শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

ব্রাজিলকে উড়িয়ে দিলো আর্জেন্টিনা

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা যখন মুখোমুখি, তখন উত্তেজনা থাকে তুঙ্গে। তবে তাদের মহারণ এখন পর্যন্ত ফুটবলেই সীমাবদ্ধ। তবে ফুটবল ছাপিয়ে এখন ক্রিকেটেও দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে। বুয়েন্স আয়ার্সে চলছে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যেখানে আর্জেন্টিনা উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিলকে।

২০১৯ ও ২০২৪ সালে দুইবারের দেখাতে আর্জেন্টিনা দাপট দেখিয়ে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল। ঘরের মাঠে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় জয় পেল তারা।

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রাজিল ১০৯ রানে থামে। কেবল প্রথম দুই ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন। সর্বোচ্চ ৫১ রান লুইস মোরাইসের। ১৭ রান করেন আরেক ওপেনার রেজাউল করিম। ক্রিজে নামা ৯ ব্যাটারের মধ্যে বাকিরা এক অঙ্কের ঘরে থেমেছেন।

আর্জেন্টিনার বোলার লুকাস রসি ৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। এছাড়া অগাস্তিন রিভেরো পান দুটি উইকেট।

লক্ষ্যে নেমে পেদ্রো ব্যারনের ৫৩ রানের সুবাদে ১৫তম ওভারে জিতে যায় আর্জেন্টিনা। তার ৪২ বলের ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ১ ছয়। এছাড়া ২৩ রান করে ভালো শুরু এনে দেন আলেহান্দ্রো ফার্গুসন। ওপেনিং দুজনে মিলে ৭৪ রানের জুটি গড়েন। ১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন অ্যালান কিশবাউম। অন্য প্রান্তে ৮ রানে টিকে ছিলেন ম্যানুয়েল ইতুর্বে। ১৪.৫ ওভারে ২ উইকেটে ১১০ রান করে আর্জেন্টিনা।

সিরিজের পরের ম্যাচ ২৮ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায়। একই দিনে হবে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটিও। স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় হবে এই ম্যাচটি। চতুর্থ ও পঞ্চম ম্যাচ হবে ৩০ নভেম্বর। চতুর্থ ম্যাচটি হবে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায়, আর পঞ্চম ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বিকাল ৩টায়।

তড়িঘড়ি করে পুলিশ কমিশন ও এনজিও আইন পাস সমীচীন হবে না : বিএনপি

অন্তর্বর্তী সরকার তড়িঘড়ি করে সংশোধিত পুলিশ কমিশন ও এনজিও সংক্রান্ত আইন পাস করতে চাইছে। যা সমীচীন হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, তাড়াহুড়ো করে দুটি আইন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাস করাতে চাইছে।
একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন অন্যটি এনজিও সংক্রান্ত আইন। আমরা মনে করি, নির্বাচনের পূর্বে এই আইনগুলো পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না। আমরা মনে করি, ওই বিষয়ে আইনগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে।
সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য।’

নতুন করে শপথ নিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শফিকুর রহমান

আমির হিসেবে নতুন করে শপথগ্রহণ করেছেন জামায়াতের বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে নতুন করে নির্বাচিত আমির হিসেবে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য শপথ নিয়েছেন তিনি।

আমির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম শফিকুর রহমানকে শপথপাঠ করান।

গত ৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর সদস্যদের গোপন ভোটগ্রহণের মাধ্যমে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদে জামায়াতের আমির নির্বাচন করা হয়। এতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯২ জন রুকন (শপথধারী সদস্য) ভোট দেন। সর্বোচ্চসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো আমির নির্বাচিত হন ডা. শফিকুর রহমান।

আজ ও আগামীকাল (২৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শপথ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি নিজেকে এই দায়িত্বের জন্য মোটেও যোগ্য মনে করি না। এই মজলুম সংগঠনটিতে দীর্ঘ সময় ধরে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের হাতে যে মানুষ তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে আমার চেয়ে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ সহকর্মী রয়েছেন।
তারপরেও আমি জানি না কেন সম্মানিত সদস্যবৃন্দ কেন আমাকে তাদের এই আমানতের ভার দিয়েছেন। আমি নিজেকে এই দায়িত্বের জন্য মোটেও যোগ্য মনে করি না।’

এ সময় বিগত সরকার জামায়াত এবং তার নেতাদের ওপর অন্যায়-জুলুম চালিয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জেলখানা ছিল আমাদের প্রথম বাসস্থান। বারবার আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে সত্যিকারের কোনো অভিযোগ ছিল না।
অভিযোগ একটাই যে, আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতাম। কিন্তু সেই প্রতিবাদটাও আমরা স্বস্তির সঙ্গে করতে পারতাম না। আমাদের ওপর নানা অপশাসন, কালো আইন ও হুকুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’

ইউরোপে হামলা করবে না রাশিয়া—লিখিত নিশ্চয়তা দিতেও প্রস্তুত পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপের আর কোনো দেশকে রাশিয়া আক্রমণ করবে না—এ মর্মে তিনি লিখিত নিশ্চয়তা দিতেও প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে—এমন দাবি ‘মিথ্যা’ ও ‘পূর্ণাঙ্গ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন।

রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কালেকটিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিএসটিও)-র শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বৃহস্পতিবার বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, মস্কো ইউরোপে হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন অভিযোগ ‘হাস্যকর’।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সত্য হলো, আমরা কখনোই এমন কোনো উদ্দেশ্য রাখিনি।
কিন্তু তারা যদি আমাদের কাছ থেকে এটি শুনতে চায়, তাহলে আমরা তা লিখিত আকারেও দিতে পারি। এতে কোনো প্রশ্নই নেই।’

ইউক্রেনে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর আগে পুতিন বারবার হামলার পরিকল্পনা অস্বীকার করেছিলেন—এই বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে ইউরোপীয় নেতারা তার বর্তমান বক্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট একটি খসড়া শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সেটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তি’ হতে পারে।

যদিও পুতিন বলেন, যুদ্ধ অবসানের জন্য রাশিয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন—প্রয়োজনে মস্কো লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ইউক্রেনের আরো ভূখণ্ড দখল করবে।

যুদ্ধ থামানোর একটি মৌলিক পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি আবারও বলেন, ইউক্রেনের সেনাদের পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক থেকে সরে যেতে হবে—এমনকি সেসব এলাকা থেকেও, যেগুলো বর্তমানে রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।

তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের সেনাদের যে ভূখণ্ড তারা এখন ধরে রেখেছে, সেখান থেকে সরে যেতে হবে—তবেই লড়াই বন্ধ হবে।
তারা যদি পিছু না হটে, তাহলে আমরা তা সামরিক উপায়ে অর্জন করব।’

ইউক্রেন বলেছে, এমন প্রত্যাহার কিয়েভের দিকে রাশিয়ার হামলার পথ উন্মুক্ত করে দেবে।

কামালকে দিয়েই শুরু হবে প্রত্যর্পণ: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই মাসের গণহত্যার মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ ভারত খতিয়ে দেখছে। তবে এই প্রত্যর্পণের শুরুটা হবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজাপ্রাপ্ত আসামি আসাদুজ্জামান খান কামালকে দিয়েই।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম লেখেন, তিনি বিশ্বাস করেন, জুলাইয়ের ঘটনাবলির অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে একদিন বাংলাদেশের আদালতের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রেস সচিব লিখেছেন, তিনি ক্রমেই আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, আসাদুজ্জামান খান কামাল যিনি ঢাকার কসাই হিসেবে পরিচিত—খুব শিগগিরই বিচারের মুখোমুখি হতে বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন।

তিনি বলেন, হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত অপরাধগুলো সম্পর্কে যতদিন যাচ্ছে ততই আলো পড়ছে এবং সেই সঙ্গে গণহত্যা ও গুমের ঘটনায় কামালের ভূমিকা বৈশ্বিক গণমাধ্যমের আরও বেশি মনোযোগ পাবে।

শফিকুল আলম আরও লেখেন, কামাল বা অন্য আওয়ামী লীগ নেতারা যত অর্থই ব্যয় করুক না কেন, চিরদিন দায় এড়ানো সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে যদি জুলাইয়ের গণহত্যার শিকারদের জন্য এবং হাসিনা আমলে সংঘটিত সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করতে দৃঢ় ও মনোনিবেশ থাকতে পারি, তবে যারা এসব ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের পক্ষে পরিণতি এড়িয়ে যাওয়া দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।’

এছাড়াও তিনি এই প্রক্রিয়াটি শুরু হবে কামালকে দিয়েই এবং এরপর একে একে অন্যদের প্রত্যর্পণ হবে বলে ইঙ্গিত দেন।

নতুন ভূমিকম্প মানচিত্র প্রকাশ, যেসব অঞ্চল উচ্চ ঝুঁকিতে

সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ ভারত নতুন ভূমিকম্প মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এতে পুরো হিমালয় অঞ্চলকে প্রথমবারের মতো উচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারতের ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) কোডের তথ্য ব্যবহার করে তৈরি এই তালিকায় আগের মানচিত্রে হিমালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়নি। তবে নতুন মানচিত্র অনুযায়ী পুরো হিমালয়কে ৬ নম্বর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এতে ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, বা “সেভেন সিস্টার্স”, সরাসরি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। এর প্রভাবেই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা—বিশেষত সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—ভূমিকম্পের প্রভাবের দিক থেকে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

নতুন মানচিত্র থেকে আরও জানা যায়, ভারতের প্রায় ৬১ ভাগ এলাকা এখন ভূমিকম্পপ্রবণ। ইন্ডিয়ান-প্লেট এবং ইউরেশিয়ান-প্লেটের সংঘর্ষ এবং তাদের সরলাভাবে স্থানান্তর হবার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। হিমালয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ ফল্টলাইনের উপস্থিতি এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নতুন মানচিত্র ভারতের নীতি-নির্ধারক ও নির্মাণ খাতকে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী কাঠামো তৈরিতে আরও সতর্ক হতে উৎসাহিত করবে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ৪১০ জন

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৩৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৮ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১ জন ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে সারা দেশে ৪৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ৯০ হাজার ৬৫২ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯৩ হাজার ১৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এ সময়ে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭৭ জন।

আমিরাতে বন্দি বাকি ২৪ বাংলাদেশিকে অচিরেই মুক্তি দেওয়া হচ্ছে

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে বন্দি অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) আসিফ নজরুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমাদের প্রচেষ্টা অবশেষে সাফল্যর মুখ দেখেছে। আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে বন্দি অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি লেখেন, ‘ধন্যবাদ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।’

আইন উপদেষ্টা আরও লেখেন, (উল্লেখ্য, এর আগে প্রাথমিকভাবে বন্দি ১৮৮ জনের সবাইকে গত বছর সেপ্টেম্বরে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি অনুরোধের কারণে)। সূত্র: বাসস

গড় হিসাবের ফলে গরিব মানুষের পুষ্টি ঘাটতি আড়াল হচ্ছে: মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দেশের সামগ্রিক পুষ্টি চিত্র নির্ধারণে গড় হিসাবের ওপর নির্ভর করাকে একটি ‘বিপজ্জনক প্রবণতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই গড় হিসাবের ফলে গরিব মানুষের প্রকৃত খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি ঘাটতি আড়াল হয়ে যাচ্ছে, যা নীতিনির্ধারণে ভুল ধারণা তৈরি করছে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘কৃষি ও খাদ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দেশীয় জাতের মাছ, মাংস ও প্রাণিসম্পদকে বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে এগুলো রক্ষা করার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ এখনও দেশীয় মাছ ও প্রাণিসম্পদের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যেখানে পৃথিবীর অনেক বিলুপ্তপ্রায় সম্পদ টিকে আছে।

তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে শিল্প হিসেবে দেখা হলেও এর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উৎপাদন এখনও গ্রামীণ সাধারণ মানুষের হাতেই হচ্ছে। শিল্পায়ন প্রয়োজন হলেও দেশীয় প্রজাতির সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সংকর জাত তৈরির সময় দেশীয় জাতের মৌল বৈশিষ্ট্য যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে কঠোর সতর্কতা দেন তিনি।

পুষ্টিহীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিরো হাঙ্গার’ মানে শুধু পেট ভরে খাওয়া নয়, পুষ্টিমান নিশ্চিত করাও জরুরি। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বছরে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার সংখ্যা ১৩৭টি বলা হলেও, এই গড় হিসাব ধনী-গরিবের প্রকৃত খাদ্যাভ্যাসের বৈষম্যকে আড়াল করে দেয়।

তিনি গ্রামীণ খাদ্য ব্যবস্থার বৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, অনেক সময় উৎপাদনকারী জেলার মানুষও নিজ এলাকার দেশীয় মাছ খেতে পারেন না। তিনি সাংবাদিকদের এসব বাস্তব তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে তিনি একোয়াকালচারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ফিড ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এসব বিষয়ে এখনই নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

মাংস খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু গরুর মাংসই একমাত্র উৎস নয়; মহিষ, ভেড়া, হাঁস-মুরগি ও কোয়েলসহ সব ধরনের মাংস ও ডিমের দিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। খাদ্যে ফোর্টিফিকেশনকে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ফুল পাঠিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ফুলের তোড়া পাঠিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ফুলের তোড়াগুলো পৌঁছে দেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফুল গ্রহণ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৩ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর আশু আরোগ্যের জন্য আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিএনপি।