রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

দুঃসময়ে বাবরের পাশে দাঁড়ালেন ওয়াসিম আকরাম

পাকিস্তানের ব্যাটিং তারকা বাবর আজমের ফর্ম নিয়ে সমালোচনা চলছে বহুদিন ধরেই। তবে কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম মনে করেন, বাবরকে বাদ দেওয়ার মতো সময় এখনো আসেনি। বরং এই তারকার আরো অনেক কিছু দেওয়ার বাকি রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটকে।

গত কয়েক মাস ধরে বাবরের ব্যাটে ধারাবাহিক রান নেই।
এশিয়া কাপসহ বেশ কয়েকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ছিলেন বাইরে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাকে দলে ফিরিয়েছে পাকিস্তান নির্বাচকরা। এই প্রত্যাবর্তনেই আশার আলো দেখছেন আকরাম।

ক্রিকেট পাকিস্তানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘বাবরের এখনো অনেক ক্রিকেট বাকি আছে এবং সে পাকিস্তানের জন্য আরো অনেক সাফল্য এনে দিতে পারে।
আমাদের সবাইকে তার পাশে থাকতে হবে।’

টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে দুই দলের মধ্যকার টেস্ট সিরিজে বাবর করেছিলেন ১৩১ রান, যেখানে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ৫০। চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে তার রান ০ ও অপরাজিত ১১।

এই সিরিজ শেষেই পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে (৪-৮ নভেম্বর)।
এরপর ১১-১৫ নভেম্বর পাকিস্তান খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। আর ১৭-২৯ নভেম্বর শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সংগঠনটিকে দ্রুত নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।

এতে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে কোনো ধরনের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বা ধর্মবিদ্বেষী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।

তারা অভিযোগ করেন, ইসকন সংগঠনটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আড়ালে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং দেশের শান্তি–শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের উচিত সংগঠনটির কার্যক্রম তদন্ত করে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। অন্যথায় দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সমাবেশে আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশের প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল লতীফ বলেন, ইসকন নামের সংগঠনটি ধর্মীয় ছদ্মাবরণে দেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। সরকারের উচিত দ্রুত এ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

ঢাকা দক্ষিণের সহসভাপতি কাজী হারুনূর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও শান্তিপ্রিয় দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। কিন্তু ইসকন বারবার উসকানিমূলক আচরণের মাধ্যমে সেই সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন এ ধরনের সংগঠনগুলোকে কঠোরভাবে দমন করা হয়।

ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার আহ্বান চাকরিচ্যুতদের

চাকরিচ্যুতি অবৈধ ঘোষণা এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা।

আজ (শুক্রবার) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। ব্যানার–ফেস্টুন হাতে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ঢাকা পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মামলা করা হয়। মামলায় ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা টার্মিনেশন অবৈধ ঘোষণা এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রার্থনা জানানো হয়। পরে ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাদের টার্মিনেশন প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার বিষয়ে আদালত ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং বিবাদীদের আগামী ১৪ জানুয়ারি আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেন।

প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার পর সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক নতুন করে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। আগামীকাল ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার এবং ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়োগের এই উদ্যোগকে ‘অন্যায়’ এবং ‘ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা মানববন্ধন থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা এস. এম. এমদাদ হোসাইন। তিনি বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা, পদোন্নতি—সবকিছু পেয়েছি যোগ্যতার ভিত্তিতে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এখন আবার নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। সম্পূর্ণ বেআইনি পথে বর্তমান বোর্ড যা ইচ্ছা তাই করছে। আমরা আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে চাই।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় যারা অংশ নেবেন, তারা আমাদের ভাই-বোন। আপনারা দেখেছেন কীভাবে আমাদের পথে বসানো হয়েছে। আপনাদেরও একই পরিণতি হতে পারে। তাদের পাতানো ফাঁদে পা দেবেন না।

আরও বক্তব্য দেন মোক্তার হুসেন রসিদ ও মোহাম্মদ হুমায়ুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। তারা অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় আপনি আমাদের চট্টগ্রামের সন্তান। আপনি দেখেছেন চট্টগ্রামের সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার আজ চাকরি হারিয়ে চরম মানবিক সংকটে আছে। চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে আজ হাহাকার। আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে আপনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশাবাদী। আপনার কাছে আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দেন দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সিনেমা মুক্তির মাধ্যমে শেষ ইচ্ছে পূরণ হলো জুবিনের

সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতেও সক্রিয় ছিলেন জুবিন গার্গ। তার মৃত্যুর পর সদ্য মুক্তি পেল জুবিনের অভিনীত শেষ সিনেমা— ‘রই রই বিনালে’। প্রিয় শিল্পীর স্মৃতিকে ধরে রাখতে তার অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য আসামের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে টিকিট বিক্রির যেমন হিড়িক লেগেছে, তেমনি তার স্মৃতিচারণ করে কাঁদছে ভক্তরা। এদিকে সিনেমাটি দেখতে দর্শকদের এই উন্মাদনার মধ্যেই জুবিনের নিজের হাতে লেখা একটি আমন্ত্রণপত্র নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা।

জুবিন গার্গের অভিনীত এই সিনেমাটি অসমিয়া চলচ্চিত্র। ৩১ অক্টোবর (শুক্রবার) ভারতের ৪৬টি শহরে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। মুক্তির আগে জুবিনের হাতে লেখা যে আমন্ত্রণপত্রটি ভাইরাল হয়েছে, তাতে তিনি অনুরাগীদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন। আমার নতুন সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। তোমরা এসে যাবে কিন্তু। ভালোবাসা নিও– ইতি তোমাদের জুবিনদা।’

তার মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে পরিচালক রাজেশ ভুঁইয়ার সঙ্গে বসে জুবিন নিজেই সিনেমার প্রচার কৌশল সাজিয়েছিলেন। জুবিনের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই টিম ‘রই রই বিনালে’ তার হাতে লেখা এই চিঠিটি প্রকাশ করেছে।

জুবিন গার্গ তার আগের দুটি সিনেমার (মিশন চায়না ও কাঞ্চনজঙ্ঘা) মতো এটি নিয়েও হাই-ভোল্টেজ প্রচার করতে চেয়েছিলেন। তার ইচ্ছানুযায়ীই এই সিনেমাটি ৩১ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে। জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে এই সিনেমাটি নিয়ে জুবিন পরিশ্রম করেছিলেন। এর কাহিনি ও গানও তার নিজস্ব সৃষ্টি। ছবিতে তাকে একজন অন্ধ গায়কের চরিত্রে দেখা যাবে।

‘রই রই বিনালে’র প্রযোজকেরা জানিয়েছেন, সিনেমাটি আসামের ৯০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এবং প্রথম দিনের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। দর্শকদের ভিড় সামলাতে হল মালিকেরা কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে রাত ১২টা ও সকাল ৬টায় অতিরিক্ত প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করেছেন।

চট্টগ্রামে গাড়ি উল্টে ২০ পুলিশ সদস্য আহত

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর দামপাড়া এলাকায় পুলিশ সদস্যদের বহনকারী একটি বাস হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নারী পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে সদর দপ্তরের ভেতরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তারা দামপাড়া পুলিশ লাইন্স থেকে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ক্রিকেট ম্যাচে দায়িত্ব পালনের জন্য সাগরিকার শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে যাচ্ছিলেন।

আহতদের মধ্যে ১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক।

সিএমপি সূত্র জানায়, আহত অন্য পুলিশ সদস্যদের দামপাড়াস্থ বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আ. লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৩ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার : ডিএমপি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসব ঝটিকা মিছিলে অর্থায়নকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে পদক্ষেপ নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর খিলক্ষেত, উত্তরা, বাড্ডা, বনানী, বিজয়নগর ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ঝটিকা মিছিল থেকে ৩ হাজারের বেশি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি জানা গেছে। এই ঝটিকা মিছিলে অর্থায়নকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি- ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকে এসে ঝটিকা মিছিলে অংশ নিচ্ছে।
এর পেছনে অনেকেই অর্থায়ন করছে, প্রতিটি মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অঙ্কের টাকাও দেওয়া হচ্ছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেওয়া এবং ঢাকা মহানগরীতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা গ্রেপ্তারের পর তাদের পূর্বাপর ইতিহাস যাচাই-বাছাই করে দেখছি। সেটি যাচাই-বাছাইয়ের পরই সংশ্লিষ্ট মামলায় তাদের চালান দেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনাসহ ২৬১ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি

‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ সম্পর্কিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৬১ জন আসামিকে পলাতক দেখিয়ে বহুল প্রচারিত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আদালতের নির্দেশে এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সিআইডি।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

তিনি বলেন, সিআরপিসি ১৯৬ ধারার অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে সিআইডি ওই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়।
সেই অনুযায়ী সিআইডি বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। তদন্তে উঠে আসে, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে দেশ ও বিদেশে বসে বৈধ সরকার উৎখাতের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। তদন্ত শেষ করে সিআইডি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলার তদন্তে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সার্ভার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১৭নং আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলাম প্রধান আসামিসহ ২৬১ জনকে পলাতক ঘোষণা করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার জন্য আদেশ দেন। সেই আদেশের ভিত্তিতে সিআইডি দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে : মির্জা ফখরুল

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের ওপর যে আস্থা রেখেছিল তার মর্যাদা রাখেনি সরকার। জনগণের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জেএসডির ৫৩তম প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী অংশীদারির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগেই ঐকমত্য কমিশন গণভোটের যে সুপারিশ করেছে তার বিরোধিতা করেন তিনি। বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো সুযোগ নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সংকট তৈরি করেছে। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা মেনে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায় দেশের মানুষ।
কিন্তু সেই নির্বাচন একটি মহল বাধাগ্রস্ত করতে চায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী বর্তমান সরকার। প্রায় এক বছর ধরে নানা বিষয়ে আলোচনার পর যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি বৃষ্টিতে ভিজে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে—কিন্তু সরকার সেই আস্থার মর্যাদা দেয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচার শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ছড়ানো হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণভোট নির্বাচনের আগে করার সুযোগ নেই। ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের প্রতিও আহ্বান জনগণের দাবি একটি অবাধ নির্বাচন; সেটিতে যেন কেউ বাধা না দেয়।

এ সময় রাজনৈতিক দল নয়, ঐকমত্য কমিশনই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

বিরক্ত আঁখি আলমগীর

কিছুদিন আগেই অন্তর্জালে এসেছে তার নতুন গান। এর পাশাপাশি স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। এরমধ্যেই এক ফেসবুক পোস্ট দিয়ে গায়িকা জানিয়েছেন, তিনি খুব বিরক্ত এবং রেগে আছেন।

তাতেই আঁখির সেই পোস্ট নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা।
কেউ কেউ মনে করছেন, এই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের মানসিক ক্লান্তি, আশপাশের মানুষের ভণ্ডামি ও মিথ্যাচারের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন আঁখি আলমগীর।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি খুব রাগ এবং বিরক্ত। রাগ; কারণ, আশপাশের কিছু মানুষের নাটক আর অভিনয় দেখে ক্লান্ত। কী সুন্দর সবাইকে বোকা ভেবে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে অন্ধ হয়ে তারা কত গল্প ফাঁদে, নাটক করে, অভিনয় করে…মুক্তি চাই ভণ্ডামি থেকে।
মুক্তি চাই এই স্মেল থেকে। একটা নীরব, স্বাধীন, শান্তিপূর্ণ জীবন চাই এখন।’

একই পোস্টে নিজের প্রতি বিরক্তির কথাও জানিয়েছেন আঁখি। তিনি লিখেছেন, ‘বিরক্ত নিজের ওপর।
এত কিছু তো না বুঝলেও হতো। আগে তো শুনে, দেখে সব বুঝে যেতাম। বয়স আর অভিজ্ঞতার কারণে ইদানীং রাগ, হিংসা বা মিথ্যা—এগুলো স্মেল করতে পারি, অনুভব করতে পারি।’

পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বিশ্বাস করো, তোমার কল্পনার চেয়েও বেশি পাওয়ার যোগ্য আমি।’

এ ফেসবুক পোস্ট কাদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, সে ব্যাপারে কিছুই স্পষ্ট করেননি আঁখি।
তবে কেউ কেউ বলছেন, এই কয়েকটি বাক্যে যেন ফুটে উঠেছে আঁখি আলমগীরের ভেতরের ক্লান্তি ও শান্তি খোঁজার আকুতি।

প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগে অন্তর্জালে উন্মুক্ত হয়েছে ‘প্রেম ব্যাপারী’ শিরোনামে আঁখি আলমগীরের নতুন একটি গান। দ্বৈত কণ্ঠের গানটিতে আঁখির সহশিল্পী পুলক অধিকারী।

সব জমা আছে প্রতিশোধের খাতায়, আর ভুল হবে না : অরুণা বিশ্বাস

ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন যে কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম অরুণা বিশ্বাস। আলোচিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘আলো আসবেই’-এর স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে এলে অভিনেত্রীকে নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়। সেই গ্রুপের কথোপকথনের এক পর্যায়ে ছাত্রদের ওপর গরম পানি ঢেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।

৫ আগস্ট সরকার পতনের পরই দেশ ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমান অরুণা বিশ্বাস।
দেশের বাইরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়েছেন সরব, বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ করেন নিজের মন্তব্য।

আজ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সব জমা আছে প্রতিশোধের খাতায়, আর ভুল হবে না।’

অভিনেত্রীর ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘সময় বহমান হলেও অতীত কখনোই অকৃতজ্ঞ ও বেঈমানকে ক্ষমা করে না।’

সেই পোস্টের কিছুক্ষণ পর তিনি আরো একটি পোস্ট করেন।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘বিটিভি নিয়ে কি জ্বলাপোড়া শুরু হইছিল। কেন পোড়া বিটিভিতে আমরা গেলাম? আরে তোরা তো সব সুন্দর ধ্বংস করার জন্য, পোড়ানোর জন্য জন্মাইছিস! আর আমরা জন্মাইছি সৃষ্টি করার জন্য। ওরাই ঈদের অনুষ্ঠানের নামে সব টাকা নিয়া আসছে। তখন লজ্জাও লাগে নাই, ঘেন্নাও লাগে নাই।
হা হা হা। এ জন্য এখন শিল্পীরা প্রোগ্রাম করেও টাকা পায় না। আফসোস। বেচারা শিল্পীরা ওদের বিশ্বাস করে কি ভুলই না করছে।’