রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু : তথ্য উপদেষ্টা

ঢাকা, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের ত্যাগের বিনিময়েই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিপ্লবের চেতনা থেকেই আমরা বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং সবার বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন বাংলাদেশের একটি নতুন দিগন্ত। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের তরুণদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা এবং প্রতিভাকে সামনে আনার জন্য ‘নতুন কুঁড়ি’ এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল বা অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে সারাদেশ থেকে নতুন কুঁড়িতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাছাই করা হয়েছে। এই তরুণরাই নতুন বাংলাদেশের পতাকাকে বহন করবে। নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়ে আমাদের সংস্কৃতি, সমাজ ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জুলাই শহীদ ও আহতদের কাঙ্ক্ষিত সেই বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং সবার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ বহু সংস্কৃতির, ঐতিহ্যের এবং ভাষার দেশ। দীর্ঘদিন ধরে এই বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য আমরা উপভোগ করতে পারিনি, উপলব্ধি করতে পারিনি। আমাদের অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং যাদের প্রান্তিক করা হয়েছে, তাদের সাংস্কৃতিক পরিষদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যার কারণে সাংস্কৃতিক জায়গায় ফ্যাসিবাদ চেপে বসেছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এখন থেকে আমাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোতে জাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই জায়গা করে নিক। আমাদের সংস্কৃতির শক্তি হবে অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্য এবং মানবতার সম্মিলন। সভ্যতা হবে এই বাংলার অববাহিকায় থাকা বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সম্পদের প্রতিফলন।’

উপদেষ্টা বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা যখন একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় আছি, তখন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বিটিভি’কেও স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হচ্ছে; যাতে বিটিভি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা চাই বিটিভি কোনো দলের বা কোনো রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থের হাতিয়ার না হোক। বিটিভি’কে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে নতুন রিয়েলিটি শো, ভিন্ন বয়স ও পটভূমির প্রতিযোগীদের নিয়ে নতুন নতুন অনুষ্ঠান চালু করা হবে। আশা করি, এগুলো পরবর্তীতেও অব্যাহত থাকবে। এখন থেকে বিটিভি হবে সবার, সব দলের এবং সব মানুষের।

বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, আমি বিজয়ী ‘নতুন কুঁড়ি’র প্রতিযোগীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। প্রতিযোগিতায় যারা জয়ী হয়েছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চল থেকে ধারাবাহিকভাবে যারা আজ এই মঞ্চে এসে পৌঁছেছেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই। তোমাদের প্রতিভা, নিষ্ঠা এবং উদ্ভাবনী শক্তি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।
সূত্রঃবাসস

পিরোজপুরে গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

পিরোজপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় দুর্বৃত্তরা আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, বুধবার রাত প্রায় দেড়টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় বাহিরের জানালা, দরজা ও অন্যান্য স্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় জানালা ও জানালার গ্রিলে আগুন ধরিয়ে দিলে ব্যাংকের নৈশপ্রহরী (কেয়ারটেকার) হাসিব (৩৪) ডাক-চিৎকার দিলে স্থানীরা এগিয়ে আসেন। পরে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলিম হোসেন বলেন, ব্যাংকের নৈশপ্রহরীর চিৎকারে আমিসহ এলাকাবাসী ও স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ব্যাংকের নৈশপ্রহরী হাসিব আমাদের জানান- অন্ধকারের মধ্যে কয়েকজন ব্যক্তি এসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের কাউকে চেনা যায়নি।

গোপালগঞ্জে গণপূর্ত ও গ্রামীণ ব্যাংকে পেট্রোল বোমা, পিকআপে আগুন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গণপূর্ত অফিস ও গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় বেশ কয়েকটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটা ঘটে। এতে একটি পিকআপ পুড়ে যায়। এ ছাড়া জেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শহরের মডেল স্কুল রোড এলাকায় ও বুধবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার উলপুর এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড় ও গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া আঞ্চলিক সড়কে এসব ঘটনা ঘটে।

গণপূর্ত অফিস কর্তৃপক্ষ জানায়, আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে ভোরে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত অফিসে বেশ কয়েকটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। পরে গণপূর্ত অফিসের কর্মচারীরা গাড়ির আগুন নিভিয়ে ফেলে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গণপূর্ত অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রহিম জানান, ভোরে কে বা কারা অফিসের মধ্যে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

এদিকে, গোপালগঞ্জের উলপুর গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় বেশ কয়েকটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। ব্যাংকটির ফিল্ড অফিসার নাগর আলী বলেন, ‌‌‌‌‌‌‘‘রাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি কালো মাইক্রোবাসে করে বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত অফিস লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এ সময় অফিসে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তি তাদের ধাওয়া দিলে তার দিকে লক্ষ্য করেও কয়েকটি পেট্রোল বোমা তারা নিক্ষেপ করে। এতে নিরাপত্তাকর্মীর কিছু না হলেও ভবনের হল ছাদে আগুন ধরে যায়।’’

এ ঘটনায় ব্যাংকটির তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দুটি পেট্রোল বোমা বিস্ফারিত হলেও তিনটি অক্ষত থেকে যায়।’’

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ বলেন, ‘‘রাত তিনটা থেকে চারটার দিকে বিভিন্ন সড়কে গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়েছে এমন খবর আসে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছগুলো সরিয়ে ফেলেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।’’

আজ বৃহস্পতিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে সকাল থেকেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করেছে। সকালে শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় পুলিশের সাঁজোয়া যান টহল দিতে দেখা যায়। দিনভর রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাহারা দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারীও বাড়ানো হয়েছে।

সহিংসতা ও অবরোধের কারণে গোপালগঞ্জের জনজীবনে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা অনেক কম। প্রতিদিন তিন থেকে চারশ বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও আজ এর সংখ্যা ছিল কম। দূরপাল্লার বাস চলাচলও সীমিত লক্ষ্য করা গেছে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম বলেন, ‘‘দুর্বৃত্তরা গোপালগঞ্জ গণপূর্ত অফিস ও গ্রামীণ ব্যাংকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান। শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত আছি।’’

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান সেনাপ্রধানের

আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহী সেনানিবাসস্থ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (বিআইআরসি) শহীদ কর্নেল নকীব হলে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ২০তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে সেনাবাহিনী প্রধান উপস্থিত বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সব অধিনায়কদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

সেইসঙ্গে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সব সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান সেনাপ্রধান।

এছাড়া, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেনাবাহিনী প্রধান এ রেজিমেন্টের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান বিআইআরসি সম্মেলন কক্ষে পৌঁছালে তাকে জিওসি, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক); কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার; জিওসি, ১১ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, বগুড়া এরিয়া অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানে জিওসি, আর্টডক; কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার; জিওসি ১১ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, বগুড়া এরিয়া; সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা; বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার ও রাজশাহী স্টেশনে কর্মরত সব অফিসার এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের সব ইউনিটের অধিনায়ক উপস্থিত ছিলেন।

পেঁয়াজ আমদানির জন্য দুই হাজারের বেশি আবেদন, তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা হবে: উপদেষ্টা

ঢাকা: পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন পেতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুই হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, পেঁয়াজের বাজারে বর্তমান দাম বাড়লেও আমদানির প্রয়োজনীয়তা আপাতত অনুভূত হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের তরফ থেকে হাইফ্লো মেশিনের মাধ্যমে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এ কারণে পেঁয়াজ আমদানি নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে মনে হচ্ছে।”

উপদেষ্টা আরো জানান, “তবে আমদানি অনুমতির জন্য দুই হাজারেরও বেশি আবেদন এসেছে। যদি আমদানি করতে হয়, তাতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা, এবং পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।”

এছাড়া, পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাজারে কিছু দুষ্কৃতিকারী দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে আমরা সবাই মিলে তাদের এই দুর্নীতি সফল হতে দেবো না। আমাদের পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি হবে না, এবং কৃষকদের উৎপাদন দ্বারা চাহিদা পূর্ণ হবে।”

পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের আমদানি করার কোনও ইচ্ছা নেই, তবে যদি পরিস্থিতি খারাপ হয়, তবে আমদানির অনুমতি দিতে হবে।”

এদিকে, আমন ধানের উৎপাদন ভালো হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এবার আমনের ফলন ভালো হয়েছে, এবং দামও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি আমনের দাম ৩৪ টাকা থেকে ৩৯ টাকা, আতপ ও সিদ্ধ চালের দাম ৫০ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে।”

সবজি উৎপাদন নিয়েও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন, এবং জানান যে সবজির দাম বাজারে যৌক্তিক রয়েছে। তবে, আলু চাষিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই বছর আলু চাষিরা ভালো দাম পাননি, ফলে তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপদেষ্টা বলেন, “এটি দুঃখজনক, তবে আলু চাষিদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

গণভোটের জন্য ৪ বিষয়ে প্রশ্ন জনগণের ওপর জবরদস্তিমূলক: সালাহউদ্দিন

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণের পর গণভোটের জন্য তৈরি করা চারটি প্রশ্নকে জনগণের ওপর জবরদস্তিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই প্রশ্নের মাধ্যমে জনগণের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে এক প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন বলেন, “গণভোটের জন্য যে চারটি প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে, তা জনগণের ওপর জবরদস্তিমূলক। জনগণকে বলছি, আপনি হ্যাঁ অথবা না বলবেন—এটা একটি চাপিয়ে দেওয়া প্রশ্ন।”

তিনি আরো জানান, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় কখনোই উঠে আসেনি।” তার মতে, সংবিধান বাস্তবায়ন আদেশ এবং জুলাই সনদের মধ্যে “বহু গড়মিল” রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই আদেশের আইনি বৈধতা কতটুকু, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।”

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, “সংবিধান গৃহীত হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হতো, কিন্তু এই আদেশের ব্যাপারে জুডিশিয়ারি বিভাগ বলতে পারবে না—আইনি বৈধতা কতটুকু, তা নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়েছে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা এবং নোট অব ডিসেন্ট উল্লেখ ছিল, কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা সেখানে স্বাক্ষর করেছেন, অথচ সুপারিশমালায় সেসব অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাহলে কি তিনি নিজের স্বাক্ষরকে লঙ্ঘন করেছেন?”

তিনি আরও দাবি করেন, “নতুন ধারণা হিসেবে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কীভাবে সদস্য হিসেবে আসবেন, তা পরিষ্কার নয়। সংসদ এবং তার সদস্যদের সার্বভৌমত্বের অধিকার রয়েছে। এসব ধারণা সাংঘর্ষিক।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনকে সংকটপূর্ণ বলে মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, “এই দুটি প্রতিষ্ঠান সংকট তৈরি করেছে।”

এদিন দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গণভোটের আয়োজন এবং দেশের সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

গণভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে যে প্রতিক্রিয়া জানাল জামায়াত

ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণের পর জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনকে কেন্দ্র করে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, একই দিনে নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের ফলে সংকট সৃষ্টি হতে পারে, যা আগে থেকেই বেশ কিছু রাজনৈতিক দল তুলে ধরেছিল।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গোলাম পরওয়ার বলেন, “জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে হলে তা রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করবে।” তিনি আরও বলেন, “অতীতে আটটি রাজনৈতিক দল গণভোট নভেম্বর মাসে আয়োজনের দাবি জানিয়েছিল, কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের পর সেই সংকট রয়ে গেছে।”

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, প্রধান উপদেষ্টা জনগণের অভিপ্রায় উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, “একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজনের সিদ্ধান্তে জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়নি।”

এর আগে, দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছিলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে, যা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে। এটি সংস্কারের লক্ষ্য অর্জনে কোনোভাবেই বাধা সৃষ্টি করবে না এবং নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে।”

গোলাম পরওয়ার আরও জানান, সন্ধ্যায় জামায়াতের সর্বোচ্চ ফোরামে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং দলের অবস্থান চূড়ান্ত করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে গণভোটের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়, তবে জামায়াতের মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এতে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, বিশেষত এক দিনে নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

সন্ধ্যায় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছে বিএনপি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সন্ধ্যায় ৭ টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠক সভাপতিত্ব করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এদিন দুপুরে জাতির উদ্দেশ্য দেওয়া ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নে গণভোট আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে।

জুলই সনদ গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘হ্যাঁ’ হলে জাতীয় সংসদের নিন্মকক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে আসা বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের করণীয় ও প্রতিক্রিয়া কি হবে তা নির্ধারণে স্থায়ী কমিটির জরুরি এ বৈঠক ডেকেছে বিএনপি।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা পোস্টকে বলেন, সন্ধ্যায় ৭টায় আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির মিটিং হবে। তারপর আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাবো।

নাম না প্রকাশের শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, নির্বাচনের দিন গণভোটের সময় নির্ধারণ করা আপাতত এটা আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চ কক্ষ গঠন এবং পরবর্তী সংসদের ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পূর্ণ করারসহ আরও কিছু বিষয় এসেছে- এগুলো নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক আলোচনার পর মন্তব্য করতে হবে। কারণ আগে দলের মনোভাব জানতে হবে।

সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হবে : প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোট ফেব্রুয়ারি প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরো উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
গণভোটে যে চার প্রশ্ন থাকবে

ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চ পক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

গ. সংসদের নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সংসদের রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

মুন্সীগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাকে আগুন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে থেমে থাকা ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

গতরাত সাড়ে ৩টার দিকে গজারিয়া উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আকিজ পেপার মিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ট্রাকটিতে কাগজের তৈরি কার্টন জাতীয় পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রথমে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা এসে ৪৫ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নির্বাপণে সক্ষম হন।

গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আমরা খবর পাই। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা অগ্নিনির্বাপণের কাজ শুরু করি। ১০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তবে সম্পূর্ণ নির্বাপণ করতে প্রায় ৪৫ মিনিটের মত সময় লাগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় ট্রাকের চালক এবং হেলপার ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। আগুন দেখে তারা লাফিয়ে নিচে নেমে যান।’

এ বিষয়ে গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনার পর মহাসড়কের গজারিয়া অংশে আমরা পুলিশি তৎপরতা বাড়িয়েছি।’