মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়েপ এরদোগান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর গাজা ও ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তুর্কি প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বৈঠকের আলোচনার প্রতিলিপি অনুযায়ী এরদোগান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধের ইচ্ছা প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাখ্যা করেছি কীভাবে গাজা ও পুরো ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি আনা যায় এবং পরবর্তীতে কীভাবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি, দুই-রাষ্ট্র সমাধানই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির ফর্মুলা, বর্তমান পরিস্থিতি আর চলতে পারে না।’

সিরিয়া প্রসঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার অংশগ্রহণ নতুন সিরীয় সরকারের বৈশ্বিক বৈধতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মতপার্থক্য সত্ত্বেও একসঙ্গে দাঁড়ানো আমাদের আসল শক্তি: তাসনিম জারা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গী হয়েছেন দেশের তিন রাজনৈতিক দলের পাঁচ নেতা। তাদের একজন নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও বিশ্বমঞ্চে দেশকে একসঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুকে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

তাসনিম জারা পোস্টে লিখেছেন, ‘মতভেদ রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। মতপার্থক্য সত্ত্বেও একসাথে দাঁড়ানোর শক্তিই আমাদের আসল শক্তি।’

তিনি যোগ করেন, ‘এমন খুব কমই সুযোগ আসে যখন আমরা দল-মত নির্বিশেষে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে পারি। এই মুহূর্তের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত, যেখানে ভিন্নতার চেয়ে ঐক্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, যেখানে আমরা বিশ্বকে দেখাই যে জনগণের প্রতি আমাদের যৌথ দায়িত্বই সর্বাগ্রে।’

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দাবি আদায়ে কাউকে রাস্তায় নামতে হবে নাঃ ডা. শফিকুর

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দাবি আদায়ে জনগণকে রাস্তায় নামতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এর বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ৫ বছরে উন্নয়নের বুলেট ট্রেন চালু না করতে পারলেও উন্নয়নের এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হবে।

জামায়াত আমির বলেন, যুবকরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবেন, কিন্তু সেই পরিবেশ আমরা গত অর্ধশতাব্দীতেও তৈরি করতে পারিনি। বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতার কারণে। জামায়াত চায় জনগণের সহযোগিতায় ঘুণে ধরা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে।

তিনি আরও বলেন, যে শিক্ষা মানুষকে নিচে নামিয়ে দেয়, সেই শিক্ষা আর দেওয়া হবে না। যারা শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনার দায়িত্বে আছেন, তাদের সন্তানরাই দেশের বাইরে পড়াশোনা করেন। এজন্যই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন অবস্থা।

এ সময় জামায়াত আমির আরও বলেন, আয়না ঘরের মতো সংস্কৃতি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার শুরু করেছিল।

নতুন বাংলাদেশে পুরনো রাজনীতির দিন শেষ: আমির খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে জনগণের প্রত্যাশা পরিবর্তিত হচ্ছে এবং জনগণ বিএনপিকে একটি আদর্শ দল হিসেবে দেখতে চায়। নতুন বাংলাদেশে পুরনো গঠিত রাজনীতির দিন শেষ হয়েছে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পর মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চিত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত ‘জিয়া সুইমিং কার্নিভাল’ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ক্রীড়াঙ্গণকে একটি ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত করতে হবে। রাজনীতি ও অর্থনীতির পাশাপাশি স্পোর্টসকেও গণতান্ত্রিক করতে হবে, যাতে দেশের সকল মানুষ সমানভাবে সুযোগ পায়।

আমির খসরু বলেন, বিএনপিকে একটি আদর্শ দল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনগণের প্রত্যাশা ও পরিবর্তনকে সামনে রেখে কাজ করতে হবে।

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে তোপের মুখে ডা. সাবরিনা

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন ডা. সাবরিনা। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তোপের মুখে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন তিনি।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জিয়া উদ্যানে এই বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তাতে দেখা যায়, জিয়াউর রহমানে কবরে শ্রদ্ধা জানাতে নরসিংদী জেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে ডা. সাবরিনাসহ বেশ কয়েকজন অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি আকরাম কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে সেখানে আসেন।

এ সময় ছাত্রদল নেতা আকরাম ডা. সাবরিনার পরিচয় জানতে চান। জবাবে সাবরিনা বলেন, আমি কেন্দ্রীয় কমিটির এক নম্বর সদস্য। এরপর ছাত্রদলের ওই নেতা বলেন, বিএনপি থেকে একটি প্রেস দেয়া হয়েছে। আপনার তো এখানে আসার কথা না। আপনি আওয়ামী লীগের সময় শেখ হাসিনাকে নিয়ে স্লোগান দিয়েছেন।

জবাবে সাবরিনা বলেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমি কখনো কোনো স্লোগান দেননি। এ সময় তিনি ছাত্রদল নেতাদের কাছে স্লোগান দেয়ার প্রমাণ চান তিনি।

একপর্যায়ে আকরাম সাবরিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে। এতে অসম্মতি জানিয়ে সাবরিনা বলেন, জিয়ার মাজার সবার।

এদিকে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী সাবরিনাকে ঘিরে ‘আওয়ামী দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ এমন স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় বেশ কিছুক্ষণ তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তবে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তার সেখান থেকে চলে যাওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সাবরিনা।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘বিতর্কিত ডাক্তার সাবরিনা করোনার সার্টিফিকেট জালিয়াতি মামলায় অপরাধী। মহিলা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের মাজারে যাওয়ার সাহস পেল কোথা থেকে? তাকে যারা নিয়ে গেছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

অভিযোগ রয়েছে, ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে অসৎ উদ্দেশ্য এবং কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে জেকেজি হেলথ কেয়ার নামক একটি লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও অন্যদের যোগসাজশে অভিজ্ঞতাহীন, নিবন্ধনবিহীন, ট্রেডলাইসেন্সবিহীন তার স্বামী আরিফুল চৌধুরীর ওভাল গ্রুপের নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ারকে কোভিড-১৯ এর নমুনা সংগ্রহের জন্য অনুমতি পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন।

২০২২ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন জাল করোনা সনদ দেওয়ার মামলায় সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুলসহ ৬ জনকে ১১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত আছেন তিনি।

সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন, সীমান্ত এলাকায় থাকছে বিশেষ টহল

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৫ উপলক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের দুই হাজার ৮৫৭টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি), মোতায়েন করা হয়েছে ৪৩০ প্লাটুন সদস্য। এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল চালানো হচ্ছে।

এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবির ২৪টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছে তারা।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বিজিবির নিরাপত্তাধীন মোট দুই হাজার ৮৫৭টি পূজামণ্ডপের মধ্যে সীমান্তবর্তী (সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং পার্বত্য এলাকার ১৫টি পূজামণ্ডপসহ) এলাকায় এক হাজার ৪১১টি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাইরে রয়েছে এক হাজার ৪৪৬টি পূজামণ্ডপ।

বাইরের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রাজধানী ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৪৪১টি; চট্টগ্রাম মহানগরী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় ৬৯৪টি এবং অন্যান্য স্থানে ৩১১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। পূজা উপলক্ষ্যে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি শক্তিশালী করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল চালানো হচ্ছে।

বিজিবি সবসময় জাতীয় শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারে সেই লক্ষ্যে বিজিবি সারা দেশে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান শরীফুল ইসলাম।

আনারস প্রতীকে নিবন্ধন পেল বাংলাদেশ লেবার পার্টি

আদালতের আদেশে নিবন্ধন পেয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। দলীয় প্রতীক হিসেবে পেয়েছে আনারস। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দলটিকে নিবন্ধন সনদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা সনদে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব (আরপিও) অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের গত ২৯ মের রায় ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়: ৮৫/১ নয়াপল্টন মসজিদ গলি (তৃতীয় তলা), ঢাকা-১০০০ এ অবস্থিত বাংলাদেশ লেবার পার্টিকে রাজনৈতিক দল হিসাবে নিবন্ধন করেছে।

এ নিয়ে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা দাঁড়াল ৫২টি (আওয়ামী লীগসহ)। নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালু হয়। এ পর্যন্ত ৫৬টি দল ইসির নিবন্ধন পেলেও পরবর্তী সময়ে শর্ত পূরণ, শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থতা এবং আদালতের নির্দেশে ৫টি দলের নিবন্ধন বাতিল হয়।

দলগুলো হলো—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, পিডিপি ও জাগপা। সস্প্রতি আদালতের আদেশে জামায়াতে ইসলামী ও জাগপা নিবন্ধন ফিরে পেলেও ইসি কেবল জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়ে দিয়েছে।

এসময় দলের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আমরা নিবন্ধন পেয়েছি। এই নিবন্ধন লেবার পার্টির জন্য নতুন ধারা সৃষ্টি করবে। আমরা দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি) সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম। ২০১৮ সালে আমি নিজে পিরোজপুর-২ আসনে ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করেছি।

এবার আমাদের নিবন্ধন পেয়েছি, শীঘ্রই আমরা আমাদের প্রার্থী ঘোষণা করবো। লেবার পার্টি এখন বাংলাদেশে আরেকটি রাজনৈতিক নিবন্ধিত দল। আমাদের নিবন্ধন নাম্বার ৫৬, আর প্রতীক হচ্ছে আনারস।

এ সময় পিআর পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের পিআর নিয়ে না ভেবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। কয়েকটি রাজনৈতিক দল এখন পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাচ্ছে। এটা মূলত নির্বাচনকে বানচালের একটি অপচেষ্টা। বাংলাদেশের নির্বাচনকে দীর্ঘায়িত করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। যারা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায় না তারাই পিআর পদ্ধতি চায়।

জবাবদিহিতা ছাড়া উন্নয়ন ক্ষণস্থায়ী ও ভঙ্গুর: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বিগত দেড় দশকের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি যে জবাবদিহিতা ছাড়া যে কোনো উন্নয়ন ক্ষণস্থায়ী ও ভঙ্গুর।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক হীনস্বার্থ ও দুর্নীতির উদ্দেশ্যে গৃহীত অবকাঠামো প্রকল্প শুধু যে অর্থনীতির উপরই চাপ বাড়ায় তা নয়, তা জনগণের কোনো কল্যাণও করে না। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা একে একে আবিষ্কার করি দুর্নীতি ও জনগণের সম্পদ চুরি কি ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছিল এবং তার ফলশ্রুতিতে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা কি ভয়ানক নাজুক ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল।’

দুর্নীতির উদ্দেশে গৃহীত এসব তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্প রোধে অন্তর্বর্তী সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে ড. ইউনূস যোগ করেন, ‘আমরা এর অবসান ঘটাচ্ছি যেন আর কখনোই উন্নয়নকে জনগণের সম্পদ আত্মসাতের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা না যায়। দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মজবুত করতে আমরা সংস্কারমূলক কিছু কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’

১৫০ আসনের প্রার্থী নিয়ে নির্ভার বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপি। তফশিলের আগেই ৩০০টির মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন একক প্রার্থী নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আগামী মাসে অর্থাৎ অক্টোবরে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চায় দলটি। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তফশিলের আগেই ৩০০ আসনের অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। অধিকাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ইতোমধ্যে একাধিক জরিপের তথ্য দলটির হাইকমান্ডের কাছে রয়েছে। আবার সাংগঠনিক টিম দিয়েও সব আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তালিকা নিয়ে সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ভার্চুয়ালি বৈঠকও করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

ধারণা করা হচ্ছে, একাধিক জরিপ ও সাংগঠনিক টিমের মাধ্যমে পাওয়া তালিকা সমন্বয় করে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

নেতারা জানান, ৩শ সংসদীয় আসনের মধ্যে দেড়শ আসনের প্রার্থিতা নিয়ে তেমন ভাবছে না দলটি। হাইকমান্ড মনে করছেন, এসব আসনে দলীয় প্রার্থিতা নিয়ে তেমন সমস্যা বা জটিলতা নেই। এই আসনগুলোর প্রার্থীরা মোটামুটি নির্ধারিত। বাকি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে বেশ তৎপর বিএনপি। এর মধ্যে বেশকিছু আসন ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের জন্য ছাড়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে দলটির।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা যুগান্তরকে বলেন, ঠিক কয়টি আসন মিত্রদের ছাড় দেওয়া হবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে বৈঠকে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া শেষ করে দলের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। আর মিত্রদের আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের (মিত্র রাজনৈতিক দল) সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

ইসরাইলি বিমান হামলার মোক্ষম জবাব দিল ইয়েমেন

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অন্তত ১২টি বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এতে অন্তত ৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইলের সর্বশেষ এই আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিতে দেরি করেনি হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী।

ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা নতুন করে ইসরাইলবিরোধী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত হাইপারসনিক ‘প্যালেস্টাইন–২’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরাইল অধিকৃত ইয়াফা অঞ্চলের (তেলআবিব) কয়েকটি সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, ইয়েমেনে ইসরাইলি আগ্রাসন এবং গাজায় চলমান গণহত্যার জবাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

পাশাপাশি, তারা লোহিত সাগর ও আরব সাগরের ব্যস্ততম এলাকায় উপস্থিত বা এর মধ্য দিয়ে যাতায়াতকারী সব বেসামরিক ও সামরিক কোম্পানি ও জাহাজকে নিজেদের পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।

ইয়েমেনি বাহিনী জোর দিয়ে বলেছে, দেশের প্রতিরক্ষা ও গাজার প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে তারা ক্রমবর্ধমান হারে আরও অভিযান চালাবে, যতদিন না ইসরাইল গাজায় আগ্রাসন ও অবরোধ বন্ধ করছে।

অন্যথায় লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও জাহাজগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার ইসরাইল ও আমেরিকাকেই বহন করতে হবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার ইসরাইলি সেনারা ২০টি যুদ্ধবিমান নিয়ে সানার দক্ষিণে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালায়। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, শহরে মাত্র ১২টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

সূত্রটি জোর দিয়ে জানায়, ইয়েমেনি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক স্তরের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির মাধ্যমে শত্রু যুদ্ধবিমানের কয়েকটি দলকে প্রতিহত করে এবং তাদেরকে বোমাবর্ষণের আগেই সানার আকাশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া গণহত্যামূলক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনি বাহিনী কৌশলগত সমুদ্র অবরোধ আরোপ করে, যাতে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ঠেকানো যায়। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।

পাশাপাশি ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেন, যা গাজাবাসীর প্রতি তাদের সমর্থনের প্রকাশ।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে যতদিন না ইসরাইল গাজায় স্থল ও বিমান হামলা বন্ধ করছে।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলের হামলায় গাজায় অন্তত ৬৫,৫০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহতের সংখ্যা ১,৬৭,৩৭৬ জন। সূত্র: মেহের নিউজ