মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধরের মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্যকে মরাধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান সারোয়ারে আলম।

এর আগে ভোররাতে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে গৃধারীপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের বর্তমান সেক্রেটারি ও গৃধারীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। এছাড়াও তিনি পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির ও ১৩/১৪ সালের পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।

গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার কিছু সময় আগে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগ পত্রসহ পলাশবাড়ী থানায় যান এবং ওসির সঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়- জামায়াত নেতা পলাশ থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে অমীমাংসিত একটি খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন এবং চাপ প্রয়োগ করেন। শেষ পর্যন্ত ওসি রাজি না হলে ওই নেতাসহ তার সঙ্গে থাকা যুবকরা ওসির ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ওসিকে আক্রমণসহ মারধর করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়, এতে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের নয় সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার আহত এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ নামীয় ৯ জন ও ১২ থেকে ১৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক পলাশ আহমেদকে (৩৫)। অন্য আসামিরা হলেন- একই গ্রামের মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন (৩৩), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও শাওন (৩৫)। এছাড়াও বৈরীহরিনামারী গ্রামের গোলজার রহমান (৩২), পূর্ব গোপিনাথপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (৩২) ও জামালপুর গ্রামের আব্দুল মালেককে (৩৭) আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার দিনই ঘটনাস্থল থেকে তৌহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে এই মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তৌহিদুল ইসলাম দৈনিক গণকন্ঠের পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।

পলাশবাড়ী থানার ওসি খান সারোয়ারে আলম বলেন, থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে ভোররাতে জামায়াত নেতা মিজানকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এ মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি।

ঘাট ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা আছে : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, ঘাট ব্যবস্থাকে আরও ভালো কীভাবে করা যায়, সেই দিক থেকে সরকারের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের সরকার সড়ক ও নদী পথে যানচলাচলে এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় একটি পরিবর্তন আনার জন্য চেষ্টা করছে। আপনারা দেখেছেন, ঈদেও এবার নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাস ডুবির ঘটনার উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন এসে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম বলেন, এখন দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অচল অবস্থা চলে আসছে। বাংলাদেশ সরকার সবেমাত্র ক্ষমতায় বসেছে। আমাদের এই অঞ্চলের নদীভাঙন রক্ষা করার জন্য এবং ঘাট ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা এসেছেন। তারা এটা গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখছেন, যাতে ভবিষ্যতে ঘাট ব্যবস্থাপনাকে আরও ভালো করা যায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দৌলতদিয়ায় মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ সরকার এই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের এখানে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সবাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সহযোগিতা করেছেন। সেই সহযোগিতার ভেতর দিয়ে আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে আমরা উদ্ধার কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে চলে এসেছি। এখনও উদ্ধার কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

খৈয়ম বলেন, আমরা আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং জলপথে, নৌপথে সকল ধরনের দুর্ঘটনা রোধে যা যা করার দরকার সেগুলো করবে।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার কাজ এখনও চলছে, শেষ হয়নি। আমরা দেখেছি দুই দিন, তিনদিন পরেও ডেটবডি পাওয়া যায়। এজন্য আমাদের উদ্ধার কাজ চলমান থাকবে। আমরা আশা করি আর ১/২ দিন এটা চলতে থাকবে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে আমরা সবাইকে বিস্তারিত জানাব।

এসময় নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌ পুলিশ, গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ, ফায়ারসার্ভিসসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইরানের অনুরোধে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের সময়সীমা ১০ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ‘আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে,’ যদিও এ ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।

এই ঘোষণাটি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশ্বে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালাবেন। পরে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বলে তিনি প্রথমে ৫ দিনের জন্য সময় বাড়ান, আর এবার সেটি দ্বিতীয়বারের মতো আরও বাড়ানো হলো।

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত না থাকে।

বর্তমান সংঘাতটি শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে ‘চুক্তির জন্য মিনতি করছে,’ যদিও তেহরান তা অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে আক্রমণ বাড়ানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনা চলার দাবি, অন্যদিকে সামরিক হুমকি—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এমনকি মার্কিন গণমাধ্যমে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের কথাও উঠে এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

বর্তমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক এই সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আমার এলাকায় ওয়াজ হবে, কীর্তন-বাউল গানও হবে : রুমিন ফারহানা

‘আমার এলাকায় ওয়াজ হবে, কীর্তন-বাউল গানও হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সরাইল-আশুগঞ্জ)- ২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, আমি যতদিন এই এলাকার দায়িত্বে থাকবে, আমার এলাকায় ওয়াজ যেমন হবে,কীর্তন যেমন হবে, বাউল গানও হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ আব্দুল কাদির শাহ রহ. ৫৮তম স্বরণোউৎসব ও বার্ষিক ওরস উদ্বোধনকালে এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গত ১৮ মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি, কিভাবে একটার পর একটা মাজার ভাঙা হয়েছে,বাউল গানের আসরে বাধা দেয়া হয়েছে। বাউল গান যারা করে, তাদের হেনস্তা করে জেলে দেওয়া হয়েছে আমরা এগুলো দেখেছি।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমি জানি না, আর কোন রাজনীতিবিদ প্রতিবাদ করেছে কিনা। তবে, আমি সংখ্যা ধরে ধরে প্রতিটা মাজার ভাঙার প্রতিবাদ করেছি। ঈদুল ফিতরের একদিন পরে সিলেটে এরকম বাউল গানের আসরে ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি যতদিন এই এলাকার দায়িত্বে থাকবে, আমার এলাকায় ওয়াজ যেমন হবে,কীর্তন যেমন হবে, বাউল গানও হবে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সৃষ্টি ও সংস্কৃতি লালন পালন করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মকে জানানোর দায়িত্বও আমাদের। যারা বাউল গান ও মাজারের সাথে যুক্ত তারা কিন্তু আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ।

পরিবর্তন আসছে ২২ ব্যাংকে

দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের আভাস মিলছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মিলিয়ে ২২টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছেন, শিগগিরই এসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে নতুনভাবে গঠন করা হতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর।
দায়িত্ব নিয়েই তিনি ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেন। এর অংশ হিসেবে ছয় মাসের মধ্যে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কিছু ব্যাংককে একীভূত (মার্জার) করার উদ্যোগও নেওয়া হয়। যার মধ্যে একাধিক ইসলামি ধারার ব্যাংককে একীভূত করে একটি ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের এসব পদক্ষেপ শুরু থেকেই নানান বিতর্কের জন্ম দেয়। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, নতুন পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ফলে ব্যাংকিং খাতে কাঙ্ক্ষিত সুশাসন কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের বিষয়টি আবারও সামনে আসে।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পর্ষদকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানান, ইতোমধ্যে ২২ ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সম্পূর্ণ নতুন পর্ষদ গঠন করা হবে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কমপ্লায়েন্স ও করপোরেট গভর্ন্যান্স দুর্বল সেসব ব্যাংকে দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। শুধু আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে ব্যাংক খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান হবে না, বরং ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এদিকে বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে তফসিলভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। এত বড় খাতে কার্যকর নজরদারি ও সুশাসন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে এমন ব্যক্তিদের থাকতে হবে, যারা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক কমপ্লায়েন্স এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং মানদণ্ড সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘সামাজিক ও অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে মতবিনিময় হলেও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।’ তবে সূত্রগুলো বলছেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে এবং শিগগিরই দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত ব্যাংক পর্ষদ পুনর্গঠন দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দক্ষতাভিত্তিক হবে সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

১০ দিনে দেশে আসবে ১ লাখ ৯২ হাজার টন এলএনজি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। দশদিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনটি জাহাজে এসব এলএনজি দেশে আসবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এইচএল পাফফিন’ নামের ট্যাংকার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, জাহাজটি থেকে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালীতে অবস্থিত আরপিজিসিএলের এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) এলএনজি খালাসের প্রস্তুতি চলছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৭ মার্চ ‘নিউ ব্রেভ’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী এ ট্যাংকারটি ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৬১ হাজার ৫০০ টন এলএনজি নিয়ে আসছে।

এছাড়া আগামী ৪ এপ্রিল ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জাগো নিউজকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর অগ্রাধিকারভিত্তিতে জ্বালানিবাহী জাহাজের বার্থিং ও খালাস কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। আরও একটি জাহাজ শুক্রবার আসার কথা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে আরেকটি জাহাজ আগামী ৪ এপ্রিল বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবে: ড. মঈন খাঁন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নির্ণায়ক বিজয় অর্জনের পর বিএনপি দ্রুত সময়ের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত একাধিক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দলটির জন্ম। ফলে স্বাধীনতার চেতনা ও জাতীয়তাবাদ রক্ষায় বিএনপিই দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শক্তি। তিনি দাবি করেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শ—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন অনেকাংশেই অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিভিন্ন সময়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় বারবার ব্যর্থতা দেখা গেছে। তবে দেশের জনগণ প্রতিবারই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং ১৯৮২ সালের সামরিক শাসন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে।

এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কাল নিয়েও সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, এ সময়ে স্বৈরাচারী শাসনের কারণে জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং সমাজে বৈষম্য আরও গভীর হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার জনগণের অধিকার সংকুচিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দেশে এখনও ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যবধান, আঞ্চলিক বৈষম্য এবং নারী-পুরুষের অসমতা বিদ্যমান। বিশেষ করে পাহাড়ি, উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ সমান সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় বাসচাপায় ৫ জন নিহত, একই পরিবারের ৪

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্টার লাইন বাসচাপায় একটি প্রাইভেট কারের চালকসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামি হোটেলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, প্রাইভেট কার চালক জামাল হোসেন (৫২), যাত্রী আব্দুল মমিন (৫০), ঝর্না বেগম (৪০), সাইফ (৭) ও লাবিবা (১৮)। প্রাইভেট কারের চালক ছাড়া বাকি চারজন একই পরিবারের সদস্য এবং নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার চাতারপাইয়া গ্রামের বাসিন্দা।

ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামি হোটেলের সামনে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় প্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেট কারের চালক মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজন যাত্রী মারা যান।
প্রাইভেট কারে থাকা এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‘স্বাধীনতার ঘোষণা গোটা জাতিকে নতুন ভূখণ্ড-পতাকা ও পরিচিতি দিয়েছিল’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিশাল একটি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা—এটা নিঃসন্দেহে এই জাতির জন্য অত্যন্ত গর্বের। এ কারণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের কাছে এত বেশি প্রাসঙ্গিক, অনুকরণীয় এবং স্মরণীয়।’

বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসানের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি মার্চের দগদগে স্মৃতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “২৬ মার্চ ছিল মূলত বিগিনিং (শুরু) এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে স্বাধীনতার ঘোষণা, সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। শুধু আমরা নয়, দেশের সব মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অথচ গত ১৫ বছর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে অস্বীকার করা হয়েছে। ‘বাট দ্যাট ইজ দা রিয়েলিটি’।
শুধু আমার কথা নয়। ওই সময় যারা ছিলেন, তারা সবাই এটা জানেন। সত্যিকারের ইতিহাস কখনোই মুছে ফেলা যায় না।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে আমাদের গোটা জাতিকে একটা নতুন ভূখণ্ড, নতুন পতাকা ও নতুন একটা পরিচিতির সুযোগ করে দিয়েছিল।
একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এগুলো আমরা অর্জন করতে পেরেছিলাম। কিন্তু তারও পূর্বে বহুদিন ধরেই এ দেশের মানুষ স্বাধিকারের জন্য সংগ্রাম করছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার এই ঘোষণা আমাদের ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে আমাদেরকে সাহস যুগিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করছি।
২৫শে মার্চ দিনটি ছিল আমাদের জন্য একটু ভায়াল কালো রাত্রি। এদিন পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। গণহত্যা করে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। পরে ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতি নতুন মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায় প্রবেশ করল।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তখন টগবগ করছি যুদ্ধের জন্যে, লড়াইয়ের জন্যে। দেশের মানুষও তখন দেশ স্বাধীনের নেশায় লাড়াই-সংগ্রামে নামতে মুখিয়ে আছে। অথচ কোনো দিশা নেই দিক-নির্দেশনা নেই। ঠিক সেই সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের ভেতরে টগবগিয়ে উঠলো, মনে হলো এই বুঝি মুক্তির দিশা মিলল।’

যুদ্ধের স্মৃতি বর্ণনা দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের জনগণের স্বাধিকারের লড়াই-সংগ্রাম কখনো ব্যর্থ হয় না। জনযুদ্ধ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ কখনো ব্যর্থ হবে না। এ যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে আমার পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন আমি হয়ত বেঁচে ফিরব না। কিন্তু আমার কখনো এ রকম মনে হয়নি। আমরা সবসময় অত্যন্ত আশাবাদী ছিলাম, হয়তো লম্বা সময় লাগতে পারে তবে বাংলাদেশ অবশ্যই স্বাধীন হবে।’

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “২৬ মার্চ রাত্রিবেলা আমরা প্রথম জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনতে পাই। ২৭ তারিখে পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা শুনতে পাই। এটা শুনেই আমরা সবাই রাস্তায় বেরিয়ে যাই। মানুষকেও বের হওয়ার জন্য ডাকতে থাকি। তখন ওখানকার এসডিপিওকে গিয়ে বলি, ‘তোমার আর্মসের আলমারিটা খুলে দাও’। খুলে দেওয়ার পরে সেখান থেকে কিছু আর্মস নিই।”

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে বিডিআরের কিছু অংশ বিদ্রোহ করে। তারাও আমাদের সঙ্গে একই জায়গায় শেল্টার নেয়। তাদের সহযোগিতায় আমরা সৈয়দপুর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে যে হাইওয়ে রাস্তাটা আসছে, এই রাস্তাটা ধরে যে ব্রিজ এসেছে সেটা কেটে দিই। যাতে সৈয়দপুর থেকে পাকবাহিনী আসতে না পারে। ভোরের দিকে বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটা অংশ আসে। তখনকার বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসারের নাম ছিল ক্যাপ্টেন নাসের। পরে সে মেজর জিয়াউর রহমানের আমলে এনএসআই চিফও হয়।’

যুদ্ধকালীন সময়ের পশ্চিম দিনাজপুরে ইসলামপুর শহর নামে একটি সাবডিভিশন শহরে নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আশ্রয় নেওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘সেখানে দিলীপের সাইকেল স্টোর নামে একটি দোকানে থাকি। এই দিলিপের সঙ্গে যুদ্ধের সময় আমাদের পরিচয় হয়। সে আমাদের থাকার জায়গা দেয়। তার সাইকেল স্টোর আলমারির পেছন দিকে একটু ছোট জায়গায় রাতে খুব কষ্ট করে থাকতাম। জায়গাটা এত ছোট জায়গা যে কোনো রকমে মাথাটা রাখা যেত। আমার চাচা বাবলু মির্জাসহ ৭ জন সেখানে থাকতাম।’

‘আমরা তখন চেষ্টা করেছি ভারতের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংয়ের জন্য একটা ইউথ ক্যাম্প করতে পারি কি না। পরে পশ্চিম বাংলা সরকার আমাদের ইসলামপুর হাই স্কুলে শিফট করে দেয়। পরবর্তীতে আমরা সেখানেই থাকতাম। আমরা বর্ডারে অর্গানাইজিং ইউথ ক্যাম্প তৈরি করি।’

তিনি বলেন, ‘এক সময় বিহারের চিফ মিনিস্টার ফুরপুরি ঠাকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের আরো কিছু ইয়ুথ ট্রেনিংয়ের জন্য ব্যবস্থা করে দেন। আমাদের পরিধানের জন্য প্রয়োজন মতো পোশাকও দেন। এরপরে কয়েকটা ইয়ুথ ক্যাম্প তৈরি হয়। বর্ডার এলাকায় একটা ক্যাম্পের নাম ছিল থুকরাবাড়ি ইয়ুথ ক্যাম্প। থুকরাবাড়ি ইয়ুথ ক্যাম্পে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স অব ইন্ডিয়া বিএসএফ-এর ক্যাম্প কমান্ডার সুভাসের নেতৃত্বে ট্রেনিং শুরু হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এরপরে আস্তে আস্তে যখন আরো অর্গানাইজড হয়, তখন ইন্ডিয়ার সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট যুক্ত হয়। তারা বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে। বিশেষ করে পরবর্তীকালে দেরাদুন এলাকায় ওরা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে। আমরা আমাদের ছেলেদের সেখানে রিক্রুট করি। আমরা নিজেরা কো-অর্ডিনেট করতে থাকি, আমরা মূলত সংগঠকের ভূমিকাটা পালন করি। এরপরে তো বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স তৈরি হয়। তারা রিক্রুটমেন্ট শুরু করে। এভাবেই আমরা কাজ করেছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, “শেখ মুজিব ধরা পড়ে পাকিস্তানিদের হাতে চলে যান ‘সেন্স অব ডিরেকশনে’ (একক সিদ্ধান্তে)। আওয়ামী লীগের নেতারা প্রথমেই ইন্ডিয়াতে চলে যায়। তারা প্রথম দিকে কোনো নেতৃত্ব দিতে পারেনি। ইন্ডিয়ায় গিয়েও তারা অনেক পরে নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক কাজ শুরু করে। তখন আমরা যারা বাম রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম, তারা আরেকটা বড় বিপদে পড়ি। আওয়ামী লীগ আমাদের ‘ওউন’ করতে চায় না। ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে আমাদের বহু লোককে গ্রেপ্তার করায়। এমনকি আমাকেও বহুবার থানায় হাজিরা দিতে হয়েছে। যে কারণে আমরা বাম সংগঠনগুলো মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে একটা ফ্রন্ট তৈরি করি। সেখানে আকবর খান রনো, রাশেদ খান মেনন, কাজী জাফর আহমেদ সবাই ওই ফ্রন্টের ব্যানারে মুক্তিযুদ্ধের কাজ শুরু করি।”

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন পুরো সময়টাতে আওয়ামী লীগ কখনোই আমাদের মেনে নিতে পারেনি। নানা প্রতিবন্ধকতা আর অনিশ্চয়তা তাড়া করে ফিরতো। তবুও দুচোখে যুদ্ধজয়ের স্বপ্ন থাকতো, যে আমরা জিততে পারবোই। প্রথম দিকে হয়তো হতাশা এসছে। কিন্তু তারপরে আস্তে আস্তে সেগুলো কেটে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তখন হয়েছি, যখন আমরা যারা বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আমাদের শত্রু মনে করতে শুরু করল। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হতে না পারি সে জন্য সব চেষ্টা তারা করেছে। যে কোনো ভাবে আমাদের বিপদে ফেলার জন্য তারা ওত পেতে থাকত। এ বিষয়গুলোকে এড়িয়ে কাজ করাটা ভীষণ চ্যালেঞ্জ ছিল।’

বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চায় সিঙ্গাপুর

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশে অবস্থিত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিচেল লি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।

গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের শুরুতে মিচেল লি প্রতিমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন জানান। প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠক চলাকালে সিডিএ প্রতিমন্ত্রীকে চলমান দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী জনগণের সম্পর্কের ওপর আলোচনা করেন। তিনি সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ইতিবাচক সুনামের কথা উল্লেখ করেন।

মিচেল লি জানান, চাঙ্গি বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালসহ আসন্ন বৃহৎ অবকাঠামো ও ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে দক্ষ ও আধা-দক্ষ উভয় ধরনের বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স দ্রুত বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (বিএসএফটিএ) সম্পাদনে সিঙ্গাপুরের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পে অব্যাহত সহযোগিতার অনুরোধ জানান।

প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং অগ্রগতি সহজতর করবে। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে, বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো খাতে সিঙ্গাপুরের বৃহত্তর বিনিয়োগকে আমন্ত্রণ জানান।

সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে ডিজিটাল সুশাসন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে, বিশেষ করে আইসিটি-সম্পর্কিত খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ব্যয় হ্রাসের ওপর সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে বিনিয়োগসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে। সিঙ্গাপুর পক্ষ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সুযোগ অন্বেষণে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য চিহ্নিত ও প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাদ্য আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। তারা সিঙ্গাপুরের সুপারমার্কেট চেইনগুলোর মাধ্যমে আম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো কৃষিপণ্যসহ বাংলাদেশ থেকে সম্ভাব্য আমদানির ওপর আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী পাট, সিরামিক এবং চামড়ার পণ্যের মতো বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও উৎসাহিত করেন। উভয় পক্ষ লক্ষ্যভিত্তিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে। প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতির ওপর আলোচনা করেন।

উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং এ বছর ঢাকায় পরবর্তী পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভার আয়োজনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানায়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।