শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

গুমের মামলায় শেখ হাসিনার হয়ে লড়বেন জেডআই খান পান্না

দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না। এছাড়া এ দুই মামলায় পলাতক বাকি আসামির পক্ষেও স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২৩ নভেম্বর) এ নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

বাকি সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার পর গুমের দুই মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে টিএফআই সেলে গুমের মামলায় ১৭ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ৩ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। অপর মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে শুনানির জন্য ঠিক করা হয় ৭ নভেম্বর।

তারিখ নির্ধারণের আগে শেখ হাসিনার হয়ে স্টেট ডিফেন্সে লড়তে আবেদন করেন জেডআই খান পান্না। পরে তার আবেদন মঞ্জুর করে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। এম হাসান ইমামকেও এ মামলায় স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দুই মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন ১৩ সেনা কর্মকর্তা। তারা হলেন- র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

এদিন সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় বিশেষ প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনে পুলিশ।

এদিকে, সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ঘিরে নিরাপত্তায় রয়েছেন পুলিশ, বিজিবি-র্যাব সদস্যরা। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন দায়িত্বরতরা।

গত ২০ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের এ দুই মামলার শুনানি দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ঠিক করা হয়। ২৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

এর আগে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১৩ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য সাতদিনের মধ্যে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। যার এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর পৃথক দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশনের (টিএফআই) গোপন সেলে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।

অন্যরা হলেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, র্যাব কর্মকর্তা কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, মাহবুব আলম, আবদুল্লাহ আল মোমেন, সারোয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম, মশিউর রহমান জুয়েল ও সাইফুল ইসলাম সুমন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ১০ সেনা কর্মকর্তা।

এছাড়া জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায়ও শেখ হাসিনা-তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লে. জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব) মখসুরুল হক। এ মামলায় তিনজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এনসিপি নেতাদের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলটির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

শান্তি প্রস্তাব না মানলে জেলেনস্কি তার মতো করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২৮ দফা পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এটি তার চূড়ান্ত প্রস্তাব নয়, তবে কিয়েভকে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

এমনকি শান্তি প্রস্তাব না মানলে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার মতো করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রোববার (২৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

স্থানীয় সময় শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমরা শান্তি চাই। এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। ইউক্রেন-রাশিয়ার এই যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। আমরা চেষ্টা করছি যুদ্ধ শেষ করার। যেভাবেই হোক, এটা শেষ করতেই হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে “চাইলে তিনি তার মতো করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন”।

মার্কিন এই খসড়া পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে আরও কিছু অঞ্চল রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে হতে পারে, তাদের সামরিক বাহিনীর আকার সীমিত করতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে— এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য জেলেনস্কিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, একদিকে “আত্মমর্যাদা হারানোর ঝুঁকি” এবং অন্যদিকে “গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হারানোর ঝুঁকি”— এই দুই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে তাদের “বিশেষ সামরিক অভিযান” শুরু করে। তাদের দাবি, ইউক্রেন থেকে “নব্য-নাৎসিবাদ দূর করতে” এবং দেশটির সামরিকীকরণ বন্ধ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

ইউক্রেনের সামরিক শক্তি সীমিত করা ও ন্যাটো সদস্যপদ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মস্কো চায়— ইউক্রেনে রুশ ভাষাকে সরকারি মর্যাদা দিতে হবে।

ট্রাইব্যুনালে আনা হচ্ছে সেনা কর্মকর্তাদের, র‍্যাব-বিজিবির কড়া নিরাপত্তা

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-খুনের পৃথক দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে আজ। এরই মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালসহ আশপাশের এলাকায়।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন পুলিশ, র‍্যাব-বিজিবির সদস্যরা। সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর দেখা গেছে।

এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ দুই মামলার ওপর শুনানি হবে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনতে দেখা যায়নি।

গত ২০ নভেম্বর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে তারিখ পেছানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। অপর সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে, ২২ অক্টোবর গুমের দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ঠিক করা হয়। ৮ অক্টোবর পৃথক দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি শুনানির জন্য ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-১।

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশনের (টিএফআই) গোপন সেলে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। অন্যরা হলেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, র্যাব কর্মকর্তা কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, মাহবুব আলম, আবদুল্লাহ আল মোমেন, সারোয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম, মশিউর রহমান জুয়েল ও সাইফুল ইসলাম সুমন। এর মধ্যে ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ২২ অক্টোবর হাজির করা হয়।

এছাড়া জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায়ও শেখ হাসিনা- তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লে. জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব) মখসুরুল হক।

এ দুই মামলায় কারাগারে থাকা ১৩ সেনা কর্মকর্তা হলেন- র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

রাজধানীর মহাখালীতে চলন্ত বাসে আগুন

রাজধানীর মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সামনে বৈশাখী পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।

শনিবার (২২ নভেম্বর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মো. শাহজাহান।

ডিউটি অফিসার মো. শাহজাহান বলেন, মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সামনে বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন লেগেছে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।

এবার মেট্রোরেল লাইনে এসে পড়লো ড্রোন

ঢাকার জনপ্রিয় গণপরিবহন মেট্রোরেল লাইনের ওপর একটি ড্রোন পড়েছে। এ ঘটনায় মেট্রোরেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তীতে ড্রোনটি সরিয়ে নেওয়ার পর মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

ওই পোস্টে যাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো হয়, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনের মাঝে মেট্রোরেল লাইনের ওপর ড্রোন পড়ায় মেট্রোরেল চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। ড্রোন অপসারণ করা মাত্র ট্রেন চলাচল স্বাভাবিকভাবে চালু হয়। সাময়িক অসুবিধার জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে।

এর আগে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার মাঝামাঝি জায়গায় মেট্রোরেলের লাইনে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এগুলো অপসারণ করে নিয়ে যায়।

সেদিন এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল চৌধুরী বলেন, মেট্রোর ২৮৮ ও ২৮৯ নম্বর পিলারের ওপরের ট্র্যাক-লাইনে জর্দার কৌটায় স্কচটেপ পেঁচানো ককটেল দুটি রাখা ছিল। লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ যারা করেন তারা প্রথম এগুলো দেখতে পান। পরে খবর দিলে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে ককটেল দুটি অপসারণ করে নিয়ে যায়। এতে লাইনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

হল ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে ইডেন শিক্ষার্থীরা

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের হাসনা বেগম ছাত্রী নিবাসে দেয়াল ফাটল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হওয়া ভূমিকম্পের পর রাত ১২টার দিকে ‘ভূমিকম্প আতঙ্কে’ হলকক্ষ ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে তাদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

এর আগে ভূমিকম্পের পর দেখা যায়, হলের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল তৈরি হয়েছে এবং ছাদের একাধিক জায়গার প্লাস্টার বড় আকারে খসে পড়েছে।
এতে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী মৌ বলেন, ভূমিকম্পে আমাদের হলের দেয়াল ভেঙে গেছে। এমন অবস্থায় উপরে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে, তাই আমরা নিচে নেমে আসি। হল সুপার বলেছেন, চাইলে বঙ্গমাতা হলে থাকতে পারি।
পরে আমরা সবাই নিচে অবস্থান করে পরিস্থিতি বুঝে থাকার সিদ্ধান্ত নিই।

হাসনা বেগম ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থী মোকারমা খাতুন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছি। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সেই ঝুঁকি আরো বেড়েছে। খুব দ্রুত এর প্রতিকার চাই।

হল সুপার রিক্তা আক্তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা যদি এখানে থাকতে ভয় পাও, চাইলে বঙ্গমাতা হলে গিয়ে থাকতে পারো। কালকের মধ্যে বিষয়টি দেখা হবে।

অফিস সহকারী মুনমুন বলেন, হলের অবস্থা তেমন খারাপ না। যে অংশটি ভেঙে পড়েছে সেটি আগেই দুর্বল ছিল বলেই খসে পড়েছে।

পঞ্চগড়ে বাড়ছে শীতের তীব্রতা, তাপমাত্রা নামল ১২ ডিগ্রিতে

পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। গত কয়েকদিন ধরেই ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হিমেল হাওয়া আর উচ্চ আর্দ্রতার কারণে জেলাজুড়ে শীতের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, তবে ঘন কুয়াশা না থাকায় দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক ছিল। হালকা কুয়াশার পর সকালে ঝলমলে রোদের দেখা মিললেও প্রচণ্ড আর্দ্রতা আর হিমেল বাতাস শরীরে বাড়তি শীতের অনুভূতি দিচ্ছে।

অন্যদিকে, শনিবার (২২ নভেম্বর) একই সময় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে রোদের উপস্থিতি থাকলেও দিন-রাতের তাপমাত্রার বড় তারতম্যের কারণে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত শীতের দাপট বেশি অনুভূত হচ্ছে।

দেবীগঞ্জ, বোদা, আটোয়ারী, পঞ্চগড় সদরসহ পুরো জেলায় ভোররাত থেকেই শীতল হাওয়া বইছে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও রবিবার তা আরও কমেছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলে শীত পুরোপুরি জেঁকে বসবে বলেও তিনি জানান।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় আবারও ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ২৪

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাজুড়ে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৮৭ জন।

সর্বশেষ এই হামলাকে ছয় সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধবিরতির আরেকটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে গাজার কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার প্রথম হামলাটি হয় উত্তর গাজা সিটির একটি গাড়িতে। এরপর মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ ও নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরেও হামলা হয়। গাজা সিটির রিমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আল-শিফা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামি মোহান্না।

এছাড়া দেইর আল-বালাহতে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। সেখানে থাকা খলিল আবু হাতাব বলেন, হামলার সময় “ভয়াবহ বিস্ফোরণ” হয়।

তিনি বলেন, “বাইরে তাকাতেই দেখি পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। কান ঢেকে রেখে তাঁবুতে থাকা সবাইকে দৌড়াতে বলি। পরে বুঝতে পারি পাশের বাড়ির ওপরের তলা উড়ে গেছে। যুদ্ধবিরতি খুবই ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। এভাবে বাঁচা যায় না। কোথাও নিরাপদ নয়।”

গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ৪৯৭ বার তা লঙ্ঘন করেছে। এসব হামলায় ৩৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু, নারী ও বয়স্ক।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর এ ধরনের ধারাবাহিক ও গুরুতর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও চুক্তির সুস্পষ্ট বিরোধী।”

তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাসের এক যোদ্ধা সেনাদের ওপর হামলা করলে এর প্রতিক্রিয়ায় তারা অভিযান চালিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “ইসরায়েল পাঁচজন সিনিয়র হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।”

হামাস এখনও নিহত এসব সদস্যের বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

এছাড়া এদিন হামলার মধ্যেই হামাস অভিযোগ করে, ইসরায়েল মনগড়া অজুহাতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে হামাস বলেছে, “আমরা মধ্যস্থতাকারীদের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাই। যুক্তরাষ্ট্রকে তার আশ্বাস বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে এবং যুদ্ধবিরতি মানতে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে হবে।”

ঢাবির একাডেমিক কার্যক্রম ২ সপ্তাহ বন্ধ, হল ত্যাগের নির্দেশ

সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও আফটার শকের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আগামী দুই সপ্তাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে। কারিগরি বিবেচনায় আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভা আজ উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিন্ডিকেট সদস্যরা সংযুক্ত ছিলেন। এছাড়া, চিকিৎসা অনুষদের ডিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সভায় অংশ নেন।

সভায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও পরবর্তী ঝাঁকুনি (আফ্টার শক)- এর কারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তার দিক সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়।

তাদের মতামত হল– ভূমিকম্প পরবর্তী আবাসিক হলগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার। এই ঝুঁকি নিরূপণ ও সম্ভাব্য সংস্কারের স্বার্থে আবাসিক হলগুলো খালি করা প্রয়োজন। এ কারণে সভায় আগামী শনিবার (৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং আবাসিক হলগুলো খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যে আবাসিক হলগুলো খালি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভায় প্রাধ্যক্ষদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো যথারীতি খোলা থাকবে।

এর আগে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এক ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাদিক কায়েম বলেন, “পরপর দুইদিন ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কনসার্নগুলো আমরা মাননীয় ভিসি, প্রোভিসি, ট্রেজারার স্যারদের অবগত করি।”

তিনি বলেন, “এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি এসএমটি এবং সিন্ডিকেট মিটিং আহ্বান করেন। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মিটিংয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব হলের প্রতিটি কক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভূমিকম্প পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।”