বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পদত্যাগ সায়মা ওয়াজেদের

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও/WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জালিয়াতি মামলার মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সায়মা ওয়াজেদের পাঠানো পদত্যাগপত্র দেখে নিশ্চিত করেছে। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) তিনি ডাব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে এই পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। মহাপরিচালককে লেখা চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেছেন, তিনি নিজ অঞ্চলের সেবা করার উদ্দেশ্যেই এই পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে মহাপরিচালক কর্তৃক তাঁর দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিক বাধা সৃষ্টির কারণে নেতৃত্বের ওপর থেকে তিনি সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছেন। পাশাপাশি গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনা বেতনে ছুটিতে থাকার ফলে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছানোয় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডাব্লিউএইচও-এর দায়িত্ব গ্রহণ করলেও একই বছরের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁকে প্রথম ছুটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ডাব্লিউএইচও-এর তদন্তে চীনে ভ্রমণ ভাতা গ্রহণ সংক্রান্ত ৯০১ ডলারের আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক তথ্য না দেওয়া এবং বাংলাদেশে বেআইনিভাবে সরকারি প্লট নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। তবে আইনজীবীদের মাধ্যমে সব অভিযোগ অস্বীকার করে পুতুল জানান, ভ্রমণ ভাতার বিষয়টি সহকারী পর্যায়ের প্রশাসনিক ভুল ছিল এবং অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পাওয়া তাঁর ‘অনারারি ডক্টরেট’ ডিগ্রির বিষয়টি তিনি আগেই মহাপরিচালককে অবহিত করেছিলেন। এছাড়া ডাব্লিউএইচও-তে যোগ দেওয়ার পূর্বেই বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি জমি পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন। সংস্থাটি ইতিমধ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের লক্ষ্যে ডাব্লিউএইচও আগামী ১২ অক্টোবর নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন আহ্বান করতে পারে এবং ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হবে চসিক এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথাও বললেন

| বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম–১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চান সরওয়ার জামাল। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বাড়ইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলনসহ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার, ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এছাড়াও নগরীর ৩২টি খাল হতে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলন এবং অপসারণের কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পের বাইরে আরও ২১টি খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলছে।

তারেক রহমান জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কসমূহ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা, ২টি কালভার্ট ও ৬টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ২টি খেলার মাঠ উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আরও ৬টি খেলার মাঠ উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রধানমন্ত্রীর জন্য গতকাল আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিলো। এরমধ্যে তিনটি প্রশ্ন এবং সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। গত জুলাই মাসের পর এই প্রথম অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল। এরফলে আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থায় মূল্যবৃদ্ধি এবং সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি শেয়ার বাজারে দরপতন ঘটিয়েছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তিন শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি সর্বোচ্চ ১০১.৫৫ ডলারে পৌঁছায়। এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন যে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো হয়তো সুদের হার বাড়িয়ে দেবে।

ওয়াল স্ট্রিটে বুধবার লেনদেনের শেষভাগে ডাও জোন্স ০.৮ শতাংশ পড়ে যায়। পাশাপাশি আটলান্টিকের ওপারে ইউরোপের শেয়ারবাজারগুলোতে ধস নামে; প্যারিসে দিনের লেনদেন শেষ হয় প্রায় দুই শতাংশ পতন দিয়ে। শীতের আগে মজুত পূর্ণ করার জন্য দেশগুলোর লড়াইয়ের মধ্যে ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেশ বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘন্টায় ৮০ ইউরো ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২৩ সালের শুরুর পর সর্বোচ্চ।

এ প্রসঙ্গে এক্সটিবি ট্রেডিং গ্রুপের গবেষণা পরিচালক ক্যাথলিন ব্রুকস যুক্তি দিয়ে বলেন, অপরিশোধিত তেলের জন্য ১০০ ডলারের কোঠাটি বাজারের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক স্তর যা ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের জন্য খরচ বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল চুক্তি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারেরও ওপরে উঠে গেছে। ব্রিফিং ডট কমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক প্যাট্রিক ও'হেয়ার এর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত প্রতিশোধমূলক হামলাকে দায়ী করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় মূল্য প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৫.৯৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়াচ্ছে।

সবার নজর এখন শুক্রবার প্রকাশিতব্য মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে, যা আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ ঋণের সুদের হার বাড়াবে কি না—সেই সংক্রান্ত পূর্বাভাস নিশ্চিত করতে পারে।

ফরেক্স ডট কমের বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, মূল্যস্ফীতির তথ্য যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী বা তার চেয়ে বেশি খারাপ (বেশি) হয়, তবে তা ঝঁকিপূর্ণ সম্পদগুলোর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এটি এফওএমসি-র ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করবে।

অবশ্য তার আগেই, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউরোজোনের সুদের হার বাড়াবে বলে ব্যাপকভাবে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

প্যাট্রিক ও'হেয়ার বলেন, তেলের দামের এই ধাক্কা স্বাভাবিকভাবেই মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এবং আগামী সপ্তাহে ফেডের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিনিয়োগকারীরা বাড়তি রিটার্নের দাবি জানানোয় এসব মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত উদ্বেগ সরকারি বন্ডের লভ্যাংশকে ওপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ১০ বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের লভ্যাংশ বুধবার বেড়ে ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যুদ্ধের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে বাড়তে থাকা ‘শুল্ক লড়াই’ নিয়েও চিন্তিত। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তরের প্রতিবেশী দেশটি থেকে অ্যালকোহল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

ইরানি তেল ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে বুধবার নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান, যা দুই শত্রুকে যুদ্ধের আরও গভীরে টেনে নিচ্ছে।

ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূলত তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকারী ২০টি মার্কিন জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে।

ইরান আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, হরমুজের বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ এই মূল জলপথের বাইরে অনেক মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং আরব সাগরের মতো দূরবর্তী অঞ্চলের জাহাজের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে।

যুদ্ধের খবর ছাড়া অন্য বিষয়ের মধ্যে পরে সবার মনোযোগ থাকবে অ্যাপলের ওপর, যা স্যামসংয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করতে জনপ্রিয় ফোল্ডেবল আইফোনসহ একগুচ্ছ নতুন ও হালনাগাদ ডিভাইস উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া অ্যাপলের বর্ষীয়ান কর্মকর্তা ও নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের অধীনে এটিই হতে যাচ্ছে কোম্পানির প্রথম বড় কোনো ইভেন্ট। তবে বুধবার নিউইয়র্কে অ্যাপলের শেয়ারের দর ১.২ শতাংশ কমে গেছে।

দুর্নীতির অভিযোগ / বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন পুতুল

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ডব্লিউএইচও ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তদন্তের মধ্যে তিনি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

পরিচালক হিসেবে ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নেন পুতুল। তবে তাকে ডব্লিউএইচও গত বছরের শেষ দিকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করলে জুলাইয়ে প্রথম তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়।

গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচওকে দেওয়া পুতুলের আইনজীবীদের পৃথক এক চিঠি অনুযায়ী, সংস্থাটি পুতুলকে চীন সফরকালে আর্থিক জালিয়াতি এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে। তবে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসকে দেওয়া পুতুলের পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, সংস্থাটি আরও অভিযোগ করেছে যে তিনি বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে নিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি জানিয়েছেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি জমিটি পান এবং তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় পেয়েছেন।

মহাপরিচালক টেড্রোসকে উদ্দেশ করে পুতুল তার পদত্যাগপত্রে বলেন, ‘আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্যই আমাকে আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং আমি আন্তরিকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছি। আপনি যেহেতু আমাকে কার্যকরভাবে আমার দায়িত্ব পালন করতে বাধা দিয়ে চলেছেন, তাই ডব্লিউএইচওতে আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। তাছাড়া, আমাকে বেতনবিহীন ছুটিতে রাখার আপনার সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ বিষয়ে পুতুল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অভিষেকেই ১৫০ রানের ইনিংসে হারমানের বিশ্ব রেকর্ড

ওয়ানডে অভিষেকেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন দক্ষিণ আফ্রিকার জর্ডান হারমান। নামিবিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১২৬ বলে ১৫০ রানের ইনিংস খেলে ওয়ানডে অভিষেকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্ব রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরু থেকেই স্বাগতিক বোলারদের ওপর চড়াও হন হারমান। ১২৬ বলের ইনিংসে ১৭ চার ও তিন ছক্কা হাঁকান এই বাঁহাতি ওপেনার।

এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে অভিষেকের প্রথম ইনিংসেই ১৫০ রান করা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার বনে গেলেন হারমান। এর আগে এই কীর্তি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার আরও এক ব্যাটার ম্যাথু ব্রিজকের। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি লাহোরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ১৪৮ বলে ১৫০ রান করেছিলেন তিনি। এবার একই রান করে তাঁর রেকর্ডে ভাগ বসালেন হারমান।

অল্পের জন্য এককভাবে রেকর্ডটি নিজের করে নিতে পারেননি হারমান। ৪২তম ওভারের পঞ্চম বলে তাঁকে থামান রুবেন ট্রাম্পেলম্যান। সাজঘরে ফেরার আগে আর মাত্র এক রান করতে পারলেই ওয়ানডে অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়তেন তিনি।

হারমানের ১৫০ রানে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৪৮ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

এই ইনিংস খেলার পথে দুটি জুটি গড়েন হারমান। দ্বিতীয় উইকেটে টনি ডি জর্জির সঙ্গে ১৬৬ বলে ১৯০ রান যোগ করেন। ডি জর্জি ৮৪ বলে ৭২ রান করে আউট হন। এরপর ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪৫ বলে আরও ৫৯ রান এনে দেন হারমান। ব্রেভিস ৩৩ রান করে ফিরলে এই জুটি ভাঙে।

ওয়ানডে অভিষেকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের তালিকার তিনে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ডেসমন্ড হেইন্স। ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ১৩৬ বলে ১৪৮ রান করেছিলেন তিনি।

মেট্রোরেলে ২৭টি বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল: সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

মেট্রোরেল রুটের ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেট্রোরেল রুটের ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাডের সবগুলোই ক্রিটিক্যাল নয়। বিয়ারিং প্যাডের ১৪৭টির ত্রুটি মাইনর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৯৭টি প্যাডের ক্ষেত্রে ত্রুটি মূলত স্থাপন ওয়ার্কম্যানশিপ সংক্রান্ত। ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অডিট কমিটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সেফটি অডিট কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বিয়ারিং প্যাডের স্থানচ্যুতির মতো সমস্যা হতে পারে এমন ১০টি ক্ষেত্রে স্টিল ব্র্যাকেট স্থাপন করা হয়েছে। ২৭টি বিয়ারিং প্যাডের ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট মার্কার বসানো হয়েছে। ২৭টি বিয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিস্থাপন করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটলের ঝুঁকি নিরূপণ ও মেরামত কৌশল নির্ধারণে বুয়েটকে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। স্থাপনার স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে যেসব বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছিল, নানা কারণে তা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই টানেলকে শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা না করে—দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, পর্যটন বিকাশ এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ হাজার ২৫৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণ ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংরক্ষিত আসনের সানজিদা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিআরটিসির বাস সংখ্যা ১ হাজার ২৯৮টি ও ট্রাকের সংখ্যা ৫২৫টি। এর মধ্যে সচল বাস ১ হাজার ১৭২টি ও অচল বাস ১২৬টি। সচল ট্রাক ৪৯৪টি ও অচল ট্রাক ৩১টি।

সংরক্ষিত আসনের শওকত আরা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রাম শহরে ১৩টি রুটে ১৪টি মহিলা বাস (পিংক বাস) সার্ভিস পরিচালনা করা হচ্ছে। সারা দেশে মহিলা বাস সার্ভিস সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও ১০০টি ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের নিলুফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২৭ হাজার ১৮২টি।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের বস্ত্র চাহিদা প্রায় ৮০০ কোটি মিটার। এর মধ্যে নীট কাপড় ৪০০ কোটি মিটার ও ওভেন কাপড় ৪০০ কোটি মিটার। দেশে নীট কাপড়ের ঘাটতি প্রায় ১০ শতাংশ এবং ওভেন কাপড়ের ঘাটতি ৬০ শতাংশ।

বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি পাটকলের সংখ্যা ২৬৬টি। এর মধ্যে চালু পাটকল ১৯৩টি।

উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও টেকসই অংশীদারত্ব বাড়াতে হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ চেইনের সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ এবং টেকসই অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলনের পলিসি ডায়ালগে প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিল্ডিং রেজিলিয়েন্ট ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কস ইন আ ডাইভার্স গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা শুধু সংকট মোকাবিলার বিষয় নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সবুজ অর্থনৈতিক রূপান্তর।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যান-মেইড ফাইবার খাতকে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্থানীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। বিআরআই কাঠামোর আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, লজিস্টিকস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অংশীদারত্বের সুযোগ রয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নারী উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় ব্যবসাকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ডিজিটাল বাণিজ্য, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভবিষ্যতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামোকে পরিবেশবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিম্ন-কার্বন উৎপাদন, টেকসই লজিস্টিকস ও সবুজ অবকাঠামোই হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ এ দেশে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ কার্যালয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

হংকংকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চীনের মূল ভূখণ্ড ও বৈশ্বিক বাজারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে হংকংয়ের ভূমিকা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন ও উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী করা সম্ভব।

অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতির ওপরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান সরকার।’

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এসব কথা জানান। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি কমিটি গঠন করেছিল এবং সেই কমিটি সমগ্র দেশের মানুষের সামনে একটি শ্বেতপত্র বা এই ধরনের একটি রিপোর্ট—হোয়াইট পেপার প্রকাশ করেছিল। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অর্থনীতির বিষয়টি। ওই পেপারটা যদি বের করে দেখেন, তাহলে মোটামুটিভাবে পরিষ্কার একটি চিত্র পাবেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার সেই পেপারটিকে সামনে রেখে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, পর্যায়ক্রমে চেষ্টা করা হচ্ছে সেই সকল পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।’

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি কারণে হয় না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রথমত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো: দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন যথাযথ না হওয়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহিতা, অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাজেট সামঞ্জস্যের ঘাটতি এবং আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি।’

এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে, নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রণয়ন নিশ্চিত করা, প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে নির্দেশিকার সংশোধন, চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়নি, সেসব প্রকল্পের বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ নিরূপণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কর্তৃক পর্যালোচনাপূর্বক বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম সেসব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণ, পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান এবং সরকারি ক্রয় অধিকতর প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহিমূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সাময়িক সংকটের সময়ে শিল্পখাতে গ্যাস-সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে: ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন, দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক (দ্বি-মাত্রিক) সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক (ত্রি-মাত্রিক) সার্ভে পরিচালনা, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত বিড দাখিলে সময়সীমা নির্ধারণ আছে। স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস-সংকটে শিল্প খাত যেন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিতের জন্য মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরে নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা হবে আশা করা যায়।’

পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে কোনো সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী গ্রাহক শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাসপ্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

ভোলার গ্যাস ব্যবহার প্রসঙ্গে সুলতানা আহমেদের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলায় যে গ্যাস রয়েছে, সেই গ্যাসকে যদি পাইপলাইনের মাধ্যমে মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসতে চাই, তাহলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মতো সময় লাগবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যেটি করতে চাচ্ছি তা হলো—সেখানে শিল্প কারখানা স্থাপন করা যায় কি না। এরই মধ্যে কিছু শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে তাদের কারখানা স্থাপনের চেষ্টা করছেন। যেগুলো গ্যাস দ্বারা পরিচালিত হবে। এর ফলে একদিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, অন্যদিকে অর্থনীতির পরিধিও বৃদ্ধি পাবে ভোলা অঞ্চলে। এর বাইরেও সেখানকার গ্যাসকে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ৫০০ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আলোচনা চলছে।’

বাংলাদেশি ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান : শামা ওবায়েদ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান বাংলাদেশ থেকে কৃষি ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, এ বিষয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওমান বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার কৃষিকর্মী এবং পাঁচ হাজার মৎস্যকর্মীসহ মোট ১০ হাজার কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, নিয়োগের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে আগামী মাসে ওমান সরকারের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সফরকালে তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত বিষয় চূড়ান্ত করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যিদ মোহাম্মদ সালিম আলী আল সাইদের সঙ্গে বৈঠকের পর এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের মেয়াদে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এখনও ওমানের ভিসা সীমিত রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজারে নিয়মিত প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধারে সরকার মাসকাটের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে নিয়মিতভাবে ওমান যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ হিসেবে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ অভিবাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওমানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে অবদান রাখতে সক্ষম আরও দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ঢাকা দেশটির সরকারের কাছে বিষয়টির অগ্রাধিকার তুলে ধরেছে।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ওমান এ উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে এবং দুই দেশ এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) আরও কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভ করার কারণে ইউএইতে ২০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছিল। কারণ, দেশটির আইনে এ ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ।

শামা ওবায়েদ বলেন, পরবর্তীতে বাংলাদেশ নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করে। নথিপত্র, ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়া এবং এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশও একই ধরনের ভিসা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশটি সফরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ পুনরায় উন্মুক্ত হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার পর সঠিক সময় চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, তা হতে পারে না

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না—সেইটাও হওয়া সম্ভব না।

সংসদ সদস্য বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মত ঋণ খেলাফিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না—সেইটাও হইতে পারে না।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া।’

এ সময় সংসদের সরকার দলীয় অংশ থেকে হইচই শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সবাইকে শান্ত থাকতে বলেন।

এসময় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন একবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপির একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’

‘এই সংসদের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণ খেলাপি হিসেবে পরিচিত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে যাওয়া আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহু দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি ঋণ খেলাপির নাম থেকে বাদ দেয়।