শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

আগুনের পেছনে কারণ খতিয়ে দেখতে হবে

একের পর এক আগুনের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে এ আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার সাধ্যমতো চেষ্টা করবে জামায়াত।’ জনমানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামীর সমাজ গঠনের সংগ্রাম ও লড়াইয়ে গণমাধ্যম যেন আমাদের গবির্ত অংশীদার হয়, সেই প্রত্যাশা জানাই।’

ইসিতে আইনশৃঙ্খলা বিষয় মতবিনিময় সভা আজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় ও প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল (বুধবার) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক বার্তা সংস্থা বাসসকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় ও প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত এখনো থেমে নেই : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘নতুনভাবে স্বাধীনতা’ পেলেও এখনো দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত থেমে নেই। তবে জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলনের আত্মত্যাগ সবসময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রেরণা যোগায়।

গতকাল বুধবার (২৭ নভেম্বর) শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তারেক রহমান এই মন্তব্য করেছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, দিবসটি উপলক্ষে আমি ’৯০-এর স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনের এক নির্ভীক সৈনিক শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অকুতোভয় শহীদ ডা. মিলনের আত্মদানে হারানো গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়। তার আত্মদানের মধ্য দিয়ে ৯ বছরের স্বৈরাচার এরশাদ-বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন চূড়ান্ত বিজয়ের পথে ধাবিত হয়। স্বৈরাচারকে উৎখাত করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল তার দৃঢ় অঙ্গীকার। বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে তিনি গণতন্ত্রের বিজয় এনেছিলেন। এই পথ ধরেই দেশে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রা শুরু হয়।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, পতিত আওয়ামী সরকারের বিগত ১৬ বছরের দুর্বিষহ শাসনামলে মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছিল। দেশের মানুষ তাদের সব অধিকার হারিয়ে ফেলেছিলেন। জনগণের কাছ থেকে দেশের মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

অন্য দিকে দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

হোয়াইট হাউজের কাছে ন্যাশনাল গার্ডের ২ সেনাকে গুলি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করেছে এক বন্দুকধারী। গুলি লাগা ওই দুজনের অবস্থা বেশ গুরুতর বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৬ নভেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউজ থেকে মাত্র দুই ব্লক দূরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, শুধু একজন হামলাকারী ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার দুই সেনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই সময় গুলির শব্দ শুনে ন্যাশনাল গার্ডের অন্য সেনারা এগিয়ে আসেন। তারা হামলাকারীকে গুলি করে নিবৃত করেন।

ঘটনার সময় ফ্লোরিডায় থাকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক। যিনি ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। হামলাকারীকে ‘কঠোরতম’ শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া যেসব আফগান নাগরিক গত সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে তাদের পুনঃপরীক্ষা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘জো বাইডেনের শাসনামলে যেসব আফগান আমাদের দেশে এসেছে, আমাদের তাদের অবশ্যই পুনঃপরীক্ষা করতে হবে।’

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হামলাকারীর নাম রহমানউল্লাহ লাকানওয়াল বলে জানা গেছে। ২৯ বছর বয়সী এ ব্যক্তি আফগানিস্তানের নাগরিক।

ওয়াশিংটনের মেট্রোপলিটান পুলিশের সহকারী প্রধান জেফ ক্যারোল বলেছেন, হামলাকারী এক কোণা থেকে এসেই সঙ্গে সঙ্গে সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু করে। তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

হামলাকারীকে ন্যাশনাল গার্ডের অন্য সেনারা এতে অন্তত চারবার গুলি করে। এরপর তাকেও আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। যদিও তার অবস্থা গুরুতর নয়।- সূত্র: বিবিসি

হাসিনার স্বর্ণালঙ্কারের লকারের চিরকুটে মিললো যে তথ্য

দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী পুনরায় যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে থাকা দু’টি ব্যাংকের তিনটি লকার খুলে ৯ কেজি ৭০৭ গ্রাম (৮৩২ ভরি) স্বর্ণ উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণালঙ্কারসমূহের লকারে সংরক্ষিত বর্ণনা ও লিখিত চিরকুট অনুযায়ী, এগুলো শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের—শেখ রেহানা সিদ্দিকী, সাইমা ওয়াজেদ পুতুল, সজীব ওয়াজেদ জয় ও ববির—হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ইনভেন্টরি তালিকা প্রস্তুতের পর সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকদের জিম্মায় মালামাল হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

দুদক জানায়, দুদকের উপ-পরিচালক (বিশেষ অনু. ও তদন্ত-১) মো. মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত অনুসন্ধান দল ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে লকার খোলার অনুমতির আবেদন করেন। আদালত একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বাংলাদেশ ব্যাংকের বুলিয়ন শাখার একজন স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ, এনবিআরের একজন কর গোয়েন্দা ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইসি) মনোনীত দুই কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লকার খোলার নির্দেশ প্রদান করেন।

পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) পূবালী ব্যাংক পিএলসির মতিঝিল করপোরেট শাখা ও অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির প্রিন্সিপাল শাখায় থাকা মোট তিনটি লকার খোলা হয়। এর মধ্যে পূবালী ব্যাংকের লকার নম্বর ১২৮—গ্রাহক শেখ হাসিনার নামে— থেকে একটি খালি ছোট পাটের ব্যাগ পাওয়া যায়।

অপরদিকে গ্রাহক শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের লকার (নম্বর ৭৫১/বড়/১৯৬) থেকে আনুমানিক ৪ হাজার ৯২৩ দশমিক ৬০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। একই ব্যাংকের গ্রাহক শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সিদ্দিকীর নামে থাকা লকার (নম্বর ৭৫৩/বড়/২০০) থেকে পাওয়া যায় ৪ হাজার ৭৮৩ দশমিক ৫৬ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার।

দুদক বলেছে, ইনভেন্টরি তালিকা পর্যালোচনা, মালিকানা সুনির্দিষ্টকরণ ও স্বর্ণকারের মাধ্যমে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মালিকানা ও আইনগত দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করা হবে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল: ডা. রফিকুল ইসলাম

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণের ফলে যে শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল, তা কমেছে। তবে ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে তার শরীরে নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল। কেবিনে রেখেই মেডিকেল বোর্ড তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।

প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। গত রবিবার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম চিকিৎসক অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল হয়েছে। নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে মহিলা দলের আয়োজনে দোয়া মাহফিল হয়।

দোয়া মাহফিলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশনেত্রী এমন একজন নেত্রী, যিনি আমাদের গভীর অন্ধকারে আলোর পথ দেখিয়েছেন। তিনি সংকটের মধ্যেও কী করে মাথা উঁচু করে থাকতে হয়, সেটা আমাদের শিখিয়েছেন…আমাদের শিখিয়েছেন সংকটের মধ্যেও নিজেদের মধ্যে ঐক্য রেখে কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়। আমরা আজ এখানে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করব, আমরা তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করবো।

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। কিছুদিন পরপরই নানা জটিলতায় তাকে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

শেখ হাসিনা, জয়-পুতুলের প্লট দুর্নীতির মামলার রায় আজ

ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলার রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব মামলায় রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে গত রবিবার এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন আদালত। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি। তারা আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি।

দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান (লিপন) গণমাধ্যমকে জানান, আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেছি। আশা করছি, আদালত থেকে সর্বোচ্চ সাজাটাই আসবে।

অপরদিকে আসামি খুরশীদ আলমের আইনজীবী শাহীনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, দুদক আমার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। কাজেই আশা করছি, তিনি খালাস পাবেন।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়।

শেখ পরিবার ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অপরদিকে বাকি ৩ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

রায় ঘোষণা হতে যাওয়া মামলাগুলোর সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন দুদকের উপ পরিচালক সালাহউদ্দিন। তদন্ত শেষে ১০ মার্চ তদন্তে পাওয়া আরো চারজনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফি উল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক মেজর সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, নায়েব আলী শরীফ, সাইফুল ইসলাম সরকার, কাজী ওয়াছি উদ্দিন ও শহীদ উল্লা খন্দকার।

এদিকে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে গত ১২ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। তদন্তে পাওয়া আরো দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে ১০ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া।

শেখ হাসিনা ও পুতুল ছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, মো. নুরুল ইসলাম, পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও শরীফ আহমেদ। শেষের দুজন তদন্তে আসা আসামি।

এছাড়া সজিব ওয়াজেদ জয়ের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তিনি এবং তার মা শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ১৪ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। তদন্তে নাম আসা আরো দুজনসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে ২৪ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন রাশেদুল হাসান।

অন্য আসামিরা হলেন-গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন ও সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য তন্ময় দাস, (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ), সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সদস্য (উন্নয়ন) অবসরপ্রাপ্ত মেজর সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।

তফসিল ঘোষণার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হবে : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি ভালো হবে।’

বুধবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিজিবি সদর দপ্তরে বিজিবি দলের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নির্বাচনে তাদের দায়িত্ব পালনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
তাই ভোটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারব।’

তিনি জানান, নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আলাদা আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষা না নিয়ে নম্বর দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল : শিক্ষা উপদেষ্টা

পূর্ববর্তী সময়ে ফলাফল প্রকাশের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, ‘পরীক্ষা না নিয়ে নম্বর দেওয়া ছিল অগ্রহণযোগ্য। এটি শিক্ষাব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি।’

উপদেষ্টা আরো বলেছেন, মূল্যায়নে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের পড়ার সক্ষমতা ও গণিতে সক্ষমতা উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা রয়েছে।
এগুলোকে আরো বড় পরিসরে মূল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদগণ। শিক্ষা পরিবারের সদস্য, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার মান নিয়ে যে উদ্বেগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, তা কাটাতে বাস্তবসম্মত ও নির্মোহ মূল্যায়ন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

তিনি বলেন, অভিভাবক, শিক্ষক—সকলেই মানের অবনতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বহু উদ্যোগ নেওয়া হলেও গ্রাসরুট পর্যায়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোকে আরো গভীরভাবে বুঝতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে যেসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যত নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

অধ্যাপক আবরার জানান, বাংলাদেশের সেকেন্ডারি ও প্রাথমিক শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে কোথায় অবস্থান করছে, তা জানতে সরকার ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন কাঠামোর সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা হয়তো নিচের দিকেই থাকব—তাতে সমস্যা নেই। অন্ততপক্ষে জানব আমরা কোথায় আছি, কী ঠিক করতে হবে।

উপদেষ্টা আরো জানান, মূল্যায়নে দেখা গেছে—শিক্ষার্থীদের রিডিং ক্যাপাসিটি , গণিতে সক্ষমতা উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা রয়েছে। এগুলোকে আরও বড় পরিসরে মূল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে।

কোচিং, প্রাইভেট টিউশন ও গাইড বই প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোচিং বা গাইড বই বন্ধ হবে না। কেন এগুলোর চাহিদা তৈরি হচ্ছে—তা আগে বুঝতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কেন এগুলোর ওপর নির্ভরশীল, সেটাই মূল প্রশ্ন।

প্রশাসনিক রাজনৈতিক প্রভাব দূর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্কুল-কলেজের প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় এনেছে। এটি ঠিক করা এখন আমাদের সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি।”

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার দুটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সমন্বয় ভবিষ্যতে আরো কার্যকর হবে। কসরুজ্জামান আহমেদের নেতৃত্বে মাধ্যমিক শিক্ষার একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন উদ্যোগ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গবেষকদের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ে এসে আমাদের আরো বিস্তারিত অবহিত করবেন। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে পর্যালোচনা করব।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষা উপদেষ্টা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

এনসিপির শাপলা কলির স্কেচ যুক্ত করল ইসি

নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ করা এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলির স্কেচ নির্ধারণ করেছে ইসি। আগামী সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে ইসির নির্ধারিত এই স্কেচ অনুযায়ী ব্যালটে প্রতীক থাকবে এনসিপির।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন শাপলা কলি প্রতীকের স্কেচ নির্ধারণ করেছে বলে জানান এনসিপির দায়িত্বশীল নেতা।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর নামের পাশে নিজ নিজ দলের প্রতীকের ছবি থাকে।
এই তালিকায় এনসিপি ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) যুক্ত হওয়ার পর প্রতীকের ঘর এত দিন খালি ছিল। বুধবার এনসিপির নামের পাশে শাপলা কলি প্রতীকের স্কেচ যুক্ত করেছে ইসি। তবে এখনো বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) নামের পাশে প্রতীকের স্কেচ যুক্ত করেনি ইসি।

এর আগে নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলকে (মার্ক্সবাদী) চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন দেয় ইসি।
ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ‘শাপলা কলি’, আর বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল পেয়েছে ‘কাঁচি’ প্রতীক।