে, ‘বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন এক্সে (পূর্বের টুইটার) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় পতাকা পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছে বলে মিথ্যা তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী এই গুজব ছড়িয়েছে। গুজবে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকায় পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত চাঁদ-তারকার ইসলামি প্রতীক যুক্ত করা হবে।

প্রেস উইং জানায়, ডিজিটালভাবে তৈরি একটি কল্পিত পতাকার ছবি ভাইরাল হয়েছে, যার ভিউ সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ এবং এতে ব্যাপকভাবে সাড়া পড়েছে—বিশেষত পাকিস্তান, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দর্শকদের মধ্যে। প্রেস উইং বলছে-যে তথ্য হয়েছে তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

শনিবার (১৪ জুন) পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো গণমাধ্যম এমন পরিকল্পনা বা আলোচনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

ফ্যাক্ট চেক জানায়, এই বিষয় নিয়ে জাতীয়ভাবে কোথাও আলোচনা হয়েছে এমন কোন ভিত্তি নেই কিংবা দেশি বা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যম এই পদক্ষেপের কথা কোথাও উল্লেখ করেনি।

বাংলাদেশি ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফরম ‘দ্য ডিসেন্ট’ জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় একটি ভুয়া প্রতিবেদন প্রচার করেন যার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশ তার পতাকায় পাকিস্তান ও তুরস্কের অনুকরণে ইসলামি চাঁদ যোগ করার কথা ভাবছে’- যা এআই দিয়ে তৈরি করা এবং লেখক রবার্ট ব্রাউনের নামে গত ৬ জুন প্রকাশিত হয়। এই ভুয়া প্রতিবেদনটিতে কোনো তথ্যসূত্র, প্রমাণ বা যাচাইযোগ্য উৎস নেই।

‘পাকিস্তানপন্থি এক্স অ্যাকাউন্ট @SouthAsiaIndex নামক আইডি থেকে গত ৪ জুন একটি পোস্ট থেকে এই গুজবের উৎপত্তি হতে পারে। যেখানে প্রথম একটি কাল্পনিক পতাকার ডিজাইন শেয়ার করা হয়।
এই একই ছবি পরে সজীব ওয়াজেদের শেয়ার করা ভুয়া প্রতিবেদনে ব্যবহৃত হয়।’

প্রেস উইং জানায়, এই মিথ্যাচার পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে জাতীয়তাবাদী বা রক্ষণশীল শ্রোতাদের মধ্যে পরিচয় ভিত্তিক উত্তেজনা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।

এআই প্রযুক্তিতে তৈরি পতাকার ছবি প্রমাণ করে, যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এটাই প্রথম নয়। জুলাই মাসে বাংলাদেশের গণ-আন্দোলনের পরে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট—যেমন @AsianDigest- মিথ্যাভাবে দাবি করে যে-ছাত্রনেতারা নতুন জাতীয় পতাকার প্রস্তাব দিয়েছে।
সেই পোস্টটি ৯০ হাজারের বেশি ভিউ পায়, পরে তা সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করা হয়, বলে প্রেস উইং জানায়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এমন কোনো বিষয় শেয়ার করার আগে তা যেন যাচাই করে নেন।

প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা পরিবর্তনের পক্ষে কোনো আন্দোলন বা দাবি নেই, এবং এসব কল্পিত গল্প কেবল সত্যকে বিকৃত করে অপ্রয়োজনীয় বিভেদ তৈরি করতে চায়।

প্রেস উইং বলছে,চলুন আমরা সত্য তথ্যকে প্রাধান্য দিই এবং ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকি।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্রিটিশ আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে : প্রধান উপদেষ্টা

যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করতে ব্রিটিশ আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ সরকার এই প্রয়াসে ‘অত্যন্ত সহায়ক’ ভূমিকা পালন করছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এ বিষয়ে তারা যে দ্রুততা দেখিয়েছেন, আমি তার জন্য অনেক প্রশংসা করি।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ সমন্বয় কেন্দ্র (আইএসিসিসি) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও যুক্তরাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাজে সহায়তার সুযোগ খুঁজছে।
বিশেষ করে হাসিনা সরকারের আমলের দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ধারণা, হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার (১৭৪ বিলিয়ন পাউন্ড) দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, এসব অর্থের বেশির ভাগই যুক্তরাজ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছে অথবা খরচ করা হয়েছে।

লন্ডনে আইএসিসিসিকে জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) আমন্ত্রণ জানায়।
এনসিএর এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রকৃতি সম্পর্কে নিয়মিত মন্তব্য করি না। যদি কোনো তদন্ত শুরু হয়ে থাকে বা কোনো অংশীদারের তদন্তে সহায়তা দেওয়া হয়—তা নিশ্চিত করি না।’

অধ্যাপক ইউনূস সম্প্রতি বাকিংহাম প্যালেসে কিং চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দেশটির পার্লামেন্টে বাণিজ্য সচিব জনাথন রেনল্ডসের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

রেনল্ডস এক টুইট বার্তায় জানান, তারা ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ও সমৃদ্ধির জন্য তাদের পারস্পরিক যৌথ আকাঙ্ক্ষা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করার ব্যবস্থা করতে পারেননি। টিউলিপ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং একই নির্বাচনী এলাকার প্রতিবেশী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।’

তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমি জানি না আমার হতাশ হওয়া উচিত, নাকি দুঃখিত হওয়া উচিত। এটি একটি হারানো সুযোগ।
’

স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো ব্যাখ্যা পাইনি। সম্ভবত তিনি অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত ছিলেন।’

ভারতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৭৯

ভারতের আহমেদাবাদে লন্ডনগামী বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে ২৭৪ জন নিহতের খবর জানানো হয়।

এয়ার ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, লন্ডনগামী ফ্লাইটটিতে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাতজন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান যাত্রী ছিলেন। এছাড়া বিমানটিতে ১২ জন ক্রু সদস্যও ছিলেন।
এদের মধ্যে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বিমানের ২৪১ আরোহী নিহতের পাশাপাশি গ্রাউন্ডে থাকা কমপক্ষে ৩৮ জন নিহত হন। তবে ডিএনএ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারিভাবে হতাহতের সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে না।

এদিকে বিমান দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ তদন্তকারী দল ভারতে এসেছে।
যদিও ভারত ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু কিঞ্জরাপু শুক্রবারই জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী, এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) দুর্ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

পাশাপাশি বিষয়টি বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করছে সরকার। এই কমিটি বিমান নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে রোধ করা যায় সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে জর্দানে আহত ২ বেসামরিক

জর্দানের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির উত্তরের শহর ইরবিদে একটি ‘বিস্ফোরক বস্তু’ পড়ে দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর এটি জর্দানে সংঘাত-সম্পর্কিত প্রথম ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির দুইজন কর্মকর্তা এই খবর জানিয়েছেন বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আল-মামলাকা টিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের কারণে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
জর্দানের সশস্ত্র বাহিনী শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশের আকাশসীমায় কোনোভাবেই অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না। ওইদিন জর্দানের এয়ারফোর্সের যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করে, যেগুলো জর্দানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।

শুক্রবার ইসরায়েল একটি নজিরবিহীন হামলা চালায় ইরানের ওপর, যেখানে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির কেন্দ্রে ও শীর্ষ সামরিক নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও একাধিক পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েলের দিকে।
ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলার পর জর্দান তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে শনিবার সকাল থেকে আকাশসীমা আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্দানের সিভিল এভিয়েশন রেগুলেটরি কমিশন।

সূত্র : সিএনএন

পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়নে সিলেটে মহাপরিকল্পনা : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

সিলেটের জাফলংসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

আজ শনিবার সিলেটের জাফলং এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মহাপরিকল্পনায় পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা প্রাধান্য পাবে।

তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ যৌথভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে।

উপদেষ্টা আরো বলেন, পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন জাফলংয়ের মতো এলাকায় পাথর উত্তোলনের জন্য আর ইজারা দেওয়া হবে না।
এর পরিবর্তে এই সৌন্দর্য্যমণ্ডিত এলাকাগুলোতে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের কৌশল নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবে সরকার। অতিরিক্ত পাথর ও বালু উত্তোলনে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় এখানকার স্টোন ক্রাশারগুলো অপসারণ করা হবে। অবৈধভাবে কাউকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকবে।

পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, জেলা প্রশাসক মো. শের মাহবুব মুরাদ, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির ও পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এর আগে উপদেষ্টাদ্বয় জলযানে জাফলংয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা জাফলং স্টোন মিউজিয়াম ও হরিপুর রেস্ট হাউজে গাছের চারাও রোপণ করেন।

ড. ইউনূস-তারেক রহমান বৈঠক ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য কফিনে শেষ পেরেক : প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈঠকটি ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য কফিনে শেষ পেরেক (গেম ওভার মুহূর্ত) বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শফিকুল আলম লেখেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল ঐতিহাসিক। এটি ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য গেম ওভার মুহূর্ত (কফিনে শেষ পেরেক)।’

প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাজ্য সফরের অর্জন প্রসঙ্গে প্রেসসচিব বলেন, অধ্যাপক ইউনূস ব্রিটিশ রাজা চার্লসের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণ এবং ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে একান্তে ৩০ মিনিটের বৈঠক করেছেন।

তিনি দাবি করেন, এটি জুলাই বিপ্লব ও গত বছরের জুলাই থেকে বাংলাদেশে সংঘটিত যুগান্তকারী পরিবর্তনের একটি স্বীকৃতি।

শফিকুল আলম বলেন, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ একজন সহযোগীর ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ৩২০টি সম্পত্তি জব্দ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এনসিএ কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘এটি সংস্থাটির সম্পত্তি জব্দের একক বৃহত্তম ঘটনা।’

‘এটি সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদদের জন্য একটি বার্তা।
এটি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক,’ লেখেন তিনি ।

শফিকুল আলম বলেন, ব্রিটিশ মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে, যা সম্পদ পুনরুদ্ধারে গভীরতর সম্পৃক্ততার পথ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘আশা করি, আমরা এই অভিজ্ঞতা বিশ্বব্যাপী কাজে লাগাতে পারব।’

প্রেসসচিব আরো বলেন, এই সফরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রেও আশার সঞ্চার হয়েছে।

ড. ইউনূস-তারেক রহমানের বৈঠক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে : দুদু

লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, জাতির প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠকটি প্রত্যাশিত ছিল। ড. ইউনূস-তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

শনিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জনতার অধিকার পার্টি আয়োজিত নির্বাচন ও জাতীয় ঐক্য বিষয়ক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

শামসুজ্জামান দুদু জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ণতা আসবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে এটা যেমন নিশ্চিত, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে একটি নির্বাচিত সরকার। গণমানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, গত ১৫ বছর ধরে বাংলার মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। শেখ হাসিনা ভোটের নামে জালিয়াতি করেছেন, এমন একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, যেখানে লাইনে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু সেখানে ভোট হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলো ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি। সেই নির্বাচনকে শেখ হাসিনা দেশে এবং বিদেশে চালিয়ে দিয়েছে। আর পার্শ্ববর্তী একটি দেশ গণতন্ত্রের মুখোশধারী দেশ এই তথাকথিত নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়ে শেখ হাসিনাকে ফুলের মালা দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে।

জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য দেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।