শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক আহত

খুলনায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রাজু (২৫) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে নগরীর লবণচরা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

গুলিবিদ্ধ রাজু নগরীর লবনচরা আশি বিঘা এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, রাতে রাজু তিন রাস্তার মোড়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

লবণচরা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।

গণভোটের জন্য আইন প্রণয়ণ শুরু করলো সরকার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার গণভোটের পথে এগোচ্ছে। এই গণভোটের আইনী ভিত্তি তৈরি করতে সরকার এখন গণভোটের উপযোগী আইন প্রণয়ন করছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ১৯ নভেম্বর পাঠানো ওই চিঠিতে দ্রুত ‘যথোপযুক্ত আইন’ প্রণয়নের অনুরোধ করা হয়েছে।

সম্প্রতি হাতে আসা নথিপত্র এবং মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর কয়েক মাস আগে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। ওই আদেশের ধারা-৬ অনুযায়ী গণভোট আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহায়ক আইন প্রণয়ন করতে হবে। এই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের দায়িত্বে পড়ে। সেই কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গণভোট পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্ট আইন অপরিহার্য। তবে সংবিধান সংস্কার এখন রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার। তাই দ্রুত আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যালট পদ্ধতি, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রচারের বিধি এবং ফলাফল চূড়ান্ত করার নিয়ম সবকিছু আইনেই নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশে এখনো গণভোট আইন নেই, তাই এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত থাকায় আইন প্রণয়নের জন্য বিকল্প সাংবিধানিক কাঠামো ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু সময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ আইন প্রণয়ন, বিধিমালা তৈরি, মাঠ প্রশাসনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা সময়সাপেক্ষ। নতুন আইন হলে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ বাজেটও প্রয়োজন হবে।

হাতে আসা নথিপত্রে দেখা গেছে, ১৯ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবসমূহ অনুমোদনের জন্য গণভোট প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকারের পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছেন। ধারা-৬ অনুযায়ী গণভোট আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে যথোপযুক্ত আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের কার্যকর প্রস্তুতির জন্য গণভোটের উপযোগী আইন প্রণয়ন জরুরি। এটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের দায়িত্বে থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি জাতীয় সংবিধান সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গণভোট আয়োজনের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক ধাপ হিসেবে আইন প্রণয়ণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রণয়নকালে জনগণ যেন সহজে বোঝে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের জন্য তিন-চার দিনের মধ্যে আইন প্রণয়ন করা হবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু এখনও ওই গণভোট বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি হয়নি। অধ্যাদেশ না থাকায় নির্বাচন কমিশন গণভোটের প্রস্তুতি নিতে পারছে না। সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, অধ্যাদেশ হলে তখনই তারা কার্যক্রম শুরু করবেন।

প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, গণভোট আইন প্রণয়ন এখন সময়োপযোগী ও জরুরি। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিটি ধাপ জনগণের কাছে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা। নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে গণভোট কীভাবে হবে, ভোট গ্রহণ ও ফলাফল চূড়ান্তকরণের নিয়ম কী, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কেমন থাকবে, প্রচার-প্রচারণার সীমাবদ্ধতা কী হবে। আইন প্রণয়ন হওয়া মাত্রই এসব বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আইন বাস্তবায়নযোগ্য, বোধগম্য এবং অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। স্বচ্ছতা না থাকলে গণভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রাশেদা রওনক বলেন, গণভোট সংবিধান সংস্কারের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নেওয়া হচ্ছে। এটি কেবল আইনি বা প্রশাসনিক বিষয় নয়, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেও প্রভাবিত করবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে জনগণকে নিশ্চিত করতে হবে যে গণভোটের পদ্ধতি, প্রচার-প্রচারণার বিধিনিষেধ, পর্যবেক্ষণ কাঠামো এবং ফলাফল চূড়ান্তকরণের নিয়ম সবকিছু স্বচ্ছ ও সমান সুযোগ প্রদানের মধ্যে হবে। আইন প্রণয়ন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করা হলে গণভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। এতে দেশের রাজনৈতিক আস্থা ও স্থিতিশীলতা শক্তিশালী হবে।

যুদ্ধবিরতির পর থেকে ৬৭ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত : জাতিসংঘ

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত এক মাসে গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে ৬৭ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ (ইউনিসেফ)।

শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের একটি বাড়িতে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক নবজাতক কন্যাশিশু নিহত হয়।’

এ ছাড়াও এক দিন আগে ইসরায়েলি বাহিনীর বিভিন্ন স্থানে চালানো হামলায় আরো সাত শিশু নিহত হয়।

পিরেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়ের ঘটনা।
এই ধারা ভয়াবহ।’

১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির প্রথম পূর্ণ দিনের পর থেকে চলমান এই সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বহুবার বলেছি, এগুলো কেবল সংখ্যা নয়। প্রতিটি শিশু ছিল একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি জীবন যা হঠাৎ করেই সহিংসতায় শেষ হয়ে গেছে।’

ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৬৪ হাজার শিশু নিহত ও আহত হয়েছে।
গাজার শিশুদের ওপরই এ বর্বরতার সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে বলে সংস্থাটি জানায়।

নিউইয়র্ক দারুণ এক মেয়র পাবে : মামদানির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাদের ওভাল অফিস বৈঠককে ‘দারুণ’ ও ‘খুব ফলপ্রসূ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

রেজলুট ডেস্কের পেছন থেকে মামদানিকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মাত্রই একটি দারুণ বৈঠক করলাম—একটি সত্যিই ভালো, খুব ফলপ্রসূ বৈঠক।’

নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া ট্রাম্প তীব্র রাজনৈতিক মতভেদের পরও উভয়ের অভিন্ন অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় আমাদের মিল—আমরা চাই আমাদের এই প্রিয় শহরটি খুব ভালো করুক।
আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি, এবং আমরা কয়েকটি বিষয়ে কথা বলেছি যেগুলোতে আমাদের দৃঢ় মিল রয়েছে—যেমন হাউজিং এবং বাড়ি নির্মাণ, খাদ্যের দাম। তেলের দাম অনেক নিচে নেমে আসছে।’

ট্রাম্প আসন্ন মেয়রের প্রতি সদিচ্ছার ইঙ্গিতও দেন এবং বলেন যে মামদানি হয়ত রক্ষণশীলদেরও বিস্মিত করতে পারেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, আশা করি আপনারা সত্যিই দারুণ এক মেয়র পাবেন।
তিনি যত ভালো করবেন, আমি ততই খুশি হব। আমি বলব যে এখানে কোনো দলের পার্থক্য নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি তিনি আসলে কিছু রক্ষণশীল মানুষকে এবং কিছু খুব উদারবাদীকেও বিস্মিত করবেন।’

সূত্র : সিএনএন

নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করব : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা শিগগিরই একটি নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করব- সেটিই আমাদের স্বপ্ন। এই নির্বাচন যেন সুন্দর, আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর হয় সেটার জন্য আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫’ উপলক্ষ্যে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আসন্ন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশগঠন ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী সর্বদাই জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও চলমান দেশ পুনর্গঠন এবং সংস্কারের কাজেও সশস্ত্র বাহিনী বরাবরের মতোই মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের আস্থার প্রতিদান দিচ্ছে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি অনুগত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পেশাগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে ত্যাগ ও তৎপরতার এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখবে।

সরকার প্রধান বলেন, একটি শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে আমরা সকল বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তথাপি যেকোনো আগ্রাসী বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের সদা প্রস্তুত ও সংকল্পবদ্ধ থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাহিনীগুলোতে যুগোপযোগী প্রযুক্তি সংযোজনের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের বাহিনীগুলোর দক্ষতা বজায় ও বৃদ্ধির বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সকল বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে দেশরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে বিপুলসংখ্যক ছাত্র ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে বিএনসির কার্যক্রম বহুগুণ বৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম ১৯৭১ সালের রণক্ষেত্রে। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সঙ্গে নৌ ও বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিল বলে এই দিনটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক মাইলফলক হিসেবে গৌরবের সঙ্গে পালন করা হয়। আমরা যদি বিজয় অর্জন না করতাম তবে এই বীর সেনাদের মৃত্যুদণ্ড ছিল অনিবার্য এবং তাদের পরিবারের সকল সদস্যের জীবন হয়ে উঠত অসহনীয়। মুক্তিকামী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতভয় বীর সেনানীরা জীবনের পরোয়া না করে, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তাঁরাই আপামর জনসাধারণকে সাহস জুগিয়েছেন এবং জল, স্থল ও আকাশপথে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, যুদ্ধ বেগবান ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তখন ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ গঠন করা হয়। যার অধীনে ১১টি সেক্টরে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরই চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখি ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে এই যৌথ অভিযানে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি বলেন, বিগত ৩৭ বছরে জাতিসংঘে আমাদের শান্তিরক্ষীরা সফলতার সঙ্গে ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশন সম্পন্ন করেছে। বর্তমানেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে তারা নিয়োজিত আছেন। বাংলাদেশ এখন অন্যতম বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ একটি দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য নাম। এজন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যাতে চ্যালেঞ্জিং ও বিপদজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে, সেজন্য তাঁদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি। আমরা যেন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে পারি- এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

সেনানিবাসে খালেদা জিয়া-প্রধান উপদেষ্টার একান্ত আলাপ

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে তিনি রওনা হয়ে সাড়ে ৪টার পর সেনাকুঞ্জে পৌঁছান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে পৌঁছার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্তে কয়েক মিনিট কথা বলেন।

তবে, খালেদা জিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার আলাপের বিষয়বস্তু কী ছিল তা জানাননি শায়রুল কবির খান।

এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পারষ্পরিক সৌজন্য বিনিময় করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং শুভকামনা জানান।

এ সময় খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্রবধূ সৈয়দা শর্মিলা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে একই গাড়িতে সেনাকুঞ্জে গিয়েছেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ভাই সাঈদ ইসকান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইসকান্দার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

শায়রুল কবির খান জানান, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদও সেনাকুঞ্জের এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

গত বছরও সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যোগ দিয়েছিলেন।

বায়তুল মোকাররমে বৈদ্যুতিক খুটিতে আগুন

ঢাকা: রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের একটি পিলারের ভেতরের খুটিতে হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত ঘটেনি।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে পিলারের ভেতরের বৈদ্যুতিক খুটির দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা দেখা দিলে মসজিদে থাকা মুসল্লি ও আশপাশের মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। খবর পেয়ে মসজিদের নিরাপত্তা কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালালেও আগুন বাড়তে থাকায় তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
বিজ্ঞাপন

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, পিলারের ভেতরে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুটিতে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুন মসজিদের মূল কাঠামোতে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

পাকিস্তানে ২ দিনের সেনা-পুলিশ অভিযানে টিটিপির ৩০ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় সেনা-পুলিশ যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর ২ দিন ব্যাপী একাধিক পৃথক অভিযানে নিহত হয়েছে দেশটির নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)- এর ৩০ জন সদস্য।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ এবং ১৯ নভেম্বর, অর্থাৎ সোম এবং মঙ্গলবার খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াতি, মোহামান্দ, টাঙ্ক এবং কুররম— চার জেলায় অভিযান চালিয়েছে সেনা-পুলিশ যৌথ বাহিনী। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে কুররম জেলা— ১২ জন।

টিটিপিকে ফিৎনা আল খারিজি নাম দিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আইএসপিআর বলেছে, নিহত এই সন্ত্রাসীরা ফিৎনা আল খারিজি’র দু’টি গ্রুপের।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তারপর থেকেই আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী দুই পাকিস্তানি প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও হামলার নাটকীয় উল্লম্ফন ঘটেছে।

খাইবার পাখতুনখোয়া মূলত পাকিস্তানপন্থি তালেবানগোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটি অঞ্চল। অন্যদিকে বেলুচিস্তানে ব্যাপকভাবে তৎপর বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। এ দু’টি গোষ্ঠীই পাকিস্তানে নিষিদ্ধ।

ইসলামাবাদভিত্তিক থিংকট্যাংক সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংসতার হার বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।

সিআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৩২৯টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৯০১ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৯৯ জন।

আর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পুলিশ বিভাগের একটি প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শুধু খাইবার পাখতুনখোয়াতেই ঘটেছে ৬ শতাধিক সন্ত্রাসী হামলা। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ৭৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মী এবং ১৩৮ জন বেসামরিক।

সূত্র : জিও টিভি

মেট্রোরেলের লাইনে পাওয়া গেল অবিস্ফোরিত দুই ককটেল

রাজধানীর কাজিপাড়া ও শেওড়াপাড়ার মাঝামাঝি জায়গায় মেট্রোরেলের ট্র‍্যাক লাইনে জর্দার কৌটায় স্কচটেপ পেঁচানো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে এমআরটি পুলিশ। পরে খবর দেওয়া হলে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে ককটেল দুটি অপসারণ করে।

আজ (শুক্রবার) সকাল ৯টায় মেট্রোরেলের লাইনে ককটেল দুটি পড়ে থাকার সংবাদ পায় এমআরটি পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এমআরটি পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সোহেল চৌধুরী বলেন, মেট্রোরেলের ২৮৮ ও ২৮৯ নম্বর পিলারের ওপর ট্র্যাক লাইনে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, আমরা সকাল ৯টার দিকে খবর পাই। লাইনে মেইনটেনেন্সের কাজ যারা করে, তারা সর্বপ্রথম ককটেল দুটি দেখতে পায়। ‌মেট্রোরেলের লাইনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে কাফরুল থানায়।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে জায়গায় ককটেল দুটি পাওয়া গেছে সেখানে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ নেই। কারণ লাইন তো অনেক ওপরে। তবে আশপাশের বিভিন্ন ভবনের এবং নিচের দোকানপাটের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া অবিস্ফোরিত ককটেলও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। সর্বশেষ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ডিএমপির পল্লবী থানার একজন এএসআই আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার গভীর শোক প্রকাশ

ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়ি ধসে এবং অন্যান্য দুর্ঘটনায় হতাহতের খবরে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক শোক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।

শোকবার্তায় বলা হয়, ইতোমধ্যে এক শিশুসহ কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গাজীপুরে কারখানা শ্রমিক ও ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একশর কাছাকাছি ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ ধৈর্য ও সাহস ধরে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন।