শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

সোমবার সকাল ১১টায় শেখ হাসিনার মামলার রায়

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় আগামীকাল সোমবার ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টার অফিস জানিয়েছে, কাল সকাল ১১টায় এ রায় উপলক্ষে আদালত বসবে।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন চেয়ে সেনা সদরে চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামীকাল সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।
গত বছরের চব্বিশের জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে এসব মামলা করা হয়।

এই মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই রায় দেওয়া হবে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করবেন।

শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধেই ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছেন প্রসিকিউশন।

অন্যদিকে আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এ ছাড়া রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনেরও খালাস চেয়েছেন তার আইনজীবী।

গাড়িতে আগুন ও ককটেল নিক্ষেপকারীকে গুলির নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপ করতে এলে গুলির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। আজ রবিবার বিকেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক বেতার বার্তায় তিনি এ কঠোর নির্দেশনা দেন।

ডিএমপির একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ওয়্যারলেসে [বেতার বার্তা] বলেছি যে কেউ বাসে আগুন দিলে, ককটেল মেরে জীবনহানির চেষ্টা করলে তাকে গুলি করতে।
এটা আমাদের আইনেই বলা আছে।’

সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর নিরাপত্তা জোরদারে আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র সাবমেশিন গান (এসএমজি) ব্যবহার করার নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। তার ওই নির্দেশনা নিয়ে তখন দেশব্যাপী মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।

উপদেষ্টা রিজওয়ানার বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর সেন্ট্রাল রোড এলাকায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপদেষ্টার বাসার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

এর আগে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়ও কেউ হতাহত হয়নি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল সোমবার।
এ রায় ঘোষণা ঘিরে গত সপ্তাহে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দেয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ। ওই কর্মসূচি ঘিরে ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে আসছে।

এনসিপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগের রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ের সামনে ককটেল হামলা হয়েছে। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্যস্ততম বাংলামোটর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে পথচারী এবং বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়ও কেউ হতাহত হয়নি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল সোমবার।
এ রায় ঘোষণা ঘিরে গত সপ্তাহে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দেয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ।
ওই কর্মসূচি ঘিরে ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে আসছে।

শেখ হাসিনার রায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার দাবি বিএনপি মহাসচিবের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আগামীকাল সোমবার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই দাবি জানান।

ওই পোস্টে বিএনপি মহাসচিব লিখেছেন, ‘আগামীকাল (১৭ নভেম্বর) বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন, যেখানে গত বছরের ঢাকায় সংঘটিত প্রাণঘাতী সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আমরা পূর্ণ ন্যায়বিচার দাবি করছি!’

এর আগে দুপুরে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব আলমগীর বলেন, ‘আগামীকাল সোমবার ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার রায়কে কেন্দ্র করে একটা মহল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার জন্য পাঁয়তারা করছে।’

রাজধানীতে ৬ প্রেট্রোল বোমাসহ যুবক আটক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বছিলা গার্ডেন সিটি এলাকার আরব মিশন পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির নাম মো. ফেরদৌস ওরফে বারেক ওরফে ভাতিজা। এ সময় তার কাছ থেকে ছয়টি পেট্রোল বোমা, সামুরাই, গ্যাস লাইটার ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করে র‍্যাব।

ফেরদৌস ভোলার দুলারহাট এলাকার ওমর আলীর ছেলে। তিনি মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। র‍্যাব-২ এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শামসুল ইসলাম জানান, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তা, রায়েরবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা করছিলেন ফেরদৌস ও তার সহযোগীরা।
এ উদ্দেশ্যে তারা ওই এলাকায় সমবেত হওয়ার চেষ্টা করছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি ইসরায়েলের

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে রবিবার ইসরায়েলি সেনারা শান্তিরক্ষীদের দিকে গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ভুলক্রমে নীল হেলমেটধারীদের ‘সন্দেহভাজন’ ভেবে সতর্কতামূলক গুলি ছুঁড়েছিল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘খারাপ আবহাওয়া পরিস্থিতি’কে দায়ী করে বলেছে, তাদের লক্ষ্য ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিসংঘের সদস্যদের দিকে ছিল না।

এর আগে রবিবার ইউনিফিল এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী ‘লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েল যে স্থাপনা তৈরি করেছে তার নিকটস্থ একটি অবস্থান থেকে একটি মেরকাভা ট্যাঙ্ক দিয়ে ইউনিফিল শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি চালিয়েছে’, এবং ভারী মেশিনগানের গুলি তাদের কর্মীদের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ মিটার দূরে আঘাত করেছে।

বাহিনীটি বলেছে, ট্যাঙ্কটি ইসরায়েলি অবস্থানের ভেতরে সরে যাওয়ার পর শান্তিরক্ষীরা ‘৩০ মিনিট পরে নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন’।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ‘দক্ষিণ লেবাননের আল-হামামেস এলাকায় দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছিল। সেনারা এরপর সতর্কতামূলক গুলি চালায় এবং সন্দেহভাজনরা দূরে সরে যায়। কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওই সন্দেহভাজনরা ছিলেন জাতিসংঘের সেনা, যারা এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাদেরকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ইউনিফিল সেনাদের দিকে কোনো ইচ্ছাকৃত গুলি চালানো হয়নি।’

ইউনিফিল লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে গত নভেম্বর ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে কাজ করছে।

তারা বলেছে, এ ধরনের গোলাগুলি ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের একটি গুরুতর লঙ্ঘন’, যা ২০০৬ সালে ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছিল এবং গত নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির ভিত্তিও তৈরি করেছিল।

ওই চুক্তি এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা শত্রুতার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েছিল, যা গাজা যুদ্ধ শুরুর পর শুরু হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়ে্লের দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করার কথা ছিল, কিন্তু তারা পাঁচটি এলাকায় অবস্থান ধরে রেখেছে, যেগুলোকে তারা কৌশলগত বলে মনে করে।

ইসরায়েল লেবাননে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, মূলত বলছে যে তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান ও সদস্যদের টার্গেট করছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং আনুষ্ঠানিক সামরিক লিয়াজোঁ চ্যানেলের মাধ্যমে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

রবিবারের ঘটনাটি প্রথম নয়—ইউনিফিল এর আগেও ইসরায়েলকে তাদের শান্তিরক্ষীদের ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ করেছে।

বাহিনীটি বলেছে, ‘আবারো আমরা আইডিএফকে শান্তিরক্ষীদের ওপর বা তাদের নিকটে যেকোনো আগ্রাসী আচরণ ও হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানাই।’

প্রেষণে জনবল নিয়োগে বাংলাদেশ ও কাতার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে চুক্তি

কাতারের দোহাতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী থেকে কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে জনবল নিয়োগ’ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রবিবার (১৬ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং কাতার সশস্ত্র বাহিনীর চীফ অফ স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পাইলট) জাসিম বিন মোহাম্মদ আল মান্নাই।

এ ছাড়া চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান, ডেলিগেশন সদস্যরা এবং দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে প্রেষণে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ৮০০ জনকে কাতারে প্রেরণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ জনবলের সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রেরণকৃত জনবল প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হবে এবং তাদের কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে নিয়োগের মেয়াদ ৬ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।

এ চুক্তির ফলে কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে দক্ষ জনবল প্রেরণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো এবং দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশের সদস্যগণ আর্থিকভাবে উপকৃত হবে এবং বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সমর্থ হবে।

এর পাশাপাশি এই সফরকালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার কাতার সরকার, সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১-২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ‘আর্থনা’ সম্মেলন উপলক্ষে কাতার সফর করেন। সে সময় তিনি কাতার সরকারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টার সে সফর ও ফলপ্রসূ কূটনীতির ফলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও কাতার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর ত্বরান্বিত হয়েছে।

নিউ ইস্কাটন রোডে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের ওয়াক্ফ ভবনের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুল বাসির (৫০) নামে এক পথচারী আহত হয়েছেন।

রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আবদুল বাসির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি হেঁটে বাংলামোটরে তার অফিসে যাওয়ার সময় ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন।

আহত আবদুল বাসির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে হেঁটে অফিসে যাচ্ছিলাম। ওয়াক্ফ ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরিত হয়। আমার ধারণা, ওয়াকফ ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়া উড়ালসড়কের ওপর থেকে ককটেলটি ছোড়া হয়েছে হয়ত।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল মধুবাগ সেতুতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরে যায়।

এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) ফুয়াদ আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে। ‌এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এছাড়া রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে আগারগাঁওয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে শেরেবাংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমাউল হক বলেন, এডিবি ভবনের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মোটরসাইকেলে এসে ককটেল বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আসামিদের আটক করতে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীর বিমানবন্দর রেল স্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত ১১টা ১০ মিনিটে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্ম ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ বলেন, আজ রাতে বিমানবন্দর রেল স্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্মে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। ‌এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ‌ বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ দেখছে। আমরা জেনেছি দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনা ফল থেকে পালিয়ে যায়।

ঢাকাসহ ৪ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

ঢাকাসহ ৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (১৬ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুর জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি।

উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ‌এ ছাড়া বিভিন্ন মহাসড়কসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবিও মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।