শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

৭০ শতাংশ মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট : আইআরআই জরিপ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপক আস্থা প্রকাশ করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) দেশব্যাপী পরিচালিত এক জরিপে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

আইআরআই’র সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চের পরিচালিত এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৯ শতাংশ বলেছেন, ড. ইউনূস ভালো কাজ করছেন। আর ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট।

আইআরআই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র পরিচালক জোহান্না কাও বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে মানুষ অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন। তার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের এই আস্থা স্থিতিশীলতা, জবাবদিহিতা ও সংস্কারের ব্যাপক প্রত্যাশা তুলে ধরে।’

জরিপে দেখা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহও অনেক। ভোট দিতে খুবই আগ্রহী বলে জানিয়েছে ৬৬ শতাংশ ভোটার।
আর ২৩ শতাংশ ‘কিছুটা আগ্রহী’ বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়াও নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে বিশ্বাস করেন জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ লোক।

জোহান্না কাও আরো বলেন, ‘বাংলাদেশিদের এই উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রমাণ করে সংস্কার প্রক্রিয়া ধরে রাখা এবং নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আইআরআই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে জনমত জরিপ পরিচালনা করে।
নীতিমালা, রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য সংস্থাটি থেকে এ জরিপ করা হয়।

আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল ও ইস্যুভিত্তিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করছে।

সাতক্ষীরায় খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিল

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে নিজ হাতে দোয়া পরিচালনা করতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেললেন সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দীন।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দরগা শরিফ হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা জামে মসজিদে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া পরিচালনার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কাজী আলাউদ্দীন বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রূপকার, সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ গড়ার কারিগর বেগম খালেদা জিয়া আজ আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আমরা তার সুস্থতা কামনায় আল্লাহর রাস্তায় জানের ছদকাহ হিসেবে এই হাফিজিয়াখানার এতিম বাচ্চাদের জন্য ছাগল কোরবানি করছি। মহান আল্লাহতালা আমাদের মহান নেত্রীকে সুস্থতা দান করুন।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম মন্টু, মো. শওকত হোসেন, রবিউল আওয়াল ছোট, মো. আব্দুল আলিম, শেখ আব্দুর রশিদ, তুহিনউল্লাহ তুহিন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি বজলুর রহমান ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করল রুশ সেনারা

পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর পোকরোভস্ক দখল করেছে রুশ সেনারা। যদি বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হয় তাহলে এটি রাশিয়ার জন্য অন্যতম বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হবে। গতকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) মস্কো শহরটি দখলের তথ্য জানায়।

যদিও ইউক্রেন এটি অস্বীকার করেছে। দেশটি বলেছে, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাকে প্রভাবিত করতে রাশিয়া এমন দাবি করছে।

গুরুত্বপূর্ণ ওই শহর ও হাবটিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র লড়াই চলছিল। এটির দখল নিতে রাশিয়ার অনেক সেনা নিহত ও আহত হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনের অসংখ্য সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।

কীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন ও ইউক্রেনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এর কয়েক ঘণ্টা পরই গুরুত্বপূর্ণ শহরটি দখলদের তথ্য জানায় রাশিয়া।

রাশিয়ার এ দাবি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ইউক্রেনের অপতথ্য প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রি কোভালেঙ্কো বলেছেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে আগামী কয়েক সপ্তাহ এ ধরনের তথ্য ছড়ানো হবে।”

এছাড়া যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা প্রভাবিত এবং পশ্চিমাদের জন্য এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এরআগে সোমবারের শুরুতে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তাদের সেনারা পোকরোভস্ক ও আশপাশের অঞ্চলের দখল নিজেদের কাছে রেখেছে এবং শত্রুবাহিনীর সেনাদের প্রতিহত করে যাচ্ছে।

গত রোববার সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে যুদ্ধের সম্মুখে যান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওই সময় দেশটির সেনাপ্রধান ভেলারি গেরাসিমোভ পুতিনকে শহরটি দখলের তথ্য জানান।

দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে পোকরোভস্কের সিটি সেন্টারে রাশিয়ার পতাকা টানাচ্ছেন দেশটির সেনারা। যা সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিশ্চিত করেছে।

সড়ক ও রেল যোগাযোগ থাকায় পোকরোভস্ককে ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু রাশিয়ার অব্যাহত ড্রোন হামলার কারণে সড়ক-রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউক্রেন রসদ সরবরাহের জন্য বিকল্প পথ খুঁজে নেয়।

সূত্র: সিএনএন

পর্তুগালের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার দিবস পালিত

১ ডিসেম্বর পর্তুগালজুড়ে উদযাপিত হয়েছে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার দিবস। ১৬৪০ সালের এই দিনে পর্তুগিজ জনগণ স্পেনীয় শাসনের বিরুদ্ধে সফল বিদ্রোহ করে নিজেদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ডিসেম্বরের প্রথম দিন জাতীয়ভাবে পালন করা হয় দিবসটি।

রাজধানী লিসবনে সকাল থেকেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দিবসের তাৎপর্য স্মরণ করে বক্তব্য দেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

১৬৪০ সালের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন দেশটির অভিজাত শ্রেণি ও সামরিক কর্মকর্তারা, যাদের প্রচেষ্টায় স্পেনের তিন দশকেরও বেশি সময়ের নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটে এবং ব্রাগানজা রাজবংশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পর্তুগালের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এ আন্দোলন পর্তুগালের ইতিহাসে ‘রেস্টোরেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স’ নামে পরিচিত।

পর্তুগাল নবীন প্রজন্মের কাছে এই দিবসকে শুধু ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং জাতীয় পরিচয় ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের ৩৮৫ বছর পরেও দিবসটি নাগরিকদের মনে স্বাধীনতার মূল্য ও দেশপ্রেমের আবেগ নতুন করে জাগিয়ে তোলে। পর্তুগালের স্বাধীনতা হরণ হয়েছিল ১৫৮০ সালে, যখন দেশের সিংহাসনের উত্তরাধিকার সংকটকে কাজে লাগিয়ে স্পেন ক্ষমতার দখল নেয়। দীর্ঘ ৬০ বছর এই ‘আইবেরিয়ান ইউনিয়ন’-এর অধীনে পর্তুগাল তার রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন হারিয়ে ফেলে। বাণিজ্য, উপনিবেশ ও সামরিক কর্মকাণ্ডে স্পেনের স্বার্থ অগ্রাধিকার পেতে থাকে, পর্তুগালের নিজস্ব নীতিনির্ধারণ প্রায় হতাশাজনক মাত্রায় কমে যায়।

এই পরিস্থিতিতে অভিজাত শ্রেণি, সামরিক নেতারা এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্রমে জেগে ওঠে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। ১৬৪০ সালের বিপ্লবটি মূলত কনজুরাসাও ডি ১৬৪০ নামে পরিচিত, যেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অভিযানে লিসবনের রাজকীয় প্রশাসনকে অবরুদ্ধ করা হয়। বিদ্রোহীরা স্পেনীয় শাসনের পতন ঘোষণা করে এবং ব্রাগানজা ডিউক জোয়াও চতুর্থকে পর্তুগালের নতুন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এ ঘটনার মাধ্যমেই শুরু হয় ব্রাগানজা রাজবংশ, যা প্রায় তিন শতাব্দী ধরে পর্তুগালের শাসন পরিচালনা করে এবং দেশটির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করে।

বাংলাদেশ-কোরিয়া উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) প্রেসিডেন্ট চ্যাং ওন-সাম।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উভয় পক্ষ উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে নির্বিঘ্ন উত্তরণে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।

চ্যাং ওন-সাম বলেন, ‘আবার এই দেশে আসতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। আমি প্রেসিডেন্টের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রতি কোইকার রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা চ্যাং ওন-সামের সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ ও কোরিয়া আরও দ্রুত অগ্রগতির পথে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।

সরকারের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা কোরিয়ান বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন এবং বাণিজ্যের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি উৎপাদন কেন্দ্র হতে চাই। আপনাদের পণ্য এখানে তৈরি করে বিশ্বব্যাপী বিক্রি করতে পারি। আমাদের রয়েছে জনশক্তি, সক্ষমতা এবং কঠোর পরিশ্রমে আগ্রহী তরুণ জনগোষ্ঠী।’

প্রধান উপদেষ্টা ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়নের মত মানবসম্পদকেন্দ্রিক সহযোগিতা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশি যুবকদের শিক্ষায়, প্রশিক্ষণে এবং কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়াতে তিনি কোইকার কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নার্স প্রশিক্ষণে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।’ তিনি দক্ষ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

এর জবাবে কোইকা প্রেসিডেন্ট চ্যাং ওন-সাম দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষাখাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বললেন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা ছেড়ে অন্য কোনো দেশে পালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে মাদুরোর সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা হয় ট্রাম্পের। তবে মাদুরো ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

গত রোববার ট্রাম্প নিশ্চিত করেন মাদুরোর সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে। ওইদিন তিনি বলেন, “ফোনালাপ ভালো হয়েছে নাকি খারাপ, সেটি আমি বলব না। এটি ছিল শুধুই একটি ফোনকল।”

ধারণা করা হয় গত ২১ নভেম্বর ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যে কথা হয়। তবে আলোচনার ব্যাপারে কোনো দেশই বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

তবে কয়েকটি সূত্র সংবাদমাধ্যম মিয়ামি হেরাল্ডকে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ‘সরাসরি বার্তা’ দিয়েছেন। তিনি মাদুরোকে বলেছেন, “আপনি নিজেকে এবং কাছের মানুষদের বাঁচাতে পারেন। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই দেশ ছাড়তে হবে। আপনি আপনার স্ত্রী ও সন্তানদের বাঁচাতে পারবেন যদি এ মুহূর্তে পদত্যাগ করেন।”

কিন্তু মাদুরো পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। তবে তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা ছেড়ে সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার কথা বলেন।

এরপর মাদুরো ও ট্রাম্পের মধ্যে আর কোনো কথা হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেন। এরপর মাদুরো আবারও তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প এতে কোনো সাড়া দেননি।

মিয়ামি হেরাল্ড জানিয়েছে, তাদের প্রথম ফোনালাপটির ব্যবস্থা করে ব্রাজিল, কাতার এবং তুরস্ক।

গত সোমবার হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মাদুরো বলেন ভেনেজুয়েলানরা কোনো ‘ক্রীতদাসে শান্তি’ চায় না।

ট্রাম্প মাদুরোকে সরাসরি ক্ষমতা ছাড়তে বললেও তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাবেন না বলে মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক।

সূত্র: মিয়ামি হেরাল্ড

গভীর রাতে খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে গভীর রাতে হাসপাতালে গেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে তারা মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তবে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো মন্তব্যই করেননি মির্জা ফখরুল। নীরব থেকেই রাতের সফর শেষ করেন তিনি।

এর আগে এভারকেয়ার হাসপাতালের নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়। প্রধান ফটক ও আশপাশে দেওয়া হয় ব্যারিকেড।
দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলছে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা।

শিগগিরই দেশে আসবেন তারেক রহমান : সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তাহিক এই বৈঠকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়, রাজনৈতিক, নির্বাচন, নির্বাচনের প্রচারণার কৌশল নির্ধারণে আলোচনা করেছি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে আসার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তিনি শিগগিরই দেশে আসবেন, ইনশাহআল্লাহ।’

ভোট দিতে প্রবাসী নিবন্ধন ১ লাখ ২৭ হাজার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দেশ থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২০২ জন প্রবাসী। এর মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার ৭২৮ জন পুরুষ এবং ১৬ হাজার ৪৭৪ জন নারী। নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত এই তথ্য ইসির ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া গেছে।

এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরা এ ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। গত ১৯ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু হয়েছে, চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

যেসব দেশে নিবন্ধন চলছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিসর, মোজাম্বিক, লিবিয়া, মরিশাস, হংকং, ব্রাজিল, উগান্ডা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, চিলি, সিয়েরা লিওন, ইকুয়েডর, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ইত্যাদি।

ইসি জানিয়েছে, অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভোটার ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন।

উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।
এ ক্ষেত্রে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোট টানার টার্গেট নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থাটি।

মধ্যরাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে বাড়তি নিরাপত্তা

চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে দেখা গেছে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে হঠাৎ করে হাসপাতালটির সামনে ব্যারিকেড স্থাপনসহ নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়তি সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে তা গেজেটের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হতে পারে।

অনেকটা হঠাৎ করে খালেদা জিয়াকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বিএনপিতে। দলটির নেতাদের কেউই এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও কারণ জানাতে পারেননি। একটি সূত্রের দাবি, বিএনপিকে খুশি করতেই সরকারপ্রধান এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এদিকে, সোমবার দিবাগত রাতে ১২টা ৩৫ মিনিট হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখে বের হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিন রাতে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মির্জা ফখরুলকে নিয়ে চেয়ারপারসনের সিসিইউতে যান।

দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, খালেদা জিয়া মহাসচিবের সঙ্গে হালকা কথা বলেছেন।

এর আগে চিকিৎসকদের বরাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়াকে প্রেসক্রাইব করা ওষুধে সাড়া দিচ্ছে তার শরীর।