শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করতে বলবে ঢাকা, পাঠানো হবে না রায়ের কপি

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরাতে ভারতের কাছে বাংলা‌দেশ সরকার যে চি‌ঠি পাঠা‌বে, সে‌টি প্রস্তুত হচ্ছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

আজ (মঙ্গলবার) রা‌তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান তি‌নি।

তৌহিদ হোসেন জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি এখনো পাঠানো হয়নি। তবে চিঠি প্রস্তুত হচ্ছে। আজই পাঠানো হতে পারে। নোট ভারবালের মাধ্যমে এই চিঠি পাঠানো হবে।

উপ‌দেষ্টা জানান, রায়ের কপি পাঠাবে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুধুমাত্র একটি নোট ভারবালের রায়ের বিষয়টি জানিয়ে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করতে বলা হবে।

জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রা‌য়ের পর সোমবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ব‌লে‌ছি‌লেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরাতে আজ রাতে (‌সোমবার) বা কাল (মঙ্গলবার) সকালে এই চিঠি যাবে।

গত বছ‌রের ৫ আগস্ট শেখ হা‌সিনা সরকা‌রের পতন হয়। ওই সম‌য়ে শেখ হা‌সিনা ভার‌তে আশ্রয় নেন। ভার‌তে থাকা বাংলা‌দে‌শের সা‌বেক প্রধানমন্ত্রী‌কে প্রত‌্যার্পন চু‌ক্তির আওতায় ফেরত চে‌য়ে চি‌ঠি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চিঠির জবাব আসেনি।

হাসিনাকে যে কারণে ফেরত দেবে না ভারত

মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপরই হাসিনার দণ্ড কার্যকর করতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে সেখানেই আছেন তিনি।

ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার পর হাসিনাকে ফেরত চেয়ে যে বিবৃতি বাংলাদেশ দিয়েছে এতে কঠোর ভাষায় বলা হয়েছে, যদি মানবতাবিরোধী হাসিনাকে ভারত এখনো আশ্রয় দেয় তাহলে এটি “অত্যন্ত অ-বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার সামিল হবে।”

তবে তা সত্ত্বেও হাসিনাকে ভারত ফেরত দেবে না বলে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রফেসর সঞ্জয় ভরদ্বাজ। তার মতে ভারত মনে করে, হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাই তাকে ফাঁসিতে ঝোলার জন্য ভারত ফেরত দেবে না।

ভারত হাসিনা প্রতিহিংসার শিকার মনে করলেও, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হাসিনার সরাসরি নির্দেশে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ প্রফেসর আরও বলেছেন, “ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ এখন ভারত বিরোধীদের দ্বারা চলছে। প্রফেসর ইউনূস প্রায়শই ভারতের সমালোচনা করেছেন। যারা হাসিনাকে হটিয়ে দিয়েছে, সেই বিক্ষোভকারীরা হাসিনাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য ভারতকে দোষারোপ করে।”

“এসবের মধ্যে যদি হাসিনাকে হস্তান্তর করা হয় তাহলে, যারা ভারত বিরোধীতা করছেন তাদের বৈধতা দেওয়া হবে।”— বলেন এ প্রফেসর।

হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড ও আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চাওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে ভারত। দেশটি বলেছে, তারা হাসিনার দণ্ডের ব্যাপারে অবগত। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ভালো সম্পর্ক চায় বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো না। হাসিনার সময় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার যে উষ্ণ সম্পর্ক ছিল, সেটি এখন নেই। এর বদলে ভারতকে বাংলাদেশ অবিশ্বাসের চোখে দেখে।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, “হাসিনাকে কীভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে নয়াদিল্লি?”

সাবেক এ রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যতদিন হাসিনাকে বাংলাদেশ ফেরত না দেবে ততদিন দুই দেশের মধ্যে খারাপ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে। তবে এমনটি সবসময় চলতে পারে না। তার মতে, ভারত এখন নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। যখন নির্বাচিত কোনো সরকার আসবে তখন হয়ত সম্পর্ক ভালো হবে। তিনি বলেন, “ভারতকে এখন অপেক্ষা করতে হবে। বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয়কে সম্মন্নত রাখতে হবে। কিন্তু অন্য বিষয়গুলো নিয়ে ঝামেলা করা যাবে না।”

ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সিধার্ত দত্ত বলেছেন, “ভারত হাসিনাকে নিয়ে একটি ফাঁদে পড়ে গেছে। কিন্তু হাসিনা বিরোধী যে অবস্থা বাংলাদেশ চলছে এ বিষয়ে ভারত অন্ধ নয়।”

তিনি বলেন, ভারত চাইবে আবার যেন আওয়ামী লীগ এবং মানবতাবিরোধী হাসিনা ক্ষমতায় আসুক। কারণ হাসিনা ভারতের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।

তবে ভারতকে এখন এই হিসাব পরিবর্তন করতে হবে এবং বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে হবে। সঙ্গে হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার যে বিষয়টি আসছে সেটি ভারতকে উতরাতে হবে।— বলেন সিধার্ত।

সূত্র: আলজাজিরা

লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্পে চুক্তির জন্য ডেনমার্ককে উপদেষ্টার ধন্যবাদ

লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল (এলসিটি) প্রকল্পে চুক্তির জন্য ডেনমার্ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ড্যানিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি লিনা গ্যান্ডলস হ্যানসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল (এলসিটি) প্রকল্পে ড্যানিশ কোম্পানি এপিএম টার্মিনালের ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় একক ইউরোপীয় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশের প্রতি ডেনমার্কের দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথা স্বীকার করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নীত হওয়ার পর বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহায়তার অনুরোধ জানান। তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগের সুযোগ, জ্বালানি দক্ষতা, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।

ড্যানিশ স্টেট সেক্রেটারি অন্তর্বর্তী সরকারকে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত বাংলাদেশ গড়ার পথে সহায়তা করার জন্য ডেনমার্কের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এলসিটি প্রকল্প আমাদের সম্পর্কের একটি নতুন পর্বের সূচনা এবং এই সহযোগিতা দু’দেশের জনগণের সুবিধার জন্য দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূল্যবোধ যোগ করবে। তিনি কক্সবাজারের কাছে প্রস্তাবিত ৫০০ মেগাওয়াট অফশোর উইন্ড পাওয়ার প্রকল্পে সম্ভাব্য ডেনিশ বিনিয়োগ সম্পর্কেও উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয়পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার উপস্থিত ছিলেন।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই তালিকা দিয়েই সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সেদিন ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, দেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন এবং ১ হাজার ২৩০ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।

তিনি আরো জানান, যারা ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন, তারা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। ফলে তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’

সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি, স্কোর ৩৭৬ যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’। আর এ তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে, যার স্কোর ১০১, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ৮টায় সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক বায়ুমান বিষয় ওয়েবসাইট আইকিউএয়ার-এ এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বায়ুদূষণে বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় আজ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, স্কোর ২৮২, (২৮১), তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা, স্কোর ১৯৯, চতুর্থ স্থানে পাকিস্তানের করাচি, স্কোর ১৩৭।

একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়।

আর ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১৫তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৫তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর)। এ মামলায় সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ পেশ হবে। অন্য দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে আজ দুজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. নূরে আলম সিদ্দিক। ১৭ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের পুরো বর্ণনা তুলে ধরেন। পরে তাকে জেরা করেন পলাতক ২৪ জনের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্তসহ উপস্থিত আসামিদের আইনজীবীরা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিম, সাইমুম রেজা তালুকদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

এর আগে, ১৩ নভেম্বর প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দেন পুলিশের নায়েক আবু বকর সিদ্দিক। ১২ নভেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য দেন এসআই (সশস্ত্র) মো. আশরাফুল ইসলাম। রংপুর কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন এসি মো. আরিফুজ্জামান ও তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশে চালানো গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ১১ নভেম্বর জবানবন্দি দেন রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ। তিনি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীদেরও একজন ছিলেন। ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব রেজা খান। তিনিও হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। এ মামলায় যথাক্রমে ৪ নভেম্বর, ২১ ও ১৩ অক্টোবর সাক্ষী না আনতে পারায় পরপর তিনবার সময় পেছানো হয়।

গত ৬ অক্টোবর নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ওই দিন জবানবন্দি দেন পুলিশের দুই উপপরিদর্শক। তারা হলেন- এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল। গত ২৮ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। একই দিন সাংবাদিক মঈনুল হকও সাক্ষ্য দেন।

এ মামলার গ্রেপ্তার ছয় আসামি হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। তাদের উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন সাক্ষীরা।

গত ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত ৩০ জুলাই পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত চার আইনজীবী। এর মধ্যে পাঁচজনের হয়ে লড়েন আইনজীবী সুজাত মিয়া। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মামুনুর রশীদ। এছাড়া শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম। ২৯ জুলাই তিন আসামির পক্ষে শুনানি হয়। এর মধ্যে শরিফুলের হয়ে লড়েন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। কনস্টেবল সুজনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইমরানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সালাহউদ্দিন রিগ্যান।

২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। আর ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।

লালদিয়ায় ডেনমার্কের বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য নতুন যুগের সূচনা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, লালদিয়া টার্মিনালে ডেনমার্কের কোম্পানি এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ বাংলাদেশের বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করেছে।

তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য একটি নতুন সূচনা। এটি ডেনমার্ক ও ইউরোপ থেকে বৃহত্তর ও বহুমুখী বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন করছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মায়ের্স্ক গ্রুপ ও ডেনিশ সরকারের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এপিএম (এপি মোলার-মায়ের্স্ক) টার্মিনালসের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মায়ের্স্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান রবার্ট মায়ের্স্ক উগলা প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন। ডেনমার্কের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি লিনা গান্দলোসে হ্যানসেনও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসা উগলা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর টার্মিনালে তার কোম্পানির বিনিয়োগ হবে বাংলাদেশে কোনো ইউরোপীয় কোম্পানির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালে লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে এটি চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ আগমনের সুযোগ তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি সঞ্চার করবে।

উগলা বলেন, এটি হবে একটি টেকসই বন্দর। এটি আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনিশ বিনিয়োগ বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে সহায়তা করবে।

মায়ের্স্ক গ্রুপ চেয়ারম্যান আরও জানান, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিপিং লাইন মালিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা বাংলাদেশের লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন খাতে আরও বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ করবে।

গত জানুয়ারিতে দাভোসে বৈঠকের পর বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য উগলাকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

ডেনিশ কোম্পানির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।

অধ্যাপক ইউনূস এপিএম টার্মিনালসকে লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে লাখ লাখ উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি হবে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার। এটি ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচন করবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম উপকূলরেখার বন্দরগকে বিশ্বমানের সুবিধায় রূপান্তর করা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্য সম্ভাবনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দাভোসে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করে উগলা বলেন, একটি ফাউন্ডেশনের মালিকানাধীন মায়ের্স্ক গ্রুপ অধ্যাপক ইউনূসের কাজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিনিয়োগ স্থানীয় সম্প্রদায়ে বড় প্রভাব ফেলবে। কোম্পানি নারীদের সহায়তার উদ্যোগেও গুরুত্ব দেবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি মাইলফলক। তিনি ডেনিশ বিনিয়োগের প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন, এটি প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।

হ্যানসেন সম্প্রতি অনুমোদিত শ্রম আইন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এটি আরও বেশি ইউরোপীয় কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে ডেনিশ রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরছেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি

ত্রিপোলীর বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ১৭ নভেম্বর বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আইওএমের সহায়তায় দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিতরা আইওএম কর্তৃক চার্টার্ড করা বুরাক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট UZ222-এর মাধ্যমে ১৮ নভেম্বর আনুমানিক সকাল ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন এবং প্রত্যাবাসিতদের বিদায় জানান। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএমের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অভিবাসীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈধ ও নিরাপদ পথই একমাত্র সঠিক উপায়। তিনি প্রত্যেককে দেশে ফিরে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, সরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ গমনের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, অবৈধ অভিবাসন শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও জাতীয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দেশে ফিরে শুধু চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সুবিধা, ঋণ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় অবদান রাখার সুযোগ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি।

রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের আইনগত অধিকার সম্পর্কেও অবহিত করেন এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দেশে ফিরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ প্রক্রিয়ায় তিনি দূতাবাসের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

আফগানদের হারিয়ে সেমিফাইনালে এক পা বাংলাদেশের

প্রথম দুই ওভারে ৮ বলের মধ্যে রিপন মন্ডল আফগানিস্তানের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে মাঠছাড়া করলেন। ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খাওয়া আফগানিস্তান তারপর রকিবুল হাসানের স্পিনে আর দাঁড়াতে পারেনি। ৭৮ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশ সেই রান তাড়া করেছে অনায়াসে।

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স প্রতিযোগিতায় দুই দেশের ‘এ’ দলের খেলায় ৮ উইকেটে জিতে সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন দারউইশ রাসুলী। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের শিকার হন অধিনায়ক। তারপর দুজন দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন।

প্রথম পাঁচ উইকেট আফগানরা হারায় ৩৫ রানে। শেষ পাঁচ ব্যাটারকে ফিরতে হয়েছে ১৬ রানের ব্যবধানে। রিপন ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। রকিবুল ৭ রান দিয়ে পান ৩ উইকেট। তবে শুরুতেই আফগানদের ব্যাটিংয়ে আঘাত করায় ম্যাচসেরা হয়েছেন রিপন। মেহেরব পেয়েছেন দুটি উইকেট।

লক্ষ্যে নেমে আগের ম্যাচের রেকর্ড সেঞ্চুরিয়ান হাবিবুর রহমান সোহান ১৩ বল খেলে ১০ রানে আউট হন। গজনফর তাকে ফিরিয়ে পরের ওভারে আরেক ওপেনার জিশান আলমকে (১০) বিদায় করেন।

২৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জাওয়াদ আবরার ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জিতে যায় বাংলাদেশ। ২৪ রানে উইকেটে ছিলেন জাওয়াদ, ২৭ রানে অপরাজিত অঙ্কন।

১৩.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৭৯ রান করে বাংলাদেশ।

দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালের লক্ষ্যে আগামীকাল শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের মুখোমুখি হবে তারা। লঙ্কান ও আফগানরা সমান ম্যাচ খেলে ২টি করে পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে।

প্রথম ম্যাচে হংকং ১৬৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর তুলেছিল। বাংলাদেশ সেই রান অতিক্রম করেছে ৫৪ বল হাতে রেখে। সোহান রেকর্ড সেঞ্চুরি করেন। ৩৫ বলে ১০০ রানের হার না মানা স্মরণীয় ইনিংস খেলেন তিনি।

সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরের আগে একথা জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি বলছি, আমরা এটা করব। আমরা এফ-৩৫ বিক্রি করব।”

এর আগে গত শুক্রবার তিনি জানিয়েছিলেন, লকহিড মার্টিনের তৈরি এই উন্নত যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব। তার ভাষায়, “ওরা অনেক বিমান কিনতে চায়। তারা আমাকে বিষয়টা দেখতে বলেছে। তারা অনেক ‘৩৫’ কিনতে চায়, বরং এর চেয়েও বেশি ধরনের যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, তিনি সৌদির কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন।

অন্যদিকে ব্লুমবার্গ এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরকালে ট্রাম্প ও তিনি এফ-৩৫ কেনার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন।

এছাড়া সফরে আরও অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিও হতে পারে, যার মধ্যে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সম্পর্কিত একটি চুক্তিও রয়েছে।