মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

ভারতকে দুশ্চিন্তায় রেখে ট্রাম্প ক্রমশ পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছেন কেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ভারতকে ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কের হুমকি দিয়ে ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে এক বড় জ্বালানি চুক্তির ঘোষণা দেন। ভারতকে ‘শুল্ক বসানোর রাজা’ বলে কটাক্ষ করার পর ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদকে কাজে লাগাতে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে চায় এবং এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “কে জানে, একদিন হয়তো পাকিস্তান ভারতেও তেল বিক্রি করবে!”—যা ভারতের প্রতি তার বিদ্রুপাত্মক মনোভাব স্পষ্ট করে দেয়।

এই মন্তব্য এবং পদক্ষেপ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি তার নতুন কূটনৈতিক অবস্থানকে চিহ্নিত করছে। প্রথম মেয়াদে পাকিস্তানকে ‘মিথ্যা ও প্রতারণার প্রতীক’ বললেও এবার তার প্রশাসন ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে।
কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে

ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে খনিজ তেল খাতে বিনিয়োগে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র, এবং কোন মার্কিন কোম্পানি নেতৃত্ব দেবে, তা নির্ধারণের কাজ চলছে। যদিও কোথায় এই খনিজ তেলের ভাণ্ডার রয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।

সম্প্রতি পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা এগিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছেন, তারা চুক্তির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
পাকিস্তানকে সামরিক সম্মান

সাম্প্রতিক এক অন্য নজিরবিহীন ঘটনায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিলাকে পাকিস্তান সরকার তাদের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ প্রদান করে। সেই অনুষ্ঠানে তাকে সম্মান জানান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি স্বয়ং।

এর আগে, হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প, যা দুই দেশের মধ্যকার উষ্ণ সম্পর্কের স্পষ্ট ইঙ্গিত। পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর প্রধানও ওয়াশিংটনে গিয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন।
অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থও প্রভাবশালী?

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্পের আচমকা ঘনিষ্ঠতার পেছনে অন্তত দুটি কৌশলগত কারণ থাকতে পারে:
১. পাকিস্তান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল’ নামে ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে রাষ্ট্রীয় অংশীদারিত্বে আগ্রহ দেখিয়েছে।
২. পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে।
যুদ্ধের মধ্যস্থতা ও ভূ-রাজনীতির প্রভাব

সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘর্ষের সময় যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব ট্রাম্প নিজেকে দেন এবং দাবি করেন, এই শান্তির নেপথ্যে রয়েছে তার মধ্যস্থতা। পাকিস্তান এই দাবি সমর্থন করলেও ভারত তা অস্বীকার করেছে।

এ পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারতের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে খাটো হয়ে যাচ্ছে। ‘কোয়াড’ জোটের (যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া) অন্যতম শরিক ভারত চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হলেও, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী।
ভারতের জন্য সতর্ক সংকেত

ভারতের সাবেক কূটনীতিক কে সি সিং মন্তব্য করেন, “চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এক সময় ভারতের ভূমিকা চেয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্প চাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি চীনের সঙ্গে ডিল করুক, ভারতের মাধ্যমে নয়।”

এই পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক সমীকরণ ভারতের জন্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ও সামরিক দিক থেকেও উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে। পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠতা যত বাড়বে, ভারতের নিরাপত্তা ও ভূ-কৌশলগত ভারসাম্য ততটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি : প্রেসসচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি করা হয়নি, কোনো সামরিক চুক্তিও হয়নি। সরকারের জন্য একটি সফলতা।

তিনি বলেন, ২০ শতাংশ শুল্কের সাথে অন্য কোন শর্ত দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যতটুকু সম্ভব বিষয়গুলোকে সহজীকরণ করা হবে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বেইলি রোডের বাসায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আমেরিকার পাল্টা শুল্কহার কমার প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন তিনি।

শফিকুল আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো আসলে নন-ডিসপোজাল (অপ্রকাশ্য)। অনেক কিছু জানলেও এখন বলা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি করা হয়নি, কোনো সামরিক চুক্তিও হয়নি। সরকারের জন্য একটি সফলতা।

নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় প্রেস সচিব বলেন, ২০ শতাংশ শুল্কের সাথে অন্য কোন শর্ত দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যতটুকু সম্ভব বিষয়গুলোকে সহজীকরণ করা হবে। প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কাছাকাছি শুল্ক থাকায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকছি না। পাশাপাশি বাণিজ্য ঝুঁকিও কমে যাচ্ছে।

শফিকুল আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিও কমিয়ে আনার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তা আরও কমিয়ে আনা হবে।

২০ শতাংশ শুল্ক সরকারের আরেকটি সফলতা : আসিফ নজরুল

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টিকে অন্তর্বতীকালীন সরকারের সফলতা হিসেবে দেখছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বার্তা জানান।

আসিফ নজরুল ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ১৫ শতাংশ কমিয়ে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২০ শতাংশ। অ্যানাদার সাকসেস অব ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট।

বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ আগস্ট) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শুল্ক নিয়ে হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় এই পরিমাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ, আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, ব্রাজিলের ওপর ১০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, ফিলিপাইনের ওপর ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

গত ২ এপ্রিল বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চহারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। পরে ৯ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের ওপর ওই শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এ সময় শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশকে আলোচনার সুযোগ দেয় ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই)। বাংলাদেশের পক্ষে যার নেতৃত্বে ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) দপ্তরের সঙ্গে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ আলোচনার শেষদিন ছিল আজ।

আগের দুই দফা বৈঠকে নানা ইস্যুতে দু’পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পাল্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আজকের আলোচনা শেষে উভয়পক্ষ যৌথভাবে এ বিষয়ে ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশকে বর্তমানের গড় ১৫ শতাংশ ও নতুন পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে হবে।

দেশ গড়তে আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ

দেশ গড়তে আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এ দেশে যাতে ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে। সেজন্য বিশেষ করে নারী সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে মহিলা দলের আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, একজন মায়ের চোখে বাংলাদেশ যেমন হওয়া দরকার, তেমন দেশ গড়তে আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবার জন‍্য নিরাপদ, গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীরা ভূমিকা রেখেছেন। নারী শক্তিকে কর্মপরিকল্পনার বাইরে রেখে কোনো রাষ্ট্রই এগিয়ে যেতে পারবে না। কিন্তু দেশের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার ক্ষেত্রে নারীরা অনেকাংশে পিছিয়ে। তাদের অর্থনৈতিক সাবলম্বীতায় বিএনপির বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। নারীদের শিক্ষাদান এবং অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করা গেলে পারিবারিক সহিংসতা রোধ করা সম্ভব।

এ সময় বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রথম পর্যায়ে কমপক্ষে ৫০ লাখ প্রান্তিক পরিবারের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় ১৯ বিষয়ে ঐকমত্য : আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় ১৯টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টসহ ঐকমত্য এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যে সব বিষয়ে ঐকমত্য বা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে তা জুলাই জাতীয় সনদে পরিণত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ২৩ তম দিনের আলোচনা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আলোচনার সময় উপস্থিত ছিলেন, কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

আলোচিত ১৯টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে অর্থবিল ও আস্থা ভোটের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা (যুদ্ধ পরিস্থিতি) যুক্ত করার প্রস্তাব। নারী প্রতিনিধিত্ব, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও সুপ্রিম কোর্ট পুনর্গঠন, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পিএসসি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নিয়ন্ত্রক ও মহা হিসাব নিরীক্ষক (সিএ অ্যান্ড জি) এবং ন্যায়পাল নিয়োগ বিষয়ে সংবিধানে পৃথক ধারা যুক্ত না করে বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। আলোচনায় উচ্চকক্ষ গঠন, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, নারীর জন্য আসন বৃদ্ধির প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংক্রান্ত আলোচনায় গণফোরাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাসদ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সভা বর্জন করেছে। এ বিষয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও ভিন্নমত প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের পথ খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় একটি সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন কাঠামো থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। কমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ‘অনুঘটক’ হিসেবে কাজ করার কথা বলেন আলী রীয়াজ।

দ্বিতীয় পর্যায়ের আজকের আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, গত ২ জুন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ২৩টি সেশনে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনের ঘোষণা কিছুদিনের মধ্যেই শুনবেন : আইন উপদেষ্টা

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, নির্বাচনের সময় নিয়ে কিছুদিনের মধ্যে ঘোষণা শুনবেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আইন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।

এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ভোট দিতে সবাই পারবেন। আমাদের হেন উদ্যোগ নেই, যা নেওয়া হচ্ছে না। ভোটাধিকারের কথা বলছেন? ক্লাসে যখন যেতাম। জিজ্ঞেস করতাম ছাত্রদের- তোমাদের মধ্যে কে কে ভোট দিয়েছো? তারা হাসাহাসি শুরু করত। কেউ কেউ বলতো স্যার ভোট দিয়েছি, তবে দশ বারোটা। ৯০ শতাংশ বলতো তারা ভোট দেয়নি। যা হোক আমাদের সেই দুঃখ ঘুচবে। আমরা ১৮ বছর ধরে ভোট দিতে পারিনি।

কবে আগামী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে— জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় তো… জাস্ট ওয়েট করেন, কিছুদিনের মধ্যে ঘোষণা শুনবেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই- এর সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করি। ২০০৮-এর নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে। আপনারা যারা সাংবাদিকরা আছেন, কাজ করেন, অনেক ভয়াবহ তথ্য পাবেন ২০০৮-এর নির্বাচন নিয়ে।

উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন দেখবে। আমি শুধু আমাদের সরকারের নিয়তের কথা আপনাদেরকে বলতে পারি। আমাদের নিয়ত আছে বাংলাদেশের ইতিহাসে বেস্ট ইলেকশন দেওয়ার, এটা স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) আমাদের সবসময় বলেন।

সরকারি অর্থে দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন, জনগণের আমানত থাকবে নিরাপদ

বিতর্কিত শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলমের লুটপাটে দুর্বল হয়ে পড়া পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত (মার্জার) করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মার্জার প্রক্রিয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, এসব ব্যাংকে জনগণের জমা করা অর্থ পুরোপুরি নিরাপদ, কারণ সরকার নিজেই এই খাতে বিনিয়োগ করে তদারকি করবে এবং বিনিয়োগ লাভসহ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই), ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন গভর্নর।

গভর্নর বলেন, মার্জারে যেসব ব্যাংক আসছে, তাদের আমানতকারীদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। সরকার আর্থিক সহায়তা দেবে, যা একপ্রকার নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে লাভজনক হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। প্রথম দফায় পাঁচটি ব্যাংকের মার্জার সম্পন্ন হবে জানিয়ে গভর্নর বলেন, এরপর দ্বিতীয় ধাপে আরও কিছু ব্যাংককে এই প্রক্রিয়ায় আনা হবে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রথম ধাপের কাজ শেষ হবে। ব্যাংকগুলো একীভূত হলে পুরো খাত আরও স্থিতিশীল হবে।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের উদাহরণ টেনে গভর্নর বলেন, সেসময় মার্কিন সরকারও ব্যাংক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। পরে সেগুলো ঘুরে দাঁড়িয়ে লাভসহ সেই অর্থ ফেরত দিয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের জনস্বার্থসুলভ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক এক বছর সময় দিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছিল। কিছু ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ালেও কয়েকটি পারছিল না, তাই তাদের ক্ষেত্রে মার্জার অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে অস্থিরতা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, “কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ব্যাংকের ভেতরে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব অনিয়ম পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, আমরা মনে করছি নির্বাচনের পর বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।

বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়ে তিনি জানান, এই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। তবে বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত আনতে আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। আমরা ইতিমধ্যে কিছু দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট চুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছি, সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) মেয়াদের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আগের মতোই নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এই সময়ে সুদের হারে তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখন তাদের মূল লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি (পণ্যের দাম বাড়ার হার) কমানো। এজন্য তারা আপাতত জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির দিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না। ঘোষণায় আরও বলা হয়, যদি মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসে, তখন নীতি সুদের হার কমানো হতে পারে।

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ দশমিক ২ শতাংশ ও আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ৮ শতাংশ। এর আগের মুদ্রানীতিতে গত জুনে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ, কিন্তু বাস্তবে অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত জানাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সংলাপের ২৩তম দিনে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় এবং ভিন্নমত থাকায়, বিষয়টি কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে কমিশন এ সিদ্ধান্ত জানায়।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের নিজস্ব কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না। তবে, অর্থবিল ব্যতীত অন্য সব বিল নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ উভয় কক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারবে না। এক মাসের বেশি বিল আটকে রাখলে, সেটিকে উচ্চকক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত বলে গণ্য করা হবে।

নিম্নকক্ষ কর্তৃক প্রস্তাবিত বিলসমূহ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করবে উচ্চকক্ষ এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তা অনুমোদন অথবা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

যদি উচ্চকক্ষ কোনো বিল অনুমোদন করে, তবে উভয় কক্ষে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে।

আর যদি উচ্চকক্ষ কোনো বিল প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তা সংশোধনের সুপারিশসহ নিম্নকক্ষে পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। নিম্নকক্ষ সেই সংশোধনসমূহ আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্রহণ কিংবা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।

তবে বিএনপি এবং তাদের মিত্র—জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, এনডিএম ও এলডিপি—দাবি জানিয়েছে যে, উচ্চকক্ষে আসন বরাদ্দ নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে দিতে হবে। তারা উচ্চকক্ষের এখতিয়ার নিয়েও আপত্তি তুলেছে।

অন্যদিকে, সিপিবি-বাসদ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উচ্চকক্ষ গঠনের বিরোধিতা করেছে। তারা বলছে, দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উচ্চকক্ষের কোনো প্রয়োজন নেই।

খুলনায় করোনায় আরো একজনের মৃত্যু

খুলনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে মো. রকমান (২৫) নামের এ ব্যক্তি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে গত দুই দিনে দুজন এবং এ বছর (২০২৫) জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত খুলনা মেডিক্যালে মোট চারজনের মৃত্যু হলো করোনায়।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) এবং করোনার ফোকাল পার্সন ডা. খান আহমেদ ইশতিয়াক বলেন, ‘রকমান হোসেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল বুধবার সকালে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। রকমান খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানাধীন রায়ের মহল এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী এর আগে গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে রতিকান্ত ডাকুয়া নামের ৮৫ বছর বয়সের এক রোগীর করোনায় মৃত্যু হয়। তিনি নগরীর খালিশপুর গাবতলা এলাকার বাসিন্দা।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাত ৮টায় বাগেরহাটের কচুয়া এলাকার আল আমিন (৩৮) এবং ২০ জুলাই দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে খুমেক হাসপাতালের আইসিইউতে থাকাবস্থায় দীপ রায় (২৫) নামের প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। তার বাড়ি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার স্বপ্নপুরী এলাকায়। অর্থাৎ মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে করোনা আক্রান্ত হয়ে খুলনায় চারজনের মৃত্যু হলো।