মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

হাসিনা-তাপসের ফোনালাপে উঠে এসেছে যেসব ভয়ংকর তথ্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন এভাবেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোনালাপ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশের মানুষও শুনেছেন তাদের কথোপকথন।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মামলার ২২তম কার্যদিবসের সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল।

এদিন ৫৩তম সাক্ষী হিসেবে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার জবানবন্দি রেকর্ড করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাক্ষীর দাখিল করা চারটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয় ট্রাইব্যুনালে। যার প্রথমটিই ছিল হাসিনা-তাপসের ফোনালাপ।

তাদের সেই কথোপকথনে উঠে এসেছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনের চাঞ্চল্যকর তথ্য। এমনকি মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

কথোপকথনটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—

শেখ হাসিনা : হ্যালো।

তাপস : জি, সালামালাইকুম।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, ওয়ালাইকুম আসসালাম।

তাপস : জি।

শেখ হাসিনা : বলো বাবা, তুমি নরমাল ফোনে কল দেও, ইন্টারনেটের অবস্থা ভালো না।

তাপস : নরমাল ফোনেই, নরমাল ফোনেই।

শেখ হাসিনা : আচ্ছা বলো বাবা।

তাপস : জি, সন্ত্রাসীরা তো বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন সময় ঘুরতেছে, এখন কোথায় কি আক্রমণ করে যাচ্ছে না তো।

শেখ হাসিনা : না, আমরা ওদের ব্যবস্থা নিচ্ছি, আমি। আর আবাহনী ক্লাবে কি আগুন দিছে?

তাপস : ওরা মনে হয় সচিবালয়ে আক্রমণ করছে, আবাহনী ক্লাবেও।

শেখ হাসিনা : কোথায়?

তাপস : সচিবালয়ে তো আক্রমণ করছে, আপনি জানেন না।

শেখ হাসিনা : না

তাপস : হ্যাঁ, স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী তো ওখানে আছে। সচিবালয়ে কয়েকবার ওরা আক্রমণ করছে। ওরা তো রাতে যদি আবার কোথাও কোথাও বিভিন্ন সংবেদনশীল বাসা বাড়িতে আক্রমণ করে তাহলে তো ইয়ে হবে।

শেখ হাসিনা : রাতের বেলা সব ভিজিলেন্স থাকবে। আচ্ছা ঠিক আছে আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। একটু আস্তে আস্তে অনেক জায়গায় গেদারিং ক্লিয়ার হচ্ছে।

তাপস : ওরা মনে হচ্ছে না ইয়ে করবে, রাতে মনে হয় ওদের আরও অনেক কিছু পরিকল্পনা আছে, মনে হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো আমাকে তাই বলল, আভাস দিল। আপনাকেও মনে হয় বলছে কিছু, রাতে যদি সর্বোচ্চ না ইয়ে করে করবেন নাকি?

শেখ হাসিনা : কি করব?

তাপস : মানে সেনাবাহিনী দিবেন?

শেখ হাসিনা : বাবা, একটু চিন্তা করে কথা কইও।

তাপস : জি

শেখ হাসিনা : এটাই তাদের আকাঙ্ক্ষা।

তাপস : বুঝতেছি আমি টেকনিক্যালি এইটা বুঝতেছি। কিন্তু ওরা মনে হয় ওই পথে নেওয়ার জন্য ইয়ে করছে।

শেখ হাসিনা : দরকার নাই, ওটা দরকার নাই। আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলছি ওরা রেডি থাকবে, ঠিক আছে, এখনতো আমরা অন্য ইয়ে করতেছি। ড্রোন দিয়ে ছবি নিচ্ছি আর হেলিকপ্টারে ইয়ে হচ্ছে মানে কয়েক জায়গায়।

তাপস : তাহলে ওই কিছু ছবি দেখে পাকড়াও করা যায় না, রাতের মধ্যে।

শেখ হাসিনা : সবগুলোকে আটক করতে বলেছি, রাত্রে।

তাপস : হ্যাঁ, পাকড়াও করলে ওদেরকে।

শেখ হাসিনা : না ওটা বলা হয়ে গেছে, ওটা নিয়ে র‍্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই সবাইকে বলা হইছে যে যেখান থেকে যে কয়টা পারবা ধইরা ফেলো

তাপস : জি

শেখ হাসিনা : ওটা বলা আছে, আর যেখানে গেদারিং দেখবে সেখানে ওই ওপর থেকে, এখন ওপর থেকে করাচ্ছি, অলরেডি শুরু হইছে কয়েকটা জায়গায়।

তাপস : জি।

শেখ হাসিনা : হইয়া গেছে।

তাপস : জি জি, মোহাম্মদপুর থানার দিকে মনে হয় ওরা যাচ্ছে এটা আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলল।

শেখ হাসিনা : মোহাম্মদপুর থানার দিকে।

তাপস : হ্যাঁ।

শেখ হাসিনা : ওখানে পাঠাইয়া দিক র‍্যাব।

তাপস : জি, তাহলে আপনার নির্দেশনা লাগবে।

শেখ হাসিনা : আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি, এখন লিথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে। যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।

তাপস : জি

শেখ হাসিনা : ওটা বলা আছে। আমি এতদিন বাধা দিয়ে রাখছিলাম। ওই যে স্টুডেন্টরা ছিল ওদের স্ট্যাডির কথা চিন্তা করে। তারপর তো।

তাপস : না রাতে স্টুডেন্ট না, রাতে হলো ওরা সন্ত্রাসী।

শেখ হাসিনা : কি করছ তোমার, ওই যে আমাদের রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলের একটা বাচ্চা ছেলে, তার শিক্ষক তাকে ডাইকা নিয়ে আসছে, শিক্ষক নাকি আবার শিবির করত, ওরা জানে না। তারপর সেই ছেলেটা মারা গেছে, তার মাত্র বুকে একটা গুলি অথচ পুলিশ কিন্তু কোনো রিভলবার ব্যবহার করেনি।

তাপস : হ…জি।

শেখ হাসিনা : এরকম ঘটনা তারা ঘটাইছে।

তাপস : জি, আপনি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ইয়ে করেন।

শেখ হাসিনা : সব জায়গায় আগুন.. বিআরটি, বিটিআরসি বন্ধ করে দিছে, পোড়াইয়া দিছে, বিটিভি পোড়াইয়া দিছে, এখনতো ইন্টারনেট বন্ধ। সব পোড়াইয়া দিছে, এখন চলবে কিভাবে।

তাপস : জি, এটা ভালো হইছে, জি।

শেখ হাসিনা : না পোড়াইয়া দিছে, মেশিনপত্র সব পুড়ে গেছে। আমি বলছি যা যা পোড়াতে.., ও আমাদের সেতু ভবন পোড়াইছে।

তাপস : জি, ওরা রাতে মনে হয় আরও ব্যাপক আক্রমণ করবে।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেটা পোড়াইছে।

তাপস : জি, কারণ এই যে আমি ফিরলাম। আমি দেখলাম যে রাস্তায় রাস্তায় ওরা বিভিন্ন জায়গায় ইয়ে করতেছে।

শেখ হাসিনা : কোন কোন জায়গায়?

তাপস : বনানীতে। বনানী-গুলশানে তো সচরাচর করে না। কিন্তু বনানী-গুলশানে ওরা ইয়েতে চলে আসছে… কোথাও কোথাও ইয়ে করতে পারে, মুভমেন্ট আছে সব জায়গায়।

শেখ হাসিনা : ঠিক আছে, আমি দেখছি।

তাপস : জি

শেখ হাসিনা : তোমরা সাবধানে থেক।

তাপস : জি, আমি সাবধানে আছি।

শেখ হাসিনা : আচ্ছা।

তাপস : ধরপাকড় করতে হবে। সব ধরে ফেলতে হবে, রাতের মধ্যে।

শেখ হাসিনা : না না ওটা বলে দেওয়া আছে অলরেডি। আর একটু আর একটু রাইত গাঢ় হলেই শুরু হবে।

তাপস : জি, জি।

শেখ হাসিনা : অন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তাপস : জি, জি।

শেখ হাসিনা : আচ্ছা।

তাপস : সালামালাইকুম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একপর্যায়ে এ মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি। এরই মধ্যে সাক্ষ্যও দিয়েছেন তিনি। আজ সকালেও তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। তার উপস্থিতিতেই জবানবন্দি দিচ্ছেন সাক্ষীরা। এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও যুক্তিতর্ক পর্ব শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্যরা।

ট্রাম্প আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার যোগদান

নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্ক সফরে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এর ফাঁকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন ড. ইউনূস।

এদিন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ছাড়াও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাতে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ইউনূস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।

এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে পৌঁছান তিনি।

হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট তৈরি করবে পিআর পদ্ধতি: সালাহউদ্দিন

পিআর বা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ভোট ব্যবস্থা শেখ হাসিনার মতো আরেকটি ফ্যাসিস্ট বা দুর্বল সরকার তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আশঙ্কা করছেন, এমন হলে দেশ স্থায়ীভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বিএনপি নেতা।

যারা কম জনপ্রিয় তাদের জন্য পিআর লাভজনক জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পিআর চাওয়ার একটি উদ্দেশ্য হলো—বেশি সিট পাওয়া। আরেকটি হচ্ছে, দেশে অনৈক্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা। যাতে মেজোরিটি পার্টি ক্ষমতায় না আসতে পারে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, কোন পদ্ধতি ভোট হবে- তা সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধানে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের কথা বলা রয়েছে। তা জানতে জামায়াতকে সংবিধান খুলে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অসাংবিধানিক, অরাজনৈতিক, অবৈধ কোনো আবদার মেনে জাতিকে বিপদে ফেলা যাবে না। এই সরকার সাংবিধানিক সরকার। তাই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আইনানুগভাবে সরকারকে চলতে হবে।

সাক্ষাৎকার ইস্যুতে মির্জা ফখরুলের পাশে দাঁড়াল বিএনপি

সম্প্রতি কলকাতার একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকারের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই ইস্যুতে দল মহাসচিবের পাশে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ভারতের একটি পত্রিকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। এতে যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় হয়।

জানা যায়, এ প্রসঙ্গটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেটি মিথ্যা ও মনগড়া। তার এ বক্তব্যের সঙ্গে স্থায়ী কমিটি একমত পোষণ করে। তা ছাড়া বিএনপি মহাসচিব প্রকাশিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিও দিয়েছেন। সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট বিএনপি। এই ইস্যুতে দল তার পাশেই রয়েছে বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের নিন্দা: সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির রাজনীতিবিদরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তারা এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দাও জানান।

স্থায়ী কমিটির অভিমত, বিমানবন্দরের ঘটনা আওয়ামী লীগের চিরাচরিত চরিত্র। এ ঘটনায় তারা (আওয়ামী লীগ) যে সন্ত্রাসী দল, সেটা আবারও প্রমাণ করেছে।

‘ড. ইউনূসের অধীনে কোনো নির্বাচন হোক, আমি চাই না’

বিএনপির পদ স্থগিত হওয়া নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বলেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে ইলেকশন হবে, এটা আমি নব্বই পার্সেন্ট বিশ্বাস করি না। যদিও আমার দল বিশ্বাস করে। আমার মনে হয় না যে, ফেব্রুয়ারিতে ইলেকশন হবে। আর ইউনূস সরকারের অধীনে কোনো ইলেকশন হোক এটা আমি চাই না।

বুধবার যুগান্তর মাল্টিমিডিয়ার নেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমানের ভাষায়, এই ইলেকশনটা হলে পরে ডাকসুতে যেরকম ডাইস বানাইছিল, এরকম ডাইস বানিয়ে রেখে দেবে। জামায়াতের পক্ষে ডাইস বানিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে সব জায়গাতে। রিটার্নিং অফিসারদেরকে। কী ডাইসে খেলাটা হবে, ফিতাটা তৈরি হবে, এই নির্বাচনটা তৈরি হবে- তা ডাইস বানায়া রেখে দিয়েছে।

‘কাজেই ইউনূস সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। কারণ, ইউনূসের একটা রাজনৈতিক দল আছে, মাথায় হাত দিয়ে বলে তুই হবি প্রধানমন্ত্রী। যে মেম্বার হতে পারবে না তারে প্রধানমন্ত্রী বানায় ইউনূস। আবার ইউনূস বানায় বললে একটু বেশি বলা হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ইউনূসের যে পিএস আছে, বাশের চেয়ে কঞ্চির দৌড় বেশি। সূর্যের চেয়ে বালুর তাপ বেশি। তার যে প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেছেন, আপনি (নাহিদ ইসলাম) হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আগেই প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে রাখছে।’

জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পর্ক নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে হলো রাতের সম্পর্ক। রাতের সম্পর্কটা বড় খারাপ। ঝাড়ের বাঁশ কাটিয়া বন্ধু গাঙ্গে দিলাম বানা, রাইতে আইও রাইতে যাইও দিনে করি মানারে বন্ধু দিনে করি মানা। অচিন গায়ের অচিন বন্ধুরে। রাইতে আইও রাইতে যাইও ইউনূসের সঙ্গে জামায়াতের যে সম্পর্ক ইলেকশনটা ইউনূসের অধীনে করলে তারেক রহমান দেখবেন যে ইউসূস হলো তারেক রহমানের দিনের বন্ধু, আর শফিকুর রহমান হলেন ইউনূসের রাইতের বন্ধু। রাইতের বন্ধুর প্রতি মায়া বড় বেশি।’

পদ স্থগিত হওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ইউনূসের অধীনে কোনো নির্বাচন চাই না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে তিন মাসের জন্য। ওই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন হবে। আইন অনুযায়ী গঠিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার অ্যাডভাইজারদের নিয়ে ১২০ দিনের মধ্যে একটা নির্বাচন করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে আ.লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আখতার

নিউইয়র্কে হেনস্থা ও ডিম নিক্ষেপকারী আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার দিবাগত রাত একটায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা) জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের পাশে পোর্ট অথোরিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থানায় আখতার হোসেন মামলা দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এনসিপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এক ভিডিওবার্তায় এ তথ্য জানান আখতার হোসেন।

জানা গেছে, এ মামলায় ২ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা নাম দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। আখতারের অভিযোগ, ওই দিনের হামলার পরও এয়ারপোর্টের লবিতে এবং অন্যান্য জায়গায় তারা নানাভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে।

ভিডিও বার্তায় আখতার হোসেন বলেন, ‘এয়ারপোর্টে হামলার পরে আজ সন্ধ্যায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আবার হোটেলের লবিতে এসেছিল হামলা করার উদ্দেশ্যে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এনসিপির সদস্যরা এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের প্রতিহত করেন এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন অফিসার এসে মামলা দায়ের করার জন্য আমাদের পরামর্শ দেন। তারই প্রেক্ষিতে আমি এয়ারপোর্টের খুব কাছের যে থানা রয়েছে সেখানে গিয়েছি। যারা সেই দিন আমাদের ওপর হামলা করেছিল, হত্যাচেষ্টা করেছিল এবং থ্রেট দিয়েছিল তাদের ব্যাপারে আমরা এখানে মামলা দায়ের করেছি।’

গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গিয়ে বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হন বিএনপি ও এনসিপির নেতারা। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের ঘিরে ইউনূসবিরোধী স্লোগান দেন, তুমুল গালাগাল করেন। ডিম নিক্ষেপ করেন আখতার হোসেনের গায়ে।

জামায়াতকে কি ক্ষমতায় দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র?

বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে আলোচিত দলের নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিভিন্ন জরিপে এখন উঠে আসছে দলটি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে শিবিরের ভূমিধস বিজয়ের পর জামায়াতকে নিয়ে নতুন কৌতূহল শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
Advertisement

এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’। ভারতীয় সাংবাদিক অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিশেষ প্রতিবেদন ‘পূর্বের হাওয়া: পর্ব ৩— ইসলামি জোট গড়ে জয়ী হতে কি পারবে জামায়াত’ শিরোনামে এ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ উঠে আসে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে কাজ করে আসা মার্কিন কনস্যুলেটের এক কূটনীতিক পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেন। তবে সংবাদমাধ্যমটি ওই কূটনীতিকের নাম উল্লেখ করেনি।

সংবাদমাধ্যমটি ওই কূটনীতিকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী কেন এত প্রিয় আপনাদের কাছে? জবাবে তিনি অনেকগুলো কারণ দেখিয়েছিলেন। এক. তাদের নেতারা উচ্চশিক্ষিত। বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সফল।

দুই. তাদের আচরণ (ম্যানারস) খুব ভদ্র-সভ্য। কথা বলা যায় তাদের সঙ্গে।

তিন. তারা ফেলে আসা ইতিহাসের কোনো একটি সময়ে ভিন্ন পদক্ষেপ (মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতা)-এর কারণে বাংলাদেশের শাসক দলের হাতে নির্যাতিত ও মানবাধিকার বঞ্চিত।

চার. জামায়াত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে

পাঁচ. ইসলামি শক্তি হলেও জামায়াত তালেবানের মতো পিছিয়ে পড়া নয়, বরং প্রগতিশীলই বলা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে শাসন ক্ষমতায় আসুক জামায়াত। অনেক দশক ধরেই তাদের এই চাওয়া। এ নিয়ে তাদের লুকোছাপা বিশেষ নেই।

সেই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, ‘যে দেশের ৮০-৮৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান, সেখানে জামায়াত যদি সরকারে আসে ক্ষতি কী? তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ দল। তাদেরও উচিত এক বার সুযোগ পাওয়া। কী আছে, ফেল করলে মানুষ সরিয়ে দেবেন!’

‘ক্ষমতায় গেলে শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করবে জামায়াত’

অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও দেশকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি, দেশ শাসনের সুযোগ পেলে শাসক নয়, জামায়াত সেবক হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চাইনিজ পিপলস ইনস্টিটিউট ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ঝো পিংজিয়ানসহ উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল।

সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ‎বাংলাদেশ-চীন ঘনিষ্ঠ ও‌ প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। দু’দেশের সম্পর্ক আরও কীভাবে গভীর করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বিগত সরকারের জুলুম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন জামায়াত আমির। অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও দেশকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গ্লোবাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে চীন যেসব কাজ করছে, আজ সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের দলের প্রস্তুতি তাদের অবহিত করা হয়েছে। জামায়াত নির্বাচনমুখী দল, তাই নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অপরদিকে ঝো পিংজিয়ান বলেন, ‎চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময়ের। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে কাজ অব্যাহত আছে। এ সময়, বাংলাদেশের সব পর্যায়ের মানুষের সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার ও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারিতে অবশ্যই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। প্রধান উপদেষ্টাও নির্বাচনের পক্ষে। তবে শত্রুরা বাংলাদেশকে একটা অস্থির অবস্থার মধ্যে রাখতে চাইছে যা সবাইকে মিলে প্রতিরোধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘ঠিকানা’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি।

সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথোপকথনে মির্জা ফখরুল জানান, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। অবশ্যই নির্বাচন হবে। তবে যে অবিশ্বাস মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে সে অবিশ্বাস দূর করে বিশ্বাস সৃষ্টির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। সেগুলোর জন্য সেভাবে এগোতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ড. ইউনূসও নির্বাচনের পক্ষে এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে দৃঢ় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তার মতে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও জানে যে নির্বাচন আসন্ন।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনী নির্বাচনকালীন সময়ে সচেতন থাকলেও বাংলাদেশের সমস্যার সরল সমাধান নেই। শত্রুরা দেশকে অস্থিতিশীল রাখতে চায়। এতে দেশের স্থিতিশীলতা সম্পর্কে আস্থা কমছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মব ভায়োলেন্স, বাড়িঘর ধ্বংস ও কারখানা জ্বালানোর মতো ঘটনা আগে এতটা পরিকল্পিতভাবে ঘটেনি।

এনসিপি-জামায়াত প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এসব হচ্ছে পলিটিক্যাল পার্টির ন্যাচার। পলিটিক্যাল পার্টি সবসময় একটা বার্গেইন করতে থাকে। বার্গেইন করে সেটা বেস্ট আনতে চায়। এটা আমি কোনো অপরাধ মনে করি না। এটাকে আমি মনে করি যে তার যদি পলিটিক্যাল বার্গেনিং করে ম্যানপুলেশন করে সে যদি কিছু আনতে পারে এটা তার যোগ্যতা। আজকে ওরা যে জিনিসগুলো নিয়ে আবদার করছে, এটাকে আলোচনার মাধ্যমে শেষ করা খুব কঠিন ব্যাপার এবং আমি জানি ইতোমধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকটা জায়গা তৈরি হয়েছে যেখানে আরও আলোচনার সুযোগ আছে।’