শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১২৪ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে চৌকিট জিএম প্লাজায় অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশিসহ ১২৪ প্রবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে প্রায় ২ ঘণ্টার অভিযান চালানো হয়। বিশেষ অভিযানে সহযোগিতা করে মালয়েশিয়া কোম্পানি কমিশন (এসএসএম), কুয়ালালামপুর ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয় (কেপিডিএনকেএল) এবং কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল)।

যৌথ অভিযানে বহু বিদেশি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ দোকানের ভেতরে লুকিয়ে পড়েন, আবার কেউ গ্রাহক সেজে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযানের সময় জরুরি সিঁড়ি ও লিফট ব্যবহার করে পালাতে চাওয়া কয়েকজন বিদেশিকে নজরে আনে কর্তৃপক্ষ।

অভিযানে পাকিস্তানি নাগরিক মুনিরকে (৪৭) আটক করা হয়। তিনি ইউএন কার্ড দেখালেও তা গত বছরের অক্টোবরেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে।

মুনির বলেন, আমি ছয় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছি, আমার পরিবারে আট সদস্য রয়েছে। আমাকে ছেড়ে দিন, আমার পরিবার অসুস্থ। আমি কানাডা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

মিয়ানমারের কামিদ (২২) নামের এক যুবকও আটক হন, তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি জানান, তিন মাস আগে এজেন্টকে ৬ হাজার রিঙ্গিত দিয়ে মালয়েশিয়ায় এসেছেন এবং এখনো বেকার।

কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাওপি ওয়ান ইউসুফ জানান, অভিযানে মোট ২০৫ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ২০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের ১২৪ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন তা জানা যায়নি।

তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, এগুলো ইমিগ্রেশন আইন ৬(১)(সি) ও ১৫(১)(সি) অনুযায়ী অপরাধ।

অভিযানে ডিবিকেএল ছয়টি কম্পাউন্ড এবং লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা ও বিদেশি শ্রমিক রাখার দায়ে একটি দোকান বন্ধের নোটিশ দেয়। আটক বিদেশিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জালান দুতায় অবস্থিত কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন অফিসে নেওয়া হয়েছে।

মধ্যরাতে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান, নিহত অন্তত ১০

আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, মধ্যরাতে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে একটি বাড়িতে ওই বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের ৯ জন শিশু এবং অন্যজন নারী। এছাড়া পৃথক হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

মঙ্গলবার তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, খোস্ত প্রদেশের গোরবুজ জেলায় মধ্যরাতে এই হামলা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, “পাকিস্তানের আগ্রাসী বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালিয়াত খানের — কাজি মিরের ছেলে — বাড়ি বোমা মেরে ধ্বংস করে দিয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “হামলায় ৯ শিশু (পাঁচ ছেলে এবং চার মেয়ে) ও এক নারী নিহত হয়েছেন।”

মুজাহিদ জানান, এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুনার ও পূর্বাঞ্চলের পাকতিকা প্রদেশেও আরও কয়েকটি বিমান হামলা হয়েছে। সেখানে অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

মোহাম্মদপুরে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা, গুরুতর আহত বাবা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাবা-ছেলেকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাতে ঢাকা উদ্যানে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ছেলেকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঢাকা উদ্যান তিন নম্বর রোডের ডি ব্লকে হামলায় কাশেম ও তার ছেলে বাবুকে কুপিয়ে জখম করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় দুইজনকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে বাবুকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত কাশেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড।

তিশার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অভিনেত্রী তানজিন তিশা আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নানা ব্যক্তিগত ও পেশাগত ইস্যুতেও তিনি সমালোচিত হচ্ছেন।

সম্প্রতি একটি অনলাইন ফ্যাশন ব্র্যান্ড তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।

সেই ঘটনার মাঝেই এবার উঠে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ—বিদেশি একটি চলচ্চিত্রের অগ্রিম টাকা নিয়ে কাজ না করেই ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ।

কলকাতায় নির্মিতব্য ‘ভালোবাসার মরশুম’ নামের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিশাকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল।

সিনেমাটির প্রযোজক শরীফ খান দাবি করেন, তিশা মোটা অঙ্কের অগ্রিম নিলেও শেষ মুহূর্তে ‘ভিসা সমস্যার’ কথা বলে কাজ ছেড়ে দেন।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিষয়টি ভিসা জটিলতা নয়, বরং তার পক্ষ থেকে বারবার সময় নষ্ট ও অসহযোগিতা করার কারণে প্রযোজকই তাকে বাদ দেন।

শরীফ খান বলেন, তিশার আচরণে তিনি নানা সমস্যার মুখে পড়েন। তার ভাষায়, “প্রথমে আমরা তাকে ৩০ হাজার রুপি দিই।

পরে তার বোনের অ্যাকাউন্টে আরও ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাওয়ার পর থেকে তিনি নানা অজুহাত দেখাতে শুরু করেন।”

তিনি আরও জানান, ভিসা স্লট ও শুটিং-এর সময়সূচি ঠিক করার পর মাত্র দুই দিন আগে তিশা জানান, তিনি ভারত যেতে পারবেন না।

প্রযোজকের দাবি, এত কষ্টে ভিসা স্লট নিশ্চিত করার পর অভিনেত্রীর এমন সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে।

২২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৩ কোটি ডলার

চলতি মাস নভেম্বরের প্রথম ২২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

রোববার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি নভেম্বরের প্রথম ২২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৩ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২১ কোটি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৪৮ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নভেম্বরের ১৬ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত দেশে এসেছে ৬১ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ৯ থেকে ১৫ নভেম্বর দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

২ থেকে ৮ নভেম্বর দেশে এসেছে ৭১ কোটি ১০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর নভেম্বরের প্রথম দিন প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৪ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

এর আগে গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি এনেছে।

হুন্ডি বন্ধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলে রেমিট্যান্স এখন ভালো অবস্থায় আছে। মাসের বাকি সময় একইভাবে রেমিট্যান্স আসতে থাকলে নভেম্বর শেষে এ আয় তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

পে স্কেল নিয়ে সুখবর দিল কমিশন

নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্যদের বৈঠক শেষ হয়েছে।

বৈঠকটি সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় কমিশনের সম্মেলন কক্ষে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলেছে।

সভা শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে সব সচিব সভায় উপস্থিত হননি।
আরও পড়ুন
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নাম ঘোষণা করল বিশ্বব্যাংক

পরবর্তীতে সচিবদের নিয়ে আবারও আলোচনা হবে।’ কবে নাগাদ সুপারিশ হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আলোচনা শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে পারব বলে আশা করছি।’

এদিকে পে কমিশনকে সুপারিশ দাখিলের জন্য ৩০ নভেম্বর আলটিমেটাম দিয়েছেন কর্মচারী নেতারা। এই সময়ের মধ্যে সুপারিশ না দিলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা।

পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশও করবেন কর্মচারীরা। এর আগে ১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাধারণ নাগরিক, সরকারি চাকরিজীবী, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতির কাছ থেকে অনলাইনে প্রশ্নমালার মাধ্যমে মতামত সংগ্রহ করে কমিশন।

খালেদা জিয়া আইসিইউতে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে তার ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের মতে, আগের হৃদরোগের সঙ্গে নতুন করে বুকে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং তাকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানিয়েছেন, আরও কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টা তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফ. এম. সিদ্দিকী গতকাল (রোববার) সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার বুকে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগে থেকেই থাকা হৃদরোগের সঙ্গে এই সংক্রমণ ফুসফুস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় তার শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা করে অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, লন্ডন থেকে বড় ছেলে তারেক রহমান ও পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। ঢাকায় খালেদা জিয়ার পাশে আছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান।

মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গতকাল রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে থাকার সময়ই বিএনপি চেয়ারপারসনের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হবে- আগেই এমন তথ্য জানিয়েছিলেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে ১১৭ দিন অবস্থান শেষে ৬ মে দেশে ফেরার পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।

ঘাটতি বাড়ছে, তবুও এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ৫৪ হাজার কোটি

অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৫ মাস না যেতেই তা ৫৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এর আগে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হলেও, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর ঘটনা দেশের ইতিহাসে প্রথম।

গত ২০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে মাসভিত্তিক লক্ষ্যসহ পরিকল্পনা পাঠাতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে থাকা এনবিআর এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার কোটি টাকার ঘাটতিতে আছে। আলোচ্য সময়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকার

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের আলোচ্য সময়ে ১ লাখ ৩ হাজার ৪০৯ দশমিক ১৭ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে সরকার। শুধু তাই নয়, এক যুগের বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি এনবিআর।

গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা কমানো হলেও তা অর্জন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। গত অর্থবছরে বাজেট অনুযায়ী লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, পরে তা সংশোধন করে তা ৪ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এরপরও আদায় হয় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা কমানোর পরও ঘাটতি ছিল প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা।

অর্থবছরের বাকি আছে ৮ মাস। এই সময়ে এনবিআরকে আদায় করতে হবে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী এ সময়ে আদায় করার কথা ছিল ৩ লাখ ৬২ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। বিষয়টি নিয়ে গত ২০ নভেম্বর গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগ এনবিআরের অধীন দপ্তরগুলোর কাছ থেকে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে।

আমদানি ও রপ্তানি শুল্কে নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। আগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ২৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ১৪ হাজার ৩০০ কোটি।

একইভাবে মূসক ও আয়করে লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ২০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা করে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা, যা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থবছরে প্রথম চার মাসে আমদানি ও রপ্তানি শুল্কে পর্যায়ে ৩৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ের মূসক থেকে ৪৬ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা, আর আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ৩৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মূসকে সবচেয়ে বেশি সাড়ে ২৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া শুল্কে ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ ও আয়করে ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যদিও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কর‍তে পারেনি কোনো খাত।

যদিও একক মাস হিসেবে অক্টোবর মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ২২ শতাংশ। আদায় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৮৫৪ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। অক্টোবর মাসে শুল্কে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ০৯ শতাংশ, ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৭৬ ও আয়করে প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

ভূমিকম্প নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; বরং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

গত শুক্রবার ও শনিবার কয়েক দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় বিশেষজ্ঞরা এ মতামত দেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের আহ্বান জানান, তারা যেন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সরকারের করণীয় সম্পর্কে লিখিত পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা হাত গুটিয়ে রাখতে চাই না, আবার অবৈজ্ঞানিক কোনো পদক্ষেপও নিতে চাই না।
আপনাদের পরামর্শগুলো দ্রুত লিখিত আকারে আমাদের দিন; সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’

তিনি আরো জানান, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং এক বা একাধিক টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া মাত্রই সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

বৈঠকে উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, দুর্যোগ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) প্রফেসর মো. জয়নুল আবেদীন; বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী; বুয়েটের অধ্যাপক তাহমীদ মালিক আল-হুসাইনী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার; বুয়েটের অধ্যাপক ড. তানভীর মনজুর; বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম; আবহাওয়াবিদ মো. রুবাইয়্যাত কবীর; ভূতত্ত্ববিদ ড. রেশাদ মো. ইকরাম আলী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. শাখাওয়াত হোসাইন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণতা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান খান এবং বুয়েটের অধ্যাপক ইসরাত ইসলাম।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কয় দিন আগে ভয়াবহ ভূমিকম্পে যাদের মৃত্যু হলো, যারা আহত হলেন—এটা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এমনটি যেন আর না হয়, তার জন্য আমাদের অবশ্যই প্রস্তুতি নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা পত্রপত্রিকায় লিখেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন।
এই আতঙ্ক থেকে জনগণকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে আমাদের কী করা প্রয়োজন, সরকারকে তা জানান। কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে, কোন কোন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে সব জানান। দুর্ঘটনা যেভাবেই আসুক, যেন আমরা সব পূর্ব প্রস্তুতি নিতে পারি।’

তিনি জানান, ভূমিকম্পের প্রস্তুতি হিসেবে কী ধরনের মহড়া প্রয়োজন হবে, সে বিষয়েও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রয়োজন।
পাশাপাশি ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা কোন পর্যায়ে আছি, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও ভূমিকম্প-বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও সমন্বয়ের পরামর্শ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদের বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘শুভেচ্ছা’ নামে একটি অ্যাপ করেছি। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যুক্ত হোন। অ্যাপটিতে আরো কী ধরনের ফিচার আনা যেতে পারে, সে বিষয়েও আমাদের পরামর্শ দিন।’

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভূমিকম্পকে ঘিরে বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক গুজব তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে… ১০ দিনের মধ্যে… ১ মাসের মধ্যে… বড় মাত্রার ভূমিকম্প হবে, এ ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

বৈঠকে অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পের উৎস ও উৎপত্তিস্থল নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে বাংলাদেশ ও এর আশপাশে কতগুলো সোর্স আছে এবং সেগুলোর কারণে শেকিং লেভেল কী হতে পারে, তা নিরূপণ করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ আমরা স্বল্প ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। তবে আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার বলেন, জনসচেতনতা তৈরিতে তরুণদের কাজে লাগানো জরুরি। ইনডোরে, আউটডোরে, ব্যক্তি পর্যায়ে ও প্রতিষ্ঠানে—চার স্তরে করণীয় পরিকল্পনা তৈরি করে সবার কাছে পৌঁছাতে হবে। তরুণদের কাজে লাগিয়ে ন্যাচারাল হ্যাজার্ড প্ল্যান ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিলে সবাই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে।

চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মন্ত্রণালয় তাদের আওতাধীন স্থাপনাগুলোর মূল্যায়ন করতে পারে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ—এসব খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিকম্পবিষয়ক প্রোগ্রাম চালু করলে আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা তৈরি হবে।

এমআইএসটির অধ্যাপক মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, সবাইকে বোঝাতে হবে যে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আমাদের সম্পদের মধ্যে থেকেই কাজ করতে হবে। করণীয় সম্পর্কে আরো সুনির্দিষ্ট তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভূমিকম্পের ফলে ফাটল ধরা ভবনের ছবি সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এর মধ্য থেকে দুই শটির বেশি ভবনের মূল্যায়ন করা হয়েছে। বেশির ভাগই পার্টিশন দেয়ালে ফাটল দেখা যাচ্ছে। সফটওয়্যারটির মাধ্যমে দ্রুত ফাটল ধরা ভবনের মূল্যায়ন ও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের পাঠানো লিখিত সুপারিশ নিয়ে সরকার দ্রুত সময়ে আলোচনা করে টাস্কফোর্স গঠন করবে। ভূমিকম্পের বিষয়ে আশু করণীয় নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্সে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন।

৫ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হবে বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংক

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানকে এর ভয়াবহ প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঝুঁকি থেকে স্থিতিস্থাপকতা : দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের অভিযোজনে সহায়তা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। সেখানেই উঠে এসেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ চরম জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়বে। উচ্চ তাপমাত্রা, ভয়াবহ বন্যা, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান। পারিবারিক পর্যায়েও ঝুঁকি বাড়বে বহুগুণ।

জরিপে দেখা যায়, আগামী ১০ বছরে আবহাওয়াজনিত ধাক্কার আশঙ্কা করছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান।
এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এবং ৮০ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনোভাবে অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা উন্নত প্রযুক্তি বা অবকাঠামোর বদলে কম খরচের সাধারণ সমাধানের ওপর নির্ভর করছে।

বাংলাদেশের উপকূলের ২৫০টি গ্রামে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোই এখন সবচেয়ে বড় অপূর্ণ চাহিদা। দীর্ঘ মেয়াদে ৫৭ শতাংশ পরিবার পর্যাপ্ত দুর্যোগ-সুরক্ষা অবকাঠামোর অভাবকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে; ৫৬ শতাংশ পরিবার বলেছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা প্রয়োজনীয় অভিযোজন করতে পারছে না।
এর প্রভাব শুধু পরিবেশগত নয়—সবচেয়ে বেশি ভুগছে দরিদ্র ও কৃষিনির্ভর পরিবার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টারসহ সরকারি বিনিয়োগ অনেক প্রাণ বাঁচিয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন কেস স্টাডিতে দেখা গেছে—সঠিকভাবে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং হালনাগাদ তথ্য দ্রুত সম্প্রসারণযোগ্য; যা দুর্যোগের সময় দরিদ্র মানুষের বড় সহায়ক হতে পারে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সরকারি উদ্যোগের পরিধি সীমিত—এ অবস্থায় জলবায়ু অভিযোজনে বেসরকারি খাতকে সামনে এনে একটি সমন্বিত নীতি-প্যাকেজ প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা বারবার নতুনভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে।
অভিযোজন ব্যাপক হলেও ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, ফলে আরো কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেশের সহনশীলতা গড়ে তুলতে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এবং ঝুঁকিভিত্তিক অর্থায়ন বাড়াতে হবে। শহরাঞ্চলে লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপও জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটি সমন্বিত ও বহুমুখী অভিযোজন কৌশল গ্রহণের তাগিদ দেয়। এতে বলা হয়—আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, বীমা ও আনুষ্ঠানিক ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা গেলে জলবায়ুজনিত ক্ষতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এড়ানো সম্ভব। বেসরকারি খাত যদি প্রয়োজনীয় স্থানে দ্রুত বিনিয়োগ ও সম্পদ স্থানান্তর করতে পারে, তাহলে অভিযোজনের গতি আরো বাড়বে। বাজেট সংকটের মধ্যেও সরকার পরিবহন ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং নমনীয় সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো প্রবর্তনের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে। আগাম সতর্কবার্তা ও সাইক্লোন সেন্টারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুফল ইতিমধ্যে মিলেছে—প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এটি দেখায়, সঠিক বিনিয়োগ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারলে স্থানীয় অভিযোজনে সাফল্য আরো বাড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় শক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও তথ্য সংগ্রহ সবই ব্যয়বহুল। জলবায়ু অভিযোজন মোকাবেলায় বাংলাদেশের অনেক পলিসি রয়েছে, তা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং।

তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে পাইলট প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের সমন্বয়ে বাংলাদেশ বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে।