মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হচ্ছেন আসিফ আকবর

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ভোটের আগেই কয়েকটি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সবচেয়ে বড় চমক হলো সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর, যিনি পরিচালক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। বুধবার ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা ছিল। এ সময় মোট ১৬ জন প্রার্থী, যার মধ্যে আছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও, তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে মীর হেলাল উদ্দিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় সেখান থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে থেকে যান আসিফ আকবর। ফলে তিনি কোনো ভোট ছাড়াই পরিচালক পদে নির্বাচিত হচ্ছেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে আহসান ইকবাল চৌধুরীও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন।

তবে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে তামিম ইকবালের সরে দাঁড়ানো। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তামিমসহ বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার ও বিএনপি ঘরানার ক্রীড়া সংগঠক প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এ তালিকায় আছেন প্রভাবশালী প্রার্থী সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ বরহানুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বাবু।

মায়ানমারের সাহসী পদক্ষেপ ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না : ফিলিপ্পো গ্রান্ডি

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কেবল মায়ানমারের ভেতরেই সম্ভব বলে মন্তব্য করে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন, মায়ানমারের সাহসী পদক্ষেপ ছাড়া রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান হবে না।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, ‘এই সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে, আর সমাধানও সেখানেই।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আট বছর আগে মায়ানমারের সেনাদের নির্মম সহিংসতায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে যায়।
আর অনেকে রাখাইন রাজ্যেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়ে যায়।

গ্রান্ডি বলেন, এখন আরাকান আর্মি রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা দখলে নিলেও রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ‘তাদের জীবনে প্রতিদিনের বাস্তবতা হলো গ্রেপ্তার ও আটক হওয়ার ভয়, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় প্রবেশাধিকার সীমিত, চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা, জোরপূর্বক শ্রম ও নিয়োগ। প্রতিদিনই তারা বর্ণবাদ ও আতঙ্কের শিকার,’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশটি বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং ২০২৪ সালের নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের পর আরো দেড় লাখ রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করেছে।

ইউএনএইচসিআর প্রধান বলেন, ‘অসংখ্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো রোহিঙ্গার আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা দেখিয়েছে, উদাসীনতা ও দায়িত্বহীন মনোভাব যখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে, সে সময়েও সহানুভূতি দেখানো সম্ভব। শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে জীবন রক্ষা করে বাংলাদেশ তা প্রমাণ করেছে।

বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার তিনি প্রশংসা করেন। তবে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা তহবিলের ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে বলেও উদ্বেগ জানান।

সতর্ক করে তিনি বলেন, যথেষ্ট তহবিল ছাড়া জরুরি সহায়তা কাটছাঁট করতে হতে পারে। ফলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা বাড়বে এবং আরো রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন।

ইউএনএইচসিআর প্রধান বলেন, ‘যদি পর্যাপ্ত তহবিল না আসে, তাহলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমাদের কিছু কাটছাঁট করতে হবে।
তবে আমরা শিশুদের অপুষ্টিজনিত মৃত্যু এবং বিপজ্জনক নৌযাত্রায় রোহিঙ্গাদের প্রাণহানির ঘটনা রোধের চেষ্টা করব।’

তিনি বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে তহবিল, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তবে গ্রান্ডি জোর দিয়ে বলেন, শুধু মানবিক সহায়তা এই সংকট সমাধান করতে পারবে না।

‘আমরা উদাসীনতার পথে চলতে পারি না। একটি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস হতে দিয়ে সমাধানের আশা করা যায় না,’ বলেন তিনি।

রাখাইন উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশগুলো আগের মতোই প্রাসঙ্গিক এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে দিকনির্দেশনা হওয়া উচিত উল্লেখ করে গ্রান্ডি বলেন, ‘কিন্তু সাহসী পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।’

তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোকে আহ্বান জানান, মায়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততা বাড়ানোর যাতে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা যায়। সঙ্গে আস্থা পুনঃস্থাপন করে মায়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগণের জন্য ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধান গ্রহণ করা যায়।

অন্যান্য সংঘাত থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও নতুন পন্থার মাধ্যমে জটিল সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব।’

গ্রান্ডি আরো বলেন, ‘মায়ানমারের জনগণের জন্য ন্যায়সঙ্গত, বাস্তব ও ভবিষ্যৎমুখী নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই। রোহিঙ্গাদের দুর্দশার স্থায়ী সমাধানে, আমাদের সামনে এছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।’

জুবিন গার্গ আমাকে ফেমাস করেছেন : অনন্ত জলিল

‘জুবিন গার্গ যখন মারা যান তখন আমি চায়নাতে। তার মৃত্যুর খবর আমাকে বিমর্ষ করে দিল। এত কষ্ট লাগল যে আপনাকে বলে বোঝাতে পারব না। স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে এমন মারা যাওয়ার ঘটনা সত্যি ভয়ানক কষ্টদায়ক।

বুধবার বিকেলে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে এমনই ব্যথিত কণ্ঠে বলছিলেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। অনন্ত জলিল অভিনীত ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ সিনেমার ‘ঢাকার পোলা’ গান গেয়েছিলেন প্রয়াত গায়ক জুবিন গার্গ রয়েছে। গানের সুর করেছিলেন আকাশ।

এই গান অনন্ত জলিলকে নতুনভাবে পরিচিত করে।
কারণে অকারণে মানুষের মুখে মুখে এই গান চলে আসে।

অনন্ত জলিল বলেন, ‘দেশের ভার্সিটিগুলোতে ঢাকার পোলা ভেরি ভেরি স্মার্ট গানটা জনপ্রিয়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গায়, এর সঙ্গে নাচ করে। দেশের সব কলেজের ছেলেমেয়েদের কাছে এই গান মানে এক উন্মাদনার নাম। সবাই জানে অনন্ত জলিলের গান ঢাকার পোলা ভেরি ভেরি স্মার্ট, এই গানের গায়ক জুবিন গার্গ মারা গেছেন, আমি ব্যথিত।
আমি ঠিক ভুল পারছি না।’

অনন্ত জলিল বলেন, ‘দেখেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা বিশ্বে এই গানের সমাদর দেখেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা এই গান গায়, নাচ করে। আমি যেখানেই গিয়েছি, যে দেশেই সেখানের ছেলেমেয়েদের মুখে মুখে আমি ঢাকার পোলা গান শুনেছি। কিংবা তারা এই গান গেয়ে আমাকে নাচ করতে বলছেন।
জুবিন গার্গের গাওয়া এই গান আমাকে ফেমাস করেছে।’

‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রে অনন্ত জলিলের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন তার স্ত্রী খাদিজা বর্ষা। এ ছাড়া ছিলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক।

বাংলাদেশের পুলিশ হবে লন্ডনের পুলিশের মতো : এসএমপি কমিশনার

সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা পুলিশের আচরণগত পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছি। এক সময় সিলেটসহ বাংলাদেশের পুলিশ লন্ডন পুলিশের মতো হবে, আমি সেই স্বপ্ন দেখি।’ বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জিনিয়া অ্যাপস উদ্বোধন উপলক্ষে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন।

এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, ‘এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই পুলিশের সহায়তা পাবে এবং বিভিন্ন জরুরি সেবার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হতে পারবেন।

অপরাধ রোধে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মোবাইল চুরি একটি বড় সমস্যা, তবে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে এবং অপরাধীদের তথ্য জানাতে নাগরিকদের উৎসাহিত করছে।’

সিলেটের নিরাপত্তাব্যবস্থার আধুনিকায়নে নগরের সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘পুরো নগরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং এআইভিত্তিক এনালাইসিসের মাধ্যমে তা মনিটর করা হবে। ফলে নগরের প্রতিটি প্রান্তে পুলিশের নজরদারি থাকবে, বিশেষত স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সিলেটে চলমান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে আগের মতো নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে অভিযান না করলেও, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে সিলেটের মোগলাবাজার থানায় অ্যাপটির কার্যক্রম শুরু হবে এবং এক মাসের মধ্যে পুরো সিলেট নগরের সব থানায় এটি চালু করা হবে। অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের জন্য সহজে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে, বিশেষ করে এসওএস বাটন ব্যবহার করে যেকোনো বিপদে পুলিশের সহায়তা পাওয়া যাবে। একটি ক্লিকেই সংশ্লিষ্ট থানায় নোটিফিকেশন যাবে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে।

তিনি আরো জানান, অ্যাপটি প্লে-স্টোর ও আই-স্টোরে পাওয়া যাবে।
এটি সিলেটের সব নাগরিকের জন্য একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা টুল হয়ে উঠবে। অ্যাপটির মাধ্যমে জিডি, মামলা, তথ্য প্রদান, আইনি পরামর্শসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস এবং যানজট সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করা হবে।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২০০।

এ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ৪৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

বুধবার (১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে এই সময়ে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী (১৩৮ জন) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ১০০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ২২ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২০০ জন মারা গেছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু (৯৫ জন) হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ৩২ জন ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ জন, খুলনা বিভাগে ৫ জন এবং ঢাকা বিভাগে ৩ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে।

‘মোটা জেনারেলদের’ কড়া সমালোচনা করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ‘মোটা জেনারেল’ এবং বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে কয়েক দশক ধরে সামরিক বাহিনীর অধঃপতন হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ভার্জিনিয়ায় কমান্ডারদের এক বিরল সমাবেশে তিনি বলেন, যারা তার কর্মসূচিকে সমর্থন করেন না, তাদের পদত্যাগ করা উচিত। হেগসেথর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনিও ওই সমাবেশে লিখিত ভাষণ দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরকে ‘সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহারের ধারণা উত্থাপন করেন।

ফক্স নিউজের সাবেক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হেগসেথ এবং সাবেক রিয়েলিটি টিভি তারকা ট্রাম্পের এ মন্তব্য একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মতো মনে হয়েছে। কারণ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হঠাৎ করে ওই অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছিল। হেগসেথ অনুষ্ঠানের শুরুতেই বলেন, ‘মূর্খ এবং বেপরোয়া রাজনৈতিক নেতারা ভুল কম্পাস নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আমরা পথ হারিয়েছি।
কিন্তু আর নয়।’

সারা বিশ্ব থেকে আসা শীর্ষ কর্মকর্তায় ভরা মিলনায়তনে ভাষণ দেওয়ার সময় হেগসেথ তার মাধ্যমে ফ্ল্যাগ কর্মকর্তাদের যারা বরখাস্ত হয়েছেন, সেই সেটিকে সমর্থন করেন। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ শীর্ষ মার্কিন জেনারেল এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ অ্যাডমিরাল, যিনি একজন নারী। তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তাকে তিনি অব্যাহতি দিয়েছেন, তারা একটি ভেঙে পড়া সংস্কৃতির অংশ ছিলেন।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পেন্টাগন কিভাবে বৈষম্য অভিযোগ মোকাবেলা এবং ভুল আচরণের তদন্ত করে তা ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান ব্যবস্থায় শীর্ষ কর্মকর্তারা ডিমের খোসার ওপর হাঁটছে।’ হেগসেথ বলেন, ‘যদি আজ আমি যে কথা বলছি, তাতে যদি আপনারা কষ্ট পান, তবে আপনার উচিত সম্মানজনক পদক্ষেপ নিয়ে পদত্যাগ করা। আমি জানি, আপনাদের বেশির ভাগই এর বিপরীত অনুভব করছেন। এ কথা আপনাদের হৃদয়কে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

তিনি বলেন, পেন্টাগনের হলগুলোতে মোটা জেনারেল ও অ্যাডমিরাল দেখা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি সমস্ত ফিটনেস টেস্ট পুরুষদের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারণ করার কথা বলেন এবং ব্যক্তিগত সাজসজ্জার গুরুত্বে প্রতি জোর দেন। হেগসেট বলেন, ‘ অপেশাদার চেহারার যুগ শেষ।’ প্রশ্নোত্তর সেশনে উপস্থিত দর্শকরা নীরব ছিলেন।

ডেমোক্র্যাটরা এই অনুষ্ঠানের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, এটি সামরিক বাহিনীতে পক্ষপাতমূলক রাজনৈতিক প্রভাব প্রবেশ করানোর প্রচেষ্টা। সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সেনেটর জ্যাক রিড বলেন, ‘এমন সমাবেশ ইঙ্গিত দেয় যে যোগ্যতা, বিচারবুদ্ধি বা সংবিধানের প্রতি সেবার চেয়ে দলীয় আনুগত্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড একটি পেশাদার, নির্দলীয় সামরিক বাহিনীর নীতিকে ক্ষুণ্ণ করে।’

‘আমি আপনার সঙ্গে আছি’

হোয়াইট হাউস থেকে অনুষ্ঠানের জন্য রওনা হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যদি তিনি কোনো সামরিক নেতাকে পছন্দ না করেন, তাহলে তিনি তাদের বরখাস্ত করতে পারেন। ট্রাম্প মঞ্চে উঠে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বক্তব্য দেন। ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, ‘যদি আমার কথাগুলো আপনাদের ভালো না লাগে, তবে বের হয়ে যেতে পারেন। অবশ্যই, তাতে আপনার পদ চলে যাবে সঙ্গে আপনার ভবিষ্যৎও যাবে।’

তিনি সামরিক বাহিনীকে উদারভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। কখনো কখনো বক্তব্যের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সাবমেরিনের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন, আবার কঠোর সমালোচনা করেছেন মিডিয়ার, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভেনিজুয়েলার।

হেগসেথের মতো বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগের বিরোধিতা করে ট্রাম্প বলেন, ‘যোগ্যতা। সবকিছুই যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে হবে… রাজনৈতিক কারণে কেউ আপনার জায়গা নেবে না।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে আছি। আমি আপনাদের সমর্থন করি এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে, আমি শতভাগ আপনাদের সাথে আছে।’

অডিটোরিয়ামটি ইউনিফর্ম পরা কর্মকর্তাদের দিয়ে পূর্ন ছিল। মঞ্চের সামনে বড় একটি আমেরিকান পতাকা, একটি লেক্টার্ন এবং বোর্ডে লেখা ছিল, ‘শক্তি। সেবা। আমেরিকা।’ ট্রাম্প যখন বক্তৃতা করছিলেন, তখন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অভিব্যক্তিহীন মুখে বসেছিলেন। ট্রাম্পের সাধারণ সমাবেশের ভিড়ের চেয়ে হলরুম অনেক বেশি শান্ত ছিল। একজন নৌ কর্মকর্তা নোট নিচ্ছিলেন। বক্তৃতার পর ট্রাম্প চলে যান এবং উপস্থিত সামরিক নেতাদের সঙ্গে কোনো একান্ত বৈঠকের চিহ্ন দেখা যায়নি।

এই অনুষ্ঠানের খরচ কত হয়েছে তা অজানা। গত সপ্তাহে হেগসেট সামরিক নেতাদের বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিমানযোগে আনার নির্দেশ দেন, ঠিক সরকারের সম্ভাব্য শাটডাউন শুরুর আগে।

ট্রাম্পের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে পেন্টাগনে আট মাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে কর্মী বরখাস্ত, একাডেমি লাইব্রেরি থেকে বই বাতিল এবং ভেনিজুয়েলার সন্দেহভাজন ড্রাগ জাহাজে মারাত্মক হামলার আদেশ। এই মাসে, ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের নাম পরিবর্তন করে ‘ওয়ার ডিপার্টমেন্ট’ রাখার প্রস্তাব দেন। তবে এটি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর হবে না।

ট্রাম্প ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। বছরের শুরুতে তিনি গার্ড এবং সক্রিয় মেরিনস লস অ্যাঞ্জেলেসে পাঠিয়েছিলেন স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও। তিনি শিকাগোতেও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তিনি হেগসেটকে বলেছেন, ‘আমরা কিছু বিপজ্জনক শহরকে আমাদের সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।’

ট্রাম্প স্বীকার করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের কারণে তিনি সমালোচিত হয়েছেন। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশের অভ্যন্তরেই যুদ্ধের শিকার। তিনি এ জন্য অবৈধ অভিবাসীদের দায়ী করেন, যাদের তার প্রশাসন দেশ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কারণ, তাদের কোনো ইউনিফর্ম নেই।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জেবি প্রিৎজকার। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার সহকর্মী মার্কিনদের শত্রু ভাবে, তাদের ‘নির্মূল করার’ কথা বলে, তিনি দেশ শাসনের যোগ্য নয়।’

সূত্র : রয়টার্স

অ্যাতলেতিকোর ‘সেরা খেলোয়াড়ের’ দিকে পাখির চোখ বার্সা-লিভারপুলের

অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন হুলিয়ান আলভারেজ। মাঠের ফর্ম দেখে যতই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো আগ্রহ দেখাক না কেন, আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জানালেন, তার মনোযোগ কেবল অ্যাতলেতিকোর জার্সিতেই।

২৫ বছর বয়সী আলভারেজ ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে অ্যাতলেতিকোয় যোগ দেন। তার পর থেকে ৬৫ ম্যাচে করেছেন ৩৬ গোল, করিয়েছেন ১১টি।
চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত শুরু করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে ১১ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। শেষ তিন ম্যাচেই ছয় গোল ও দুই অ্যাসিস্ট এসেছে তার বুট থেকে।

লা লিগার সাম্প্রতিক দুই ম্যাচে রায়ো ভায়োকানো ও রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে করেছেন পাঁচ গোল।
আর চ্যাম্পিয়নস লিগে আইনট্রাখট ফ্রাংকফুর্টের বিপক্ষে ৫-১ জয়ের ম্যাচে করেন এক গোল, করান আরো দুটি।

এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো থেকেই তার সঙ্গে লিভারপুল ও বার্সেলোনার নাম জড়িয়েছে। লিভারপুল যদিও অ্যালেক্সান্দার ইসাক ও হুগো একিটিকিকে দলে টেনেছে, তারপরও আলভারেজের প্রতি তাদের আগ্রহের খবর ভেসে আসছে। অন্যদিকে বার্সেলোনা তাকিয়ে আছে রবার্ট লেভানদোস্কির দীর্ঘমেয়াদি উত্তরসূরি খুঁজে পাওয়ার দিকে, আর সেই জায়গায় আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে মানানসই ভাবছে তারা।

তবে এসব গুঞ্জন পাত্তা দিচ্ছেন না আলভারেজ। ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনকে তিনি বলেছেন, ‘আমি খুব শান্ত। সবসময়ই নানান কথা হয়, কিন্তু মৌসুম তো মাত্র শুরু হলো। আমার একমাত্র লক্ষ্য প্রতিদিন আরও ভালো করা, অ্যাতলেতিকোর জন্য জেতা। বাকিটা আমার ভাবনার বাইরে… সোশ্যাল মিডিয়ার গল্প আমাকে ছুঁতে পারে না।

ম্যান সিটির হয়ে ১০৩ ম্যাচে ৩৬ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করেছিলেন আলভারেজ। তবে আর্লিং হালান্ডের উপস্থিতিতে নিয়মিত সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলার সুযোগ মেলেনি। তাই ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে সিটি তাকে ছেড়ে দেয়, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল।

তবে আগামী গ্রীষ্মে আলভারেজ আতলেতিকো ছাড়লেও লা লিগা জায়ান্ট বার্সেলোনা খুব সহজে দলে টানতে পারবে না তাকে। এর জন্য নিজেদের তারকা খেলোয়ারদের বিক্রি করতে হবে বার্সার। আর চলতি মৌসুমেই নতুন দুই ফরোয়ার্ড নেওয়ায় ইংলিশ দল লিভারপুলের গুঞ্জনও কতটা সত্য তা সময়ই বলে দেবে।

আমি নোবেল পুরস্কার না পেলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপমান’ হবে : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি যদি নোবেল শান্তি পুরস্কার না পান তবে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অপমান’ হবে। তিনি দাবি করেছেন, একাধিক যুদ্ধ সমাধানে তার ভূমিকার কারণে এ পুরস্কার পাওয়া উচিত।

দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প পুরস্কারটির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। এ বছর ১০ অক্টোবর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
গাজা যুদ্ধের অবসানে সোমবার একটি শান্তি পরিকল্পনা উন্মোচনের পরদিনই তিনি আবারও নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি নোবেল পুরস্কার পাব? অবশ্যই না। তারা সেটা দিয়ে দেবে এমন একজনকে, যে আসলে কিছুই করেনি। এটা আমাদের দেশের জন্য বড় অপমান হবে, আমি আপনাদের বলছি।
আমি সেটা নিজের জন্য চাই না, আমি চাই দেশ সেটা পাক। এটাই পাওয়া উচিত, কারণ এমন কিছু আগে কখনো ঘটেনি।’

ডেমোক্র্যাট বারাক ওবামা ২০০৯ সালে পুরস্কারটি পেয়েছিলেন, এ কারণে রিপাবলিকান ট্রাম্প সব সময় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প মঙ্গলবারের বক্তৃতায় পুনরায় দাবি করেন, জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি সাতটি যুদ্ধ সমাধান করেছেন।
তিনি বলেন, যদি সোমবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে উন্মোচিত গাজা পরিকল্পনাটি কার্যকর হয়, তবে ‘আমাদের হবে আটটি যুদ্ধ, আট মাসে আটটি। খারাপ নয়।’

হামাস এখনো এই প্রস্তাবের কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে ট্রাম্প এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য বলেই মনে করছেন অসলোভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা। ‘এটি সম্পূর্ণ অকল্পনীয়,’ বলেন ইতিহাসবিদ ওইভিন্ড স্টেনারসেন, যিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে গবেষণা ও বই লিখেছেন।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিও জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রচারণা তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না। কমিটির সচিব ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন এএফপিকে বলেন, ‘অবশ্যই আমরা লক্ষ করি যে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর দিকে গণমাধ্যমের অনেক মনোযোগ থাকে। কিন্তু সেটির কোনো প্রভাব কমিটির ভেতরের আলোচনায় পড়ে না।’

ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি যে সাতটি যুদ্ধ তিনি সমাপ্ত করেছেন বলে দাবি করেছে, সেগুলো হলো— কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, কসোভো-সার্বিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র-রুয়ান্ডা, পাকিস্তান-ভারত, ইসরায়েল-ইরান, মিসর-ইথিওপিয়া এবং আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে।

তবে এসব দাবির অনেকগুলোই আংশিক বা অসঠিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যেমন, পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মে মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কৃতিত্ব ট্রাম্প দ্রুত নিজের নামে নিয়েছিলেন।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তারেক রহমানের শুভেচ্ছা

শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি তাদের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বলেছেন, ‘আবহমানকাল ধরে দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী-গোত্র-সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করে আসছে। এটি বাংলাদেশে ঐতিহ্যগত ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য।’

বুধবার (১ অক্টোবর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘শরতে বাংলাদেশের চারিদিকে কাশফুল ও শীতের আভাস জানান দেয় উৎসবের বার্তা। আর উৎসব হচ্ছে অন্ধকারের গহন থেকে আলোকের উদ্ভাসন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি মনে করি, উৎসবের ভেতর দিয়েই পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব। আমাদের রাষ্ট্র এবং সংবিধানে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সংশয়বাদী প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা বিধানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পবিত্র হাদিসেও নির্দেশনা রয়েছে, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের নিরাপত্তাপ্রাপ্ত অমুসলিমকে নির্যাতন করে, তার অধিকার খর্ব করে, তাকে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেয় বা তাদের অসম্মতিতে ধন-সম্পদ হরণ করে নেয় এ ধরনের জুলুমের বিরুদ্ধে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) তাঁর উম্মতদের সতর্ক করে বলছেন, ‘কেয়ামতের দিন আমিই সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়ব।’

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে অন্য নাগরিকের নিরাপত্তা এবং সম্মান রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখবে এবং নৈতিক দায়িত্ব পালন করবে এটিই স্বাভাবিক রীতি। উৎপীড়ন ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মধ্য দিয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কুশাসন—তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ন্যায়সংগত।

তিনি বলেন, ‘শারদীয় উৎসব ঘিরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলের মতো কেউ যাতে কোনো রকম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো পরিস্থিতি কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো অপচেষ্টা করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক এবং সজাগ থাকার জন্য আমি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই।’

দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব আনন্দ উদযাপন করুন। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিন। আমি এবং আমার দল বিএনপি বিশ্বাস করে, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।

তিনি বলেন, ‘আমি এই আনন্দময় দুর্গাপূজার উৎসবে হিন্দু সম্প্রদায় এবং ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আবারও আমার এবং আমাদের দল অর্থাৎ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের দল-বিএনপির পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাই। আমি এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।’

‘বড় অপরাধীরা কিভাবে জামিন পায়, তা বোধগম্য নয়’ বক্তব্য আইজিপির নয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নামে ফটো কার্ড বানিয়ে প্রচার করা জামিনসংক্রান্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বিকৃত বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

বুধবার (১ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইজিপির নামে একটি ফটো কার্ড প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘গ্রেপ্তারকৃত বড় বড় অপরাধী দু-তিন দিনের মধ্যে জামিনে বের হয়ে যায় কিভাবে, তা বোধগম্য নয়।’ অথচ আইজিপি এমন কোনো বক্তব্য দেননি।

গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে আইজিপির বক্তব্য বিকৃত করে ওই ফটো কার্ড তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় মিডিয়া উইং।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পিআর উইংয়ের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অসত্য তথ্যপ্রচার করা হয়েছে।’

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।