মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

সেপ্টেম্বরের ২৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩৪ কোটি ২০ লাখ ডলার

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (২৩৪ কোটি ২০ লাখ ডলার) মার্কিন ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিশেষায়িত এক ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে ২১ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৭৩ কোটি ৬১ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৩৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বা ২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।
টাকার অঙ্কে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ২৮ হাজার ৫৭২ কোটি টাকার বেশি। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

তিনি আরো জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৭২৪ কোটি ২০ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৬২৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ।

জানা যায়, এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।
আগস্টে প্রবাসীরা পাঠান ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ২৯ হাজার ৫৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে, যা ছিল বছরের রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে আসে ১৯১ দশমিক ৩৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২ দশমিক ১৩ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ দশমিক ৪১ কোটি ডলার আসে। পরের মাস অক্টোবরে ২৩৯ দশমিক ৫০ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বর ২৬৪ কোটি ডলার পাঠান প্রবাসীরা। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি, মে মাসে ২৯৭ কোটি এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে দেশে।

ঘুষের দায়ে চীনের সাবেক মন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলেন আদালত

চীনের সাবেক কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রী তাং রেনজিয়ানকে ঘুষ নেওয়ার দায়ে মৃত্যুদণ্ড রায় দিয়েছেন আদালত। দেশটির জিলিন প্রদেশের একটি আদালত রবিবার এ রায় ঘোষণা করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া।

শিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে তাং নগদ অর্থ, সম্পদসহ মোট ২৬ কোটি ৮০ লাখ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা) ঘুষ নিয়েছেন।

যদিও তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন উল্লেখ করে, চাংচুন মধ্যবর্তী গণআদালত তার মৃত্যুদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত করেছে।

তদন্তের ছয় মাস পর এবং পদ থেকে অপসারণের কিছুদিনের মধ্যেই গত নভেম্বরে তাংকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং তা প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শ্যাংফু ও তার পূর্বসূরি ওয়েই ফেংহের বিরুদ্ধে হওয়া অনুরূপ তদন্তের পরপরই এটি পরিচালিত হয়।

২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং চীনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোয় শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের ‘সম্পূর্ণ অনুগত, সম্পূর্ণ নির্মল ও সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য’ করে তোলা।

সরকারি জীবনী অনুযায়ী, তাং ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশের গভর্নর ছিলেন।
পরে তাকে কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রী করা হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, দুর্নীতিই কমিউনিস্ট পার্টির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এবং তা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের ৩ প্যাকেজ ঘোষণা, কমল বিমান ভাড়া

২০২৬ সালে হজযাত্রীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিমান ভাড়া ১২ হাজার ৯৯০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করে তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে হজ প্যাকেজ ঘোষণা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

প্রস্তাবিত তিনটির মধ্যে প্যাকেজের মধ্যে প্যাকেজ ১-এর খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা। প্যাকেজ ২-এর খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা।
আর প্যাকেজ ৩-এর খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ১৮৫ টাকা। এ প্যাকেজ গ্রহণ করে অনুমোদিত এজেন্সিগুলো অতিরিক্ত আরও দুটি প্যাকেজ ঘোষণার সুযোগ পাবে।

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, হজযাত্রীদের সুবিধার্থে এবার বিমান ভাড়া কমানো হয়েছে।
গত বছর বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা, এবার তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা করা হয়েছে।

খালিদ হোসেন আরো বলেন, ৭০ বা ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ হজে যেতে চাইলে ৫০ বছরের নিচে একজনকে সঙ্গে নিতে হবে, সংক্রামক রোগ আক্রান্ত কেউ হজে যেতে পারবেন না।

২০২৫ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণ হজ প্যাকেজ-১ এ খরচ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ খরচ ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ নির্ধারিত ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।

গ্যালারিতে বসে দেখার দিন শেষ, এখন নিজেরাই খেলব: প্রধান উপদেষ্টা

দেশ ও জাতি পুনর্গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় সহযোগিতা ও অবদানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা এগিয়ে নিতে প্রবাসীরা তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘এনআরবি কানেক্ট ডে: এমপাওয়ারিং গ্লোবাল বাংলাদেশি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘দূরে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে খেলা দেখব এমন হবে না। গ্যালারিতে বসে দেখার দিন শেষ। আমরা এখন নিজেরা খেলব।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সফররত বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ সফরে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণের জন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘উনারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে বলে আমাদের আস্থা অনেক বেড়ে গেল।’

আয়োজনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন একটি প্রেজেন্টেশন দেন। এতে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ১৫ মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।

রেমিট্যান্সে ২১ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও, প্রবাসীদের অব্যাহত সহায়তা কামনা করেন এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে ভোটদানের প্রক্রিয়া বর্ণনা করেন।

এ আয়োজনে ‘ব্রিজিং বর্ডারস: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ডায়াস্পোরা এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক একটি ইন্টারেক্টিভ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী পরিচালনা করেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ তিনজন অংশ নেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ‘শেপিং টুমোরো: দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক আরেকটি প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন। এতে প্যানেলিস্ট হিসেবে এনসিপি নেতা তাসনিম জারা, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির ও জামায়াত নেতা নাকিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ‘শুভেচ্ছা’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করেন, যা প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা, নির্দেশনা ও বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিন: তারেক রহমান

সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। আমি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ, প্রতিটি গোষ্ঠী, গোত্র, সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করবে। এটি বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এর ভেতর দিয়েই পরিস্ফুটিত হয়ে উঠে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র, সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভাতৃত্ব।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের রাষ্ট্র এবং সংবিধানে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, সংশয়বাদী প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা বিধানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পবিত্র হাদিসেও এ ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের নিরাপত্তাপ্রাপ্ত অমুসলিমকে নির্যাতন করে, তার অধিকার খর্ব করে, তাকে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেয় বা তাদের অসম্মতিতে ধন-সম্পদ হরণ করে নেয়; এ ধরনের জুলুমের বিরুদ্ধে আমাদের প্রিয় নবী তার উম্মতদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন— কেয়ামতের দিন আমি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়বো।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে, অপর নাগরিকের নিরাপত্তা এবং সম্মান রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখবে এবং নৈতিক দায়িত্ব পালন করবে, এটিই স্বাভাবিক।

তবে শারদীয় উৎসবকে ঘিরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলের মতো কেউ যেন কোনোরকম সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো অপচেষ্টা করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক এবং সজাগ থাকার জন্য আমি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই।

দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা উৎসাহ উদ্দীপনা সহকারে নিশ্চিন্তে নিরাপদে সারাদেশে উৎসব আনন্দ উদযাপন করুন। সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিন। আমি এবং আমার দল বিএনপি বিশ্বাস করে, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। সবশেষে আমি আবারো আমার এবং আমাদের দল অর্থাৎ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মানুষের দল বিএনপির পক্ষ থেকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আবারো শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

রিমান্ডের আদেশ শুনে কাঠগড়ায় ঢলে পড়েন এনায়েত করিম

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর পরিবারের অর্থপাচার মামলায় অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীর চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ তার রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ শুনেই অসুস্থ হয়ে কাঠগড়ায় রাখা বেঞ্চে ঢলে পড়েন এনায়েত করিম চৌধুরী। পরে পুলিশ সদস্যদের কাঁধে ভর দিয়ে হাজতখানায় যান তিনি।

এর আগে আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম। শুনানি শেষে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

জানা যায়, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ পুলিশ সাবেক আইজিপি (মহাপরিদর্শক) বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী মিসেস জীশান মীর্জা, জ্যেষ্ঠ কন্যা ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও মেঝো কন্যা তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ ১১ কোটি ৩৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করার অভিযোগ আনা হয়। মামলার অনুসন্ধান চলাকালে বেনজীরের অর্থপাচারের সঙ্গে আসামি এনায়েত করিম চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা পায় দুদক।

এর আগে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এতে বেনজির, তার স্ত্রী জীশান মির্জা ও দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার অপরাধলব্ধ ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদে উত্তোলনের পর কোথাও বিনিয়োগ করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থ উত্তোলনের পরই বিদেশে চলে যান। ফলে নগদে উত্তোলিত অপরাধ লব্ধ আয়ের প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন বা ছদ্মাবৃত্ত করার লক্ষ্যে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বেনজীর আহমেদ।

বেনজির ও তার স্ত্রী-কন্যারা ২০২৪ সালে বিভিন্ন সময় তাদের নামে দীর্ঘদিনের এফডিআর হিসাব মেয়াদোত্তীর্ণের আগেই একযোগে উত্তোলন করেছেন। এ এফডিআরের অর্থের গ্রহণযোগ্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। যা বেনজীর আহমেদ র‌্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের আইজিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত থেকে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। এ অর্থ উত্তোলনের পর কোথাও বিনিয়োগ করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ডিসেম্বরে ৭৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, আলোচনা হলো যেসব বিষয়ে

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতের শুরুতেই স্পেনের রাষ্ট্রদূত জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।

বৈঠকে তারা বাংলাদেশে বিরাজমান সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও স্পেনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতি স্পেনের দৃঢ় সমর্থন থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে স্পেনের বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনাকালে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিক্যাল থানার আমির ডা. এসএম খালিদুজ্জামান এবং আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

প্রতিবেশী দেশ ও ফ্যাসিস্টের সহযোগীরা গুজব সৃষ্টির চেষ্টা করবেঃ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দুর্গাপূজা ভালোভাবে সম্পন্ন হবে। এ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তবে প্রতিবেশী দেশ ও ফ্যাসিস্টের সহযোগীরা বিভিন্ন গুজব সৃষ্টির চেষ্টা করবে।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে কোর কমিটির বৈঠক শেষে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ও ফ্যাসিস্টের সহযোগিরা মিথ্যা খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধ করে জনগণের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, সারাদেশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া, পুলিশের ৭০ হাজার সদস্য ও ৪৩০ প্লাটুন মাঠে থাকবে। এর সাথে বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীও থাকবে। পাশাপাশি মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় থেকে অনেক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় পূজাকে ঘিরে গুজব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলেছে। ভোট নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রণালয়।

এ সময় খাগড়াছড়ির ঘটনা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সব পক্ষকে নিয়ে বসেছেন বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের প্রতিশোধ অভিযান শুরুঃ ‘আমি আমার প্রতিপক্ষকে ঘৃণা করি’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এফবিআই প্রধান ও সমালোচক জেমস কমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলাকে বলা হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক শত্রুদের প্রতি প্রতিশোধের প্রমাণের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সর্বাধিক নজরকাড়া ঘটনা।

সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি আমার প্রতিপক্ষকে ঘৃণা করি’। আর সেই ঘৃণাকে কাজে লাগিয়ে এখন তিনি তাদের শাস্তি দিচ্ছেন।

কমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ট্রাম্পের রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট উদাহরণ। তবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট এটি শুধু শুরু বলেই জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তিনি আরও অনেক শত্রুর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের আহ্বান জানান, যখন তিনি আমেরিকার রাজনীতির প্রচলিত নর্মস ভেঙে চলেছেন।

ট্রাম্প বহু দিন ধরে কমের উপর রোষ উগরে চলেছেন, কারণ কমের নেতৃত্বে এফবিআই তদন্ত করেছিল যে ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো মিল রেখেছিলেন কি না।

ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ট্রাম্পের প্রতিপক্ষকে টার্গেট করা আচরণটি স্বৈরশাসক রাষ্ট্রগুলোর মতো।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হোয়াইট হাউসের সিনিয়র ডেপুটি প্রেস সচিব এন্ড্রু বেটস বলেন, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ‘ঐতিহাসিকভাবে অজনপ্রিয়’, কারণ তিনি যে ‘ব্যয়, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি’ মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এন্ড্রু বেটস আরও বলেন, ‘এটিকে এমনভাবে অনুসরণ করা যেখানে তিনি জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিকে অবজ্ঞা করছেন, যেন কিম জং উনের মতো হতে পারেন—এতে কোনো জ্ঞান দেখি না,’ বেটস এফপিকে বলেন।

ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, এটি প্রতিশোধ নয়, এটি ন্যায়বিচারের ব্যাপার। ট্রাম্প শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের বলেন, এটি আসলে ন্যায়বিচারের ব্যাপার, প্রতিশোধ নয়। তারা অসুস্থ, উগ্র বামপন্থি এবং তারা এরকম থাকতে পারবে না।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো দেখাচ্ছে, ৭৯ বছর বয়সি প্রেসিডেন্টের জন্য এটি কতটা ব্যক্তিগত।

এখন সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্প নিজেই ‘ডায়ান্ট হান্ট’ চালাচ্ছেন। তিনি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপ্রচলিত ব্যবহার করে আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কর্মচারী ও মিডিয়াকে বাধ্য করেছেন।

তিনি এছাড়াও বিচার ব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায়ে নিজের মিত্রদের নিয়োগ দিয়েছেন, যার মধ্যে বর্তমান এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেলের মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারকারীরাও রয়েছেন।

কিন্তু তার প্রতিশোধ অভিযান নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে তার প্রতিপক্ষরা এখন কারাবাসের ঝুঁকিতে।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বলেছে, কমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের টার্গেট করার এবং ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে সর্বশেষ।

সপ্তাহান্তে ট্রাম্প আইনমন্ত্রী প্যাম বন্ডিকে কটাক্ষ করেছেন, কেন কমে ও অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে কয়েক দিনের মধ্যে তিনি তার ইচ্ছা পূর্ণ করেছেন।

ভবিষ্যতে লক্ষ্য হতে পারেন, নিউইয়র্কের সাবেক স্টেট প্রসিকিউটর লেটিসিয়া জেমস, যিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলাও এনেছেন, অথবা ক্যালিফোর্নিয়ার সেনেটর অ্যাডাম শিফ, যিনি ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম ইমপিচমেন্টের মামলা পরিচালনা করেছিলেন।

জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট সম্ভবত অভিযোগ করতে চাচ্ছে জেমস বোল্টনের বিরুদ্ধে, ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সমালোচক, যাদের বাড়িতে সম্প্রতি এফবিআই হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, এটি কোনো তালিকা নয়, তবে আরও হবেন।

তার প্রতিপক্ষদের প্রতি মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি এই মাসের শুরুতে নিহত ঘনিষ্ঠ চার্লি কার্কের শেষকৃত্যে বলেছিলেন, চার্লি তার প্রতিপক্ষের জন্য ভালো কামনা করলেও আমি তার সঙ্গে একমত নই। আমি আমার প্রতিপক্ষকে ঘৃণা করি এবং তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো চাই না।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানালেন বিশ্বনেতারা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় শুক্রবার বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হোটেল স্যুটে সাক্ষাৎ করেন। তারা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও অভিজ্ঞতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবার্গার নেতৃত্বে এই উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ভিকে-ফ্রেইবার্গা নিজামী গাঞ্জাভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের (এনজিআইসি) সহ-সভাপতিও, যা ১১ শতকের বিখ্যাত পারস্য কবির নামে প্রতিষ্ঠিত।

এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিয়েভ ও পেতার স্তোয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট এমলাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার সাবেক সভাপতি, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ও এনজিআইসির সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, আইএইএ এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা।

বক্তারা অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে তার আজীবন অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেন। তারা বলেন, আমরা এখানে এসেছি আপনাকে ও বাংলাদেশের মানুষকে সমর্থন দিতে। আমরা পুরোপুরি আপনার পাশে আছি।

নেতারা উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি প্রশংসনীয় হলেও ১৬ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি ও শোষণের পর দেশটি এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

অনেক নেতা অন্তর্বর্তী সরকারকে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিশেষজ্ঞ সহায়তার আশ্বাস দেন। উপস্থিত এক নেতা বলেন, আমরা আপনার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। যে কোনো পরামর্শ বা সহায়তা প্রয়োজন হলে আমাদের জানান। অনেক কাজ বাকি রয়েছে।

কেরি কেনেডি, যিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন, দেশের মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার বিষয়ে আপনাদের অগ্রগতি অসাধারণ।

জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেল্যান ভারভির জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান শিগগিরই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করবে। এনজিআইসির সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন বলেন, আপনাদের যখনই প্রয়োজন আমরা আছি।

বিপুল সমর্থন পেয়ে উপস্থিত নেতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। আপনাদের সবাইকে একসঙ্গে আমাদের প্রতি সমর্থন দিতে দেখে আমি মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত।

ড. ইউনূস তার প্রশাসনের মুখোমুখি হওয়া সমস্যাগুলোকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, এ দেশ ১৫ বছরব্যাপী একটা ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে গেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৯।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জনগণ রাতারাতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে, অথচ সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে সহায়তার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আপনার পরামর্শ, সমর্থন ও নৈতিক শক্তি প্রয়োজন।

এ সময় এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।