সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

সারা দেশে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার আরো ১২৫৬

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৮০৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪৫২ জন।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৮০৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যান্য ঘটনায় ৪৫২ জন। মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২৫৬ জনকে।

অভিযানিক কার্যক্রমে ২টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি হাঁসুয়া, ৫ রাউন্ড গুলি, ১টি বিদেশি রিভলবার, ১টি কার্তুজ, গুলির ১টি খণ্ডিত অংশ, ১টি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

নন-কমপ্লায়েন্ট কারখানা বন্ধ হওয়া দেশের জন্য খারাপ কিছু নয় : প্রেসসচিব

গত এক বছরে দেশের ২৫৮টি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজেএমইএ। এর পেছনে পরোক্ষভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে সে অভিযোগের একটা জবাব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) তিনি এক ফেসবুক পোস্টে এ জবাব দেন।

ফেসবুক পোস্টে প্রেসসচিব বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশে পাঁচ হাজারেরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানা ছিল। এই রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) প্ল্যান্টগুলোর অনেকগুলোই আবাসিক এলাকায় কার্যক্রম চালাত। প্রায়শই এক ভবনে একাধিক কারখানা থাকত, যার প্রতিটিতে ১০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক কাজ করত। যেমন— সেই দুর্ভাগ্যজনক রানা প্লাজা কমপ্লেক্সটিতে এমন পাঁচটি কারখানা ছিল, যার মধ্যে ফ্যান্টম অ্যাপারেলস নামে ছিল অন্যতম।
আমার এএফপি-এর প্রাক্তন বস, ক্যাট বার্টন, ভবনটি ধসে পড়ার কয়েক বছর আগে সেখানকার একটি স্প্যানিশ কারখানার মালিকের সাক্ষাৎকার নিতে রানা প্লাজা পরিদর্শনও করেছিলেন। ​১৯৯০ এবং ২০০০-এর দশকেও আমি মালিবাগে ছোট ছোট কারখানা দেখেছি, যেখানে এক শর কাছাকাছি লোক কাজ করত। কিন্তু ২০১০-এর দশকের মধ্যে সেগুলোর বেশির ভাগ হয় বন্ধ হয়ে গেছে বা ঢাকার উপকণ্ঠে স্থানান্তরিত হয়েছে।’

‘গাজীপুরের কিছু অন্ধকার কোণে একসময় গোপনে শত শত স্যান্ডব্লাস্টিং ইউনিট কাজ করত—যা বিশ্বের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর জন্য জিন্সের স্যান্ডব্লাস্টিংয়ের মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করত।
সাধারণত কয়েক ডজন শ্রমিক নিয়োগ করা এই কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্স সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যায় ২০১০-এর দশকের শেষের দিকে।’

কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে রপ্তানির বিপরীতমুখী চিত্রও তুলে ধরেন তিনি। তিনি লেখেন, ‘আজ, বাংলাদেশে সক্রিয় গার্মেন্টস কারখানার সংখ্যা দুই হাজারের সামান্য বেশি, যা ১৯৯০ এবং ২০০০-এর দশকের প্রথম দিকে প্রায় পাঁচ হাজার ছিল। তবুও আমাদের গার্মেন্টস রপ্তানি এখন ১৯৯০-এর দশকের শেষ বা ২০০০-এর দশকের প্রথম দিকের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। ১৯৯১ সালে, আমাদের বার্ষিক গার্মেন্টস রপ্তানি প্রথমবারের মতো এক বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল।
অথচ এই বছর শুধু ইয়াংওয়ান (Youngone) বা হা-মীম গ্রুপের মতো জায়ান্টদের প্রত্যেকেই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক রপ্তানি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু হা-মীম গ্রুপেই প্রায় ৫০,০০০ শ্রমিক কাজ করে।’

এরপরই উঠে আসে কারখানা বন্ধের বিষয়টি। তিনি তার কিছু কারণও বের করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘​গত ২৫ বছরে নানা কারণে সারা দেশে প্রায় ৩,০০০ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। কমপ্লায়েন্স ইস্যু এর মধ্যে একটি। দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং অদক্ষতাও অন্য কারণ। কিছু কারখানা পরিশোধ করতে না পারা ঋণের ভারে ভেঙে পড়েছে। আবার শান্তার (Shanta) মতো কেউ কেউ গার্মেন্টস উৎপাদন পুরোপুরি ছেড়ে অন্য খাতে মনোনিবেশ করেছে। কেউ কেউ শ্রমিক ব্যবস্থাপনা খুব বিশৃঙ্খল মনে করেছে। আর কেউ কেউ টাকা কামিয়ে কানাডার মতো জায়গায় পাড়ি দিয়েছে।’

তবে এই কারখানা কমে যাওয়ার বিষয়টিকে খুব বেশি দুশ্চিন্তার বলে মনে করেন না তিনি। তার কথা, ‘​কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত রপ্তানির পরিসংখ্যান বাড়ছে, ততক্ষণ নন-কমপ্লায়েন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের জন্য খারাপ কিছু নয়। আমাদের অনিরাপদ বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কারখানার দরকার নেই। বড় কারখানা মানেই সাধারণত উন্নত কমপ্লায়েন্স।’

তিনি আরো বলেন, ‘অথচ, আপনি যদি আজকাল বিজিএমইএ-এর প্রেস রিলিজগুলো পড়েন, তবে মনে হবে যেন প্রতিটি কারখানা বন্ধ হওয়া সরকারের ব্যর্থতা—যেন কর্তৃপক্ষ তাদের ‘বাঁচাতে’ না পারার জন্য দোষী। এর ঠিক পরেই দেখতে পান, বিজিএমইএ-এর চির-অনুগত পদলেহী সাংবাদিকরা একই সুর তুলে বিলাপ করেন, যেন বাংলাদেশে কারখানা বন্ধ হওয়া এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এমনকি আমাদের তথাকথিত ‘বাম-অন’ কমিউনিস্টদের কেউ কেউও ঝাঁপিয়ে পড়েন, এই বন্ধ হওয়াকে দেশের শিল্প পতনের অগ্রদূত হিসেবে ধরে নিয়ে। তাদের কেউই কখনো কষ্ট করে দেখেন না এই বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর শ্রমিকরা আরো বড়, আরো ভালোভাবে পরিচালিত প্লান্টগুলোতে কাজ খুঁজে পেয়েছে কি না।’

​’তারা ভুলে যান যে ২০০০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশে প্রায় তিন মিলিয়ন গার্মেন্টস শ্রমিক ছিল—আর এখন সেই সংখ্যাটি প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন। সমস্যা হলো, এই লোকগুলোর কেউ কেউ মনে করে তারাই শহরের একমাত্র বুদ্ধিমান। আর বাদবাকি সব আবুল।’

৪ দিনের সফরে পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

চার দিনের সরকারি সফরে আগামী বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনায় পৌঁছাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর জেলা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন তিনি।
পরে সেখানেই রাত্রিযাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।

আরো পড়ুন

পরদিন শুক্রবার (৭ নভেম্বর) আরিফপুরে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর শনিবারও (৮ নভেম্বর) সার্কিট হাউজে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রাতে সেখানেই থাকবেন তিনি।

সফরের শেষ দিন রবিবার (৯ নভেম্বর) সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসককে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়।

শনিবার থেকে সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবেন পর্যটকরা

দীর্ঘ ৯ মাস পর আগামীকাল শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে আবারও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে যেতে পারবেন পর্যটকেরা। তবে সেক্ষেত্রে মানতে হবে ১২ নির্দেশনা। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রবালসমৃদ্ধ এ দ্বীপে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।
এবারও নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস দ্বীপটিতে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিনে ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য রয়েছে। অতীতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ, বিপুল পর্যটকের সমাগম ও পরিবেশদূষণের কারণে দ্বীপটি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে গত ৯ মাস সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের জীববৈচিত্র্য বিস্তার ও পরিবেশের উন্নতি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে মৌসুমের সময় পর্যটকবাহী ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল সৈকত দিয়ে চলাচল করত। এতে শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী মরে যায়। গত ৯ মাস পর্যটক না থাকায় সৈকতে শামুক-ঝিনুকের বংশবিস্তার ঘটছে।

পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক বলেন, ‘পর্যটক সীমিত করার উদ্যোগের প্রথম ৯ মাসে সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।
এখন সৈকতজুড়ে লাল কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকের বংশবিস্তার ঘটেছে। সৈকতে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় না থাকায় মা কাছিমের ডিম পাড়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন। আগে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করলেও নিরাপত্তার কারণে এখন কক্সবাজার শহর থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করবে।’

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনে যাতায়াতের জন্য পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে।
সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে। এসব নিশ্চিত করার জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত বছরের মতো এবারও কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনে যাবে পর্যটকবাহী জাহাজ। আইনগত বিধি নিষেধ থাকায় উখিয়ার ইনানী থেকে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার সুযোগ নেই।

গত ২৭ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে নীতিগত সম্মতি প্রদান বিষয়ে পাঠানো চিঠিতে এমন সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিনও বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। এর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

সেন্ট মার্টিন যেতে যে ১২ নির্দেশনা মানতে হবে

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১২টি নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্ট মার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে।

দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বরে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন, রাত্রিযাপন করা যাবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন।

সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলি লিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরল আরো ৩১০ বাংলাদেশি

অবৈধ ও অনিয়মিত স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী আরো ৩১০ জন বাংলাদেশিকে দেশে পাঠালো লিবিয়ার সরকার। এরমধ্যে কয়েকজন অসুস্থ ও অপহরণের শিকার হয়ে উদ্ধার পরবর্তীতে দেশে ফিরলেন।

আজ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টায় তাদের বহনকারী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ নিয়ে একই প্রক্রিয়ায় চলতি মাসে তিনটি ফ্লাইটে ৯২৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।
এদের বেশিরভাগ অবৈধভাবে সেখানে বসবাস করতেন।

দূতাবাস জানায়, চার্টার ফ্লাইটে দুজন নারীসহ দেশটির মিসরাতা শহরের ২১১ জন ও ত্রিপলির ৯৯ জন অভিবাসী দেশে ফিরেন। বর্তমানে ত্রিপলী ও বেনগাজীতে আরও কিছু বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাদেরও দ্রুত দেশে পাঠাতে কাজ করছে দূতাবাস।
গত দুই বছরে দেশটি থেকে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার ত্রিপলীর অভ্যর্থনা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রত্যাবাসিত অভিবাসীদের বিদায় জানান। দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করা, পরিবারের পাশে থাকা ও স্থানীয় পর্যায়ে মানবপাচার এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে অনুরোধ জানান।

৭ দাবি না মানলে শনিবার থেকে মুরগি ও ডিম উৎপাদন বন্ধ : বিপিএ

৭ দফা দাবি না মানলে শনিবার থেকে সারা দেশে ডিম ও মুরগির খামার ও উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কর্পোরেট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পোলট্রি খাত ধ্বংসের পথে, ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে, যার মধ্যে ৪০% নারী ও ৬০% শিক্ষিত বেকার যুবক। সরকারের নীরবতা ও করপোরেট সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ফিড উৎপাদনের মূল কাঁচামাল যেমন— সয়াবিন মিল, ভুট্টা, অ্যামিনো এসিড ও ভিটামিন প্রিমিক্সের দাম টানা ৩ বছর ধরে নিম্নমুখী থাকলেও বাংলাদেশের বাজারে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এতে বলা হয়, দেশে কয়েকটি করপোরেট সিন্ডিকেট একচেটিয়া ফিডের বাজার দখল করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, যার ফলে ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। প্রান্তিক খামারিরা প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়ে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন। দেশের সবচেয়ে বড় এই কৃষিভিত্তিক খাত আজ ভয়াবহ সংকটে। প্রান্তিক খামারিদের অধিকার ও পোলট্রি শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে বিপিএ ৭ দফা ঘোষণা করছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিপিএ-এর ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ১ নভেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সব জেলা উপজেলায় ডিম-মুরগির খামার বন্ধ করা হবে এবং ডিম ও মুরগি উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের ৭ দফা দাবি হলো–

১. কপোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ফিড, বাচ্চা, মেডিসিন ও ভ্যাকসিনের দাম সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করতে হবে।

২. কপোরেট প্রভাবমুক্ত, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

৩. প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনকে নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৪. ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে নিয়মিত অডিট ও প্রকাশযোগ্য প্রতিবেদনব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৫. উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ১০% লাভ যুক্ত করে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নির্ধারণ করতে হবে।

৬. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ, প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিতে হবে।

৭. নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও কপোরেটপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৯ মাস পর পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন খুলছে কাল

অবশেষে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের দ্বার। আগামীকাল শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকরা বিশেষ কিছু নির্দেশনা মেনে যেতে পারবেন এই দ্বীপে।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে গত বছরের মতো এবারও কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে সরকারের ১২টি নির্দেশনা। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় এবার নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে এবার টেকনাফ নয়, পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক মহিবুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের অবশ্যই ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে, যা না থাকলে টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, বেপরোয়া পর্যটক সমাগম ও পরিবেশদূষণে সেন্ট মার্টিন একসময় গুরুতর পরিবেশ সংকটে পড়ে। তবে গত ৯ মাস পর্যটক চলাচল বন্ধ থাকায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের পুনরুদ্ধার ঘটেছে। সৈকতে শামুক-ঝিনুকের বৃদ্ধি, লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ এবং মা কাছিমের ডিম পাড়ার পরিবেশ ফিরেছে।

পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ইয়েস কক্সবাজারের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক বলেন, সীমিত পর্যটনই সেন্ট মার্টিন বাঁচাতে পারে।
তিনি এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী হিসেবে অভিহিত করেন।

সরকারি প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুসারে যে নির্দেশনা মানতে হবে পর্যটকদের। সেগুলো হলো—

নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলা ভ্রমণ অনুমোদিত।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে।
ফেব্রুয়ারি মাসে সম্পূর্ণভাবে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ।

প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন।
সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ নিষিদ্ধ।
কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রয় নিষিদ্ধ।
কাছিম, শামুক-ঝিনুক, প্রবালসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যান চলাচল বন্ধ।
নিষিদ্ধ পলিথিন বহন নিষিদ্ধ।
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিরুৎসাহিত।
ব্যক্তিগত পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার উৎসাহিত।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাল, শৈবাল, কাছিম, সামুদ্রিক মাছ, রাজকাঁকড়া, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ প্রায় ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের নিবাস সেন্ট মার্টিন, যা অতিরিক্ত চাপের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছিল।

সরকার আশা করছে, নতুন নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা মেনে চললে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পরিবেশবান্ধব পর্যটনের আন্তর্জাতিক উদাহরণ হিসেবে গড়ে উঠবে।

সরকারি ব্যাংকের পরিচালকদের কর্মক্ষমতার বার্ষিক মূল্যায়ন হবে

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের কর্মক্ষমতার বার্ষিক মূল্যায়ন করবে সরকার। তাদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বের কর্মক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এমন নিয়ম যুক্ত করে সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান/পরিচালক নিয়োগ নীতিমালা–২০২৫ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান বা পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হবে।
অগ্রাধিকার দেওয়া হবে অর্থনীতি, ব্যাংকিং বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের। নিয়োগ দেওয়া যাবে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদেরও। মূলত, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের শেয়ার রয়েছে এমন বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল নীতিমালা জারি করেছিল মন্ত্রণালয়।
তখন বিশ্বব্যাংক জানিয়েছিল, সরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা যথেষ্ট জবাবদিহিতার মধ্যে নেই। এর প্রেক্ষিতে নতুন নীতিমালা জারি করল অন্তর্বর্তী সরকার।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে এক সপ্তাহে আটক ১৪৯

যৌথ বাহিনীর অভিযানে সারা দেশে গত ২৩ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীন ইউনিটগুলো অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
এসব অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকাসক্তসহ মোট ১৪৯ জন অপরাধীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, আটকদের কাছ থেকে ১৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৮টি ম্যাগাজিন, ২৬ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ১৭টি কার্তুজ, ৪.৬২ কেজি বিস্ফোরক, দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য, দেশি-বিদেশি ধারালো অস্ত্র, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও সিএনজি উদ্ধার করা হয়। আটকদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে নতুন করে ডিসি নিয়োগের উদ্যোগ, ফিট লিস্ট তৈরি শুরু

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন করে মাঠ প্রশাসন সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে উপসচিবদের মধ্য থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের জন্য নতুন ফিট লিস্ট তৈরি শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের জন্য ২৯ অক্টোবর ১০ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ২০ জন উপসচিবের সাক্ষাৎ নেওয়া হয়েছে।
আর ৩১ অক্টোবর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আরো ১০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। যে ৪০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই বিসিএস ২৯ তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

২৯ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনি প্রস্তুতি-সংক্রান্ত বৈঠক করেছেন।

ওই বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সবচেয়ে ফিট কর্মকর্তাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পদায়ন করা হবে।
তবে নিজ জেলা বা শ্বশুরবাড়ির এলাকায় কাউকে পদায়ন করা হবে না। তাদের কোনো আত্মীয়স্বজন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কি না পদায়নের ক্ষেত্রে সে বিষয়েও লক্ষ রাখা হবে। আগামী ১ নভেম্বর এগুলো শুরু হবে।