মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

সামনে তেলসহ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে : এলজিআরডি মন্ত্রী

এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের সামনে খুব ভালো সময় না, কঠিন সময়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা আমাদের খুব ক্ষতি করছে। সামনে তেলের দাম বেড়ে যাবে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। সেগুলো সয়ে নিয়ে আমাদের আগাতে হবে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটি দলের নেতারা এবার বেহেশতে নিতে পারল না। আমরা কাজ করে বেহেশতে যাব। ধর্মকে ব্যবহার করা যায় না। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ধার্মিক। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করে না। আমরা কাজ করতে এসেছি। কাজ করে যাব।

তারা মা বোনদের বেহেশতে নেওয়ার কথা বলে ভুলিয়ে দেয়। এসবে ভুলবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া বেহেশতে যাওয়া যাবে না। সৎ থাকতে হবে, হালাল রুজি খেতে হবে। না হলে বেহেশতে যাওয়া যাবে না।

’ সৎ ও ভালোভাবে খাল খননের কথাও বলেন তিনি। তেল সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধ লেগেছে সেকারণে তেলের সরবরাহ কম কিন্তু পাম্প ভাঙচুর করা সমীচিন নয়। মবকে আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে দেব না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘গম ঝড়-বৃষ্টিতে পড়ে গেছে। আলু বৃষ্টিতে শুয়ে পড়েছে। আমাদের কৃষকের ভাগ্য এটাই। এসব সমস্যা আমরা বুঝি। নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কৃষি ঋণ মওকুফের। আমরা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সাহায্য হবে এমন কাজগুলো করছেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে কয়েক কোটি মহিলাকে কার্ড দেওয়া হবে। এটার মাধ্যমে তারা সহযোগিতা পাবে। আমাদের সব প্রজেক্টগুলো সম্পন্ন করা হবে। গোটা দেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে।’

এসময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ কর্মকর্তা, বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম একদিনেই ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। যা প্রায় চার মাসের সর্বনিম্ন। মূলত ক্রমবর্ধমান সংঘাত, মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ এবং বিশ্বব্যাপী সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশায় স্বর্ণের দামে বড় ধস দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ২.৫% কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২.৮৬ ডলারে দাঁড়ায়। টানা নবম দিনের মতো দরপতন হয়েছে এই ধাতুটির। গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। এর ফলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে, যা সাধারণত সোনার মতো বিনিয়োগের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে ইরানও জানিয়েছে, এমন হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

একই কারণে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। ফলে স্বর্ণের দামে আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

যুদ্ধের প্রভাব অন্য ধাতুর দামেও পড়েছে। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৬১ ডলারে নেমেছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৬৬ দশমিক ৬৫ ডলারে, এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৭ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্পের আলটিমেটামে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরপরই বিশ্ববাজারে আরও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

৪৮ ঘন্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে আলটিমেটাম দেন ট্রাম্প। এরপরই সোমবার (২৩ মার্চ) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।

অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মে মাসের সরবরাহের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর পাশাপাশি, নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও প্রায় একই হারে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৩ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর আগে ডব্লিউটিআই ও ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৭ এবং ৭২ দশমিক ৪৮ ডলার।

সূত্র: সিএনএন

হরমুজ পারাপারে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার নিচ্ছে ইরান

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে বলে জানা গেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় জাহাজ স্ক্রিনিং বা তল্লাশি এবং চড়া ট্রানজিট ফি আদায় করা হচ্ছে। অন্তত একটি তেলের ট্যাঙ্কারকে পারাপারের অনুমতি পেতে প্রায় ২০ লাখ ডলার (২ মিলিয়ন) পরিশোধ করতে হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সামুদ্রিক শিল্প বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লয়েড’স লিস্ট’ এর বরাতে তুর্কিয়ে টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত নয়টি জাহাজ একটি নিয়ন্ত্রিত করিডোর দিয়ে বের হয়ে এসেছে। এই রুটটি ইরানের লারাক দ্বীপের খুব কাছ দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ইরানি কর্তৃপক্ষ জাহাজগুলোকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে পারাপারের অনুমতি দিতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পারাপারের অনুমতি পাওয়া সব জাহাজকেই ফি দিতে হয়েছে কি না তা এখনো অস্পষ্ট, তবে একটি জাহাজের ২০ লাখ ডলার প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া এবং চীন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। মূলত আইআরজিসি পরিচালিত একটি নিবন্ধন ও যাচাইকরণ ব্যবস্থার অধীনে জাহাজ চলাচলের সমন্বয় করাই এই আলোচনার লক্ষ্য, যেখানে পারাপারের আগে জাহাজের ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, তেহরান এমন একটি আইন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে যার মাধ্যমে এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্রানজিট ফি এবং ট্যাক্স আরোপ করা হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক যান চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় নতুন এই ব্যবস্থাটি সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা বৃহস্পতিবার একটি জরুরি অধিবেশন ডেকেছে এবং আটকা পড়া জাহাজ ও ক্রুদের ওই অঞ্চল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সুরক্ষিত সামুদ্রিক কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান অনুমোদন ছাড়া পারাপার নিষিদ্ধ করে কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর সতর্কবার্তার পর এই পদক্ষেপ আরও জোরদার হয়।

তারা জানায়, অনুমতি ছাড়া জলপথে প্রবেশকারী জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর ফলে বেশিরভাগ শিপিং কোম্পানি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বা রুট পরিবর্তন করেছে।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৭টি ঘটনা নিশ্চিত করা গেছে, যেখানে বেশ কয়েকজন নাবিক নিহত বা আহত হয়েছেন। হামলার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য ‘ওয়ার রিস্ক ইন্স্যুরেন্স’ বা যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বিমার প্রিমিয়াম আকাশচুম্বী হয়েছে।

সামুদ্রিক বিমাকারীরা উপসাগরীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে জাহাজ মালিকদের ওই এলাকায় প্রবেশের আগে অতিরিক্ত বিমা নিতে হচ্ছে, যার প্রিমিয়াম অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই অচলাবস্থা আঞ্চলিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে পৌঁছেছে।

৬ শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়: ইরান

ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য ছয় দফা শর্ত দিয়েছে এবং জানিয়েছে, শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়—এমনটাই দাবি করেছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

আজ রোববার (২২ মার্চ) প্রকাশিত মেহের নিউজের প্রতিবেদন মতে, ওই কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধে ইরান আগে থেকেই প্রস্তুত একটি বহু-ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই কৌশল কয়েক মাস আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছিল এবং এখন তা ‘উচ্চমাত্রার কৌশলগত ধৈর্ ‘ নিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

লেবাননের গণমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, আঞ্চলিক বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার পর এখন ইসরায়েলের আকাশসীমায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান।

তিনি আরও বলেন, ‘আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেয়ার’ নীতি ইরান চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে একটি ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দেয়া যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতির জবাব দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক পক্ষ ও মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব তেহরানে পাঠালেও ইরান স্পষ্ট করেছে, তাদের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো চুক্তি হবে না।

ইরানের দেয়া ছয়টি প্রধান শর্ত হলো- এক. ভবিষ্যতে যুদ্ধ যেন আর না হয়, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা, দুই. মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা, তিন. ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, চার. পুরো অঞ্চলে সব ধরনের যুদ্ধ বন্ধ করা, পাঁচ. হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি এবং ছয়. ইরানবিরোধী হিসেবে বিবেচিত কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা ও প্রত্যর্পণ করা।

ইরান বলছে, এসব শর্তই একটি নতুন আইনি ও কৌশলগত কাঠামোর অংশ, যা পূরণ হলেই কেবল যুদ্ধ শেষের পথ তৈরি হতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতি বড় হুমকির মুখে: আইইএ প্রধান

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন আইএইএ প্রধান। ফতিহ বিরল বর্তমান পরিস্থিতিকে দুটি বড় তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকটের সম্মিলিত রূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। এই সংকট নিরসনে এখন বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’ তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আইইএ প্রধান আরও জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে এ অঞ্চলের অন্তত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ‘ভয়াবহভাবে’ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইইএ ইতিমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে তাদের জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে আইইএ সদস্য দেশগুলো বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

ফতিহ বিরল বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে আমরা আরও মজুত তেল বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত আছি। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত সরবরাহ শুরু হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি।’

মেধা ও প্রযুক্তিতে দেশকে এগিয়ে নেবে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, প্রশিক্ষণ, মেধা, প্রযুক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবে বিএনপি। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২২ মার্চ) বিকালে কক্সবাজারের পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনীতে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে সনাতনী শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে কোটি কোটি বেকার সৃষ্টি হয়েছে। ডিগ্রিধারী বেকার সৃষ্টি নয়, কর্মক্ষম নাগরিক গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবে সরকার।

দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে কার্যক্রম হাত নিয়েছে সরকার।’

শিগগিরই কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম মন্ত্রীপরিষদ বৈঠকে দশ হাজার টাকার সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার।’ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্টমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও কক্সবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

পরে রোববার বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সৈকতের সুগন্ধার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আগে সরকারকে সহযোগিতা ও দেশের প্রতি সুনজর দিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি জমি ছাড়া অন্য কোন জায়গায় প্রশাসন অভিযান করতে পারে না বলেও ব্যবসায়ীদের জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালুচরে ভাসমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর প্রেক্ষিতে সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলীতে অভিযান চালুর ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন। এই উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শনের জন্যই সৈকতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে দুপুরে পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনীতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

লেভেলক্রসিংয়ে অটোমেটিক গেট নির্মাণ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যেসব এলাকায় লেভেলক্রসিং রয়েছে সেখানে অটোমেটিক গেট নির্মাণের বিষয়ে পরিকল্পনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, আগামী দিনে যে বৈঠক হবে, সেখানে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এসব গেটগুলোকে আধুনিক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি স্থানে ট্রেন পৌঁছালে অটোমেটিক গেট বন্ধ হয়ে যায়। আজ এই এলাকায় গেট ম্যান না থাকার কারণে এত বড় দুর্ঘটনা হয়েছে। অটো করা থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না।

মন্ত্রী রোববার বেলা এগারোটায় কুমিল্লা পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাস-ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কুমিল্লার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে। ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। লাশ শনাক্তকরণ করা হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে ।‌

কৃষিমন্ত্রী জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে ঢাকায় বা বিদেশে পাঠানো হবে। এছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার খরচ হিসেবে তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

সিরিজে সমতা, শেষ ম্যাচে হবে ফয়সালা

১৬৪ রান ওয়েলিংটনের স্কাই স্টেডিয়ামের জন্য খুব মন্দ কোনো স্কোর নয়। ভালো স্কোর, তবে যথেস্ট ভালো না। অন্তত ম্যাচ জেতার জন্য ঠিক পর্যাপ্তও নয়। ১৯ রানে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে হেরে সেই কথাই বললেন এই ম্যাচের নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক জিমি নিশাম। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ২-২ সমতা। সিরিজের পঞ্চম এবং শেষ ম্যাচেই ফয়সালা হবে ট্রফি কার?

সিরিজে সমতা আনা ম্যাচে ব্যাট হাতে নায়ক ছিলেন কনর ইস্টারহুইজেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যান ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে ৩৬ বলে ৫৭ রানের দারুণ এন্টারটেইনিং ইনিংস খেললেন। ৩ ছক্কা ৭ বাউন্ডারিতে ইস্টারহুইজেনের এই ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি তাকে ম্যাচ সেরার পুরস্কার এনে দিল।

টসে জিতে ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বাজেভাবে। দ্বিতীয় বলেই ওপেনার মুলডারকে হারায় তারা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইস্টারহুইজেন এবং ওপেনার টনি ডি জর্জি সেই সঙ্কট কাটিয়ে উঠেন। মিডলঅর্ডারে রবিন হারম্যানের ২৫ বলে ২৮ রানের ইনিংসটাও ছিল অনেক কার্যকর।

ওয়েলিংটনে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৬৪ রানের ইনিংসকে নিউজিল্যান্ডের জন্য খুব বেশিদুরের কিছু মনে হচ্ছিল না। শেষের ৬০ বলে ম্যাচ জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন দাড়ায় ৭০ রানের। হাতে জমা ছিল ৭ উইকেট। কিন্তু মাঝের ওভারে দুই স্পিনার কেশব মহারাজ ও জীবনের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা প্রিনেলান সুব্রায়েন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরান। দুজনে মিলে ৭ ওভারে মাত্র ৩৫ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নেন। এই দুই স্পিনারের সঙ্গে পেসার জেরাল্ড কোয়েতজিও বল হাতে জ¦লে উঠেন। ৩১ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি।

শেষের দিকে এসে ঝটপট উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। বল ও রানের ব্যবধানে আর কমাতে পারেনি। গুটিয়ে যায় ১৪৫ রানে। সিরিজ নির্ধারনী পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ হবে ক্রাইস্টচার্চে আগামী ২৫ মার্চ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬৪/৫ (২০ ওভারে, জর্জি ২৩, ইস্টারহুইজেন ৫৭, হারম্যান ২৮, জেমিসন ২/২৯)।

নিউজিল্যান্ড: ১৪৫/১০ (১৮.৫ ওভারে টিম রবিনসন ৩২, ক্লেভার ২৬, কোয়েতজি ৩/৩১, বার্টম্যান ২/৩০, সুব্রাইয়েন ২/১৩, মাহারাজ ২/২২)।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: কনর ইস্টারহুইজেন।

সাবেক এফবিআই প্রধান রবার্ট মুলার মারা গেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এফবিআই পরিচালক রবার্ট মুলার মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

মার্কিন গণমাধ্যম পারিবারিক এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে মুলার মারা যান। তবে কোথায় বা কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

ট্রাম্প দ্রুতই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ‘রবার্ট মুলার মারা গেছে। ভালো হয়েছে, আমি খুশি। সে আর নিরীহ মানুষদের ক্ষতি করতে পারবে না।’ ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার হামলার কয়েকদিন আগে এফবিআই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মুলার। তিনি টানা ১২ বছর এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি সংস্থাটির সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করেন।

এফবিআই থেকে বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দেয়। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দল রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ করেছে কি না, তা তদন্তের দায়িত্ব পান তিনি।

প্রায় দুই বছর নীরবে তদন্ত চালান মুলার। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তিনি কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেন। ট্রাম্প এই তদন্তকে ‘উইচ হান্ট’ বা সাজানো তদন্ত বলে নিয়মিত অভিহিত করতেন।

সারা দেশে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই শুনানিতে অনেক আমেরিকান প্রথমবারের মতো ধূসর চুলের অভিজ্ঞ এই প্রসিকিউটরকে কাছ থেকে দেখেন।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান-দুই দলের আইনপ্রণেতাদের নানা প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে মুলার বারবার তার বিশদ প্রতিবেদনের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদন ট্রাম্পকে দায়মুক্ত করেনি।

চার দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি দায়িত্ব পালন করেন মুলার। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় দলের প্রেসিডেন্টদের অধীনে কাজ করেছেন তিনি।

রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল রাশিয়া তদন্তের আগে ওয়াশিংটনে তার সুনাম ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক মেরিন কর্মকর্তা আহত হন এবং বীরত্বের জন্য পদক লাভ করেন।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প মনোনীত এফবিআই প্রধান ক্রিস্টোফার রে তাকে ‘পূর্ণাঙ্গ পেশাদার এবং সোজাসাপ্টা মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।

এফবিআই প্রধান হিসেবে তিনি কঠোর কর্মসংস্কৃতির জন্য পরিচিত ছিলেন। শুরুতে রিপাবলিকান ঘরানার রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও, দুই দলের রাজনীতিকদের কাছেই তিনি গ্রহণযোগ্য ছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য মামলাগুলোর মধ্যে ছিল নিউইয়র্কের মাফিয়া নেতা জন গট্টি এবং পানামার জেনারেল ম্যানুয়েল নরিয়েগার বিরুদ্ধে বিচার।

২০১৭ সালের মে মাসে ট্রাম্প এফবিআই প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করার পর মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ তদন্তে নেতৃত্ব দিতে আবারও মুলারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২২ মাসের অনুসন্ধান শেষে ট্রাম্পের ছয় সহযোগীসহ ৩৪ জন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে তার তদন্ত টিম।