সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই। প্রশাসনে নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা না থাকলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা, লুটপাট এবং অস্থিরতা তৈরি হয়, যা বিদেশি বা আধিপত্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখতে পারলে কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে গ্রাস করতে পারবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। ১৭৫৭ সাল থেকে শুরু করে এ অঞ্চলের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষাকে বারবার দমনের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই মানুষ সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে দীর্ঘ বঞ্চনা, প্রতিরোধ এবং রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এ প্রসঙ্গে ভিয়েতনামের ইতিহাসের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি জাতি কীভাবে দীর্ঘ বিদেশি শাসন ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে, ভিয়েতনাম তার অনন্য দৃষ্টান্ত।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নানা সময়ে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা হয়েছে। কখনো এটিকে শুধু ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়, অথচ প্রকৃত সত্য হলো—এটি ছিল বাংলাদেশের মানুষের যুদ্ধ।

তিনি বলেন, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইপিআরসহ সর্বস্তরের মানুষ এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁদের ভেতর থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা উঠে এসেছিলেন।

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সব অবদান একটি পরিবার বা একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে উপস্থাপন করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা জাতির আত্মাকে কলুষিত করেছে।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তাঁদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তবে তরুণেরা এখন সত্য বুঝতে পারছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, তারুণ্যের ধর্মই হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা।

স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতা পেলেই একটি জাতি পূর্ণ স্বাধীন হয় না। নাগরিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, ভোটাধিকার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় না।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল চেতনা হচ্ছে মানুষের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। যদি একটি দল বা একজন নেতার কণ্ঠস্বরই একমাত্র সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেটি গণতন্ত্র নয়।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ডিসি আমাদের লোক কি না, ওই বিভাগীয় কমিশনার কোন রাজনৈতিক দলের—এভাবে বিচার করতে গেলে বিভাজন চরমে পৌঁছাবে, আর শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র—দুটোরই অধঃপতন হবে।’

লিফটের লাইনে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রবেশের সময় তিনি অন্যদের মতোই লিফটে ওঠার জন্য নিয়ম মেনে সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন, যা উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

মন্ত্রণালয়ে প্রবেশের পূর্বে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি ছোট ছোট বিষয়েও আইন মেনে চলি, তাহলে দেশে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। শৃঙ্খলা ও নিয়ম মানার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলেই পরিবর্তন হবে দেশ। আর এর মাধ্যমে একটি উন্নত ও দায়িত্বশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, সরকারি দপ্তরে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এতে কর্মপরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং জনসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মন্ত্রীর এমন আচরণ সরকারি দপ্তরে প্রচলিত ভিন্নধর্মী চর্চার বিপরীতে একটি নতুন বার্তা বহন করে। অনেকেই এটিকে সাধারণ হলেও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, যা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও সমতার সংস্কৃতি জোরদারে সহায়ক হতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে এ ধরনের আচরণিক পরিবর্তন শুরু হলে তা দ্রুতই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে কর্মক্ষেত্রে সমতা, দায়বদ্ধতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ আরও সুদৃঢ় হবে। মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে সরকারি দপ্তরে নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‘ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড আইন’ পাশ ইসরাইলের, বিশ্বজুড়ে নিন্দা

সৌদি আরবসহ একাধিক দেশ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ রেখে ইসরাইলের নতুন আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, দখলদার ইসরাইল তাদের পার্লামেন্ট নেসেটে এমন একটি আইন পাস করেছে, যা দখলকৃত পশ্চিম তীরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং বাস্তবে তা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে। তারা এ আইনের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান বৈষম্যমূলক ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড একটি বর্ণবাদী ব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। এসব পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার অস্বীকারের পাশাপাশি দখল করা ভূখণ্ডে তাদের অস্তিত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এতে সতর্ক করা হয়, নতুন এই আইন উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

এর আগে সোমবার ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সমর্থিত একটি বিল অনুমোদন করে। এতে সন্ত্রাসবাদ বা প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এ পদক্ষেপটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং বৈষম্যমূলক হিসাবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ১৯৫৪ সালে ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করলেও যুদ্ধাপরাধ বা রাষ্ট্রদ্রোহের ক্ষেত্রে এটি বহাল ছিল। তবে ১৯৬২ সালে অস্ট্রিয়ান-জার্মান নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের ক্ষেত্রে মাত্র একবার এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।

অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে ইরানের ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের ড্রোন হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলার এই তথ্য জানানো হয়েছে।

একই দিন বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি কোম্পানির স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ এটিকে ইরানি হামলা বলে উল্লেখ করেছে। তবে কোন কোম্পানির স্থাপনায় এই ঘটনা ঘটেছে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি মন্ত্রণালয়।

এই হামলার খবর প্রকাশের একদিন আগেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়। এর মধ্যে মাইক্রোসফট, গুগল ও অ্যাপেলের নামও উল্লেখ করা হয়। ইরানের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

হামলার বিষয়ে জানতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে অ্যামাজন জানিয়েছিল, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বাহরাইনে তাদের ক্লাউড সেবা অঞ্চলে বিঘ্ন ঘটেছে। এক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার ঘটল যে, যুদ্ধের প্রভাবে তাদের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড কম্পিউটিং ইউনিটটি বহু পরিচিত ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি কোম্পানিটির প্রধান মুনাফার উৎস হিসেবেও বিবেচিত।

প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে অফিস না করে সচিবালয়ে এসে অফিস করেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতির উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ হলে এই জাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে অফিস না করে সচিবালয়ে এসে অফিস করেন, যার ফলে প্রশাসনের কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনোদিন কি শুনেছেন মন্ত্রীরা প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ে সকাল পৌনে নয়টায় সচিবালয়ে যায়? এখন যেতে বাধ্য, কারণ বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সকাল সকালেই সচিবালয়ে এসে অফিস করেন। তিনি অফিসে এসে প্রতিদিনই কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করতে যান।” এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জাতির মধ্যে একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর।

সেমিনারে স্বাস্থ্য খাতের জনবল ও বেতন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, টিকা প্রদান কাজে নিয়োজিত ১ হাজার ৩০৬ জন স্বাস্থ্য সহায়তাকারী গত ৯ মাস ধরে তাদের নির্ধারিত বেতন পাচ্ছেন না, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী, সহ-স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিদর্শক মিলে ২৫ হাজারের বেশি কর্মীর পদোন্নতি আটকে আছে।

এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আজ বা আগামীকালের মধ্যেই তাদের প্রতিনিধিদের ডেকে আমরা একটি সন্তোষজনক ফয়সালা করব, যাতে তারা খুশি হন। আমার শুধু অনুরোধ থাকবে, জাতির এই দুর্যোগের সময় তারা যেন আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন।”

চিকিৎসকদের মহান পেশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীতে স্রষ্টার পরেই মানুষ যাদের ওপর ভরসা করে, তারা হলেন চিকিৎসক। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা মেডিকেল ইথিকসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় ‘বিশ্বাস’-কে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।”

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন– স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. একেএম আজিজুল হক, শিশু সংক্রামক রোগ ও কমিউনিটি শিশুস্বাস্থ্য ইউনিটের ইনচার্জ প্রফেসর ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, আইসিসিডিআরবি এর নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডা. তাহমিদ আহমেদ প্রমুখ।

ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। শনিবার বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এতথ্য জানা গেছে।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকারি দলের কর্মকান্ডে আমরা খুব বিস্মৃত, আহত ও মর্মহত।

সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে ওয়াকআউট করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পরজুলাই সনদ আদেশ জারি না করা এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে মিসকোড করার অভিযোগ এনে বুধবার ৫টা ৪৫ মিনিটে বিরোধী দলের সদস্যরা বেরিয়ে যান তারা।

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতিকার চেয়েছিলাম। বিষয়টা কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্কিত না। যে বিষয়টা নির্বাচনের আগে সরকারি দল, বিরোধীদল সবাই একমত হয়েছিলাম; এর পক্ষে কথাও বলেছি, ক্যাম্পেইন করেছি। আমরা প্রতিকার যে পেলাম না, এতে আমরা না, এতে দেশবাসীর তাদের রায়ের প্রতিফলন হলো না, মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধীদলে বসে এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। এজন্য তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।’

এসময় স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, আপনি আমার বক্তব্য তো সম্পূর্ণ করতে দিলেন না। আমি আপনার পুরো বক্তব্য শুনেছি। ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার, কিন্তু আমি বলতে চাই যে; আজকে একটু পরে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। সেখানে আমার মনে হয় যে, আপনি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে আপনারা আরও কথা বলতে পারবেন। সুতরাং, আমার অনুরোধ হলো আপনারা ওটা শুনেন, তারপরে যদি ওয়াকআউট করতে চান, প্লিজ ফিল ফ্রি। তবে, প্রস্তাবটির ভাগ্য কী নির্ধারণ হয়, সেটি আপনি দেখার জন্য একটু অপেক্ষা করে দেখতে পারেন।’

এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষাবোর্ডের ৩১ নির্দেশনা

এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কেন্দ্র সচিবদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) কেন্দ্র সচিবদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এ কথা বলেন।

নির্দেশনাগুলো হলো-

১. অনিয়মিত/মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

২. নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

৩. পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারিতে/থানা লকারের ট্রাংকে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের বিবরণী তালিকা ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইকালে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন।

৪. প্রশ্নপত্রের দুই সেট করে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী সেট পরীক্ষার তারিখ অনুসারে সেটভিত্তিক আলাদা করে সিকিউরিটি খামে প্যাকেট করতে হবে।

৫. প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইয়ের দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তারিখভিত্তিক প্রশ্নপ্রত্রের প্যাকেট সাজিয়ে সিকিউরিটি খামের গাম লাগিয়ে এবং কার্টুন টেপে যথাযথভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে। সিকিউরিটি খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড অবশ্যই লিখতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে অবহেলা বলে গণ্য হবে।

৬. ট্রেজারি থেকে পরীক্ষার দিনগুলোতে ট্রেজারি অফিসারের কাছ থেকে ওই দিনের প্রশ্নপত্রের সিকিউরিটি খাম সৃজনশীল দুই সেট ও বহুনির্বাচনী এক সেট গ্রহণ করতে হবে।

৭. অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে থানা/ট্রেজারি থেকে ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রহরাসহ প্রশ্নপত্রের প্যাকেট কেন্দ্রে আনতে হবে।

১০. মোবাইল ফোনে সেট কোডের এসএমএস পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার, পুলিশ অফিসারকে প্রদর্শনের পর সেট কোড নিশ্চিত হয়ে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে এবং অন্য সেটের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকজাত করতে হবে। অব্যবহৃত সেটের প্রশ্নপত্রের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সেট কোডের পরিবর্তে অন্য কোনো সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১১. কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

১২. ছবি তোলা যায় না এমন মোবাইল ফোন কেন্দ্র সচিব ব্যবহার করতে পারবেন।

১৩. প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুজন করে দায়িত্ব পালন করবেন।

১৪. পাঁচ ফুট/ছয় ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট লম্বা বেঞ্চে একজনের আসন ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এর ব্যতিক্রম করা যাবে না।

১৫. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষে অবশ্যই প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময়ের পর কোনো পরীক্ষার্থী এলে কেন্দ্র সচিব বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতায় রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে বোর্ডে রেজিস্টার খাতাটি জমা দিতে হবে।

১৬. পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করতে হবে, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

১৭. বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশ পথের দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে।

১৮. কেন্দ্র সচিবরা তার কেন্দ্রের আওতাভুক্ত বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রবেশপত্র প্রতিটি বিদ্যালয় প্রধানের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন।

১৯. পরীক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।

২০. ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা যাবে না।

২১. শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যতীত অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।

২২. পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্র সচিবের কক্ষে প্যাকেট খোলাসহ সব কাজের সঙ্গে ট্যাগ অফিসারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। ট্যাগ অফিসারের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্র সচিব কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থা করবেন।

২৩. পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট তারিখ ও বিষয় লাল কালি দ্বারা অনুপস্থিত লিখে দিতে হবে।

২৪. নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষার সময়সূচি মোতাবেক পরীক্ষা নিতে হবে। উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখার স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালাকৃত অবস্থায় পৌঁছাতে হবে।

২৫. পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহন কাজে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।

২৬. পুরাতন ও নতুন সিলেবাস অনুসারে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নতুন ও পুরাতন সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না।

২৭. উত্তরপত্রের প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অতিরিক্ত কিছু লেখা থাকলে তার জন্য কেন্দ্র সচিব দায়ী থাকবেন।

২৮. প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেট আলাদা হবে।

২৯. পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই প্রবেশপত্র গ্রহণের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।

৩০. পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যালয়ের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে এবং সময়সূচিতে যেদিন পরীক্ষা নেই সেদিন নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।

৩১. পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সেজন্য কেন্দ্র সচিব দায়ী থাকবেন।

৩০. পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের টয়লেটসমূহ তল্লাশি করাতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা ফেলে দিতে হবে।

৩১. পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং প্রত্যবেক্ষক ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে অন্য কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।

ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হওয়ার সাথে সাথে ইসরায়েলে মিসাইল ছুড়ল ইরান

গত এক মাসের বেশি সময় ধরে হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে চূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এমন কথা বলেন।

তার এ বক্তব্য শেষ হওয়ার প্রায় সাথেই সাথেই দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইরান।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরমুহূর্তে, যেখানে তিনি দাবি করেন ইরানের সামরিক সক্ষমতা চূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানায় তারা ইরান থেকে ছোড়া মিসাইল শনাক্ত করেছে।”

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে নতুন এ মিসাইল ছোড়া হয়। যেগুলোর প্রভাবে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইরান প্রস্তর যুগে থাকার যোগ্য তাদের আবার সেখানেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে তারা ইরানে ব্যাপক হামলা চালাবেন। আর এই সময়ের মধ্যে ইরানকে তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। নয়ত দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্প বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন হওয়ার আগ পর্যন্ত হামলা অব্যাহত রাখব। এখন পর্যন্ত আমরা যতটুকু এগিয়েছি, আমি বলতে পারি (ইরানে) মার্কিন লক্ষ্য খুব অল্প খুবই অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারব।”

“আমরা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানের অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাব। আমরা ইরানকে প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠাব। যেখানে তারা থাকার যোগ্য।

সূত্র: আলজাজিরা

আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে একটি বিশেষ লিখিত বার্তা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো এই বার্তার মূল উপজীব্য হিসেবে উঠে এসেছে।

বুধবার আবুধাবিতে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই চিঠিটি পৌঁছে দেন।

বৈঠকে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের পূর্ণ সংহতি ও অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের এই বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ আমাদের একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। আমরা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আমিরাতের জ্বালানি ও অবকাঠামো মন্ত্রী সুহাইল বিন মোহাম্মদ আল মাজরুই, আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের পথে মানুষ

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সফলভাবে তাদের আর্টেমিস মহাকাশ অভিযানের সূচনা করেছে। এর মধ্য দিয়ে ৫৩ বছরের বেশি সময় পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে নভোচারী পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এই অভিযান শুরু হয়। বহু বছর পর মানুষবাহী মহাকাশযান চাঁদের পথে রওনা হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে।

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ক্যাপসুল কক্ষপথে পৌঁছবে। সেখানে নভোচারীরা নানান পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটি চাঁদে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পাবে।

‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।

উৎক্ষেপণের সময় কেনেডি স্পেস সেন্টার এলাকায় হাজারো মানুষের ভিড় ছিল। রকেটটি আকাশে উঠতেই উপস্থিতদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

মিশনের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নভোচারীরা এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জেরেমি হ্যানসেন বলেন, এটি কেবল একটি দেশের নয়, বরং পুরো মানবজাতির প্রতিনিধিত্বকারী এক যাত্রা।

তবে এই মিশনে চাঁদে অবতরণের পরিকল্পনা নেই। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করবেন এবং মহাকাশযানের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করবেন। বিশেষ করে, আগে মানুষ বহন না করা এই মহাকাশযানের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত পরবর্তী বড় লক্ষ্য পূরণের প্রস্তুতি। আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে আবার মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হলেন। একে চাঁদে আর মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।