বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

পন্টিং-ফিঞ্চের প্রশংসায় ভাসলেন রিশাদ

বাংলাদেশের তরুণ লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনকে ঘিরে প্রশংসায় মেতেছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি রিকি পন্টিং এবং সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ।

অ্যারন ফিঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ও (রিশাদ) বল ঘুরাতে পারে দারুণভাবে… রিকি পন্টিং ওকে নিয়ে অনেক ভালো কথা বলেন।’

মেলবোর্নে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত বিগ ব্যাশের ড্রাফট থেকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হোবার্ট হারিকেন্স দলে নিয়েছে রিশাদকে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ পেলেন তিনি।
এর আগে কেবল সাকিব আল হাসানই খেলেছিলেন এই লিগে।

তবে এই প্রথম নয়—বিপিএলের সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় আগেও হোবার্টের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েও মাঠে নামা হয়নি রিশাদের। ট্রফি জয়ের আনন্দ শুধু দূর থেকেই উপভোগ করতে হয়েছিল তাকে।

এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ সামনে এসেছে তরুণ এই লেগস্পিনারের।
তবে সবকিছু নির্ভর করছে বিসিবির অনাপত্তিপত্র বা এনওসির ওপর। বিসিবি যদি সবুজ সংকেত দেয়, তবে প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশে বল হাতে দেখা যেতে পারে রিশাদকে।

শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর তারেক রহমান

দলের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে তাঁর দল। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেছেন, কমিটি গঠন কিংবা আধিপত্য বিস্তারসহ কোনো ধরনের সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলাই বরদাশত করা হবে না। যত বড় ত্যাগী নেতাই হোন না কেন, যতই মামলা কিংবা জেলজুলুমের শিকার হোন না কেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
দলের নাম ভাঙিয়ে দখল, চাঁদাবাজি, হুমকিধমকি, মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের অপকর্মের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এসব বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও কথা বলছেন এবং এ বিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছেন। দলের সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে কমবেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তিন সহস্রাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আড়াই সহস্রাধিক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পদপদবি স্থগিত করা হয়েছে ২০০-এরও বেশি।
দলটির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ব্যবস্থার মধ্যে পদাবনমনও রয়েছে। এ ছাড়া সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বক্তব্যে বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় সম্প্রতি বিএনপির দুজন ভাইস চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক রুদ্ধদ্বার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্যে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি পুনরায় সতর্কবার্তা দেন তারেক রহমান।

জানা যায়, দলের এই শীর্ষনেতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মানুষের মন জয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন।
মানুষ পছন্দ করে না এমন কর্মকাণ্ড তথা যে কোনো ধরনের অপকর্ম রোধে আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসছে’-এই আত্মতৃপ্তি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে হবে। ৩১ দফা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮০ দিনের অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা কী হবে, এরই মধ্যে তা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম দেড় বছরে দেশে ১ কোটি কর্মসংস্থান বা চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। ২০৩৪ সালে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে দলটি।

জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের বিচারসহ তাদের আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, টাকা পাচার, ভোট ডাকাতি, গুম-খুনের প্রতিটি ঘটনার বিচারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান দলের কান্ডারি তারেক রহমান।

জানা যায়, ১৩ জুন ‘লন্ডন বৈঠক’-এর পর নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির ঐকমত্য হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় এমন অবস্থান গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এরই মধ্যে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় হাইকমান্ডের নির্দেশে দলের দুই নেতাকে পুলিশে দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষায় যেন চিড় না ধরে, তা রক্ষা করতে এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে বিএনপি। লন্ডন বৈঠকের মধ্য দিয়ে দেশে স্থিতিশীল অবস্থা ফিরে এলেও যারা এটা চায়নি, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।

জানা যায়, গত রবিবার নরসিংদীর পলাশে একটি শোডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কবির জুয়েলের সমর্থক এবং ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রদলের এক কর্মী গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হন। একই দিন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণে ১০ জন আহত হন।

দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘দুই-চারজন অপকর্মকারীর জন্য বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর দায়দায়িত্ব কেন আমরা নেব? রাজনীতি করি জনগণের কল্যাণের জন্য। নেতা-কর্মীদের শিক্ষা হলো, বিপদে-আপদে জনগণের পাশে দাঁড়ানো। আওয়ামী লীগের মতো মাস্তানি-গুন্ডামি করা নয়।’

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে কোনো অভিযোগ এলে আমরা সেটি আমলে নিয়ে যাচাইবাছাই করছি। ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা পেলেও তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। প্রমাণিত হলে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হচ্ছে। পদপদবি স্থগিত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। যে-ই শৃঙ্খলা ভঙের চেষ্টা করবেন তার বিরুদ্ধেই সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানী ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে সারা দেশে কঠোর দৃষ্টি রাখছেন তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিএনপির হাইকমান্ড তারেক রহমান চান না, দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ তুলে কেউ কোনো রকমের ফায়দা নিক।

বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এইচ এম সাইফ আলী খান বলেন, ‘দলের ভাবমূর্তি নষ্ট ও শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে আমাদের দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর শাখা। কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’

জানা গেছে, দলে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের নির্দেশে নতুন প্রেক্ষাপটের শুরু থেকেই গঠনমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বিএনপি।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা বিপজ্জনক নজির : জাতিসংঘে চীনা দূত

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের হামলা বিপজ্জনক নজির বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের দূত ফু কং। নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাওয়ার আগে ইসরায়েলের যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করা উচিত।

ফু কং বলেন, ইসরায়েলের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ স্থাপন করেছে, যার ফলাফল বিপর্যয়কর হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, পারমাণবিক ইস্যুটি অবশ্যই ‘সংলাপ ও আলোচনার পথে ফিরিয়ে আনা’ প্রয়োজন।

এদিকে বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার সমালোচনা করেছে সৌদি আরবও। দেশটির পারমাণবিক ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রক কমিশন এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ইরানের একাধিক পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশটি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বলেছে, ইসরায়েলের হামলায় ইরানের খোন্দাব হেভি ওয়াটার রিসার্চ রিঅ্যাক্টর স্থাপনার মূল ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে, স্থাপনাটি নির্মাণাধীন হওয়ায় সেখানে কোনও ধরনের পারমাণবিক উপাদান ছিল না। যে কারণে সেখানে বিকিরণের কোনো ঝুঁকি নেই বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলকে হামলা বন্ধে চাপ না দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চেয়ে যখন ইউরোপীয় কূটনীতিকরা জোর আহ্বান জানাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন—তিনি ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে বলবেন না।

ট্রাম্পের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, তিনি কি ইউরোপীয় নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসরায়েলকে চাপ দেবেন যেন তারা হামলা কমিয়ে আনে এবং আলোচনার পথ খুলে দেয়।

এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল এখন জিতছে এবং তারা খুব ভালো করছে। তাই জয়ী পক্ষকে এমন অবস্থায় কিছু বলা কঠিন।
অর্থাৎ, তিনি ইরানে ইসরায়েলের চলমান হামলা বন্ধের জন্য কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না।

এটা স্পষ্ট যে, চলমান সংঘাত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প পুরোপুরি ইসরায়েলের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথে এখনই ঝুঁকছেন না, যদিও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরো দুই সপ্তাহ সময় রাখছেন বলে জানিয়েছেন।

সূত্র : আলজাজিরা

মেসির জাদুকরী ফ্রি-কিকে দুর্দান্ত জয় মায়ামির

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামি। আটলান্টায় পর্তুগিজ জায়ান্ট পোর্তোর বিপক্ষে এক গোল পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) এই ক্লাবটি।

হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে মিসরীয় ক্লাব আল আহলির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল মায়ামি। দ্বিতীয় ম্যাচের অবশ্যটাও শুরুটা ভালো হয়নি, ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করে পোর্তোকে এগিয়ে নেন সামু আগেহোওয়া।
এরপর প্রথমার্ধে গোল শোধে ব্যর্থ হয় মেসিরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পরই খেলার চিত্র পাল্টে যায়।

৪৭ মিনিটে ডান দিক থেকে মার্সেলো ওয়েইগান্টের দুর্দান্ত ক্রস থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করে সমতা ফেরান ভেনেজুয়েলার মিডফিল্ডার টেলাস্কো সেগোভিয়া। এর মাত্র ছয় মিনিট পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—৫৩ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের অসাধারণ ফ্রি-কিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি।
তার এই অসাধারণ গোলেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়।

রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তায় হুমকি হতে পারে : জাতিসংঘে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান না হলে দ্রুতই এই সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকির কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর দারিদ্র্য, উন্নয়ন ঘাটতি ও সংঘাতের প্রভাব’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিগত আট বছরের বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই সংকট এখন আর শুধু মানবিক বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং ক্রমবর্ধমানভাবে একটি নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজ দেশ মিয়ানমারে নির্মম নির্যাতনের কারণে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও অধিকারের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

তারুণ্যের গৌরবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণরা বারবার পরিবর্তনের অগ্রভাগে থেকেছে । ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবসহ সকল আন্দোলনে অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে সর্বদাই সোচ্চার ছিল বাংলাদেশের তরুণ সমাজ।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, তরুণরা যদি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তারা সহজেই চরমপন্থার শিকার হতে পারে।
এছাড়া দারিদ্র্য, বৈষম্য ও উন্নয়ন ঘাটতি যদি দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকে, তাহলে একপর্যায়ে তা সহিংসতা ও অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।

বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিদ্যমান অসাম্যের প্রসঙ্গে তিনি প্রফেসর ইউনূসের তিনটি শূন্য নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল একটি ভবিষ্যৎ চাই যেখানে থাকবে — শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ। এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে উন্নয়ন ও শান্তিবিনির্মাণ প্রচেষ্টাকে একসূত্রে যুক্ত করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন এবং সাম্প্রতিককালে গঠিত পিসবিল্ডিং কমিশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো বাস্তবভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য ‘সামাজিক ব্যবসায়’ ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতার বিষয়ে তিনি বলেন, নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস প্রবর্তিত এই মডেল দারিদ্র্য বিমোচন ও সংঘাত প্রতিরোধে একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ছাড়াও সুইডেন, উরুগুয়ে ও পূর্ব তিমুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জার্মানির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য প্রদান করেন।

হজে গিয়ে ৩৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে ৩৬ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল ১৯ জুন মৃত্যুবরণ করেছেন গাজীপুরের গাছার মো. আফজাল হোসাইন (৬৮)। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃতদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী।
এর মধ্যে ২৩ জন মারা গেছেন মক্কায়, ১১ জন মদিনায়, একজন আরাফায় এবং একজন জেদ্দায়।

শুক্রবার (২০ জুন) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের মৃত্যু সংবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে জানানো হয়, সৌদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রাপ্ত মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ২৭০ জন এবং সৌদি সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তিকৃত হজযাত্রীর সংখ্যা ২৫ জন।

পোর্টাল সূত্রে জানা যায়, এ বছর হজে গিয়ে গত ২৯ এপ্রিল প্রথম মারা যান রাজবাড়ীর পাংশার মো. খলিলুর রহমান (৭০)।

এরপর ২ মে মারা যান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের মো. ফরিদুজ্জামান (৫৭), ৫ মে মারা যান পঞ্চগড় সদরের আল হামিদা বানু (৫৮), ৭ মে মারা যান ঢাকার মোহাম্মদপুরের মো. শাহজাহান কবির (৬০), ৯ মে মারা যান জামালপুরের বকশিগঞ্জের হাফেজ উদ্দিন (৭৩), ১০ মে মারা যান নীলফামারী সদরের বয়েজ উদ্দিন (৭২), ১৪ মে মারা যান চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মো. অহিদুর রহমান (৭২) ও ১৭ মে মারা যান গাজীপুর সদরের মো. জয়নাল হোসেন (৬১)।

গত ১৯ মে মারা যান চাঁদপুরের মতলবের আ. হান্নান মোল্লা (৬৩), ২৪ মে মারা যান রংপুরের পীরগঞ্জের মো. সাহেব উদ্দিন (৬৯), ২৫ মে মারা গেছেন চাঁদপুরের কচুয়ার বশির হোসাইন (৭৪)। ২৭ মে মারা যান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের শাহাদাত হোসেন, ২৯ মে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৫৩), একই দিন মাদারীপুর সদরের মোজলেম হাওলাদার (৬৩), গাজীপুরের টঙ্গীর পূর্ব থানার আবুল কালাম আজাদ (৬২) এবং ৩১ মে নওগাঁ সদরের মো. আবুল হোসেন (৭৩)।

এ ছাড়া, গত ১ জুন মারা যান, গাজীপুরের পুবাইলের মো. মফিজ উদ্দিন দেওয়ান (৬০) ও নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. জাহিদুল ইসলাম (৫৯), ৫ জুন মারা যান ঢাকার কেরানীগঞ্জের মনোয়ারা বেগম মুনিয়া (৫৩), ৬ জুন খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকার শেখ মো. ইমারুল ইসলাম (৬২), ৭ জুন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মো. মুজিব উল্যা (৬৮), ৯ জুন মারা যান গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের এ টি এম খায়রুল বাসার মন্ডল (৬৪), ১০ জুন মারা যান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার গোলাম মোস্তফা (৫৮)।

আর ১২ জুন মারা যান পাঁচজন- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আব্দুর রশিদ (৬৮), লালমনিরহাটের পাটগ্রামের আমির হামজা (৬০), ঢাকার আদাবরের এ এস এম হায়দারুজ্জামান (৬০), ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানার মো. মনিরুজ্জামান (৬৬) ও নোয়াখালীর চাটখিলের খাতিজা বেগম (৪১) এবং ১৪ জুন মারা যান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের রোকেয়া বেগম (৬২) ও যশোরের মনিরামপুরের মিসেস মনজুয়ারা বেগম (৫৯), ১৬ জুন মারা যান ঢাকার রামপুরার মো. মোজাহিদ আলী প্রাং (৫১) ও কুমিল্লার মুরাদনগরের বেগম সামছুন্নাহার (৭৬), ১৭ জুন মারা যান ঢাকার উত্তরার মোছা. নাজমা রানা (৪২) এবং ১৮ জুন মারা যান সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আফিয়া খাতুন (৬৩) ও ঢাকার শাহজাহানপুরের মনোয়ারা ছিদ্দিকা (৫৮)।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি হজ করতে গিয়ে যদি মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হয়। মৃতদেহ তার নিজ দেশে নিতে দেয়া হয় না। এমনকি পরিবার-পরিজনের কোনো আপত্তি গ্রাহ্য করা হয় না।

তেল আবিবে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বিস্ফোরণ

ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ইমেইল বিবৃতিতে জানায়, আমরা আজ রাতেই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এ ঘটনায় দূতাবাসের কোনো কর্মী আহত হননি।

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার বলেন, তিনি কিছুক্ষণ আগে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত পার এগিল সেলভাগের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সেলভাগের বাসভবনের আঙিনায় একটি গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

নরওয়ের পত্রিকা ভিজি জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তেল আবিবে অবস্থিত নরওয়ের দূতাবাস সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সূত্র : আলজাজিরা ও রয়টার্স

দেশে চালু হতে যাচ্ছে গুগল পে, মিলবে যেসব সুবিধা

দেশে সিটি ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস গুগল পে। এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি সমর্থিত ডিভাইসে তাদের ফোন ট্যাপ করে মাস্টারকার্ড-ভিসা কার্ড দিয়ে লেনদেন করতে পারবেন অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা।

গুগল পে একটি কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট প্রযুক্তি। এতে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য ফোনে সংরক্ষিত থাকে।
ফলে ফোনটি পিওএস (Point of Sale) মেশিনে ট্যাপ করলেই সম্পন্ন হয় পেমেন্ট। এতে কার্ড বহনের কোনো ঝামেলা নেই। এ ছাড়া টাকার লেনদেন দ্রুত ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়।

মিলবে যেসব সুবিধা

ভিজিক্যাল কার্ড না থাকলেও ফোন ট্যাপ করেই শপিং, রেস্টুরেন্ট বা ট্রান্সপোর্টে পেমেন্ট করা যাবে।
প্রতিটি লেনদেন টোকেনাইজেশনের মাধ্যমে হয়, যার মানে হচ্ছে কার্ডের আসল নম্বর কখনোই শেয়ার হয় না। ফলে তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে তুলনামূলক কম।

গুগল পে-তে ক্যাশ, কার্ড সোয়াইপ কিংবা পিনের ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। ফলে ট্রান্সজ্যাকশন দ্রুত হয়।
ইউজাররা গুগল ওয়ালেট অ্যাপে একাধিক কার্ড সংযুক্ত করে সহজে ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন।


ইন্টারন্যাশনাল এক্সেস

আন্তর্জাতিকভাবে গুগল পে সমর্থিত যেকোনো জায়গায় এই কার্ড দিয়ে পেমেন্টের সুযোগ মিলবে। গুগল পে চালু উপলক্ষে সিটি ব্যাংকের গ্রাহকরা বিভিন্ন দোকান ও অনলাইন প্ল্যাটফরমে ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার পাবেন।


যারা ব্যবহার করতে পারবেন

গুগল পে ব্যবহার করতে পারবেন শুধুমাত্র এনএফসি সুবিধাযুক্ত অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীরা। যাদের মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা রয়েছে তারা গুগল ওয়ালেটে তাদের কার্ড যুক্ত করে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, গুগল পে চালু হওয়ায় দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি আরো বাড়বে। কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট জনপ্রিয় হবে, ক্যাশলেস ইকোনমির দিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

সেনা অভিযানে তিন সপ্তাহে ৯৯৬ অপরাধী গ্রেপ্তার

বিভিন্ন অপরাধে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার অভিযানে গত তিন সপ্তাহে সেনাবাহিনী ৫৬টি অবৈধ অস্ত্র ও ৯৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৯৯৬ জনকে এবং এ পর্যন্ত মোট ১৫ হাজার ২৬২ জনকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের (স্টাফ কর্নেল) কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ৯৯৬ জন গ্রেপ্তারের মধ্যে কিশোর গ্যাং, তালিকাভুক্ত অপরাধী, ডাকাতসহ অন্যান্য অপরাধী উল্লেখযোগ্য।
সেনাবাহিনী গত ২৭ মে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুষ্টিয়া জেলা থেকে শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হাতিরঝিল এলাকা থেকে সুব্রত বাইনের অপর দুই সহযোগী শুটার আরাফাত এবং শরীফকে ৫টি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড অ্যামোনিশন ও ১টি স্যাটেলাইট ফোনসহ সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করে।

এছাড়াও একইদিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আরো একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বুড়িগঙ্গা ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবুসহ আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং ভূমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযানের ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করছে।

কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৪ জুন মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে ১০ জন সহযোগীসহ সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার বুনিয়া সোহেলের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, বিভিন্ন ধরনের ধারালো দেশীয় অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার করা হয়।

গত ৫ জুন কক্সবাজারের মাঝিরকাটা এলাকায় কুখ্যাত শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন ডাকাতকে তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক, চাঁদাবাজিসহ ২০টির বেশি মামলা রয়েছে। এ সময় একটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসহ মোট ৪টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

গত ৬ জুন কুষ্টিয়া জেলার দূর্বাচর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর কবির লিপটনসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ৬টি বিদেশি পিস্তল, ১টি লং ব্যারেল গান, ১০টি পিস্তল ম্যাগাজিন এবং সর্বমোট ১১৯ রাউন্ড অ্যামুনিশন উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে গত তিন সপ্তাহে ৪৫২ জন মাদক কারবারি এবং আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৪৭৬ জনকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, যেমন ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, অবৈধ মদ ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করছে। গত ৬ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের লুটেরচর এলাকায় একটি মদ তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ কারখানায় গ্যাস লাইটার তৈরির নামে অবৈধভাবে মদ তৈরি করা হচ্ছিল। পরে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযানে ৮ হাজার ৬২০ লিটার মদ এবং মদ উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল জব্দ করা হয়।

কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে অতিবৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে সমগ্র এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। সেনাবাহিনীর একটি দল জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে বাঁধ মেরামতের কার্যক্রম শুরু করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘব হয় ও জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।

তিনি আরো বলেন, টানা ভারি বর্ষণে হবিগঞ্জের কিছু এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পূর্বের ন্যায় বন্যা দুর্গত পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ায়। গত ৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা হবিগঞ্জ এলাকায় বন্যা দুর্গতদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে।

সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা বলেন, শিল্পাঞ্চল এলাকায় নিরাপত্তা বিধানে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ২৭ মে সেনা সদরে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহায়তায় মিরপুরের একটি চকলেট কারখানাকে ৭ লাখ টাকা জরিমানাসহ সাময়িক বন্ধের আদেশ জারি করে।