শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

ঢাকার ভবনঝুঁকি ও ভূমিকম্প সহনক্ষমতা নিয়ে জোরদার পদক্ষেপের তাগিদ

জাতীয় ডেস্ক

রাজধানী ঢাকার বর্তমান নগরায়ন কাঠামো ভূমিকম্পের বড় ধরনের ধাক্কা সহ্য করার মতো সক্ষম নয় বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ, জাতীয় ভবন নির্মাণ কোড অনুসরণ না করা এবং অপরিকল্পিত জনবসতি বিস্তারের কারণে ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতি বাস্তবায়ন ও ভবন নিরাপত্তা যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন পরিকল্পনাবিদরা।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় ২১ লাখেরও বেশি ভবন রয়েছে। জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, নিকটবর্তী মধুপুর ফল্টে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে রাজধানীতে কয়েক লাখ ভবন ধসে পড়তে পারে। অধিকাংশ ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়নি এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ ভবন অনুমোদিত নকশার বাইরে তৈরি হয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।

এ বছর রাজউক প্রায় সাড়ে তিন হাজার অবৈধ ভবন চিহ্নিত করেছে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। রাজধানীর বসিলা, ঢাকা উদ্যান, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিপুলসংখ্যক ভবন গড়ে ওঠার বিষয়টিও নজরে এসেছে। ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯৫ হাজার ভবন নির্মিত হলেও সেগুলোর মাত্র চার হাজারের মতো ছিল অনুমোদিত। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণশৈলী রাজধানীর ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি বহুগুণ বেশি। পরিকল্পনাহীন বহুতল ভবন, বস্তি, সরু সড়ক এবং দুর্বল মাটির গঠন এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের বড় অংশের মাটি পলিমাটি হওয়ায় শক্ত কম্পনে তা তরলীকৃত হয়ে ভবনধসের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ভবনগুলোর ওপর পরিচালিত মূল্যায়নে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ভবনই ২০ থেকে ৩০ বছর আগে নির্মিত। কোথাও নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণ হয়নি, কোথাও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হয়নি। এর ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও এসব ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৪টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঢাকার মালিবাগ, আরমানিটোলা, সূত্রাপুর, বনানী, কলাবাগান, বসুন্ধরা, নর্দ্দা, খিলগাঁও, বনশ্রী, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর এবং বিমানবন্দর এলাকার কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীতে ভবন নিরাপত্তা যাচাই ও ঝুঁকি নিরূপণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি রাজউকের নেই। অনুমোদনহীন ভবনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা খাল-নদীবিল দখল করে গড়ে ওঠা ভবন সম্পর্কে তথ্যও অস্পষ্ট। ফলে বিপুলসংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ বা সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি বৃহত্তর ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে রাজধানীতে ব্যাপক ক্ষতি, ভবনধস ও প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, ঢাকার আশপাশের এলাকায় অতীতে বড় মাত্রার ভূমিকম্প নথিবদ্ধ হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রাজউকের সাবেক প্রকল্প পরিচালকরা জানান, ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে মাটির গুণগতমান পরীক্ষা করে একটি রিস্ক সেনসিটিভ ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। ভূমিকম্প সহনীয়তা যাচাইয়ের জন্য পৃথক প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রক্রিয়ার কথাও জানানো হয়। তবে কার্যকর তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের সুপারিশ অনুযায়ী, জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে প্রয়োগ, অনুমোদনহীন ভবনের তালিকা প্রকাশ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ, নিম্নাঞ্চলে নির্মাণ নিষিদ্ধকরণ এবং জলাধার ও পানি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এলাকা ভরাট বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন ভবনে অনুমোদিত নকশা ও কাঠামোগত মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রাজধারীর নীতিমালা সংশোধন ও নতুন ইমারত বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ভবন নির্মাণে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত পরিকল্পনায় ঢাকার ব্লকসংখ্যা পুনর্বিন্যাস, ভবনের উচ্চতা বৃদ্ধির সুযোগ, বর্ধিত জনঘনত্ব ও নতুন শর্ত যোগ করা হয়েছে। সিউয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, অকুপ্যান্সি সার্টিফিকেটের নতুন নিয়ম এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকার আশপাশে গত দুই শতকের বেশি সময় ধরে একাধিক বড় ভূমিকম্প হয়েছে। এর মধ্যে মধুপুর ফল্ট, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের নথি রয়েছে। সর্বশেষ মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্পটি ঢাকার নিকটবর্তী নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপন্ন হয়, যা আবারও ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও ঝুঁকি কমানো এবং সম্ভাব্য ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সময়মতো কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, ভবন নিরাপত্তা যাচাই এবং নগর পরিকল্পনা কঠোরভাবে অনুসরণ।

ভূমিকম্পে হতাহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত ভূমিকম্পে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাঁচটি জেলা—ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদি, গাজীপুর ও মাগুরা—থেকে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র পাওয়া গেছে। ঢাকায় ৪ জন নিহত ও ৫৯ জন আহত হয়েছে। নারায়নগঞ্জে ১ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়। নরসিংদিতে নিহত ৫ জনসহ আহত হয়েছে ১১০ জন। গাজীপুরে আহতের সংখ্যা ২৫২ এবং মাগুরায় আহত হয়েছে ২২ জন। মোট হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু ও ৪৬১ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পের পরপরই গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জরুরি সাড়াদান কেন্দ্র চালু করা হয়। জরুরি কেন্দ্রের ফোন নম্বর ০২৫৮৮১১৬৫১। কেন্দ্রটি সব জেলার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি জেলার প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে নিহত প্রতিটি পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহত প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঘরে ফিরেছেন। ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। মূল্যায়ন সম্পন্ন হলে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।

আ.লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না : ইশরাক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা গুপ্ত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

নিজেদের ভেতরের বিভেদ দূর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভেদ আন্দোলনকে দুর্বল করবে। জুলাই আন্দোলনের সব দল ঐক্যবদ্ধ না থাকলে বহিঃশত্রুরা দেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে।

দেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সব ধরনের বিভেদ ভুলে এগিয়ে যেতে হবে।

একইদিনে গণভোট করতে ইসিকে চিঠি সরকারের

একইদিনে গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একইদিনে গণভোট করতে হবে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) এই তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, সরকার চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, গণভোট করা ইসির দায়িত্ব। এক্ষেত্রে একইদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করার জন্য বলা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন সম্প্রতি বলেছেন, সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেলে গণভোট নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট করতে চায় ইসি।

গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ মানুষ বুঝতে পারছে না : মির্জা ফখরুল

গণভোট নিয়ে এখনো মানুষ বুঝে উঠতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, পিআর দেশের মানুষ বোঝে না। পিআরের সঙ্গে আমরা পরিচিত নই। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ মানুষ বুঝতে পারছে না। শেষ দিন পর্যন্তও বুঝতে পারবে না।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে আইডিইবির মাল্টিপারপাস হলে মউশিক কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫-১৬ বছর একটা ভয়াবহ দানবীয় সরকার ছিল। নিজের লোক, দলের লোক বসাতে গিয়ে সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়েছে।

তিনি বলেন, আপনাদেরকে আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই, এত মুসলমানের দেশ, এত মাদ্রাসা, মসজিদ, এত ইমাম, উলামা, বিদ্বান পণ্ডিতরা থাকা সত্ত্বেও দেশে এত অন্যায় কেন? এত পাপ কেন? কেন মানুষ এত চুরি করে? এত দুর্নীতি করে? কেন আমরা সম্পদ বিদেশে পাচার করে দিই? আমি বুঝতে পারি না। একটি মসজিদ তৈরির ব্যাপারে আমাদের মানুষের যে আগ্রহ- সেই আগ্রহ কোথায় যায় যখন একটি ভালো মানুষ তৈরির কথা আসে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের খতিব ও ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

ক্ষমতায় গেলে পিআর বাস্তবায়ন করবো : জামায়াত আমির

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পিআর নিয়ে আমাদের দাবি অব্যাহত রয়েছে। এটি জনগণের স্বার্থে বাস্তবায়ন করতে হবে। এমনকি আমরা ক্ষমতায় গেলেও কথা দিচ্ছি যে পিআর আমরা বাস্তবায়ন করব, ইনশাল্লাহ।

আজ (শনিবার) বিকেলে চট্টগ্রাম কলেজের (প্যারেড ময়দান) মাঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেখেন, আমাদের এত পজিটিভ এজেন্ডা—আমরা জাতির জন্য কী করব, এগুলো ভাবতে আর বলতে বলতে সময় চলে যায়। কাউকে খোঁচানোর জন্য কিংবা কারো খোঁচার জবাব দেওয়ার সময় আমাদের নেই।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, কিন্তু এই ফিল্ড তৈরি করতে হবে আমাদের—সবাইকে মিলে। আপনারা তৈরি থাকুন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে হবে। না হলে এ দেশে সংকট দেখা দেবে। আমরা কোনো সংকট তৈরি হতে দেব না, ইনশাল্লাহ!

চট্টগ্রামে ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে আকবর শাহ থানার পূর্ব ফিরোজ শাহ কলোনীর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বড় মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে যোগ দেবেন। এর পর সন্ধ্যা ছয়টায় তিনি চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচনের দিন গণভোট হলে জেনোসাইড হতে পারে : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের দিন গণভোট চাই না। নির্বাচনের দিন গণভোট হলে জেনোসাইড হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। সেটা আমাদের তৈরি করতে হবে।
এই নির্বাচন না হলে দেশে সংকট দেখা দেবে। কিন্তু আমরা কোনো সংকট তৈরি হতে দেব না।

শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম সফরকালে নগরের চকবাজার প্যারেড মাঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এরআগে হেলিকপ্টার করে চকবাজারের প্যারেড মাঠে অবতরণ করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি-না? এই প্রশ্নে জামায়াতের আমির বলেন, ইনশাআল্লাহ নির্বাচন হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এখন স্থানীয় নির্বাচনের কথা বলছি না। কারণ এটা সম্ভব নয়। আমরা অবাস্তব কোনো দাবিতে বিশ্বাস করি না।
নির্বাচনের দিন গণভোট ভালোভাবে চাই না। নির্বাচনের দিন গণভোট হলে জেনোসাইড হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো জোট করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো জোট করব না, তবে অনেকগুলো দল এবং শক্তির সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী সমঝোতা হবে ইনশাআল্লাহ।

চট্টগ্রামের সব আসনে জামায়াত প্রার্থীর জয়ের জন্য কোনো বার্তা আছে কি-না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রামের সব আসনে জামায়াতের প্রার্থী জয়ের কোনো বার্তা দেব না, আমি জনগণের বিজয়ের বার্তা দেব। আমি জামায়াতের বিজয় চাচ্ছি না, আমি জনগণের বিজয় চাচ্ছি।

পিআর নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দাবি অব্যাহত আছে জানিয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পিআরের দাবি বাস্তবায়ন হবে জনগণের স্বার্থে। আমরা ক্ষমতায় গেলেও কথা দিচ্ছি, পিআর আমরা বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।

এদিকে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম সফরকালে বিকেলে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নগরের আকবরশাহ থানার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া (পূর্ব ফিরোজ শাহ কলোনি) বড় মাদরাসায় বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন।

এরপর তিনি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। পূর্বনির্ধারিত এসব কর্মসূচি শেষে গত রাতে বিমানযোগে তাঁর ঢাকা যাওয়ার কথা রয়েছে।

ভুটানের সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক সই

ভুটানের সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। শনিবার (২২ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা এবং ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে এ দুই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমঝোতায় সই করেন স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথড ও অন্যান্য টেলিযোগাযোগ সেবা বাণিজ্যসংক্রান্ত সমঝোতায় সই করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান।

প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগে শেরিং তোবগের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস একান্ত বৈঠক করেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

শনিবার সকালে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তোবগে। ড্রুকএয়ারের বিমানে এসে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাকে স্বাগত জানান।

চিত্রনায়িকা পপির পারিবারিক সম্পদ ও প্রতারণা নিয়ে অভিযোগ, আইনি সহায়তার সন্ধানে অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক

জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক বিরোধ এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলেও ব্যক্তিগত নানা জটিলতার কারণে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে ফিরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিয়ে ও সন্তান জন্মের পরও স্থিতিশীল সংসার করতে পারছেন না মূলত সম্পদ-সংক্রান্ত বিরোধ এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার কয়েক বছরের অনুপস্থিতির সময় এবং চলচ্চিত্র থেকে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ বিনিয়োগের পর খুলনায় যে সম্পত্তি গড়ে ওঠে, সেটি এখন আর তার নিয়ন্ত্রণে নেই। পপি জানিয়েছেন, এসব সম্পদের বিষয়ে তিনি পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পপির দাবি, এক সময় পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে যিনি তাদের বাড়িতে অবস্থান করতেন, পরবর্তীতে তিনি তার চাচাতো বোনকে বিয়ে করেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। পপির অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তার সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে উক্ত ব্যক্তি অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেছেন এবং বিভিন্ন শক্তিশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে ক্ষমতা প্রদর্শন করতেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিনেত্রী আরও দাবি করেন যে, চলচ্চিত্রে কাজ করে অর্জিত অর্থের বেশির ভাগ তিনি পরিবারের পরামর্শে খুলনায় বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করেছিলেন। তার ভাষ্যে, বাবা-মা ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা তাকে বিভিন্ন সময়ে জমি কেনার জন্য উৎসাহিত করেন এবং তিনি তাদের পরামর্শে সে বিনিয়োগ করেন। পপির অভিযোগ, পরবর্তীতে ওই জমি ও সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ তিনি হারিয়ে ফেলেন। তার দাবি, জমির মালিকানাসংক্রান্ত স্পষ্ট নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তিনি বাস্তবে সম্পত্তির দখল বা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে তিনি বিভিন্ন আত্মীয়কে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন—বাড়িঘর সংস্কার, পারিবারিক খরচ, বিবাহ আয়োজনসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু এখন উল্টো তার বিরুদ্ধে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে এবং তিনি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছেন। পপির অভিযোগ, তিনি যখন খুলনায় ফেরেন, তখন দেখেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিজের মতো জায়গা-জমি করে নিলেও তিনি নিজের সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন না।

ঢাকায় কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি না থাকার বিষয়েও পপি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অভিনয়জীবনে দীর্ঘ সময় কাজ করলেও ঢাকায় কোনো ফ্ল্যাট বা জমি ক্রয় করতে পারেননি। চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থার কারণে ভবিষ্যতে নতুন করে সম্পদ তৈরি করাও তার কাছে কঠিন বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে খুলনায় অবস্থিত সম্পত্তিই তার একমাত্র ভরসা, যা তিনি বর্তমানে নিজ দখলে পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন।

আইনি সহায়তার বিষয়ে পপি জানান, তিনি বিভিন্ন সময় থানায় গিয়েও কার্যকর সহযোগিতা পাননি। তিনি বলেছেন, তার সন্তানকে নিয়ে আদালত ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার দফতরে যেতে হচ্ছে, যা শিশুর ওপর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বিগত বছরগুলোতে প্রশাসনিক সহায়তার অভাবে তিনি প্রতিকার পাননি এবং এখনো সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন না।

পপি বলেন, নিজের উপার্জিত অর্থ ও সম্পত্তির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আইনি সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কোথায় গেলে কার্যকর সাহায্য পাওয়া যাবে—তা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন। তার দাবি, প্রতারণা ও সম্পত্তি বিরোধের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং ব্যক্তিজীবনেও স্থিতিশীলতা ফিরে পাচ্ছেন না।

বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সম্পত্তির বৈধ অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পথে এগিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং তদন্ত-প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো কীভাবে আগাবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। পপির দাবি, ন্যায়বিচার ও সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়া পর্যন্ত তার দৈনন্দিন জীবন ও পারিবারিক স্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

ভূমিকম্পে হতাহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার

সম্প্রতি সংঘটিত ভূমিকম্পে নিহত ও আহত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং অব্যাহত আছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জরুরি সাড়াদান কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
কেন্দ্রের টেলিফোন নম্বর ০২৫৮৮১১৬৫১। কেন্দ্র থেকে সব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও মাগুরা জেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়।

ঢাকা জেলায় বিশেষ করে ঢাকা শহরে ৪ জন নিহত ও ৫৯ জন আহত, নারায়ণঞ্জে ১ জন নিহত ও ১৮ জন আহত, নরসিংদীতে ৫ জন নিহত ও ১১০ জন আহত, গাজীপুরে ২৫২ জন আহত এবং মাগুরাতে ২২ জন আহত হয়।
সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে এ পর্যন্ত ১০ জন নিহত ও ৪৬১ জন আহতের তথ্য পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনসমূহের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আহত ব্যক্তিদের অনেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।
ভূমিকম্পের ফলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে প্রাপ্ত তথ্য পরে জানানো হবে।