শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ভোট করতে দলগুলোর সহযোগিতা চাইলেন সিইসি

জাতীয় ডেস্ক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও পরামর্শের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (১৬ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন একা এই বিশাল নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম নয় এবং বিশেষ করে জাতীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা অপরিহার্য, যাদের সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা রয়েছে।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কমিশনকে বিভিন্ন বড় ও চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে হয়েছে উল্লেখ করেন। কাজের ব্যস্ততার কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, স্বীকার করে তিনি বলেন। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ ছিল। এই কাজে প্রায় ৭৭ হাজার কর্মকর্তা মাঠে কাজ করেছেন। এছাড়া প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ৪০ লাখের বেশি ভোটারকে, যাদের নাম তালিকায় ছিল না, শনাক্ত করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন উদ্যোগ ও প্রক্রিয়ার বিষয়ে সিইসি জানান, বিদেশে থাকা প্রবাসীদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি একটি জটিল এবং নতুন উদ্যোগ। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসারের ভোট নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বাইরে পোস্টেড সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কারাগারে থাকা নাগরিকদের ভোট প্রদানের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আমরা এত কাজের চাপের মধ্যে ছিলাম যে আলোচনা শুরু করতে দেরি হয়েছে।” তবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী সংস্কার কমিশন এই প্রক্রিয়াকে যথেষ্ট অগ্রগতি প্রদান করেছে। সংস্কার কমিশন বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে, যার মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও রয়েছেন, ৮০টির বেশি সংলাপ সম্পন্ন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও সংস্কার কমিশনের কিছু প্রস্তাব স্ব-উদ্যোগে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

সিইসি নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আচরণ বিধিমালা তৈরির পর দীর্ঘদিন ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত মতামতের ভিত্তিতে এতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করেন, আচরণ বিধিমালা মনোযোগ দিয়ে পড়া এবং তা তাদের দলের কর্মীদের কাছে প্রচার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

গাজাবাসীদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি মানবে না জর্ডান ও পাকিস্তান

গাজার ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই গাজাবাসীকে অন্য কোথাও স্থানান্তর বিষয়ে অমত প্রকাশ করেছেন জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। শনিবার (১৫ নভেম্বর) ইসলামাবাদে এক বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা নিয়ে আরব-ইসলামি আটটি দেশের সমন্বিত উদ্যোগ, শাসন কাঠামো পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।

গাজা যুদ্ধপরবর্তী পর্যায়ে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত না করার বিষয়ে উভয় দেশের নেতারা অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন।

বৈঠকে গাজা যুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর মানবিক সংকট, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের অব্যাহত সমর্থনের জন্য রাজা আবদুল্লাহ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।

এদিকে ‍যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা ও পশ্চিম তীরে অব্যাহত রয়েছে ইসরাইলি আগ্রাসন। খান ইউনিসের দক্ষিণাংশ, গাজা সিটির উত্তরাঞ্চল এবং রাফাহ সীমান্তজুড়ে দখলদারদের হামলায় নতুন করে ধ্বংস হয়েছে বহু স্থাপনা।

স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও এক মাসে অন্তত দেড় হাজার ভবন উড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। পশ্চিম তীরে রামাল্লার কাছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণে কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতেই গাজাকে ধীরে ধীরে আগের রূপে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। চলছে অঞ্চলটির শিক্ষা ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের কাজ। দুই বছরের ইসরাইলি আগ্রাসনে ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্কুল ভবন। এরমধ্যেও, অস্থায়ীভাবে পাঠদান শুরুর ব্যবস্থা করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত স্কুলের উঠান কিংবা পাশের খালি জমিতে অস্থায়ী স্কুল তৈরির উদ্যোগ চলছে। তবে, শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি ও নিরাপদ পরিবেশের অভাবে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। যুদ্ধ চলাকালীন তারা শারীরিক ও মানসিক- দুইভাবেই হারিয়ে ফেলেছে স্বাভাবিক ছন্দ। শিক্ষকরা বলছেন, যুদ্ধোত্তর মানসিক চাপ সামলে শিক্ষায় ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ।

কুখ্যাত গ্যাংস্টার চক্রে জড়াল নোরার নাম, পুলিশের নজরে অভিনেত্রী

বলিউড অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহিকে ঘিরে নতুন করে উঠে এলো এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। শোনা যায়, কুখ্যাত গ্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে ওঠাবসা তার, করেন মাদক সেবনও। যদিও এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি এই তারকার। তবে সূত্র বলছে, বিষয়টি নজরে রয়েছে পুলিশের।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, একজন মাদক পাচারকারী সেলিম ডোলার ছেলে তাহের ডোলা দাবি করেছেন, দাউদ ইব্রাহিম আয়োজিত এক মাদক পার্টিতে নাকি উপস্থিত ছিলেন নোরা। অভিযোগটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অভিনেত্রী।

নিজের সামাজিক মাধ্যমে নোরা লিখেছেন, তিনি কোনো ধরনের পার্টিতে যান না এবং পুরো সময় কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। নোরার ভাষায়, ‘আমি সারাদিন কাজ করি। আমার ব্যক্তিগত জীবন বলেও কিছু নেই। ছুটির দিনে হয় বাসায় থাকি, নয়তো দুবাইয়ে স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাই। নিজের স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করছি, তাই এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমার নাম ব্যবহার করছেন, তাদের অনুরোধ— এটা বন্ধ করুন। না হলে এর পরিণাম ভালো হবে না। এবার আর চুপ করে থাকব না।’

শুধু নোরা নন, একই অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরসহ আরও কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে। সূত্র বলছে, মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন বিভাগ শিগগিরই সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে।

ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করে দিলো ইসরায়েল, ফিলিস্তিনিদের ওপর কারফিউ

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে মুসলিমদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে সেখানকার পুরোনো শহরে ফিলিস্তিনিদের ওপর কারফিউও জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

মূলত অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ইহুদি উৎসব পালনের সুযোগ দিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্ত্সংস্থাটি বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেবরনের পুরোনো শহর এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর কারফিউ জারি করে রেখেছে এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতকারীদের ইহুদি ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগ করে দিতে ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে বলে স্থানীয় কর্মীরা শনিবার জানিয়েছেন।

হেবরন ডিফেন্স কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা আরেফ জাবের আনাদোলুকে জানান, শুক্রবার সকাল থেকে পুরোনো শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই কারফিউ জারি রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী পুরোনো শহরে প্রবেশের সামরিক চেকপয়েন্টগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে এবং যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

এর ফলে অনেক ফিলিস্তিনি বাসিন্দা নিজ ঘরেও ফিরতে পারেননি এবং হেবরনের অন্য এলাকায় স্বজনদের বাড়িতে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। জাবের জানান, শুক্রবার রাত ও শনিবার সকাল— দুই দফায় শত শত অবৈধ বসতকারী ভারী সামরিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুরোনো শহরে ঢুকে রাস্তায় “উসকানিমূলক” শোভাযাত্রা করেছে।

তিনি বলেন, এই কারফিউ আসলে ইব্রাহিমি মসজিদের বাকি অংশ পুরোপুরি দখলে নেওয়ার এবং সেটি সিনাগগে রূপান্তরের ইসরায়েলি প্রচেষ্টার অংশ।

ফিলিস্তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের শুরু থেকে প্রতিদিন ইব্রাহিমি মসজিদের সুক গেট বন্ধ রাখছে এবং পূর্ব দিকের প্রধান গেটও বন্ধ করে রেখেছে। এমনকি জানালাগুলোও ঢেকে দিয়েছে।

ইব্রাহিমি মসজিদ হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত এবং এটি এখন পুরোপুরি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে। এখানে প্রায় ৪০০ অবৈধ বসতকারী থাকে এবং তাদের পাহারা দেয় প্রায় ১৫০০ ইসরায়েলি সেনা।

১৯৯৪ সালে এক অবৈধ বসতকারীর হাতে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল মসজিদটিকে দুই ভাগে ভাগ করে। এই মসজিদের ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের উপাসনার জন্য এবং ৩৭ শতাংশ মুসলিমদের জন্য। ইহুদিদের বরাদ্দ অংশে মসজিদের আজান দেওয়ার ঘরটিও রয়েছে।

এছাড়া ইসরায়েলের একতরফা ব্যবস্থাপনায় বছরে ১০ দিন ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের সময় মসজিদটি পুরোপুরি মুসলিমদের জন্য বন্ধ থাকে এবং ১০ দিনের ইসলামি উৎসবের সময় ইহুদিদের জন্যও মসজিদটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ প্রবেশাধিকার আর বহাল রাখা হয়নি।

আজ ইসির সঙ্গে ১২ রাজনৈতিক দলের সংলাপ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ রবিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে বসছে ১২টি রাজনৈতিক দল। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি সংলাপে অংশ নেবে।

এ ছাড়া বিকেলে ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি।

বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দল রয়েছে ৫৩টি।
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি), ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল রয়েছে।

নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, মার্কসবাদীর নিবন্ধন চূড়ান্ত করতে বিজ্ঞপ্তি হয়েছে।

সেনেগালকে হারিয়ে প্রতিশোধ ব্রাজিলের

আগেরদিন আর্জেন্টিনা আফ্রিকান দেশ অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল। এবার তাদের প্রতিবেশী দেশ ব্রাজিলও একই ব্যবধানে হারাল সেনেগালকে। প্রথমবার আফ্রিকান কোনো দেশের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

আড়াই বছর আগে প্রীতি ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৪-২ গোলের পরাজয় গিলতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।
লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে শনিবার (১৫ নভেম্বর) সেই হার–এর প্রতিশোধ নিল সেলেসাওরা।

সেনেগালের বিপক্ষে তিন ম্যাচে এটি ভিনিসিউস জুনিয়রের প্রথম জয়। এর আগে ২০১৯ সালে দুদল ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছিল, আর ২০২২ সালে ব্রাজিল হেরেছিল ৪-২ গোলে।

জাপানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ২-০ লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হারে ব্রাজিল।
তাই এদিন প্রথমার্ধে জোড়া গোল পেলেও শঙ্কা থেকেই গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে সাদিও মানেরা একাধিক সুযোগ পান। তবু আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে দেয়নি ব্রাজিলের রক্ষণভাগ।

প্রথম থেকেই দাপট দেখায় ব্রাজিল।
ভিনিসিউস, রদ্রিগো ও কুনিয়ার একের পর এক আক্রমণেও গোল পাচ্ছিল না সেলেসাওরা। ছয় গজ দূর থেকে কুনিয়ার একটি হেড বারে লেগে ফিরে আসে। অবশেষে ২৮তম মিনিটে ভাঙে গোলশূন্যতা। ক্যাসেমিরোর পাস ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে এস্তেভাওয়ের সামনে পড়ে। তরুণ উইঙ্গারের জোরালো শটে কোনো সুযোগ ছিল না এদুয়ার্দ মেন্ডির।

৩৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ক্যাসেমিরো। রদ্রিগোর ফ্রি-কিক থেকে ছয় গজ দূরে বল পেয়ে নিখুঁত কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন তিনি।

প্রথমার্ধের শেষদিকে গোল শোধের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল সেনেগাল। যোগ করা সময়ে এদেরসনের দুর্দান্ত সেভে অক্ষত থাকে ব্রাজিলের জাল।

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার প্রাণপণ চেষ্টা করে সেনেগাল। ৫০তম মিনিটে এদেরসনের ভুলে প্রায় গোল হজম করতে বসেছিল ব্রাজিল। ইলিম্যান এনদিয়ায়ের শট পোস্টে লাগে। পাঁচ মিনিট পর একই ভুল করেন মেন্ডি, তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি রদ্রিগো। এরপর আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন দুই দলের খেলোয়াড়রা।

৭০তম মিনিটে লিড বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল। ভিনির পাস থেকে এস্তেভাওয়ের সামনে বল পৌঁছানোর আগেই ক্লিয়ার করেন জ্যাকবস। শেষদিকে পাকেতা, লুইজ হেনরিক ও বুনোকে নামালোও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ব্রাজিল।

শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আনচেলত্তির শিষ্যরা।

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই ম্যাচকে গুরুত্ব দিচ্ছে ব্রাজিল কোচিং স্টাফ। আগামী ১৮ নভেম্বর তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বছরের শেষ ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল।

হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন

রাজধানীর হাজারীবাগ থানার বেড়িবাঁধ রোডে শেখ ফজিলাতুন্নেসা কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) মধ্যরাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, রাত ১২টার দিকে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকার শেখ ফজিলাতুন্নেসা কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
এতে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানান ওসি।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও কারণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

সাভারে বাসে আগুন, লাফিয়ে প্রাণে বাঁচলেন চালক

সাভারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আগুন দেখে বাসে থাকা চালক লাফিয়ে নেমে প্রাণে বাঁচেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা ইউটার্নের আরিচামুখী লেনে ওই বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

বাসের চালক সেলিম বলেন, বাসটি মেট্রো গার্মেন্টসের শ্রমিক আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহার হয়।
আজ (শনিবার) শ্রমিকদের নামিয়ে দিয়ে রাতে ঢাকা-আরিচা সড়কের গেন্ডা ইউটার্নে পার্কিং করা হয়। হঠাৎ রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসের পেছনের অংশে আগুন ধরে। সে সময় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম এবং আগুনের তাপ পেয়ে বাস থেকে লাফিয়ে নেমে যাই।

সাভার ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে গেন্ডা এলাকায় বাসে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে।
পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কীভাবে বাসে আগুন লেগেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সালেহ আহমেদ বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মূলত বাসের পেছনের অংশে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
কীভাবে বাসে আগুন লেগেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এবার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সামনেসহ পল্লবী, হাতিরঝিল, মৌচাক ও মিরপুরের পর এবার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ।

তিনি বলেন, ‘রাতে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।‌ এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ দেখছে। আমরা জেনেছি দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।

এর আগে আগারগাঁওয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সামনেসহ পল্লবী, হাতিরঝিল, মৌচাক ও মিরপুরসহ পাঁচস্থানে হাতবোমা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল থেকে রাত ৮টা ২০ মিনিটের মধ্যে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানায়। এর মধ্যে রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে এডিবি ভবনের সামনে একটি হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

শেরেবাংলা থানার ওসি ইমাউল হক বলেন, এডিবি ভবনের সামনের সড়কে বিস্ফোরণে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মোটরসাইকেলে এসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্ত। আসামিদের আটক করতে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইডিবি ভবনের সামনে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আরেকটি ককটেল ফাটানো হয় বলে জানা গেছে।

এছাড়া সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে মিরপুরের পল্লবী থানা এলাকায় মেট্রোরেলের স্টেশনের নিচে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সেখানে যাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়।
তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পল্লবী থানার ওমি মফিজুর রহমান বলেন, মেট্রোরেলের একটি পিলারের নিচে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে সেটি ককটেল নয় চকলেট পটকা, তার ওপরে স্কচটেপ মারা হয়েছে। ভীতি সৃষ্টি করার জন্য এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা।

এদিকে হাতিরঝিলের মধুবাগ ব্রিজের নিচেও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরে যায়।

হাতিরঝিল থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, সন্ধ্যার পরে হাতিরঝিল মধুবাগ ব্রিজের নিচে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে।

শেখ হাসিনার মামলার রায় কাল, নিরাপত্তা জোরদার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল সোমবার। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ ছাড়া অন্য দণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। ভোটার তালিকায়ও দণ্ডিত ব্যক্তির নাম থাকবে না।
এ রায় ঘোষণা ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক অপতৎপরতা প্রতিহত করতে নেওয়া হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ছক।

গত ১৩ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশপ্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
এই রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে এই মামলার বিচারকাজই প্রথম শেষ হতে যাচ্ছে।

গত ২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন। সেদিন ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, ‘১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে সেটা (রায় ঘোষণা) হবে খুব তাড়াতাড়ি।
’ সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বর (সোমবার) রায়ের দিন ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ের তারিখ ঘোষণার আগে মামলার একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, আইন অনুযায়ী প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে : রায়ের তারিখ ঘোষণার পর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘ পরিক্রমা শেষে, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি এখন রায়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ ১৭ নভেম্বর এই মামলাটির রায় ঘোষিত হবে।
’ প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা, ভুক্তভোগী পরিবার, সাক্ষী এবং নেপথ্যে থেকে মামলার বিচারকাজ শেষ করতে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম, যারাই বাংলাদেশে যত শক্তিশালী হোক না কেন, যদি কেউ অপরাধ করে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করে, তাদের সঠিক পন্থায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তাদের আইন অনুযায়ী যে প্রাপ্য, এটা তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়ায় আমরা দীর্ঘ একটি যাত্রা শেষ করেছি। আমরা এখন চূড়ান্ত পর্বে উপনীত হয়েছি। আশা করছি, ইনশাআল্লাহ আদালত তাঁর সুবিবেচনা, প্রজ্ঞা প্রয়োগ করবেন এবং এই জাতির বিচারের জন্য যে আকাঙ্ক্ষা, যে তৃষ্ণা, সেটার প্রতি আদালত সুবিচার করবেন। একটি সঠিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটা ইতি ঘটাবেন। আশা করছি, ভবিষ্যতে এই রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, তেমন একটি রায়ই প্রত্যাশা করছি।’

রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীর বিশ্বাস, খালাস পাবেন হাসিনা : রায়ের তারিখ ঘোষণার পর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী মো. আমির হোসেনও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছেন উল্লেখ করে এই আইনজীবী সেদিন বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা, আমার ক্লায়েন্টরা (মক্কেলরা) খালাস পাবেন। এটা আমি বিশ্বাস করি।’ বিচারকাজ শেষ করে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের ধন্যবাদ জানান আইনজীবী আমির হোসেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপর চলতি বছরের ২৫ মে থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে যেসব মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তার মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা আটটি। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারাধীন পাঁচটি মামলার মধ্যে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে এই মামলাটি ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় মামলা।

রক্তক্ষয়ী লাগাতার আন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই অভ্যুত্থানে পতিত সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে দাবি করে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দেয়, এই অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা হবে। ঘোষণা অনুযায়ী পরে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল গত বছর ১৭ অক্টোবর দুই মামলার বিষয়ে প্রথম শুনানি হয়। সেদিন প্রসিকিউশনের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ এই ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তার আগে গত বছর ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়। তদন্ত শুরু হয় গত বছর ১৪ অক্টোবর। ছয় মাস ২৮ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলি (ঊর্ধ্বতনের নির্দেশনার দায়), হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ব্যাপক মাত্রায় পদ্ধতিগত হত্যা, অপরাধে প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অমানবিক আচরণ, সংঘটিত অপরাধ প্রতিহত না করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।

গত ১ জুন প্রসিকিউশন ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ দাখিল করলে তা আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আত্মসমর্পণ করতে ১৬ জুন সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন সেই বিজ্ঞপ্তি দুটি জাতীয় সংবাদপত্রে ছাপা হয়। আত্মসমর্পণ না করায় তাঁদের পলাতক দেখিয়ে গত ১০ জুলাই মামলার অভিযোগ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী মো. আমির হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই দিন আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এ মামলার রাজসাক্ষী হতে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেন। পরে তাঁর আবেদন মঞ্জুর করা হয়। গত ৩ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারকাজ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাক্ষ্য দেন এ মামলায়। রাজসাক্ষী হিসেবে গত ২ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেন আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। গত ৮ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। টানা পাঁচ দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গত ১৬ অক্টোবর প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ২০ অক্টোবর থেকে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী টানা তিন দিন শেখ হাসিনা-কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ অক্টোবর পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে দুই পক্ষই। তার আগে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ট্রাইব্যুনালে সমাপনী বক্তব্য দেন। সেদিন ট্রাইব্যুনাল জানিয়ে দেন বৃহস্পতিবার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী : শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। দিনটি (১৭ নভেম্বর) ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক অপতৎপরতা প্রতিহত করতে নেওয়া হয়েছে সমন্বিত নিরাপত্তা ছক। গতকাল দুপুরে পটুয়াখালী সার্কিট হাউসের সামনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘিরে বিশৃঙ্খলার কোনো শঙ্কা দেখছেন না। তবে দেশজুড়ে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় থাকবে।

এর আগে রায়ের তারিখ ঘোষণার দিন ১৩ নভেম্বর লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে চালানো ককটেল হামলা ও আগুনসন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সারা দেশে পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে চোখে পড়ছে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। রায়ের দিন আগামীকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। গত শুক্রবার রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ১৭ নভেম্বর সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের চেকপোস্ট জোরদার করা হবে। ফুট প্যাট্রলিং ও মোবাইল প্যাট্রলিং বাড়ানো হয়েছে। সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে সম্ভাব্য সব জায়গায়। রাজধানীর হোটেল, মোটেল, মেস ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাসাবাড়িতেও রেড দেওয়া হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আগুনসন্ত্রাসসহ রায় ঘিরে যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে প্রতিদিনই জেলা এসপিদের কড়া নির্দেশনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা শহর থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঢাকামুখী যাত্রা ঠেকাতে আগে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেটি বহাল রাখা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ১৩ নভেম্বর লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে র‌্যাবের যেমন তৎপরতা ছিল, ১৭ নভেম্বর ঘিরেও একই ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।