শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

সরকারের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ তেলের ওপর ভাসছে: শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের জ্বালানি নীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকলেও সরকার রিজার্ভ বেশি থাকার দাবি করে প্রকৃত সত্য আড়াল করতে চাইছে। সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে চাইলে সেই নোটিশ আলোচনাতেই আসতে দেওয়া হয় না বলে তিনি দাবি করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সংসদের গঠন প্রকৃতি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন যে, এই সংসদে যারা প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই কোনো না কোনোভাবে মজলুম। এদের মধ্যে কেউ জেল খেটেছেন, কেউ আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন, আবার কেউ ফাঁসির মঞ্চ বা নির্বাসন থেকে ফিরে এসেছেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সংসদ যদি জনগণের দুঃখ না বোঝে, তবে আর কে বুঝবে? তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ৫৪ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রেখেছিল, ২০২৪ সালের বিপ্লবীরা তাকে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন যারা সেই নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদকে তুলে আনতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াত আমির ২৪-এর আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন যে, বর্তমান প্রজন্ম কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেনি, বরং তারা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করেছে। তিনি দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হা’ এর পক্ষে রায় দিয়ে জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছিল, কিন্তু সেই রায়কে ‘হাইজ্যাক’ ও ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমানের মতে, যেদিন গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, জামায়াতে ইসলামী জনগণের রায় বাস্তবায়নে রাজপথে ফিরে যাবে এবং যেকোনো মূল্যে ইনসাফ কায়েম করবে।

দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন যে, যারা নিজেদের দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও ইনসাফের চর্চা করতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষকে নিরাপত্তা বা গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না। সংসদে উপস্থিত তাদের ৭৭ জন সদস্য জনগণের অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে এবং জাতির ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

আলোচনা সভায় জাগপা-র মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদের ফিরে আসা রোধ করা হবে এবং ইনশাআল্লাহ এই অশুভ যাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে নিউ মিডিয়ার দ্রুত বিস্তার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাতে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং দুই দেশের গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার তথ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

এসময় তারা দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিশেষ করে শিল্পী ও অভিনয়শিল্পীদের পারস্পরিক সফর এবং যৌথ প্রযোজনার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

পাকিস্তান-বাংলাদেশ ‘নলেজ করিডোর’ উদ্যোগের আওতায় বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী বিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও সাক্ষাতে আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি)-এর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তারা একমত হন।

হাইকমিশনার তথ্যমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং এই ধরনের সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পে-স্কেলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি কর্মচারীরা। আসন্ন ২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সেক্টরে নিষ্ঠা, সততা, ও দ্বায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল হবার পর প্রায় ১১ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।

দীর্ঘ এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাপনের ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে জীবনযাপনে চরমভাবে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।

প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মচারী ব্যাংক ও প্রবিডেন্ট ফান্ড থেকে বার বার ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

এতে আরো বলা হয়, বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এক কথায় নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে স্মারকলিপিতে উল্লিখিত যুক্তিগুলো হলো:

১। দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত, সাধারণত ৫ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবিদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

২। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমান খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে ব্যয় বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে অথচ সেই তুলনায় কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।

৩। সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ও মানসিক চাপ বেড়েছে।

৪। প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তাদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ আরো বাড়বে যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

৫। সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কর্মচারীরা বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। এ উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান অপরিসীম। তাই দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি।

এমতাবস্থায় দেশের সরকারি-কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে আপনার নিকট বিনীতভাবে প্রার্থনা করছি আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ পূর্বক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে কর্মস্থলে সরোব করে তুলুন এবং জীবনমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সাথে সমন্বয় করে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করুন যাতে পরিবার একটু সচ্ছল ভাবে চলতে পারে।

তারা আরো বলেন, আপনার মানবিক নেতৃত্বে আমরা দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যায্য দাবির প্রতি সদয় দৃষ্টি দেবেন এবং আপনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনাকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, ভিসি অবরুদ্ধ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও উপাচার্য কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ‎ ‎শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষককে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে ‘সেইফ এক্সিট’ নিশ্চিত করেছে। ৫ আগস্টের আন্দোলনের বিরোধিতাকারী সাবেক সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক শাকিল মাহমুদ শাওনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যার সঙ্গে প্রক্টরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। ‎ ‎শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, পূর্বে একাধিকবার অভিযোগ দাখিলের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে। ‎ ‎এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্য অফিসে তালা দিয়েছে।

এদিকে ব্যক্তিগত কারণে চার দিনের ছুটি নিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন।

উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে চলমান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের প্রথম একনেক সভায় ১৭ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই বৈঠকে মোট ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকার ১৭টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনার জন্য উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থাপন করা ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে নদী, পানি, জলবায়ু বিষয়ক প্রকল্প রয়েছে ৪টি।

এছাড়া, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প ৫টি, সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প তিনটি, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ দুইটি, প্রযুক্তি উন্নয়ন বিষয়ক প্রকল্প দুইটি এবং অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন বিষয়ক প্রকল্প একটি। এসব প্রকল্পে সব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আদায় করেই ছাড়ব: শফিকুর রহমান

জাতীয় নির্বাচনের ফল হাইজ্যাক করা হলেও যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাগপার ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের অহমিকায় বিএনপি ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে মন্তব্য করে আমির অভিযোগ করেন, শুধু ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়নি। অভ্যুত্থান পুরো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করেছে একটি পক্ষ। হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আমরা আদায় করেই ছাড়ব। এই প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো।’ বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট ও হাম সংক্রমণ ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলেই আমাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের নোটিশ আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হয় না। সরকার বলছে, জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু আমি নিজের গাড়ির জন্যই প্রয়োজন মাফিক তেল পাই না।

‘সংসদে জনগণের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য আমরা লড়াই করে যাবো’, যোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। আলোচনা সভায় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি যোগ দেন কবি, সাহিত্যিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। চলমান নানা সংকট ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করেন অনুষ্ঠানে আসা বক্তারা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন তারা। সংসদে অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১২ মে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের তফসিল ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সভাকক্ষে ১১তম কমিশন সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

আখতার আহমেদ বলেন, আগামী ৯ মে বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনকে ১২ ফ্রেব্রুয়ারির ভোটের মতোই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট নিয়ে ৫০টি মামলা রয়েছে। যার কারণে এসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেসব জায়গার নির্বাচন সামগ্রী সংরক্ষণ করবে কমিশন- এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সামগ্রী সংরক্ষণ একবছর করা হবে।

এবারের কমিশন সভায় মোট পাঁচটি আলোচ্য সূচি রাখা হয়। এরমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি ছিল। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা অনুসারে যাদের মনোনয়ন দেবে, মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন।

এরইমধ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় ও জোটের তালিকা ইসিতে জমা দিয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচনী ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এ নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ গেজেট প্রকাশ হয়। সেক্ষেত্রে এ নির্বাচনের সময় রয়েছে আগামী ১৪ মে পর্যন্ত। এ নির্বাচন দ্রুত শেষ করতে চায় কমিশন।

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণের ওপর জোর দেন তিনি। কোনো পরীক্ষক মূল্যায়নে অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় নকল বন্ধ করা যেমন জরুরি, তেমনি খাতা মূল্যায়নেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। খাতা মূল্যায়নে নির্ধারিত নিয়ম মানা না হলে তা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না।

সভায় তিনি নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন নিজ যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বজায় রাখতে হবে এবং প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ইস্যুতে আমাকে ডাকা হয়নি: আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে আমাকে কোনো দিনও ডাকা হয়নি। কারণ সেটা আমার এরিয়া কনসার্ন না। ইকোনমিক, ব্যাংকিং ও এনবিআর ইস্যুতে যে আলোচনা করা হয়েছে, সেখানেও আমাকে ডাকা হয়নি। সেটা স্যার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) কনসার্ন কয়েকজন উপদেষ্টাদের নিয়ে বসতেন।

লিগ্যাল (আইন) ইস্যুতে আমাকে ডাকা হতো। পলিটিক্যাল ও সংস্কার ইস্যুতে আমাকে ডাকা হতো। এমন অনেক বড় বড় ইস্যু—যেখানে যাকে প্রয়োজন, সেখানে স্যার তাকে ডাকতেন।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আসিফ নজরুল।

সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের পুরো সময়ে আলোচনায় ছিল সরকারের মধ্যে আর একটা সরকার ছিল। একটা কিচেন কেবিনেট ছিল। সেই কিচেন কেবিনেটের সদস্য আপনিও ছিলেন, এ ধরনের অভিযোগ আছে। প্রশ্ন শুনে আসিফ নজরুল সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তাকে ডাকেননি ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

উল্টো প্রশ্ন রেখে আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন সরকারের আমলে কিচেন কেবিনেট ছিল না? এ সময় সাবেক এই উপদেষ্টা আরো বলেন, কিচেন কেবিনেটের সদস্য কেউ না কেউ কোনোভাবে ছিল। যারা দু-একজন হয়তো ছিল না, তারা হয়তো ওই বিষয়ে এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ না, এ জন্য তাদের রাখতেন না।

এ বিষয়ে সাবেক এক উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে বলছি, ওই উপদেষ্টা বলেছেন— ইউনূস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন না। তবে উনি লেবার ‘ল’-এর বিষয়ে যতগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই আলোচনায় উনিই ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং প্রত্যেকটা বিষয়ে তিনিই বেশি সিদ্ধান্ত নিতেন। এরপর ইলেকশন কমিশন যখন ইলেকশন ‘ল’ ড্রাপ্টটা নিয়ে এলো, তখন উপদেষ্টারা মিলে আলোচনায় বসলাম।

তখন আমাদের অবজারভেশন কী কী আছে সেটা আপনিই বলেন। তখন ওই উপদেষ্টাকে বেশি বলতে বলা হয়েছিল। কারণ তার ইলেকশন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞা রয়েছে।

দেশে পৌঁছেছে জ্বালানি পণ্যবাহী ৪ জাহাজ

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, এলপিজি এবং গ্যাস অয়েলবাহী চারটি জাহাজ।

সোমবার (৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেরিন বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব জ্বালানি পণ্য নিয়ে জাহাজগুলো চটগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। বর্তমানে এই জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া চলছে।

আগত জাহাজগুলো হলো গ্যাস চ্যালেঞ্জার (GAS CHALLENGER): ভারত থেকে এলপিজি (LPG) নিয়ে জাহাজটি গত ৩১ মার্চ বন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে এটি ‘ভাটিয়ারী’ এলাকায় অবস্থান করছে।

শান গ্যাং ফা শিয়ান (SHAN GANG FA XIAN): মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা এই জাহাজটি ৩ এপ্রিল বন্দরে ভিড়েছে। এটি বর্তমানে ‘DOJ/6’ জেটিতে অবস্থান করছে এবং আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে এর পণ্য খালাস সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। কুল ভয়েজার (COOL VOYAGER): নাইজেরিয়া থেকে এলএনজি (LNG) নিয়ে আসা বিশাল এই জাহাজটি ৫ এপ্রিল বন্দরে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি ‘FSRU’-তে অবস্থান করছে এবং ৮ এপ্রিলের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্যাস জার্নি (GAS JOURNEY): চীন থেকে এলপিজি (LPG) নিয়ে আসা এই জাহাজটিও ৫ এপ্রিল বন্দরে ভিড়েছে। বর্তমানে এটি ‘CERLIE’ এলাকায় অবস্থান করছে এবং ৮ এপ্রিলের মধ্যে এর কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এই জ্বালানি পণ্য দ্রুত খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সবগুলো জাহাজ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পণ্য খালাস শেষ হবে।